রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নে জনমত গঠন এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে বরিশালের বাবুগঞ্জে বিভিন্ন অনন্য কর্মসূচি হাতে নিয়েছে জাতীয়তাবাদী যুবদল। তৃণমূল পর্যায়ে উপজেলার ৬ ইউনিয়নের ৫৪টি ওয়ার্ডে ব্যাপক গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ, ভাষণ প্রচার, কর্মশালা ও জনসমাবেশ কার্যক্রম শুরু করেছে তারা। ওয়ার্ডভিত্তিক বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বোঝানো হচ্ছে ৩১ দফার সুফল। একইসাথে ধানের শীষের পক্ষে করা হচ্ছে ভোট প্রার্থনা। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কর্মশালা ও জনসমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে। একইসাথে হাট-বাজারে গিয়ে প্রজেক্টরের মাধ্যমে বড় পর্দায় প্রচার করা হচ্ছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভাষণ এবং সাক্ষাৎকার। বাবুগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সংগ্রামী আহবায়ক রাকিবুল হাসান খান রাকিবের নেতৃত্বে চলছে যুবদলের এসব অনন্য কর্মযজ্ঞ।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাবুগঞ্জে যুবদলের এসব গণমুখী কার্যক্রমে ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে। যুবদলের পাশাপাশি এই গণসংযোগ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হচ্ছেন বিএনপি এবং ছাত্রদলসহ সহযোগী সংগঠনগুলো। স্থানীয় সচেতন মহল এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এ ঘটনাকে ইতিবাচক রাজনৈতিক পরিবর্তন হিসেবেই দেখছেন। যুবদলের এই সাংগঠনিক কার্যক্রমকে ঐতিহাসিক এবং অনুকরণীয় বলেও আখ্যা দিয়েছেন কেউ কেউ। গত ১ অক্টোবর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ১৫ দিনব্যাপী এসব বর্ণাঢ্য গণমুখী কার্যক্রম শুরু করেছে যুবদল। ইতোমধ্যে উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর, কেদারপুর, দেহেরগতি ও চাঁদপাশা ইউনিয়নে আগাম নির্বাচনী প্রচারণার কৌশল হিসেবে কর্মশালা, জনসমাবেশ এবং প্রত্যেক ওয়ার্ডে স্থানীয় যুবদল নেতাকর্মীদের দিয়ে যুব টিম বানিয়ে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণের মাঝে ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে। এ ঘটনাকে ইতিবাচক রাজনৈতিক পরিবর্তন হিসেবেই দেখছেন সাধারণ মানুষসহ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
দেহেরগতি গ্রামের কৃষক ফজলুর রহমানের সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি বেশ উৎফুল্ল হয়ে জানান, তারেক রহমানের ৩১ দফা সম্বলিত লিফলেট তার হাতে তুলে দিয়ে গেছেন যুবদল আহবায়ক রাকিবুল হাসান খান রাকিবসহ যুবদল নেতাকর্মীরা। লিফলেট পড়ে ভালো লাগলে এবং এই দাবিগুলোর সাথে একমত হলে তা বাস্তবায়নের জন্য ধানের শীষে ভোট চেয়েছেন তারা। যুবদলের এই আচরণ তাকে মুগ্ধ করেছে। ফজলুর রহমান আরো জানান, তিনি কোনো রাজনৈতিক দল সমর্থন করেন না। গত ৩টি নির্বাচনে তিনি ভোট দিতে যাননি। তার মতে সেগুলো ছিল সাজানো নির্বাচন। তাই বদলা কামাই দিয়ে তিনি ভোট দিতে যাননি। তবে এবার তিনি ভোট দিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ, তার হাতে দেওয়া লিফলেটে যা লেখা সেগুলো বাস্তবায়ন হওয়া দেশের জন্য খুবই দরকার বলে তিনি মনে করেন। এগুলো বাস্তবায়ন হলে দেশ সোনার দেশ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাই তারেক রহমানের ৩১ দফার লিফলেটটি তিনি সযতনে রেখে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
চাঁদপাশা এলাকার সবজি বিক্রেতা ষাটোর্ধ মজিবর হাওলাদারের বক্তব্যও অনেকটা অভিন্ন। নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি এই প্রতিবেদকের কাছে খোলামেলা বলেন, 'কাকু আমরা গরীব মানুষ। রাজনীতি করি না, পেটনীতি করি। একটা ভোট আছে যারে দিলে দ্যাশের জন্য ভালো হইবে তারেই দিমু। জিয়ার পোলাডা দ্যাশে আইতে পারে না বহুত বৎসর। বিদ্যাশে বইয়া সে দ্যাশের কতা ভাবে। ভাবনাচিন্তা কইরা সে যা ল্যাকছে এইগুলা সঠিক। লিফলেটের এগুলা করতে পারলে দ্যাশ উন্নত হইবে। মানুষ ভালো থাকবে। তাই তারেই ভোটটা দিমু। আমি আপনেগো মতোন বেশি লেহাপড়া না জানলেও পাকিস্তান আমলে মেট্রিক পর্যন্ত পড়ছি। দ্যাশের ভালোমন্দ কিছু হইলেও বুঝি।'
আগরপুর এলাকার ভ্যানচালক ইউনূস ক্ষোভের সাথে বলেন, 'আওয়ামী লীগের আমলে মোগো কেউ পাত্তা দিতো না। নেতাগো ভ্যানে টানছি হেই ভাড়াও পাই নাই। চাইতে গ্যালে চোখ গরম দিয়া কইতো যা পরে নিস। ভোট দিতে যাইয়া হুনি তারা কয়- তোর ভোট দেওয়া লাগবে না। ভোট হইয়া গ্যাছে, বাড়ি যা। এবার নির্বাচনের আগেই তো যুবদলের পোলাপান বাড়ি আইছে। আইয়া সুন্দরভাবে বুঝাইয়া একখান কাগজ দিয়া গ্যাছে। ধানের শীষে ভোট চাইয়া গ্যাছে। আগে তো মোগো কেউ জিগাইতো না। বাড়ি আইয়া কইতো অমুক মেয়ারে ভোট না দিলে এলাকায় থাকতে পারবা না। যুবদলের পোলাপানের ব্যবহার দেইখ্যা ভালো লাকছে। মোর বউও কইছে এইবার ভোট দিতে যাইবে।'
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলেন, 'উন্নয়ন এবং মুক্তিযুদ্ধের কথা চিন্তা করে আমি আওয়ামী লীগের একজন মৌন সমর্থক ছিলাম। কিন্তু ২০১৮ সালে রাতের ভোট আর ২০২৪ সালে বিনা ভোটে জোর করে ক্ষমতায় থাকার জন্য ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যেভাবে গুলি করে পাখির মতো মানুষ হত্যা করা হয়েছে সেটা কোনো সুস্থ মানুষ সমর্থন করতে পারে না। এই দেশ কারো বাপের একার সম্পত্তি না। কারো বাপের বাড়ির জমিদারি বেঁচা টাকা দিয়ে এই দেশের উন্নয়ন হয় নাই। জনগণের ট্যাক্সের টাকা সঠিক খাতে খরচ করে দেশ ও জাতির উন্নয়ন করাই সরকারের দায়িত্ব। এজন্যই তাদের আমরা ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসাই। কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে জনগণের কথা ভুলে নিজেদের তারা দেশের মালিক ভাবতে শুরু করে। তারেক রহমানের ৩১ দফা যেন শুধু নির্বাচনী ওয়াদার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। জুলাই সনদ আজো বাস্তবায়িত হয়নি। আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় এলে যদি সত্যিই ৩১ দফা বাস্তবায়ন করে তাহলে এদেশে সত্যিকারের গণতন্ত্র এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে বলে আমি মনে করি।'
বাবুগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রাফিল বলেন, 'বাবুগঞ্জে জাতীয়তাবাদী যুবদলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ আছি। আমরা জিয়ার সৈনিক হিসেবে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করছি। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের সাংগঠনিক দায়িত্বে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান। আমরা তখন তার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ ছিলাম। ২০১৮ সাল থেকে আমাদের এই অঞ্চলে দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করছেন কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। দল যাকে ধানের শীষ প্রতীক দেবে আমরা তার পক্ষেই কাজ করবো। তবে বর্তমান সাংগঠনিক নেতাই মনোনয়ন পাবেন বলে আমরা শতভাগ আশাবাদী। তাকে বিজয়ী করে তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়ন করতে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছি। মানুষকে বুঝিয়ে ধানের শীষের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করছি। মানুষের মাঝে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া দেখেছি আমরা।'
জাতীয়তাবাদী যুবদলের বাবুগঞ্জ উপজেলা শাখার আহবায়ক রাকিবুল হাসান খান রাকিব যুবদলের এই অনন্য কর্মসূচি সম্পর্কে বলেন, 'আমাদের প্রিয় নেতা জনাব তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্রের পূর্নাঙ্গ একটি বিধান। সকল মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন এই ৩১ দফায় রয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে দেশে কোনো বৈষম্য থাকবে না। সকল শ্রেণিপেশার মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবে। তাই গণমানুষের মুক্তির সনদ এই ৩১ দফা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বাবুগঞ্জ উপজেলার ৬ ইউনিয়নের ৫৪টি ওয়ার্ডসহ গ্রাম পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছি আমরা। জনগনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার চেষ্টা করছি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের অভাব, অভিযোগ, সমস্যার কথা শুনে সেগুলো সাধ্যমতো সমাধানের চেষ্টা করছি। আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমান বলেছেন আগামী নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। সাধারণ মানুষের ভালোবাসা অর্জন করে তাদের সমর্থন নিতে বলেছেন তিনি। ধানের শীষের পক্ষে জনমত গঠনে কাজ করতে বলেছেন। শহীদ জিয়ার আদর্শ ধারণ করে বাবুগঞ্জ উপজেলা যুবদল সেভাবেই কাজ করে যাচ্ছে। আমরা একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই। যাতে আমাদের দেখাদেখি অন্যরাও ইতিবাচক ভালো কাজে উৎসাহিত হয়ে অবদান রাখেন।'

২২ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:৪০
বণিক বার্তার বরিশাল প্রতিনিধি সিনিয়র সাংবাদিক এম. মিরাজ হোসেন আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নইলাহি রাজিউন)। আজ শনিবার (২২ আগস্ট ২০২৬) বেলা দেড়টার দিকে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৪৮ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে সন্তান, পিতা ও প্রতিবন্ধী ছোট ভাইকে রেখে গেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে তিনি ব্রেইন টিউমারজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন। মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর প্রাথমিক বায়োপসিতে তার নন হজকিং লিম্ফোমা ধরা পড়ে। এরপর থেকে ওই হাসপাতালেই দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
এম. মিরাজ হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বরিশাল প্রেসক্লাব, বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি এবং ‘নিউজ এডিটরস কাউন্সিল, বরিশাল’সহ বিভিন্ন সাংবাদিক ও সামাজিক সংগঠন।
এম. মিরাজ হোসেনের অকাল প্রয়াণে ‘নিউজ এডিটরস কাউন্সিল, বরিশাল’ গভীর শোক প্রকাশ করছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছে।’
বণিক বার্তার বরিশাল প্রতিনিধি সিনিয়র সাংবাদিক এম. মিরাজ হোসেন আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নইলাহি রাজিউন)। আজ শনিবার (২২ আগস্ট ২০২৬) বেলা দেড়টার দিকে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৪৮ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে সন্তান, পিতা ও প্রতিবন্ধী ছোট ভাইকে রেখে গেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে তিনি ব্রেইন টিউমারজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন। মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর প্রাথমিক বায়োপসিতে তার নন হজকিং লিম্ফোমা ধরা পড়ে। এরপর থেকে ওই হাসপাতালেই দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
এম. মিরাজ হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বরিশাল প্রেসক্লাব, বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি এবং ‘নিউজ এডিটরস কাউন্সিল, বরিশাল’সহ বিভিন্ন সাংবাদিক ও সামাজিক সংগঠন।
এম. মিরাজ হোসেনের অকাল প্রয়াণে ‘নিউজ এডিটরস কাউন্সিল, বরিশাল’ গভীর শোক প্রকাশ করছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছে।’

২২ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:৩১
কিছু মানুষ জীবনে আসেন, কিছুদিন পাশে থাকেন, তারপর একদিন দূরে চলে যান। কিন্তু কিছু মানুষ চলে গেলেও তাঁদের শূন্যতা কখনো পূরণ হয় না। এম. মিরাজ হোসাইন ছিলেন তেমনই একজন মানুষ। তিনি শুধু একজন সিনিয়র সাংবাদিক ছিলেন না, ছিলেন সহকর্মী, অভিভাবকতুল্য বড় ভাই এবং অসাধারণ এক মানবিক মানুষ। তাঁর এভাবে চলে যাওয়া আজও মেনে নিতে পারছি না।
২০১৩-২০১৪ সালের কথা। তখন আমরা একসঙ্গে কাজ করতাম দৈনিক বরিশালের আজকাল পত্রিকায়। মিরাজ ভাই ছিলেন বার্তা সম্পাদক, আর আমি ছিলাম চিফ রিপোর্টার। সাংবাদিকতার ব্যস্ত সেই দিনগুলোতে প্রতিদিনই কোনো না কোনোভাবে তাঁর সঙ্গে কাজের সম্পর্ক হতো। খবর নিয়ে আলোচনা, রিপোর্টের বিষয়বস্তু, সংবাদ পরিবেশনের ধরন—সবকিছুতেই তাঁর পরামর্শ ও নির্দেশনা ছিল অত্যন্ত মূল্যবান।
মিরাজ ভাইয়ের সবচেয়ে বড় পরিচয় ছিল, তিনি একজন ভালো মানুষ ছিলেন। পেশাগতভাবে তিনি ছিলেন মেধাবী, দায়িত্বশীল ও অভিজ্ঞ; কিন্তু মানুষ হিসেবে তাঁর সরলতা, আন্তরিকতা ও আপন করে নেওয়ার ক্ষমতা ছিল আরও বেশি অসাধারণ। তাঁর সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে কখনো মনে হয়নি, তিনি শুধু একজন ঊর্ধ্বতন সহকর্মী। বরং মনে হয়েছে, পাশে থাকা একজন আপন বড় ভাই। ভুল হলে বুঝিয়ে দিতেন, ভালো কাজ হলে উৎসাহ দিতেন। তাঁর কথায় ছিল অভিজ্ঞতার ছাপ, আর আচরণে ছিল মমতা।
সময়ের স্রোতে আমরা যে যার কর্মক্ষেত্রে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। পথ আলাদা হয়েছে, দায়িত্ব বেড়েছে, যোগাযোগও আগের মতো নিয়মিত থাকেনি। কিন্তু মনের ভেতর কিছু সম্পর্ক কখনো পুরোনো হয় না। মিরাজ ভাইয়ের সঙ্গে আমার সম্পর্কটিও তেমনই ছিল। দূরত্ব তৈরি হলেও শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার জায়গাটি কখনো কমেনি।
আজ তিনি নেই—এই সত্যটাই সবচেয়ে কঠিন। মনে হয়, এখনও হয়তো কোথাও দেখা হবে; কোনো সংবাদ নিয়ে কথা হবে, পুরোনো দিনের গল্প উঠবে, তিনি আগের মতোই কোনো পরামর্শ দেবেন। কিন্তু বাস্তবতা বড় নির্মম। তিনি চলে গেছেন আমাদের ছেড়ে, আমাদের একা করে দিয়ে।
একজন সাংবাদিক চলে গেলে শুধু একটি কলম থেমে যায় না; তাঁর সঙ্গে হারিয়ে যায় কিছু অভিজ্ঞতা, কিছু স্মৃতি, কিছু গল্প এবং অসংখ্য মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক। মিরাজ ভাইয়ের চলে যাওয়ায় আমাদের সাংবাদিক অঙ্গনে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
মিরাজ ভাই, আপনি এভাবে চলে যাবেন—সত্যিই ভাবিনি। ভাবিনি, আপনার সঙ্গে আর কখনো কথা হবে না। ভাবিনি, আপনার স্মৃতিগুলোই একদিন আমাদের সবচেয়ে বড় সঙ্গী হয়ে থাকবে।
আপনি আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু আপনার সঙ্গে কাটানো সেই দিনগুলো, আপনার স্নেহ, আপনার পরামর্শ আর আপনার মানবিক মুখটি আমাদের মনে বেঁচে থাকবে। মানুষ চলে যায়, কিন্তু ভালো মানুষদের ভালোবাসা কখনো চলে যায় না।
মিরাজ ভাই, যেখানে থাকুন শান্তিতে থাকুন। আপনার মতো একজন অসাধারণ মানুষকে হারানোর বেদনা আমরা হয়তো কোনোদিন ভুলতে পারব না। আপনার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। বিদায় প্রিয় মিরাজ ভাই। আপনার শূন্যতা আমাদের হৃদয়ে সবসময় অনুভূত হবে।’
হাসিবুল ইসলাম, সাংবাদিক ও কলাম লেখক।
barishaltimes@gmail.com
কিছু মানুষ জীবনে আসেন, কিছুদিন পাশে থাকেন, তারপর একদিন দূরে চলে যান। কিন্তু কিছু মানুষ চলে গেলেও তাঁদের শূন্যতা কখনো পূরণ হয় না। এম. মিরাজ হোসাইন ছিলেন তেমনই একজন মানুষ। তিনি শুধু একজন সিনিয়র সাংবাদিক ছিলেন না, ছিলেন সহকর্মী, অভিভাবকতুল্য বড় ভাই এবং অসাধারণ এক মানবিক মানুষ। তাঁর এভাবে চলে যাওয়া আজও মেনে নিতে পারছি না।
২০১৩-২০১৪ সালের কথা। তখন আমরা একসঙ্গে কাজ করতাম দৈনিক বরিশালের আজকাল পত্রিকায়। মিরাজ ভাই ছিলেন বার্তা সম্পাদক, আর আমি ছিলাম চিফ রিপোর্টার। সাংবাদিকতার ব্যস্ত সেই দিনগুলোতে প্রতিদিনই কোনো না কোনোভাবে তাঁর সঙ্গে কাজের সম্পর্ক হতো। খবর নিয়ে আলোচনা, রিপোর্টের বিষয়বস্তু, সংবাদ পরিবেশনের ধরন—সবকিছুতেই তাঁর পরামর্শ ও নির্দেশনা ছিল অত্যন্ত মূল্যবান।
মিরাজ ভাইয়ের সবচেয়ে বড় পরিচয় ছিল, তিনি একজন ভালো মানুষ ছিলেন। পেশাগতভাবে তিনি ছিলেন মেধাবী, দায়িত্বশীল ও অভিজ্ঞ; কিন্তু মানুষ হিসেবে তাঁর সরলতা, আন্তরিকতা ও আপন করে নেওয়ার ক্ষমতা ছিল আরও বেশি অসাধারণ। তাঁর সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে কখনো মনে হয়নি, তিনি শুধু একজন ঊর্ধ্বতন সহকর্মী। বরং মনে হয়েছে, পাশে থাকা একজন আপন বড় ভাই। ভুল হলে বুঝিয়ে দিতেন, ভালো কাজ হলে উৎসাহ দিতেন। তাঁর কথায় ছিল অভিজ্ঞতার ছাপ, আর আচরণে ছিল মমতা।
সময়ের স্রোতে আমরা যে যার কর্মক্ষেত্রে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। পথ আলাদা হয়েছে, দায়িত্ব বেড়েছে, যোগাযোগও আগের মতো নিয়মিত থাকেনি। কিন্তু মনের ভেতর কিছু সম্পর্ক কখনো পুরোনো হয় না। মিরাজ ভাইয়ের সঙ্গে আমার সম্পর্কটিও তেমনই ছিল। দূরত্ব তৈরি হলেও শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার জায়গাটি কখনো কমেনি।
আজ তিনি নেই—এই সত্যটাই সবচেয়ে কঠিন। মনে হয়, এখনও হয়তো কোথাও দেখা হবে; কোনো সংবাদ নিয়ে কথা হবে, পুরোনো দিনের গল্প উঠবে, তিনি আগের মতোই কোনো পরামর্শ দেবেন। কিন্তু বাস্তবতা বড় নির্মম। তিনি চলে গেছেন আমাদের ছেড়ে, আমাদের একা করে দিয়ে।
একজন সাংবাদিক চলে গেলে শুধু একটি কলম থেমে যায় না; তাঁর সঙ্গে হারিয়ে যায় কিছু অভিজ্ঞতা, কিছু স্মৃতি, কিছু গল্প এবং অসংখ্য মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক। মিরাজ ভাইয়ের চলে যাওয়ায় আমাদের সাংবাদিক অঙ্গনে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
মিরাজ ভাই, আপনি এভাবে চলে যাবেন—সত্যিই ভাবিনি। ভাবিনি, আপনার সঙ্গে আর কখনো কথা হবে না। ভাবিনি, আপনার স্মৃতিগুলোই একদিন আমাদের সবচেয়ে বড় সঙ্গী হয়ে থাকবে।
আপনি আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু আপনার সঙ্গে কাটানো সেই দিনগুলো, আপনার স্নেহ, আপনার পরামর্শ আর আপনার মানবিক মুখটি আমাদের মনে বেঁচে থাকবে। মানুষ চলে যায়, কিন্তু ভালো মানুষদের ভালোবাসা কখনো চলে যায় না।
মিরাজ ভাই, যেখানে থাকুন শান্তিতে থাকুন। আপনার মতো একজন অসাধারণ মানুষকে হারানোর বেদনা আমরা হয়তো কোনোদিন ভুলতে পারব না। আপনার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। বিদায় প্রিয় মিরাজ ভাই। আপনার শূন্যতা আমাদের হৃদয়ে সবসময় অনুভূত হবে।’
হাসিবুল ইসলাম, সাংবাদিক ও কলাম লেখক।
barishaltimes@gmail.com

২২ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:৫৮
বরিশালের হিজলা উপজেলায় মাদক সেবনের অপরাধে ৯ শিক্ষার্থীকে মোট ৩৬ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এর আগে গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে পুলিশ।
আটক শিক্ষার্থীরা ঢাকা, বরিশাল ও স্থানীয় বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত হিজলা থানা-পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে উপজেলার বড়জালিয়া ইউনিয়নের বোম্বাই শহর এলাকা থেকে ৬ জন এবং গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের ছোট লক্ষ্মীপুর এলাকা থেকে ৩ জনকে আটক করা হয়।
আজ শনিবার সকালে আটক শিক্ষার্থীদের হিজলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভ্র জ্যোতি বড়ালের পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। আদালত মাদক সেবনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রত্যেককে ৪ হাজার টাকা করে মোট ৩৬ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
হিজলা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান বরিশালটাইমসকে জানান, জরিমানা পরিশোধের পর ভবিষ্যতে এমন অপরাধে না জড়ানোর বিষয়ে সতর্ক করে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ অভিভাবকদের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশের এ ধরনের তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
বরিশালের হিজলা উপজেলায় মাদক সেবনের অপরাধে ৯ শিক্ষার্থীকে মোট ৩৬ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এর আগে গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে পুলিশ।
আটক শিক্ষার্থীরা ঢাকা, বরিশাল ও স্থানীয় বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত হিজলা থানা-পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে উপজেলার বড়জালিয়া ইউনিয়নের বোম্বাই শহর এলাকা থেকে ৬ জন এবং গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের ছোট লক্ষ্মীপুর এলাকা থেকে ৩ জনকে আটক করা হয়।
আজ শনিবার সকালে আটক শিক্ষার্থীদের হিজলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভ্র জ্যোতি বড়ালের পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। আদালত মাদক সেবনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রত্যেককে ৪ হাজার টাকা করে মোট ৩৬ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
হিজলা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান বরিশালটাইমসকে জানান, জরিমানা পরিশোধের পর ভবিষ্যতে এমন অপরাধে না জড়ানোর বিষয়ে সতর্ক করে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ অভিভাবকদের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশের এ ধরনের তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

১২ অক্টোবর, ২০২৫ ১৯:৪২
রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নে জনমত গঠন এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে বরিশালের বাবুগঞ্জে বিভিন্ন অনন্য কর্মসূচি হাতে নিয়েছে জাতীয়তাবাদী যুবদল। তৃণমূল পর্যায়ে উপজেলার ৬ ইউনিয়নের ৫৪টি ওয়ার্ডে ব্যাপক গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ, ভাষণ প্রচার, কর্মশালা ও জনসমাবেশ কার্যক্রম শুরু করেছে তারা। ওয়ার্ডভিত্তিক বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বোঝানো হচ্ছে ৩১ দফার সুফল। একইসাথে ধানের শীষের পক্ষে করা হচ্ছে ভোট প্রার্থনা। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কর্মশালা ও জনসমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে। একইসাথে হাট-বাজারে গিয়ে প্রজেক্টরের মাধ্যমে বড় পর্দায় প্রচার করা হচ্ছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভাষণ এবং সাক্ষাৎকার। বাবুগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সংগ্রামী আহবায়ক রাকিবুল হাসান খান রাকিবের নেতৃত্বে চলছে যুবদলের এসব অনন্য কর্মযজ্ঞ।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাবুগঞ্জে যুবদলের এসব গণমুখী কার্যক্রমে ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে। যুবদলের পাশাপাশি এই গণসংযোগ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হচ্ছেন বিএনপি এবং ছাত্রদলসহ সহযোগী সংগঠনগুলো। স্থানীয় সচেতন মহল এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এ ঘটনাকে ইতিবাচক রাজনৈতিক পরিবর্তন হিসেবেই দেখছেন। যুবদলের এই সাংগঠনিক কার্যক্রমকে ঐতিহাসিক এবং অনুকরণীয় বলেও আখ্যা দিয়েছেন কেউ কেউ। গত ১ অক্টোবর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ১৫ দিনব্যাপী এসব বর্ণাঢ্য গণমুখী কার্যক্রম শুরু করেছে যুবদল। ইতোমধ্যে উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর, কেদারপুর, দেহেরগতি ও চাঁদপাশা ইউনিয়নে আগাম নির্বাচনী প্রচারণার কৌশল হিসেবে কর্মশালা, জনসমাবেশ এবং প্রত্যেক ওয়ার্ডে স্থানীয় যুবদল নেতাকর্মীদের দিয়ে যুব টিম বানিয়ে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণের মাঝে ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে। এ ঘটনাকে ইতিবাচক রাজনৈতিক পরিবর্তন হিসেবেই দেখছেন সাধারণ মানুষসহ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
দেহেরগতি গ্রামের কৃষক ফজলুর রহমানের সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি বেশ উৎফুল্ল হয়ে জানান, তারেক রহমানের ৩১ দফা সম্বলিত লিফলেট তার হাতে তুলে দিয়ে গেছেন যুবদল আহবায়ক রাকিবুল হাসান খান রাকিবসহ যুবদল নেতাকর্মীরা। লিফলেট পড়ে ভালো লাগলে এবং এই দাবিগুলোর সাথে একমত হলে তা বাস্তবায়নের জন্য ধানের শীষে ভোট চেয়েছেন তারা। যুবদলের এই আচরণ তাকে মুগ্ধ করেছে। ফজলুর রহমান আরো জানান, তিনি কোনো রাজনৈতিক দল সমর্থন করেন না। গত ৩টি নির্বাচনে তিনি ভোট দিতে যাননি। তার মতে সেগুলো ছিল সাজানো নির্বাচন। তাই বদলা কামাই দিয়ে তিনি ভোট দিতে যাননি। তবে এবার তিনি ভোট দিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ, তার হাতে দেওয়া লিফলেটে যা লেখা সেগুলো বাস্তবায়ন হওয়া দেশের জন্য খুবই দরকার বলে তিনি মনে করেন। এগুলো বাস্তবায়ন হলে দেশ সোনার দেশ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাই তারেক রহমানের ৩১ দফার লিফলেটটি তিনি সযতনে রেখে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
চাঁদপাশা এলাকার সবজি বিক্রেতা ষাটোর্ধ মজিবর হাওলাদারের বক্তব্যও অনেকটা অভিন্ন। নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি এই প্রতিবেদকের কাছে খোলামেলা বলেন, 'কাকু আমরা গরীব মানুষ। রাজনীতি করি না, পেটনীতি করি। একটা ভোট আছে যারে দিলে দ্যাশের জন্য ভালো হইবে তারেই দিমু। জিয়ার পোলাডা দ্যাশে আইতে পারে না বহুত বৎসর। বিদ্যাশে বইয়া সে দ্যাশের কতা ভাবে। ভাবনাচিন্তা কইরা সে যা ল্যাকছে এইগুলা সঠিক। লিফলেটের এগুলা করতে পারলে দ্যাশ উন্নত হইবে। মানুষ ভালো থাকবে। তাই তারেই ভোটটা দিমু। আমি আপনেগো মতোন বেশি লেহাপড়া না জানলেও পাকিস্তান আমলে মেট্রিক পর্যন্ত পড়ছি। দ্যাশের ভালোমন্দ কিছু হইলেও বুঝি।'
আগরপুর এলাকার ভ্যানচালক ইউনূস ক্ষোভের সাথে বলেন, 'আওয়ামী লীগের আমলে মোগো কেউ পাত্তা দিতো না। নেতাগো ভ্যানে টানছি হেই ভাড়াও পাই নাই। চাইতে গ্যালে চোখ গরম দিয়া কইতো যা পরে নিস। ভোট দিতে যাইয়া হুনি তারা কয়- তোর ভোট দেওয়া লাগবে না। ভোট হইয়া গ্যাছে, বাড়ি যা। এবার নির্বাচনের আগেই তো যুবদলের পোলাপান বাড়ি আইছে। আইয়া সুন্দরভাবে বুঝাইয়া একখান কাগজ দিয়া গ্যাছে। ধানের শীষে ভোট চাইয়া গ্যাছে। আগে তো মোগো কেউ জিগাইতো না। বাড়ি আইয়া কইতো অমুক মেয়ারে ভোট না দিলে এলাকায় থাকতে পারবা না। যুবদলের পোলাপানের ব্যবহার দেইখ্যা ভালো লাকছে। মোর বউও কইছে এইবার ভোট দিতে যাইবে।'
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলেন, 'উন্নয়ন এবং মুক্তিযুদ্ধের কথা চিন্তা করে আমি আওয়ামী লীগের একজন মৌন সমর্থক ছিলাম। কিন্তু ২০১৮ সালে রাতের ভোট আর ২০২৪ সালে বিনা ভোটে জোর করে ক্ষমতায় থাকার জন্য ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যেভাবে গুলি করে পাখির মতো মানুষ হত্যা করা হয়েছে সেটা কোনো সুস্থ মানুষ সমর্থন করতে পারে না। এই দেশ কারো বাপের একার সম্পত্তি না। কারো বাপের বাড়ির জমিদারি বেঁচা টাকা দিয়ে এই দেশের উন্নয়ন হয় নাই। জনগণের ট্যাক্সের টাকা সঠিক খাতে খরচ করে দেশ ও জাতির উন্নয়ন করাই সরকারের দায়িত্ব। এজন্যই তাদের আমরা ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসাই। কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে জনগণের কথা ভুলে নিজেদের তারা দেশের মালিক ভাবতে শুরু করে। তারেক রহমানের ৩১ দফা যেন শুধু নির্বাচনী ওয়াদার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। জুলাই সনদ আজো বাস্তবায়িত হয়নি। আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় এলে যদি সত্যিই ৩১ দফা বাস্তবায়ন করে তাহলে এদেশে সত্যিকারের গণতন্ত্র এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে বলে আমি মনে করি।'
বাবুগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রাফিল বলেন, 'বাবুগঞ্জে জাতীয়তাবাদী যুবদলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ আছি। আমরা জিয়ার সৈনিক হিসেবে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করছি। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের সাংগঠনিক দায়িত্বে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান। আমরা তখন তার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ ছিলাম। ২০১৮ সাল থেকে আমাদের এই অঞ্চলে দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করছেন কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। দল যাকে ধানের শীষ প্রতীক দেবে আমরা তার পক্ষেই কাজ করবো। তবে বর্তমান সাংগঠনিক নেতাই মনোনয়ন পাবেন বলে আমরা শতভাগ আশাবাদী। তাকে বিজয়ী করে তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়ন করতে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছি। মানুষকে বুঝিয়ে ধানের শীষের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করছি। মানুষের মাঝে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া দেখেছি আমরা।'
জাতীয়তাবাদী যুবদলের বাবুগঞ্জ উপজেলা শাখার আহবায়ক রাকিবুল হাসান খান রাকিব যুবদলের এই অনন্য কর্মসূচি সম্পর্কে বলেন, 'আমাদের প্রিয় নেতা জনাব তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্রের পূর্নাঙ্গ একটি বিধান। সকল মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন এই ৩১ দফায় রয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে দেশে কোনো বৈষম্য থাকবে না। সকল শ্রেণিপেশার মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবে। তাই গণমানুষের মুক্তির সনদ এই ৩১ দফা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বাবুগঞ্জ উপজেলার ৬ ইউনিয়নের ৫৪টি ওয়ার্ডসহ গ্রাম পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছি আমরা। জনগনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার চেষ্টা করছি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের অভাব, অভিযোগ, সমস্যার কথা শুনে সেগুলো সাধ্যমতো সমাধানের চেষ্টা করছি। আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমান বলেছেন আগামী নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। সাধারণ মানুষের ভালোবাসা অর্জন করে তাদের সমর্থন নিতে বলেছেন তিনি। ধানের শীষের পক্ষে জনমত গঠনে কাজ করতে বলেছেন। শহীদ জিয়ার আদর্শ ধারণ করে বাবুগঞ্জ উপজেলা যুবদল সেভাবেই কাজ করে যাচ্ছে। আমরা একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই। যাতে আমাদের দেখাদেখি অন্যরাও ইতিবাচক ভালো কাজে উৎসাহিত হয়ে অবদান রাখেন।'
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ২১:০৯
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ২১:০০
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:২৩
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:০৭