বরিশাল মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিস্কৃত সহ-সম্পাদক লিটন সিকদার ওরফে লিটু হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত রিয়াজ মাহমুদ খান মিল্টনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। তিনি একই কমিটির যুগ্ম সম্পাদক বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বুধবার বরিশাল মেট্রোপলিটন গোয়েন্দাপুলিশের পরিদর্শক মো. ছগির হোসেনের নেতৃত্বে একটি টিম শহরের কাউনিয়া বাগানবাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
গোয়েন্দাপুলিশ জানিয়েছে, বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর বিল্লবাড়ি এলাকার বাসিন্দা লিটন সিকদার ওরফে লিটু হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মিল্টন খান। নিহত লিটুর বোন মুন্নি আক্তার গত ১ আগস্ট স্বামী জাকির গাজী এবং ভাইয়ের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মিল্টন খানসহ ৪০ জনকে অভিযুক্ত করে সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা করেন। মামলার আগে এবং পরে পুলিশ ঘটনায় জড়িত ৫জনকে গ্রেপ্তার করে। সবশেষ বুধবার বিকেলে আলোচিত মিল্টন খানকে গ্রেপ্তার করা হলো।
বিভিন্ন মাধ্যম নিশ্চিত করে, নিহত লিটু এক সময়ে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মিল্টন খানের অনুসারী ছিলেন। একাধিক মামলার আসামি লিটন ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরে এলাকায় একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সংঘটিত করেন। এনিয়ে তাদের দুজনের মধ্যে সম্পর্কের অবনতিও ঘটে। এরই মধ্যে জুলাই মাসের শেষের দিকে প্রকাশ্যে আসে লিটনের বোনের স্বামী জাকির গাজীর দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় বিয়ে করার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসলে জাকিরকে তার স্ত্রী মুন্নি আক্তার এবং ভাই লিটু ঘরে আটকে নির্যাতন করেন। এই খবর পেয়ে গত ২৭ জুলাই মিল্টন অনুসারীদের সহযোগিতায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর থানায় জকির গাজী স্ত্রী মুন্নি আক্তার এবং শ্যালক লিটুর বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে একই দিনে জাকির গাজীর বিরুদ্ধেও বিমানবন্দর থানায় যৌতুক দাবিসহ মারধরের অভিযোগে মামলা করেন মুন্নি বেগম।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, পাল্টা-পাল্টি মামলাকে কেন্দ্র করে বিল্লবাড়িতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এবং স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা লিটুর শাস্তির দাবি করে বোন জামাই জাকিরের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিলও হয়। মাঠপর্যায়ে লিটুর শাস্তির দাবিতে জাকিরসহ গুটিয়েক লোকজন সোচ্চার থাকলেও নেপথ্যে থেকে তাদের পরিচালনা করার অভিযোগ ওঠে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মিল্টনের বিরুদ্ধে।
গত বৃহস্পতিবার আদালত থেকে মামলায় জামিন নিয়ে এলাকায় প্রবেশ করলে লিটুর বাসভবনে হামলা-ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি তাকেসহ অন্তত ৫/৬জনকে কুপিয়ে জখম করা হয়। এতে ঘটনাস্থলে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা লিটু মৃত্যুবরণ করেন। এই হত্যাকান্ডে সময় একাধিক ব্যক্তিকে লিটুর শত্রু মিল্টনের সাথে মুঠোফোনে কথা বলতে শোনা যায়। এবং ভুক্তোভোগী পরিবারের পক্ষ থেকেও অভিযোগ করা হচ্ছিল, হত্যাকান্ডের মাস্টারমাইন্ড খোদ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মিল্টন।
একদিন বাদে শুক্রবার এই ঘটনায় স্বামী জাকির গাজীসহ ৪০ জনকে অভিযুক্ত করে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা করেন মুন্নি বেগম। সেই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত রিয়াজ খান মিল্টনকে বুধবার বিকেলে গ্রেপ্তার করল গোয়েন্দাপুলিশ। তবে লিটু হত্যাকান্ডের মাস্টারমাইন্ড এই মিল্টনই কী না তা নিয়ে আগেভাগে মন্তব্য করতে চাইছে না পুলিশ।
এক্ষেত্রে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মো. রিয়াজ হোসেনের ভাষ্য হচ্ছে, ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ থাকতে পারে, কিন্তু তদন্তের আগে নিশ্চিত কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না। প্রয়োজন হলে এই অভিযুক্তকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা।’

০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:২১
বরিশাল-ভোলা আঞ্চলিক সড়কের পাশের একটি ডোবা থেকে জনৈক বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে সংশ্লিষ্ট বরিশাল মেট্রোপলিটন বন্দর থানা পুলিশের একটি টিম মরদেহটি উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য শেবাচিম হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।
পুলিশ জানিয়েছে, লাশটি সকালে ডোবার পানিতে ভাসতে দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশের একটি টিম গিয়ে বস্ত্রহীন লাশটি উদ্ধার করে।
ধারনা করা হচ্ছে, বৃদ্ধের বয়স ৭০ বছরের বেশি হবে। তবে তার মৃত্যুর কারণ কি এবং লাশটির পরিচয় কি তা তাৎক্ষণিক নিশ্চিত হতে পারছে না পুলিশ।
সোমবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে বন্দর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন বরিশালটাইমসকে জানান, বৃদ্ধের পরিচয় এবং মৃত্যুর কারণ শনাক্ত করতে কাজ করা হচ্ছে। মরদেহের একাধিক স্থানে ক্ষত লক্ষ্য করা গেছে, লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করার প্রস্তুতি চলছে।’
বরিশাল-ভোলা আঞ্চলিক সড়কের পাশের একটি ডোবা থেকে জনৈক বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে সংশ্লিষ্ট বরিশাল মেট্রোপলিটন বন্দর থানা পুলিশের একটি টিম মরদেহটি উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য শেবাচিম হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।
পুলিশ জানিয়েছে, লাশটি সকালে ডোবার পানিতে ভাসতে দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশের একটি টিম গিয়ে বস্ত্রহীন লাশটি উদ্ধার করে।
ধারনা করা হচ্ছে, বৃদ্ধের বয়স ৭০ বছরের বেশি হবে। তবে তার মৃত্যুর কারণ কি এবং লাশটির পরিচয় কি তা তাৎক্ষণিক নিশ্চিত হতে পারছে না পুলিশ।
সোমবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে বন্দর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন বরিশালটাইমসকে জানান, বৃদ্ধের পরিচয় এবং মৃত্যুর কারণ শনাক্ত করতে কাজ করা হচ্ছে। মরদেহের একাধিক স্থানে ক্ষত লক্ষ্য করা গেছে, লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করার প্রস্তুতি চলছে।’

০৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:২১
বরিশাল নগরীর বাজারব্যবস্থায় অনিয়মের লাগাম টানতে ফের মাঠে নেমেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান ও প্রতিষ্ঠানে পরিচালিত তদারকি অভিযানে নানা অনিয়মের প্রমাণ মেলায় ৯ প্রতিষ্ঠানকে মোট ২৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর স্টিমার ঘাট, স্বরোড, নবগ্রাম রোড ও চৌমাথা এলাকায় একযোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযান চলাকালে বাজারের নিত্যদিনের কেনাবেচার অন্তরালে থাকা নানা অসংগতি খতিয়ে দেখেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। বিশেষ করে ফল, গ্যাস, ডিমসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের দোকান ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পণ্যের বিক্রয়ব্যবস্থা, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং ভোক্তা-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হয়।
এ সময় ছয়টি ফলের দোকান, একটি রেস্টুরেন্ট, একটি ওষুধের দোকান এবং একটি মুদি দোকানে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম শনাক্ত হয়। এসব অনিয়মের দায়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং সম্মিলিতভাবে ২৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বরিশাল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সুমি রানী মিত্র এবং বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইন্দ্রানী দাস।
অভিযান শেষে অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, বাজারে ভোক্তার অধিকার ও ব্যবসায়িক শৃঙ্খলার মধ্যে যে ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করতেই এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ভোক্তার স্বার্থকে উপেক্ষা করে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলেও জানান তারা।
তাদের ভাষ্য, বাজারে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করে পণ্য বিক্রির আহ্বান জানানো হয়েছে।
বরিশাল নগরীর বাজারব্যবস্থায় অনিয়মের লাগাম টানতে ফের মাঠে নেমেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান ও প্রতিষ্ঠানে পরিচালিত তদারকি অভিযানে নানা অনিয়মের প্রমাণ মেলায় ৯ প্রতিষ্ঠানকে মোট ২৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর স্টিমার ঘাট, স্বরোড, নবগ্রাম রোড ও চৌমাথা এলাকায় একযোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযান চলাকালে বাজারের নিত্যদিনের কেনাবেচার অন্তরালে থাকা নানা অসংগতি খতিয়ে দেখেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। বিশেষ করে ফল, গ্যাস, ডিমসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের দোকান ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পণ্যের বিক্রয়ব্যবস্থা, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং ভোক্তা-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হয়।
এ সময় ছয়টি ফলের দোকান, একটি রেস্টুরেন্ট, একটি ওষুধের দোকান এবং একটি মুদি দোকানে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম শনাক্ত হয়। এসব অনিয়মের দায়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং সম্মিলিতভাবে ২৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বরিশাল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সুমি রানী মিত্র এবং বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইন্দ্রানী দাস।
অভিযান শেষে অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, বাজারে ভোক্তার অধিকার ও ব্যবসায়িক শৃঙ্খলার মধ্যে যে ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করতেই এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ভোক্তার স্বার্থকে উপেক্ষা করে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলেও জানান তারা।
তাদের ভাষ্য, বাজারে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করে পণ্য বিক্রির আহ্বান জানানো হয়েছে।

০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:৩৯
বরিশাল নগরের রসুলপুর বরফকল এলাকায় পিকআপ ভ্যানে তৈরি করা হয়েছিল গোপন চেম্বার। সেই চেম্বারেই লুকিয়ে আনা হচ্ছিল বিপুল পরিমাণ গাঁজা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ৯০ কেজি গাঁজা। আটক করা হয়েছে রাহুল হাওলাদার নামে এক যুবককে।
শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে রাত দেড়টা পর্যন্ত নগরের কোতোয়ালি মডেল থানার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলপুর বরফকল এলাকায় অভিযান চালায় ডিএনসির বরিশাল বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের একটি দল।
ডিএনসি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পিকআপ ভ্যানটিতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ভ্যানটির পাশে থাকা তিনজন পালানোর চেষ্টা করেন। ধাওয়া দিয়ে রাহুল হাওলাদারকে আটক করা সম্ভব হলেও পালিয়ে যান আরও দুজন।
পরে পিকআপের পেছনের ঢালাইয়ের ভেতরে বিশেষভাবে তৈরি গোপন চেম্বারের সন্ধান পান ডিএনসি সদস্যরা। চেম্বার খুলতেই বেরিয়ে আসে স্কচটেপে মোড়ানো ৩০টি পলিথিনের পোটলা। প্রতিটি পোটলায় ছিল তিন কেজি করে গাঁজা। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা হয় ৯০ কেজি গাঁজা।
এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যান এবং চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদনের একটি কপিও জব্দ করা হয়।
আটক রাহুল হাওলাদার নগরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কলাপট্টি এলাকার বাসিন্দা। পলাতক দুজন হলেন মো. সিরাজ মিয়া (৩৭) এবং মো. পলাশ হাওলাদার (৪২)।
বরিশাল ডিএনসির বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ খোরশিদ আলম বলেন, “গাঁজা পরিবহনের জন্য পিকআপটির পেছনে বিশেষ কায়দায় গোপন চেম্বার তৈরি করা হয়েছিল। পলাতক দুজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে ডিএনসি।
বরিশাল নগরের রসুলপুর বরফকল এলাকায় পিকআপ ভ্যানে তৈরি করা হয়েছিল গোপন চেম্বার। সেই চেম্বারেই লুকিয়ে আনা হচ্ছিল বিপুল পরিমাণ গাঁজা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ৯০ কেজি গাঁজা। আটক করা হয়েছে রাহুল হাওলাদার নামে এক যুবককে।
শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে রাত দেড়টা পর্যন্ত নগরের কোতোয়ালি মডেল থানার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলপুর বরফকল এলাকায় অভিযান চালায় ডিএনসির বরিশাল বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের একটি দল।
ডিএনসি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পিকআপ ভ্যানটিতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ভ্যানটির পাশে থাকা তিনজন পালানোর চেষ্টা করেন। ধাওয়া দিয়ে রাহুল হাওলাদারকে আটক করা সম্ভব হলেও পালিয়ে যান আরও দুজন।
পরে পিকআপের পেছনের ঢালাইয়ের ভেতরে বিশেষভাবে তৈরি গোপন চেম্বারের সন্ধান পান ডিএনসি সদস্যরা। চেম্বার খুলতেই বেরিয়ে আসে স্কচটেপে মোড়ানো ৩০টি পলিথিনের পোটলা। প্রতিটি পোটলায় ছিল তিন কেজি করে গাঁজা। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা হয় ৯০ কেজি গাঁজা।
এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যান এবং চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদনের একটি কপিও জব্দ করা হয়।
আটক রাহুল হাওলাদার নগরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কলাপট্টি এলাকার বাসিন্দা। পলাতক দুজন হলেন মো. সিরাজ মিয়া (৩৭) এবং মো. পলাশ হাওলাদার (৪২)।
বরিশাল ডিএনসির বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ খোরশিদ আলম বলেন, “গাঁজা পরিবহনের জন্য পিকআপটির পেছনে বিশেষ কায়দায় গোপন চেম্বার তৈরি করা হয়েছিল। পলাতক দুজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে ডিএনসি।

০৬ আগস্ট, ২০২৫ ১৭:৫১
বরিশাল মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিস্কৃত সহ-সম্পাদক লিটন সিকদার ওরফে লিটু হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত রিয়াজ মাহমুদ খান মিল্টনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। তিনি একই কমিটির যুগ্ম সম্পাদক বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বুধবার বরিশাল মেট্রোপলিটন গোয়েন্দাপুলিশের পরিদর্শক মো. ছগির হোসেনের নেতৃত্বে একটি টিম শহরের কাউনিয়া বাগানবাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
গোয়েন্দাপুলিশ জানিয়েছে, বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর বিল্লবাড়ি এলাকার বাসিন্দা লিটন সিকদার ওরফে লিটু হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মিল্টন খান। নিহত লিটুর বোন মুন্নি আক্তার গত ১ আগস্ট স্বামী জাকির গাজী এবং ভাইয়ের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মিল্টন খানসহ ৪০ জনকে অভিযুক্ত করে সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা করেন। মামলার আগে এবং পরে পুলিশ ঘটনায় জড়িত ৫জনকে গ্রেপ্তার করে। সবশেষ বুধবার বিকেলে আলোচিত মিল্টন খানকে গ্রেপ্তার করা হলো।
বিভিন্ন মাধ্যম নিশ্চিত করে, নিহত লিটু এক সময়ে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মিল্টন খানের অনুসারী ছিলেন। একাধিক মামলার আসামি লিটন ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরে এলাকায় একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সংঘটিত করেন। এনিয়ে তাদের দুজনের মধ্যে সম্পর্কের অবনতিও ঘটে। এরই মধ্যে জুলাই মাসের শেষের দিকে প্রকাশ্যে আসে লিটনের বোনের স্বামী জাকির গাজীর দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় বিয়ে করার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসলে জাকিরকে তার স্ত্রী মুন্নি আক্তার এবং ভাই লিটু ঘরে আটকে নির্যাতন করেন। এই খবর পেয়ে গত ২৭ জুলাই মিল্টন অনুসারীদের সহযোগিতায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর থানায় জকির গাজী স্ত্রী মুন্নি আক্তার এবং শ্যালক লিটুর বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে একই দিনে জাকির গাজীর বিরুদ্ধেও বিমানবন্দর থানায় যৌতুক দাবিসহ মারধরের অভিযোগে মামলা করেন মুন্নি বেগম।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, পাল্টা-পাল্টি মামলাকে কেন্দ্র করে বিল্লবাড়িতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এবং স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা লিটুর শাস্তির দাবি করে বোন জামাই জাকিরের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিলও হয়। মাঠপর্যায়ে লিটুর শাস্তির দাবিতে জাকিরসহ গুটিয়েক লোকজন সোচ্চার থাকলেও নেপথ্যে থেকে তাদের পরিচালনা করার অভিযোগ ওঠে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মিল্টনের বিরুদ্ধে।
গত বৃহস্পতিবার আদালত থেকে মামলায় জামিন নিয়ে এলাকায় প্রবেশ করলে লিটুর বাসভবনে হামলা-ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি তাকেসহ অন্তত ৫/৬জনকে কুপিয়ে জখম করা হয়। এতে ঘটনাস্থলে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা লিটু মৃত্যুবরণ করেন। এই হত্যাকান্ডে সময় একাধিক ব্যক্তিকে লিটুর শত্রু মিল্টনের সাথে মুঠোফোনে কথা বলতে শোনা যায়। এবং ভুক্তোভোগী পরিবারের পক্ষ থেকেও অভিযোগ করা হচ্ছিল, হত্যাকান্ডের মাস্টারমাইন্ড খোদ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মিল্টন।
একদিন বাদে শুক্রবার এই ঘটনায় স্বামী জাকির গাজীসহ ৪০ জনকে অভিযুক্ত করে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা করেন মুন্নি বেগম। সেই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত রিয়াজ খান মিল্টনকে বুধবার বিকেলে গ্রেপ্তার করল গোয়েন্দাপুলিশ। তবে লিটু হত্যাকান্ডের মাস্টারমাইন্ড এই মিল্টনই কী না তা নিয়ে আগেভাগে মন্তব্য করতে চাইছে না পুলিশ।
এক্ষেত্রে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মো. রিয়াজ হোসেনের ভাষ্য হচ্ছে, ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ থাকতে পারে, কিন্তু তদন্তের আগে নিশ্চিত কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না। প্রয়োজন হলে এই অভিযুক্তকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা।’
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:০৮
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৫৮
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:০১
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:০২