
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১৭:৪১
ভুয়া বিল-ভাউচার দেখিয়ে সাড়ে ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের তিন কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এসআই পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তার কম্পিউটার আইডি ব্যবহার করে এই জালিয়াতি করা হয়, মেট্রোপলিটন পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা এই অনিয়ম সম্পর্কে নিশ্চিত হন। দুর্নীতির প্রমাণ প্রাপ্তির পরে কনস্টেবল মারুফ হাসান, কনস্টেবল জয়দেব কুমার মজুমদার এবং কনস্টেবল সজীব মিয়াকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের হিসাব শাখায় তিন কনস্টেবল কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের এক কর্মকর্তা কম্পিউটার আইডি ব্যবহার করে সর্বমোট মাট ১৮ লাখ ৬০ হাজার ৯৮৪ টাকা আত্মসাৎ করেন তিনজন। সম্প্রতি টাকার হিসাব না মিললে ওই কর্মকর্তার সন্দেহ হয়, এরপর টাকা আত্মসাতের সাথে কারা জড়িত তার অনুসন্ধান চালানো হয়। তখন উল্লেখিত তিনজনের নাম প্রকাশ্যে আসে। বিষয়টি উর্ধতন কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়ে গেল ৭ জুলাই ওই তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (সদর দপ্তর) আব্দুল হান্নান। পুলিশ কর্মকর্তা বরিশালটাইমসকে জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। তারা এক পুলিশ কর্মকর্তার কম্পিউটার আইডি ব্যবহার করে টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ কারণে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে ওই তদন্তের প্রতিবেদন ও প্রমাণ সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিভাগীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
ভুয়া বিল-ভাউচার দেখিয়ে সাড়ে ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের তিন কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এসআই পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তার কম্পিউটার আইডি ব্যবহার করে এই জালিয়াতি করা হয়, মেট্রোপলিটন পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা এই অনিয়ম সম্পর্কে নিশ্চিত হন। দুর্নীতির প্রমাণ প্রাপ্তির পরে কনস্টেবল মারুফ হাসান, কনস্টেবল জয়দেব কুমার মজুমদার এবং কনস্টেবল সজীব মিয়াকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের হিসাব শাখায় তিন কনস্টেবল কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের এক কর্মকর্তা কম্পিউটার আইডি ব্যবহার করে সর্বমোট মাট ১৮ লাখ ৬০ হাজার ৯৮৪ টাকা আত্মসাৎ করেন তিনজন। সম্প্রতি টাকার হিসাব না মিললে ওই কর্মকর্তার সন্দেহ হয়, এরপর টাকা আত্মসাতের সাথে কারা জড়িত তার অনুসন্ধান চালানো হয়। তখন উল্লেখিত তিনজনের নাম প্রকাশ্যে আসে। বিষয়টি উর্ধতন কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়ে গেল ৭ জুলাই ওই তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (সদর দপ্তর) আব্দুল হান্নান। পুলিশ কর্মকর্তা বরিশালটাইমসকে জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। তারা এক পুলিশ কর্মকর্তার কম্পিউটার আইডি ব্যবহার করে টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ কারণে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে ওই তদন্তের প্রতিবেদন ও প্রমাণ সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিভাগীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

০৮ জুলাই, ২০২৬ ১৫:৫২

০৮ জুলাই, ২০২৬ ১৪:২৫
বরিশাল নগরীতে বন্যপ্রাণী শিয়াল হত্যা করে ফেসবুকে মাংস বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের ময়দানখোলা এলাকার একদল ব্যক্তির বিরুদ্ধে এ অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পর স্থানীয় পশুপ্রেমী ও সাধারণ মানুষের মাঝে এ নিয়ে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ, বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের ময়দান খোলা এলাকায় বন্যপ্রাণী শিয়াল হত্যা করে ফেসবুকে মাংস বিক্রির বিজ্ঞাপন দেয় একদল ব্যক্তি। একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি এই বন্যপ্রাণীটি হত্যা করে। পরবর্তীতে ‘নাইম রাজ’ নামের এক ফেসবুক আইডি থেকে জবাই করা শিয়ালের ছবিসহ মাংস বিক্রির একটি বিতর্কিত বিজ্ঞাপন পোস্ট করা হয়। মুহূর্তের মধ্যেই পোস্টটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেন ও পশুপ্রেমী সংগঠনগুলো তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাতে শুরু করে। দেশের প্রচলিত বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন লঙ্ঘন করে এভাবে প্রকাশ্যে বন্যপ্রাণী হত্যা এবং তার মাংস বিক্রির প্রচারণাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় পরিবেশবাদীরা।

০৭ জুলাই, ২০২৬ ১৯:৫৪
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে বাস্তবায়নাধীন একটি সড়কের সংস্কারকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাজ শেষ হওয়ার মাত্র তিন দিনের মাথায় মানুষের হাতের স্পর্শেই সড়কের কার্পেটিং উঠে যেতে শুরু করায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, প্রয়োজনীয় নিয়ম অনুসরণ না করা এবং বৃষ্টির পর কার্পেটিং করার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দা ও এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, আগৈলঝাড়া উপজেলার মাহিলাড়া-আম্বুলা-ছয়গ্রাম-পয়সারহাট সড়কের বাগধা ইউনিয়নের তালবাড়ি এলাকার ৫৪০ মিটার সড়ক সংস্কারের জন্য ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ২৪ লাখ ৫৯ হাজার ৮০০ টাকা ব্যয়ে দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্রের মাধ্যমে বাবুগঞ্জ উপজেলার মীরগঞ্জ এলাকার মো. আসাদুজ্জামানের মালিকানাধীন মেসার্স সরদার ট্রেডিং কাজটি লাভ করে। পরবর্তীতে একই বছরের ১৫ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে স্থানীয়ভাবে কাজটি অন্য একজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে সংশ্লিষ্টরা প্রকৌশলগত নিয়মনীতি যথাযথভাবে অনুসরণ না করেই সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ সম্পন্ন করেন। স্থানীয়দের দাবি, বৃষ্টির পরপরই সড়কে কার্পেটিং করা হয় এবং এ সময় এলাকাবাসী আপত্তি জানালেও তা আমলে নেওয়া হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কাজ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে যেতে শুরু করেছে। কোথাও কোথাও হাত দিয়ে টান দিলেই পিচ ও পাথরের আস্তরণ উঠে আসছে। এতে করে সংস্কারকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কার্পেটিংয়ের আগে রাস্তা যথাযথভাবে পরিষ্কার করা হয়নি। এমনকি কোথাও কোথাও ময়লা ও ধুলাবালির ওপরই কার্পেটিং করা হয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনের তুলনায় কম বিটুমিন ব্যবহারের কারণেও সড়কের স্থায়িত্ব নষ্ট হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জনগণের করের টাকায় উন্নয়নকাজ হলেও সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বহীনতা ও তদারকির অভাবে বারবার নিম্নমানের কাজের শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
ওই সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী ভ্যানচালক আহসান ইসলাম বলেন, সরকার উন্নয়নের জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি ও দায়িত্বহীন কর্মকর্তার কারণে সেই উন্নয়নের সুফল মানুষ পাচ্ছে না। রাস্তার কাজ যদি সঠিকভাবে হতো, তাহলে কয়েক দিনের মধ্যেই এভাবে কার্পেটিং উঠে যেত না।
কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা জাকির মোল্লা বলেন, বৃষ্টির সময় এক গাড়ি মালামাল আনা হয়েছিল। তখন আমি কাজ না করার জন্য বলেছিলাম। কিন্তু প্রকৌশল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কাজ চালিয়ে যেতে বলেন। তাদের নির্দেশেই কাজ শেষ করা হয়েছে। এখন সমস্যা দেখা দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমি কাজ শুরু করিয়ে সেখান থেকে চলে এসেছি। পরে কী হয়েছে তা আমার জানা নেই। যেখানে কার্পেটিং উঠে গেছে, সেখানে পুনরায় কাজ করে সমস্যার কারণ খতিয়ে দেখা হবে।
উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, কাজে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য বরিশাল এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিদর্শনে আসবেন। এখন পর্যন্ত কাজের কোনো বিল পরিশোধ করা হয়নি। অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে এবং ত্রুটি সংশোধন না করা হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে নিম্নমানের কাজ অপসারণ করে নতুন করে মানসম্মত সংস্কারকাজ সম্পন্ন করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে বাস্তবায়নাধীন একটি সড়কের সংস্কারকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাজ শেষ হওয়ার মাত্র তিন দিনের মাথায় মানুষের হাতের স্পর্শেই সড়কের কার্পেটিং উঠে যেতে শুরু করায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, প্রয়োজনীয় নিয়ম অনুসরণ না করা এবং বৃষ্টির পর কার্পেটিং করার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দা ও এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, আগৈলঝাড়া উপজেলার মাহিলাড়া-আম্বুলা-ছয়গ্রাম-পয়সারহাট সড়কের বাগধা ইউনিয়নের তালবাড়ি এলাকার ৫৪০ মিটার সড়ক সংস্কারের জন্য ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ২৪ লাখ ৫৯ হাজার ৮০০ টাকা ব্যয়ে দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্রের মাধ্যমে বাবুগঞ্জ উপজেলার মীরগঞ্জ এলাকার মো. আসাদুজ্জামানের মালিকানাধীন মেসার্স সরদার ট্রেডিং কাজটি লাভ করে। পরবর্তীতে একই বছরের ১৫ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে স্থানীয়ভাবে কাজটি অন্য একজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে সংশ্লিষ্টরা প্রকৌশলগত নিয়মনীতি যথাযথভাবে অনুসরণ না করেই সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ সম্পন্ন করেন। স্থানীয়দের দাবি, বৃষ্টির পরপরই সড়কে কার্পেটিং করা হয় এবং এ সময় এলাকাবাসী আপত্তি জানালেও তা আমলে নেওয়া হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কাজ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে যেতে শুরু করেছে। কোথাও কোথাও হাত দিয়ে টান দিলেই পিচ ও পাথরের আস্তরণ উঠে আসছে। এতে করে সংস্কারকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কার্পেটিংয়ের আগে রাস্তা যথাযথভাবে পরিষ্কার করা হয়নি। এমনকি কোথাও কোথাও ময়লা ও ধুলাবালির ওপরই কার্পেটিং করা হয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনের তুলনায় কম বিটুমিন ব্যবহারের কারণেও সড়কের স্থায়িত্ব নষ্ট হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জনগণের করের টাকায় উন্নয়নকাজ হলেও সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বহীনতা ও তদারকির অভাবে বারবার নিম্নমানের কাজের শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
ওই সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী ভ্যানচালক আহসান ইসলাম বলেন, সরকার উন্নয়নের জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি ও দায়িত্বহীন কর্মকর্তার কারণে সেই উন্নয়নের সুফল মানুষ পাচ্ছে না। রাস্তার কাজ যদি সঠিকভাবে হতো, তাহলে কয়েক দিনের মধ্যেই এভাবে কার্পেটিং উঠে যেত না।
কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা জাকির মোল্লা বলেন, বৃষ্টির সময় এক গাড়ি মালামাল আনা হয়েছিল। তখন আমি কাজ না করার জন্য বলেছিলাম। কিন্তু প্রকৌশল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কাজ চালিয়ে যেতে বলেন। তাদের নির্দেশেই কাজ শেষ করা হয়েছে। এখন সমস্যা দেখা দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমি কাজ শুরু করিয়ে সেখান থেকে চলে এসেছি। পরে কী হয়েছে তা আমার জানা নেই। যেখানে কার্পেটিং উঠে গেছে, সেখানে পুনরায় কাজ করে সমস্যার কারণ খতিয়ে দেখা হবে।
উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, কাজে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য বরিশাল এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিদর্শনে আসবেন। এখন পর্যন্ত কাজের কোনো বিল পরিশোধ করা হয়নি। অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে এবং ত্রুটি সংশোধন না করা হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে নিম্নমানের কাজ অপসারণ করে নতুন করে মানসম্মত সংস্কারকাজ সম্পন্ন করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
বরিশাল নগরীতে বন্যপ্রাণী শিয়াল হত্যা করে ফেসবুকে মাংস বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের ময়দানখোলা এলাকার একদল ব্যক্তির বিরুদ্ধে এ অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পর স্থানীয় পশুপ্রেমী ও সাধারণ মানুষের মাঝে এ নিয়ে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ, বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের ময়দান খোলা এলাকায় বন্যপ্রাণী শিয়াল হত্যা করে ফেসবুকে মাংস বিক্রির বিজ্ঞাপন দেয় একদল ব্যক্তি। একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি এই বন্যপ্রাণীটি হত্যা করে। পরবর্তীতে ‘নাইম রাজ’ নামের এক ফেসবুক আইডি থেকে জবাই করা শিয়ালের ছবিসহ মাংস বিক্রির একটি বিতর্কিত বিজ্ঞাপন পোস্ট করা হয়। মুহূর্তের মধ্যেই পোস্টটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেন ও পশুপ্রেমী সংগঠনগুলো তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাতে শুরু করে। দেশের প্রচলিত বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন লঙ্ঘন করে এভাবে প্রকাশ্যে বন্যপ্রাণী হত্যা এবং তার মাংস বিক্রির প্রচারণাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় পরিবেশবাদীরা।
বরিশাল নগরীর আমিরকুটির এলাকায় রাতের আঁধারে প্রায় শতবর্ষী একটি পুকুর ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে গোপনে চলা এ কার্যক্রম নিয়ে এলাকাজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি ছুটির দিন ও রাতের অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে ধাপে ধাপে পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছে। বাইরে থেকে কেউ যাতে বিষয়টি বুঝতে না পারে সেজন্য চারপাশে বড় পর্দা টাঙিয়ে রাখা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, আমিরকুটির এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ওভি মিয়ার (কাদের মিয়ার বাড়ি) বাড়ির ভেতরে অবস্থিত প্রায় ৩০ শতাংশ আয়তনের একটি বড় পুকুরে বালি ফেলা হচ্ছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, প্রায় একশো বছরের পুরোনো এই পুকুরটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ জলাধার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি ধারণেও ভূমিকা রাখে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রথমদিকে রাতের বেলায় বালি ফেলা শুরু হওয়ায় অনেকেই বিষয়টি বুঝতে পারেননি। কয়েকদিন পর পুকুর ভরাটের বিষয়টি নজরে এলে তারা মালিককে কাজ বন্ধ করার অনুরোধ জানান। কিন্তু সেই অনুরোধ উপেক্ষা করে এখনো ভরাট কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
এ বিষয়ে কথা বলতে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভি মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সরাসরি কথা বলতে রাজি হননি। পরে মুঠোফোনে তিনি দাবি করেন, বরিশাল সিটি করপোরেশনের অনুমতি নিয়েই পুকুরটি ভরাট করছেন।
তবে অভি মিয়ার এই দাবির সঙ্গে একমত নয় বরিশাল সিটি করপোরেশন। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী বলেন, "আমরা তাকে কোনো পুকুর ভরাটের অনুমতি দিইনি। সিটি করপোরেশন এ ধরনের অবৈধ কাজের অনুমোদন দেয় না। কোনো জলাশয় বা পুকুর ভরাট করা সরকারি আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ।"
অন্যদিকে পরিবেশ অধিদপ্তর, বরিশাল জেলার সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দিন বলেন, "আমাদের জনবল সংকট রয়েছে। বর্তমানে একজন নারী পরিদর্শক কর্মরত আছেন। আমি এখনই তাকে নোটিশ পাঠানোর নির্দেশ দিচ্ছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এ বিষয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার বলেন, "আমি নতুন যোগদান করেছি। ঘটনাস্থল সম্পর্কে এখনো অবগত নই। তবে তথ্য দিন, আমি এসিল্যান্ডের মাধ্যমে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভরাট কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেব।"
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়কারী এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) এর পরিচালক মো. রফিকুল আলম বলেন, নগর এলাকায় পুকুর ও জলাশয় ভরাট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।পুকুর ভরাটের ফলে প্রাকৃতিক পানি ধারণক্ষমতা কমে যায়। এতে অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যায় এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এছাড়া নগরীর পরিবেশগত ভারসাম্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমার এলাকায় পুকুর ভরাট বন্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ২০২৩, বিভিন্ন নগর এলাকার মাস্টার প্ল্যান, এবং স্থানীয় সরকার সংস্থার বিধান অনুযায়ী অনুমোদন ছাড়া জলাশয় ভরাট করা বেআইনি। এছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাধার সংরক্ষণ আইন ও সংশ্লিষ্ট আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাকৃতিক জলাশয়, পুকুর ও খাল ভরাট নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। বিশেষ করে আবাসন বা বাণিজ্যিক কাজে জলাশয় ভরাটের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনগত অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ ধরনের কাজ করতে পারে না। প্রয়োজনে প্রশাসন ভরাট কার্যক্রম বন্ধ, জরিমানা, এমনকি অবৈধ ভরাট অপসারণের ব্যবস্থাও নিতে পারে।
এলাকাবাসীর দাবি, শতবর্ষী এই পুকুরটি অবিলম্বে ভরাট কার্যক্রম বন্ধ করে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।’
বরিশাল নগরীর আমিরকুটির এলাকায় রাতের আঁধারে প্রায় শতবর্ষী একটি পুকুর ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে গোপনে চলা এ কার্যক্রম নিয়ে এলাকাজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি ছুটির দিন ও রাতের অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে ধাপে ধাপে পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছে। বাইরে থেকে কেউ যাতে বিষয়টি বুঝতে না পারে সেজন্য চারপাশে বড় পর্দা টাঙিয়ে রাখা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, আমিরকুটির এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ওভি মিয়ার (কাদের মিয়ার বাড়ি) বাড়ির ভেতরে অবস্থিত প্রায় ৩০ শতাংশ আয়তনের একটি বড় পুকুরে বালি ফেলা হচ্ছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, প্রায় একশো বছরের পুরোনো এই পুকুরটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ জলাধার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি ধারণেও ভূমিকা রাখে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রথমদিকে রাতের বেলায় বালি ফেলা শুরু হওয়ায় অনেকেই বিষয়টি বুঝতে পারেননি। কয়েকদিন পর পুকুর ভরাটের বিষয়টি নজরে এলে তারা মালিককে কাজ বন্ধ করার অনুরোধ জানান। কিন্তু সেই অনুরোধ উপেক্ষা করে এখনো ভরাট কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
এ বিষয়ে কথা বলতে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভি মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সরাসরি কথা বলতে রাজি হননি। পরে মুঠোফোনে তিনি দাবি করেন, বরিশাল সিটি করপোরেশনের অনুমতি নিয়েই পুকুরটি ভরাট করছেন।
তবে অভি মিয়ার এই দাবির সঙ্গে একমত নয় বরিশাল সিটি করপোরেশন। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী বলেন, "আমরা তাকে কোনো পুকুর ভরাটের অনুমতি দিইনি। সিটি করপোরেশন এ ধরনের অবৈধ কাজের অনুমোদন দেয় না। কোনো জলাশয় বা পুকুর ভরাট করা সরকারি আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ।"
অন্যদিকে পরিবেশ অধিদপ্তর, বরিশাল জেলার সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দিন বলেন, "আমাদের জনবল সংকট রয়েছে। বর্তমানে একজন নারী পরিদর্শক কর্মরত আছেন। আমি এখনই তাকে নোটিশ পাঠানোর নির্দেশ দিচ্ছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এ বিষয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার বলেন, "আমি নতুন যোগদান করেছি। ঘটনাস্থল সম্পর্কে এখনো অবগত নই। তবে তথ্য দিন, আমি এসিল্যান্ডের মাধ্যমে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভরাট কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেব।"
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়কারী এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) এর পরিচালক মো. রফিকুল আলম বলেন, নগর এলাকায় পুকুর ও জলাশয় ভরাট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।পুকুর ভরাটের ফলে প্রাকৃতিক পানি ধারণক্ষমতা কমে যায়। এতে অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যায় এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এছাড়া নগরীর পরিবেশগত ভারসাম্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমার এলাকায় পুকুর ভরাট বন্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ২০২৩, বিভিন্ন নগর এলাকার মাস্টার প্ল্যান, এবং স্থানীয় সরকার সংস্থার বিধান অনুযায়ী অনুমোদন ছাড়া জলাশয় ভরাট করা বেআইনি। এছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাধার সংরক্ষণ আইন ও সংশ্লিষ্ট আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাকৃতিক জলাশয়, পুকুর ও খাল ভরাট নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। বিশেষ করে আবাসন বা বাণিজ্যিক কাজে জলাশয় ভরাটের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনগত অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ ধরনের কাজ করতে পারে না। প্রয়োজনে প্রশাসন ভরাট কার্যক্রম বন্ধ, জরিমানা, এমনকি অবৈধ ভরাট অপসারণের ব্যবস্থাও নিতে পারে।
এলাকাবাসীর দাবি, শতবর্ষী এই পুকুরটি অবিলম্বে ভরাট কার্যক্রম বন্ধ করে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।’
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১৮:৫০
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১৮:০৬
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১৭:৪২
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১৭:৪১