Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.

২২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:৫১
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শুরু থেকেই জেলাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসন। কারণ, এই আসন থেকে প্রার্থী হয়েছেন এক সময়ের ডাকসু ভিপি ও বর্তমানে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।
নুর প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর জোটগত সমঝোতার অংশ হিসেবে বিএনপি এ আসনে কোনো প্রার্থী দেয়নি। বরং কেন্দ্রীয়ভাবে বিএনপি নেতাকর্মীদের নুরের পক্ষে কাজ করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
তবে মাঠের বাস্তবতায় সেই সমঝোতা এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে। এই আসনে শুরু থেকেই বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য (সদ্য বহিষ্কৃত) মো. হাসান মামুন। বিএনপি প্রার্থী ঘোষণা না করায় মনোনয়ন বঞ্চিত হন তিনি। দলীয় আপত্তি সত্ত্বেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
স্থানীয় বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, গলাচিপা-দশমিনায় বিএনপি সমর্থকদের একটি বড় অংশ হাসান মামুনের ঘনিষ্ঠ অনুসারী। ফলে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় বিএনপির এই অংশটির সহযোগিতা পাচ্ছেন না নুরুল হক নুর। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপিতেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
এই টানাপোড়েনের মধ্যেই গত ১৭ জানুয়ারি একই দিনে আসনটির তিনটি ইউনিট (গলাচিপা উপজেলা, দশমিনা উপজেলা ও গলাচিপা পৌর) কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার (২১ জানুয়ারি) দশমিনা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কাজী তানজির আহমেদ রিডেনকেও বহিষ্কার করা হয়। এসব ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছে নতুন সমীকরণ ও উত্তেজনা।
এদিকে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্তও নিজ সিদ্ধান্তে অটল থেকে নির্বাচনী মাঠে টিকে থাকেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রতীক বরাদ্দের সভায় গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী নুরুল হক নুর পান ট্রাক প্রতীক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন পান ঘোড়া প্রতীক।
প্রতীক বরাদ্দ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে নুরুল হক নুর বলেন, ‘আপনারা লক্ষ্য করেছেন, আমার আসনে একজন বহিষ্কৃত নেতা নিজেকে স্বঘোষিত প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন। তিনি সভা-সমাবেশে আমাদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে মাঠ উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছেন এবং এলাকাবাসীকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। তাদের উদ্দেশ্য নির্বাচন বানচাল করা কিংবা সংবাদমাধ্যমে আলোচনায় থাকা। আমি বিষয়টি নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আনব।’
অন্যদিকে সভা শেষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন বলেন, ‘আমি ঘোড়া প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। আগামীকাল থেকেই আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করব। ৫ আগস্টের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি একটি চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসন যেন স্বচ্ছ ও কঠোর থেকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করে এটাই প্রত্যাশা।’
প্রতীক বরাদ্দের পর নিজ নির্বাচনী এলাকায় এক সভায় হাসান মামুন আরও বলেন,‘অন্য দল থেকে এসে স্বঘোষিত জাতীয় নেতা বিএনপিকে বিভিন্ন জোটের বেড়াজালে ফেলে মনোনয়ন নিয়েছেন। বিএনপি তাকে সমর্থন দিয়েছে আমরা সেই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু আমি যেন প্রার্থী হতে না পারি, নির্বাচন করতে না পারি, সে জন্য সব ধরনের চক্রান্ত করা হয়েছে। তবুও জনগণের প্রার্থী হিসেবে আমি জনগণের সামনে হাজির হয়েছি।’
এদিকে উভয় প্রার্থীই বিভিন্ন সভা-সমাবেশে একে অপরের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অভিযোগ তুলছেন। এতে করে পটুয়াখালী-৩ আসনের ভোটের মাঠে বইছে আমেজ ও উত্তেজনাসহ উত্তাপের হাওয়া।
প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মো. শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন,‘পটুয়াখালীতে নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রচারণা চালাবেন বলে আমরা আশাবাদী। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে জেলায় ২০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। মোট ১৯ জন প্রার্থীর মধ্যে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোড়া প্রতীক চেয়েছিলেন এবং তাকে সেটিই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’
উল্লেখ্য, আসনটিতে নুরুল হক নুর ও মো. হাসান মামুন ছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মুহম্মদ শাহ আলম ও ইসলামী আন্দোলনের মু. আবু বক্কর ছিদ্দিকী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পটুয়াখালী-৩ আসনের লড়াই এখন আর কেবল নুর ও হাসান মামুন দুই প্রার্থীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি একদিকে জোট রাজনীতির কার্যকারিতা, অন্যদিকে দলীয় শৃঙ্খলা বনাম স্থানীয় জনপ্রিয়তার শক্তি যাচাইয়ের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। শেষ পর্যন্ত ট্রাক না ঘোড়া কোন প্রতীক এগিয়ে থাকবে, তার চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো এই আসনের ফলাফল ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণে কী বার্তা দেয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শুরু থেকেই জেলাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসন। কারণ, এই আসন থেকে প্রার্থী হয়েছেন এক সময়ের ডাকসু ভিপি ও বর্তমানে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।
নুর প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর জোটগত সমঝোতার অংশ হিসেবে বিএনপি এ আসনে কোনো প্রার্থী দেয়নি। বরং কেন্দ্রীয়ভাবে বিএনপি নেতাকর্মীদের নুরের পক্ষে কাজ করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
তবে মাঠের বাস্তবতায় সেই সমঝোতা এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে। এই আসনে শুরু থেকেই বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য (সদ্য বহিষ্কৃত) মো. হাসান মামুন। বিএনপি প্রার্থী ঘোষণা না করায় মনোনয়ন বঞ্চিত হন তিনি। দলীয় আপত্তি সত্ত্বেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
স্থানীয় বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, গলাচিপা-দশমিনায় বিএনপি সমর্থকদের একটি বড় অংশ হাসান মামুনের ঘনিষ্ঠ অনুসারী। ফলে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় বিএনপির এই অংশটির সহযোগিতা পাচ্ছেন না নুরুল হক নুর। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপিতেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
এই টানাপোড়েনের মধ্যেই গত ১৭ জানুয়ারি একই দিনে আসনটির তিনটি ইউনিট (গলাচিপা উপজেলা, দশমিনা উপজেলা ও গলাচিপা পৌর) কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার (২১ জানুয়ারি) দশমিনা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কাজী তানজির আহমেদ রিডেনকেও বহিষ্কার করা হয়। এসব ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছে নতুন সমীকরণ ও উত্তেজনা।
এদিকে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্তও নিজ সিদ্ধান্তে অটল থেকে নির্বাচনী মাঠে টিকে থাকেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রতীক বরাদ্দের সভায় গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী নুরুল হক নুর পান ট্রাক প্রতীক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন পান ঘোড়া প্রতীক।
প্রতীক বরাদ্দ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে নুরুল হক নুর বলেন, ‘আপনারা লক্ষ্য করেছেন, আমার আসনে একজন বহিষ্কৃত নেতা নিজেকে স্বঘোষিত প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন। তিনি সভা-সমাবেশে আমাদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে মাঠ উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছেন এবং এলাকাবাসীকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। তাদের উদ্দেশ্য নির্বাচন বানচাল করা কিংবা সংবাদমাধ্যমে আলোচনায় থাকা। আমি বিষয়টি নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আনব।’
অন্যদিকে সভা শেষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন বলেন, ‘আমি ঘোড়া প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। আগামীকাল থেকেই আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করব। ৫ আগস্টের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি একটি চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসন যেন স্বচ্ছ ও কঠোর থেকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করে এটাই প্রত্যাশা।’
প্রতীক বরাদ্দের পর নিজ নির্বাচনী এলাকায় এক সভায় হাসান মামুন আরও বলেন,‘অন্য দল থেকে এসে স্বঘোষিত জাতীয় নেতা বিএনপিকে বিভিন্ন জোটের বেড়াজালে ফেলে মনোনয়ন নিয়েছেন। বিএনপি তাকে সমর্থন দিয়েছে আমরা সেই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু আমি যেন প্রার্থী হতে না পারি, নির্বাচন করতে না পারি, সে জন্য সব ধরনের চক্রান্ত করা হয়েছে। তবুও জনগণের প্রার্থী হিসেবে আমি জনগণের সামনে হাজির হয়েছি।’
এদিকে উভয় প্রার্থীই বিভিন্ন সভা-সমাবেশে একে অপরের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অভিযোগ তুলছেন। এতে করে পটুয়াখালী-৩ আসনের ভোটের মাঠে বইছে আমেজ ও উত্তেজনাসহ উত্তাপের হাওয়া।
প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মো. শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন,‘পটুয়াখালীতে নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রচারণা চালাবেন বলে আমরা আশাবাদী। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে জেলায় ২০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। মোট ১৯ জন প্রার্থীর মধ্যে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোড়া প্রতীক চেয়েছিলেন এবং তাকে সেটিই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’
উল্লেখ্য, আসনটিতে নুরুল হক নুর ও মো. হাসান মামুন ছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মুহম্মদ শাহ আলম ও ইসলামী আন্দোলনের মু. আবু বক্কর ছিদ্দিকী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পটুয়াখালী-৩ আসনের লড়াই এখন আর কেবল নুর ও হাসান মামুন দুই প্রার্থীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি একদিকে জোট রাজনীতির কার্যকারিতা, অন্যদিকে দলীয় শৃঙ্খলা বনাম স্থানীয় জনপ্রিয়তার শক্তি যাচাইয়ের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। শেষ পর্যন্ত ট্রাক না ঘোড়া কোন প্রতীক এগিয়ে থাকবে, তার চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো এই আসনের ফলাফল ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণে কী বার্তা দেয়।

১১ জুন, ২০২৬ ১৪:৩৪

০৬ জুন, ২০২৬ ১৫:১০

০৬ জুন, ২০২৬ ১৩:০৯
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার দাশপাড়া ইউনিয়নে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে খাবার পরিবেশনকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে বিয়ের আনন্দঘন পরিবেশ মুহূর্তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সংঘর্ষে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের চোখের পাশে গুরুতর আঘাত লেগেছে।
ঘটনাটি উপজেলার মোল্লা বাড়ির পোল এলাকায় মোহন ও বিথী আক্তারের বিয়ের অনুষ্ঠানে ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, খাবার পরিবেশনের সময় অতিরিক্ত একটি মুরগির রোস্ট চাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরে তা ধীরে ধীরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিয়ের দাওয়াতে অতিথিদের খাবার পরিবেশন চলছিল। এ সময় ছেলে পক্ষের আলম প্যাদা খাবার পরিবেশনকারী কনের চাচা রাসেল মোল্লার কাছে অতিরিক্ত একটি মুরগির রোস্ট চান। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কথার লড়াই একপর্যায়ে উত্তেজনায় রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দুপক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে বিয়ের অনুষ্ঠানস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অতিথিদের মধ্যে হুড়োহুড়ির সৃষ্টি হয়।
সংঘর্ষে আহত হয়েছেন পলাশ মোল্লা (২৯), জুলহাস মোল্লা (২৫) ও রাসেল মোল্লা (২২)। তাদের মধ্যে রাসেল মোল্লার বাম চোখের পাশের অংশে গুরুতর আঘাত লাগে।
পরে স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আহত রাসেল মোল্লার বাম চোখের পাশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কনের মামা বাবলু আকন অভিযোগ করেন, অতিরিক্ত রোস্ট চাওয়াকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ছেলে পক্ষের আলম প্যাদা উত্তেজিত হয়ে হামলা চালান। এরপরই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
তবে এ বিষয়ে ছেলে পক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় লিপি আক্তার (২৭) নামে এক গৃহবধূকে হাত–পা বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী শাহ জামাল (৩৫) এবং শ্বশুর মোসলেম মৃধাকে (৭০) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ওই নারীর করা মামলায় পরে স্বামী ও শ্বশুরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের চরহোসনাবাদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই নারীকে নির্যাতনের একটি ভিডিও ইতিমধ্যে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
২ মিনিট ২৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, টমটমের ওপর এক নারীর হাত বেঁধে তাঁকে মারধর করা হচ্ছে। মারধরের শিকার ওই নারী চিৎকার করে সাহায্য চাইছেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি টমটম থামিয়ে তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করলে নির্যাতনে যুক্ত দুই ব্যক্তির সঙ্গে তাঁদের বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। পরে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে অভিযুক্ত দুজনকে আটক করেন এবং দশমিনা থানা-পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নারীকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের হেফাজতে নেয়।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, ভুক্তভোগী লিপি আক্তারকে উদ্ধারে এগিয়ে গেলে স্থানীয় বাসিন্দা হেলাল মৃধা (৬৫) আহত হন। অভিযোগ আছে, এ সময় লিপি আক্তারের শ্বশুর হাতে থাকা লাঠি দিয়ে হেলাল মৃধার মাথায় আঘাত করেন। এতে হেলালের মাথা ফেটে যায় এবং তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
আহত অবস্থায় হেলাল মৃধা বলেন, ওই নারীর চিৎকার শুনে তিনি এবং আরও কয়েকজন এগিয়ে গিয়ে টমটমটি থামান। তখন টমটমে থাকা শাহ জামাল ও তাঁর বাবা মোসলেম মৃধা তাঁদের ওপর চড়াও হন এবং হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করা হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের আটক করে পুলিশে খবর দেন।
দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন লিপি আক্তার বলেন, তাঁর দুই ছেলে ও তিন মেয়ে আছে। তাঁর স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। এর পর থেকে তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছিল। স্বামী শাহ জামাল ও শ্বশুর মোসলেম মৃধা প্রায়ই তাঁর ওপর নির্যাতন চালাতেন। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিসবৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
লিপি আক্তারের ভাষ্য, গতকাল সকালে মারধরের একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে জ্ঞান ফিরলে দেখেন, তাঁর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় টমটমে করে কোথাও নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তখন চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন।
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে যে স্বামী শাহ জামাল দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকে প্রথম স্ত্রী লিপি আক্তারের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। গতকালও তাঁকে মারধর করে হাত-পা বেঁধে স্বামী ও শ্বশুর কোথাও নিয়ে যাচ্ছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে।’
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় লিপি আক্তার (২৭) নামে এক গৃহবধূকে হাত–পা বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী শাহ জামাল (৩৫) এবং শ্বশুর মোসলেম মৃধাকে (৭০) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ওই নারীর করা মামলায় পরে স্বামী ও শ্বশুরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের চরহোসনাবাদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই নারীকে নির্যাতনের একটি ভিডিও ইতিমধ্যে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
২ মিনিট ২৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, টমটমের ওপর এক নারীর হাত বেঁধে তাঁকে মারধর করা হচ্ছে। মারধরের শিকার ওই নারী চিৎকার করে সাহায্য চাইছেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি টমটম থামিয়ে তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করলে নির্যাতনে যুক্ত দুই ব্যক্তির সঙ্গে তাঁদের বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। পরে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে অভিযুক্ত দুজনকে আটক করেন এবং দশমিনা থানা-পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নারীকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের হেফাজতে নেয়।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, ভুক্তভোগী লিপি আক্তারকে উদ্ধারে এগিয়ে গেলে স্থানীয় বাসিন্দা হেলাল মৃধা (৬৫) আহত হন। অভিযোগ আছে, এ সময় লিপি আক্তারের শ্বশুর হাতে থাকা লাঠি দিয়ে হেলাল মৃধার মাথায় আঘাত করেন। এতে হেলালের মাথা ফেটে যায় এবং তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
আহত অবস্থায় হেলাল মৃধা বলেন, ওই নারীর চিৎকার শুনে তিনি এবং আরও কয়েকজন এগিয়ে গিয়ে টমটমটি থামান। তখন টমটমে থাকা শাহ জামাল ও তাঁর বাবা মোসলেম মৃধা তাঁদের ওপর চড়াও হন এবং হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করা হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের আটক করে পুলিশে খবর দেন।
দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন লিপি আক্তার বলেন, তাঁর দুই ছেলে ও তিন মেয়ে আছে। তাঁর স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। এর পর থেকে তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছিল। স্বামী শাহ জামাল ও শ্বশুর মোসলেম মৃধা প্রায়ই তাঁর ওপর নির্যাতন চালাতেন। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিসবৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
লিপি আক্তারের ভাষ্য, গতকাল সকালে মারধরের একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে জ্ঞান ফিরলে দেখেন, তাঁর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় টমটমে করে কোথাও নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তখন চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন।
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে যে স্বামী শাহ জামাল দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকে প্রথম স্ত্রী লিপি আক্তারের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। গতকালও তাঁকে মারধর করে হাত-পা বেঁধে স্বামী ও শ্বশুর কোথাও নিয়ে যাচ্ছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে।’
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে করা ধর্ষণচেষ্টা মামলা আপস করতে ১০ লাখ টাকা দাবি করেছেন বড় বোন। এ খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, গত ৩১ মে বিদ্যুৎ সংযোগ মেরামত কাজ করতে গিয়ে কলাপাড়া পৌরশহরের বাদুরতলী এলাকার এক নারীকে ধর্ষণচেষ্টা চালায় ইলেকট্রিশিয়ান ফোরকান হাওলাদার। এমন অভিযোগে তাকে আটকে রেখে বেধড়ক পিটিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
পরে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে ফোরকানের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা মামলা করেন। এ ঘটনায় পুলিশ ওই ইলেকট্রিশিয়ানকে আটক করে আদালতে পাঠায়। বর্তমানে তিনি জেলহাজতে রয়েছেন।
তবে এ ঘটনা সম্পূর্ণ পূর্ব পরিকল্পিত এবং সাজানো ষড়যন্ত্র বলে স্থানীয়সহ আটক ব্যক্তির পরিবার দাবি করছেন। ফোরকানের স্ত্রী রেহেনার অভিযোগ, ফোন করে ডেকে নিয়ে কোনো কিছু না বলেই ঘরের দরজা বন্ধ করে হাতুড়িসহ লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে তার স্বামীকে আহত করে তার ননদ বাড়ির লোকজন। তিনি বলেন, অভিযোগকারী ননদ তার স্বামীর চেয়ে বয়সে অন্তত ১৩ বছরের বড়।
তিনি আরও বলেন, বেশ কিছুদিন আগে তার ননদ পরিবার ৫০ হাজার টাকা ধার নেয় তার স্বামী ফোরকানের কাছ থেকে। পরে ইলেকট্রনিকস বিভিন্ন মালমাল নিয়ে আরও ২৫ হাজার টাকা দেনা করে। কিন্তু এসব টাকা ফেরত চাইলেই টালবাহানা শুরু করেন তারা। এরই মধ্যে ননদের মেয়ে জামাতাকে ইয়াবাকাণ্ডে ধরিয়ে দেয় আমার স্বামী। এরপরই ওই পরিবার কৌশলে ডেকে নিয়ে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসিয়ে দিয়ে এখন উল্টো ১০ লাখ টাকা দাবি করছে।
আটক ফোরকানের ছোট ভাই কালাম জানান, ৫ ওয়াক্ত নামাজি একজন মানুষকে ডেকে নিয়ে অহেতুক মারধর করে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ফাঁসিয়ে দিল। মূলত টাকা না দেওয়া আর জামাইয়ের শোধ নিতে তার শাশুড়ি মান সম্মান হারানোর জন্য জঘন্য এই অপবাদ দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ইয়াবা ব্যবসার প্রতিবাদ আর পাওনা টাকা না দেওয়ার জন্য কৌশলে একজনকে ফাঁসানো হয়েছে। তাদের অভিযোগ, সম্প্রতি দেশজুড়ে ধর্ষণের বিষয়ে উত্তাল পরিস্থিতিতে সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে অভিযোগকারীরা।
অপরদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. ফকরুল বলেন, আমি ভাইবোনের বিষয় শুনে ওই নারীর স্বামীকে ফোন দিয়েছিলাম। কিন্তু স্বামীর ফোন দিয়ে তিনি আমাকে সরাসরি বলেন ১০ লাখ টাকা দিলেই মামলা তুলে নেবে। পরে খোঁজ নিয়ে দেখি বিষয়টি ষড়যন্ত্রমূলক।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী নারীর স্বামী ফকু বিশ্বাস বলেন, আমরা কোনো টাকা চাইনি। অন্য একজন এ কথা বলেছিল। আর কোনো ঘটনা মিথ্যা না।
কলাপাড়া থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত চলমান। আমরা সুষ্ঠুভাবে তদন্তের জন্য আর কিছু বলতে পারব না। সঠিক বিষয় তদন্তে বেরিয়ে আসবে।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে করা ধর্ষণচেষ্টা মামলা আপস করতে ১০ লাখ টাকা দাবি করেছেন বড় বোন। এ খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, গত ৩১ মে বিদ্যুৎ সংযোগ মেরামত কাজ করতে গিয়ে কলাপাড়া পৌরশহরের বাদুরতলী এলাকার এক নারীকে ধর্ষণচেষ্টা চালায় ইলেকট্রিশিয়ান ফোরকান হাওলাদার। এমন অভিযোগে তাকে আটকে রেখে বেধড়ক পিটিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
পরে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে ফোরকানের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা মামলা করেন। এ ঘটনায় পুলিশ ওই ইলেকট্রিশিয়ানকে আটক করে আদালতে পাঠায়। বর্তমানে তিনি জেলহাজতে রয়েছেন।
তবে এ ঘটনা সম্পূর্ণ পূর্ব পরিকল্পিত এবং সাজানো ষড়যন্ত্র বলে স্থানীয়সহ আটক ব্যক্তির পরিবার দাবি করছেন। ফোরকানের স্ত্রী রেহেনার অভিযোগ, ফোন করে ডেকে নিয়ে কোনো কিছু না বলেই ঘরের দরজা বন্ধ করে হাতুড়িসহ লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে তার স্বামীকে আহত করে তার ননদ বাড়ির লোকজন। তিনি বলেন, অভিযোগকারী ননদ তার স্বামীর চেয়ে বয়সে অন্তত ১৩ বছরের বড়।
তিনি আরও বলেন, বেশ কিছুদিন আগে তার ননদ পরিবার ৫০ হাজার টাকা ধার নেয় তার স্বামী ফোরকানের কাছ থেকে। পরে ইলেকট্রনিকস বিভিন্ন মালমাল নিয়ে আরও ২৫ হাজার টাকা দেনা করে। কিন্তু এসব টাকা ফেরত চাইলেই টালবাহানা শুরু করেন তারা। এরই মধ্যে ননদের মেয়ে জামাতাকে ইয়াবাকাণ্ডে ধরিয়ে দেয় আমার স্বামী। এরপরই ওই পরিবার কৌশলে ডেকে নিয়ে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসিয়ে দিয়ে এখন উল্টো ১০ লাখ টাকা দাবি করছে।
আটক ফোরকানের ছোট ভাই কালাম জানান, ৫ ওয়াক্ত নামাজি একজন মানুষকে ডেকে নিয়ে অহেতুক মারধর করে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ফাঁসিয়ে দিল। মূলত টাকা না দেওয়া আর জামাইয়ের শোধ নিতে তার শাশুড়ি মান সম্মান হারানোর জন্য জঘন্য এই অপবাদ দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ইয়াবা ব্যবসার প্রতিবাদ আর পাওনা টাকা না দেওয়ার জন্য কৌশলে একজনকে ফাঁসানো হয়েছে। তাদের অভিযোগ, সম্প্রতি দেশজুড়ে ধর্ষণের বিষয়ে উত্তাল পরিস্থিতিতে সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে অভিযোগকারীরা।
অপরদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. ফকরুল বলেন, আমি ভাইবোনের বিষয় শুনে ওই নারীর স্বামীকে ফোন দিয়েছিলাম। কিন্তু স্বামীর ফোন দিয়ে তিনি আমাকে সরাসরি বলেন ১০ লাখ টাকা দিলেই মামলা তুলে নেবে। পরে খোঁজ নিয়ে দেখি বিষয়টি ষড়যন্ত্রমূলক।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী নারীর স্বামী ফকু বিশ্বাস বলেন, আমরা কোনো টাকা চাইনি। অন্য একজন এ কথা বলেছিল। আর কোনো ঘটনা মিথ্যা না।
কলাপাড়া থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত চলমান। আমরা সুষ্ঠুভাবে তদন্তের জন্য আর কিছু বলতে পারব না। সঠিক বিষয় তদন্তে বেরিয়ে আসবে।
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার দাশপাড়া ইউনিয়নে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে খাবার পরিবেশনকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে বিয়ের আনন্দঘন পরিবেশ মুহূর্তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সংঘর্ষে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের চোখের পাশে গুরুতর আঘাত লেগেছে।
ঘটনাটি উপজেলার মোল্লা বাড়ির পোল এলাকায় মোহন ও বিথী আক্তারের বিয়ের অনুষ্ঠানে ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, খাবার পরিবেশনের সময় অতিরিক্ত একটি মুরগির রোস্ট চাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরে তা ধীরে ধীরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিয়ের দাওয়াতে অতিথিদের খাবার পরিবেশন চলছিল। এ সময় ছেলে পক্ষের আলম প্যাদা খাবার পরিবেশনকারী কনের চাচা রাসেল মোল্লার কাছে অতিরিক্ত একটি মুরগির রোস্ট চান। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কথার লড়াই একপর্যায়ে উত্তেজনায় রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দুপক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে বিয়ের অনুষ্ঠানস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অতিথিদের মধ্যে হুড়োহুড়ির সৃষ্টি হয়।
সংঘর্ষে আহত হয়েছেন পলাশ মোল্লা (২৯), জুলহাস মোল্লা (২৫) ও রাসেল মোল্লা (২২)। তাদের মধ্যে রাসেল মোল্লার বাম চোখের পাশের অংশে গুরুতর আঘাত লাগে।
পরে স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আহত রাসেল মোল্লার বাম চোখের পাশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কনের মামা বাবলু আকন অভিযোগ করেন, অতিরিক্ত রোস্ট চাওয়াকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ছেলে পক্ষের আলম প্যাদা উত্তেজিত হয়ে হামলা চালান। এরপরই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
তবে এ বিষয়ে ছেলে পক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।