বরিশাল শহরে ফেয়ার হেলথ ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় হাফসা আক্তার রুপা (২৫) নামে এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দবে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের দাবি, রোগী ও তাদের স্বজনদের খামখেয়ালির কারণে মৃত্যু হয়েছে।
জানা গেছে, পেটে ব্যথা নিয়ে গত ১৫ মে নগরীর কালি বাড়ি রোডের ফেয়ার হেলথ ক্লিনিকে ডাক্তার দেখাতে যান পার্শ্ববর্তী নতুন বাজার গুপ্ত কর্নার এলাকার নাসিমা বেগমের মেয়ে রুপা। সেখানে ১ হাজার টাকা ভিজিট দিয়ে গাইনি ডাক্তার হাসিনা মর্তুজাকে দেখায় তার পরিবার।
পরে চিকিৎসক হাসিনা মর্তুজা রোগীর পেটে ওভারিয়ান টিউমার হয়েছে বলে অপারেশন করার কথা জানায়। তার কথা অনুযায়ী ২৫ হাজার টাকা জমা দিয়ে একই মাসের ২২ মে অপারেশন করায় রুপার পরিবার। এর ৪-৫ দিন পর রুপাকে বাসায় নিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু বাসায় নেওয়ার পর থেকে কোনো কিছুই খেতে পারতেন না রুপা। বিষয়টি চিকিৎসক হাসিনা মর্তুজাকে জানালে তিনি ক্লিনিকে নিয়ে যেতে বলে।
এর পর পর্যায়ক্রমে দুই এক দিন পর রুপাকে ক্লিনিকে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হাসিনা মর্তুজা। এর প্রতিবারই এক হাজার টাকা করে ১৮ বারে ১৮ হাজার টাকা ভিজিট নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের হাজার হাজার টাকার টেস্ট করায় বলে জাগো নিউজের কাছে অভিযোগ করেন রুপার মা নাসিমা বেগম। প্রতিটি টেস্টই তাদের ওখানেই করাতে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নাসিমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, এভাবে বেশ কিছুদিন চিকিৎসা শেষে চিকিৎসক হাসিনা মর্তুজা গত জুলাই মাসে রুপাকে পেটের নারীতে পেচ পড়েছে জানিয়ে ওই ক্লিনিকের মালিক সার্জারি চিকিৎসক জহিরুল হক মানিকের কাছে রেফার করেন। তখন মানিক রুপাকে আবার ক্লিনিকে ভর্তি করে অপারেশন করার কথা জানান।
সার্জারি চিকিৎসক মানিক রুপার মা-বাবার কাছে অপারেশনের জন্য নতুন করে ৬৫ হাজার টাকা ও আগের অপারেশনে কোনো ত্রুটি থাকলে তা নিরাময়ের জন্য আরও ১০ হাজার টাকাসহ ক্লিনিকের খরচ ব্যাবদ মোট এক লাখ টাকা দাবি করেন। এছাড়াও তার মালিকানাধীন অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসা করালে ৪৫ হাজার টাকা লাগবে বলেও জানান।
রুপার মা আরও জানান, এর আগে চিকিৎসা ব্যাবদ ধার দেনা করে ৭৫ হাজার টাকা খরচ করেছেন তারা। পরে চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে যেতে চাইলেও তারা যেতে দেয়নি। অথচ দীর্ঘদিনেও ফেয়ার হেলথ ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ কোনো রোগ নির্ণয় করতে পারেনি।
সবশেষ চলতি মাসের ১০ তারিখ রাতে রুপা পেট ফুলে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এসময় তাকে ফেয়ার হেলথ ক্লিনিকে নিয়ে গেলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাদের ওখানে ঢুকতে না দিয়ে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। সেসময় হাসপাতালে যাওয়ার পথে রাত ১০ টায় রুপা মারা যায়।
চোখের সামনে মেয়ের মৃত্যুর পর থেকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যরা। তারা ফেয়ার হেলথ ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের ভুল চিকিৎসার কারণে মেয়েকে হারিয়েছেন বলে জানান। তারা ভুল চিকিৎসার জন্য দায়ীদের শাস্তি দাবি করছেন।
এ বিষয়ে ফেয়ার হেলথ ক্লিনিকের গাইনি চিকিৎসক হাসিনা মর্তুজা বলেন, দুই মাসে আগে অপারেশন হয়েছে। পরে তাকে সার্জারি চিকিৎসক জহিরুল হক মানিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তার সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
ফেয়ার হেলথ ক্লিনিকের মালিক সার্জারি চিকিৎসক জহিরুল হক মানিক বলেন, তারা নিজেদের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দিচ্ছে। তাদের গরীব দেখে অনেক কম খরচে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত কোনো টাকা চাওয়া হয়নি। হাসিনা মর্তুজা কোনো ভুল চিকিৎসা দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান।
এদিকে চিকিৎসক হাসিনা মর্তুজা ফেয়ার হেলথ ক্লিনিকের মালিক জহিরুল হক মানিকের শ্যালিকা বলে জানা গেছে। এছাড়াও ওই ক্লিনিকের বিভিন্ন বিভাগে তার আত্মীয় স্বজনদের দিয়ে কাজ করান বলে জানা গেছে।

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০৩
পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনার অবকাঠামোগত সক্ষমতা আরো বাড়াতে, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) বন্দর থানা ভবন (মেট্রো টাইপ-১) নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বন্দর থানা ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মঞ্জুর, এমপি।
এ সময় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্সহ বরিশাল পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এবং বিএমপি কমিশনার বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা থানার সার্বিক কার্যক্রম ও বিদ্যমান অবকাঠামোগত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
নতুন থানা ভবন নির্মাণের মাধ্যমে বন্দর থানার প্রশাসনিক কার্যক্রম বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনার অবকাঠামোগত সক্ষমতা আরো বাড়াতে, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) বন্দর থানা ভবন (মেট্রো টাইপ-১) নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বন্দর থানা ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মঞ্জুর, এমপি।
এ সময় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্সহ বরিশাল পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এবং বিএমপি কমিশনার বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা থানার সার্বিক কার্যক্রম ও বিদ্যমান অবকাঠামোগত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
নতুন থানা ভবন নির্মাণের মাধ্যমে বন্দর থানার প্রশাসনিক কার্যক্রম বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:০৯
বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর। তিনি বলেন, ‘অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে।’
আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল নগরের বন্দর থানা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্সে আছি। বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো কাজে যাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধেও সরকারের অবস্থান কঠোর।’
মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইতোমধ্যে পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলায় সভা হয়েছে জানিয়ে আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সভা করা হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
পরে প্রতিমন্ত্রী বরিশাল বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।’
বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর। তিনি বলেন, ‘অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে।’
আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল নগরের বন্দর থানা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্সে আছি। বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো কাজে যাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধেও সরকারের অবস্থান কঠোর।’
মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইতোমধ্যে পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলায় সভা হয়েছে জানিয়ে আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সভা করা হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
পরে প্রতিমন্ত্রী বরিশাল বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।’

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:২৫
বরিশালের উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তার সরকারি উন্নয়ন কাজের তদারকিতে গাফেলতিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত ও বিচারের দাবিতে উজিরপুর উপজেলার ধামুরা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রব হাওলাদারের ছেলে মো. মাছুম হাওলাদার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এ লিখিত আভিযোগ দিয়েছেন।
এতে তিনি আভিযোগ করেন উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় উজিরপুরে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থেকে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি সংক্রান্ত অপকর্মের সাথে জড়িত হয়ে পড়েছেন। তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারসহ বিভিন্ন কাজে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজসে সরকারের অর্থের অপচয়সহ নানা দুর্নীতি মূলক কর্মকান্ডের সাথে লিপ্ত রয়েছেন। যা তদন্ত করলেই প্রমান মিলবে। ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার সেগুন বাগিচাস্থ দুদকের প্রধান কর্য্যলয়ে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগটি করা হয়।
অভিযোগকারী মাছুম হাওলাদার বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দাপটের সাথে চাকুরি করা সুব্রত রায় তার তদারকিতে থাকা বিভিন্ন সড়ক, ব্রিজ ও কালর্ভাট নির্মাণে ঠিকাদারদের ব্যাপক অনিয়মকে অর্থের বিনিময়ে সহয়াতা করেন ।
বর্তমান সরকারের আমলেও তিনি উজিরপুরে একই ভাবে চাকুরি করছেন। তার কারনে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হচ্ছে। যা দুর্নীতির শামিল। উপজেলার ধামুরা এলাকার বেশ কয়েকটি ব্রিজের পুরাতন মালপত্র নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তার তদারকিতে থাকা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এসব অভিযোগ সত্য নয়, ভিত্তিহীন দাবি করে উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেন, উপজেলার ধামুরা এলাকায়।নির্মিত একটি ব্রিজের সম্প্রতি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে গেলে কিছু সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে মাছুম হাওলাদার কাজে বাধা দেন। কাগজপত্রে দেখা যায় ওটা খাস সম্পত্তি।
তারপরেও বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই অংশের কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়। ব্রিজের সংযোগ সড়কের এ সম্পত্তি নিয়ে ক্ষিপ্ত মাছুম হাওলাদার তাকে হয়রাণি ও তার পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুদকে এ অভিযোগ দিয়েছেন।’
বরিশালের উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তার সরকারি উন্নয়ন কাজের তদারকিতে গাফেলতিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত ও বিচারের দাবিতে উজিরপুর উপজেলার ধামুরা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রব হাওলাদারের ছেলে মো. মাছুম হাওলাদার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এ লিখিত আভিযোগ দিয়েছেন।
এতে তিনি আভিযোগ করেন উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় উজিরপুরে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থেকে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি সংক্রান্ত অপকর্মের সাথে জড়িত হয়ে পড়েছেন। তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারসহ বিভিন্ন কাজে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজসে সরকারের অর্থের অপচয়সহ নানা দুর্নীতি মূলক কর্মকান্ডের সাথে লিপ্ত রয়েছেন। যা তদন্ত করলেই প্রমান মিলবে। ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার সেগুন বাগিচাস্থ দুদকের প্রধান কর্য্যলয়ে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগটি করা হয়।
অভিযোগকারী মাছুম হাওলাদার বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দাপটের সাথে চাকুরি করা সুব্রত রায় তার তদারকিতে থাকা বিভিন্ন সড়ক, ব্রিজ ও কালর্ভাট নির্মাণে ঠিকাদারদের ব্যাপক অনিয়মকে অর্থের বিনিময়ে সহয়াতা করেন ।
বর্তমান সরকারের আমলেও তিনি উজিরপুরে একই ভাবে চাকুরি করছেন। তার কারনে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হচ্ছে। যা দুর্নীতির শামিল। উপজেলার ধামুরা এলাকার বেশ কয়েকটি ব্রিজের পুরাতন মালপত্র নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তার তদারকিতে থাকা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এসব অভিযোগ সত্য নয়, ভিত্তিহীন দাবি করে উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেন, উপজেলার ধামুরা এলাকায়।নির্মিত একটি ব্রিজের সম্প্রতি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে গেলে কিছু সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে মাছুম হাওলাদার কাজে বাধা দেন। কাগজপত্রে দেখা যায় ওটা খাস সম্পত্তি।
তারপরেও বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই অংশের কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়। ব্রিজের সংযোগ সড়কের এ সম্পত্তি নিয়ে ক্ষিপ্ত মাছুম হাওলাদার তাকে হয়রাণি ও তার পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুদকে এ অভিযোগ দিয়েছেন।’

২৭ আগস্ট, ২০২৫ ১৩:৪৮
বরিশাল শহরে ফেয়ার হেলথ ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় হাফসা আক্তার রুপা (২৫) নামে এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দবে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের দাবি, রোগী ও তাদের স্বজনদের খামখেয়ালির কারণে মৃত্যু হয়েছে।
জানা গেছে, পেটে ব্যথা নিয়ে গত ১৫ মে নগরীর কালি বাড়ি রোডের ফেয়ার হেলথ ক্লিনিকে ডাক্তার দেখাতে যান পার্শ্ববর্তী নতুন বাজার গুপ্ত কর্নার এলাকার নাসিমা বেগমের মেয়ে রুপা। সেখানে ১ হাজার টাকা ভিজিট দিয়ে গাইনি ডাক্তার হাসিনা মর্তুজাকে দেখায় তার পরিবার।
পরে চিকিৎসক হাসিনা মর্তুজা রোগীর পেটে ওভারিয়ান টিউমার হয়েছে বলে অপারেশন করার কথা জানায়। তার কথা অনুযায়ী ২৫ হাজার টাকা জমা দিয়ে একই মাসের ২২ মে অপারেশন করায় রুপার পরিবার। এর ৪-৫ দিন পর রুপাকে বাসায় নিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু বাসায় নেওয়ার পর থেকে কোনো কিছুই খেতে পারতেন না রুপা। বিষয়টি চিকিৎসক হাসিনা মর্তুজাকে জানালে তিনি ক্লিনিকে নিয়ে যেতে বলে।
এর পর পর্যায়ক্রমে দুই এক দিন পর রুপাকে ক্লিনিকে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হাসিনা মর্তুজা। এর প্রতিবারই এক হাজার টাকা করে ১৮ বারে ১৮ হাজার টাকা ভিজিট নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের হাজার হাজার টাকার টেস্ট করায় বলে জাগো নিউজের কাছে অভিযোগ করেন রুপার মা নাসিমা বেগম। প্রতিটি টেস্টই তাদের ওখানেই করাতে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নাসিমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, এভাবে বেশ কিছুদিন চিকিৎসা শেষে চিকিৎসক হাসিনা মর্তুজা গত জুলাই মাসে রুপাকে পেটের নারীতে পেচ পড়েছে জানিয়ে ওই ক্লিনিকের মালিক সার্জারি চিকিৎসক জহিরুল হক মানিকের কাছে রেফার করেন। তখন মানিক রুপাকে আবার ক্লিনিকে ভর্তি করে অপারেশন করার কথা জানান।
সার্জারি চিকিৎসক মানিক রুপার মা-বাবার কাছে অপারেশনের জন্য নতুন করে ৬৫ হাজার টাকা ও আগের অপারেশনে কোনো ত্রুটি থাকলে তা নিরাময়ের জন্য আরও ১০ হাজার টাকাসহ ক্লিনিকের খরচ ব্যাবদ মোট এক লাখ টাকা দাবি করেন। এছাড়াও তার মালিকানাধীন অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসা করালে ৪৫ হাজার টাকা লাগবে বলেও জানান।
রুপার মা আরও জানান, এর আগে চিকিৎসা ব্যাবদ ধার দেনা করে ৭৫ হাজার টাকা খরচ করেছেন তারা। পরে চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে যেতে চাইলেও তারা যেতে দেয়নি। অথচ দীর্ঘদিনেও ফেয়ার হেলথ ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ কোনো রোগ নির্ণয় করতে পারেনি।
সবশেষ চলতি মাসের ১০ তারিখ রাতে রুপা পেট ফুলে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এসময় তাকে ফেয়ার হেলথ ক্লিনিকে নিয়ে গেলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাদের ওখানে ঢুকতে না দিয়ে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। সেসময় হাসপাতালে যাওয়ার পথে রাত ১০ টায় রুপা মারা যায়।
চোখের সামনে মেয়ের মৃত্যুর পর থেকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যরা। তারা ফেয়ার হেলথ ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের ভুল চিকিৎসার কারণে মেয়েকে হারিয়েছেন বলে জানান। তারা ভুল চিকিৎসার জন্য দায়ীদের শাস্তি দাবি করছেন।
এ বিষয়ে ফেয়ার হেলথ ক্লিনিকের গাইনি চিকিৎসক হাসিনা মর্তুজা বলেন, দুই মাসে আগে অপারেশন হয়েছে। পরে তাকে সার্জারি চিকিৎসক জহিরুল হক মানিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তার সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
ফেয়ার হেলথ ক্লিনিকের মালিক সার্জারি চিকিৎসক জহিরুল হক মানিক বলেন, তারা নিজেদের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দিচ্ছে। তাদের গরীব দেখে অনেক কম খরচে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত কোনো টাকা চাওয়া হয়নি। হাসিনা মর্তুজা কোনো ভুল চিকিৎসা দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান।
এদিকে চিকিৎসক হাসিনা মর্তুজা ফেয়ার হেলথ ক্লিনিকের মালিক জহিরুল হক মানিকের শ্যালিকা বলে জানা গেছে। এছাড়াও ওই ক্লিনিকের বিভিন্ন বিভাগে তার আত্মীয় স্বজনদের দিয়ে কাজ করান বলে জানা গেছে।
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:০৬
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০৩
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:০৯
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৫৪