প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ১৩ শিক্ষার্থী মনোনীত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) প্রকাশিত ২০১৯, ২০২০ ও ২০২১ শিক্ষাবর্ষের তালিকায় নিজ নিজ অনুষদে সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ তাদের মনোনীত করা হয়েছে।
ইউজিসির প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, ২০১৯ শিক্ষাবর্ষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঁচজন, ২০২০ শিক্ষাবর্ষে চারজন এবং ২০২১ শিক্ষাবর্ষে চারজন শিক্ষার্থী প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন।
২০১৯ শিক্ষাবর্ষে মনোনীত পাঁচ শিক্ষার্থী হলেন জীববিজ্ঞান অনুষদের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের মো. আল ইমরান (সিজিপিএ ৩.৯৮), বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চন্দ্রিকা সাহা (৩.৯৫), সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের রনি গোপাল দাস (৩.৮৬), আইন অনুষদের আইন বিভাগের তহমিনা আক্তার মুন (৩.৮৬) এবং কলা ও মানবিক অনুষদের ইংরেজি বিভাগের শ্যামলিমা শহীদ খান (৩.৬৭)।
২০২০ শিক্ষাবর্ষে মনোনীত হয়েছেন বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ওয়াহিদা ইসলাম (৩.৯২), বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের রসায়ন বিভাগের অরিন্দম কর্মকার (৩.৮৭), আইন অনুষদের আইন বিভাগের দিলরুবা খান মৌ (৩.৭৫) এবং কলা ও মানবিক অনুষদের বাংলা বিভাগের অন্তরা হালদার (৩.৫৯)।
অন্যদিকে, ২০২১ শিক্ষাবর্ষে মনোনীত চার শিক্ষার্থী হলেন, জীববিজ্ঞান অনুষদের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অনামিকা বিশ্বাস (৩.৯২), বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের মোসাঃ অনন্যা সুলতানা (৩.৯২), বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তসলিমা আক্তার (৩.৯১) এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের লোক প্রশাসন বিভাগের আব্দুল কাদের (৩.৬৭)।
নিজ নিজ অনুষদে সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জনের ভিত্তিতে এসব শিক্ষার্থী প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন। তাদের এ অর্জনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ মেধাবী শিক্ষার্থী প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত হওয়ায় তাঁদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ মামুন অর রশিদ।
শুভেচ্ছা বার্তায় উপাচার্য বলেন, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের এই গৌরবোজ্জ্বল অর্জন তাঁদের স্ব স্ব একাডেমিক সাফল্যের এক অনন্য স্বীকৃতি। তাঁদের এই সাফল্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীকেও ভালো ফলাফল অর্জন, জ্ঞানচর্চা ও গবেষণামুখী হতে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করবে।
তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন , শিক্ষার্থীদের এই কৃতি ও অর্জন ভবিষ্যতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক একাডেমিক সাফল্যের ধারাকে আরও সমৃদ্ধ ও বেগবান করবে।

০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:২৮
মুক্তিযুদ্ধের যে সত্য, তা লক্ষ লক্ষ মানুষের রক্ত দিয়ে গড়া সত্য বলে মন্তব্য করেছেন লেখক, সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন হাবীব। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিডিও কনফারেন্স কক্ষে জীবনানন্দ দাশ রিসার্চ সেন্টারের আয়োজনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণমূলক বিশেষ সেমিনার ‘লেখকের মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানে তিনি ভিডিও কলে যুক্তে হয়ে এসব কথা বলেন।
হারুন হাবীব বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মতো একটি সুবিশাল জাতীয় ইতিহাসকে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কখনো কখনো পরিবর্তিত হতে দেখি। এটা আমাদের দুর্ভাগ্য। একটি শ্রেণির কাছে মুক্তিযুদ্ধ যেন শুধু একটি গোলমালের বিষয় মানে ওই বছরটায় শুধু গোলমাল হয়েছিল। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ কোনো গোলমাল নয়। মুক্তিযুদ্ধ একটি স্লোগান, মুক্তিযুদ্ধ একটি জীবন এবং মুক্তিযুদ্ধ জাতীয় স্বাধীনতার প্রতীক।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধকে যখন বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। যাদের জন্ম মুক্তিযুদ্ধের অনেক পরে, তারা প্রকৃত ইতিহাস নিয়ে বিভ্রান্ত হয়। আর সেই বিভ্রান্তির ফলেই জাতীয় গৌরবের যে অস্তিত্ব, তা তাদের কাছে ম্লান হয়ে যায়। এর মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তিনি আরও বলেন, খুব সচেতনভাবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে অবদমনের চেষ্টা করা হয়েছে। যুগে যুগে হয়েছে, এখনো হচ্ছে।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পুনর্লিখনের বিষয়ে তিনি বলেন, নতুন করে তো মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা ঘটবে না। ইতিহাস তো ইতিহাস। নতুন করে ইতিহাস লেখা যায় না। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক দুর্ভাগ্য যে আমরা ইতিহাস পুনর্লিখনের চেষ্টা করি। এটা শুধু অন্যায় নয়, জাতীয় অপরাধ।
হারুন হাবীব বলেন, সত্য যা, ঘটনা যা তার নিজস্ব একটা শক্তি থাকে। সেই সত্যকে, সত্যের ইতিহাসকে বা ইতিহাসের সত্যকে যদি কখনো চাপা দিতে চান, তাহলে কয়েক দিন, কয়েক মাস কিংবা কয়েক বছরের জন্য তা করা সম্ভব। কিন্তু সত্যের নিজস্ব শক্তি আছে, তার প্রতিরোধের শক্তি আছে। সেই শক্তি দিয়েই সত্য আবার ফিরে আসে।
সমাজ নিয়ে যারা চিন্তা করেন, তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ঐতিহাসিক সত্যকে রক্ষা করে আপনারা সবকিছু করতে পারেন, কিন্তু ইতিহাসকে আঘাত করে নয়। আমাদের দুর্ভাগ্য, আমরা ইতিহাসকে আঘাত করছি। মুক্তিযুদ্ধের মতো একটি সুবিশাল জাতীয় ইতিহাসকে আমরা আক্রান্ত করছি এবং তরুণ প্রজন্মকে সত্যিকার ইতিহাস থেকে দূরে রাখছি।
সেমিনারে লেখক, সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধা হারুন হাবীব রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস 'প্রিয়যোদ্ধা প্রিয়তম' নিয়ে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ মামুন অর রশিদ। এবং অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনানন্দ দাশ রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক মোহসিনা হোসাইন।
মুক্তিযুদ্ধের যে সত্য, তা লক্ষ লক্ষ মানুষের রক্ত দিয়ে গড়া সত্য বলে মন্তব্য করেছেন লেখক, সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন হাবীব। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিডিও কনফারেন্স কক্ষে জীবনানন্দ দাশ রিসার্চ সেন্টারের আয়োজনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণমূলক বিশেষ সেমিনার ‘লেখকের মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানে তিনি ভিডিও কলে যুক্তে হয়ে এসব কথা বলেন।
হারুন হাবীব বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মতো একটি সুবিশাল জাতীয় ইতিহাসকে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কখনো কখনো পরিবর্তিত হতে দেখি। এটা আমাদের দুর্ভাগ্য। একটি শ্রেণির কাছে মুক্তিযুদ্ধ যেন শুধু একটি গোলমালের বিষয় মানে ওই বছরটায় শুধু গোলমাল হয়েছিল। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ কোনো গোলমাল নয়। মুক্তিযুদ্ধ একটি স্লোগান, মুক্তিযুদ্ধ একটি জীবন এবং মুক্তিযুদ্ধ জাতীয় স্বাধীনতার প্রতীক।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধকে যখন বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। যাদের জন্ম মুক্তিযুদ্ধের অনেক পরে, তারা প্রকৃত ইতিহাস নিয়ে বিভ্রান্ত হয়। আর সেই বিভ্রান্তির ফলেই জাতীয় গৌরবের যে অস্তিত্ব, তা তাদের কাছে ম্লান হয়ে যায়। এর মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তিনি আরও বলেন, খুব সচেতনভাবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে অবদমনের চেষ্টা করা হয়েছে। যুগে যুগে হয়েছে, এখনো হচ্ছে।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পুনর্লিখনের বিষয়ে তিনি বলেন, নতুন করে তো মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা ঘটবে না। ইতিহাস তো ইতিহাস। নতুন করে ইতিহাস লেখা যায় না। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক দুর্ভাগ্য যে আমরা ইতিহাস পুনর্লিখনের চেষ্টা করি। এটা শুধু অন্যায় নয়, জাতীয় অপরাধ।
হারুন হাবীব বলেন, সত্য যা, ঘটনা যা তার নিজস্ব একটা শক্তি থাকে। সেই সত্যকে, সত্যের ইতিহাসকে বা ইতিহাসের সত্যকে যদি কখনো চাপা দিতে চান, তাহলে কয়েক দিন, কয়েক মাস কিংবা কয়েক বছরের জন্য তা করা সম্ভব। কিন্তু সত্যের নিজস্ব শক্তি আছে, তার প্রতিরোধের শক্তি আছে। সেই শক্তি দিয়েই সত্য আবার ফিরে আসে।
সমাজ নিয়ে যারা চিন্তা করেন, তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ঐতিহাসিক সত্যকে রক্ষা করে আপনারা সবকিছু করতে পারেন, কিন্তু ইতিহাসকে আঘাত করে নয়। আমাদের দুর্ভাগ্য, আমরা ইতিহাসকে আঘাত করছি। মুক্তিযুদ্ধের মতো একটি সুবিশাল জাতীয় ইতিহাসকে আমরা আক্রান্ত করছি এবং তরুণ প্রজন্মকে সত্যিকার ইতিহাস থেকে দূরে রাখছি।
সেমিনারে লেখক, সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধা হারুন হাবীব রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস 'প্রিয়যোদ্ধা প্রিয়তম' নিয়ে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ মামুন অর রশিদ। এবং অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনানন্দ দাশ রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক মোহসিনা হোসাইন।

০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৪৫
বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের সম্ভাবনার কারণে আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা থাকতে পারে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) থেকে বৃষ্টির বিস্তৃতি আরও বাড়তে পারে। কোথাও কোথাও হতে পারে মাঝারি ধরনের ভারি বৃষ্টিও।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এমন তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশ থেকে বিদায় নিতে পারে।
মঙ্গলবার রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
এদিন সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
এদিন সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) থেকে বৃষ্টির বিস্তৃতি আরও বাড়তে পারে। এদিন রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় এবং বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বৃষ্টিও হতে পারে। এ সময় দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রংপুর, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এদিন সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দেশের আট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
এদিন দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে বৃষ্টির বিস্তৃতি বাড়লেও শনিবার থেকে এর প্রবণতা কিছুটা কমে আসতে পারে।
বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের সম্ভাবনার কারণে আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা থাকতে পারে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) থেকে বৃষ্টির বিস্তৃতি আরও বাড়তে পারে। কোথাও কোথাও হতে পারে মাঝারি ধরনের ভারি বৃষ্টিও।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এমন তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশ থেকে বিদায় নিতে পারে।
মঙ্গলবার রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
এদিন সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
এদিন সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) থেকে বৃষ্টির বিস্তৃতি আরও বাড়তে পারে। এদিন রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় এবং বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বৃষ্টিও হতে পারে। এ সময় দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রংপুর, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এদিন সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দেশের আট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
এদিন দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে বৃষ্টির বিস্তৃতি বাড়লেও শনিবার থেকে এর প্রবণতা কিছুটা কমে আসতে পারে।

০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:৩০
৪ হাজার ৫০১ হেক্টর জমিতে সবুজ বেষ্টনী, মজুত হবে ১১ লাখ টনের বেশি কার্বন
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব ও প্রলয়ংকরী প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে দেশের উপকূলীয় এলাকায় বড় ধরনের ম্যানগ্রোভ বনায়ন করতে যাচ্ছে সরকার। বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় এলাকায় ৪৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪ হাজার ৫০১ হেক্টর জমিতে এ বনায়ন করা হবে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বন অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে নেওয়া এ প্রকল্পের আওতায় বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের একাধিক উপকূলীয় জেলা ও উপজেলা-থানা এলাকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চার বছর মেয়াদি প্রকল্পটির মাধ্যমে উপকূলকে একটি সবুজ বেষ্টনীর আওতায় আনার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় প্রাকৃতিক প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় বরিশাল বিভাগের বরিশাল সদর, পটুয়াখালী, দশমিনা, রাঙ্গাবালী, গলাচিপা, কলাপাড়া, বামনা, বরগুনা সদর, পাথরঘাটা, চরফ্যাশন, মনপুরা ও তজুমদ্দিন এলাকায় বনায়ন করা হবে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম বিভাগের হাতিয়া, সুবর্ণচর, কবিরহাট, রামগতি, হালিশহর, আকবরশাহ, বাঁশখালী, সন্দ্বীপ, সীতাকুণ্ড, কক্সবাজার, টেকনাফ ও মহেশখালী এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের শতভাগ কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে সমুদ্রতীরবর্তী চর ও নতুন জেগে ওঠা ভূমিকে অগ্রাধিকার দিয়ে বনায়ন করা হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্পটির অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো উপকূলীয় অঞ্চলে বনাচ্ছাদন বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও সামুদ্রিক বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমানো। ম্যানগ্রোভ বন উপকূলীয় জনপদের জন্য প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করবে।
একই সঙ্গে নতুন জেগে ওঠা চরকে স্থিতিশীল করা, ভূমিক্ষয় কমানো, নদী ও সামুদ্রিক ইকোসিস্টেমের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো এবং কৃষিজমিতে লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশ ঠেকাতেও এ বনায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, ৪ হাজার ৫০১ হেক্টর ম্যানগ্রোভ বনায়নের মাধ্যমে আগামী ২০ বছরে প্রায় ১১ লাখ ১৩ হাজার ১৯১ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড মজুত বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর ফলে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ বন অধিদপ্তরের উপকূলীয় বনায়নের অভিজ্ঞতা পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের। সাধারণত সমুদ্রতীরবর্তী চর ও নতুন জেগে ওঠা চরে এ ধরনের বনায়ন করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশে উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বনায়নের যাত্রা শুরু হয় ১৯৬২ সালে। পোল্ডার বা বাঁধের বাইরে উপকূলীয় এলাকায় বনায়নের মাধ্যমে সামুদ্রিক বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে দেখা যায়, ম্যানগ্রোভ বনায়নের সুফল শুধু দুর্যোগ মোকাবিলাতেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি নতুন চর জেগে ওঠার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে, ভূমির স্থায়িত্ব বাড়ায়, নদী ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ করে এবং কৃষিজমিতে লবণাক্ত পানির প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে।
বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও কৃষিনির্ভর দেশে নতুন জেগে ওঠা চর স্থায়ী করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে ম্যানগ্রোভ বনায়ন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষ করে মেঘনা অববাহিকায় নদীবাহিত পলিমাটি জমে প্রতিনিয়ত নতুন ভূমি তৈরি হচ্ছে। মেঘনাসহ দেশের প্রধান নদীগুলো ও অসংখ্য শাখানদী থেকে আসা পলিমাটির মাধ্যমে গড়ে ওঠা এসব চর ভবিষ্যতে বসতি, কৃষি ও পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদে পরিণত হতে পারে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, উপকূলীয় জেলায় নতুন জেগে ওঠা চরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বনায়নের জন্য ১৯৭৭ সালের ২৪ মার্চ জারি করা সরকারি নোটিফিকেশনও প্রকল্পের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার উপকূলীয় এলাকা ম্যানগ্রোভ বাগান সৃজনের জন্য উপযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এ ছাড়া ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির আওতায় দুই কোটি ম্যানগ্রোভ বনায়নের যে লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে, প্রস্তাবিত প্রকল্পের মাধ্যমে তার একটি বড় অংশ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান। প্রকল্পের আওতায় বনায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে স্থানীয় জনগণ যুক্ত হবে।
প্রকল্প নথি অনুযায়ী, বনায়ন পাহারাদার হিসেবে ৮১ হাজার ১৮ জন/মাস এবং অনিয়মিত শ্রমিক হিসেবে প্রায় ৩ লাখ ৪১ হাজার জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ফলে উপকূলীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আয় ও জীবিকার ক্ষেত্রেও প্রকল্পটি ভূমিকা রাখতে পারে।
পরিবেশ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বনায়নের উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
তাদের মতে, বনায়নের জন্য নির্বাচিত জমির মালিকানা, দখল ও সরেজমিন বাস্তবতা আগে নিশ্চিত করা জরুরি। কাগজে উপযুক্ত জমি থাকলেও মাঠপর্যায়ে জমির অবস্থা ভিন্ন হলে প্রকল্প বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
এ ছাড়া ২০৩০ সালে প্রকল্প শেষ হওয়ার পর সৃজিত বনভূমির রক্ষণাবেক্ষণ কীভাবে হবে, কে দায়িত্ব নেবে এবং দীর্ঘমেয়াদে বন রক্ষায় কী ধরনের ব্যবস্থাপনা থাকবে—সেটিও এখনই নির্ধারণের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছু প্রশাসনিক ও পরিকল্পনাগত চ্যালেঞ্জও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথিতে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির কার্যবিবরণীতে প্রকল্পের আগের নাম ‘গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ বনায়ন প্রকল্প’ রয়ে যাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। এতে প্রশাসনিক পর্যায়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ছাড়া কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ছাড়াই প্রকল্পটির যৌক্তিকতা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে। ফলে মাঠপর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে জমি, পরিবেশ, সামাজিক প্রভাব ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা নিয়ে আরও গভীর যাচাই প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশাল এই প্রকল্পের মাধ্যমে উপকূলে ম্যানগ্রোভের সবুজ দেয়াল গড়ে উঠলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা ও ভূমিক্ষয়ের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও সুফল মিলতে পারে।
তবে প্রকল্পের সাফল্য শুধু গাছ লাগানোর সংখ্যায় নয়—গাছ বাঁচানো, বনভূমি রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনার ওপরই নির্ভর করবে প্রকৃত সাফল্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০৩০ সালে প্রকল্প শেষ হওয়ার পর যদি সৃজিত বনভূমি যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা যায়, তাহলে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জন্য এই ম্যানগ্রোভ বন একদিকে যেমন দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক ঢাল হবে, অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও দীর্ঘমেয়াদি অবদান রাখবে।’
৪ হাজার ৫০১ হেক্টর জমিতে সবুজ বেষ্টনী, মজুত হবে ১১ লাখ টনের বেশি কার্বন
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব ও প্রলয়ংকরী প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে দেশের উপকূলীয় এলাকায় বড় ধরনের ম্যানগ্রোভ বনায়ন করতে যাচ্ছে সরকার। বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় এলাকায় ৪৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪ হাজার ৫০১ হেক্টর জমিতে এ বনায়ন করা হবে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বন অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে নেওয়া এ প্রকল্পের আওতায় বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের একাধিক উপকূলীয় জেলা ও উপজেলা-থানা এলাকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চার বছর মেয়াদি প্রকল্পটির মাধ্যমে উপকূলকে একটি সবুজ বেষ্টনীর আওতায় আনার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় প্রাকৃতিক প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় বরিশাল বিভাগের বরিশাল সদর, পটুয়াখালী, দশমিনা, রাঙ্গাবালী, গলাচিপা, কলাপাড়া, বামনা, বরগুনা সদর, পাথরঘাটা, চরফ্যাশন, মনপুরা ও তজুমদ্দিন এলাকায় বনায়ন করা হবে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম বিভাগের হাতিয়া, সুবর্ণচর, কবিরহাট, রামগতি, হালিশহর, আকবরশাহ, বাঁশখালী, সন্দ্বীপ, সীতাকুণ্ড, কক্সবাজার, টেকনাফ ও মহেশখালী এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের শতভাগ কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে সমুদ্রতীরবর্তী চর ও নতুন জেগে ওঠা ভূমিকে অগ্রাধিকার দিয়ে বনায়ন করা হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্পটির অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো উপকূলীয় অঞ্চলে বনাচ্ছাদন বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও সামুদ্রিক বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমানো। ম্যানগ্রোভ বন উপকূলীয় জনপদের জন্য প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করবে।
একই সঙ্গে নতুন জেগে ওঠা চরকে স্থিতিশীল করা, ভূমিক্ষয় কমানো, নদী ও সামুদ্রিক ইকোসিস্টেমের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো এবং কৃষিজমিতে লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশ ঠেকাতেও এ বনায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, ৪ হাজার ৫০১ হেক্টর ম্যানগ্রোভ বনায়নের মাধ্যমে আগামী ২০ বছরে প্রায় ১১ লাখ ১৩ হাজার ১৯১ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড মজুত বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর ফলে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ বন অধিদপ্তরের উপকূলীয় বনায়নের অভিজ্ঞতা পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের। সাধারণত সমুদ্রতীরবর্তী চর ও নতুন জেগে ওঠা চরে এ ধরনের বনায়ন করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশে উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বনায়নের যাত্রা শুরু হয় ১৯৬২ সালে। পোল্ডার বা বাঁধের বাইরে উপকূলীয় এলাকায় বনায়নের মাধ্যমে সামুদ্রিক বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে দেখা যায়, ম্যানগ্রোভ বনায়নের সুফল শুধু দুর্যোগ মোকাবিলাতেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি নতুন চর জেগে ওঠার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে, ভূমির স্থায়িত্ব বাড়ায়, নদী ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ করে এবং কৃষিজমিতে লবণাক্ত পানির প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে।
বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও কৃষিনির্ভর দেশে নতুন জেগে ওঠা চর স্থায়ী করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে ম্যানগ্রোভ বনায়ন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষ করে মেঘনা অববাহিকায় নদীবাহিত পলিমাটি জমে প্রতিনিয়ত নতুন ভূমি তৈরি হচ্ছে। মেঘনাসহ দেশের প্রধান নদীগুলো ও অসংখ্য শাখানদী থেকে আসা পলিমাটির মাধ্যমে গড়ে ওঠা এসব চর ভবিষ্যতে বসতি, কৃষি ও পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদে পরিণত হতে পারে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, উপকূলীয় জেলায় নতুন জেগে ওঠা চরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বনায়নের জন্য ১৯৭৭ সালের ২৪ মার্চ জারি করা সরকারি নোটিফিকেশনও প্রকল্পের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার উপকূলীয় এলাকা ম্যানগ্রোভ বাগান সৃজনের জন্য উপযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এ ছাড়া ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির আওতায় দুই কোটি ম্যানগ্রোভ বনায়নের যে লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে, প্রস্তাবিত প্রকল্পের মাধ্যমে তার একটি বড় অংশ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান। প্রকল্পের আওতায় বনায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে স্থানীয় জনগণ যুক্ত হবে।
প্রকল্প নথি অনুযায়ী, বনায়ন পাহারাদার হিসেবে ৮১ হাজার ১৮ জন/মাস এবং অনিয়মিত শ্রমিক হিসেবে প্রায় ৩ লাখ ৪১ হাজার জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ফলে উপকূলীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আয় ও জীবিকার ক্ষেত্রেও প্রকল্পটি ভূমিকা রাখতে পারে।
পরিবেশ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বনায়নের উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
তাদের মতে, বনায়নের জন্য নির্বাচিত জমির মালিকানা, দখল ও সরেজমিন বাস্তবতা আগে নিশ্চিত করা জরুরি। কাগজে উপযুক্ত জমি থাকলেও মাঠপর্যায়ে জমির অবস্থা ভিন্ন হলে প্রকল্প বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
এ ছাড়া ২০৩০ সালে প্রকল্প শেষ হওয়ার পর সৃজিত বনভূমির রক্ষণাবেক্ষণ কীভাবে হবে, কে দায়িত্ব নেবে এবং দীর্ঘমেয়াদে বন রক্ষায় কী ধরনের ব্যবস্থাপনা থাকবে—সেটিও এখনই নির্ধারণের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছু প্রশাসনিক ও পরিকল্পনাগত চ্যালেঞ্জও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথিতে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির কার্যবিবরণীতে প্রকল্পের আগের নাম ‘গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ বনায়ন প্রকল্প’ রয়ে যাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। এতে প্রশাসনিক পর্যায়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ছাড়া কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ছাড়াই প্রকল্পটির যৌক্তিকতা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে। ফলে মাঠপর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে জমি, পরিবেশ, সামাজিক প্রভাব ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা নিয়ে আরও গভীর যাচাই প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশাল এই প্রকল্পের মাধ্যমে উপকূলে ম্যানগ্রোভের সবুজ দেয়াল গড়ে উঠলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা ও ভূমিক্ষয়ের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও সুফল মিলতে পারে।
তবে প্রকল্পের সাফল্য শুধু গাছ লাগানোর সংখ্যায় নয়—গাছ বাঁচানো, বনভূমি রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনার ওপরই নির্ভর করবে প্রকৃত সাফল্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০৩০ সালে প্রকল্প শেষ হওয়ার পর যদি সৃজিত বনভূমি যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা যায়, তাহলে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জন্য এই ম্যানগ্রোভ বন একদিকে যেমন দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক ঢাল হবে, অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও দীর্ঘমেয়াদি অবদান রাখবে।’

০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:১২
প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ১৩ শিক্ষার্থী মনোনীত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) প্রকাশিত ২০১৯, ২০২০ ও ২০২১ শিক্ষাবর্ষের তালিকায় নিজ নিজ অনুষদে সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ তাদের মনোনীত করা হয়েছে।
ইউজিসির প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, ২০১৯ শিক্ষাবর্ষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঁচজন, ২০২০ শিক্ষাবর্ষে চারজন এবং ২০২১ শিক্ষাবর্ষে চারজন শিক্ষার্থী প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন।
২০১৯ শিক্ষাবর্ষে মনোনীত পাঁচ শিক্ষার্থী হলেন জীববিজ্ঞান অনুষদের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের মো. আল ইমরান (সিজিপিএ ৩.৯৮), বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চন্দ্রিকা সাহা (৩.৯৫), সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের রনি গোপাল দাস (৩.৮৬), আইন অনুষদের আইন বিভাগের তহমিনা আক্তার মুন (৩.৮৬) এবং কলা ও মানবিক অনুষদের ইংরেজি বিভাগের শ্যামলিমা শহীদ খান (৩.৬৭)।
২০২০ শিক্ষাবর্ষে মনোনীত হয়েছেন বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ওয়াহিদা ইসলাম (৩.৯২), বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের রসায়ন বিভাগের অরিন্দম কর্মকার (৩.৮৭), আইন অনুষদের আইন বিভাগের দিলরুবা খান মৌ (৩.৭৫) এবং কলা ও মানবিক অনুষদের বাংলা বিভাগের অন্তরা হালদার (৩.৫৯)।
অন্যদিকে, ২০২১ শিক্ষাবর্ষে মনোনীত চার শিক্ষার্থী হলেন, জীববিজ্ঞান অনুষদের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অনামিকা বিশ্বাস (৩.৯২), বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের মোসাঃ অনন্যা সুলতানা (৩.৯২), বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তসলিমা আক্তার (৩.৯১) এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের লোক প্রশাসন বিভাগের আব্দুল কাদের (৩.৬৭)।
নিজ নিজ অনুষদে সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জনের ভিত্তিতে এসব শিক্ষার্থী প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন। তাদের এ অর্জনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ মেধাবী শিক্ষার্থী প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত হওয়ায় তাঁদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ মামুন অর রশিদ।
শুভেচ্ছা বার্তায় উপাচার্য বলেন, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের এই গৌরবোজ্জ্বল অর্জন তাঁদের স্ব স্ব একাডেমিক সাফল্যের এক অনন্য স্বীকৃতি। তাঁদের এই সাফল্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীকেও ভালো ফলাফল অর্জন, জ্ঞানচর্চা ও গবেষণামুখী হতে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করবে।
তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন , শিক্ষার্থীদের এই কৃতি ও অর্জন ভবিষ্যতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক একাডেমিক সাফল্যের ধারাকে আরও সমৃদ্ধ ও বেগবান করবে।
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:১৫
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:২৮
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:১২
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৪৬