ঘুরেফিরে একই স্থানে একাধিক কর্মকর্তা # গড়ে উঠেছে আওয়ামী সিন্ডিকেট। চলছে বদলি ও তদবির বাণিজ্য। জিএম বললেন, কোনো সমস্যা নেই।
আওয়ামী লীগ নেতাদের ঘনিষ্ঠ এবং সুবিধাভোগী একাধিক কর্মকর্তা এখনো ঘিরে রেখেছে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি বরিশাল সার্কেল সচিবালয়ের যাবতীয় কার্যক্রম। বরিশাল সার্কেলের প্রতিজন জেনারেল ম্যানেজারকে (জিএম) এদের ইচ্ছেমত চলতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বরিশাল সার্কেলে যখন যিনি জিএম হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন তাকেই ভুল ও মিথ্যে তথ্য দিয়ে দিশেহারা করে তোলেন ফ্যাসিস্ট সহযোগী এই কর্মকর্তারা। এরা ব্যাংকের নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যুগ যুগ ধরে ঘুরে ফিরে বরিশাল সার্কেল অফিস ও নগরীর বিভিন্ন শাখায় কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদের মধ্যে বরিশাল আওয়ামী লীগের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ঢাকা মহানগরের (দক্ষিণ) সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মুরাদের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম, ওমর ফারুক, দেবাশীষ কুণ্ডু সহ আরো কয়েকজন রয়েছেন। যারা তখন বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও স্বাধীনতা ব্যাঙ্কারস এসোসিয়েশনের নেতা হয়ে রীতিমতো রাজনৈতিক সভা সমাবেশ ও নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন বলে তথ্য প্রমাণ রয়েছে। গণ অভ্যুত্থানের পরে এখনো তারা বহাল তবিয়েতে
এই ফ্যাসিস্ট সহযোগীরা নিজস্ব সিন্ডিকেট তৈরি করে বরিশাল সার্কেলে নতুন কোনো জিএম আসামাত্র তাকে ঘিরে ফেলে এবং মিথ্যে ও ভুল তথ্য দিয়ে বিভিন্ন বদলী বাণিজ্য, শাখা ম্যানেজার তৈরির সুপারিশসহ ঋণ বিতরণ বাণিজ্য চালিয়ে বরিশালে রীতিমতো রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে। তাদের এসব কাজে বাধা দিয়ে ইতিমধ্যেই অনেক সৎ কর্মকর্তা বিভিন্নভাবে হেনস্তা ও সর্বশেষ বদলির আদেশ পেয়েছেন বলেও সার্কেল অফিস সুত্রে জানা গেছে। যদিও বর্তমান জিএম জাহিদ ইকবাল বলেছেন, অতোটা ফ্যাসিস্ট হলে এরা কি এখনো টিকতে পারতো? আমার কাজে এখনো তাদের থেকে কোনো সমস্যা নেই বলে জানান তিনি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জুলাই বিপ্লবের পর চলতি বছর জানুয়ারিতে বরিশাল সার্কেলের জিএম হিসেবে জাহিদ ইকবাল দায়িত্ব পেলেও তার পিএস হিসেবে রয়ে গেছেন ফ্যাসিস্ট সহযোগী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম। এই প্রতিবেদন তৈরি সময়ে তার অগ্রণী ব্যাংকে চাকুরীর বয়স ১২ বছর ২ মাসের বেশি। তিনি ২০১৩ সালের ২৫ আগস্ট অগ্রণী ব্যাংকে নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং বরিশাল সার্কেলে যোগদান করেন। এরপর বরিশালেই কয়েকটি শাখা অফিসে ঘুরে পুনরায় বরিশাল সার্কেল অগ্রণী ব্যাংকে জিএম এর পিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে তিনি টানা ৩ বছর ১১ মাস বরিশাল সার্কেল অফিসে কর্মরত আছেন। চাকুরী বিধি অনুযায়ী ৩ বছর এর বেশি একই কর্মস্থলে থাকা যায় না। কিন্তু জাহিদুল ইসলামের ৩ বছর পূর্ণ হওয়ামাত্রই নিজ থেকে আরেক শাখা/অফিসে বদলী হন। একমাস বা দুইমাস শাখা অফিসে থেকে পুনরায় সার্কেল অফিসে জিএম এর পিএস পদে যোগদান করেন। ৫ আগস্টের আগে তিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন এবং বিভিন্ন দলীয় কার্যক্রমে নিয়মিত অংশ নিতে দেখা গেছে। বর্তমানে পুনরায় বরিশাল সার্কেলে তার তিন বছর পূর্ণ হওয়ার পরও বহাল রয়েছেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৪ মাস পেরিয়ে গেলেও অগ্রণী ব্যাংক বরিশাল সার্কেলে আওয়ামী পন্থী এই ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের মত বরিশাল অগ্রণী ব্যাংকে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ কুণ্ডু ও সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে এজিএম পংকজ কুমার নাথ, আজিজুর রহমান এবং এসপিও আবু তাহের, পিও জিয়াউর রহমান, পিও রাশেদ এর সহযোগিতায় বদলী বাণিজ্য ও ম্যানেজার বানানোর কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে। আর এই কাজগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত অনুসন্ধান না করেই জিএম জাহিদ ইকবাল অনুমোদন করে দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
সার্কেল অফিসের কয়েকজন অবহেলিত ভুক্তভোগী বলেন, ফ্যাসিস্ট সহযোগী এই কর্মকর্তারা জিএম জাহিদ ইকবালকে চারদিক থেকে ঘিরে থাকে। অন্যকাউকে তার কাছে ঘেঁষতে দেয়া হয়না।
এদের অন্যতম আরেকজন সহযোগী দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা দেবাশীষ কুণ্ডু। তিনি ২০১২ সালের ১৩ মে অগ্রণী ব্যাংকে যোগদান করেন। সাবেক ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতা ও অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক পরিচালক বলরাম পোদ্দারের সুপারিশে তার এই নিয়োগ হয়। ১৩ বছর ৫ মাস কার্যকালীন সময়ে ৬ বছর ২ মাস ০৯ দিন তিনি বরিশাল সার্কেল অফিসে চাকুরী করছেন এবং এখানো বহাল তবিয়তে আছেন। বাকি সময়ে কখনো বরিশাল জোনাল অফিস অথবা বরিশালেরই কোন শাখায় কর্মরত ছিলেন।
ঠিক একইভাবে রাশেদুল ইসলাম অগ্রণী ব্যাংকে জয়েন করেন ২০১০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর। সর্বমোট ১৫ বছর তিন মাসের মধ্যে বরিশাল সার্কেল অফিসে চাকুরী করছেন ১১ বছর ২ মাস যাবত। একই এসপিও আবদুল মতিন ও আবু তাহের চাকুরী জীবনের অধিকাংশ সময় বরিশাল সার্কেল অফিসে চাকুরী করছেন। এরা সবাই বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও স্বাধীনতা ব্যাঙ্কার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে বরিশাল জোনের বিভিন্ন বদলি বাণিজ্য, কমিশন বাণিজ্য, তদবির বাণিজ্য এবং শাখা ম্যানেজার বানানোর সকল কারিশমা সম্পাদন করছে বলে জানা গেছে। জিএম জাহিদ ইকবাল এসব বিষয় জেনেও না জানার ভান করে আছেন। এদিকে এই ফ্যাসিস্ট সিন্ডিকেটের অত্যাচারে সাধারণ অফিসাররা অতিষ্ঠ। নিয়মিত মাসোহারা না দিলে দুর্গম স্থানে বদলীর হুমকি প্রদান করেন এবং বিভিন্ন শাখা ও জোনাল অফিসে সমস্যা হতে পারে এমন অফিসারদের বরিশাল থেকে সরিয়ে দিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন বলে জানা গেছে।
এসব অভিযোগ বিষয়ে বরিশাল সার্কেল অগ্রণী ব্যাংকের জিএম জাহিদ ইকবাল বললেন, তারা যতই ফ্যাসিস্ট বা ফ্যাসিস্ট সহযোগী হোক, তাতো অফিসের বাইরে। অফিসের ভিতরে আমার কাজে এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা তারা তৈরি করেনি। তাছাড়া তিন বছর পূর্ণ হওয়া মাত্র বদলির নিয়ম অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।’

২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:২৩
প্রাথমিক শিক্ষার কার্যক্রম পরিচালনা, তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে শিগগিরই নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। সেই নীতিমালার আলোকে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দায়িত্ব পালন করবেন এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে বরিশাল নগরীর শিল্পকলা একাডেমিতে ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষার শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘মাসখানেকের মধ্যে আমরা নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছি, যার আলোকে আমাদের সব কর্মকর্তা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। সেই আলোকে আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো পরিচালিত হবে।’
প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন অনুযায়ী একটি সুশিক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন অল্প সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান করার লক্ষে কাজ চলছে।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রধান কারিগর হবে আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার, ইনশা আল্লাহ।’
কর্মশালায় প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। এতে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, তদারকি, জবাবদিহিতা এবং প্রশাসনিক কাঠামো সংস্কারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।’
প্রাথমিক শিক্ষার কার্যক্রম পরিচালনা, তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে শিগগিরই নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। সেই নীতিমালার আলোকে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দায়িত্ব পালন করবেন এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে বরিশাল নগরীর শিল্পকলা একাডেমিতে ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষার শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘মাসখানেকের মধ্যে আমরা নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছি, যার আলোকে আমাদের সব কর্মকর্তা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। সেই আলোকে আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো পরিচালিত হবে।’
প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন অনুযায়ী একটি সুশিক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন অল্প সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান করার লক্ষে কাজ চলছে।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রধান কারিগর হবে আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার, ইনশা আল্লাহ।’
কর্মশালায় প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। এতে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, তদারকি, জবাবদিহিতা এবং প্রশাসনিক কাঠামো সংস্কারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।’

২২ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:১৩
সংবাদমাধ্যমে পরিবর্তন আসার ক্ষেত্রে বড় ধরনের অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে পলিটিক্যাল সিস্টেম (রাজনৈতিক ব্যবস্থা)- এমন মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। শনিবার বরিশাল নগরীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘দুর্নীতিবিরোধী অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও ডেটা সাংবাদিকতা’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
গবেষক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমরা আশা করেছিলাম, গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কারের পাশাপাশি গণমাধ্যম কাঙ্খিত সংস্কার হবে। কিন্তু তা হয়নি। এবং অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ‘গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের’ প্রতিবেদনে যে সুপারিশ করা হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে যদি অন্তর্বর্তী সরকার ও বর্তমান সরকার তাদের অঙ্গীকার অনুযায়ী বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিয়ে কিছু উদ্যোগ নিত, তাহলে গণমাধ্যমের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর কিছু হলেও সমাধান হতো।
লেখক ড. ইফতেখারুজ্জামান প্রশিক্ষণার্থী গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আমাদের কাজের প্রচার-প্রসার ও আমাদের কাজের মাধ্যমে সুফল পাওয়ার সম্ভাবনার উৎস্যক্ষেত্র গণমাধ্যম। গণমাধ্যমের ওপর আমরাও নির্ভরশীল অনেকাংশে। দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আমাদের পাশাপাশি গণমাধ্যমের যে সুনির্দিষ্ট ভূমিকা আছে, সেটি প্রতিপালন করার সক্ষমতা সৃষ্টি এবং কাজের লক্ষ্য অর্জনে গণমাধ্যম সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করেন তিনি।’
দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রিন্ট ও ইলেট্রনিক্স মিডিয়ার ৪১ জন সাংবাদিক অংশ নেন।
এর আগে বেলা ১১টায় ড. ইফতেখারুজ্জামান সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) ও অ্যাকটিভ সিটিজেন্স গ্রুপের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সেখানে তিনি বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে শুধু প্রতিষ্ঠানগত উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। নাগরিকদের সচেতনতা, সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সামাজিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগকে সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে।’
সংবাদ সম্পাদনা, হা/ই।
সংবাদমাধ্যমে পরিবর্তন আসার ক্ষেত্রে বড় ধরনের অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে পলিটিক্যাল সিস্টেম (রাজনৈতিক ব্যবস্থা)- এমন মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। শনিবার বরিশাল নগরীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘দুর্নীতিবিরোধী অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও ডেটা সাংবাদিকতা’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
গবেষক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমরা আশা করেছিলাম, গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কারের পাশাপাশি গণমাধ্যম কাঙ্খিত সংস্কার হবে। কিন্তু তা হয়নি। এবং অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ‘গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের’ প্রতিবেদনে যে সুপারিশ করা হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে যদি অন্তর্বর্তী সরকার ও বর্তমান সরকার তাদের অঙ্গীকার অনুযায়ী বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিয়ে কিছু উদ্যোগ নিত, তাহলে গণমাধ্যমের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর কিছু হলেও সমাধান হতো।
লেখক ড. ইফতেখারুজ্জামান প্রশিক্ষণার্থী গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আমাদের কাজের প্রচার-প্রসার ও আমাদের কাজের মাধ্যমে সুফল পাওয়ার সম্ভাবনার উৎস্যক্ষেত্র গণমাধ্যম। গণমাধ্যমের ওপর আমরাও নির্ভরশীল অনেকাংশে। দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আমাদের পাশাপাশি গণমাধ্যমের যে সুনির্দিষ্ট ভূমিকা আছে, সেটি প্রতিপালন করার সক্ষমতা সৃষ্টি এবং কাজের লক্ষ্য অর্জনে গণমাধ্যম সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করেন তিনি।’
দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রিন্ট ও ইলেট্রনিক্স মিডিয়ার ৪১ জন সাংবাদিক অংশ নেন।
এর আগে বেলা ১১টায় ড. ইফতেখারুজ্জামান সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) ও অ্যাকটিভ সিটিজেন্স গ্রুপের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সেখানে তিনি বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে শুধু প্রতিষ্ঠানগত উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। নাগরিকদের সচেতনতা, সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সামাজিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগকে সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে।’
সংবাদ সম্পাদনা, হা/ই।

২২ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:১৭
বরিশালের জেলা ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ) ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আগৈলঝাড়া উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানের নামে নিরীহ মানুষকে হয়রানি, অর্থ আদায় ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২২ আগস্ট) বরিশাল প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব অভিযোগ তোলেন আগৈলঝাড়া উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: জাফর হাওলাদার ও একই এলাকার বাসিন্দা বাদশা হাওলাদার। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সম্প্রতি ডিবি পুলিশের দায়েরকৃত একটি নাটকীয় মামলার সাক্ষী স্থানীয় লালমিয়া হাওলাদার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জাফর হাওলাদার অভিযোগ করেন, জেলা ডিবি পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তা মোল্লাপাড়া এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী নয়ন ঢালী এবং পাশ্ববর্তী গৈলা ইউপির ভদ্রপাড়ার সাহিন সরদারকে সোর্স হিসেবে ব্যবহার করে মানুষকে হয়রানি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। তারা প্রায় প্রতিদিনই সাদা পোশাকে উপজেলার মোল্লাপাড়া, সাহেবেরহাটসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে এসে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানের নামে ওই দুই সোর্সের মাধ্যমে গ্রামের স্বচ্ছল পরিবারের উঠতি বয়সী কিশোর-তরুনদের প্রথমে আটক করে। পরে তাদেরকে মাদক দিয়ে মামলায় ফাসানোর ভয় দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। যেসব পরিবার দাবি করা টাকা না দিতে পারে বা প্রতিবাদ করে তাদের সাজানো মামলায় চালান দেওয়া হয়।
তিনি লিখিত বক্তব্যে আরও জানান, গত ১১ আগস্ট রাত সাড়ে ৯ টার দিকে তার ছেলে নাদিম হোসেন (২৫), প্রতিবেশি বাদশা হাওলাদারের ছেলে কলেজ শিক্ষার্থী সাব্বির ও শহিদুল হাওলাদারের ছেলে কলেজ শিক্ষার্থী সোহাগ বাড়ির সামনে দাড়িয়ে মোবাইল ফোন দেখছিলো। হঠাৎ সেখানে এলাকার চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা নয়ন ঢালী ও ভদ্রপাড়া এলাকার সাহিনকে নিয়ে সাদা পোশাকে উপস্থিত হয় জেলা ডিবির এএসআই রাজিব চন্দ্র পাল, এসআই আবজাল হোসাইনসহ ৫/৭ জন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা। এ সময় তার ছেলে নাদিমসহ সাব্বির ও সোহাগকে আটক করে। এরমধ্যে প্রতিবেশিরা খবর দিলে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতেই দেখেন এএসআই রাজিব পালসহ অন্যরা নাদিম, সাব্বির ও সোহাগকে নিয়ে যাচ্ছে। পরে আশেপাশের লোকজনের সাথে কথা বলে জানতে পারেন তার ছেলে নাদিম ও সাথে থাকা সাব্বির এবং সোহাগ কারো সাথেই কোনো মাদকদ্রব্য পায়নি। এ ঘটনার পরে গভীর রাতে প্রতিবেশী সাব্বির ও সোহাগের পরিবারের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে পূর্বে ডিবির হয়রানির প্রতিবাদ করায় ক্ষোভ থেকে তার ছেলে নাদিমকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে গৌরনদী থানার একটি মামলায় ১০১ পিস ইয়াবাসহ তাকে আটকের ভুয়া এজাহার তৈরি করা হয়, যার সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই বলে দাবি করেন তিনি।
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, মামলার এজাহারে ডিবি পুলিশের এসআই আবজাল হোসাইন উল্লেখ করেছেন তার ছেলে নাদিমের কাছ থেকে ১০১ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থল দেখানো হয়েছে গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া বাজার সংলগ্ন ছয়গ্রামগামী রাস্তার মুখ। যা সম্পূর্ন মিথ্যা এবং বানোয়াট। এজাহারে যাদের সাক্ষী করা হয়েছে তারা এই ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকা ডিবি পুলিশের করা ভূয়া মামলার ১ নম্বর সাক্ষী লালমিয়া হাওলাদার বলেন ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। অথচ কিভাবে তাকে সাক্ষী দেওয়া হয়েছে সেটিও অজানা।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী জাফর হাওলাদার জেলা ডিবি পুলিশের অপকর্মের ফিরিস্তি তুলে বলেন, কিছুদিন আগে রত্নপুর ইউনিয়নের বরিয়াল বারহাজার গ্রামের কাওসার নামের একজন মাছ চাষী ও খামার ব্যবসায়ীর মুরগির খামারে অভিযান চালায় একদল সাদা পোশাকধারী সদস্যরা। পরে জানা যায় তারা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্য। তারা কাওসারের মুরগীর খামারে কোনো মাদকদ্রব্য না পেলেও মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। কযেকদিন পরে আবারও সেই মুরগির খামারে অভিযানে যায় জেলা ডিবি পুলিশের সদস্যরা এবং তারাও একইভাবে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। এমনকি সেখান থেকে একটি মোবাইল ফোনও লুটে নেয়। কিন্তু ভুক্তভোগী কাওসার তাদের ভয়ে মুখ খুলতে পারছে না৷
বিএনপি নেতা জাফর হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, ইতিপূর্বে তাদের এলাকায় জেলা ডিবি পুলিশের এএসআই রাজিব চন্দ্র পাল ও মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের সদস্যরা একাধিক ধরপাকড় বাণিজ্যের ঘটনা ঘটায়। যা নিয়ে প্রতিবাদ করায় পুলিশের ওই কর্মকর্তারা আগে থেকেই তাকে হুমকির মুখে রেখেছিলেন। ভুক্তভোগী হিসেবে তিনি এ বিষয়ে উর্ধ্বতন পুলিশ প্রশাসন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সাথে নাটকীয় ও মিথ্যা মামলা থেকে তার ছেলে নাদিমের নাম প্রত্যাহার এবং এলাকার নিরীহ মানুষকে জিম্মি করে বাণিজ্য চালানো অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনের শেষের দিকে উপস্থিত হয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এএসআই রাজিবের সোর্স মাদক বিক্রতা নয়ন ঢালী বলেন, গত ১১ আগস্ট রাতের ঘটনায় তিনি উপস্থিত ছিলেন। তার সামনেই পুরো ঘটনা ঘটেছে। ওই রাতে আটককৃত নাদিম, সাব্বির ও সোহাগের কাছে কোনো মাদক পায় নাই। নাদিমকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী কলেজ শিক্ষার্থী সাব্বিবের বাবা বাদশা হাওলাদার বলেন, তার ছেলে ও প্রতিবেশী সোহাগকে আটক করার পরে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে আনা হয়। তিনি এসব অসাধু কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।’
বরিশালের জেলা ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ) ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আগৈলঝাড়া উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানের নামে নিরীহ মানুষকে হয়রানি, অর্থ আদায় ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২২ আগস্ট) বরিশাল প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব অভিযোগ তোলেন আগৈলঝাড়া উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: জাফর হাওলাদার ও একই এলাকার বাসিন্দা বাদশা হাওলাদার। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সম্প্রতি ডিবি পুলিশের দায়েরকৃত একটি নাটকীয় মামলার সাক্ষী স্থানীয় লালমিয়া হাওলাদার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জাফর হাওলাদার অভিযোগ করেন, জেলা ডিবি পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তা মোল্লাপাড়া এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী নয়ন ঢালী এবং পাশ্ববর্তী গৈলা ইউপির ভদ্রপাড়ার সাহিন সরদারকে সোর্স হিসেবে ব্যবহার করে মানুষকে হয়রানি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। তারা প্রায় প্রতিদিনই সাদা পোশাকে উপজেলার মোল্লাপাড়া, সাহেবেরহাটসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে এসে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানের নামে ওই দুই সোর্সের মাধ্যমে গ্রামের স্বচ্ছল পরিবারের উঠতি বয়সী কিশোর-তরুনদের প্রথমে আটক করে। পরে তাদেরকে মাদক দিয়ে মামলায় ফাসানোর ভয় দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। যেসব পরিবার দাবি করা টাকা না দিতে পারে বা প্রতিবাদ করে তাদের সাজানো মামলায় চালান দেওয়া হয়।
তিনি লিখিত বক্তব্যে আরও জানান, গত ১১ আগস্ট রাত সাড়ে ৯ টার দিকে তার ছেলে নাদিম হোসেন (২৫), প্রতিবেশি বাদশা হাওলাদারের ছেলে কলেজ শিক্ষার্থী সাব্বির ও শহিদুল হাওলাদারের ছেলে কলেজ শিক্ষার্থী সোহাগ বাড়ির সামনে দাড়িয়ে মোবাইল ফোন দেখছিলো। হঠাৎ সেখানে এলাকার চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা নয়ন ঢালী ও ভদ্রপাড়া এলাকার সাহিনকে নিয়ে সাদা পোশাকে উপস্থিত হয় জেলা ডিবির এএসআই রাজিব চন্দ্র পাল, এসআই আবজাল হোসাইনসহ ৫/৭ জন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা। এ সময় তার ছেলে নাদিমসহ সাব্বির ও সোহাগকে আটক করে। এরমধ্যে প্রতিবেশিরা খবর দিলে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতেই দেখেন এএসআই রাজিব পালসহ অন্যরা নাদিম, সাব্বির ও সোহাগকে নিয়ে যাচ্ছে। পরে আশেপাশের লোকজনের সাথে কথা বলে জানতে পারেন তার ছেলে নাদিম ও সাথে থাকা সাব্বির এবং সোহাগ কারো সাথেই কোনো মাদকদ্রব্য পায়নি। এ ঘটনার পরে গভীর রাতে প্রতিবেশী সাব্বির ও সোহাগের পরিবারের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে পূর্বে ডিবির হয়রানির প্রতিবাদ করায় ক্ষোভ থেকে তার ছেলে নাদিমকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে গৌরনদী থানার একটি মামলায় ১০১ পিস ইয়াবাসহ তাকে আটকের ভুয়া এজাহার তৈরি করা হয়, যার সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই বলে দাবি করেন তিনি।
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, মামলার এজাহারে ডিবি পুলিশের এসআই আবজাল হোসাইন উল্লেখ করেছেন তার ছেলে নাদিমের কাছ থেকে ১০১ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থল দেখানো হয়েছে গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া বাজার সংলগ্ন ছয়গ্রামগামী রাস্তার মুখ। যা সম্পূর্ন মিথ্যা এবং বানোয়াট। এজাহারে যাদের সাক্ষী করা হয়েছে তারা এই ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকা ডিবি পুলিশের করা ভূয়া মামলার ১ নম্বর সাক্ষী লালমিয়া হাওলাদার বলেন ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। অথচ কিভাবে তাকে সাক্ষী দেওয়া হয়েছে সেটিও অজানা।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী জাফর হাওলাদার জেলা ডিবি পুলিশের অপকর্মের ফিরিস্তি তুলে বলেন, কিছুদিন আগে রত্নপুর ইউনিয়নের বরিয়াল বারহাজার গ্রামের কাওসার নামের একজন মাছ চাষী ও খামার ব্যবসায়ীর মুরগির খামারে অভিযান চালায় একদল সাদা পোশাকধারী সদস্যরা। পরে জানা যায় তারা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্য। তারা কাওসারের মুরগীর খামারে কোনো মাদকদ্রব্য না পেলেও মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। কযেকদিন পরে আবারও সেই মুরগির খামারে অভিযানে যায় জেলা ডিবি পুলিশের সদস্যরা এবং তারাও একইভাবে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। এমনকি সেখান থেকে একটি মোবাইল ফোনও লুটে নেয়। কিন্তু ভুক্তভোগী কাওসার তাদের ভয়ে মুখ খুলতে পারছে না৷
বিএনপি নেতা জাফর হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, ইতিপূর্বে তাদের এলাকায় জেলা ডিবি পুলিশের এএসআই রাজিব চন্দ্র পাল ও মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের সদস্যরা একাধিক ধরপাকড় বাণিজ্যের ঘটনা ঘটায়। যা নিয়ে প্রতিবাদ করায় পুলিশের ওই কর্মকর্তারা আগে থেকেই তাকে হুমকির মুখে রেখেছিলেন। ভুক্তভোগী হিসেবে তিনি এ বিষয়ে উর্ধ্বতন পুলিশ প্রশাসন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সাথে নাটকীয় ও মিথ্যা মামলা থেকে তার ছেলে নাদিমের নাম প্রত্যাহার এবং এলাকার নিরীহ মানুষকে জিম্মি করে বাণিজ্য চালানো অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনের শেষের দিকে উপস্থিত হয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এএসআই রাজিবের সোর্স মাদক বিক্রতা নয়ন ঢালী বলেন, গত ১১ আগস্ট রাতের ঘটনায় তিনি উপস্থিত ছিলেন। তার সামনেই পুরো ঘটনা ঘটেছে। ওই রাতে আটককৃত নাদিম, সাব্বির ও সোহাগের কাছে কোনো মাদক পায় নাই। নাদিমকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী কলেজ শিক্ষার্থী সাব্বিবের বাবা বাদশা হাওলাদার বলেন, তার ছেলে ও প্রতিবেশী সোহাগকে আটক করার পরে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে আনা হয়। তিনি এসব অসাধু কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।’

১০ নভেম্বর, ২০২৫ ১৭:৩৯
ঘুরেফিরে একই স্থানে একাধিক কর্মকর্তা # গড়ে উঠেছে আওয়ামী সিন্ডিকেট। চলছে বদলি ও তদবির বাণিজ্য। জিএম বললেন, কোনো সমস্যা নেই।
আওয়ামী লীগ নেতাদের ঘনিষ্ঠ এবং সুবিধাভোগী একাধিক কর্মকর্তা এখনো ঘিরে রেখেছে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি বরিশাল সার্কেল সচিবালয়ের যাবতীয় কার্যক্রম। বরিশাল সার্কেলের প্রতিজন জেনারেল ম্যানেজারকে (জিএম) এদের ইচ্ছেমত চলতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বরিশাল সার্কেলে যখন যিনি জিএম হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন তাকেই ভুল ও মিথ্যে তথ্য দিয়ে দিশেহারা করে তোলেন ফ্যাসিস্ট সহযোগী এই কর্মকর্তারা। এরা ব্যাংকের নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যুগ যুগ ধরে ঘুরে ফিরে বরিশাল সার্কেল অফিস ও নগরীর বিভিন্ন শাখায় কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদের মধ্যে বরিশাল আওয়ামী লীগের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ঢাকা মহানগরের (দক্ষিণ) সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মুরাদের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম, ওমর ফারুক, দেবাশীষ কুণ্ডু সহ আরো কয়েকজন রয়েছেন। যারা তখন বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও স্বাধীনতা ব্যাঙ্কারস এসোসিয়েশনের নেতা হয়ে রীতিমতো রাজনৈতিক সভা সমাবেশ ও নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন বলে তথ্য প্রমাণ রয়েছে। গণ অভ্যুত্থানের পরে এখনো তারা বহাল তবিয়েতে
এই ফ্যাসিস্ট সহযোগীরা নিজস্ব সিন্ডিকেট তৈরি করে বরিশাল সার্কেলে নতুন কোনো জিএম আসামাত্র তাকে ঘিরে ফেলে এবং মিথ্যে ও ভুল তথ্য দিয়ে বিভিন্ন বদলী বাণিজ্য, শাখা ম্যানেজার তৈরির সুপারিশসহ ঋণ বিতরণ বাণিজ্য চালিয়ে বরিশালে রীতিমতো রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে। তাদের এসব কাজে বাধা দিয়ে ইতিমধ্যেই অনেক সৎ কর্মকর্তা বিভিন্নভাবে হেনস্তা ও সর্বশেষ বদলির আদেশ পেয়েছেন বলেও সার্কেল অফিস সুত্রে জানা গেছে। যদিও বর্তমান জিএম জাহিদ ইকবাল বলেছেন, অতোটা ফ্যাসিস্ট হলে এরা কি এখনো টিকতে পারতো? আমার কাজে এখনো তাদের থেকে কোনো সমস্যা নেই বলে জানান তিনি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জুলাই বিপ্লবের পর চলতি বছর জানুয়ারিতে বরিশাল সার্কেলের জিএম হিসেবে জাহিদ ইকবাল দায়িত্ব পেলেও তার পিএস হিসেবে রয়ে গেছেন ফ্যাসিস্ট সহযোগী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম। এই প্রতিবেদন তৈরি সময়ে তার অগ্রণী ব্যাংকে চাকুরীর বয়স ১২ বছর ২ মাসের বেশি। তিনি ২০১৩ সালের ২৫ আগস্ট অগ্রণী ব্যাংকে নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং বরিশাল সার্কেলে যোগদান করেন। এরপর বরিশালেই কয়েকটি শাখা অফিসে ঘুরে পুনরায় বরিশাল সার্কেল অগ্রণী ব্যাংকে জিএম এর পিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে তিনি টানা ৩ বছর ১১ মাস বরিশাল সার্কেল অফিসে কর্মরত আছেন। চাকুরী বিধি অনুযায়ী ৩ বছর এর বেশি একই কর্মস্থলে থাকা যায় না। কিন্তু জাহিদুল ইসলামের ৩ বছর পূর্ণ হওয়ামাত্রই নিজ থেকে আরেক শাখা/অফিসে বদলী হন। একমাস বা দুইমাস শাখা অফিসে থেকে পুনরায় সার্কেল অফিসে জিএম এর পিএস পদে যোগদান করেন। ৫ আগস্টের আগে তিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন এবং বিভিন্ন দলীয় কার্যক্রমে নিয়মিত অংশ নিতে দেখা গেছে। বর্তমানে পুনরায় বরিশাল সার্কেলে তার তিন বছর পূর্ণ হওয়ার পরও বহাল রয়েছেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৪ মাস পেরিয়ে গেলেও অগ্রণী ব্যাংক বরিশাল সার্কেলে আওয়ামী পন্থী এই ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের মত বরিশাল অগ্রণী ব্যাংকে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ কুণ্ডু ও সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে এজিএম পংকজ কুমার নাথ, আজিজুর রহমান এবং এসপিও আবু তাহের, পিও জিয়াউর রহমান, পিও রাশেদ এর সহযোগিতায় বদলী বাণিজ্য ও ম্যানেজার বানানোর কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে। আর এই কাজগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত অনুসন্ধান না করেই জিএম জাহিদ ইকবাল অনুমোদন করে দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
সার্কেল অফিসের কয়েকজন অবহেলিত ভুক্তভোগী বলেন, ফ্যাসিস্ট সহযোগী এই কর্মকর্তারা জিএম জাহিদ ইকবালকে চারদিক থেকে ঘিরে থাকে। অন্যকাউকে তার কাছে ঘেঁষতে দেয়া হয়না।
এদের অন্যতম আরেকজন সহযোগী দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা দেবাশীষ কুণ্ডু। তিনি ২০১২ সালের ১৩ মে অগ্রণী ব্যাংকে যোগদান করেন। সাবেক ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতা ও অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক পরিচালক বলরাম পোদ্দারের সুপারিশে তার এই নিয়োগ হয়। ১৩ বছর ৫ মাস কার্যকালীন সময়ে ৬ বছর ২ মাস ০৯ দিন তিনি বরিশাল সার্কেল অফিসে চাকুরী করছেন এবং এখানো বহাল তবিয়তে আছেন। বাকি সময়ে কখনো বরিশাল জোনাল অফিস অথবা বরিশালেরই কোন শাখায় কর্মরত ছিলেন।
ঠিক একইভাবে রাশেদুল ইসলাম অগ্রণী ব্যাংকে জয়েন করেন ২০১০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর। সর্বমোট ১৫ বছর তিন মাসের মধ্যে বরিশাল সার্কেল অফিসে চাকুরী করছেন ১১ বছর ২ মাস যাবত। একই এসপিও আবদুল মতিন ও আবু তাহের চাকুরী জীবনের অধিকাংশ সময় বরিশাল সার্কেল অফিসে চাকুরী করছেন। এরা সবাই বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও স্বাধীনতা ব্যাঙ্কার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে বরিশাল জোনের বিভিন্ন বদলি বাণিজ্য, কমিশন বাণিজ্য, তদবির বাণিজ্য এবং শাখা ম্যানেজার বানানোর সকল কারিশমা সম্পাদন করছে বলে জানা গেছে। জিএম জাহিদ ইকবাল এসব বিষয় জেনেও না জানার ভান করে আছেন। এদিকে এই ফ্যাসিস্ট সিন্ডিকেটের অত্যাচারে সাধারণ অফিসাররা অতিষ্ঠ। নিয়মিত মাসোহারা না দিলে দুর্গম স্থানে বদলীর হুমকি প্রদান করেন এবং বিভিন্ন শাখা ও জোনাল অফিসে সমস্যা হতে পারে এমন অফিসারদের বরিশাল থেকে সরিয়ে দিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন বলে জানা গেছে।
এসব অভিযোগ বিষয়ে বরিশাল সার্কেল অগ্রণী ব্যাংকের জিএম জাহিদ ইকবাল বললেন, তারা যতই ফ্যাসিস্ট বা ফ্যাসিস্ট সহযোগী হোক, তাতো অফিসের বাইরে। অফিসের ভিতরে আমার কাজে এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা তারা তৈরি করেনি। তাছাড়া তিন বছর পূর্ণ হওয়া মাত্র বদলির নিয়ম অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।’
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ২১:০৯
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ২১:০০
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:২৩
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:০৭