
১৭ নভেম্বর, ২০২৫ ০৩:১৭
বরিশাল শহরের আলোচিত রাজনৈতিক সন্ত্রাস মাসুদ হাওলাদার মাসুমকে অবশেষে গ্রেপ্তারে সফলতা পেয়েছে পুলিশ। শহরের ১০ নং ওয়ার্ডের ভাটারখাল কলোনীর এই সন্ত্রাসীকে একটি মামলায় গত শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশ হামলার শিকার হয়। একাধিক মামলায় অভিযুক্ত ওয়ার্ড ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুমের নেতৃত্বে তার সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলায় এসআই পদমর্যাদার কর্মকর্তাসহ অন্তত তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। সেই ঘটনায় পুলিশ স্ত্রী রিমি বেগম, ভাই সোহেল হাওলাদার, বোন শিল্পি এবং সহযোগী রিফাতকে আটক করলেও পালিয়ে যায় মাসুম। তবে সেই ঘটনার পরে ৪৮ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার আগেই বহুমুখী অপরাধে জড়িত মাসুমকে রোববার গভীর রাতে পুলিশ তাদের বাগে নিয়ে আসল।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করে, মাসুম ১০ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের পদধারী নেতা হলেও আওয়ামী লীগের শাসনামলে তিনি দলটির নেতাকর্মীদের ছত্রছায়ায় ছিলেন। বিতর্কিত এই ছাত্রনেতা গত বছরের ৫ আগস্ট আ’লীগ সরকারের পতনের পরে কীর্তনখোলা নদীর পশ্চিম তীরবর্তী ভাটারখাল কলোনীসহ গোটা ওয়ার্ডে আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করেন। এনিয়ে দ্বন্দ্বে স্থানীয় ছাত্রলীগ কর্মী জিদনী শেখকে কুপিয়ে পঙ্গু করে দেওয়া দেওয়া হয়। এছাড়াও পার্শ্ববর্তী কাঁচাবাজরে চাঁদাবাজি, ছিনতাই এমনকি মাদক বাণিজ্যে জড়িত থাকারও প্রমাণ পাওয়া যায়।
বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, ত্রিশোর্ধ্ব সন্ত্রাসী মাসুমের বিরুদ্ধে সাংবাদিককে মারধর করাসহ খোদ আদালত সম্মুখে মোটরসাইকেল আগুনে পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ আছে। এসব ঘটনাবলীতে তার বিরুদ্ধে অন্তত তিনটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
একাধিক মামলার আসামি মাসুমের সর্বশেষ সন্ত্রাসে গত রোববার রাতে আক্রান্ত হন বরিশাল কোতয়ালি থানাধীন স্টিমারঘাট ফাঁড়ি পুলিশের এসআই গোলাম মো. নাসিমসহ তিন পুলিশ সদস্য। পুলিশ জানায়, ওই দিন রাতে মাসুমকে গ্রেপ্তার করতে ভাটারখাল এলাকায় তার বাসায় যান এসআই নাসিমসহ বেশকজন পুলিশ সদস্য। এসময় পুলিশ সদস্যদের ওপর সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে হামলে পড়েন ছাত্রদল নেতা। এতে তিন পুলিশ সদস্য আহত হন এবং মাসুম এসআই নাসিমের হাত কামড়ে পালিয়ে যান।
পুলিশ এই ঘটনায় তার স্ত্রী, ভাই-বোন এবং সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে। এবং পুলিশ বাদী হয়ে মাসুমকে প্রধান অভিযুক্ত করে ৭০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে। সেই মামলায় গ্রেপ্তার এড়াতে ভাটারখাল এলাকার একটি বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। পুলিশও ছিল তোকে তোকে, কখন রাজনৈতিক সন্ত্রাস মাসুমের টুটি চেপে ধরা যায়।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, আলোচিত সন্ত্রাসী মাসুমকে গ্রেপ্তারে স্টিমারঘাট ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ নাসিম সাহসী ভুমিকা রাখেন। বিভিন্ন মাধ্যম নিশ্চিত হয়ে রোববার গভীর রাতে ভাটারখাল এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন তিনি। অবশ্য গত শুক্রবার এই পুলিশ কর্মকর্তার হাত কামড়েই পালিয়ে গিয়েছিলেন মাসুম।
রাজনৈতিক সন্ত্রাস মাসুমের ৫ আগস্ট পরবর্তী বেশকিছু সন্ত্রাসী কার্যকলাপ তুলে ধরে শনিবার গভীর রাতে এই ‘ভাটারখালে ছাত্রদল নেতা মাসুমের ধারাবাহিক সন্ত্রাসে বিএনপির বদনাম’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে বরিশালটাইমস। পুলিশ জানিয়েছে, এই সংবাদটি তাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি নিবন্ধিত হয়। মূলত এরপরে এই মূর্তিমাণ সন্ত্রাসীকে ধরতে মাঠপুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।
মাসুমের এই গ্রেপ্তার খবরে ওয়ার্ড বিএনপির নেতারাও স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক বিএনপি নেতা জানান, মাসুমকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে আগামী বুধবার ওয়ার্ডবাসী মানববন্ধন করার সিদ্ধান্তও নিয়েছিল। এরই মধ্যে রোববার রাতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে, এই খবর ভাটারখালবাসীর জন্য খুশির বটে।
কোতয়ালি থানা পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, পুলিশের ওপর হামলার মামলায় মাসুমকে দিনের রিমান্ড নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার নির্দেশনা আছে। সোমবার তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করবে পুলিশ।
ভাটারখালের ত্রাস মাসুমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ নিয়ে যাওয়ার বেশ কিছু ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ পেয়েছে। সেই ভিডিওর নিচে অসংখ্য মানুষ কমেন্ট করে তার বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ তুলে ধরছেন এবং তাকে গ্রেপ্তার করায় পুলিশকে সাধুবাদ জানানো হচ্ছে।
সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, মাসুম রোববার রাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পরে তার অপরাধের জগতের নিয়ন্ত্রণ নিতে বেশ কয়েকটি গ্রুপ মরিয়া হয়ে উঠেছে। সদর রোডের একটি গ্রুপ মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে সিটি মার্কেটসংলগ্ন সব্জির বাজারে আতঙ্ক তৈরি করেছে।’
বরিশাল শহরের আলোচিত রাজনৈতিক সন্ত্রাস মাসুদ হাওলাদার মাসুমকে অবশেষে গ্রেপ্তারে সফলতা পেয়েছে পুলিশ। শহরের ১০ নং ওয়ার্ডের ভাটারখাল কলোনীর এই সন্ত্রাসীকে একটি মামলায় গত শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশ হামলার শিকার হয়। একাধিক মামলায় অভিযুক্ত ওয়ার্ড ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুমের নেতৃত্বে তার সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলায় এসআই পদমর্যাদার কর্মকর্তাসহ অন্তত তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। সেই ঘটনায় পুলিশ স্ত্রী রিমি বেগম, ভাই সোহেল হাওলাদার, বোন শিল্পি এবং সহযোগী রিফাতকে আটক করলেও পালিয়ে যায় মাসুম। তবে সেই ঘটনার পরে ৪৮ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার আগেই বহুমুখী অপরাধে জড়িত মাসুমকে রোববার গভীর রাতে পুলিশ তাদের বাগে নিয়ে আসল।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করে, মাসুম ১০ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের পদধারী নেতা হলেও আওয়ামী লীগের শাসনামলে তিনি দলটির নেতাকর্মীদের ছত্রছায়ায় ছিলেন। বিতর্কিত এই ছাত্রনেতা গত বছরের ৫ আগস্ট আ’লীগ সরকারের পতনের পরে কীর্তনখোলা নদীর পশ্চিম তীরবর্তী ভাটারখাল কলোনীসহ গোটা ওয়ার্ডে আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করেন। এনিয়ে দ্বন্দ্বে স্থানীয় ছাত্রলীগ কর্মী জিদনী শেখকে কুপিয়ে পঙ্গু করে দেওয়া দেওয়া হয়। এছাড়াও পার্শ্ববর্তী কাঁচাবাজরে চাঁদাবাজি, ছিনতাই এমনকি মাদক বাণিজ্যে জড়িত থাকারও প্রমাণ পাওয়া যায়।
বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, ত্রিশোর্ধ্ব সন্ত্রাসী মাসুমের বিরুদ্ধে সাংবাদিককে মারধর করাসহ খোদ আদালত সম্মুখে মোটরসাইকেল আগুনে পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ আছে। এসব ঘটনাবলীতে তার বিরুদ্ধে অন্তত তিনটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
একাধিক মামলার আসামি মাসুমের সর্বশেষ সন্ত্রাসে গত রোববার রাতে আক্রান্ত হন বরিশাল কোতয়ালি থানাধীন স্টিমারঘাট ফাঁড়ি পুলিশের এসআই গোলাম মো. নাসিমসহ তিন পুলিশ সদস্য। পুলিশ জানায়, ওই দিন রাতে মাসুমকে গ্রেপ্তার করতে ভাটারখাল এলাকায় তার বাসায় যান এসআই নাসিমসহ বেশকজন পুলিশ সদস্য। এসময় পুলিশ সদস্যদের ওপর সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে হামলে পড়েন ছাত্রদল নেতা। এতে তিন পুলিশ সদস্য আহত হন এবং মাসুম এসআই নাসিমের হাত কামড়ে পালিয়ে যান।
পুলিশ এই ঘটনায় তার স্ত্রী, ভাই-বোন এবং সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে। এবং পুলিশ বাদী হয়ে মাসুমকে প্রধান অভিযুক্ত করে ৭০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে। সেই মামলায় গ্রেপ্তার এড়াতে ভাটারখাল এলাকার একটি বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। পুলিশও ছিল তোকে তোকে, কখন রাজনৈতিক সন্ত্রাস মাসুমের টুটি চেপে ধরা যায়।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, আলোচিত সন্ত্রাসী মাসুমকে গ্রেপ্তারে স্টিমারঘাট ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ নাসিম সাহসী ভুমিকা রাখেন। বিভিন্ন মাধ্যম নিশ্চিত হয়ে রোববার গভীর রাতে ভাটারখাল এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন তিনি। অবশ্য গত শুক্রবার এই পুলিশ কর্মকর্তার হাত কামড়েই পালিয়ে গিয়েছিলেন মাসুম।
রাজনৈতিক সন্ত্রাস মাসুমের ৫ আগস্ট পরবর্তী বেশকিছু সন্ত্রাসী কার্যকলাপ তুলে ধরে শনিবার গভীর রাতে এই ‘ভাটারখালে ছাত্রদল নেতা মাসুমের ধারাবাহিক সন্ত্রাসে বিএনপির বদনাম’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে বরিশালটাইমস। পুলিশ জানিয়েছে, এই সংবাদটি তাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি নিবন্ধিত হয়। মূলত এরপরে এই মূর্তিমাণ সন্ত্রাসীকে ধরতে মাঠপুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।
মাসুমের এই গ্রেপ্তার খবরে ওয়ার্ড বিএনপির নেতারাও স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক বিএনপি নেতা জানান, মাসুমকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে আগামী বুধবার ওয়ার্ডবাসী মানববন্ধন করার সিদ্ধান্তও নিয়েছিল। এরই মধ্যে রোববার রাতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে, এই খবর ভাটারখালবাসীর জন্য খুশির বটে।
কোতয়ালি থানা পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, পুলিশের ওপর হামলার মামলায় মাসুমকে দিনের রিমান্ড নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার নির্দেশনা আছে। সোমবার তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করবে পুলিশ।
ভাটারখালের ত্রাস মাসুমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ নিয়ে যাওয়ার বেশ কিছু ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ পেয়েছে। সেই ভিডিওর নিচে অসংখ্য মানুষ কমেন্ট করে তার বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ তুলে ধরছেন এবং তাকে গ্রেপ্তার করায় পুলিশকে সাধুবাদ জানানো হচ্ছে।
সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, মাসুম রোববার রাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পরে তার অপরাধের জগতের নিয়ন্ত্রণ নিতে বেশ কয়েকটি গ্রুপ মরিয়া হয়ে উঠেছে। সদর রোডের একটি গ্রুপ মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে সিটি মার্কেটসংলগ্ন সব্জির বাজারে আতঙ্ক তৈরি করেছে।’

১৩ জুন, ২০২৬ ২০:০৭
মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধসহ তিন দফা দাবিতে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের পাঁচ জেলায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন। আগামীকাল রোববার থেকে এ ধর্মঘট শুরু হবে বলে জানিয়েছেন নেতারা।
বাগেরহাট আন্তঃজেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফকির শহীদুল ইসলাম জানান, ধর্মঘটের আওতায় থাকবে বাগেরহাট, খুলনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বরিশাল জেলা।
ফকির শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘খুলনা ও বরিশাল বিভাগের সড়কগুলোতে অনুমোদনহীন অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজ নেওয়া বাস চলাচল করছে। মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার অবাধে চলাচল করায় পরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনকে বারবার অবহিত করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
তিনি আরও জানান, ধর্মঘট শুরু হলে পাঁচ জেলায় সব ধরনের যাত্রীবাহী পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকবে।
যে তিন দাবিতে ধর্মঘটের ডাক
১. সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজকৃত গাড়ি চলাচল বন্ধ করা এবং নীতিমালা অনুযায়ী জেলা টার্মিনালে একটি মাত্র কাউন্টার চালু রেখে পথে পথে থাকা সব অবৈধ কাউন্টার অপসারণ।
২. আঞ্চলিক মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার (মাহেন্দ্র, নছিমন, করিমন, অটোরিকশা) চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করা।
৩. দূরপাল্লার পরিবহনে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে লোকাল বা মাঝপথের যাত্রী পরিবহন বন্ধ করা।
এ ঘটনা প্রসঙ্গে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, পরিবহন মালিকদের তিন দফা দাবির বিষয়ে প্রশাসন অবগত রয়েছে। অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট এড়াতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
বরিশাল টাইমস

১৩ জুন, ২০২৬ ১৮:২৪
বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে তিন কেজি গাঁজাসহ এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি চাপাতি ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে অভিযানের মূল লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত মাদক কারবারি নজরুল বেপারী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) ভোররাত চারটার দিকে উপজেলার ওটরা ইউনিয়নের কেশবকাটি গ্রামে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল।
দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে নজরুল বেপারীর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিকালে বাড়ির ভেতর থেকে তিন কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে একটি চাপাতি ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযান চলাকালে মূল অভিযুক্ত নজরুল বেপারী কৌশলে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী মাহামুদা বেগমকে (৩৮) ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানান, উদ্ধার মাদক ও অস্ত্রের ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক নজরুল বেপারীকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

১৩ জুন, ২০২৬ ১৫:০৪
বরিশালের গৌরনদীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে এক যুবককে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়েছে। মৃত ভেবে ফেলে যাওয়া ওই যুবকের নাম আরিফ আকন। তিনি বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে গৌরনদী উপজেলার গেরাকুল গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত আরিফ আকন ওই গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলাম আকনের একমাত্র ছেলে। কয়েক মাস আগে এক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আরিফের বাম হাত ভেঙে প্রায় অকেজো হয়ে যায়।
ভুক্তভোগী বড় বোন তিরা মনি বেগম জানান, তাদের পুরোনো বাড়ির সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে বাথরুম নির্মাণ করছিলেন প্রতিবেশী আনোয়ার আকনের ছেলে নসিমনচালক রুবেল আকন। বিষয়টি জানতে পেরে শুক্রবার সকালে আরিফ ঘটনাস্থলে যান। সেখানে রুবেলকে না পেয়ে তার পরিবারের সদস্যদের নির্মাণাধীন বাথরুমটি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন।
দুপুরে রুবেল বাড়িতে ফিরে বিষয়টি জানতে পেরে আরিফকে হত্যার হুমকি দেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিকেলে রুবেল ও তার কয়েকজন সহযোগী বাড়ির পাশে আরিফকে একা পেয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। তারা লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আরিফের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে মারাত্মক জখম করেন। একপর্যায়ে আরিফ সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে মৃত ভেবে হামলাকারীরা তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
পরে খবর পেয়ে আরিফের মা ও প্রতিবেশীরা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাতেই তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিরা মনি বেগম আরও জানান, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার ভাইয়ের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রুবেল আকনসহ তার সহযোগীরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিক হাসান রাসেল জানান, এই ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বরিশাল টাইমস
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধসহ তিন দফা দাবিতে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের পাঁচ জেলায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন। আগামীকাল রোববার থেকে এ ধর্মঘট শুরু হবে বলে জানিয়েছেন নেতারা।
বাগেরহাট আন্তঃজেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফকির শহীদুল ইসলাম জানান, ধর্মঘটের আওতায় থাকবে বাগেরহাট, খুলনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বরিশাল জেলা।
ফকির শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘খুলনা ও বরিশাল বিভাগের সড়কগুলোতে অনুমোদনহীন অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজ নেওয়া বাস চলাচল করছে। মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার অবাধে চলাচল করায় পরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনকে বারবার অবহিত করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
তিনি আরও জানান, ধর্মঘট শুরু হলে পাঁচ জেলায় সব ধরনের যাত্রীবাহী পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকবে।
যে তিন দাবিতে ধর্মঘটের ডাক
১. সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজকৃত গাড়ি চলাচল বন্ধ করা এবং নীতিমালা অনুযায়ী জেলা টার্মিনালে একটি মাত্র কাউন্টার চালু রেখে পথে পথে থাকা সব অবৈধ কাউন্টার অপসারণ।
২. আঞ্চলিক মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার (মাহেন্দ্র, নছিমন, করিমন, অটোরিকশা) চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করা।
৩. দূরপাল্লার পরিবহনে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে লোকাল বা মাঝপথের যাত্রী পরিবহন বন্ধ করা।
এ ঘটনা প্রসঙ্গে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, পরিবহন মালিকদের তিন দফা দাবির বিষয়ে প্রশাসন অবগত রয়েছে। অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট এড়াতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
বরিশাল টাইমস
বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে তিন কেজি গাঁজাসহ এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি চাপাতি ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে অভিযানের মূল লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত মাদক কারবারি নজরুল বেপারী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) ভোররাত চারটার দিকে উপজেলার ওটরা ইউনিয়নের কেশবকাটি গ্রামে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল।
দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে নজরুল বেপারীর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিকালে বাড়ির ভেতর থেকে তিন কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে একটি চাপাতি ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযান চলাকালে মূল অভিযুক্ত নজরুল বেপারী কৌশলে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী মাহামুদা বেগমকে (৩৮) ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানান, উদ্ধার মাদক ও অস্ত্রের ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক নজরুল বেপারীকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বরিশালের গৌরনদীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে এক যুবককে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়েছে। মৃত ভেবে ফেলে যাওয়া ওই যুবকের নাম আরিফ আকন। তিনি বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে গৌরনদী উপজেলার গেরাকুল গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত আরিফ আকন ওই গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলাম আকনের একমাত্র ছেলে। কয়েক মাস আগে এক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আরিফের বাম হাত ভেঙে প্রায় অকেজো হয়ে যায়।
ভুক্তভোগী বড় বোন তিরা মনি বেগম জানান, তাদের পুরোনো বাড়ির সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে বাথরুম নির্মাণ করছিলেন প্রতিবেশী আনোয়ার আকনের ছেলে নসিমনচালক রুবেল আকন। বিষয়টি জানতে পেরে শুক্রবার সকালে আরিফ ঘটনাস্থলে যান। সেখানে রুবেলকে না পেয়ে তার পরিবারের সদস্যদের নির্মাণাধীন বাথরুমটি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন।
দুপুরে রুবেল বাড়িতে ফিরে বিষয়টি জানতে পেরে আরিফকে হত্যার হুমকি দেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিকেলে রুবেল ও তার কয়েকজন সহযোগী বাড়ির পাশে আরিফকে একা পেয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। তারা লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আরিফের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে মারাত্মক জখম করেন। একপর্যায়ে আরিফ সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে মৃত ভেবে হামলাকারীরা তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
পরে খবর পেয়ে আরিফের মা ও প্রতিবেশীরা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাতেই তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিরা মনি বেগম আরও জানান, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার ভাইয়ের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রুবেল আকনসহ তার সহযোগীরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিক হাসান রাসেল জানান, এই ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বরিশাল টাইমস