Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.

২৬ অক্টোবর, ২০২৫ ১৪:৪৮
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশালের ৬টি আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ঢাকায় তলব করা হয়েছে। আগামী ২৭ অক্টোবর সোমবার এসব নেতার রাজধানীর বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্য নেতারা এসব প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নেবেন। ইতোমধ্যেই প্রত্যেক প্রার্থীর ভোটার আইডি কার্ড ও এক কপি ছবি পাঠিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল একটি সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
তবে গোয়েন্দা সংস্থা ও দলীয় রিপোর্টের ভিত্তিতে এরই মধ্যে জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে প্রার্থীদের নাম প্রাথমিকভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি সূত্রটির। এর মধ্যে কেবল বরিশাল-১ আসনের প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
কেন্দ্রীয় বিএনপির সূত্রটি জানায়, বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনের মধ্যে ১৮টিতে প্রার্থীর মনোনয়ন প্রায় চূড়ান্ত। কোনো কোনো আসনে একাধিক প্রার্থীর নাম রয়েছে। এদের মধ্যে একজনকে চূড়ান্ত করা হবে। এর মধ্যে বরিশালের আসনগুলোর মধ্যে পাঁচটিতে প্রার্থীর খসড়া তালিকা করা হয়েছে। বড় ধরনের কোনো ঘটনা না ঘটলে এ তালিকার পরিবর্তন হবে না।
সূত্রটি আরও জানায়, বরিশাল-১ (আগৈলঝাড়া-গৌরনদী) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার (অ্যাব)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহির উদ্দীন স্বপন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বরিশাল বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম স্বজল মনোনয়নপ্রত্যাশী।
এদের মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বরিশাল বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহির উদ্দীন স্বপন আলোচনায় আছেন। তাদের মধ্যে যে কেউ মনোনয়ন পাবেন বলে দাবি সূত্রটির।
বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) সংসদীয় আসনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পান প্রয়াত বিএনপি নেতা সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল হক জামাল এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এস সরফুদ্দীন আহম্মেদ সান্টু। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী নির্বাচনে এ আসনে আবারো বিএনপির মনোনয়ন পাচ্ছেন এস সরফুদ্দীন আহম্মেদ সান্টু। প্রাথমিক খসড়া তালিকায় তার নাম রয়েছে বলে জানা যায়।
এছাড়া আসনটিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশবিষয়ক সহ-সম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু, বিএনপি নেতা কর্নেল (অব.) আনোয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য দুলাল হোসেন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইদ মাহমুদ জুয়েল, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক লায়ন আক্তার সেন্টু মনোনয়নপ্রত্যাশী। আগামী সোমবার মনোনয়নপ্রত্যাশী এসব নেতাকে ঢাকায় ডাকা হয়েছে।
বরিশাল-৩ আসনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জয়নাল আবেদীন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে জয়নাল আবেদীনের নাম চূড়ান্ত বলে জানা গেছে। এ আসনে তিনিই মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে দাবি সূত্রটির। এ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুস সত্তার খান, ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান আসাদ মনোনয়নপ্রত্যাশী।
বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) সংসদীয় আসনে ২০০৮ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে মেজবাহ উদ্দীন ফরহাদ বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পান। তবে আগামী নির্বাচনে খসড়া প্রার্থীর তালিকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসানের নাম চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে এ আসনে ব্যাপক গণসংযোগ করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক সংসদ সদস্য মেজবাহউদ্দীন ফরহাদ, বরিশাল জেলা উত্তর বিএনপির সদস্য নেতা অ্যাডভোকেট এম হেলাল উদ্দীন, সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুল খালেক হাওলাদার, বরিশাল জেলা (উত্তর) বিএনপির আহ্বায়ক দেওয়ান মো. শহিদুল্লাহ।
বরিশালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে পরিচিত বরিশাল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার এবারও মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে অনেকটাই নিশ্চিত হওয়া গেছে। খসড়া তালিকায় তার নাম রয়েছে। এ লক্ষেই সম্প্রতি সরোয়ারের বলয়ের নেতাদের দিয়েই সদর উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মনোনয়নপ্রত্যাশী মজিবর রহমান সরোয়ারসহ অন্যদের জেলা মহানগর বিএনপি নেতাদের কেন্দ্রে ডেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া এ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাবেক সংসদ সদস্য কেন্দ্রীয় বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (পদ স্থগিত) এক সময়ের তুখোড় নেত্রী অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাছের মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক জেলা এিনপির সভাপতি এবায়েদুল হক চাঁন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহীন, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাছরিন আসন্ন নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী। এসব নেতাকেও ডাকা হয়েছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।
বরিশাল-৬ বাকেরগঞ্জ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বাক আবুল হোসেন খান আবারও এ আসন থেকে মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। প্রাথমিক খসড়া তালিকায় তার নাম রয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি। তবে দলটির কেন্দ্রীয় নেতা ও বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম খান রাজন মনোনয়ন পেতে এখনো প্রাণপণ চেষ্টা করছেন।
এছাড়া কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক লায়ন নুরুল ইসলাম খান মাসুদ, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি স্টেট বিএনপির সাবেক সভাপতি সোলায়মান সেরনিয়াবাত নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী।
এদিকে সূত্র জানায়, বরিশাল বিভাগের ২১ আসনের মধ্যে ১৮টিতে প্রার্থী তালিকা ১ থেকে ২ জনের মধ্যে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান জানান, আগামী ২৭ অক্টোবর মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপি নেতাদের ঢাকায় ডাকা হয়েছে। দলের জন্য যারা নিবেদিতপ্রাণ তাদের মনোনয়ন দেবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ইতোমধ্যেই বিভিন্নভাবে তিনি প্রার্থীদের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন। তবে যারা আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে ছিলেন, দলের সঙ্গে কখনো বেইমানি করেননি, এমন যোগ্য নেতারাই এবার মনোনয়ন পাবেন বলে দাবি করেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশালের ৬টি আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ঢাকায় তলব করা হয়েছে। আগামী ২৭ অক্টোবর সোমবার এসব নেতার রাজধানীর বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্য নেতারা এসব প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নেবেন। ইতোমধ্যেই প্রত্যেক প্রার্থীর ভোটার আইডি কার্ড ও এক কপি ছবি পাঠিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল একটি সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
তবে গোয়েন্দা সংস্থা ও দলীয় রিপোর্টের ভিত্তিতে এরই মধ্যে জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে প্রার্থীদের নাম প্রাথমিকভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি সূত্রটির। এর মধ্যে কেবল বরিশাল-১ আসনের প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
কেন্দ্রীয় বিএনপির সূত্রটি জানায়, বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনের মধ্যে ১৮টিতে প্রার্থীর মনোনয়ন প্রায় চূড়ান্ত। কোনো কোনো আসনে একাধিক প্রার্থীর নাম রয়েছে। এদের মধ্যে একজনকে চূড়ান্ত করা হবে। এর মধ্যে বরিশালের আসনগুলোর মধ্যে পাঁচটিতে প্রার্থীর খসড়া তালিকা করা হয়েছে। বড় ধরনের কোনো ঘটনা না ঘটলে এ তালিকার পরিবর্তন হবে না।
সূত্রটি আরও জানায়, বরিশাল-১ (আগৈলঝাড়া-গৌরনদী) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার (অ্যাব)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহির উদ্দীন স্বপন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বরিশাল বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম স্বজল মনোনয়নপ্রত্যাশী।
এদের মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বরিশাল বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহির উদ্দীন স্বপন আলোচনায় আছেন। তাদের মধ্যে যে কেউ মনোনয়ন পাবেন বলে দাবি সূত্রটির।
বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) সংসদীয় আসনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পান প্রয়াত বিএনপি নেতা সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল হক জামাল এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এস সরফুদ্দীন আহম্মেদ সান্টু। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী নির্বাচনে এ আসনে আবারো বিএনপির মনোনয়ন পাচ্ছেন এস সরফুদ্দীন আহম্মেদ সান্টু। প্রাথমিক খসড়া তালিকায় তার নাম রয়েছে বলে জানা যায়।
এছাড়া আসনটিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশবিষয়ক সহ-সম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু, বিএনপি নেতা কর্নেল (অব.) আনোয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য দুলাল হোসেন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইদ মাহমুদ জুয়েল, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক লায়ন আক্তার সেন্টু মনোনয়নপ্রত্যাশী। আগামী সোমবার মনোনয়নপ্রত্যাশী এসব নেতাকে ঢাকায় ডাকা হয়েছে।
বরিশাল-৩ আসনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জয়নাল আবেদীন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে জয়নাল আবেদীনের নাম চূড়ান্ত বলে জানা গেছে। এ আসনে তিনিই মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে দাবি সূত্রটির। এ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুস সত্তার খান, ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান আসাদ মনোনয়নপ্রত্যাশী।
বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) সংসদীয় আসনে ২০০৮ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে মেজবাহ উদ্দীন ফরহাদ বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পান। তবে আগামী নির্বাচনে খসড়া প্রার্থীর তালিকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসানের নাম চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে এ আসনে ব্যাপক গণসংযোগ করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক সংসদ সদস্য মেজবাহউদ্দীন ফরহাদ, বরিশাল জেলা উত্তর বিএনপির সদস্য নেতা অ্যাডভোকেট এম হেলাল উদ্দীন, সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুল খালেক হাওলাদার, বরিশাল জেলা (উত্তর) বিএনপির আহ্বায়ক দেওয়ান মো. শহিদুল্লাহ।
বরিশালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে পরিচিত বরিশাল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার এবারও মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে অনেকটাই নিশ্চিত হওয়া গেছে। খসড়া তালিকায় তার নাম রয়েছে। এ লক্ষেই সম্প্রতি সরোয়ারের বলয়ের নেতাদের দিয়েই সদর উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মনোনয়নপ্রত্যাশী মজিবর রহমান সরোয়ারসহ অন্যদের জেলা মহানগর বিএনপি নেতাদের কেন্দ্রে ডেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া এ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাবেক সংসদ সদস্য কেন্দ্রীয় বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (পদ স্থগিত) এক সময়ের তুখোড় নেত্রী অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাছের মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক জেলা এিনপির সভাপতি এবায়েদুল হক চাঁন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহীন, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাছরিন আসন্ন নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী। এসব নেতাকেও ডাকা হয়েছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।
বরিশাল-৬ বাকেরগঞ্জ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বাক আবুল হোসেন খান আবারও এ আসন থেকে মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। প্রাথমিক খসড়া তালিকায় তার নাম রয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি। তবে দলটির কেন্দ্রীয় নেতা ও বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম খান রাজন মনোনয়ন পেতে এখনো প্রাণপণ চেষ্টা করছেন।
এছাড়া কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক লায়ন নুরুল ইসলাম খান মাসুদ, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি স্টেট বিএনপির সাবেক সভাপতি সোলায়মান সেরনিয়াবাত নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী।
এদিকে সূত্র জানায়, বরিশাল বিভাগের ২১ আসনের মধ্যে ১৮টিতে প্রার্থী তালিকা ১ থেকে ২ জনের মধ্যে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান জানান, আগামী ২৭ অক্টোবর মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপি নেতাদের ঢাকায় ডাকা হয়েছে। দলের জন্য যারা নিবেদিতপ্রাণ তাদের মনোনয়ন দেবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ইতোমধ্যেই বিভিন্নভাবে তিনি প্রার্থীদের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন। তবে যারা আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে ছিলেন, দলের সঙ্গে কখনো বেইমানি করেননি, এমন যোগ্য নেতারাই এবার মনোনয়ন পাবেন বলে দাবি করেন তিনি।

১২ মার্চ, ২০২৬ ১৯:২৭

১২ মার্চ, ২০২৬ ১৮:১৯
বরিশালের বাকেরগঞ্জে ট্রাক ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অটোরিকশায় থাকা আরও ১ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বরিশাল পটুয়াখালী মহাসড়কের গোলদার বাড়ি নামক স্থানে সকাল ৯ টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশা বাকেরগঞ্জ থেকে দাদুরহাট যাওয়ার পথে বিপরীত দিক পটুয়াখালী থেকে আসা একটি দ্রুতগামী তরমুজবাহী ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে পড়ে। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
এ সময় গুরুতর আহত অবস্থায় অটোরিকশাচালক হিরণ গাজী ও অটোরিক্সার যাত্রী দুইজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অটোচালক হিরণ গাজী নিহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করেন।

১২ মার্চ, ২০২৬ ১৬:৩৬
ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি তেল সরবরাহ চাইছেন মালিকরা। এ জন্য ডিপোগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে নৌপরিবহন মন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছে তারা। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল সংস্থার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট মো. বদিউজ্জামান বাদল সম্প্রতি নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে এ চিঠি পাঠান।
চিঠিতে বলা হয়, ঢাকা নদী বন্দর থেকে ৩৮টি নৌপথে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১৪০টির মতো লঞ্চ পরিচালিত হবে। বর্তমানে ৬০-৭০টি লঞ্চ চলাচল করছে। যার মধ্যে ঢাকা-বরিশাল নৌপথে পাঁচটি, প্রতিটি লঞ্চে গড়ে ৭ হাজার লিটার; পটুয়াখালীতে পাঁচটি, প্রতিটি লঞ্চে গড়ে ৬ হাজার লিটার; বেতুয়া রুটে তিনটি, প্রতিটি লঞ্চে গড়ে ৬ হাজার লিটার তেল লাগে। এমনিভাবে ৩৮টি নৌপথের জন্য গড়ে প্রতিদিন ২ লাখ ৫০ হাজার লিটার জ্বালানিতেলের প্রয়োজন হয়।
এতে বলা হয়, সম্প্রতি ঢাকা নদী বন্দরে লঞ্চে তেল সরবরাহকারী মিনি ওয়েল ট্যাংকার মালিকদের পক্ষ থেকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অবস্থিত পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ডিপো থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল সরবরাহ করছে না বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের গোদলাইন, ভৈরব, নরসিংদী, আরিচা, বরিশাল ও চাঁদপুরে অবস্থিত ডিপোগুলোও পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল সরবরাহ করছে না বলে লঞ্চ মালিকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ অবস্থায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যাত্রী সাধারণের যাতায়াতের সুবিধার্থে এবং যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোতে পর্যাপ্ত জ্বালানিতেল সরবরাহের জন্য ডিপোগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে নৌমন্ত্রীকে অনুরোধ জানানো হয় চিঠিতে।’
মাঠ কাঁপানো খ্যাতনামা ফুটবলার, সেনা কর্মকর্তা, ৭১'র রণাঙ্গনের খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর পর এবার স্পিকারের পদ অলঙ্কৃত করলেন বৃহত্তর বরিশালের কৃতি সন্তান (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য এবং ভোলা–৩ আসনের সাতবারের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টায় অধিবেশন শুরু হলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে স্পিকার হিসেবে শপথ করান। এই শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে দুপুর ১২টার পর সম্পন্ন হয়।
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বর্তমানে নতুন সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
ব্যক্তিগত জীবন ও শিক্ষা:
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের জন্ম ১৯৪৪ সালের ২৯ অক্টোবর ভোলার লালমোহনে। তার পিতা মরহুম ডা. আজহার উদ্দিন আহমদ ছিলেন পাকিস্তান জাতীয় সংসদের সাবেক সদস্য, এবং মা মরহুমা করিমুন নেছা বেগম গৃহিণী ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ১৯৬৪ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৬৫ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১ ডিসেম্বর ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হন এবং ১৯৭৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অবসর গ্রহণ করেন।
মুক্তিযুদ্ধ ও সামরিক জীবন
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য তিনি বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বীর বিক্রম পান। ৩১ জুলাই ১৯৭১, তিনি ১ম ইস্ট বেঙ্গলের কামালপুর বিওপি আক্রমণে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে আহত হন।
৩০ মার্চ ১৯৭১, যশোর ক্যান্টনমেন্টে তিনি তরুণ অফিসার হিসেবে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন এবং আট ঘণ্টাব্যাপী সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। পরে যশোর-খুলনা অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধকে সংগঠিত করেন এবং বেনাপোল অঞ্চলে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে একাধিক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিনি ১ম ইস্ট বেঙ্গল ব্যাটালিয়নের একমাত্র কমান্ডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১, মেজর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে সিলেট দখলের সময়ে তাঁর নেতৃত্বে ‘বি’ কোম্পানি পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করে।
রাজনৈতিক জীবন;
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ভোলা-৩ (লালমোহন ও তজমুদ্দিন) আসন থেকে সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন (৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম ও ১৩তম সংসদ)। ১৯৯১ সালে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদে জয়ী হন এবং ১৯৯২ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯৬ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধিন দ্বিতীয় সরকারের তিনি বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী এবং ২০০১-০৬ সালে তৃতীয় সরকারের পানিসম্পদ, বাণিজ্য ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধিন নতুন সরকারের তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালণ করছেন।
ক্রীড়াজীবন;
তিনি ছিলেন খ্যাতনামা ফুটবলার। ১৯৬৭-১৯৭১ সালে পাকিস্তান জাতীয় দলের সদস্য হিসেবে ইরান, তুরস্ক ও বার্মা (বর্তমান মিয়ানমার) সফর করেন। ১৯৭০ সালে তেহরানে অনুষ্ঠিত আরসিডি প্রতিযোগিতায় তিনি জাতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন। ২০০৫ সালে ফিফা তাকে বিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশের সেরা ফুটবলার হিসেবে সেন্টেনারি অর্ডার অব মেরিট সম্মাননা প্রদান করে। তিনি ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং দলের সদস্য হিসেবে ১২ বছর খেলেছেন এবং ১৯৭৬ সালে দলের অধিনায়কের দায়িত্বও পালন করেন। এছাড়া ১৯৬৪-৬৬ সালে প্রাদেশিক প্রতিযোগিতায় ১০০ ও ২০০ মিটার দৌড়ে পূর্ব পাকিস্তানের দ্রুততম মানবের খেতাব লাভ করেন।
পারিবারিক জীবন:
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের স্ত্রী দিলারা হাফিজ ছিলেন শিক্ষকতা পেশায় নিযুক্ত এবং ইডেন মহিলা কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা দপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে অবসর নেন। তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে—শাহরুখ হাফিজ, শামামা শাহরীন হাফিজ এবং তাহারাত হাফিজ।
মাঠ কাঁপানো খ্যাতনামা ফুটবলার, সেনা কর্মকর্তা, ৭১'র রণাঙ্গনের খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর পর এবার স্পিকারের পদ অলঙ্কৃত করলেন বৃহত্তর বরিশালের কৃতি সন্তান (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য এবং ভোলা–৩ আসনের সাতবারের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টায় অধিবেশন শুরু হলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে স্পিকার হিসেবে শপথ করান। এই শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে দুপুর ১২টার পর সম্পন্ন হয়।
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বর্তমানে নতুন সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
ব্যক্তিগত জীবন ও শিক্ষা:
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের জন্ম ১৯৪৪ সালের ২৯ অক্টোবর ভোলার লালমোহনে। তার পিতা মরহুম ডা. আজহার উদ্দিন আহমদ ছিলেন পাকিস্তান জাতীয় সংসদের সাবেক সদস্য, এবং মা মরহুমা করিমুন নেছা বেগম গৃহিণী ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ১৯৬৪ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৬৫ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১ ডিসেম্বর ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হন এবং ১৯৭৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অবসর গ্রহণ করেন।
মুক্তিযুদ্ধ ও সামরিক জীবন
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য তিনি বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বীর বিক্রম পান। ৩১ জুলাই ১৯৭১, তিনি ১ম ইস্ট বেঙ্গলের কামালপুর বিওপি আক্রমণে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে আহত হন।
৩০ মার্চ ১৯৭১, যশোর ক্যান্টনমেন্টে তিনি তরুণ অফিসার হিসেবে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন এবং আট ঘণ্টাব্যাপী সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। পরে যশোর-খুলনা অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধকে সংগঠিত করেন এবং বেনাপোল অঞ্চলে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে একাধিক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিনি ১ম ইস্ট বেঙ্গল ব্যাটালিয়নের একমাত্র কমান্ডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১, মেজর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে সিলেট দখলের সময়ে তাঁর নেতৃত্বে ‘বি’ কোম্পানি পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করে।
রাজনৈতিক জীবন;
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ভোলা-৩ (লালমোহন ও তজমুদ্দিন) আসন থেকে সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন (৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম ও ১৩তম সংসদ)। ১৯৯১ সালে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদে জয়ী হন এবং ১৯৯২ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯৬ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধিন দ্বিতীয় সরকারের তিনি বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী এবং ২০০১-০৬ সালে তৃতীয় সরকারের পানিসম্পদ, বাণিজ্য ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধিন নতুন সরকারের তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালণ করছেন।
ক্রীড়াজীবন;
তিনি ছিলেন খ্যাতনামা ফুটবলার। ১৯৬৭-১৯৭১ সালে পাকিস্তান জাতীয় দলের সদস্য হিসেবে ইরান, তুরস্ক ও বার্মা (বর্তমান মিয়ানমার) সফর করেন। ১৯৭০ সালে তেহরানে অনুষ্ঠিত আরসিডি প্রতিযোগিতায় তিনি জাতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন। ২০০৫ সালে ফিফা তাকে বিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশের সেরা ফুটবলার হিসেবে সেন্টেনারি অর্ডার অব মেরিট সম্মাননা প্রদান করে। তিনি ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং দলের সদস্য হিসেবে ১২ বছর খেলেছেন এবং ১৯৭৬ সালে দলের অধিনায়কের দায়িত্বও পালন করেন। এছাড়া ১৯৬৪-৬৬ সালে প্রাদেশিক প্রতিযোগিতায় ১০০ ও ২০০ মিটার দৌড়ে পূর্ব পাকিস্তানের দ্রুততম মানবের খেতাব লাভ করেন।
পারিবারিক জীবন:
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের স্ত্রী দিলারা হাফিজ ছিলেন শিক্ষকতা পেশায় নিযুক্ত এবং ইডেন মহিলা কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা দপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে অবসর নেন। তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে—শাহরুখ হাফিজ, শামামা শাহরীন হাফিজ এবং তাহারাত হাফিজ।
বরিশালের বাকেরগঞ্জে ট্রাক ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অটোরিকশায় থাকা আরও ১ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বরিশাল পটুয়াখালী মহাসড়কের গোলদার বাড়ি নামক স্থানে সকাল ৯ টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশা বাকেরগঞ্জ থেকে দাদুরহাট যাওয়ার পথে বিপরীত দিক পটুয়াখালী থেকে আসা একটি দ্রুতগামী তরমুজবাহী ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে পড়ে। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
এ সময় গুরুতর আহত অবস্থায় অটোরিকশাচালক হিরণ গাজী ও অটোরিক্সার যাত্রী দুইজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অটোচালক হিরণ গাজী নিহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করেন।
ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি তেল সরবরাহ চাইছেন মালিকরা। এ জন্য ডিপোগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে নৌপরিবহন মন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছে তারা। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল সংস্থার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট মো. বদিউজ্জামান বাদল সম্প্রতি নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে এ চিঠি পাঠান।
চিঠিতে বলা হয়, ঢাকা নদী বন্দর থেকে ৩৮টি নৌপথে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১৪০টির মতো লঞ্চ পরিচালিত হবে। বর্তমানে ৬০-৭০টি লঞ্চ চলাচল করছে। যার মধ্যে ঢাকা-বরিশাল নৌপথে পাঁচটি, প্রতিটি লঞ্চে গড়ে ৭ হাজার লিটার; পটুয়াখালীতে পাঁচটি, প্রতিটি লঞ্চে গড়ে ৬ হাজার লিটার; বেতুয়া রুটে তিনটি, প্রতিটি লঞ্চে গড়ে ৬ হাজার লিটার তেল লাগে। এমনিভাবে ৩৮টি নৌপথের জন্য গড়ে প্রতিদিন ২ লাখ ৫০ হাজার লিটার জ্বালানিতেলের প্রয়োজন হয়।
এতে বলা হয়, সম্প্রতি ঢাকা নদী বন্দরে লঞ্চে তেল সরবরাহকারী মিনি ওয়েল ট্যাংকার মালিকদের পক্ষ থেকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অবস্থিত পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ডিপো থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল সরবরাহ করছে না বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের গোদলাইন, ভৈরব, নরসিংদী, আরিচা, বরিশাল ও চাঁদপুরে অবস্থিত ডিপোগুলোও পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল সরবরাহ করছে না বলে লঞ্চ মালিকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ অবস্থায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যাত্রী সাধারণের যাতায়াতের সুবিধার্থে এবং যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোতে পর্যাপ্ত জ্বালানিতেল সরবরাহের জন্য ডিপোগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে নৌমন্ত্রীকে অনুরোধ জানানো হয় চিঠিতে।’
১২ মার্চ, ২০২৬ ২০:৫৩
১২ মার্চ, ২০২৬ ২০:২৫
১২ মার্চ, ২০২৬ ২০:০৩
১২ মার্চ, ২০২৬ ২০:০১