
১১ জুন, ২০২৫ ১২:০৮
ঈদের ছুটিতে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সারা দেশে সাধারণ মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন আগামী শুক্রবার লন্ডনে অনুষ্ঠেয় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠক। সংসদ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ ও সম্ভাব্য রোডম্যাপ ঘোষণা নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলমান আলোচনা ও বিরাজমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেশের দুই শীর্ষনেতার এ বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে আগামী এপ্রিলের প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে সরকারের যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, সেই কারণে সরকারপ্রধানের সঙ্গে প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির শীর্ষনেতা তারেক রহমানের বৈঠক আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছিল না।
সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ এবং দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতার সঙ্গে সরকারের তরফে বারবার যোগাযোগের পর শেষ পর্যন্ত সোমবার রাতে বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি এ বৈঠকে রাজি হয়েছে।
শুক্রবার লন্ডন সময় সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে সেন্ট্রাল লন্ডনে হাইড পার্কের কাছে ডরচেষ্টার হোটেলে দুই শীর্ষনেতার ওয়ান-টু-ওয়ান এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। চার দিনের যুক্তরাজ্য সফরে প্রধান উপদেষ্টা ইতোমধ্যে লন্ডন পৌঁছে এ হোটেলে অবস্থান করছেন।
রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছ থেকে হারমোনি অ্যাওয়ার্ড নিতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের লন্ডন সফরের ঘোষণার পর থেকেই তাঁর সঙ্গে লন্ডনে নির্বাসিত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠক আয়োজনের আলোচনা শুরু হয়।
গত বছরের ৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার পর ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেও প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে তাঁর এখনো সাক্ষাৎ হয়নি। তাই প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রথম যুক্তরাজ্য সফরে দুই নেতার দেখা-সাক্ষাতের সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে জল্পনকল্পনা শুরু হয়।
সরকারের তরফে বিএনপি মহাসচিবসহ দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে প্রাথমিক যোগাযোগের পর প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে সৌজন্য সাক্ষাতের আমন্ত্রণ জানানো হয়। সফরের শেষ দিনে ১৩ জুন শুক্রবার সকালে বৈঠকের সময় নির্ধারণ করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উভয় চ্যানেলে বিএনপির শীর্ষনেতার কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়। বিএনপিসূত্র বলছে, মূলত প্রধান উপদেষ্টার ব্যক্তিগত আগ্রহ এবং সরকারের সিনিয়র উপদেষ্টাদের জোর চেষ্টার কারণে শেষ পর্যন্ত এ বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ সফল হতে যাচ্ছে।
ওয়াকিবহাল সূত্র জানায়, নির্বাচনি রোডম্যাপ ঘোষণা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে বিএনপি শুরু থেকেই এ বৈঠকে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে অনীহা প্রকাশ করে আসছিল। তবু সরকারের কয়েকজন সিনিয়র ও প্রভাবশালী উপদেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকটি আয়োজনের চেষ্টা অব্যাহত রাখেন। এ নিয়ে ঢাকা ও লন্ডনে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলতে থাকে। আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান ইস্যুগুলো সমাধানের বিভিন্ন সম্ভাবনা তুলে ধরে বৈঠকে রাজি করাতে চেষ্টা চালানো হয়।
বিভিন্ন মহল থেকে বলা হয় যে এ বৈঠক একটি সুন্দর সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে, যেখানে শুভেচ্ছাবিনিময় ছাড়াও প্রধান উপদেষ্টা আগামী নির্বাচন, সংস্কার ও বিচার নিয়ে তাঁর সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরতে পারবেন, সরাসরি তারেক রহমানের মুখে শুনতে পারবেন এসব বিষয়ে তাঁর মতামত ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।
এ যোগাযোগের একপর্যায়ে ঈদের আগের দিন সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এপ্রিলের প্রথমার্ধে নির্বাচনের ঘোষণা দেন। বিএনপি ও সমমনা দলগুলো এ ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে ডিসেম্বরে নির্বাচনের জোরালো দাবি জানায়। তারা ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে রোজা ও মার্চে ঈদের ছুটি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা, কালবৈশাখি ও ঝড়বৃষ্টির মৌসুমে নির্বাচনি কার্যক্রম ও প্রচারণা চালানোর অসুবিধার যুক্তি তুলে ধরে চলতি বছরের শেষে নির্বাচনের দাবি অব্যাহত রাখে।
সূত্রমতে এই প্রেক্ষাপটে বিএনপির অসন্তোষের কারণে লন্ডনে দুই নেতার শীর্ষ বৈঠক আয়োজনে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এর মধ্যে সরকার বিএনপির অপছন্দের একজন উপদেষ্টা মর্যাদার কর্মকর্তাকে লন্ডন বৈঠক আয়োজনে মধ্যস্থতার দায়িত্ব দেওয়ায় দলটি এ আলোচনা থেকে পিছিয়ে যায়।
দলীয় সূত্রমতে, ইতোপূর্বে বিএনপি সরকারের আরেকজন উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি জানানোর পর প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপি প্রতিনিধিদলের বৈঠকে সরকার পক্ষে ওই উপদেষ্টা উপস্থিত থাকায় দলটি অসন্তোষ প্রকাশ করে। ওই জটিল পরিস্থিতিতে কয়েকজন সিনিয়র উপদেষ্টা এগিয়ে আসেন এবং দ্রুত ব্যাংককে চিকিৎসাধীন বিএনপি মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বৈঠকটি আয়োজনের অনুরোধ করেন। তাঁরা চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এ বৈঠকের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং আলোচনার সম্ভাব্য বিষয়ের ওপর জোর দেন।
ঈদের ছুটির মধ্যেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাসহ কূটনৈতিক মহলে এ বৈঠক আয়োজন নিয়ে নতুন করে চেষ্টা শুরু হয়। গত রবি ও সোমবার সম্ভাব্য বৈঠকের খবর বের হলেও সোমবার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা লন্ডনের উদ্দেশে যাত্রার আগপর্যন্ত বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে এ বৈঠকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের যোগদানের ব্যাপারে সম্মতি প্রকাশ করেনি।
স্থায়ী কমিটির সূত্রে জানা যায়, স্থায়ী কমিটির সভায় তারেক রহমান লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের আমন্ত্রণ পাওয়ার বিষয় জানিয়ে এ ব্যাপারে দলের নীতিনির্ধারকদের মতামত জানতে চান। বিস্তারিত আলোচনার পর নির্বাচনের তারিখ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা ও আরও কয়েকটি স্পর্শকাতর ইস্যু সরকারপ্রধানের সঙ্গে সরাসরি আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশায় কৌশলগত কারণে কমিটি দলের শীর্ষ নেতাকে এ বৈঠকে যোগ দেওয়ার অনুরোধ জানায়। স্থায়ী কমিটি একই সঙ্গে তারেক রহমানকে শুক্রবারের প্রস্তাবিত বৈঠকে দলের পক্ষে যে কোনো বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আশা প্রকাশ করেছেন যে এ শীর্ষ বৈঠক রাজনীতিতে নতুন ডাইমেনশন তৈরি করতে পারে। বর্তমান সরকারপ্রধানের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সরকারের সম্ভাব্য প্রধানের বৈঠকটিকে তিনি সমকালীন রাজনীতির সবচেয়ে বড় ইভেন্ট বলে অভিহিত করে আশা প্রকাশ করেছেন, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধানের পথ তৈরি হবে।
তাঁর ভাষায়, এ বৈঠক হতে পারে রাজনীতির টার্নিং পয়েন্ট।’
ঈদের ছুটিতে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সারা দেশে সাধারণ মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন আগামী শুক্রবার লন্ডনে অনুষ্ঠেয় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠক। সংসদ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ ও সম্ভাব্য রোডম্যাপ ঘোষণা নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলমান আলোচনা ও বিরাজমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেশের দুই শীর্ষনেতার এ বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে আগামী এপ্রিলের প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে সরকারের যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, সেই কারণে সরকারপ্রধানের সঙ্গে প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির শীর্ষনেতা তারেক রহমানের বৈঠক আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছিল না।
সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ এবং দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতার সঙ্গে সরকারের তরফে বারবার যোগাযোগের পর শেষ পর্যন্ত সোমবার রাতে বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি এ বৈঠকে রাজি হয়েছে।
শুক্রবার লন্ডন সময় সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে সেন্ট্রাল লন্ডনে হাইড পার্কের কাছে ডরচেষ্টার হোটেলে দুই শীর্ষনেতার ওয়ান-টু-ওয়ান এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। চার দিনের যুক্তরাজ্য সফরে প্রধান উপদেষ্টা ইতোমধ্যে লন্ডন পৌঁছে এ হোটেলে অবস্থান করছেন।
রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছ থেকে হারমোনি অ্যাওয়ার্ড নিতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের লন্ডন সফরের ঘোষণার পর থেকেই তাঁর সঙ্গে লন্ডনে নির্বাসিত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠক আয়োজনের আলোচনা শুরু হয়।
গত বছরের ৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার পর ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেও প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে তাঁর এখনো সাক্ষাৎ হয়নি। তাই প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রথম যুক্তরাজ্য সফরে দুই নেতার দেখা-সাক্ষাতের সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে জল্পনকল্পনা শুরু হয়।
সরকারের তরফে বিএনপি মহাসচিবসহ দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে প্রাথমিক যোগাযোগের পর প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে সৌজন্য সাক্ষাতের আমন্ত্রণ জানানো হয়। সফরের শেষ দিনে ১৩ জুন শুক্রবার সকালে বৈঠকের সময় নির্ধারণ করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উভয় চ্যানেলে বিএনপির শীর্ষনেতার কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়। বিএনপিসূত্র বলছে, মূলত প্রধান উপদেষ্টার ব্যক্তিগত আগ্রহ এবং সরকারের সিনিয়র উপদেষ্টাদের জোর চেষ্টার কারণে শেষ পর্যন্ত এ বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ সফল হতে যাচ্ছে।
ওয়াকিবহাল সূত্র জানায়, নির্বাচনি রোডম্যাপ ঘোষণা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে বিএনপি শুরু থেকেই এ বৈঠকে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে অনীহা প্রকাশ করে আসছিল। তবু সরকারের কয়েকজন সিনিয়র ও প্রভাবশালী উপদেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকটি আয়োজনের চেষ্টা অব্যাহত রাখেন। এ নিয়ে ঢাকা ও লন্ডনে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলতে থাকে। আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান ইস্যুগুলো সমাধানের বিভিন্ন সম্ভাবনা তুলে ধরে বৈঠকে রাজি করাতে চেষ্টা চালানো হয়।
বিভিন্ন মহল থেকে বলা হয় যে এ বৈঠক একটি সুন্দর সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে, যেখানে শুভেচ্ছাবিনিময় ছাড়াও প্রধান উপদেষ্টা আগামী নির্বাচন, সংস্কার ও বিচার নিয়ে তাঁর সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরতে পারবেন, সরাসরি তারেক রহমানের মুখে শুনতে পারবেন এসব বিষয়ে তাঁর মতামত ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।
এ যোগাযোগের একপর্যায়ে ঈদের আগের দিন সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এপ্রিলের প্রথমার্ধে নির্বাচনের ঘোষণা দেন। বিএনপি ও সমমনা দলগুলো এ ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে ডিসেম্বরে নির্বাচনের জোরালো দাবি জানায়। তারা ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে রোজা ও মার্চে ঈদের ছুটি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা, কালবৈশাখি ও ঝড়বৃষ্টির মৌসুমে নির্বাচনি কার্যক্রম ও প্রচারণা চালানোর অসুবিধার যুক্তি তুলে ধরে চলতি বছরের শেষে নির্বাচনের দাবি অব্যাহত রাখে।
সূত্রমতে এই প্রেক্ষাপটে বিএনপির অসন্তোষের কারণে লন্ডনে দুই নেতার শীর্ষ বৈঠক আয়োজনে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এর মধ্যে সরকার বিএনপির অপছন্দের একজন উপদেষ্টা মর্যাদার কর্মকর্তাকে লন্ডন বৈঠক আয়োজনে মধ্যস্থতার দায়িত্ব দেওয়ায় দলটি এ আলোচনা থেকে পিছিয়ে যায়।
দলীয় সূত্রমতে, ইতোপূর্বে বিএনপি সরকারের আরেকজন উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি জানানোর পর প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপি প্রতিনিধিদলের বৈঠকে সরকার পক্ষে ওই উপদেষ্টা উপস্থিত থাকায় দলটি অসন্তোষ প্রকাশ করে। ওই জটিল পরিস্থিতিতে কয়েকজন সিনিয়র উপদেষ্টা এগিয়ে আসেন এবং দ্রুত ব্যাংককে চিকিৎসাধীন বিএনপি মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বৈঠকটি আয়োজনের অনুরোধ করেন। তাঁরা চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এ বৈঠকের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং আলোচনার সম্ভাব্য বিষয়ের ওপর জোর দেন।
ঈদের ছুটির মধ্যেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাসহ কূটনৈতিক মহলে এ বৈঠক আয়োজন নিয়ে নতুন করে চেষ্টা শুরু হয়। গত রবি ও সোমবার সম্ভাব্য বৈঠকের খবর বের হলেও সোমবার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা লন্ডনের উদ্দেশে যাত্রার আগপর্যন্ত বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে এ বৈঠকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের যোগদানের ব্যাপারে সম্মতি প্রকাশ করেনি।
স্থায়ী কমিটির সূত্রে জানা যায়, স্থায়ী কমিটির সভায় তারেক রহমান লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের আমন্ত্রণ পাওয়ার বিষয় জানিয়ে এ ব্যাপারে দলের নীতিনির্ধারকদের মতামত জানতে চান। বিস্তারিত আলোচনার পর নির্বাচনের তারিখ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা ও আরও কয়েকটি স্পর্শকাতর ইস্যু সরকারপ্রধানের সঙ্গে সরাসরি আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশায় কৌশলগত কারণে কমিটি দলের শীর্ষ নেতাকে এ বৈঠকে যোগ দেওয়ার অনুরোধ জানায়। স্থায়ী কমিটি একই সঙ্গে তারেক রহমানকে শুক্রবারের প্রস্তাবিত বৈঠকে দলের পক্ষে যে কোনো বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আশা প্রকাশ করেছেন যে এ শীর্ষ বৈঠক রাজনীতিতে নতুন ডাইমেনশন তৈরি করতে পারে। বর্তমান সরকারপ্রধানের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সরকারের সম্ভাব্য প্রধানের বৈঠকটিকে তিনি সমকালীন রাজনীতির সবচেয়ে বড় ইভেন্ট বলে অভিহিত করে আশা প্রকাশ করেছেন, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধানের পথ তৈরি হবে।
তাঁর ভাষায়, এ বৈঠক হতে পারে রাজনীতির টার্নিং পয়েন্ট।’

২৪ জুন, ২০২৬ ১৮:৪৩
২০২৬-২৭ অর্থবছরে ভ্যাটের সুর্নিদিষ্ট করের আওতায় মুদি দোকানসহ ১৬ ব্যবসা খাত যুক্ত হচ্ছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বুধবার (২৪জুন) বিকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৪তম দিনে জাতীয় বাজেট সংসদের অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নোত্তরে তিনি এসব তথ্য জানান। প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়েছে। এদিন সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।
মহিলা আসন-৩৫ সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানা তার লিখিত প্রশ্নে জানতে চান, বিগত অর্থ বছরে মূল্য সংযোজন কর ও ভ্যাট বাবদ প্রাপ্ত রাজস্ব আয়ের পরিমাণ কত এবং নতুন কোনও প্রতিষ্ঠান বা উৎসকে ভ্যাটের আওতায় আনীবার পরিকল্পনা আছে কিনা, থাকলে, সম্ভাব্য প্রতিষ্ঠান বা উৎসের তালিকা কী?
জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট বাবদ রাজস্ব আয়ের পরিমাণ ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা।”
মন্ত্রী জানান, নতুন প্রতিষ্ঠান বা উৎসকে ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা আছে। ব্যবসায়িক খাতকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ভ্যাটের সুর্নিদিষ্ট করের আওতায় আনার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। সেগুলো হলো— মুদির দোকান, তৈরি পোশাক বা কাপড়ের বিক্রেতা, কনফেকশনারি, কসমেটিকসের দোকান, প্লাস্টিকের ও সিরামিকের গৃহস্থালি পণ্য, জুতার দোকান, হার্ডওয়্যার পণ্যের বিক্রেতা, ডেকোরেটরস, মোবাইল ফোন, এসি, ফ্রিজ, ওভেন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিকস পণ্যের বিক্রেতা, পেইন্ট ও হার্ডওয়্যার এবং সেনিটারি ও ফিটিংস, টাইলসের দোকান, ঢেউটিনের দোকান, রড ও সিমেন্ট, ফার্নিচার, বিউটি পার্লার, মিষ্টান্ন ভান্ডার ও রেস্টুরেন্ট।

২১ জুন, ২০২৬ ১৪:২১

২০ জুন, ২০২৬ ১৯:৪৩
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে আপনারা ফ্যাসিবাদকে বিদায় করেছেন। এখন নব্য ফ্যাসিবাদকে বিদায় জানাতে প্রয়োজন হলে আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত থাকুন।
শনিবার (২০ জুন) বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, জনগণের দেওয়া গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। সংসদে এ বিষয়ে সমাধান না হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনগণের কাছে গিয়ে আমাদের অবস্থান তুলে ধরব।
যেখানে কথা বলতে স্পিকারের অনুমতির প্রয়োজন হয় না, সেখানে আমরা জনগণের সঙ্গে কথা বলব। তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশায় পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু জনগণের সেই প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি।
সীমান্ত পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার প্রশ্নে দেশের জনগণ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী একসঙ্গে কাজ করবে। কোনো বিদেশি আধিপত্য বা আগ্রাসনের সামনে বাংলাদেশ মাথা নত করবে না।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ এবং মাওলানা মামুনুল হক।
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
২০২৬-২৭ অর্থবছরে ভ্যাটের সুর্নিদিষ্ট করের আওতায় মুদি দোকানসহ ১৬ ব্যবসা খাত যুক্ত হচ্ছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বুধবার (২৪জুন) বিকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৪তম দিনে জাতীয় বাজেট সংসদের অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নোত্তরে তিনি এসব তথ্য জানান। প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়েছে। এদিন সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।
মহিলা আসন-৩৫ সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানা তার লিখিত প্রশ্নে জানতে চান, বিগত অর্থ বছরে মূল্য সংযোজন কর ও ভ্যাট বাবদ প্রাপ্ত রাজস্ব আয়ের পরিমাণ কত এবং নতুন কোনও প্রতিষ্ঠান বা উৎসকে ভ্যাটের আওতায় আনীবার পরিকল্পনা আছে কিনা, থাকলে, সম্ভাব্য প্রতিষ্ঠান বা উৎসের তালিকা কী?
জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট বাবদ রাজস্ব আয়ের পরিমাণ ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা।”
মন্ত্রী জানান, নতুন প্রতিষ্ঠান বা উৎসকে ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা আছে। ব্যবসায়িক খাতকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ভ্যাটের সুর্নিদিষ্ট করের আওতায় আনার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। সেগুলো হলো— মুদির দোকান, তৈরি পোশাক বা কাপড়ের বিক্রেতা, কনফেকশনারি, কসমেটিকসের দোকান, প্লাস্টিকের ও সিরামিকের গৃহস্থালি পণ্য, জুতার দোকান, হার্ডওয়্যার পণ্যের বিক্রেতা, ডেকোরেটরস, মোবাইল ফোন, এসি, ফ্রিজ, ওভেন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিকস পণ্যের বিক্রেতা, পেইন্ট ও হার্ডওয়্যার এবং সেনিটারি ও ফিটিংস, টাইলসের দোকান, ঢেউটিনের দোকান, রড ও সিমেন্ট, ফার্নিচার, বিউটি পার্লার, মিষ্টান্ন ভান্ডার ও রেস্টুরেন্ট।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ (রোববার) সরকারি সফরে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন। বিকেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তার মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
মালয়েশিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি চীন সফরে যাবেন। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত এই সফরকে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দুই দেশের সফরকে সামনে রেখে শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, চীন সফরকালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক, চুক্তি, কর্মপরিকল্পনা ও প্রোটোকল সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মোট ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপাক্ষিক দলিলে স্বাক্ষর হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া দীর্ঘদিন আলোচনায় থাকা তিস্তা প্রকল্পও আলোচনার অন্যতম বিষয় হবে।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর। তিনি জানান, সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলকে সীমিত রাখা হয়েছে এবং এতে প্রায় ২৭ থেকে ২৮ জন সদস্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
সরকারের প্রত্যাশা, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
চীন সফরের অংশ হিসেবে আগামী ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ানে অনুষ্ঠিতব্য ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’ বা সামার দাভোস ফোরামের ১৭তম বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেবেন। ২৩ থেকে ২৫ জুন অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’। এতে বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় ১ হাজার ৭০০ প্রতিনিধি যোগ দেবেন। বৈশ্বিক অর্থনীতি, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনভিত্তিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে সেখানে আলোচনা হবে।
মালয়েশিয়া সফরে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শ্রমবাজারে সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে। অন্যদিকে, চীন সফরে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি, আঞ্চলিক সংযোগ ও উন্নয়ন সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ২৬ জুন রাতে প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ (রোববার) সরকারি সফরে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন। বিকেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তার মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
মালয়েশিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি চীন সফরে যাবেন। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত এই সফরকে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দুই দেশের সফরকে সামনে রেখে শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, চীন সফরকালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক, চুক্তি, কর্মপরিকল্পনা ও প্রোটোকল সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মোট ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপাক্ষিক দলিলে স্বাক্ষর হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া দীর্ঘদিন আলোচনায় থাকা তিস্তা প্রকল্পও আলোচনার অন্যতম বিষয় হবে।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর। তিনি জানান, সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলকে সীমিত রাখা হয়েছে এবং এতে প্রায় ২৭ থেকে ২৮ জন সদস্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
সরকারের প্রত্যাশা, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
চীন সফরের অংশ হিসেবে আগামী ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ানে অনুষ্ঠিতব্য ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’ বা সামার দাভোস ফোরামের ১৭তম বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেবেন। ২৩ থেকে ২৫ জুন অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’। এতে বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় ১ হাজার ৭০০ প্রতিনিধি যোগ দেবেন। বৈশ্বিক অর্থনীতি, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনভিত্তিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে সেখানে আলোচনা হবে।
মালয়েশিয়া সফরে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শ্রমবাজারে সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে। অন্যদিকে, চীন সফরে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি, আঞ্চলিক সংযোগ ও উন্নয়ন সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ২৬ জুন রাতে প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে আপনারা ফ্যাসিবাদকে বিদায় করেছেন। এখন নব্য ফ্যাসিবাদকে বিদায় জানাতে প্রয়োজন হলে আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত থাকুন।
শনিবার (২০ জুন) বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, জনগণের দেওয়া গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। সংসদে এ বিষয়ে সমাধান না হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনগণের কাছে গিয়ে আমাদের অবস্থান তুলে ধরব।
যেখানে কথা বলতে স্পিকারের অনুমতির প্রয়োজন হয় না, সেখানে আমরা জনগণের সঙ্গে কথা বলব। তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশায় পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু জনগণের সেই প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি।
সীমান্ত পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার প্রশ্নে দেশের জনগণ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী একসঙ্গে কাজ করবে। কোনো বিদেশি আধিপত্য বা আগ্রাসনের সামনে বাংলাদেশ মাথা নত করবে না।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ এবং মাওলানা মামুনুল হক।