অবৈধ পদোন্নতির খেসারত হিসাবে প্রতি বছর প্রায় দেড় কোটি টাকা লোকসান দিচ্ছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি)। বিষয়টি ধরা পড়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে তাদের বেতন-ভাতা বন্ধ করা হলেও বাতিল হয়নি পদোন্নতি। বরং আইনি ব্যবস্থায় গিয়ে এ পদোন্নতিকে বৈধ করার পরিকল্পনা করছে তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে অভিযোগ, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রথম দফার পদোন্নতি নিয়ে ইউজিসির নিরীক্ষা আপত্তি ছিল। সেই আপত্তি যথাযথভাবে সমাধান না করে পুনরায় ২০২৪ সালের ৩০ জুন নতুন করে আরও ১৮ জনকে সেকশন অফিসার পদে অবৈধ পদোন্নতি দেওয়া হয়। ফলে দুই দফার পদোন্নতি কার্যক্রমে অর্গানোগ্রামে পদ না থাকা সত্ত্বেও ৬০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এ সময় অবৈধ পদোন্নতি পান-সহকারী পরিচালক (লাইব্রেরি) একজন, সহকারী রেজিস্ট্রার (ডিন অফিস) পাঁচজন, সহকারী রেজিস্ট্রার (পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের অফিস) একজন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে ৪৫ জন, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) পদে একজন। এছাড়া কুকার পদে (রেজিস্ট্রার কার্যালয়) পাঁচজনকে অবৈধ পদোন্নতি দেওয়া হয়। এরপর ২০২৪ সালের ১৯ ও ২০ নভেম্বর ইউজিসির বাজেট পর্যবেক্ষণ দল এ পদোন্নতির আপত্তি জানায়। তখন পর্যবেক্ষণ দল আপত্তি শেষে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুমোদিত অর্গানোগ্রামে পদ না থাকা সত্ত্বে এসব পদে নিয়োগ/পর্যায়োন্নয়ন প্রদান ও বেতন-ভাতা পরিশোধ করায় নিয়মের ব্যত্যয় ও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া উল্লেখ করা হয়-অর্গানোগ্রামবহির্ভূত ও কমিশনের প্রশাসনিক এবং আর্থিক অনুমোদনবিহীন পদে নিয়োগ/পর্যায়োন্নয়ন প্রদান করার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয় ববিকে। পাশাপাশি ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের সংশোধিত এবং ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের মূল বাজেটে এ ৬০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা বরাদ্দ ধরা হয়নি বলে লিখিতভাবে জানায় ইউজিসির পর্যবেক্ষণ দল। যা টাকার অঙ্কে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এরপরও তারা অবৈধ পদোন্নতির বেতন-ভাতা গ্রহণ করছে। তাদের এ অবৈধ পদোন্নতি ধরে রাখতে আইনি পদক্ষেপের কথাও ভাবছেন সুবিধাভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ দুই দফার পদোন্নতি কার্যক্রমে যুক্ত থাকা ববির দুই উপাচার্য দায়িত্ব পালনকালে প্রায় একই সুরে বলেছিলেন শতভাগ নীতিমালা মেলে দীর্ঘদিন আটকে থাকা পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু একাধিক সংশ্লিষ্ট সূত্রে অভিযোগ, উপাচার্যদের চাপে ফেলে এ ৬০ জন তাদের অবৈধ পদোন্নতি বাগিয়ে নিয়েছেন। এই চাপ প্রয়োগের কার্যক্রম বর্তমানেও চলমান রয়েছে বলে দাবি করেছে ববি সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি।
এ বিষয়ে জানতে পদোন্নতিপ্রাপ্তদের একজন আল আমিনকে ফোন করা হলে তিনি ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে আলাপ করার কথা বলে ফোন কেটে দেন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পদোন্নতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি বলেছেন, পুরোনো অর্গানোগ্রামের কারণে বছরের পর বছর তাদের পদোন্নতিতে এত জটিলতা হচ্ছে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে অর্গানোগ্রাম পরিবর্তনের দাবি জানান তারা।
ববির উপপরিচালক (অর্থ ও হিসাব) এএসএম ইকবাল মিঞা বলেন, তাদের নিয়মিত বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলতে পারবেন।
ববির প্রক্টর ড. রাহাত ফয়সাল বলেন, আমি নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। তাই বিস্তারিত বলতে পারছি না।
ববি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে একাধিকবার তার মোবাইল ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে জানতে ইউজিসি অর্থ, হিসাব ও বাজেট বিভাগের পরিচালক রেজাউল করিম হাওলাদারের মোবাইল ফোনে কল দিলে তাকে পাওয়া যায়নি।

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৫৭
বরিশালের হিজলায় মেঘনা নদীতে আক্তার হাওলাদার নামে চল্লিশোর্ধ্ব এক জেলেকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের চরমেমানিয়া এলাকায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে বেলা ১টার দিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত আক্তার হাওলাদার চরমেমানিয়া এলাকার সুলতান হাওলাদারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আক্তার হাওলাদার অন্য জেলেদের সঙ্গে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। এ সময় অন্য একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে আক্তার গুলিবিদ্ধ হন। পরে সঙ্গে থাকা জেলেরা তাকে জীবিত অবস্থায় নদীর তীরে নিয়ে আসেন এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে খবর দেন। মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান জানান, অন্য একটি ট্রলার থেকে গুলি ছোড়ার ঘটনায় আকতার গুলিবিদ্ধ হন বলে তার সঙ্গে থাকা জেলেরা জানিয়েছেন। তবে কারা এবং কী কারণে গুলি ছুড়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ঘটনার সময় নদীতে কোনো বাহিনীর অভিযান চলছিল না। কীভাবে ওই জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, কয়েকজন জেলে তাকে মেঘনা নদীতে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকার খবর দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। জেলেদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছিল। তবে কারা গুলি করেছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি।’
বরিশালের হিজলায় মেঘনা নদীতে আক্তার হাওলাদার নামে চল্লিশোর্ধ্ব এক জেলেকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের চরমেমানিয়া এলাকায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে বেলা ১টার দিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত আক্তার হাওলাদার চরমেমানিয়া এলাকার সুলতান হাওলাদারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আক্তার হাওলাদার অন্য জেলেদের সঙ্গে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। এ সময় অন্য একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে আক্তার গুলিবিদ্ধ হন। পরে সঙ্গে থাকা জেলেরা তাকে জীবিত অবস্থায় নদীর তীরে নিয়ে আসেন এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে খবর দেন। মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান জানান, অন্য একটি ট্রলার থেকে গুলি ছোড়ার ঘটনায় আকতার গুলিবিদ্ধ হন বলে তার সঙ্গে থাকা জেলেরা জানিয়েছেন। তবে কারা এবং কী কারণে গুলি ছুড়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ঘটনার সময় নদীতে কোনো বাহিনীর অভিযান চলছিল না। কীভাবে ওই জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, কয়েকজন জেলে তাকে মেঘনা নদীতে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকার খবর দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। জেলেদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছিল। তবে কারা গুলি করেছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি।’

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৪৬
বরিশাল নগরীর সদর রোডে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় সজল কুমার চক্রবর্তী নামে এক আইনজীবী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে জগন্নাথ মন্দিরের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও নিহতের সহকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, সকালে মন্দির থেকে বের হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল সজলকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ও মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৮টা ৫ মিনিটে সজল কুমার চক্রবর্তীর মৃত্যু হয়।
বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।’
বরিশাল নগরীর সদর রোডে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় সজল কুমার চক্রবর্তী নামে এক আইনজীবী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে জগন্নাথ মন্দিরের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও নিহতের সহকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, সকালে মন্দির থেকে বের হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল সজলকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ও মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৮টা ৫ মিনিটে সজল কুমার চক্রবর্তীর মৃত্যু হয়।
বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।’

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৩৬
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ২০১৫ সালে কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুক্তার হোসেনের অবশিষ্ট জেরা হবে। এর আগে গত ১৮ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।
এ মামলার আসামিরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ এবং উজিরপুর থানার সাবেক দুই সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, হাসানাত আবদুল্লাহ ও এ কে এম এহসানউল্লাহ পলাতক রয়েছেন। অপর দুই আসামি মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় কথিত ক্রসফায়ারে নিহত হন উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, গৌরনদী-গোপালগঞ্জ মহাসড়কের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় সেতুর পশ্চিম পাশে তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তাঁদের হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় অধস্তন পুলিশ সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যায় না।
২০২৬ সালের ২০ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আসামিপক্ষের জেরার মধ্য দিয়ে মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা মামলার অভিযোগের পক্ষে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মাধ্যমে আসামিপক্ষ তদন্তের বিভিন্ন দিক, সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ এবং সাক্ষ্যসংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ পাবে।
আজকের কার্যক্রমে তদন্ত কর্মকর্তার অবশিষ্ট জেরা সম্পন্ন হলে ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগোবে। তবে জেরা শেষে কী সিদ্ধান্ত বা আদেশ দেওয়া হয়েছে, তা আদালতের কার্যক্রমের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ২০১৫ সালে কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুক্তার হোসেনের অবশিষ্ট জেরা হবে। এর আগে গত ১৮ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।
এ মামলার আসামিরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ এবং উজিরপুর থানার সাবেক দুই সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, হাসানাত আবদুল্লাহ ও এ কে এম এহসানউল্লাহ পলাতক রয়েছেন। অপর দুই আসামি মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় কথিত ক্রসফায়ারে নিহত হন উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, গৌরনদী-গোপালগঞ্জ মহাসড়কের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় সেতুর পশ্চিম পাশে তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তাঁদের হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় অধস্তন পুলিশ সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যায় না।
২০২৬ সালের ২০ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আসামিপক্ষের জেরার মধ্য দিয়ে মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা মামলার অভিযোগের পক্ষে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মাধ্যমে আসামিপক্ষ তদন্তের বিভিন্ন দিক, সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ এবং সাক্ষ্যসংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ পাবে।
আজকের কার্যক্রমে তদন্ত কর্মকর্তার অবশিষ্ট জেরা সম্পন্ন হলে ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগোবে। তবে জেরা শেষে কী সিদ্ধান্ত বা আদেশ দেওয়া হয়েছে, তা আদালতের কার্যক্রমের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

৩০ আগস্ট, ২০২৫ ০২:২৫
অবৈধ পদোন্নতির খেসারত হিসাবে প্রতি বছর প্রায় দেড় কোটি টাকা লোকসান দিচ্ছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি)। বিষয়টি ধরা পড়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে তাদের বেতন-ভাতা বন্ধ করা হলেও বাতিল হয়নি পদোন্নতি। বরং আইনি ব্যবস্থায় গিয়ে এ পদোন্নতিকে বৈধ করার পরিকল্পনা করছে তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে অভিযোগ, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রথম দফার পদোন্নতি নিয়ে ইউজিসির নিরীক্ষা আপত্তি ছিল। সেই আপত্তি যথাযথভাবে সমাধান না করে পুনরায় ২০২৪ সালের ৩০ জুন নতুন করে আরও ১৮ জনকে সেকশন অফিসার পদে অবৈধ পদোন্নতি দেওয়া হয়। ফলে দুই দফার পদোন্নতি কার্যক্রমে অর্গানোগ্রামে পদ না থাকা সত্ত্বেও ৬০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এ সময় অবৈধ পদোন্নতি পান-সহকারী পরিচালক (লাইব্রেরি) একজন, সহকারী রেজিস্ট্রার (ডিন অফিস) পাঁচজন, সহকারী রেজিস্ট্রার (পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের অফিস) একজন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে ৪৫ জন, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) পদে একজন। এছাড়া কুকার পদে (রেজিস্ট্রার কার্যালয়) পাঁচজনকে অবৈধ পদোন্নতি দেওয়া হয়। এরপর ২০২৪ সালের ১৯ ও ২০ নভেম্বর ইউজিসির বাজেট পর্যবেক্ষণ দল এ পদোন্নতির আপত্তি জানায়। তখন পর্যবেক্ষণ দল আপত্তি শেষে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুমোদিত অর্গানোগ্রামে পদ না থাকা সত্ত্বে এসব পদে নিয়োগ/পর্যায়োন্নয়ন প্রদান ও বেতন-ভাতা পরিশোধ করায় নিয়মের ব্যত্যয় ও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া উল্লেখ করা হয়-অর্গানোগ্রামবহির্ভূত ও কমিশনের প্রশাসনিক এবং আর্থিক অনুমোদনবিহীন পদে নিয়োগ/পর্যায়োন্নয়ন প্রদান করার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয় ববিকে। পাশাপাশি ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের সংশোধিত এবং ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের মূল বাজেটে এ ৬০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা বরাদ্দ ধরা হয়নি বলে লিখিতভাবে জানায় ইউজিসির পর্যবেক্ষণ দল। যা টাকার অঙ্কে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এরপরও তারা অবৈধ পদোন্নতির বেতন-ভাতা গ্রহণ করছে। তাদের এ অবৈধ পদোন্নতি ধরে রাখতে আইনি পদক্ষেপের কথাও ভাবছেন সুবিধাভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ দুই দফার পদোন্নতি কার্যক্রমে যুক্ত থাকা ববির দুই উপাচার্য দায়িত্ব পালনকালে প্রায় একই সুরে বলেছিলেন শতভাগ নীতিমালা মেলে দীর্ঘদিন আটকে থাকা পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু একাধিক সংশ্লিষ্ট সূত্রে অভিযোগ, উপাচার্যদের চাপে ফেলে এ ৬০ জন তাদের অবৈধ পদোন্নতি বাগিয়ে নিয়েছেন। এই চাপ প্রয়োগের কার্যক্রম বর্তমানেও চলমান রয়েছে বলে দাবি করেছে ববি সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি।
এ বিষয়ে জানতে পদোন্নতিপ্রাপ্তদের একজন আল আমিনকে ফোন করা হলে তিনি ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে আলাপ করার কথা বলে ফোন কেটে দেন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পদোন্নতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি বলেছেন, পুরোনো অর্গানোগ্রামের কারণে বছরের পর বছর তাদের পদোন্নতিতে এত জটিলতা হচ্ছে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে অর্গানোগ্রাম পরিবর্তনের দাবি জানান তারা।
ববির উপপরিচালক (অর্থ ও হিসাব) এএসএম ইকবাল মিঞা বলেন, তাদের নিয়মিত বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলতে পারবেন।
ববির প্রক্টর ড. রাহাত ফয়সাল বলেন, আমি নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। তাই বিস্তারিত বলতে পারছি না।
ববি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে একাধিকবার তার মোবাইল ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে জানতে ইউজিসি অর্থ, হিসাব ও বাজেট বিভাগের পরিচালক রেজাউল করিম হাওলাদারের মোবাইল ফোনে কল দিলে তাকে পাওয়া যায়নি।