বরগুনায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ১৯৩ জন রোগী। চলতি বছর জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের। শুধু বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে মারা গেছেন ৫ জন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, জানুয়ারি থেকে ১৩ জুন পর্যন্ত বরগুনায় মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৬৩১ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৪৩৮ জন। অন্যদিকে বরিশাল বিভাগের মধ্যে বরগুনা জেলাতেই আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ।
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে ৫৫ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৯ জন। ১৫০ নার্সের স্থলে আছেন মাত্র ৬৬ জন। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত ৫৫টি বেডের বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে ১৫০ থেকে ২০০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য রোগে আক্রান্ত মিলিয়ে প্রতিদিন ভর্তি থাকছেন প্রায় ৫০০ জন রোগী। পাশাপাশি আউটডোরে চিকিৎসা নিচ্ছেন আরও প্রায় ৫০০ জন। ফলে চিকিৎসক ও নার্স সঙ্কটে ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীরা।
গুরুতর অবস্থায় অনেক রোগীকে বরিশাল বা ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে। সম্প্রতি কলেজ ব্রাঞ্চ রোড এলাকার পাপড়ি বেগমকে (৬৫) ঢাকায় নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। এর আগে খামারবাড়ি এলাকার স্কুলছাত্র ওমর আল আরাবি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি হয়। একইভাবে আজমেরী মোনালিসা জেরিন নামে এক নারী উদ্যোক্তাও মৃত্যুবরণ করেন।
ডেঙ্গু আক্রান্ত দেড় বছরের শিশু আবদুল্লাহ নামে এক শিশুর মা শিল্পী বেগম বলেন, আমি ও আমার ছেলে দুনই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরগুনা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। হাসপাতালে রক্ত পরীক্ষা ও ওষুধ কিছুই পাইনি, সবকিছু বাইর থেকে কিনতে হচ্ছে। আমার স্বামী রিকশা চালায়, এত খরচ কিভাবে চালাবো?
অন্যদিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মিজান রানা নামে এক রোগী অভিযোগ করে বলেন, ৪দিন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি আছি কিন্তু হাসপাতালে একটি নরমাল স্যালাইনও স্টকে নাই। এমনকি বাজারের কোনো ফার্মেসিতেও কিনতে পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়াও ডাক্তারও ঠিকমতো পাওয়া যায় না।
ডেঙ্গু আক্রান্তের তালিকায় এগিয়ে থাকা গৌরিচন্না এলাকার বাসিন্দা আব্দুল আলিম বলেন, আমাদের এলাকাটি বরগুনা পৌরসভার একদম কাছাকাছি হওয়ায় ঘনবসতি বেশি। তারপরও ইউনিয়নে কোনো পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাকর্মী নেই।
এছাড়াও প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি হলেই এলাকার বিভিন্ন জায়গার ডোবা নালা ও নিচু জমিতে পানি জমে। আমার পরিবারের আমিসহ ৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হই। সবশেষ আমি ঢাকা পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরি।
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স ইশরাত জাহান বলেন, বর্তমানে আমাদের জনবল অনেক কম। প্রতিদিন যে হারে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছে তা সামাল দেওয়া আমাদের পক্ষে খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা এবার কুরবানির ঈদেও ছুটি পাইনি।
পরিবার রেখে রোগীদের সেবায় নিয়োজিত রয়েছি। এক রোগী দেখে আরেকজনের কাছে যেতে দেরি হলে অনেক সময় শুনতে হয় নার্সদের ব্যবহার ভালো না। বরগুনায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল হলেও ১০০ শয্যার নার্স দিয়ে চলছে হাসপাতালের কার্যক্রম। এতে প্রায় প্রতিদিন পাঁচ শতাধিকেরও বেশি ভর্তি রোগীদের সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় আমাদের।
সচেতনতার অভাব ও ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা বলে সচেতন নাগরিক কমিটির বরগুনা শাখার সভাপতি কামাল হোসেন বলেন, বৃষ্টির পর শহরের অর্ধেক রাস্তা পানিতে তলিয়ে যায়। জলাবদ্ধ পানি আর অপরিকল্পিত ড্রেন শহরকে মৃত্যু ফাঁদে পরিণত করেছে। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
ডেঙ্গু পরিস্থিতির বিষয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রেজওয়ানুর আলম বলেন, বরগুনাতে ডেঙ্গুর পিক সিজন চলছে। ৫৫ বেডের অনুকূলে ভর্তির রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। সেক্ষেত্রে আমাদের চিকিৎসকসহ নার্স সংখ্যাও কম।
হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমার মনে হচ্ছে, প্রতি ঘরেই ডেঙ্গু রোগী আছে। দিনকে দিন এটি মহামারি আকার ধারণ করতে শুরু করেছে। আমরা বর্তমানে মহাবিপর্যয়ের সম্মুখীন, চিকিৎসা সেবা আমাদের সক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগী বেড়ে যাওয়ার বিষয় জানতে চাইলে বরগুনার সিভিল সার্জন মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ্ বলেন, হঠাৎ করে কেন বরগুনায় এত ডেঙ্গু আক্রান্ত এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন।
তবে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) ডেঙ্গু বা এ ধরনের রোগের গবেষণামূলক কাজ করেন। তারা হয়তো এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু বলতে পারবেন। তবে শহরের পর্যাপ্ত পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা না থাকা, রোগীদের অসচেতনতা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী না চলার কারণেও অনেকটা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মশারি ব্যবহার করতে বললেও তারা গুরুত্ব দেন না। ফলে একজনের থেকে অন্যজনের রোগের সৃষ্টি হয়। তাছাড়া বরগুনা ডায়রিয়াপ্রবণ এলাকা হওয়ায় প্রচুর ডাবের খোসা যত্রতত্র ফেলে রাখা হয়। যে কারণে বর্ষার মৌসুমে পানি জমে এডিস মশার জন্ম বৃদ্ধি পায়।
এ বিষয়ে বরগুনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, গত দুই মাস ধরেই বরগুনায় ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। এর প্রেক্ষিতে আমরা কয়েকটি সভা করেছি। মশক নিধনে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পৌরসভা কর্তৃপক্ষ অব্যাহত রেখেছে।
হাসপাতালের সঙ্গে আমাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। বিশেষ করে হাসপাতালে চিকিৎসক এবং নার্স সঙ্কটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করি, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০২:৫৪
উপকূলীয় জেলা বরগুনায় প্রায় ১৭ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান ভরসা ২৫০ শয্যার বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় জনবল সংকটে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। অনুমোদিত ৮১টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে প্রশাসনিক দায়িত্বসহ কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৭ জন। নানা কারণে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন না কয়েকজন। ফলে কার্যত ৬ থেকে ৭ জন চিকিৎসককে দিয়ে সামলাতে হচ্ছে বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপ।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বরগুনা জেলায় চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ২৩১টি। এর বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৭৮ জন। জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের চিত্র আরও সংকটপূর্ণ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, কর্মরত চিকিৎসকদের মধ্যে দুজন ওএসডি হিসেবে রয়েছেন। একজন দন্ত চিকিৎসক ও একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক। এছাড়া একজন চিকিৎসক যোগদানের পর কর্মস্থলে আর ফেরেননি, একজন রয়েছেন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে। আরও চারজন চিকিৎসকের উপস্থিতি সপ্তাহে মাত্র একদিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ফলে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের সংখ্যা কার্যত ৬ থেকে ৭ জনে নেমে এসেছে।
চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি রয়েছে নার্সেরও ঘাটতি। হাসপাতালটিতে নার্সের অনুমোদিত পদ ১০৯টি। বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ৬৫ জন।২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন আরও প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ রোগী। বিপুলসংখ্যক রোগীর বিপরীতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স না থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।
সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ছে শিশু ওয়ার্ডে। শিশুদের জন্য নির্ধারিত ৫০টি শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন ভর্তি থাকছে শতাধিক শিশু। ফলে শয্যার সংকটে অনেক শিশুকে মেঝে ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রোগীর স্বজনদের। এতে শিশুদের চিকিৎসা ও হাসপাতালের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।রোগীর স্বজন খোরশেদ আলম মামুন বলেন, 'রোগী অনেক, কিন্তু ডাক্তার খুব কম। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ঠিকমতো চিকিৎসা পাওয়া যায় না। চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীদের দুর্ভোগ বাড়ছে।'
চিকিৎসা নিতে আসা সোনাকাটা ইউনিয়নের শাকিল বলেন, 'সকালে এসে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এত বড় জেলার হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট থাকা দুঃখজনক। দ্রুত এ সংকটের সমাধান হওয়া দরকার।'
রোগীর স্বজন আল-আমীন বলেন, তাঁর এক বছর বয়সী ছেলে কয়েকদিন ধরে জ্বর ও ঠান্ডায় ভুগছে। একাধিকবার হাসপাতালে এসেও প্রত্যাশিত সেবা পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, 'হাসপাতালে চিকিৎসকই যদি না থাকেন, তাহলে আমরা সেবা পাব কীভাবে? উপকূলের মানুষ সারা বছর নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে থাকি। শিশু ওয়ার্ডে জায়গা না থাকায় মেঝেতেও থাকতে হচ্ছে।'
বরগুনা জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সভাপতি মনির হোসেন কামাল বলেন, 'উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসা এই হাসপাতাল। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক ও নার্স সংকট থাকলেও এর কার্যকর সমাধান হয়নি। দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা না হলে স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ আরও বাড়বে।'
২৫০ শয্যার বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, সীমিতসংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে একদিকে রোগীর চাপ সামলাতে হচ্ছে, অন্যদিকে প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে। ফলে চিকিৎসাসেবা পরিচালনায় নানা ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে। চিকিৎসক ও নার্স সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সীমিত জনবল দিয়েই সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ বরগুনায় সরকারি চিকিৎসাসেবার ওপর মানুষের নির্ভরতা তুলনামূলক বেশি। ডেঙ্গু, হাম, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবের সময় হাসপাতালে রোগীর চাপ আরও বেড়ে যায়। এ অবস্থায় চিকিৎসক ও নার্সের শূন্যপদ পূরণের পাশাপাশি শিশু ওয়ার্ডসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্প্রসারণ জরুরি।
হাসপাতালে অনুমোদিত পদ রয়েছে, রয়েছে অবকাঠামোও; কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় সেই সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার হচ্ছে না। ফলে একদিকে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ছে। কয়েকজন চিকিৎসক ও নার্সের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে, যার প্রভাব পড়তে পারে সেবার মানেও।
উপকূলের বিপুল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে তাই দ্রুত চিকিৎসক-নার্সের শূন্যপদ পূরণ, শিশু ওয়ার্ডের শয্যা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্প্রসারণের দাবি উঠেছে। এখন প্রশ্ন, মাত্র ৬ থেকে ৭ জন কার্যকর চিকিৎসক দিয়ে আর কতদিন সামলানো সম্ভব ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালের বিপুল রোগীর চাপ?
উপকূলীয় জেলা বরগুনায় প্রায় ১৭ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান ভরসা ২৫০ শয্যার বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় জনবল সংকটে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। অনুমোদিত ৮১টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে প্রশাসনিক দায়িত্বসহ কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৭ জন। নানা কারণে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন না কয়েকজন। ফলে কার্যত ৬ থেকে ৭ জন চিকিৎসককে দিয়ে সামলাতে হচ্ছে বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপ।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বরগুনা জেলায় চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ২৩১টি। এর বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৭৮ জন। জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের চিত্র আরও সংকটপূর্ণ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, কর্মরত চিকিৎসকদের মধ্যে দুজন ওএসডি হিসেবে রয়েছেন। একজন দন্ত চিকিৎসক ও একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক। এছাড়া একজন চিকিৎসক যোগদানের পর কর্মস্থলে আর ফেরেননি, একজন রয়েছেন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে। আরও চারজন চিকিৎসকের উপস্থিতি সপ্তাহে মাত্র একদিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ফলে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের সংখ্যা কার্যত ৬ থেকে ৭ জনে নেমে এসেছে।
চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি রয়েছে নার্সেরও ঘাটতি। হাসপাতালটিতে নার্সের অনুমোদিত পদ ১০৯টি। বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ৬৫ জন।২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন আরও প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ রোগী। বিপুলসংখ্যক রোগীর বিপরীতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স না থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।
সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ছে শিশু ওয়ার্ডে। শিশুদের জন্য নির্ধারিত ৫০টি শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন ভর্তি থাকছে শতাধিক শিশু। ফলে শয্যার সংকটে অনেক শিশুকে মেঝে ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রোগীর স্বজনদের। এতে শিশুদের চিকিৎসা ও হাসপাতালের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।রোগীর স্বজন খোরশেদ আলম মামুন বলেন, 'রোগী অনেক, কিন্তু ডাক্তার খুব কম। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ঠিকমতো চিকিৎসা পাওয়া যায় না। চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীদের দুর্ভোগ বাড়ছে।'
চিকিৎসা নিতে আসা সোনাকাটা ইউনিয়নের শাকিল বলেন, 'সকালে এসে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এত বড় জেলার হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট থাকা দুঃখজনক। দ্রুত এ সংকটের সমাধান হওয়া দরকার।'
রোগীর স্বজন আল-আমীন বলেন, তাঁর এক বছর বয়সী ছেলে কয়েকদিন ধরে জ্বর ও ঠান্ডায় ভুগছে। একাধিকবার হাসপাতালে এসেও প্রত্যাশিত সেবা পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, 'হাসপাতালে চিকিৎসকই যদি না থাকেন, তাহলে আমরা সেবা পাব কীভাবে? উপকূলের মানুষ সারা বছর নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে থাকি। শিশু ওয়ার্ডে জায়গা না থাকায় মেঝেতেও থাকতে হচ্ছে।'
বরগুনা জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সভাপতি মনির হোসেন কামাল বলেন, 'উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসা এই হাসপাতাল। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক ও নার্স সংকট থাকলেও এর কার্যকর সমাধান হয়নি। দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা না হলে স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ আরও বাড়বে।'
২৫০ শয্যার বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, সীমিতসংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে একদিকে রোগীর চাপ সামলাতে হচ্ছে, অন্যদিকে প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে। ফলে চিকিৎসাসেবা পরিচালনায় নানা ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে। চিকিৎসক ও নার্স সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সীমিত জনবল দিয়েই সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ বরগুনায় সরকারি চিকিৎসাসেবার ওপর মানুষের নির্ভরতা তুলনামূলক বেশি। ডেঙ্গু, হাম, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবের সময় হাসপাতালে রোগীর চাপ আরও বেড়ে যায়। এ অবস্থায় চিকিৎসক ও নার্সের শূন্যপদ পূরণের পাশাপাশি শিশু ওয়ার্ডসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্প্রসারণ জরুরি।
হাসপাতালে অনুমোদিত পদ রয়েছে, রয়েছে অবকাঠামোও; কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় সেই সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার হচ্ছে না। ফলে একদিকে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ছে। কয়েকজন চিকিৎসক ও নার্সের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে, যার প্রভাব পড়তে পারে সেবার মানেও।
উপকূলের বিপুল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে তাই দ্রুত চিকিৎসক-নার্সের শূন্যপদ পূরণ, শিশু ওয়ার্ডের শয্যা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্প্রসারণের দাবি উঠেছে। এখন প্রশ্ন, মাত্র ৬ থেকে ৭ জন কার্যকর চিকিৎসক দিয়ে আর কতদিন সামলানো সম্ভব ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালের বিপুল রোগীর চাপ?

২৭ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৪৮
বরগুনার আমতলীতে আমড়া ও লেবু দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৮ বছরের এক শিশুকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার হোসেন হাওলাদার আমতলী উপজেলার পশ্চিম চিলা গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট বিকেলে শিশুটি সহপাঠীদের সঙ্গে স্থানীয় একটি মসজিদে আরবি পড়তে যাচ্ছিল। পথে হোসেন হাওলাদার আমড়া ও লেবু দেওয়ার কথা বলে তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেন বলে অভিযোগ। এ সময় শিশুটির চিৎকার শুনে সহপাঠীরা তার চাচিকে খবর দেয়। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন বলে পরিবারের দাবি।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সাত দিনেও কোনো সমাধান না হওয়ায় মঙ্গলবার রাতে শিশুটির বাবা আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে। মামলা দায়েরের পর তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
শিশুটির বাবা বলেন, মসজিদে যাওয়ার পথে তার মেয়েকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তের স্ত্রী মমতাজ বেগম। তার দাবি, জমি নিয়ে বাদীপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ওই বিরোধের জেরে তার স্বামীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, শিশুটির বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষণচেষ্টার মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে বুধবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বরগুনার আমতলীতে আমড়া ও লেবু দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৮ বছরের এক শিশুকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার হোসেন হাওলাদার আমতলী উপজেলার পশ্চিম চিলা গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট বিকেলে শিশুটি সহপাঠীদের সঙ্গে স্থানীয় একটি মসজিদে আরবি পড়তে যাচ্ছিল। পথে হোসেন হাওলাদার আমড়া ও লেবু দেওয়ার কথা বলে তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেন বলে অভিযোগ। এ সময় শিশুটির চিৎকার শুনে সহপাঠীরা তার চাচিকে খবর দেয়। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন বলে পরিবারের দাবি।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সাত দিনেও কোনো সমাধান না হওয়ায় মঙ্গলবার রাতে শিশুটির বাবা আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে। মামলা দায়েরের পর তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
শিশুটির বাবা বলেন, মসজিদে যাওয়ার পথে তার মেয়েকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তের স্ত্রী মমতাজ বেগম। তার দাবি, জমি নিয়ে বাদীপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ওই বিরোধের জেরে তার স্বামীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, শিশুটির বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষণচেষ্টার মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে বুধবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

২৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:২৫
বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবিতে বরগুনার নিখোঁজ পাঁচ জেলের মধ্যে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকালে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
তার নাম সাইকুল মীর (৪৫)। তিনি পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শাহাদাত মীরের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সমুদ্রে দুটি ট্রলার পাঠানো হয়। উদ্ধার অভিযানে মঙ্গলবার বিকালের দিকে ডুবে যাওয়া ট্রলারের স্থান থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে এই জেলের লাশ ভাসতে দেখেন। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে আজ বুধবার সকাল ৯টার দিকে পাথরঘাটার ঘাটে পৌঁছান।
বরগুনা জেলা মৎস্য মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, দুর্ঘটনার পর থেকে আমাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক দুটি ট্রলার পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে সেখানে ডুবুরি দলও পাঠানো হয়। তবে সেখানে আমাদের উদ্ধার অভিযানে যাও দুটি ট্রলার নিখোঁজদের খুঁজতে থাকে, পরে বিকালে একজনের লাশ ভাসতে দেখে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে করে আজ সকালে ঘাটে পৌঁছায়। তবে আমাদের উদ্ধারের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে, অন্য নিখোঁজ চার জেলেদের জন্য।
এর আগে সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরের দিকে বৈরী আবহাওয়া ও প্রচণ্ড ঢেউয়ের কবলে পড়ে ‘এফবি বরকত’ ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারটিতে ১৩ জন জেলে ছিলেন। দুর্ঘটনার পর ৮ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজ ছিলেন আরও পাঁচ জন।
বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবিতে বরগুনার নিখোঁজ পাঁচ জেলের মধ্যে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকালে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
তার নাম সাইকুল মীর (৪৫)। তিনি পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শাহাদাত মীরের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সমুদ্রে দুটি ট্রলার পাঠানো হয়। উদ্ধার অভিযানে মঙ্গলবার বিকালের দিকে ডুবে যাওয়া ট্রলারের স্থান থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে এই জেলের লাশ ভাসতে দেখেন। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে আজ বুধবার সকাল ৯টার দিকে পাথরঘাটার ঘাটে পৌঁছান।
বরগুনা জেলা মৎস্য মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, দুর্ঘটনার পর থেকে আমাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক দুটি ট্রলার পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে সেখানে ডুবুরি দলও পাঠানো হয়। তবে সেখানে আমাদের উদ্ধার অভিযানে যাও দুটি ট্রলার নিখোঁজদের খুঁজতে থাকে, পরে বিকালে একজনের লাশ ভাসতে দেখে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে করে আজ সকালে ঘাটে পৌঁছায়। তবে আমাদের উদ্ধারের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে, অন্য নিখোঁজ চার জেলেদের জন্য।
এর আগে সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরের দিকে বৈরী আবহাওয়া ও প্রচণ্ড ঢেউয়ের কবলে পড়ে ‘এফবি বরকত’ ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারটিতে ১৩ জন জেলে ছিলেন। দুর্ঘটনার পর ৮ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজ ছিলেন আরও পাঁচ জন।

১৩ জুন, ২০২৫ ১৭:৪১
বরগুনায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ১৯৩ জন রোগী। চলতি বছর জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের। শুধু বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে মারা গেছেন ৫ জন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, জানুয়ারি থেকে ১৩ জুন পর্যন্ত বরগুনায় মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৬৩১ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৪৩৮ জন। অন্যদিকে বরিশাল বিভাগের মধ্যে বরগুনা জেলাতেই আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ।
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে ৫৫ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৯ জন। ১৫০ নার্সের স্থলে আছেন মাত্র ৬৬ জন। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত ৫৫টি বেডের বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে ১৫০ থেকে ২০০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য রোগে আক্রান্ত মিলিয়ে প্রতিদিন ভর্তি থাকছেন প্রায় ৫০০ জন রোগী। পাশাপাশি আউটডোরে চিকিৎসা নিচ্ছেন আরও প্রায় ৫০০ জন। ফলে চিকিৎসক ও নার্স সঙ্কটে ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীরা।
গুরুতর অবস্থায় অনেক রোগীকে বরিশাল বা ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে। সম্প্রতি কলেজ ব্রাঞ্চ রোড এলাকার পাপড়ি বেগমকে (৬৫) ঢাকায় নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। এর আগে খামারবাড়ি এলাকার স্কুলছাত্র ওমর আল আরাবি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি হয়। একইভাবে আজমেরী মোনালিসা জেরিন নামে এক নারী উদ্যোক্তাও মৃত্যুবরণ করেন।
ডেঙ্গু আক্রান্ত দেড় বছরের শিশু আবদুল্লাহ নামে এক শিশুর মা শিল্পী বেগম বলেন, আমি ও আমার ছেলে দুনই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরগুনা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। হাসপাতালে রক্ত পরীক্ষা ও ওষুধ কিছুই পাইনি, সবকিছু বাইর থেকে কিনতে হচ্ছে। আমার স্বামী রিকশা চালায়, এত খরচ কিভাবে চালাবো?
অন্যদিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মিজান রানা নামে এক রোগী অভিযোগ করে বলেন, ৪দিন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি আছি কিন্তু হাসপাতালে একটি নরমাল স্যালাইনও স্টকে নাই। এমনকি বাজারের কোনো ফার্মেসিতেও কিনতে পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়াও ডাক্তারও ঠিকমতো পাওয়া যায় না।
ডেঙ্গু আক্রান্তের তালিকায় এগিয়ে থাকা গৌরিচন্না এলাকার বাসিন্দা আব্দুল আলিম বলেন, আমাদের এলাকাটি বরগুনা পৌরসভার একদম কাছাকাছি হওয়ায় ঘনবসতি বেশি। তারপরও ইউনিয়নে কোনো পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাকর্মী নেই।
এছাড়াও প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি হলেই এলাকার বিভিন্ন জায়গার ডোবা নালা ও নিচু জমিতে পানি জমে। আমার পরিবারের আমিসহ ৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হই। সবশেষ আমি ঢাকা পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরি।
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স ইশরাত জাহান বলেন, বর্তমানে আমাদের জনবল অনেক কম। প্রতিদিন যে হারে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছে তা সামাল দেওয়া আমাদের পক্ষে খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা এবার কুরবানির ঈদেও ছুটি পাইনি।
পরিবার রেখে রোগীদের সেবায় নিয়োজিত রয়েছি। এক রোগী দেখে আরেকজনের কাছে যেতে দেরি হলে অনেক সময় শুনতে হয় নার্সদের ব্যবহার ভালো না। বরগুনায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল হলেও ১০০ শয্যার নার্স দিয়ে চলছে হাসপাতালের কার্যক্রম। এতে প্রায় প্রতিদিন পাঁচ শতাধিকেরও বেশি ভর্তি রোগীদের সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় আমাদের।
সচেতনতার অভাব ও ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা বলে সচেতন নাগরিক কমিটির বরগুনা শাখার সভাপতি কামাল হোসেন বলেন, বৃষ্টির পর শহরের অর্ধেক রাস্তা পানিতে তলিয়ে যায়। জলাবদ্ধ পানি আর অপরিকল্পিত ড্রেন শহরকে মৃত্যু ফাঁদে পরিণত করেছে। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
ডেঙ্গু পরিস্থিতির বিষয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রেজওয়ানুর আলম বলেন, বরগুনাতে ডেঙ্গুর পিক সিজন চলছে। ৫৫ বেডের অনুকূলে ভর্তির রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। সেক্ষেত্রে আমাদের চিকিৎসকসহ নার্স সংখ্যাও কম।
হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমার মনে হচ্ছে, প্রতি ঘরেই ডেঙ্গু রোগী আছে। দিনকে দিন এটি মহামারি আকার ধারণ করতে শুরু করেছে। আমরা বর্তমানে মহাবিপর্যয়ের সম্মুখীন, চিকিৎসা সেবা আমাদের সক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগী বেড়ে যাওয়ার বিষয় জানতে চাইলে বরগুনার সিভিল সার্জন মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ্ বলেন, হঠাৎ করে কেন বরগুনায় এত ডেঙ্গু আক্রান্ত এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন।
তবে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) ডেঙ্গু বা এ ধরনের রোগের গবেষণামূলক কাজ করেন। তারা হয়তো এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু বলতে পারবেন। তবে শহরের পর্যাপ্ত পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা না থাকা, রোগীদের অসচেতনতা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী না চলার কারণেও অনেকটা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মশারি ব্যবহার করতে বললেও তারা গুরুত্ব দেন না। ফলে একজনের থেকে অন্যজনের রোগের সৃষ্টি হয়। তাছাড়া বরগুনা ডায়রিয়াপ্রবণ এলাকা হওয়ায় প্রচুর ডাবের খোসা যত্রতত্র ফেলে রাখা হয়। যে কারণে বর্ষার মৌসুমে পানি জমে এডিস মশার জন্ম বৃদ্ধি পায়।
এ বিষয়ে বরগুনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, গত দুই মাস ধরেই বরগুনায় ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। এর প্রেক্ষিতে আমরা কয়েকটি সভা করেছি। মশক নিধনে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পৌরসভা কর্তৃপক্ষ অব্যাহত রেখেছে।
হাসপাতালের সঙ্গে আমাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। বিশেষ করে হাসপাতালে চিকিৎসক এবং নার্স সঙ্কটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করি, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:২৪
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০৬
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২৪
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪৬