ঈদের ছুটিতে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সারা দেশে সাধারণ মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন আগামী শুক্রবার লন্ডনে অনুষ্ঠেয় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠক। সংসদ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ ও সম্ভাব্য রোডম্যাপ ঘোষণা নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলমান আলোচনা ও বিরাজমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেশের দুই শীর্ষনেতার এ বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে আগামী এপ্রিলের প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে সরকারের যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, সেই কারণে সরকারপ্রধানের সঙ্গে প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির শীর্ষনেতা তারেক রহমানের বৈঠক আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছিল না।
সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ এবং দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতার সঙ্গে সরকারের তরফে বারবার যোগাযোগের পর শেষ পর্যন্ত সোমবার রাতে বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি এ বৈঠকে রাজি হয়েছে।
শুক্রবার লন্ডন সময় সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে সেন্ট্রাল লন্ডনে হাইড পার্কের কাছে ডরচেষ্টার হোটেলে দুই শীর্ষনেতার ওয়ান-টু-ওয়ান এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। চার দিনের যুক্তরাজ্য সফরে প্রধান উপদেষ্টা ইতোমধ্যে লন্ডন পৌঁছে এ হোটেলে অবস্থান করছেন।
রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছ থেকে হারমোনি অ্যাওয়ার্ড নিতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের লন্ডন সফরের ঘোষণার পর থেকেই তাঁর সঙ্গে লন্ডনে নির্বাসিত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠক আয়োজনের আলোচনা শুরু হয়।
গত বছরের ৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার পর ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেও প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে তাঁর এখনো সাক্ষাৎ হয়নি। তাই প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রথম যুক্তরাজ্য সফরে দুই নেতার দেখা-সাক্ষাতের সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে জল্পনকল্পনা শুরু হয়।
সরকারের তরফে বিএনপি মহাসচিবসহ দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে প্রাথমিক যোগাযোগের পর প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে সৌজন্য সাক্ষাতের আমন্ত্রণ জানানো হয়। সফরের শেষ দিনে ১৩ জুন শুক্রবার সকালে বৈঠকের সময় নির্ধারণ করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উভয় চ্যানেলে বিএনপির শীর্ষনেতার কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়। বিএনপিসূত্র বলছে, মূলত প্রধান উপদেষ্টার ব্যক্তিগত আগ্রহ এবং সরকারের সিনিয়র উপদেষ্টাদের জোর চেষ্টার কারণে শেষ পর্যন্ত এ বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ সফল হতে যাচ্ছে।
ওয়াকিবহাল সূত্র জানায়, নির্বাচনি রোডম্যাপ ঘোষণা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে বিএনপি শুরু থেকেই এ বৈঠকে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে অনীহা প্রকাশ করে আসছিল। তবু সরকারের কয়েকজন সিনিয়র ও প্রভাবশালী উপদেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকটি আয়োজনের চেষ্টা অব্যাহত রাখেন। এ নিয়ে ঢাকা ও লন্ডনে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলতে থাকে। আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান ইস্যুগুলো সমাধানের বিভিন্ন সম্ভাবনা তুলে ধরে বৈঠকে রাজি করাতে চেষ্টা চালানো হয়।
বিভিন্ন মহল থেকে বলা হয় যে এ বৈঠক একটি সুন্দর সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে, যেখানে শুভেচ্ছাবিনিময় ছাড়াও প্রধান উপদেষ্টা আগামী নির্বাচন, সংস্কার ও বিচার নিয়ে তাঁর সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরতে পারবেন, সরাসরি তারেক রহমানের মুখে শুনতে পারবেন এসব বিষয়ে তাঁর মতামত ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।
এ যোগাযোগের একপর্যায়ে ঈদের আগের দিন সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এপ্রিলের প্রথমার্ধে নির্বাচনের ঘোষণা দেন। বিএনপি ও সমমনা দলগুলো এ ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে ডিসেম্বরে নির্বাচনের জোরালো দাবি জানায়। তারা ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে রোজা ও মার্চে ঈদের ছুটি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা, কালবৈশাখি ও ঝড়বৃষ্টির মৌসুমে নির্বাচনি কার্যক্রম ও প্রচারণা চালানোর অসুবিধার যুক্তি তুলে ধরে চলতি বছরের শেষে নির্বাচনের দাবি অব্যাহত রাখে।
সূত্রমতে এই প্রেক্ষাপটে বিএনপির অসন্তোষের কারণে লন্ডনে দুই নেতার শীর্ষ বৈঠক আয়োজনে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এর মধ্যে সরকার বিএনপির অপছন্দের একজন উপদেষ্টা মর্যাদার কর্মকর্তাকে লন্ডন বৈঠক আয়োজনে মধ্যস্থতার দায়িত্ব দেওয়ায় দলটি এ আলোচনা থেকে পিছিয়ে যায়।
দলীয় সূত্রমতে, ইতোপূর্বে বিএনপি সরকারের আরেকজন উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি জানানোর পর প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপি প্রতিনিধিদলের বৈঠকে সরকার পক্ষে ওই উপদেষ্টা উপস্থিত থাকায় দলটি অসন্তোষ প্রকাশ করে। ওই জটিল পরিস্থিতিতে কয়েকজন সিনিয়র উপদেষ্টা এগিয়ে আসেন এবং দ্রুত ব্যাংককে চিকিৎসাধীন বিএনপি মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বৈঠকটি আয়োজনের অনুরোধ করেন। তাঁরা চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এ বৈঠকের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং আলোচনার সম্ভাব্য বিষয়ের ওপর জোর দেন।
ঈদের ছুটির মধ্যেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাসহ কূটনৈতিক মহলে এ বৈঠক আয়োজন নিয়ে নতুন করে চেষ্টা শুরু হয়। গত রবি ও সোমবার সম্ভাব্য বৈঠকের খবর বের হলেও সোমবার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা লন্ডনের উদ্দেশে যাত্রার আগপর্যন্ত বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে এ বৈঠকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের যোগদানের ব্যাপারে সম্মতি প্রকাশ করেনি।
স্থায়ী কমিটির সূত্রে জানা যায়, স্থায়ী কমিটির সভায় তারেক রহমান লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের আমন্ত্রণ পাওয়ার বিষয় জানিয়ে এ ব্যাপারে দলের নীতিনির্ধারকদের মতামত জানতে চান। বিস্তারিত আলোচনার পর নির্বাচনের তারিখ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা ও আরও কয়েকটি স্পর্শকাতর ইস্যু সরকারপ্রধানের সঙ্গে সরাসরি আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশায় কৌশলগত কারণে কমিটি দলের শীর্ষ নেতাকে এ বৈঠকে যোগ দেওয়ার অনুরোধ জানায়। স্থায়ী কমিটি একই সঙ্গে তারেক রহমানকে শুক্রবারের প্রস্তাবিত বৈঠকে দলের পক্ষে যে কোনো বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আশা প্রকাশ করেছেন যে এ শীর্ষ বৈঠক রাজনীতিতে নতুন ডাইমেনশন তৈরি করতে পারে। বর্তমান সরকারপ্রধানের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সরকারের সম্ভাব্য প্রধানের বৈঠকটিকে তিনি সমকালীন রাজনীতির সবচেয়ে বড় ইভেন্ট বলে অভিহিত করে আশা প্রকাশ করেছেন, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধানের পথ তৈরি হবে।
তাঁর ভাষায়, এ বৈঠক হতে পারে রাজনীতির টার্নিং পয়েন্ট।’

২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:২০
একসময় কন্যাসন্তানকে স্কুলে পাঠানোই ছিল অনেক পরিবারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও সন্তানদের শিক্ষিত করার স্বপ্ন দেখেছিলেন রামুর উলামিয়া। তার সেই স্বপ্ন আজ অনন্য এক সাফল্যের গল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার ১৩ মেয়ের মধ্যে ৮ জনই এখন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। পরিবারের ১৬ সন্তানের মধ্যে ১৩ জন মেয়ে ও তিনজন ছেলে—প্রায় সবাই উচ্চশিক্ষিত।
শুধু একটি পরিবারের সাফল্য নয়, রামুর প্রত্যন্ত জনপদে নারীশিক্ষার প্রসারে উলামিয়ার এই উদ্যোগ এখন অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নিজের সন্তানদের শিক্ষিত করার পাশাপাশি তাদের মাধ্যমে অসংখ্য শিশুর ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উলামিয়া এমন এক সময়ে মেয়েদের শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছিলেন, যখন গ্রামাঞ্চলে কন্যাসন্তানদের স্কুলে পাঠানোর প্রবণতা খুবই কম ছিল। সামাজিক নানা বাধা ও প্রচলিত ধারণাকে উপেক্ষা করে তিনি সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেন। তার বিশ্বাস ছিল—ছেলে-মেয়ে সবার জন্য শিক্ষার সুযোগ সমান হওয়া উচিত।
উলামিয়ার ১৩ মেয়ের মধ্যে আটজন বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। হুসনে আরা বেগম বান্দরবান আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, সাবেকুন্নাহার কাজল হাটহাজারী উপজেলার ফতেপুর লতিফপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, মুজিবুননাহার চকরিয়া উপজেলার কাজীর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, রিজিয়া আক্তার চকরিয়া উপজেলার নিজপানখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং সেলিনা আক্তার রামু উপজেলার মেরংলোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত।
এ ছাড়া তাহমিদা ইয়াছমিন রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, ফাহমিদা ইয়াছমিন রাউজান উপজেলার পশ্চিম সোলতানকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং শারমিন আফরোজ নওরীন রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সন্তানদের পড়াশোনার ব্যাপারে উলামিয়া ছিলেন অত্যন্ত সচেতন। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও তিনি তাদের শিক্ষার সুযোগ করে দিয়েছেন। তার মেয়েরাও বাবার স্বপ্নকে নিজেদের জীবনের লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছেন। শিক্ষাজীবন শেষ করে তারা শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হয়েছেন এবং এখন গ্রামের শিশুদের শিক্ষা দেওয়ার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।
উলামিয়ার মেয়ে আনোয়ারা বেগম তার শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত তার ক্লাসে অনেক ছেলে শিক্ষার্থীর বিপরীতে তিনি ছিলেন একমাত্র মেয়ে শিক্ষার্থী। সে সময় নানা প্রতিকূলতা থাকলেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে পরিবারের পক্ষ থেকে তিনি পেয়েছেন পূর্ণ সমর্থন।
উলামিয়ার বড় ছেলে ও রামু সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছলিম উল্লাহ বলেন, তাদের বাবা সবসময় সন্তানদের শিক্ষার ব্যাপারে উৎসাহ দিতেন। তার ভাষায়, বাবার কাছে শিক্ষা ছিল সম্মানের প্রতীক। বাবার মৃত্যুর পরও তিনি নিজের ক্যারিয়ারের পাশাপাশি ছোট ভাই-বোনদের পড়াশোনা ও প্রতিষ্ঠিত করার দায়িত্ব পালন করেছেন।
জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল শামসুদ্দিন মো. প্রিন্স বলেন, উলামিয়ার ত্যাগ, দূরদর্শিতা ও মেয়েদের শিক্ষার প্রতি তার গুরুত্বের কারণে পরিবারটি এলাকায় একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। তার পরিবারের সাফল্য দেখে অন্য পরিবারগুলোও মেয়েদের শিক্ষার বিষয়ে উৎসাহিত হচ্ছে।
রামু উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. হানিফ মিয়া বলেন, একই পরিবারের আটজন সদস্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া সত্যিই বিরল ঘটনা। তাদের এই সাফল্যে আমরা গর্বিত। পরিবারটি অন্যদের জন্যও অনুকরণীয় উদাহরণ।
কক্সবাজারে নারীশিক্ষার পিছিয়ে থাকার প্রসঙ্গ তুলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব এবং রামুর কৃতী সন্তান মাফরুহা সুলতানা বলেন, আর্থিক সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি ধর্মীয় ও সামাজিক নানা কারণে এই অঞ্চলে নারীশিক্ষা দীর্ঘদিন পিছিয়ে ছিল। এমন বাস্তবতায় সামাজিক বাধা উপেক্ষা করে উলামিয়া তার কন্যাসন্তানদের শিক্ষিত করে তুলেছেন। এর মাধ্যমে তিনি শুধু একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়েননি, সমাজ ও দেশ গঠনের জন্য একাধিক শিক্ষিত মানুষ তৈরি করেছেন।
তিনি আরও বলেন, এই সাফল্যের পেছনে উলামিয়ার স্ত্রীদের অবদানও গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানদের লালন-পালন, শিক্ষার প্রতি তাদের সমর্থন এবং পরিবারের প্রতি তাদের ত্যাগ এই সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি।
একজন বাবার দূরদর্শিতা, মায়ের ত্যাগ এবং সন্তানদের অধ্যবসায়ের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই পরিবার এখন রামুর মানুষের কাছে একটি অনন্য উদাহরণ। ১৩ মেয়ের মধ্যে আটজনের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া প্রমাণ করে, সুযোগ ও পরিবারের সহযোগিতা পেলে মেয়েরাও পরিবার, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
উলামিয়ার পরিবারের গল্প তাই শুধু একটি পরিবারের সাফল্যের গল্প নয়; এটি নারীশিক্ষা, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং একটি প্রজন্মকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার অনুপ্রেরণার গল্প।
একসময় কন্যাসন্তানকে স্কুলে পাঠানোই ছিল অনেক পরিবারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও সন্তানদের শিক্ষিত করার স্বপ্ন দেখেছিলেন রামুর উলামিয়া। তার সেই স্বপ্ন আজ অনন্য এক সাফল্যের গল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার ১৩ মেয়ের মধ্যে ৮ জনই এখন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। পরিবারের ১৬ সন্তানের মধ্যে ১৩ জন মেয়ে ও তিনজন ছেলে—প্রায় সবাই উচ্চশিক্ষিত।
শুধু একটি পরিবারের সাফল্য নয়, রামুর প্রত্যন্ত জনপদে নারীশিক্ষার প্রসারে উলামিয়ার এই উদ্যোগ এখন অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নিজের সন্তানদের শিক্ষিত করার পাশাপাশি তাদের মাধ্যমে অসংখ্য শিশুর ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উলামিয়া এমন এক সময়ে মেয়েদের শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছিলেন, যখন গ্রামাঞ্চলে কন্যাসন্তানদের স্কুলে পাঠানোর প্রবণতা খুবই কম ছিল। সামাজিক নানা বাধা ও প্রচলিত ধারণাকে উপেক্ষা করে তিনি সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেন। তার বিশ্বাস ছিল—ছেলে-মেয়ে সবার জন্য শিক্ষার সুযোগ সমান হওয়া উচিত।
উলামিয়ার ১৩ মেয়ের মধ্যে আটজন বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। হুসনে আরা বেগম বান্দরবান আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, সাবেকুন্নাহার কাজল হাটহাজারী উপজেলার ফতেপুর লতিফপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, মুজিবুননাহার চকরিয়া উপজেলার কাজীর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, রিজিয়া আক্তার চকরিয়া উপজেলার নিজপানখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং সেলিনা আক্তার রামু উপজেলার মেরংলোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত।
এ ছাড়া তাহমিদা ইয়াছমিন রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, ফাহমিদা ইয়াছমিন রাউজান উপজেলার পশ্চিম সোলতানকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং শারমিন আফরোজ নওরীন রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সন্তানদের পড়াশোনার ব্যাপারে উলামিয়া ছিলেন অত্যন্ত সচেতন। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও তিনি তাদের শিক্ষার সুযোগ করে দিয়েছেন। তার মেয়েরাও বাবার স্বপ্নকে নিজেদের জীবনের লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছেন। শিক্ষাজীবন শেষ করে তারা শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হয়েছেন এবং এখন গ্রামের শিশুদের শিক্ষা দেওয়ার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।
উলামিয়ার মেয়ে আনোয়ারা বেগম তার শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত তার ক্লাসে অনেক ছেলে শিক্ষার্থীর বিপরীতে তিনি ছিলেন একমাত্র মেয়ে শিক্ষার্থী। সে সময় নানা প্রতিকূলতা থাকলেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে পরিবারের পক্ষ থেকে তিনি পেয়েছেন পূর্ণ সমর্থন।
উলামিয়ার বড় ছেলে ও রামু সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছলিম উল্লাহ বলেন, তাদের বাবা সবসময় সন্তানদের শিক্ষার ব্যাপারে উৎসাহ দিতেন। তার ভাষায়, বাবার কাছে শিক্ষা ছিল সম্মানের প্রতীক। বাবার মৃত্যুর পরও তিনি নিজের ক্যারিয়ারের পাশাপাশি ছোট ভাই-বোনদের পড়াশোনা ও প্রতিষ্ঠিত করার দায়িত্ব পালন করেছেন।
জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল শামসুদ্দিন মো. প্রিন্স বলেন, উলামিয়ার ত্যাগ, দূরদর্শিতা ও মেয়েদের শিক্ষার প্রতি তার গুরুত্বের কারণে পরিবারটি এলাকায় একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। তার পরিবারের সাফল্য দেখে অন্য পরিবারগুলোও মেয়েদের শিক্ষার বিষয়ে উৎসাহিত হচ্ছে।
রামু উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. হানিফ মিয়া বলেন, একই পরিবারের আটজন সদস্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া সত্যিই বিরল ঘটনা। তাদের এই সাফল্যে আমরা গর্বিত। পরিবারটি অন্যদের জন্যও অনুকরণীয় উদাহরণ।
কক্সবাজারে নারীশিক্ষার পিছিয়ে থাকার প্রসঙ্গ তুলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব এবং রামুর কৃতী সন্তান মাফরুহা সুলতানা বলেন, আর্থিক সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি ধর্মীয় ও সামাজিক নানা কারণে এই অঞ্চলে নারীশিক্ষা দীর্ঘদিন পিছিয়ে ছিল। এমন বাস্তবতায় সামাজিক বাধা উপেক্ষা করে উলামিয়া তার কন্যাসন্তানদের শিক্ষিত করে তুলেছেন। এর মাধ্যমে তিনি শুধু একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়েননি, সমাজ ও দেশ গঠনের জন্য একাধিক শিক্ষিত মানুষ তৈরি করেছেন।
তিনি আরও বলেন, এই সাফল্যের পেছনে উলামিয়ার স্ত্রীদের অবদানও গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানদের লালন-পালন, শিক্ষার প্রতি তাদের সমর্থন এবং পরিবারের প্রতি তাদের ত্যাগ এই সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি।
একজন বাবার দূরদর্শিতা, মায়ের ত্যাগ এবং সন্তানদের অধ্যবসায়ের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই পরিবার এখন রামুর মানুষের কাছে একটি অনন্য উদাহরণ। ১৩ মেয়ের মধ্যে আটজনের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া প্রমাণ করে, সুযোগ ও পরিবারের সহযোগিতা পেলে মেয়েরাও পরিবার, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
উলামিয়ার পরিবারের গল্প তাই শুধু একটি পরিবারের সাফল্যের গল্প নয়; এটি নারীশিক্ষা, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং একটি প্রজন্মকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার অনুপ্রেরণার গল্প।

০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৪৭
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ বলেছেন, পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়, পুলিশ হবে জনগণের বন্ধু, সেবক এবং আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগকারী। তিনি বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মানবাধিকার সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব, সততা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
রোববার (২ আগস্ট) সকালে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সারদায় ২৭তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচের (১ম পর্যায়) সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। সাইবার অপরাধ, ডিজিটাল প্রতারণা, অনলাইন জালিয়াতি ও প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ সদস্যদের আধুনিক প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করতে হবে। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের মাধ্যমে পুলিশকে একটি মানবিক ও জনমুখী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পুলিশ বাহিনীর প্রধান শক্তি হলো জনগণের আস্থা। তাই কোনো প্রকার রাজনৈতিক প্রভাব, পক্ষপাতিত্ব বা গোষ্ঠীগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে সংবিধান ও আইনের প্রতি আনুগত্য বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশপ্রেম, সততা, পেশাদারিত্ব ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্নকারী কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের জনগণের কল্যাণে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এ সময় বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের জন্য তিনজন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের মধ্যে পুরস্কার তুলে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ বলেছেন, পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়, পুলিশ হবে জনগণের বন্ধু, সেবক এবং আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগকারী। তিনি বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মানবাধিকার সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব, সততা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
রোববার (২ আগস্ট) সকালে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সারদায় ২৭তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচের (১ম পর্যায়) সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। সাইবার অপরাধ, ডিজিটাল প্রতারণা, অনলাইন জালিয়াতি ও প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ সদস্যদের আধুনিক প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করতে হবে। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের মাধ্যমে পুলিশকে একটি মানবিক ও জনমুখী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পুলিশ বাহিনীর প্রধান শক্তি হলো জনগণের আস্থা। তাই কোনো প্রকার রাজনৈতিক প্রভাব, পক্ষপাতিত্ব বা গোষ্ঠীগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে সংবিধান ও আইনের প্রতি আনুগত্য বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশপ্রেম, সততা, পেশাদারিত্ব ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্নকারী কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের জনগণের কল্যাণে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এ সময় বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের জন্য তিনজন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের মধ্যে পুরস্কার তুলে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।’

০১ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৩৪
সংসদের ছোটখাটো বিষয়কে রাজপথে আনাসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্থিরতা ও বিভ্রান্তি তৈরির অপচেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। শনিবার (০১ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ) ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর যৌথ উদ্যোগে ‘ফ্যাসিবাদের ১৫ বছর ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক ফটো অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন এবং বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে আমরা যখন গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিচর্চা করতে চাই এবং জাতীয় সংসদকে একটি কার্যকর সংসদীয় সংস্কৃতির ধারায় এগিয়ে নিতে চাই, তখন দেখা যায় কেউ কেউ সংসদের চেয়ে রাজপথকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন।সরকার ষড়যন্ত্রের গভীরতা সম্পর্কে সচেতন। তবে দায়িত্বশীল সরকার হিসেবে তারা উত্তেজনা নয়, বরং গঠনমূলক সমাধানেই বিশ্বাসী।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বুঝি বলেই দায়িত্বশীল আচরণ করি, অভিভাবকের ভাষায় কথা বলি। সংসদের ছোটখাটো বিষয়কে রাজপথে আনাসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্থিরতা ও বিভ্রান্তি তৈরির অপচেষ্টা চলছে। প্রতিক্রিয়াশীল ও উসকানিমূলক বক্তব্য কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দূষিত পরিবেশ সৃষ্টি করে রাষ্ট্র পরিচালনা করা যায় না।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল মানুষের ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং একটি স্বাধীন, স্বনির্ভর ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। সেই আন্দোলনের পর্ব শেষ হয়েছে। এখন দেশ গঠনের সময়।’
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘এখন আমাদের প্রধান দায়িত্ব দেশ গড়া। যারা সমস্যা তৈরি করবে, তাদের সঙ্গে প্রথমে গঠনমূলকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। তবে রাষ্ট্র, দেশ ও জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও পিছপা হবে না।’
তিনি বলেন, দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে আলোকচিত্র গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে কাজ করবে। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গণতন্ত্র ও আন্দোলনের ইতিহাস জানতে সহায়তা করবে।
অনুষ্ঠানে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, গত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ছিল বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম। এই আন্দোলনের ত্যাগ, নির্যাতন ও আত্মদানের বাস্তব চিত্র তিন দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে ফুটে উঠেছে।
তিনি বলেন, এই প্রদর্শনী অতীতের নির্মমতা স্মরণ করিয়ে দেবে এবং ভবিষ্যতে যেন দেশে আর কোনো স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল ১৬ বছরের আন্দোলন, শোষণ, নিপীড়ন ও ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। তিনি শহিদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বিপিজেএর সভাপতি এ কে এম মহসীন বলেন, ফটোসাংবাদিকরা ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে, এমনকি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়েও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করেন। অথচ তাদের প্রাপ্য সম্মান ও মূল্যায়ন অনেক সময় করা হয় না, যা দুঃখজনক।
তিনি বলেন, ফটোসাংবাদিকদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। তাদের মূল্যায়ন করা উচিত। এ সময় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিগত ১৭ বছরের আন্দোলনে আহত ফটোসাংবাদিকদের যথাযথ মূল্যায়ন করেছেন।
সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন বলেন, জুলাই আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা একক গোষ্ঠীর অর্জন নয়; এটি ছিল সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত সংগ্রাম। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে কেউ কেউ জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব এককভাবে দাবি করে বিভাজন সৃষ্টি করছেন, যা আন্দোলনের চেতনার পরিপন্থি।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্যাতনের শিকার হলেও তা নিয়ে কখনো রাজনৈতিক প্রচারণা করেননি।’
সংসদের ছোটখাটো বিষয়কে রাজপথে আনাসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্থিরতা ও বিভ্রান্তি তৈরির অপচেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। শনিবার (০১ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ) ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর যৌথ উদ্যোগে ‘ফ্যাসিবাদের ১৫ বছর ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক ফটো অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন এবং বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে আমরা যখন গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিচর্চা করতে চাই এবং জাতীয় সংসদকে একটি কার্যকর সংসদীয় সংস্কৃতির ধারায় এগিয়ে নিতে চাই, তখন দেখা যায় কেউ কেউ সংসদের চেয়ে রাজপথকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন।সরকার ষড়যন্ত্রের গভীরতা সম্পর্কে সচেতন। তবে দায়িত্বশীল সরকার হিসেবে তারা উত্তেজনা নয়, বরং গঠনমূলক সমাধানেই বিশ্বাসী।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বুঝি বলেই দায়িত্বশীল আচরণ করি, অভিভাবকের ভাষায় কথা বলি। সংসদের ছোটখাটো বিষয়কে রাজপথে আনাসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্থিরতা ও বিভ্রান্তি তৈরির অপচেষ্টা চলছে। প্রতিক্রিয়াশীল ও উসকানিমূলক বক্তব্য কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দূষিত পরিবেশ সৃষ্টি করে রাষ্ট্র পরিচালনা করা যায় না।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল মানুষের ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং একটি স্বাধীন, স্বনির্ভর ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। সেই আন্দোলনের পর্ব শেষ হয়েছে। এখন দেশ গঠনের সময়।’
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘এখন আমাদের প্রধান দায়িত্ব দেশ গড়া। যারা সমস্যা তৈরি করবে, তাদের সঙ্গে প্রথমে গঠনমূলকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। তবে রাষ্ট্র, দেশ ও জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও পিছপা হবে না।’
তিনি বলেন, দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে আলোকচিত্র গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে কাজ করবে। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গণতন্ত্র ও আন্দোলনের ইতিহাস জানতে সহায়তা করবে।
অনুষ্ঠানে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, গত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ছিল বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম। এই আন্দোলনের ত্যাগ, নির্যাতন ও আত্মদানের বাস্তব চিত্র তিন দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে ফুটে উঠেছে।
তিনি বলেন, এই প্রদর্শনী অতীতের নির্মমতা স্মরণ করিয়ে দেবে এবং ভবিষ্যতে যেন দেশে আর কোনো স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল ১৬ বছরের আন্দোলন, শোষণ, নিপীড়ন ও ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। তিনি শহিদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বিপিজেএর সভাপতি এ কে এম মহসীন বলেন, ফটোসাংবাদিকরা ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে, এমনকি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়েও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করেন। অথচ তাদের প্রাপ্য সম্মান ও মূল্যায়ন অনেক সময় করা হয় না, যা দুঃখজনক।
তিনি বলেন, ফটোসাংবাদিকদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। তাদের মূল্যায়ন করা উচিত। এ সময় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিগত ১৭ বছরের আন্দোলনে আহত ফটোসাংবাদিকদের যথাযথ মূল্যায়ন করেছেন।
সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন বলেন, জুলাই আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা একক গোষ্ঠীর অর্জন নয়; এটি ছিল সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত সংগ্রাম। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে কেউ কেউ জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব এককভাবে দাবি করে বিভাজন সৃষ্টি করছেন, যা আন্দোলনের চেতনার পরিপন্থি।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্যাতনের শিকার হলেও তা নিয়ে কখনো রাজনৈতিক প্রচারণা করেননি।’

১১ জুন, ২০২৫ ১২:০৮
ঈদের ছুটিতে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সারা দেশে সাধারণ মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন আগামী শুক্রবার লন্ডনে অনুষ্ঠেয় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠক। সংসদ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ ও সম্ভাব্য রোডম্যাপ ঘোষণা নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলমান আলোচনা ও বিরাজমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেশের দুই শীর্ষনেতার এ বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে আগামী এপ্রিলের প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে সরকারের যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, সেই কারণে সরকারপ্রধানের সঙ্গে প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির শীর্ষনেতা তারেক রহমানের বৈঠক আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছিল না।
সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ এবং দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতার সঙ্গে সরকারের তরফে বারবার যোগাযোগের পর শেষ পর্যন্ত সোমবার রাতে বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি এ বৈঠকে রাজি হয়েছে।
শুক্রবার লন্ডন সময় সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে সেন্ট্রাল লন্ডনে হাইড পার্কের কাছে ডরচেষ্টার হোটেলে দুই শীর্ষনেতার ওয়ান-টু-ওয়ান এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। চার দিনের যুক্তরাজ্য সফরে প্রধান উপদেষ্টা ইতোমধ্যে লন্ডন পৌঁছে এ হোটেলে অবস্থান করছেন।
রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছ থেকে হারমোনি অ্যাওয়ার্ড নিতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের লন্ডন সফরের ঘোষণার পর থেকেই তাঁর সঙ্গে লন্ডনে নির্বাসিত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠক আয়োজনের আলোচনা শুরু হয়।
গত বছরের ৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার পর ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেও প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে তাঁর এখনো সাক্ষাৎ হয়নি। তাই প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রথম যুক্তরাজ্য সফরে দুই নেতার দেখা-সাক্ষাতের সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে জল্পনকল্পনা শুরু হয়।
সরকারের তরফে বিএনপি মহাসচিবসহ দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে প্রাথমিক যোগাযোগের পর প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে সৌজন্য সাক্ষাতের আমন্ত্রণ জানানো হয়। সফরের শেষ দিনে ১৩ জুন শুক্রবার সকালে বৈঠকের সময় নির্ধারণ করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উভয় চ্যানেলে বিএনপির শীর্ষনেতার কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়। বিএনপিসূত্র বলছে, মূলত প্রধান উপদেষ্টার ব্যক্তিগত আগ্রহ এবং সরকারের সিনিয়র উপদেষ্টাদের জোর চেষ্টার কারণে শেষ পর্যন্ত এ বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ সফল হতে যাচ্ছে।
ওয়াকিবহাল সূত্র জানায়, নির্বাচনি রোডম্যাপ ঘোষণা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে বিএনপি শুরু থেকেই এ বৈঠকে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে অনীহা প্রকাশ করে আসছিল। তবু সরকারের কয়েকজন সিনিয়র ও প্রভাবশালী উপদেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকটি আয়োজনের চেষ্টা অব্যাহত রাখেন। এ নিয়ে ঢাকা ও লন্ডনে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলতে থাকে। আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান ইস্যুগুলো সমাধানের বিভিন্ন সম্ভাবনা তুলে ধরে বৈঠকে রাজি করাতে চেষ্টা চালানো হয়।
বিভিন্ন মহল থেকে বলা হয় যে এ বৈঠক একটি সুন্দর সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে, যেখানে শুভেচ্ছাবিনিময় ছাড়াও প্রধান উপদেষ্টা আগামী নির্বাচন, সংস্কার ও বিচার নিয়ে তাঁর সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরতে পারবেন, সরাসরি তারেক রহমানের মুখে শুনতে পারবেন এসব বিষয়ে তাঁর মতামত ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।
এ যোগাযোগের একপর্যায়ে ঈদের আগের দিন সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এপ্রিলের প্রথমার্ধে নির্বাচনের ঘোষণা দেন। বিএনপি ও সমমনা দলগুলো এ ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে ডিসেম্বরে নির্বাচনের জোরালো দাবি জানায়। তারা ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে রোজা ও মার্চে ঈদের ছুটি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা, কালবৈশাখি ও ঝড়বৃষ্টির মৌসুমে নির্বাচনি কার্যক্রম ও প্রচারণা চালানোর অসুবিধার যুক্তি তুলে ধরে চলতি বছরের শেষে নির্বাচনের দাবি অব্যাহত রাখে।
সূত্রমতে এই প্রেক্ষাপটে বিএনপির অসন্তোষের কারণে লন্ডনে দুই নেতার শীর্ষ বৈঠক আয়োজনে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এর মধ্যে সরকার বিএনপির অপছন্দের একজন উপদেষ্টা মর্যাদার কর্মকর্তাকে লন্ডন বৈঠক আয়োজনে মধ্যস্থতার দায়িত্ব দেওয়ায় দলটি এ আলোচনা থেকে পিছিয়ে যায়।
দলীয় সূত্রমতে, ইতোপূর্বে বিএনপি সরকারের আরেকজন উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি জানানোর পর প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপি প্রতিনিধিদলের বৈঠকে সরকার পক্ষে ওই উপদেষ্টা উপস্থিত থাকায় দলটি অসন্তোষ প্রকাশ করে। ওই জটিল পরিস্থিতিতে কয়েকজন সিনিয়র উপদেষ্টা এগিয়ে আসেন এবং দ্রুত ব্যাংককে চিকিৎসাধীন বিএনপি মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বৈঠকটি আয়োজনের অনুরোধ করেন। তাঁরা চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এ বৈঠকের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং আলোচনার সম্ভাব্য বিষয়ের ওপর জোর দেন।
ঈদের ছুটির মধ্যেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাসহ কূটনৈতিক মহলে এ বৈঠক আয়োজন নিয়ে নতুন করে চেষ্টা শুরু হয়। গত রবি ও সোমবার সম্ভাব্য বৈঠকের খবর বের হলেও সোমবার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা লন্ডনের উদ্দেশে যাত্রার আগপর্যন্ত বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে এ বৈঠকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের যোগদানের ব্যাপারে সম্মতি প্রকাশ করেনি।
স্থায়ী কমিটির সূত্রে জানা যায়, স্থায়ী কমিটির সভায় তারেক রহমান লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের আমন্ত্রণ পাওয়ার বিষয় জানিয়ে এ ব্যাপারে দলের নীতিনির্ধারকদের মতামত জানতে চান। বিস্তারিত আলোচনার পর নির্বাচনের তারিখ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা ও আরও কয়েকটি স্পর্শকাতর ইস্যু সরকারপ্রধানের সঙ্গে সরাসরি আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশায় কৌশলগত কারণে কমিটি দলের শীর্ষ নেতাকে এ বৈঠকে যোগ দেওয়ার অনুরোধ জানায়। স্থায়ী কমিটি একই সঙ্গে তারেক রহমানকে শুক্রবারের প্রস্তাবিত বৈঠকে দলের পক্ষে যে কোনো বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আশা প্রকাশ করেছেন যে এ শীর্ষ বৈঠক রাজনীতিতে নতুন ডাইমেনশন তৈরি করতে পারে। বর্তমান সরকারপ্রধানের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সরকারের সম্ভাব্য প্রধানের বৈঠকটিকে তিনি সমকালীন রাজনীতির সবচেয়ে বড় ইভেন্ট বলে অভিহিত করে আশা প্রকাশ করেছেন, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধানের পথ তৈরি হবে।
তাঁর ভাষায়, এ বৈঠক হতে পারে রাজনীতির টার্নিং পয়েন্ট।’
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:২৪
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০৬
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২৪
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪৬