পটুয়াখালী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ইপিজেড) বালু ভরাটের কাজ শেষ হয়েছে। তার ওপর ভর করেই দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে সড়ক, ড্রেনেজসহ অবকাঠামো নির্মাণ। বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করেই চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্লট বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি বছরের শেষ দিকে বরাদ্দ পাওয়া প্লটগুলোতেই শিল্পকারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করতে পারবেন বিনিয়োগকারীরা।
বঙ্গোপসাগর ও নদ-নদী পরিবেষ্টিত পটুয়াখালী অঞ্চলের মানুষের জীবিকা দীর্ঘদিন ধরে আবর্তিত হয়েছে মাছ ও কৃষি ঘিরে। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতকে কেন্দ্র করে পর্যটনের বিকাশ ঘটলেও স্থায়ী কর্মসংস্থান ও শিল্পভিত্তিক অর্থনীতির ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। সেই বাস্তবতায় পায়রা সমুদ্রবন্দর, তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র ও পদ্মা সেতুর পর দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক রূপান্তরে নতুন সংযোজন হতে যাচ্ছে পটুয়াখালী ইপিজেড। পায়রা সমুদ্রবন্দর ঘিরে শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণ ইতোমধ্যে প্রায় শেষ পর্যায়ে।
এর পাশাপাশি এলাকায় দুটি এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে রয়েছে। আরো একটি একই ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ এক-চতুর্থাংশ সম্পন্ন হয়েছে। বিদ্যুৎ ও বন্দর সুবিধার সমন্বয়ে পটুয়াখালী এখন দক্ষিণাঞ্চলের সম্ভাবনাময় শিল্পকেন্দ্র হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে ২০২৩ সালে পটুয়াখালী ইপিজেড প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।
সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের পাঁচকোরালিয়া গ্রামে ৪১০ দশমিক ৭৮ একর জমিতে নির্মাণাধীন এ প্রকল্পের বালু ভরাটের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের জন্য প্লট বরাদ্দ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বরাদ্দ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করতে পারবেন দেশি ও বিদেশি উদ্যোক্তারা।
দেশের তৃতীয় সামুদ্রিক বন্দর পায়রা সমুদ্রবন্দরের পাশেই গড়ে উঠছে পটুয়াখালী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড)। ফলে ধীরে ধীরে বাড়ছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ।
পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এসেছে। এই উন্নত যোগাযোগের সুবিধায় কম সময় ও কম খরচে কাঁচামাল আমদানি এবং রপ্তানি পণ্য পাঠাতে পারবেন বিনিয়োগকারীরা। এতে বিনিয়োগের পাশাপাশি রপ্তানিও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
পায়রা বন্দর, বিদ্যুৎ আর শ্রমিক সহজ প্রাপ্যতার ওপর ভিত্তি করেই ইপিজেডে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিভিন্ন ধরনের শিল্পকারখানা স্থাপন করবেন। এসব কারখানায় প্রায় এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। প্রত্যেক শ্রমিকের আয়ের ওপর গড়ে আরো দুইজন পরিবারের সদস্য নির্ভর করবেন। সে হিসাবে আরো প্রায় দুই লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ইপিজেডকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হবেন।
ইপিজেডে কর্মচাঞ্চল্য বাড়লে আশপাশের এলাকায়ও এর প্রভাব পড়বে। হোটেল-রেস্তোঁরা, গণপরিবহন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানসহ নানা সেবামুখী ব্যবসার প্রসার ঘটবে। এসব কর্মকাণ্ড স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করার পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইপিজেড চালু হলে এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক বাস্তবতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মাছ ধরা ও কৃষিকাজে নির্ভরশীল দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের একটি বড় অংশ তখন গার্মেন্টস, ম্যানিকুইন হেড ও উইগ, লাগেজ, গাড়ির সিট হিটার, সার্জিক্যাল গাউন, প্লাস্টিক পণ্যসহ নানা রপ্তানিমুখী শিল্পে কাজের সুযোগ পাবেন।
এক হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন পটুয়াখালী ইপিজেডে মোট ৩০৬টি শিল্প প্লট থাকবে। এর মধ্যে এক হাজার ১০৫ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এবং বাকি ৩৩৮ কোটি টাকা অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা)।
প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হচ্ছে প্রায় ৩ দশমিক ১৫ লাখ মিটার সড়ক, ৩০ হাজার মিটার ড্রেনেজ, চারটি ছয়তলা কারখানা ভবন, তিনটি দশতলা অফিস ভবন, আবাসিক ভবন, কাস্টমস ও জোন অফিস, নিরাপত্তা অফিস এবং একটি হেলিপ্যাড। পাশাপাশি জমিদাতা ১৫৪ পরিবারের জন্য পুনর্বাসন আবাসন নির্মাণ করা হচ্ছে, যেখানে থাকবে পুকুর, মসজিদসহ মৌলিক সুযোগ-সুবিধা।
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ১৪টি সাবস্টেশন, ১৫ কিলোমিটার ১১ কেভি হাই-টেনশন লাইন এবং একটি জিআইএস সাবস্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিদ্যুৎ, পানি আর ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাজ শেষ হলেই প্লট বরাদ্ধ শুরু হবে।
পটুয়াখালী ইউপিজের প্রকল্প পরিচালক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ২০২৬ সালের শুরুতে বিনিয়োগকারীদের জন্য প্লট বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে দ্রুতগতিতে কাজ চলছে। তিনি বলেন, জমিদাতা পরিবারগুলোর আবাসন নির্মাণ শুরু হয়েছে। ড্রেন, ফুটপাত, কালভার্ট ও স্কুলসহ প্রয়োজনীয় সামাজিক অবকাঠামোও গড়ে তোলা হবে।
শফিকুল ইসলাম আরো বলেন, বালু ভরাট শেষে বিভিন্ন স্থাপনার নির্মাণকাজ এখন দৃশ্যমান পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই বছরের মাঝামাঝি সময় প্লট বরাদ্ধ দেয়া হবে। বিনিয়োগকারীরা এই বছরের শেষের দিকে শিল্প কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করতেন পারবেন।
পায়রা সমুদ্রবন্দর, পদ্মা সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে পটুয়াখালী ইপিজেড যুক্ত হলে উপকূলীয় অর্থনীতির চাকা নতুন গতিতে ঘুরবে। স্থানীয়দের কাছে এটি শুধু একটি শিল্পাঞ্চল নয়, বরং দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে সম্ভাবনার নতুন দরজা খুলে দেওয়ার প্রতীক।

০১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:০৫
পছন্দসই প্রার্থীকে পিয়ন পদে চাকরি দিতে তদবির করেছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। সেই তদবির উপেক্ষা করে প্রক্সি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীকে বদলি করা হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে।
গত মঙ্গলবার বিসিএস ২৫ ব্যাচের এই কর্মকর্তাকে পটুয়াখালী থেকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়। তবে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ এটিকে নিয়মিত প্রশাসনিক রদবদল বলে দাবি করেছেন।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একাধিক কর্মচারীর দাবি, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের পছন্দের প্রার্থী জহিরুল ইসলামকে অফিস সহায়ক (পিয়ন) পদে নিয়োগ দিতে তদবির করা হয়েছিল। কিন্তু লিখিত পরীক্ষায় প্রক্সি দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় জহিরুলের বিরুদ্ধে মামলা করে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন ডিসি।
জানা গেছে, পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখায় ১০টি অফিস সহায়ক পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা হয় ২৫ সেপ্টেম্বর। পরীক্ষায় জহিরুল ইসলাম সর্বোচ্চ নম্বর পান। পরদিন মৌখিক পরীক্ষায় বোর্ডের প্রশ্নের জবাব দিতে না পারায় সন্দেহ হয়। তার লিখিত পরীক্ষার খাতা ও হাতের লেখা যাচাই করে ভিন্নতা পাওয়া যায়।
জিজ্ঞাসাবাদে জহিরুল স্বীকার করেন, তার পরিবর্তে সাখাওয়াত নামে অন্য একজন লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানালে জহিরুলকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে মামলা হয়।
জেলা প্রশাসনের কয়েকজন কর্মচারীর দাবি, জহিরুলকে চাকরি দিতে প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তদবির করা হয়েছিল। কিন্তু ডিসি ব্যবস্থা নেওয়ায় ক্ষুব্ধ হন নুরুল হক নুর। পরে তিনি ডিসির বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রতিমন্ত্রী নুর। তিনি বলেন, ডিসির আচরণগত সমস্যার বিষয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন। পিয়ন নিয়োগে তদবিরের অভিযোগ সঠিক নয়।
নুর বলেন, তিনি পটুয়াখালী গেলে ডিসি তার অনুষ্ঠানে যোগ দিতেন না। এমনকি সরকারি সফরের সময় একটি সেমিনারে যোগ দেওয়ার কথা বলে ডিসি কুয়াকাটায় চলে যান বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, ডিসির পদোন্নতি হয়েছে এবং তার বদলি প্রশাসনের নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। এর সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা তার জানা নেই।
ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীও অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রক্সি পরীক্ষার মতো প্রতারণায় অভিযুক্ত কোনো প্রার্থীর পক্ষে জনপ্রতিনিধির চাকরির সুপারিশ করা অনৈতিক। আর ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে কোনো কর্মকর্তাকে যদি শাস্তিমূলকভাবে বদলি করা হয়ে থাকে, তাহলে তা ক্ষমতার অপব্যবহারের দৃষ্টান্ত হবে।
সংবাদসূত্র দৈনিক আমার দেশ
পছন্দসই প্রার্থীকে পিয়ন পদে চাকরি দিতে তদবির করেছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। সেই তদবির উপেক্ষা করে প্রক্সি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীকে বদলি করা হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে।
গত মঙ্গলবার বিসিএস ২৫ ব্যাচের এই কর্মকর্তাকে পটুয়াখালী থেকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়। তবে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ এটিকে নিয়মিত প্রশাসনিক রদবদল বলে দাবি করেছেন।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একাধিক কর্মচারীর দাবি, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের পছন্দের প্রার্থী জহিরুল ইসলামকে অফিস সহায়ক (পিয়ন) পদে নিয়োগ দিতে তদবির করা হয়েছিল। কিন্তু লিখিত পরীক্ষায় প্রক্সি দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় জহিরুলের বিরুদ্ধে মামলা করে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন ডিসি।
জানা গেছে, পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখায় ১০টি অফিস সহায়ক পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা হয় ২৫ সেপ্টেম্বর। পরীক্ষায় জহিরুল ইসলাম সর্বোচ্চ নম্বর পান। পরদিন মৌখিক পরীক্ষায় বোর্ডের প্রশ্নের জবাব দিতে না পারায় সন্দেহ হয়। তার লিখিত পরীক্ষার খাতা ও হাতের লেখা যাচাই করে ভিন্নতা পাওয়া যায়।
জিজ্ঞাসাবাদে জহিরুল স্বীকার করেন, তার পরিবর্তে সাখাওয়াত নামে অন্য একজন লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানালে জহিরুলকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে মামলা হয়।
জেলা প্রশাসনের কয়েকজন কর্মচারীর দাবি, জহিরুলকে চাকরি দিতে প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তদবির করা হয়েছিল। কিন্তু ডিসি ব্যবস্থা নেওয়ায় ক্ষুব্ধ হন নুরুল হক নুর। পরে তিনি ডিসির বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রতিমন্ত্রী নুর। তিনি বলেন, ডিসির আচরণগত সমস্যার বিষয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন। পিয়ন নিয়োগে তদবিরের অভিযোগ সঠিক নয়।
নুর বলেন, তিনি পটুয়াখালী গেলে ডিসি তার অনুষ্ঠানে যোগ দিতেন না। এমনকি সরকারি সফরের সময় একটি সেমিনারে যোগ দেওয়ার কথা বলে ডিসি কুয়াকাটায় চলে যান বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, ডিসির পদোন্নতি হয়েছে এবং তার বদলি প্রশাসনের নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। এর সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা তার জানা নেই।
ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীও অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রক্সি পরীক্ষার মতো প্রতারণায় অভিযুক্ত কোনো প্রার্থীর পক্ষে জনপ্রতিনিধির চাকরির সুপারিশ করা অনৈতিক। আর ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে কোনো কর্মকর্তাকে যদি শাস্তিমূলকভাবে বদলি করা হয়ে থাকে, তাহলে তা ক্ষমতার অপব্যবহারের দৃষ্টান্ত হবে।
সংবাদসূত্র দৈনিক আমার দেশ

০১ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:৪৮
পটুয়াখালীর বাউফলে মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে সিফাত (২৯) ও নাজমুল (১৮) নামে দুই যুবক আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের মমিনপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও আহতদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাদক বিক্রি নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে কয়েকজন কিশোর সিফাত ও নাজমুলের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
আহত সিফাত ও নাজমুল অভিযোগ করে বলেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক বিক্রি করে আসছে। মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করায় বুধবার ৩১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। তাদের দাবি, হামলাকারীদের কাছে ছুরি, বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার যন্ত্র ও বৈদ্যুতিক তার ছিল। হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল বলেও তারা অভিযোগ করেন।
এ ঘটনায় ওমর গাজী, নাজমুল আকন, সামী মোল্লা, রেদোয়ান ও রিফাত নামে কয়েকজনের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ওমর গাজী বলেন, তাদের মধ্যে সিনিয়রদের সম্মান দেওয়ার বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়েছে৷ আমাদেরকে তারা লাঠি দিয়ে আঘাত করেছে আমরাও একটু করেছি। তবে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে বলে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সঠিক নয়।
বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রেদোয়ান রিফাত বলেন, দুই যুবককে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মাথা ও মুখে আঘাত রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আঘাতের ধরন ও শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, খোজ খবর নিয়ে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
পটুয়াখালীর বাউফলে মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে সিফাত (২৯) ও নাজমুল (১৮) নামে দুই যুবক আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের মমিনপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও আহতদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাদক বিক্রি নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে কয়েকজন কিশোর সিফাত ও নাজমুলের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
আহত সিফাত ও নাজমুল অভিযোগ করে বলেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক বিক্রি করে আসছে। মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করায় বুধবার ৩১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। তাদের দাবি, হামলাকারীদের কাছে ছুরি, বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার যন্ত্র ও বৈদ্যুতিক তার ছিল। হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল বলেও তারা অভিযোগ করেন।
এ ঘটনায় ওমর গাজী, নাজমুল আকন, সামী মোল্লা, রেদোয়ান ও রিফাত নামে কয়েকজনের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ওমর গাজী বলেন, তাদের মধ্যে সিনিয়রদের সম্মান দেওয়ার বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়েছে৷ আমাদেরকে তারা লাঠি দিয়ে আঘাত করেছে আমরাও একটু করেছি। তবে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে বলে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সঠিক নয়।
বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রেদোয়ান রিফাত বলেন, দুই যুবককে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মাথা ও মুখে আঘাত রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আঘাতের ধরন ও শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, খোজ খবর নিয়ে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:৫০
পটুয়াখালীর মহিপুরে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে এক ছাত্রদল নেতাকে তুলে নিয়ে রাতভর মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের সময় অভিযুক্তদের পা ধরে ‘আব্বা’ বলে ডাকলেও তাকে রেহাই দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন মেহেদী হাসান ফারুক নামে ওই ছাত্রদল নেতা।
ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন তিনি। ফারুক মহিপুর থানা সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক।
সংবাদ সম্মেলনে ফারুক দাবি করেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে মহিপুর থেকে সাদা পোশাকে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাকে তুলে নেন। তাদের হাতে ওয়াকিটকি ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। পরে মোটরসাইকেলে করে তাকে কলাপাড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়।
তার অভিযোগ, সেখানে কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ফাহিমের নেতৃত্বে কয়েকজন তাকে দফায় দফায় মারধর করেন। রাত ১টা পর্যন্ত চলে নির্যাতন।
ফারুক বলেন, “আমি তাদের পা ধরে ‘আব্বা’ বলে ডেকেছি। বলেছি, আমার বাবা নেই, আপনারাই আমার বাবা। আমার মা অসুস্থ—এ ঘটনা জানলে তিনি মারা যেতে পারেন। তারপরও তারা আমাকে ছাড়েনি।”
পরে খবর পেয়ে তার দুই বন্ধু মহিপুর ইউনিয়ন শাখা ছাত্রদল নেতা কামরুল ইসলাম শাওন ও রবিউল ইসলাম গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন বলে জানান ফারুক। প্রথমে তাকে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে ১৫ দিন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরেন তিনি। তবে গত ২৬ সেপ্টেম্বর আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বরিশালে নেওয়া হয়।
ফারুকের দাবি, তাকে তুলে নেওয়ার দৃশ্য সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে। ওই ফুটেজ পর্যালোচনা করলে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। এতে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন এই ছাত্রদল নেতা।
সংবাদ সম্মেলনে ফারুক বলেন, কোনো বিয়ের অনুষ্ঠানে সাক্ষী হওয়া অপরাধ নয়। অথচ ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তাকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং তার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
অভিযোগের তীর রয়েছে কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা, সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ফাহিম, রাশেদসহ ১০ থেকে ১৫ জনের দিকে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আমিরুল ইসলাম ফাহিম ও মাসুদ রানা। তাদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার সত্যতা অনুসন্ধানে পুলিশ কাজ করছে।'
পটুয়াখালীর মহিপুরে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে এক ছাত্রদল নেতাকে তুলে নিয়ে রাতভর মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের সময় অভিযুক্তদের পা ধরে ‘আব্বা’ বলে ডাকলেও তাকে রেহাই দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন মেহেদী হাসান ফারুক নামে ওই ছাত্রদল নেতা।
ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন তিনি। ফারুক মহিপুর থানা সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক।
সংবাদ সম্মেলনে ফারুক দাবি করেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে মহিপুর থেকে সাদা পোশাকে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাকে তুলে নেন। তাদের হাতে ওয়াকিটকি ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। পরে মোটরসাইকেলে করে তাকে কলাপাড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়।
তার অভিযোগ, সেখানে কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ফাহিমের নেতৃত্বে কয়েকজন তাকে দফায় দফায় মারধর করেন। রাত ১টা পর্যন্ত চলে নির্যাতন।
ফারুক বলেন, “আমি তাদের পা ধরে ‘আব্বা’ বলে ডেকেছি। বলেছি, আমার বাবা নেই, আপনারাই আমার বাবা। আমার মা অসুস্থ—এ ঘটনা জানলে তিনি মারা যেতে পারেন। তারপরও তারা আমাকে ছাড়েনি।”
পরে খবর পেয়ে তার দুই বন্ধু মহিপুর ইউনিয়ন শাখা ছাত্রদল নেতা কামরুল ইসলাম শাওন ও রবিউল ইসলাম গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন বলে জানান ফারুক। প্রথমে তাকে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে ১৫ দিন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরেন তিনি। তবে গত ২৬ সেপ্টেম্বর আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বরিশালে নেওয়া হয়।
ফারুকের দাবি, তাকে তুলে নেওয়ার দৃশ্য সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে। ওই ফুটেজ পর্যালোচনা করলে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। এতে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন এই ছাত্রদল নেতা।
সংবাদ সম্মেলনে ফারুক বলেন, কোনো বিয়ের অনুষ্ঠানে সাক্ষী হওয়া অপরাধ নয়। অথচ ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তাকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং তার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
অভিযোগের তীর রয়েছে কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা, সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ফাহিম, রাশেদসহ ১০ থেকে ১৫ জনের দিকে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আমিরুল ইসলাম ফাহিম ও মাসুদ রানা। তাদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার সত্যতা অনুসন্ধানে পুলিশ কাজ করছে।'

০৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৫:৩২
পটুয়াখালী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ইপিজেড) বালু ভরাটের কাজ শেষ হয়েছে। তার ওপর ভর করেই দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে সড়ক, ড্রেনেজসহ অবকাঠামো নির্মাণ। বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করেই চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্লট বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি বছরের শেষ দিকে বরাদ্দ পাওয়া প্লটগুলোতেই শিল্পকারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করতে পারবেন বিনিয়োগকারীরা।
বঙ্গোপসাগর ও নদ-নদী পরিবেষ্টিত পটুয়াখালী অঞ্চলের মানুষের জীবিকা দীর্ঘদিন ধরে আবর্তিত হয়েছে মাছ ও কৃষি ঘিরে। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতকে কেন্দ্র করে পর্যটনের বিকাশ ঘটলেও স্থায়ী কর্মসংস্থান ও শিল্পভিত্তিক অর্থনীতির ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। সেই বাস্তবতায় পায়রা সমুদ্রবন্দর, তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র ও পদ্মা সেতুর পর দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক রূপান্তরে নতুন সংযোজন হতে যাচ্ছে পটুয়াখালী ইপিজেড। পায়রা সমুদ্রবন্দর ঘিরে শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণ ইতোমধ্যে প্রায় শেষ পর্যায়ে।
এর পাশাপাশি এলাকায় দুটি এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে রয়েছে। আরো একটি একই ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ এক-চতুর্থাংশ সম্পন্ন হয়েছে। বিদ্যুৎ ও বন্দর সুবিধার সমন্বয়ে পটুয়াখালী এখন দক্ষিণাঞ্চলের সম্ভাবনাময় শিল্পকেন্দ্র হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে ২০২৩ সালে পটুয়াখালী ইপিজেড প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।
সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের পাঁচকোরালিয়া গ্রামে ৪১০ দশমিক ৭৮ একর জমিতে নির্মাণাধীন এ প্রকল্পের বালু ভরাটের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের জন্য প্লট বরাদ্দ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বরাদ্দ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করতে পারবেন দেশি ও বিদেশি উদ্যোক্তারা।
দেশের তৃতীয় সামুদ্রিক বন্দর পায়রা সমুদ্রবন্দরের পাশেই গড়ে উঠছে পটুয়াখালী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড)। ফলে ধীরে ধীরে বাড়ছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ।
পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এসেছে। এই উন্নত যোগাযোগের সুবিধায় কম সময় ও কম খরচে কাঁচামাল আমদানি এবং রপ্তানি পণ্য পাঠাতে পারবেন বিনিয়োগকারীরা। এতে বিনিয়োগের পাশাপাশি রপ্তানিও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
পায়রা বন্দর, বিদ্যুৎ আর শ্রমিক সহজ প্রাপ্যতার ওপর ভিত্তি করেই ইপিজেডে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিভিন্ন ধরনের শিল্পকারখানা স্থাপন করবেন। এসব কারখানায় প্রায় এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। প্রত্যেক শ্রমিকের আয়ের ওপর গড়ে আরো দুইজন পরিবারের সদস্য নির্ভর করবেন। সে হিসাবে আরো প্রায় দুই লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ইপিজেডকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হবেন।
ইপিজেডে কর্মচাঞ্চল্য বাড়লে আশপাশের এলাকায়ও এর প্রভাব পড়বে। হোটেল-রেস্তোঁরা, গণপরিবহন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানসহ নানা সেবামুখী ব্যবসার প্রসার ঘটবে। এসব কর্মকাণ্ড স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করার পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইপিজেড চালু হলে এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক বাস্তবতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মাছ ধরা ও কৃষিকাজে নির্ভরশীল দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের একটি বড় অংশ তখন গার্মেন্টস, ম্যানিকুইন হেড ও উইগ, লাগেজ, গাড়ির সিট হিটার, সার্জিক্যাল গাউন, প্লাস্টিক পণ্যসহ নানা রপ্তানিমুখী শিল্পে কাজের সুযোগ পাবেন।
এক হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন পটুয়াখালী ইপিজেডে মোট ৩০৬টি শিল্প প্লট থাকবে। এর মধ্যে এক হাজার ১০৫ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এবং বাকি ৩৩৮ কোটি টাকা অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা)।
প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হচ্ছে প্রায় ৩ দশমিক ১৫ লাখ মিটার সড়ক, ৩০ হাজার মিটার ড্রেনেজ, চারটি ছয়তলা কারখানা ভবন, তিনটি দশতলা অফিস ভবন, আবাসিক ভবন, কাস্টমস ও জোন অফিস, নিরাপত্তা অফিস এবং একটি হেলিপ্যাড। পাশাপাশি জমিদাতা ১৫৪ পরিবারের জন্য পুনর্বাসন আবাসন নির্মাণ করা হচ্ছে, যেখানে থাকবে পুকুর, মসজিদসহ মৌলিক সুযোগ-সুবিধা।
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ১৪টি সাবস্টেশন, ১৫ কিলোমিটার ১১ কেভি হাই-টেনশন লাইন এবং একটি জিআইএস সাবস্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিদ্যুৎ, পানি আর ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাজ শেষ হলেই প্লট বরাদ্ধ শুরু হবে।
পটুয়াখালী ইউপিজের প্রকল্প পরিচালক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ২০২৬ সালের শুরুতে বিনিয়োগকারীদের জন্য প্লট বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে দ্রুতগতিতে কাজ চলছে। তিনি বলেন, জমিদাতা পরিবারগুলোর আবাসন নির্মাণ শুরু হয়েছে। ড্রেন, ফুটপাত, কালভার্ট ও স্কুলসহ প্রয়োজনীয় সামাজিক অবকাঠামোও গড়ে তোলা হবে।
শফিকুল ইসলাম আরো বলেন, বালু ভরাট শেষে বিভিন্ন স্থাপনার নির্মাণকাজ এখন দৃশ্যমান পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই বছরের মাঝামাঝি সময় প্লট বরাদ্ধ দেয়া হবে। বিনিয়োগকারীরা এই বছরের শেষের দিকে শিল্প কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করতেন পারবেন।
পায়রা সমুদ্রবন্দর, পদ্মা সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে পটুয়াখালী ইপিজেড যুক্ত হলে উপকূলীয় অর্থনীতির চাকা নতুন গতিতে ঘুরবে। স্থানীয়দের কাছে এটি শুধু একটি শিল্পাঞ্চল নয়, বরং দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে সম্ভাবনার নতুন দরজা খুলে দেওয়ার প্রতীক।
০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৩:৩৪
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:১৬
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:০১
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ০২:৩১