ঘুরেফিরে একই স্থানে একাধিক কর্মকর্তা # গড়ে উঠেছে আওয়ামী সিন্ডিকেট। চলছে বদলি ও তদবির বাণিজ্য। জিএম বললেন, কোনো সমস্যা নেই।
আওয়ামী লীগ নেতাদের ঘনিষ্ঠ এবং সুবিধাভোগী একাধিক কর্মকর্তা এখনো ঘিরে রেখেছে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি বরিশাল সার্কেল সচিবালয়ের যাবতীয় কার্যক্রম। বরিশাল সার্কেলের প্রতিজন জেনারেল ম্যানেজারকে (জিএম) এদের ইচ্ছেমত চলতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বরিশাল সার্কেলে যখন যিনি জিএম হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন তাকেই ভুল ও মিথ্যে তথ্য দিয়ে দিশেহারা করে তোলেন ফ্যাসিস্ট সহযোগী এই কর্মকর্তারা। এরা ব্যাংকের নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যুগ যুগ ধরে ঘুরে ফিরে বরিশাল সার্কেল অফিস ও নগরীর বিভিন্ন শাখায় কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদের মধ্যে বরিশাল আওয়ামী লীগের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ঢাকা মহানগরের (দক্ষিণ) সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মুরাদের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম, ওমর ফারুক, দেবাশীষ কুণ্ডু সহ আরো কয়েকজন রয়েছেন। যারা তখন বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও স্বাধীনতা ব্যাঙ্কারস এসোসিয়েশনের নেতা হয়ে রীতিমতো রাজনৈতিক সভা সমাবেশ ও নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন বলে তথ্য প্রমাণ রয়েছে। গণ অভ্যুত্থানের পরে এখনো তারা বহাল তবিয়েতে
এই ফ্যাসিস্ট সহযোগীরা নিজস্ব সিন্ডিকেট তৈরি করে বরিশাল সার্কেলে নতুন কোনো জিএম আসামাত্র তাকে ঘিরে ফেলে এবং মিথ্যে ও ভুল তথ্য দিয়ে বিভিন্ন বদলী বাণিজ্য, শাখা ম্যানেজার তৈরির সুপারিশসহ ঋণ বিতরণ বাণিজ্য চালিয়ে বরিশালে রীতিমতো রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে। তাদের এসব কাজে বাধা দিয়ে ইতিমধ্যেই অনেক সৎ কর্মকর্তা বিভিন্নভাবে হেনস্তা ও সর্বশেষ বদলির আদেশ পেয়েছেন বলেও সার্কেল অফিস সুত্রে জানা গেছে। যদিও বর্তমান জিএম জাহিদ ইকবাল বলেছেন, অতোটা ফ্যাসিস্ট হলে এরা কি এখনো টিকতে পারতো? আমার কাজে এখনো তাদের থেকে কোনো সমস্যা নেই বলে জানান তিনি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জুলাই বিপ্লবের পর চলতি বছর জানুয়ারিতে বরিশাল সার্কেলের জিএম হিসেবে জাহিদ ইকবাল দায়িত্ব পেলেও তার পিএস হিসেবে রয়ে গেছেন ফ্যাসিস্ট সহযোগী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম। এই প্রতিবেদন তৈরি সময়ে তার অগ্রণী ব্যাংকে চাকুরীর বয়স ১২ বছর ২ মাসের বেশি। তিনি ২০১৩ সালের ২৫ আগস্ট অগ্রণী ব্যাংকে নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং বরিশাল সার্কেলে যোগদান করেন। এরপর বরিশালেই কয়েকটি শাখা অফিসে ঘুরে পুনরায় বরিশাল সার্কেল অগ্রণী ব্যাংকে জিএম এর পিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে তিনি টানা ৩ বছর ১১ মাস বরিশাল সার্কেল অফিসে কর্মরত আছেন। চাকুরী বিধি অনুযায়ী ৩ বছর এর বেশি একই কর্মস্থলে থাকা যায় না। কিন্তু জাহিদুল ইসলামের ৩ বছর পূর্ণ হওয়ামাত্রই নিজ থেকে আরেক শাখা/অফিসে বদলী হন। একমাস বা দুইমাস শাখা অফিসে থেকে পুনরায় সার্কেল অফিসে জিএম এর পিএস পদে যোগদান করেন। ৫ আগস্টের আগে তিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন এবং বিভিন্ন দলীয় কার্যক্রমে নিয়মিত অংশ নিতে দেখা গেছে। বর্তমানে পুনরায় বরিশাল সার্কেলে তার তিন বছর পূর্ণ হওয়ার পরও বহাল রয়েছেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৪ মাস পেরিয়ে গেলেও অগ্রণী ব্যাংক বরিশাল সার্কেলে আওয়ামী পন্থী এই ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের মত বরিশাল অগ্রণী ব্যাংকে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ কুণ্ডু ও সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে এজিএম পংকজ কুমার নাথ, আজিজুর রহমান এবং এসপিও আবু তাহের, পিও জিয়াউর রহমান, পিও রাশেদ এর সহযোগিতায় বদলী বাণিজ্য ও ম্যানেজার বানানোর কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে। আর এই কাজগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত অনুসন্ধান না করেই জিএম জাহিদ ইকবাল অনুমোদন করে দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
সার্কেল অফিসের কয়েকজন অবহেলিত ভুক্তভোগী বলেন, ফ্যাসিস্ট সহযোগী এই কর্মকর্তারা জিএম জাহিদ ইকবালকে চারদিক থেকে ঘিরে থাকে। অন্যকাউকে তার কাছে ঘেঁষতে দেয়া হয়না।
এদের অন্যতম আরেকজন সহযোগী দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা দেবাশীষ কুণ্ডু। তিনি ২০১২ সালের ১৩ মে অগ্রণী ব্যাংকে যোগদান করেন। সাবেক ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতা ও অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক পরিচালক বলরাম পোদ্দারের সুপারিশে তার এই নিয়োগ হয়। ১৩ বছর ৫ মাস কার্যকালীন সময়ে ৬ বছর ২ মাস ০৯ দিন তিনি বরিশাল সার্কেল অফিসে চাকুরী করছেন এবং এখানো বহাল তবিয়তে আছেন। বাকি সময়ে কখনো বরিশাল জোনাল অফিস অথবা বরিশালেরই কোন শাখায় কর্মরত ছিলেন।
ঠিক একইভাবে রাশেদুল ইসলাম অগ্রণী ব্যাংকে জয়েন করেন ২০১০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর। সর্বমোট ১৫ বছর তিন মাসের মধ্যে বরিশাল সার্কেল অফিসে চাকুরী করছেন ১১ বছর ২ মাস যাবত। একই এসপিও আবদুল মতিন ও আবু তাহের চাকুরী জীবনের অধিকাংশ সময় বরিশাল সার্কেল অফিসে চাকুরী করছেন। এরা সবাই বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও স্বাধীনতা ব্যাঙ্কার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে বরিশাল জোনের বিভিন্ন বদলি বাণিজ্য, কমিশন বাণিজ্য, তদবির বাণিজ্য এবং শাখা ম্যানেজার বানানোর সকল কারিশমা সম্পাদন করছে বলে জানা গেছে। জিএম জাহিদ ইকবাল এসব বিষয় জেনেও না জানার ভান করে আছেন। এদিকে এই ফ্যাসিস্ট সিন্ডিকেটের অত্যাচারে সাধারণ অফিসাররা অতিষ্ঠ। নিয়মিত মাসোহারা না দিলে দুর্গম স্থানে বদলীর হুমকি প্রদান করেন এবং বিভিন্ন শাখা ও জোনাল অফিসে সমস্যা হতে পারে এমন অফিসারদের বরিশাল থেকে সরিয়ে দিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন বলে জানা গেছে।
এসব অভিযোগ বিষয়ে বরিশাল সার্কেল অগ্রণী ব্যাংকের জিএম জাহিদ ইকবাল বললেন, তারা যতই ফ্যাসিস্ট বা ফ্যাসিস্ট সহযোগী হোক, তাতো অফিসের বাইরে। অফিসের ভিতরে আমার কাজে এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা তারা তৈরি করেনি। তাছাড়া তিন বছর পূর্ণ হওয়া মাত্র বদলির নিয়ম অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।’

২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:১২
ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে আঘাত হেনেছে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে উপকূলে আঘাত হানার পর ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে ঘূর্ণিঝড়টির স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া। এর প্রভাবে সৃষ্ট পৃথক ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের কেউ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, আবার কেউ গাছ ভেঙে পড়ার ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের (আইএমডি) তথ্য অনুযায়ী, অন্ধ্র প্রদেশের বিশাখাপত্তনম, আনাকাপল্লে, কাকিনাড়া, কোনাসীমা ও পশ্চিম গোদাবরী জেলায় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
বুধবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে প্রকাশিত বুলেটিনে আইএমডি জানায়, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে অর্ণব অন্ধ্র প্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূল অতিক্রম করেছে। উপকূল অতিক্রমের সময় ঝড়টির একটানা বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার গতিবেগ উঠেছিল ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত।
পরে বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঘূর্ণিঝড়টি অতি প্রবল থেকে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয় বলে জানায় আবহাওয়া অধিদপ্তর।
ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত মোকাবিলায় অন্ধ্র প্রদেশ ও ওডিশার বিভিন্ন এলাকা থেকে এক লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে আগেই নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়। দুই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ভারী বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। উপড়ে পড়েছে বহু গাছ।
বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত অন্ধ্র প্রদেশের বিশাখাপত্তনমে সর্বোচ্চ ৩১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। বিজয়নগরমে ৩০১, আনাকাপল্লেতে ২৭৫, শ্রীকাকুলামে ২৫৭ এবং কৃষ্ণা জেলায় ২২৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে, ওডিশার কোরাপুটে ১৮৮, গঞ্জামে ১৬১ এবং গজপতিতে ১৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বুধবার বিশাখাপত্তনম ও বিজয়ওয়াড়াগামী বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কিছু এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। বাতিল হয়েছে কয়েকটি ট্রেনের চলাচলও।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার ও বৃহস্পতিবারও সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়টির নাম ‘অর্ণব’ প্রস্তাব করেছিল বাংলাদেশ। ২০২০ সালে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) ও জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (এসকাপ) ঘূর্ণিঝড়বিষয়ক প্যানেল অনুমোদিত নামের তালিকায় এটি অন্তর্ভুক্ত হয়।
বাংলা ভাষায় ‘অর্ণব’ শব্দের অর্থ সমুদ্র বা সাগর।
উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের তালিকায় বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশের প্রস্তাবিত ১৬৯টি নাম রয়েছে। বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণে ধারাবাহিকভাবে এসব নাম ব্যবহার করা হয়।
ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের মূল উদ্দেশ্য হলো ঝড়কে সহজে শনাক্ত করা, জনসাধারণকে সতর্ক করা এবং দুর্যোগকালীন যোগাযোগে বিভ্রান্তি কমানো।
সূত্র: এনডিটিভি
ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে আঘাত হেনেছে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে উপকূলে আঘাত হানার পর ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে ঘূর্ণিঝড়টির স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া। এর প্রভাবে সৃষ্ট পৃথক ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের কেউ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, আবার কেউ গাছ ভেঙে পড়ার ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের (আইএমডি) তথ্য অনুযায়ী, অন্ধ্র প্রদেশের বিশাখাপত্তনম, আনাকাপল্লে, কাকিনাড়া, কোনাসীমা ও পশ্চিম গোদাবরী জেলায় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
বুধবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে প্রকাশিত বুলেটিনে আইএমডি জানায়, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে অর্ণব অন্ধ্র প্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূল অতিক্রম করেছে। উপকূল অতিক্রমের সময় ঝড়টির একটানা বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার গতিবেগ উঠেছিল ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত।
পরে বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঘূর্ণিঝড়টি অতি প্রবল থেকে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয় বলে জানায় আবহাওয়া অধিদপ্তর।
ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত মোকাবিলায় অন্ধ্র প্রদেশ ও ওডিশার বিভিন্ন এলাকা থেকে এক লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে আগেই নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়। দুই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ভারী বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। উপড়ে পড়েছে বহু গাছ।
বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত অন্ধ্র প্রদেশের বিশাখাপত্তনমে সর্বোচ্চ ৩১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। বিজয়নগরমে ৩০১, আনাকাপল্লেতে ২৭৫, শ্রীকাকুলামে ২৫৭ এবং কৃষ্ণা জেলায় ২২৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে, ওডিশার কোরাপুটে ১৮৮, গঞ্জামে ১৬১ এবং গজপতিতে ১৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বুধবার বিশাখাপত্তনম ও বিজয়ওয়াড়াগামী বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কিছু এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। বাতিল হয়েছে কয়েকটি ট্রেনের চলাচলও।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার ও বৃহস্পতিবারও সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়টির নাম ‘অর্ণব’ প্রস্তাব করেছিল বাংলাদেশ। ২০২০ সালে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) ও জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (এসকাপ) ঘূর্ণিঝড়বিষয়ক প্যানেল অনুমোদিত নামের তালিকায় এটি অন্তর্ভুক্ত হয়।
বাংলা ভাষায় ‘অর্ণব’ শব্দের অর্থ সমুদ্র বা সাগর।
উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের তালিকায় বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশের প্রস্তাবিত ১৬৯টি নাম রয়েছে। বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণে ধারাবাহিকভাবে এসব নাম ব্যবহার করা হয়।
ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের মূল উদ্দেশ্য হলো ঝড়কে সহজে শনাক্ত করা, জনসাধারণকে সতর্ক করা এবং দুর্যোগকালীন যোগাযোগে বিভ্রান্তি কমানো।
সূত্র: এনডিটিভি

২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:০০
দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সড়ক যোগাযোগের অন্যতম প্রধান পথ ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে শৃঙ্খলা ফেরাতে বসানো হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) ক্যামেরা। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংসহ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে পদ্মা সেতু চালুর পর যান চলাচল বেড়েছে। তবে বেপরোয়া গতি ও ট্রাফিক আইন অমান্য করার কারণে সড়কটিতে দুর্ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকে ২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত এই সড়কে প্রায় ৫৮৯টি দুর্ঘটনায় ১৫২ জন নিহত এবং ৯৫০ জন আহত হয়েছেন।
এক্সপ্রেসওয়ের ৫৫ কিলোমিটার অংশের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলায় রয়েছে ৩৫ কিলোমিটার। ফলে দক্ষিণাঞ্চল থেকে ঢাকামুখী যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের চলাচলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে উঠেছে।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বাসসকে জানান, অধিকাংশ দুর্ঘটনার পেছনে রয়েছে বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা।
সম্প্রতি মুন্সীগঞ্জে উন্নয়নকাজ পরিদর্শনে গিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েকে এআই ক্যামেরার আওতায় আনার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলা ও আঞ্চলিক মহাসড়কেও এ প্রযুক্তির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি বাড়ানো হবে। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে আইনানুগ ব্যবস্থা।
গাজীপুর রিজিয়নের হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জানান, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে অধিকাংশ দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ অতিরিক্ত গতি। পুরো সড়ক এআই ক্যামেরার আওতায় এনে দ্রুতগতির যানবাহন, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মমিনুল ইসলাম বাসসকে জানান, দুর্ঘটনা রোধে সড়কের বিভিন্ন স্থানে গতিসীমা নির্ধারণ, সাইন-মার্কিং এবং সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
তবে বেপরোয়া গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের পাশাপাশি আকস্মিক ইউটার্ন, চালকের অসতর্কতা, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং ঘন কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এআই ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালু হলে চালকদের মধ্যে আইন মানার প্রবণতা বাড়বে। কমবে বেপরোয়া গাড়ি চালানো ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং। এতে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথে সড়ক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সহজ হবে।
দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সড়ক যোগাযোগের অন্যতম প্রধান পথ ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে শৃঙ্খলা ফেরাতে বসানো হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) ক্যামেরা। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংসহ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে পদ্মা সেতু চালুর পর যান চলাচল বেড়েছে। তবে বেপরোয়া গতি ও ট্রাফিক আইন অমান্য করার কারণে সড়কটিতে দুর্ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকে ২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত এই সড়কে প্রায় ৫৮৯টি দুর্ঘটনায় ১৫২ জন নিহত এবং ৯৫০ জন আহত হয়েছেন।
এক্সপ্রেসওয়ের ৫৫ কিলোমিটার অংশের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলায় রয়েছে ৩৫ কিলোমিটার। ফলে দক্ষিণাঞ্চল থেকে ঢাকামুখী যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের চলাচলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে উঠেছে।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বাসসকে জানান, অধিকাংশ দুর্ঘটনার পেছনে রয়েছে বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা।
সম্প্রতি মুন্সীগঞ্জে উন্নয়নকাজ পরিদর্শনে গিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েকে এআই ক্যামেরার আওতায় আনার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলা ও আঞ্চলিক মহাসড়কেও এ প্রযুক্তির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি বাড়ানো হবে। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে আইনানুগ ব্যবস্থা।
গাজীপুর রিজিয়নের হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জানান, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে অধিকাংশ দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ অতিরিক্ত গতি। পুরো সড়ক এআই ক্যামেরার আওতায় এনে দ্রুতগতির যানবাহন, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মমিনুল ইসলাম বাসসকে জানান, দুর্ঘটনা রোধে সড়কের বিভিন্ন স্থানে গতিসীমা নির্ধারণ, সাইন-মার্কিং এবং সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
তবে বেপরোয়া গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের পাশাপাশি আকস্মিক ইউটার্ন, চালকের অসতর্কতা, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং ঘন কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এআই ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালু হলে চালকদের মধ্যে আইন মানার প্রবণতা বাড়বে। কমবে বেপরোয়া গাড়ি চালানো ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং। এতে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথে সড়ক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সহজ হবে।

২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৫১
বরিশালসহ দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণবের’ প্রভাবে বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসে পরিবর্তন আসতে পারে। ভারতের উপকূলে আঘাত হানার পর ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল ও ধীরগতির হয়ে পড়ায় বাংলাদেশে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা কিছুটা কমতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের পদুচেরি এবং অন্ধ্রপ্রদেশের বাপাতলা ও বিশাখাপট্টনমের মধ্যবর্তী উপকূলীয় এলাকা দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করে। এরপর এর গতি কমে যায় এবং এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাব পুরোপুরি কাটতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
এর প্রভাবে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। দিঘা সমুদ্রসৈকতসহ উপকূলীয় এলাকাগুলোতেও উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ পরিবর্তন ও গতি কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণেও পরিবর্তন আসতে পারে। খুলনা, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, সাগরে লঘুচাপের প্রভাবে বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে সম্প্রতি ঢাকাসহ খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় গরমের তীব্রতা বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল থেকে সন্ধ্যার পর রাজধানী ঢাকায় হালকা বৃষ্টি বা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের সর্বশেষ অবস্থান, গতিপথ ও বরিশাল অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের হালনাগাদ পূর্বাভাস অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বরিশালসহ দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণবের’ প্রভাবে বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসে পরিবর্তন আসতে পারে। ভারতের উপকূলে আঘাত হানার পর ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল ও ধীরগতির হয়ে পড়ায় বাংলাদেশে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা কিছুটা কমতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের পদুচেরি এবং অন্ধ্রপ্রদেশের বাপাতলা ও বিশাখাপট্টনমের মধ্যবর্তী উপকূলীয় এলাকা দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করে। এরপর এর গতি কমে যায় এবং এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাব পুরোপুরি কাটতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
এর প্রভাবে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। দিঘা সমুদ্রসৈকতসহ উপকূলীয় এলাকাগুলোতেও উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ পরিবর্তন ও গতি কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণেও পরিবর্তন আসতে পারে। খুলনা, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, সাগরে লঘুচাপের প্রভাবে বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে সম্প্রতি ঢাকাসহ খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় গরমের তীব্রতা বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল থেকে সন্ধ্যার পর রাজধানী ঢাকায় হালকা বৃষ্টি বা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের সর্বশেষ অবস্থান, গতিপথ ও বরিশাল অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের হালনাগাদ পূর্বাভাস অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

১০ নভেম্বর, ২০২৫ ১৭:৩৯
ঘুরেফিরে একই স্থানে একাধিক কর্মকর্তা # গড়ে উঠেছে আওয়ামী সিন্ডিকেট। চলছে বদলি ও তদবির বাণিজ্য। জিএম বললেন, কোনো সমস্যা নেই।
আওয়ামী লীগ নেতাদের ঘনিষ্ঠ এবং সুবিধাভোগী একাধিক কর্মকর্তা এখনো ঘিরে রেখেছে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি বরিশাল সার্কেল সচিবালয়ের যাবতীয় কার্যক্রম। বরিশাল সার্কেলের প্রতিজন জেনারেল ম্যানেজারকে (জিএম) এদের ইচ্ছেমত চলতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বরিশাল সার্কেলে যখন যিনি জিএম হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন তাকেই ভুল ও মিথ্যে তথ্য দিয়ে দিশেহারা করে তোলেন ফ্যাসিস্ট সহযোগী এই কর্মকর্তারা। এরা ব্যাংকের নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যুগ যুগ ধরে ঘুরে ফিরে বরিশাল সার্কেল অফিস ও নগরীর বিভিন্ন শাখায় কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদের মধ্যে বরিশাল আওয়ামী লীগের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ঢাকা মহানগরের (দক্ষিণ) সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মুরাদের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম, ওমর ফারুক, দেবাশীষ কুণ্ডু সহ আরো কয়েকজন রয়েছেন। যারা তখন বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও স্বাধীনতা ব্যাঙ্কারস এসোসিয়েশনের নেতা হয়ে রীতিমতো রাজনৈতিক সভা সমাবেশ ও নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন বলে তথ্য প্রমাণ রয়েছে। গণ অভ্যুত্থানের পরে এখনো তারা বহাল তবিয়েতে
এই ফ্যাসিস্ট সহযোগীরা নিজস্ব সিন্ডিকেট তৈরি করে বরিশাল সার্কেলে নতুন কোনো জিএম আসামাত্র তাকে ঘিরে ফেলে এবং মিথ্যে ও ভুল তথ্য দিয়ে বিভিন্ন বদলী বাণিজ্য, শাখা ম্যানেজার তৈরির সুপারিশসহ ঋণ বিতরণ বাণিজ্য চালিয়ে বরিশালে রীতিমতো রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে। তাদের এসব কাজে বাধা দিয়ে ইতিমধ্যেই অনেক সৎ কর্মকর্তা বিভিন্নভাবে হেনস্তা ও সর্বশেষ বদলির আদেশ পেয়েছেন বলেও সার্কেল অফিস সুত্রে জানা গেছে। যদিও বর্তমান জিএম জাহিদ ইকবাল বলেছেন, অতোটা ফ্যাসিস্ট হলে এরা কি এখনো টিকতে পারতো? আমার কাজে এখনো তাদের থেকে কোনো সমস্যা নেই বলে জানান তিনি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জুলাই বিপ্লবের পর চলতি বছর জানুয়ারিতে বরিশাল সার্কেলের জিএম হিসেবে জাহিদ ইকবাল দায়িত্ব পেলেও তার পিএস হিসেবে রয়ে গেছেন ফ্যাসিস্ট সহযোগী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম। এই প্রতিবেদন তৈরি সময়ে তার অগ্রণী ব্যাংকে চাকুরীর বয়স ১২ বছর ২ মাসের বেশি। তিনি ২০১৩ সালের ২৫ আগস্ট অগ্রণী ব্যাংকে নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং বরিশাল সার্কেলে যোগদান করেন। এরপর বরিশালেই কয়েকটি শাখা অফিসে ঘুরে পুনরায় বরিশাল সার্কেল অগ্রণী ব্যাংকে জিএম এর পিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে তিনি টানা ৩ বছর ১১ মাস বরিশাল সার্কেল অফিসে কর্মরত আছেন। চাকুরী বিধি অনুযায়ী ৩ বছর এর বেশি একই কর্মস্থলে থাকা যায় না। কিন্তু জাহিদুল ইসলামের ৩ বছর পূর্ণ হওয়ামাত্রই নিজ থেকে আরেক শাখা/অফিসে বদলী হন। একমাস বা দুইমাস শাখা অফিসে থেকে পুনরায় সার্কেল অফিসে জিএম এর পিএস পদে যোগদান করেন। ৫ আগস্টের আগে তিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন এবং বিভিন্ন দলীয় কার্যক্রমে নিয়মিত অংশ নিতে দেখা গেছে। বর্তমানে পুনরায় বরিশাল সার্কেলে তার তিন বছর পূর্ণ হওয়ার পরও বহাল রয়েছেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৪ মাস পেরিয়ে গেলেও অগ্রণী ব্যাংক বরিশাল সার্কেলে আওয়ামী পন্থী এই ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের মত বরিশাল অগ্রণী ব্যাংকে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ কুণ্ডু ও সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে এজিএম পংকজ কুমার নাথ, আজিজুর রহমান এবং এসপিও আবু তাহের, পিও জিয়াউর রহমান, পিও রাশেদ এর সহযোগিতায় বদলী বাণিজ্য ও ম্যানেজার বানানোর কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে। আর এই কাজগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত অনুসন্ধান না করেই জিএম জাহিদ ইকবাল অনুমোদন করে দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
সার্কেল অফিসের কয়েকজন অবহেলিত ভুক্তভোগী বলেন, ফ্যাসিস্ট সহযোগী এই কর্মকর্তারা জিএম জাহিদ ইকবালকে চারদিক থেকে ঘিরে থাকে। অন্যকাউকে তার কাছে ঘেঁষতে দেয়া হয়না।
এদের অন্যতম আরেকজন সহযোগী দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা দেবাশীষ কুণ্ডু। তিনি ২০১২ সালের ১৩ মে অগ্রণী ব্যাংকে যোগদান করেন। সাবেক ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতা ও অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক পরিচালক বলরাম পোদ্দারের সুপারিশে তার এই নিয়োগ হয়। ১৩ বছর ৫ মাস কার্যকালীন সময়ে ৬ বছর ২ মাস ০৯ দিন তিনি বরিশাল সার্কেল অফিসে চাকুরী করছেন এবং এখানো বহাল তবিয়তে আছেন। বাকি সময়ে কখনো বরিশাল জোনাল অফিস অথবা বরিশালেরই কোন শাখায় কর্মরত ছিলেন।
ঠিক একইভাবে রাশেদুল ইসলাম অগ্রণী ব্যাংকে জয়েন করেন ২০১০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর। সর্বমোট ১৫ বছর তিন মাসের মধ্যে বরিশাল সার্কেল অফিসে চাকুরী করছেন ১১ বছর ২ মাস যাবত। একই এসপিও আবদুল মতিন ও আবু তাহের চাকুরী জীবনের অধিকাংশ সময় বরিশাল সার্কেল অফিসে চাকুরী করছেন। এরা সবাই বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও স্বাধীনতা ব্যাঙ্কার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে বরিশাল জোনের বিভিন্ন বদলি বাণিজ্য, কমিশন বাণিজ্য, তদবির বাণিজ্য এবং শাখা ম্যানেজার বানানোর সকল কারিশমা সম্পাদন করছে বলে জানা গেছে। জিএম জাহিদ ইকবাল এসব বিষয় জেনেও না জানার ভান করে আছেন। এদিকে এই ফ্যাসিস্ট সিন্ডিকেটের অত্যাচারে সাধারণ অফিসাররা অতিষ্ঠ। নিয়মিত মাসোহারা না দিলে দুর্গম স্থানে বদলীর হুমকি প্রদান করেন এবং বিভিন্ন শাখা ও জোনাল অফিসে সমস্যা হতে পারে এমন অফিসারদের বরিশাল থেকে সরিয়ে দিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন বলে জানা গেছে।
এসব অভিযোগ বিষয়ে বরিশাল সার্কেল অগ্রণী ব্যাংকের জিএম জাহিদ ইকবাল বললেন, তারা যতই ফ্যাসিস্ট বা ফ্যাসিস্ট সহযোগী হোক, তাতো অফিসের বাইরে। অফিসের ভিতরে আমার কাজে এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা তারা তৈরি করেনি। তাছাড়া তিন বছর পূর্ণ হওয়া মাত্র বদলির নিয়ম অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।’