ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশালের ৬টি আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ঢাকায় তলব করা হয়েছে। আগামী ২৭ অক্টোবর সোমবার এসব নেতার রাজধানীর বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্য নেতারা এসব প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নেবেন। ইতোমধ্যেই প্রত্যেক প্রার্থীর ভোটার আইডি কার্ড ও এক কপি ছবি পাঠিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল একটি সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
তবে গোয়েন্দা সংস্থা ও দলীয় রিপোর্টের ভিত্তিতে এরই মধ্যে জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে প্রার্থীদের নাম প্রাথমিকভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি সূত্রটির। এর মধ্যে কেবল বরিশাল-১ আসনের প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
কেন্দ্রীয় বিএনপির সূত্রটি জানায়, বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনের মধ্যে ১৮টিতে প্রার্থীর মনোনয়ন প্রায় চূড়ান্ত। কোনো কোনো আসনে একাধিক প্রার্থীর নাম রয়েছে। এদের মধ্যে একজনকে চূড়ান্ত করা হবে। এর মধ্যে বরিশালের আসনগুলোর মধ্যে পাঁচটিতে প্রার্থীর খসড়া তালিকা করা হয়েছে। বড় ধরনের কোনো ঘটনা না ঘটলে এ তালিকার পরিবর্তন হবে না।
সূত্রটি আরও জানায়, বরিশাল-১ (আগৈলঝাড়া-গৌরনদী) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার (অ্যাব)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহির উদ্দীন স্বপন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বরিশাল বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম স্বজল মনোনয়নপ্রত্যাশী।
এদের মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বরিশাল বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহির উদ্দীন স্বপন আলোচনায় আছেন। তাদের মধ্যে যে কেউ মনোনয়ন পাবেন বলে দাবি সূত্রটির।
বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) সংসদীয় আসনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পান প্রয়াত বিএনপি নেতা সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল হক জামাল এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এস সরফুদ্দীন আহম্মেদ সান্টু। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী নির্বাচনে এ আসনে আবারো বিএনপির মনোনয়ন পাচ্ছেন এস সরফুদ্দীন আহম্মেদ সান্টু। প্রাথমিক খসড়া তালিকায় তার নাম রয়েছে বলে জানা যায়।
এছাড়া আসনটিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশবিষয়ক সহ-সম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু, বিএনপি নেতা কর্নেল (অব.) আনোয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য দুলাল হোসেন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইদ মাহমুদ জুয়েল, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক লায়ন আক্তার সেন্টু মনোনয়নপ্রত্যাশী। আগামী সোমবার মনোনয়নপ্রত্যাশী এসব নেতাকে ঢাকায় ডাকা হয়েছে।
বরিশাল-৩ আসনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জয়নাল আবেদীন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে জয়নাল আবেদীনের নাম চূড়ান্ত বলে জানা গেছে। এ আসনে তিনিই মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে দাবি সূত্রটির। এ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুস সত্তার খান, ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান আসাদ মনোনয়নপ্রত্যাশী।
বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) সংসদীয় আসনে ২০০৮ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে মেজবাহ উদ্দীন ফরহাদ বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পান। তবে আগামী নির্বাচনে খসড়া প্রার্থীর তালিকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসানের নাম চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে এ আসনে ব্যাপক গণসংযোগ করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক সংসদ সদস্য মেজবাহউদ্দীন ফরহাদ, বরিশাল জেলা উত্তর বিএনপির সদস্য নেতা অ্যাডভোকেট এম হেলাল উদ্দীন, সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুল খালেক হাওলাদার, বরিশাল জেলা (উত্তর) বিএনপির আহ্বায়ক দেওয়ান মো. শহিদুল্লাহ।
বরিশালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে পরিচিত বরিশাল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার এবারও মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে অনেকটাই নিশ্চিত হওয়া গেছে। খসড়া তালিকায় তার নাম রয়েছে। এ লক্ষেই সম্প্রতি সরোয়ারের বলয়ের নেতাদের দিয়েই সদর উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মনোনয়নপ্রত্যাশী মজিবর রহমান সরোয়ারসহ অন্যদের জেলা মহানগর বিএনপি নেতাদের কেন্দ্রে ডেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া এ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাবেক সংসদ সদস্য কেন্দ্রীয় বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (পদ স্থগিত) এক সময়ের তুখোড় নেত্রী অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাছের মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক জেলা এিনপির সভাপতি এবায়েদুল হক চাঁন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহীন, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাছরিন আসন্ন নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী। এসব নেতাকেও ডাকা হয়েছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।
বরিশাল-৬ বাকেরগঞ্জ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বাক আবুল হোসেন খান আবারও এ আসন থেকে মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। প্রাথমিক খসড়া তালিকায় তার নাম রয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি। তবে দলটির কেন্দ্রীয় নেতা ও বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম খান রাজন মনোনয়ন পেতে এখনো প্রাণপণ চেষ্টা করছেন।
এছাড়া কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক লায়ন নুরুল ইসলাম খান মাসুদ, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি স্টেট বিএনপির সাবেক সভাপতি সোলায়মান সেরনিয়াবাত নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী।
এদিকে সূত্র জানায়, বরিশাল বিভাগের ২১ আসনের মধ্যে ১৮টিতে প্রার্থী তালিকা ১ থেকে ২ জনের মধ্যে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান জানান, আগামী ২৭ অক্টোবর মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপি নেতাদের ঢাকায় ডাকা হয়েছে। দলের জন্য যারা নিবেদিতপ্রাণ তাদের মনোনয়ন দেবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ইতোমধ্যেই বিভিন্নভাবে তিনি প্রার্থীদের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন। তবে যারা আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে ছিলেন, দলের সঙ্গে কখনো বেইমানি করেননি, এমন যোগ্য নেতারাই এবার মনোনয়ন পাবেন বলে দাবি করেন তিনি।

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৫৭
বরিশালের হিজলায় মেঘনা নদীতে আক্তার হাওলাদার নামে চল্লিশোর্ধ্ব এক জেলেকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের চরমেমানিয়া এলাকায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে বেলা ১টার দিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত আক্তার হাওলাদার চরমেমানিয়া এলাকার সুলতান হাওলাদারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আক্তার হাওলাদার অন্য জেলেদের সঙ্গে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। এ সময় অন্য একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে আক্তার গুলিবিদ্ধ হন। পরে সঙ্গে থাকা জেলেরা তাকে জীবিত অবস্থায় নদীর তীরে নিয়ে আসেন এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে খবর দেন। মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান জানান, অন্য একটি ট্রলার থেকে গুলি ছোড়ার ঘটনায় আকতার গুলিবিদ্ধ হন বলে তার সঙ্গে থাকা জেলেরা জানিয়েছেন। তবে কারা এবং কী কারণে গুলি ছুড়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ঘটনার সময় নদীতে কোনো বাহিনীর অভিযান চলছিল না। কীভাবে ওই জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, কয়েকজন জেলে তাকে মেঘনা নদীতে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকার খবর দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। জেলেদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছিল। তবে কারা গুলি করেছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি।’
বরিশালের হিজলায় মেঘনা নদীতে আক্তার হাওলাদার নামে চল্লিশোর্ধ্ব এক জেলেকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের চরমেমানিয়া এলাকায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে বেলা ১টার দিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত আক্তার হাওলাদার চরমেমানিয়া এলাকার সুলতান হাওলাদারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আক্তার হাওলাদার অন্য জেলেদের সঙ্গে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। এ সময় অন্য একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে আক্তার গুলিবিদ্ধ হন। পরে সঙ্গে থাকা জেলেরা তাকে জীবিত অবস্থায় নদীর তীরে নিয়ে আসেন এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে খবর দেন। মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান জানান, অন্য একটি ট্রলার থেকে গুলি ছোড়ার ঘটনায় আকতার গুলিবিদ্ধ হন বলে তার সঙ্গে থাকা জেলেরা জানিয়েছেন। তবে কারা এবং কী কারণে গুলি ছুড়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ঘটনার সময় নদীতে কোনো বাহিনীর অভিযান চলছিল না। কীভাবে ওই জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, কয়েকজন জেলে তাকে মেঘনা নদীতে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকার খবর দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। জেলেদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছিল। তবে কারা গুলি করেছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি।’

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৪৬
বরিশাল নগরীর সদর রোডে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় সজল কুমার চক্রবর্তী নামে এক আইনজীবী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে জগন্নাথ মন্দিরের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও নিহতের সহকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, সকালে মন্দির থেকে বের হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল সজলকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ও মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৮টা ৫ মিনিটে সজল কুমার চক্রবর্তীর মৃত্যু হয়।
বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।’
বরিশাল নগরীর সদর রোডে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় সজল কুমার চক্রবর্তী নামে এক আইনজীবী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে জগন্নাথ মন্দিরের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও নিহতের সহকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, সকালে মন্দির থেকে বের হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল সজলকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ও মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৮টা ৫ মিনিটে সজল কুমার চক্রবর্তীর মৃত্যু হয়।
বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।’

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৩৬
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ২০১৫ সালে কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুক্তার হোসেনের অবশিষ্ট জেরা হবে। এর আগে গত ১৮ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।
এ মামলার আসামিরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ এবং উজিরপুর থানার সাবেক দুই সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, হাসানাত আবদুল্লাহ ও এ কে এম এহসানউল্লাহ পলাতক রয়েছেন। অপর দুই আসামি মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় কথিত ক্রসফায়ারে নিহত হন উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, গৌরনদী-গোপালগঞ্জ মহাসড়কের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় সেতুর পশ্চিম পাশে তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তাঁদের হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় অধস্তন পুলিশ সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যায় না।
২০২৬ সালের ২০ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আসামিপক্ষের জেরার মধ্য দিয়ে মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা মামলার অভিযোগের পক্ষে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মাধ্যমে আসামিপক্ষ তদন্তের বিভিন্ন দিক, সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ এবং সাক্ষ্যসংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ পাবে।
আজকের কার্যক্রমে তদন্ত কর্মকর্তার অবশিষ্ট জেরা সম্পন্ন হলে ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগোবে। তবে জেরা শেষে কী সিদ্ধান্ত বা আদেশ দেওয়া হয়েছে, তা আদালতের কার্যক্রমের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ২০১৫ সালে কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুক্তার হোসেনের অবশিষ্ট জেরা হবে। এর আগে গত ১৮ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।
এ মামলার আসামিরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ এবং উজিরপুর থানার সাবেক দুই সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, হাসানাত আবদুল্লাহ ও এ কে এম এহসানউল্লাহ পলাতক রয়েছেন। অপর দুই আসামি মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় কথিত ক্রসফায়ারে নিহত হন উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, গৌরনদী-গোপালগঞ্জ মহাসড়কের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় সেতুর পশ্চিম পাশে তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তাঁদের হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় অধস্তন পুলিশ সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যায় না।
২০২৬ সালের ২০ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আসামিপক্ষের জেরার মধ্য দিয়ে মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা মামলার অভিযোগের পক্ষে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মাধ্যমে আসামিপক্ষ তদন্তের বিভিন্ন দিক, সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ এবং সাক্ষ্যসংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ পাবে।
আজকের কার্যক্রমে তদন্ত কর্মকর্তার অবশিষ্ট জেরা সম্পন্ন হলে ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগোবে। তবে জেরা শেষে কী সিদ্ধান্ত বা আদেশ দেওয়া হয়েছে, তা আদালতের কার্যক্রমের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

২৬ অক্টোবর, ২০২৫ ১৪:৪৮
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশালের ৬টি আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ঢাকায় তলব করা হয়েছে। আগামী ২৭ অক্টোবর সোমবার এসব নেতার রাজধানীর বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্য নেতারা এসব প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নেবেন। ইতোমধ্যেই প্রত্যেক প্রার্থীর ভোটার আইডি কার্ড ও এক কপি ছবি পাঠিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল একটি সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
তবে গোয়েন্দা সংস্থা ও দলীয় রিপোর্টের ভিত্তিতে এরই মধ্যে জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে প্রার্থীদের নাম প্রাথমিকভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি সূত্রটির। এর মধ্যে কেবল বরিশাল-১ আসনের প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
কেন্দ্রীয় বিএনপির সূত্রটি জানায়, বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনের মধ্যে ১৮টিতে প্রার্থীর মনোনয়ন প্রায় চূড়ান্ত। কোনো কোনো আসনে একাধিক প্রার্থীর নাম রয়েছে। এদের মধ্যে একজনকে চূড়ান্ত করা হবে। এর মধ্যে বরিশালের আসনগুলোর মধ্যে পাঁচটিতে প্রার্থীর খসড়া তালিকা করা হয়েছে। বড় ধরনের কোনো ঘটনা না ঘটলে এ তালিকার পরিবর্তন হবে না।
সূত্রটি আরও জানায়, বরিশাল-১ (আগৈলঝাড়া-গৌরনদী) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার (অ্যাব)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহির উদ্দীন স্বপন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বরিশাল বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম স্বজল মনোনয়নপ্রত্যাশী।
এদের মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বরিশাল বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহির উদ্দীন স্বপন আলোচনায় আছেন। তাদের মধ্যে যে কেউ মনোনয়ন পাবেন বলে দাবি সূত্রটির।
বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) সংসদীয় আসনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পান প্রয়াত বিএনপি নেতা সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল হক জামাল এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এস সরফুদ্দীন আহম্মেদ সান্টু। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী নির্বাচনে এ আসনে আবারো বিএনপির মনোনয়ন পাচ্ছেন এস সরফুদ্দীন আহম্মেদ সান্টু। প্রাথমিক খসড়া তালিকায় তার নাম রয়েছে বলে জানা যায়।
এছাড়া আসনটিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশবিষয়ক সহ-সম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু, বিএনপি নেতা কর্নেল (অব.) আনোয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য দুলাল হোসেন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইদ মাহমুদ জুয়েল, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক লায়ন আক্তার সেন্টু মনোনয়নপ্রত্যাশী। আগামী সোমবার মনোনয়নপ্রত্যাশী এসব নেতাকে ঢাকায় ডাকা হয়েছে।
বরিশাল-৩ আসনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জয়নাল আবেদীন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে জয়নাল আবেদীনের নাম চূড়ান্ত বলে জানা গেছে। এ আসনে তিনিই মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে দাবি সূত্রটির। এ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুস সত্তার খান, ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান আসাদ মনোনয়নপ্রত্যাশী।
বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) সংসদীয় আসনে ২০০৮ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে মেজবাহ উদ্দীন ফরহাদ বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পান। তবে আগামী নির্বাচনে খসড়া প্রার্থীর তালিকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসানের নাম চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে এ আসনে ব্যাপক গণসংযোগ করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক সংসদ সদস্য মেজবাহউদ্দীন ফরহাদ, বরিশাল জেলা উত্তর বিএনপির সদস্য নেতা অ্যাডভোকেট এম হেলাল উদ্দীন, সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুল খালেক হাওলাদার, বরিশাল জেলা (উত্তর) বিএনপির আহ্বায়ক দেওয়ান মো. শহিদুল্লাহ।
বরিশালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে পরিচিত বরিশাল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার এবারও মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে অনেকটাই নিশ্চিত হওয়া গেছে। খসড়া তালিকায় তার নাম রয়েছে। এ লক্ষেই সম্প্রতি সরোয়ারের বলয়ের নেতাদের দিয়েই সদর উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মনোনয়নপ্রত্যাশী মজিবর রহমান সরোয়ারসহ অন্যদের জেলা মহানগর বিএনপি নেতাদের কেন্দ্রে ডেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া এ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাবেক সংসদ সদস্য কেন্দ্রীয় বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (পদ স্থগিত) এক সময়ের তুখোড় নেত্রী অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাছের মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক জেলা এিনপির সভাপতি এবায়েদুল হক চাঁন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহীন, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাছরিন আসন্ন নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী। এসব নেতাকেও ডাকা হয়েছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।
বরিশাল-৬ বাকেরগঞ্জ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বাক আবুল হোসেন খান আবারও এ আসন থেকে মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। প্রাথমিক খসড়া তালিকায় তার নাম রয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি। তবে দলটির কেন্দ্রীয় নেতা ও বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম খান রাজন মনোনয়ন পেতে এখনো প্রাণপণ চেষ্টা করছেন।
এছাড়া কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক লায়ন নুরুল ইসলাম খান মাসুদ, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি স্টেট বিএনপির সাবেক সভাপতি সোলায়মান সেরনিয়াবাত নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী।
এদিকে সূত্র জানায়, বরিশাল বিভাগের ২১ আসনের মধ্যে ১৮টিতে প্রার্থী তালিকা ১ থেকে ২ জনের মধ্যে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান জানান, আগামী ২৭ অক্টোবর মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপি নেতাদের ঢাকায় ডাকা হয়েছে। দলের জন্য যারা নিবেদিতপ্রাণ তাদের মনোনয়ন দেবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ইতোমধ্যেই বিভিন্নভাবে তিনি প্রার্থীদের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন। তবে যারা আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে ছিলেন, দলের সঙ্গে কখনো বেইমানি করেননি, এমন যোগ্য নেতারাই এবার মনোনয়ন পাবেন বলে দাবি করেন তিনি।