বরিশাল শহরের সাতটি প্রধান খালের একটি। ফাইল ছবি
বরিশাল শহরের অভ্যন্তরে সাত খাল খননের নামে ৬ কোটি টাকা লুটপাট করেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) এই খাল খনন প্রকল্পের কাজ বরিশাল সদর আসনের সাবেক এমপি ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম তার কর্মী-অনুসারীদের মধ্যে ভাগবণ্টন করে দেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা নামমাত্র খনন করে বরাদ্দের ৮৫ ভাগ অর্থ উত্তোলন করে নিয়ে গেছেন। ফলে খালগুলো এখন ডোবা মজা এবং পরিত্যাক্ত ভূমিতে পরিণত হয়েছে, যা জলাবদ্ধতায় রূপ নিয়ে পুরো বর্ষা মৌসুমে নগরবাসীকে সীমাহীন ভোগান্তিতে ফেলার আশঙ্কা রয়েছে।
শহরবাসীর অভিযোগ, পানিপ্রবাহ ঠিক রাখতে পানি উন্নয়ন বোর্ড আওয়ামী লীগ শাসনামলে সাতটি খাল খনন শুরু করলেও পুরোপুরি শেষ করেনি। অর্ধখনন করে খালগুলোর মধ্যে বাধ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে রাখা হয়েছে। গত দুদিনে সামান্য বর্ষার পানি খালে জমে চারিদিকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। এতে খালসংলগ্ন এলাকাসমূহের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনকে দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ২০২২-২৩ সালে দেশের ৬৪ জেলায় খাল খননের উদ্যোগ নেয় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম (বর্তমানে কারাবন্দি) প্রকল্পটির আওতায় বরিশাল শহরের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ খালও নিয়ে আসেন। কিন্তু সেই সময় বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র বিরোধীতার কারণে প্রকল্প শুরু করা সম্ভব হয়নি। এক বছর পরে ২০২৩ সালের শেষের দিকে নগরীর ফুসফুস খ্যাত আমানতগঞ্জ, জেলখাল, রূপাতলী, পলাশপুর, সাগরদী, চাঁদমারী এবং ভাটার খাল খনন শুরু হয়। ৬ কোটি সাত লাখ টাকার এই খাল খনন কাজের ঠিকদার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর কয়েকজন কর্মী-অনুসারী।
অবশ্য তখনই খাল খনন নিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু ঠিকাদাররা সকলে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী হওয়ায় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় বা পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো ব্যবস্থাগ্রহণ করেনি। বরং পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ বিন ওয়ালিদ নিজেই অর্থ লুটপাটে সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ আছে।
আমানতগঞ্জ খালসংলগ্ন বাসিন্দাদের অভিযোগ, সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর লোক আওয়ামী লীগ নেতা ইতালি শহীদ খালটি খনন কাজ করেছেন। কিন্তু তিনি আধাবিধি খনন করে ফেলে রেখে গেছেন। এবং সরকার পরিবর্তনের পরে খননে ব্যবহৃত সরঞ্জামও নিতে আসেননি। এই অর্ধ খননের কারণে খালে পানিপ্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়াসহ ডোবা মজা পরিত্যাক্ত ভূমিতে রূপ নিয়েছে। একই অবস্থা বাকি ৬টি খালেরও, যা শহরবাসীর জন্য আগাম বিপদ সংকেত দিচ্ছে।
নদী-খাল বাঁচাও সংগঠনের নেতা কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বিস্ময়প্রকাশ করে বলেন, ৬ কোটি ৭ লাখ টাকায় খাল খননেন যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা ফিকে গেছে। সরকারের অর্থ গচ্চা যাওয়ার পাশাপাশি খালগুলোও অস্থিত্ব হারিয়েছে।
এবারের বর্ষা মৌসুমে খালগুলো নগরবাসীকে মারাত্মক দুর্ভোগে ফেলবে মন্তব্য করে শিবলু বলেন, বর্তমানে সাতটি খালের পানিপ্রবাহ বন্ধ রয়েছে। কীর্তনখোলা নদী জল বৃদ্ধি পেলে বা টানা বর্ষণে খালগুলো ভরে শহর জলমগ্ন হয়ে পড়তে পারে। সেক্ষেত্রে অতীতের তুলনায় অধিক সময় পানিবন্দি হয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সুতরাং কালবিলম্ব না করে পানিপ্রবাহ সচল রাখতে খালগুলো সঠিক নিয়মে খনন করা জরুরি।
তবে এই খাল নিয়ে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ড মোটেও চিন্তিত নয় বলে জানা গেছে। দপ্তরটি নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল জানিয়েছেন, উল্লেখিত সাতটি খালই বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের। কিন্তু ৬৪ জেলার আওতায় বরিশাল শহরের সাত খাল খননে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। আগামীতে খালগুলো সিটি কর্পোরেশনই তদারকি করবে।
তাহলে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ৬ কোটি টাকা কি জলে গেল এমন প্রশ্নে নির্বাহী কর্মকর্তা আত্মপক্ষ সমর্থনে বলেন, প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে গেছে। তাছাড়া এই ধরনের নতুন কোনো প্রকল্প চালু হওয়ার সম্ভবনাও দেখছি না। বিস্তারিত মহাপরিচালক বা সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ বিন ওয়ালিদ ভালো বলতে পারেবেন।
তবে এই দুজনের কারও সাথেই মুঠোফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের উভয়ের মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। এমনকি ঠিকাদারদের মোবাইল নম্বরও বন্ধ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে, বরিশাল শহরের সাত খাল খনন কাজ যারা করেছেন, তারা সকলেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে যাওয়ার পরে তারাও লাপাত্তা হয়ে গেছেন। এবং নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে মোবাইল ফোন বন্ধ রাখছেন। ’

২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৩৩
গাজীপুরের জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার সম্পদ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্তের আওতায় রংপুর সিটি করপোরেশনও
বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে ৩০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগের তথ্য উঠে এসেছে স্থানীয় সরকার বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদনে। একই প্রতিবেদনে গাজীপুরের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার সম্পদ অর্জন ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এবং রংপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়মের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্থানীয় সরকার খাতের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে ৩০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়টি তালিকাভুক্ত হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিস্তারিত খাতভিত্তিক হিসাব প্রতিবেদনের প্রকাশিত অংশে উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে সাত হাজার ৫০০ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর ও সিটি করপোরেশনের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও সম্পদসংক্রান্ত ৬৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকার বিষয়ও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
রংপুর সিটি করপোরেশনের ২০০৯ সাল থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং নৌকা ও নৌকাঘাট ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের বিষয়গুলো পৃথকভাবে অনুসন্ধানের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থানীয় সরকার খাতের ৬৬টি ক্ষেত্রে অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব বিষয়ে তৈরি তদন্ত প্রতিবেদনটি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
এ ছাড়া বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের বাজার ও স্থাপনার ভাড়া আদায়সংক্রান্ত ঘটনায় ১৮৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা আত্মসাতের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রেড লাইসেন্স ফি আদায়, কমিউনিটি সেন্টার ও মার্কেটের দোকানভাড়া এবং অন্যান্য রাজস্ব খাতেও আর্থিক অনিয়মের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।'
গাজীপুরের জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার সম্পদ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্তের আওতায় রংপুর সিটি করপোরেশনও
বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে ৩০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগের তথ্য উঠে এসেছে স্থানীয় সরকার বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদনে। একই প্রতিবেদনে গাজীপুরের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার সম্পদ অর্জন ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এবং রংপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়মের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্থানীয় সরকার খাতের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে ৩০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়টি তালিকাভুক্ত হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিস্তারিত খাতভিত্তিক হিসাব প্রতিবেদনের প্রকাশিত অংশে উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে সাত হাজার ৫০০ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর ও সিটি করপোরেশনের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও সম্পদসংক্রান্ত ৬৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকার বিষয়ও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
রংপুর সিটি করপোরেশনের ২০০৯ সাল থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং নৌকা ও নৌকাঘাট ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের বিষয়গুলো পৃথকভাবে অনুসন্ধানের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থানীয় সরকার খাতের ৬৬টি ক্ষেত্রে অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব বিষয়ে তৈরি তদন্ত প্রতিবেদনটি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
এ ছাড়া বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের বাজার ও স্থাপনার ভাড়া আদায়সংক্রান্ত ঘটনায় ১৮৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা আত্মসাতের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রেড লাইসেন্স ফি আদায়, কমিউনিটি সেন্টার ও মার্কেটের দোকানভাড়া এবং অন্যান্য রাজস্ব খাতেও আর্থিক অনিয়মের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।'

২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৩৮
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় সঞ্জয় কুমার বাড়ৈ (৩৫) নামে উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের বারপাইকা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সঞ্জয় কুমার বাড়ৈ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য।
পুলিশ জানায়, সম্প্রতি উপজেলার সেরাল গ্রামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সড়কে মিছিলের প্রস্তুতি নেন। এতে সঞ্জয় কুমার বাড়ৈও অংশ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে থানায় একটি মামলা হয়। ওই মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামি হিসেবে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান জানান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সঞ্জয় কুমার বাড়ৈকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় সঞ্জয় কুমার বাড়ৈ (৩৫) নামে উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের বারপাইকা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সঞ্জয় কুমার বাড়ৈ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য।
পুলিশ জানায়, সম্প্রতি উপজেলার সেরাল গ্রামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সড়কে মিছিলের প্রস্তুতি নেন। এতে সঞ্জয় কুমার বাড়ৈও অংশ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে থানায় একটি মামলা হয়। ওই মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামি হিসেবে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান জানান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সঞ্জয় কুমার বাড়ৈকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৩২
বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়িয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিচ্ছে ‘অর্ণব’। এর প্রভাবে বরিশাল বিভাগের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দরসহ দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত আবহাওয়াবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, ঝড়টির কেন্দ্রের কাছাকাছি সাগর উত্তাল রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পায়রা, মোংলা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রাখা হয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। উপকূলীয় এলাকায় আবহাওয়ার পরিবর্তন ও সাগরের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার প্রয়োজন রয়েছে।
পূর্বাভাসে ঘূর্ণিঝড়টি আরও শক্তিশালী হয়ে বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের ওপর বাংলাদেশের উপকূলে এর প্রভাব নির্ভর করবে। তাই জেলে, ট্রলারচালক ও উপকূলীয় বাসিন্দাদের আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
সূত্র: বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের বুলেটিনের ভিত্তিতে প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন।
বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়িয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিচ্ছে ‘অর্ণব’। এর প্রভাবে বরিশাল বিভাগের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দরসহ দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত আবহাওয়াবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, ঝড়টির কেন্দ্রের কাছাকাছি সাগর উত্তাল রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পায়রা, মোংলা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রাখা হয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। উপকূলীয় এলাকায় আবহাওয়ার পরিবর্তন ও সাগরের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার প্রয়োজন রয়েছে।
পূর্বাভাসে ঘূর্ণিঝড়টি আরও শক্তিশালী হয়ে বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের ওপর বাংলাদেশের উপকূলে এর প্রভাব নির্ভর করবে। তাই জেলে, ট্রলারচালক ও উপকূলীয় বাসিন্দাদের আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
সূত্র: বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের বুলেটিনের ভিত্তিতে প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন।

০৩ জুন, ২০২৫ ১২:২৯
বরিশাল শহরের অভ্যন্তরে সাত খাল খননের নামে ৬ কোটি টাকা লুটপাট করেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) এই খাল খনন প্রকল্পের কাজ বরিশাল সদর আসনের সাবেক এমপি ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম তার কর্মী-অনুসারীদের মধ্যে ভাগবণ্টন করে দেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা নামমাত্র খনন করে বরাদ্দের ৮৫ ভাগ অর্থ উত্তোলন করে নিয়ে গেছেন। ফলে খালগুলো এখন ডোবা মজা এবং পরিত্যাক্ত ভূমিতে পরিণত হয়েছে, যা জলাবদ্ধতায় রূপ নিয়ে পুরো বর্ষা মৌসুমে নগরবাসীকে সীমাহীন ভোগান্তিতে ফেলার আশঙ্কা রয়েছে।
শহরবাসীর অভিযোগ, পানিপ্রবাহ ঠিক রাখতে পানি উন্নয়ন বোর্ড আওয়ামী লীগ শাসনামলে সাতটি খাল খনন শুরু করলেও পুরোপুরি শেষ করেনি। অর্ধখনন করে খালগুলোর মধ্যে বাধ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে রাখা হয়েছে। গত দুদিনে সামান্য বর্ষার পানি খালে জমে চারিদিকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। এতে খালসংলগ্ন এলাকাসমূহের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনকে দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ২০২২-২৩ সালে দেশের ৬৪ জেলায় খাল খননের উদ্যোগ নেয় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম (বর্তমানে কারাবন্দি) প্রকল্পটির আওতায় বরিশাল শহরের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ খালও নিয়ে আসেন। কিন্তু সেই সময় বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র বিরোধীতার কারণে প্রকল্প শুরু করা সম্ভব হয়নি। এক বছর পরে ২০২৩ সালের শেষের দিকে নগরীর ফুসফুস খ্যাত আমানতগঞ্জ, জেলখাল, রূপাতলী, পলাশপুর, সাগরদী, চাঁদমারী এবং ভাটার খাল খনন শুরু হয়। ৬ কোটি সাত লাখ টাকার এই খাল খনন কাজের ঠিকদার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর কয়েকজন কর্মী-অনুসারী।
অবশ্য তখনই খাল খনন নিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু ঠিকাদাররা সকলে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী হওয়ায় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় বা পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো ব্যবস্থাগ্রহণ করেনি। বরং পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ বিন ওয়ালিদ নিজেই অর্থ লুটপাটে সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ আছে।
আমানতগঞ্জ খালসংলগ্ন বাসিন্দাদের অভিযোগ, সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর লোক আওয়ামী লীগ নেতা ইতালি শহীদ খালটি খনন কাজ করেছেন। কিন্তু তিনি আধাবিধি খনন করে ফেলে রেখে গেছেন। এবং সরকার পরিবর্তনের পরে খননে ব্যবহৃত সরঞ্জামও নিতে আসেননি। এই অর্ধ খননের কারণে খালে পানিপ্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়াসহ ডোবা মজা পরিত্যাক্ত ভূমিতে রূপ নিয়েছে। একই অবস্থা বাকি ৬টি খালেরও, যা শহরবাসীর জন্য আগাম বিপদ সংকেত দিচ্ছে।
নদী-খাল বাঁচাও সংগঠনের নেতা কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বিস্ময়প্রকাশ করে বলেন, ৬ কোটি ৭ লাখ টাকায় খাল খননেন যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা ফিকে গেছে। সরকারের অর্থ গচ্চা যাওয়ার পাশাপাশি খালগুলোও অস্থিত্ব হারিয়েছে।
এবারের বর্ষা মৌসুমে খালগুলো নগরবাসীকে মারাত্মক দুর্ভোগে ফেলবে মন্তব্য করে শিবলু বলেন, বর্তমানে সাতটি খালের পানিপ্রবাহ বন্ধ রয়েছে। কীর্তনখোলা নদী জল বৃদ্ধি পেলে বা টানা বর্ষণে খালগুলো ভরে শহর জলমগ্ন হয়ে পড়তে পারে। সেক্ষেত্রে অতীতের তুলনায় অধিক সময় পানিবন্দি হয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সুতরাং কালবিলম্ব না করে পানিপ্রবাহ সচল রাখতে খালগুলো সঠিক নিয়মে খনন করা জরুরি।
তবে এই খাল নিয়ে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ড মোটেও চিন্তিত নয় বলে জানা গেছে। দপ্তরটি নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল জানিয়েছেন, উল্লেখিত সাতটি খালই বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের। কিন্তু ৬৪ জেলার আওতায় বরিশাল শহরের সাত খাল খননে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। আগামীতে খালগুলো সিটি কর্পোরেশনই তদারকি করবে।
তাহলে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ৬ কোটি টাকা কি জলে গেল এমন প্রশ্নে নির্বাহী কর্মকর্তা আত্মপক্ষ সমর্থনে বলেন, প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে গেছে। তাছাড়া এই ধরনের নতুন কোনো প্রকল্প চালু হওয়ার সম্ভবনাও দেখছি না। বিস্তারিত মহাপরিচালক বা সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ বিন ওয়ালিদ ভালো বলতে পারেবেন।
তবে এই দুজনের কারও সাথেই মুঠোফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের উভয়ের মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। এমনকি ঠিকাদারদের মোবাইল নম্বরও বন্ধ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে, বরিশাল শহরের সাত খাল খনন কাজ যারা করেছেন, তারা সকলেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে যাওয়ার পরে তারাও লাপাত্তা হয়ে গেছেন। এবং নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে মোবাইল ফোন বন্ধ রাখছেন। ’