বরিশালে অসদাচরণের অভিযোগে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সচিব বরাবর ১২ আইনজীবীর সনদ বাতিলের আবেদন করেছেন বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জহির উদ্দিন। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) তিনি এই আবেদন করেন।
এদিকে বরিশালে আইনজীবীরা আদালত বর্জন করলেও বিচার কার্যক্রম সচল রেখেছে আদালত কর্তৃপক্ষ। আজ বৃহস্পতিবার বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ৪৫টি কোর্টে বিচারকাজ সচল ছিল।
বিচারপ্রত্যাশী কম থাকলেও বেশ কয়েকটি কোর্টে বাদী-বিবাদীরা নিজেদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে জামিন নিয়েছেন।
বরিশাল অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এজলাসে ঢুকে হামলার অভিযোগে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সরকারি কৌঁসুলিসহ ২০ আইনজীবীর বিরুদ্ধে বুধবার মামলা করা হয়। এ ঘটনায় জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনকে আটক করে পুলিশ। তিনি বর্তমানে কারান্তরীণ রয়েছেন।
এরপর সভাপতির মুক্তি দাবি, মামলা প্রত্যাহার ও সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারককে প্রত্যাহারসহ কয়েকটি দাবিতে বৃহস্পতিবার আদালত বর্জন করেন আইনজীবীরা। জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ৪৫ কোর্টের কোনোটিতে আইনজীবীরা যাননি। তবে বিচারপ্রত্যাশীরা আসার কারণে বেশ কয়েকটি কোর্টের কার্যক্রম চলমান ছিল। যার মধ্যে সিএসএম আদালতের ৫টি কোর্ট, ১১টি ট্রাইব্যুনাল ও ১২টি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত উল্লেখযোগ্য।
তবে জজ কোর্টের ১৭টি কোর্টে বিচারপ্রত্যাশী কম থাকায় সেখানে কার্যক্রম তেমন একটা ছিল না। সিএমএম কোর্টের নাজির কামরুল ইসলাম জানান, বিচারপ্রত্যাশীরা আসার কারণে কোর্ট চলমান রয়েছে। আইনজীবীরা না এলেও মামলার বাদী-বিবাদীদের নিজেদের পক্ষে যুক্তি তুলে দেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছেন বিচারকরা। এতেই মিলছে জামিন। সিএমএম, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও ট্রাইব্যুনালের তালিকাভুক্ত ৫৭ মামলার মধ্যে ৪০টিরই শুনানি হয়েছে।
তবে এর মধ্যে সিএমএম কোর্টের ২৭ মামলার মধ্যে ২০টির শুনানি হয়। যার মধ্যে ৪টিতে জামিনও দেওয়া হয়। বরিশাল নগরীর কাশিপুরের বাসিন্দা সরোয়ার হোসেন বলেন, বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আমার বিরুদ্ধে একটি মামলা ছিল। আমার পক্ষে আইনজীবী থাকলেও গতকাল আদালত বর্জন করার কারণে আইনজীবী আসেননি। তবে আমি নিজের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে আদালতে জামিন পেয়েছি।
মো. হারুন অর রশীদ নামের অপর এক বিচারপ্রত্যাশী জানান, নিজের জামিনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে জামিন পেয়েছেন। যদিও জামিনের বিরোধিতা করেছিলেন মামলার বাদী নেপাল দেবনাথ।
আদালতে তাদের পক্ষে আইনজীবী না থাকায় নিজেরাই বিচারকের নির্দেশে আইনজীবীর ভূমিকা পালন করেন। বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বৃহস্পতিবার আইনজীবী না থাকলেও এই দুজনের জামিন হয়।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস গত সোমবার বরিশালের অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন।
তাকে জামিন দেওয়ার প্রতিবাদে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা মঙ্গলবার আদালত বর্জন ও বিক্ষোভ করেন। দুপুর ২টার দিকে তারা অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এজলাসে ঢুকে হট্টগোল করে বিচার কার্যক্রম বন্ধ করে। এর নেতৃত্ব দেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকন। সন্ধ্যার পর এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের বিপুলসংখ্যক সদস্য বুধবার দুপুর ১২টায় আদালতপাড়ায় প্রবেশ করেন। তারা সরাসরি আইনজীবী সমিতির ভবনের দোতলায় সভাপতি লিংকনের কক্ষে যান। তাকে আটক করে অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। বিচারক তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
ওইদিনই জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সরকারি কৌঁসুলিসহ ২০ জনকে আসামি করে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার। এরপর বৃহস্পতিবার অসদাচরণের অভিযোগ এনে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সচিব বরাবর ১২ আইনজীবীর সনদ বাতিলের আবেদন করেছেন বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জহির উদ্দিন।
ওই ১২ আইনজীবীর মধ্যে রয়েছেন বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাদিকুর রহমান লিংকন, সাধারণ সম্পাদক মির্জা রিয়াজুল ইসলাম, বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি আবুল কালাম আজাদ, মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক নাজিমউদ্দিন পান্না, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মহসিন মন্টু, মিজানুর রহমান, আব্দুল মালেক, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের এপিপি সাঈদ চৌধুরী, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এপিপি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বাবলু, মহানগর দায়রা জজ আদালতের এপিপি ও বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি তারেক আল ইমরান, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্যসচিব আবুল কালাম আজাদ ইমন এবং বসিরউদ্দিন সবুজ।

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০৩
পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনার অবকাঠামোগত সক্ষমতা আরো বাড়াতে, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) বন্দর থানা ভবন (মেট্রো টাইপ-১) নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বন্দর থানা ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মঞ্জুর, এমপি।
এ সময় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্সহ বরিশাল পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এবং বিএমপি কমিশনার বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা থানার সার্বিক কার্যক্রম ও বিদ্যমান অবকাঠামোগত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
নতুন থানা ভবন নির্মাণের মাধ্যমে বন্দর থানার প্রশাসনিক কার্যক্রম বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:০৯
বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর। তিনি বলেন, ‘অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে।’
আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল নগরের বন্দর থানা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্সে আছি। বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো কাজে যাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধেও সরকারের অবস্থান কঠোর।’
মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইতোমধ্যে পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলায় সভা হয়েছে জানিয়ে আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সভা করা হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
পরে প্রতিমন্ত্রী বরিশাল বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।’

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:২৫
বরিশালের উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তার সরকারি উন্নয়ন কাজের তদারকিতে গাফেলতিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত ও বিচারের দাবিতে উজিরপুর উপজেলার ধামুরা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রব হাওলাদারের ছেলে মো. মাছুম হাওলাদার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এ লিখিত আভিযোগ দিয়েছেন।
এতে তিনি আভিযোগ করেন উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় উজিরপুরে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থেকে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি সংক্রান্ত অপকর্মের সাথে জড়িত হয়ে পড়েছেন। তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারসহ বিভিন্ন কাজে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজসে সরকারের অর্থের অপচয়সহ নানা দুর্নীতি মূলক কর্মকান্ডের সাথে লিপ্ত রয়েছেন। যা তদন্ত করলেই প্রমান মিলবে। ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার সেগুন বাগিচাস্থ দুদকের প্রধান কর্য্যলয়ে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগটি করা হয়।
অভিযোগকারী মাছুম হাওলাদার বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দাপটের সাথে চাকুরি করা সুব্রত রায় তার তদারকিতে থাকা বিভিন্ন সড়ক, ব্রিজ ও কালর্ভাট নির্মাণে ঠিকাদারদের ব্যাপক অনিয়মকে অর্থের বিনিময়ে সহয়াতা করেন ।
বর্তমান সরকারের আমলেও তিনি উজিরপুরে একই ভাবে চাকুরি করছেন। তার কারনে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হচ্ছে। যা দুর্নীতির শামিল। উপজেলার ধামুরা এলাকার বেশ কয়েকটি ব্রিজের পুরাতন মালপত্র নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তার তদারকিতে থাকা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এসব অভিযোগ সত্য নয়, ভিত্তিহীন দাবি করে উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেন, উপজেলার ধামুরা এলাকায়।নির্মিত একটি ব্রিজের সম্প্রতি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে গেলে কিছু সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে মাছুম হাওলাদার কাজে বাধা দেন। কাগজপত্রে দেখা যায় ওটা খাস সম্পত্তি।
তারপরেও বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই অংশের কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়। ব্রিজের সংযোগ সড়কের এ সম্পত্তি নিয়ে ক্ষিপ্ত মাছুম হাওলাদার তাকে হয়রাণি ও তার পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুদকে এ অভিযোগ দিয়েছেন।’

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৯:১৮
বরিশালে অসদাচরণের অভিযোগে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সচিব বরাবর ১২ আইনজীবীর সনদ বাতিলের আবেদন করেছেন বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জহির উদ্দিন। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) তিনি এই আবেদন করেন।
এদিকে বরিশালে আইনজীবীরা আদালত বর্জন করলেও বিচার কার্যক্রম সচল রেখেছে আদালত কর্তৃপক্ষ। আজ বৃহস্পতিবার বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ৪৫টি কোর্টে বিচারকাজ সচল ছিল।
বিচারপ্রত্যাশী কম থাকলেও বেশ কয়েকটি কোর্টে বাদী-বিবাদীরা নিজেদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে জামিন নিয়েছেন।
বরিশাল অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এজলাসে ঢুকে হামলার অভিযোগে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সরকারি কৌঁসুলিসহ ২০ আইনজীবীর বিরুদ্ধে বুধবার মামলা করা হয়। এ ঘটনায় জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনকে আটক করে পুলিশ। তিনি বর্তমানে কারান্তরীণ রয়েছেন।
এরপর সভাপতির মুক্তি দাবি, মামলা প্রত্যাহার ও সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারককে প্রত্যাহারসহ কয়েকটি দাবিতে বৃহস্পতিবার আদালত বর্জন করেন আইনজীবীরা। জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ৪৫ কোর্টের কোনোটিতে আইনজীবীরা যাননি। তবে বিচারপ্রত্যাশীরা আসার কারণে বেশ কয়েকটি কোর্টের কার্যক্রম চলমান ছিল। যার মধ্যে সিএসএম আদালতের ৫টি কোর্ট, ১১টি ট্রাইব্যুনাল ও ১২টি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত উল্লেখযোগ্য।
তবে জজ কোর্টের ১৭টি কোর্টে বিচারপ্রত্যাশী কম থাকায় সেখানে কার্যক্রম তেমন একটা ছিল না। সিএমএম কোর্টের নাজির কামরুল ইসলাম জানান, বিচারপ্রত্যাশীরা আসার কারণে কোর্ট চলমান রয়েছে। আইনজীবীরা না এলেও মামলার বাদী-বিবাদীদের নিজেদের পক্ষে যুক্তি তুলে দেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছেন বিচারকরা। এতেই মিলছে জামিন। সিএমএম, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও ট্রাইব্যুনালের তালিকাভুক্ত ৫৭ মামলার মধ্যে ৪০টিরই শুনানি হয়েছে।
তবে এর মধ্যে সিএমএম কোর্টের ২৭ মামলার মধ্যে ২০টির শুনানি হয়। যার মধ্যে ৪টিতে জামিনও দেওয়া হয়। বরিশাল নগরীর কাশিপুরের বাসিন্দা সরোয়ার হোসেন বলেন, বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আমার বিরুদ্ধে একটি মামলা ছিল। আমার পক্ষে আইনজীবী থাকলেও গতকাল আদালত বর্জন করার কারণে আইনজীবী আসেননি। তবে আমি নিজের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে আদালতে জামিন পেয়েছি।
মো. হারুন অর রশীদ নামের অপর এক বিচারপ্রত্যাশী জানান, নিজের জামিনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে জামিন পেয়েছেন। যদিও জামিনের বিরোধিতা করেছিলেন মামলার বাদী নেপাল দেবনাথ।
আদালতে তাদের পক্ষে আইনজীবী না থাকায় নিজেরাই বিচারকের নির্দেশে আইনজীবীর ভূমিকা পালন করেন। বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বৃহস্পতিবার আইনজীবী না থাকলেও এই দুজনের জামিন হয়।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস গত সোমবার বরিশালের অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন।
তাকে জামিন দেওয়ার প্রতিবাদে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা মঙ্গলবার আদালত বর্জন ও বিক্ষোভ করেন। দুপুর ২টার দিকে তারা অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এজলাসে ঢুকে হট্টগোল করে বিচার কার্যক্রম বন্ধ করে। এর নেতৃত্ব দেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকন। সন্ধ্যার পর এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের বিপুলসংখ্যক সদস্য বুধবার দুপুর ১২টায় আদালতপাড়ায় প্রবেশ করেন। তারা সরাসরি আইনজীবী সমিতির ভবনের দোতলায় সভাপতি লিংকনের কক্ষে যান। তাকে আটক করে অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। বিচারক তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
ওইদিনই জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সরকারি কৌঁসুলিসহ ২০ জনকে আসামি করে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার। এরপর বৃহস্পতিবার অসদাচরণের অভিযোগ এনে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সচিব বরাবর ১২ আইনজীবীর সনদ বাতিলের আবেদন করেছেন বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জহির উদ্দিন।
ওই ১২ আইনজীবীর মধ্যে রয়েছেন বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাদিকুর রহমান লিংকন, সাধারণ সম্পাদক মির্জা রিয়াজুল ইসলাম, বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি আবুল কালাম আজাদ, মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক নাজিমউদ্দিন পান্না, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মহসিন মন্টু, মিজানুর রহমান, আব্দুল মালেক, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের এপিপি সাঈদ চৌধুরী, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এপিপি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বাবলু, মহানগর দায়রা জজ আদালতের এপিপি ও বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি তারেক আল ইমরান, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্যসচিব আবুল কালাম আজাদ ইমন এবং বসিরউদ্দিন সবুজ।
পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনার অবকাঠামোগত সক্ষমতা আরো বাড়াতে, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) বন্দর থানা ভবন (মেট্রো টাইপ-১) নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বন্দর থানা ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মঞ্জুর, এমপি।
এ সময় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্সহ বরিশাল পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এবং বিএমপি কমিশনার বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা থানার সার্বিক কার্যক্রম ও বিদ্যমান অবকাঠামোগত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
নতুন থানা ভবন নির্মাণের মাধ্যমে বন্দর থানার প্রশাসনিক কার্যক্রম বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর। তিনি বলেন, ‘অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে।’
আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল নগরের বন্দর থানা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্সে আছি। বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো কাজে যাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধেও সরকারের অবস্থান কঠোর।’
মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইতোমধ্যে পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলায় সভা হয়েছে জানিয়ে আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সভা করা হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
পরে প্রতিমন্ত্রী বরিশাল বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।’
বরিশালের উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তার সরকারি উন্নয়ন কাজের তদারকিতে গাফেলতিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত ও বিচারের দাবিতে উজিরপুর উপজেলার ধামুরা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রব হাওলাদারের ছেলে মো. মাছুম হাওলাদার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এ লিখিত আভিযোগ দিয়েছেন।
এতে তিনি আভিযোগ করেন উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় উজিরপুরে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থেকে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি সংক্রান্ত অপকর্মের সাথে জড়িত হয়ে পড়েছেন। তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারসহ বিভিন্ন কাজে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজসে সরকারের অর্থের অপচয়সহ নানা দুর্নীতি মূলক কর্মকান্ডের সাথে লিপ্ত রয়েছেন। যা তদন্ত করলেই প্রমান মিলবে। ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার সেগুন বাগিচাস্থ দুদকের প্রধান কর্য্যলয়ে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগটি করা হয়।
অভিযোগকারী মাছুম হাওলাদার বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দাপটের সাথে চাকুরি করা সুব্রত রায় তার তদারকিতে থাকা বিভিন্ন সড়ক, ব্রিজ ও কালর্ভাট নির্মাণে ঠিকাদারদের ব্যাপক অনিয়মকে অর্থের বিনিময়ে সহয়াতা করেন ।
বর্তমান সরকারের আমলেও তিনি উজিরপুরে একই ভাবে চাকুরি করছেন। তার কারনে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হচ্ছে। যা দুর্নীতির শামিল। উপজেলার ধামুরা এলাকার বেশ কয়েকটি ব্রিজের পুরাতন মালপত্র নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তার তদারকিতে থাকা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এসব অভিযোগ সত্য নয়, ভিত্তিহীন দাবি করে উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেন, উপজেলার ধামুরা এলাকায়।নির্মিত একটি ব্রিজের সম্প্রতি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে গেলে কিছু সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে মাছুম হাওলাদার কাজে বাধা দেন। কাগজপত্রে দেখা যায় ওটা খাস সম্পত্তি।
তারপরেও বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই অংশের কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়। ব্রিজের সংযোগ সড়কের এ সম্পত্তি নিয়ে ক্ষিপ্ত মাছুম হাওলাদার তাকে হয়রাণি ও তার পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুদকে এ অভিযোগ দিয়েছেন।’
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৫৮
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৩৬
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:৫২
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:২১