যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক ঘাটতি কমাতে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি আমদানি চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহকারী মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে এই চুক্তি হয়েছে।
যার আওতায় ১৫ বছরে ধাপে ধাপে ১ লাখ কোটি টাকার এলএনজি সরবরাহ করবে কোম্পানিটি। ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস বর্তমানে মার্কিন এই কোম্পানির স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজর হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি রাষ্ট্রদূতের চাকরি ছেড়ে এক্সিলারেট এনার্জিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে বাংলাদেশে কোম্পানিটির ব্যবসা ক্রমেই বড় হচ্ছে।
দেশে আলোচিত এক নাম পিটার হাস। বহুজাতিক কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জিতে যোগ দেওয়ার আগে বাংলাদেশে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২২ সালের মার্চে ঢাকার দূতাবাসের দায়িত্ব নেন। চাকরি ছেড়ে দেন ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই।
এমন সময় তিনি চাকরি ছাড়েন, যখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে টালমাটাল বাংলাদেশ। এর কিছুদিন পর ৫ আগস্ট পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের দায়িত্ব পালনকালে দুই বছর পিটার ডি হাস দেশের মানবাধিকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, নাগরিক সমাজের ভূমিকা নিয়ে সরব হওয়ার পাশাপাশি একটি সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন ইস্যুতে সরব ছিলেন।
এদিকে, চলতি মাসের শুরুতে পিটার হাস বাংলাদেশে আসেন। এসেই তিনি প্রথমে যান কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ)। পরে ৩ সেপ্টেম্বর তিনি পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তাদের মধ্যে বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
সরকারের সঙ্গে চুক্তি অনুসারে, সাড়ে ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা) এলএনজি সরবরাহ করবে এক্সিলারেট এনার্জি। আগামী বছর থেকে ১৫ বছরব্যাপী ২৩২ কার্গো এলএনজি সরবরাহ করবে মার্কিন এই বহুজাতিক কোম্পানি।
আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি ক্রয়েও মার্কিন এই কোম্পানিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এ ছাড়া বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এই খাতের অন্যান্য পণ্য, বিশেষ করে ডিজেল আমদানির কথাও ভাবছে সরকার। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানান।
চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) মহাব্যবস্থাপক (এলএনজি ডিভিশন) প্রকৌশলী মো. শাহ আলম। তিনি বলেন, ‘সরকার দেশের গ্যাস সংকট কমাতে এলএনজি আমদানির ওপর জোর দিয়েছে। এরই অংশ হিসেবেই মার্কিন এই কোম্পানির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করা হয়েছে।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের পাল্টা শুল্ক নিয়ে আলোচনায় আরও বেশি মার্কিন পণ্য কেনার ব্যাপারে দুই দেশ একমত হয়েছে। এমনিতেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি আমদানি করছে বাংলাদেশ।
ভবিষ্যতে কীভাবে দেশটি থেকে অর্থাৎ এক্সিলারেট এনার্জির মতো প্রতিষ্ঠান থেকে এলএনজি আমদানি বাড়ানো যায়, তা নিয়ে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলমের সঙ্গে কোম্পানির স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজর পিটার হাসের কথা হয়েছে।
একই সময় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পাঠানো ‘বাংলাদেশ-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা নিরসনে জ্বালানি আমদানি’ নীতিপত্রেও বিষয়টি বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে।
জানা গেছে, চুক্তিটি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিশেষ বিধানের অধীনে করা হয়েছে। ২০২৩ সালের ২৩ নভেম্বর এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর বিদ্যুৎ, জ্বালানি খাতের বিশেষ বিধানের অধীনে থাকা একাধিক চুক্তি বাতিল করলেও এটি করেনি। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, মার্কিন এই কোম্পানির সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি হওয়ায় আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে সেটি বাতিল করা যায়নি।
চুক্তি অনুযায়ী, এক্সিলারেট এনার্জি ২০৪০ সাল পর্যন্ত বছরে শূন্য দশমিক ৮৫ থেকে এক মিলিয়ন টন (এমটিপিএ) এলএনজি বাংলাদেশে সরবরাহ করবে। এর মধ্যে ২০২৬-২৭ সালে ২৮টি কার্গো আমদানি করা হবে। পরে ২০২৮ থেকে ২০৪০ সাল পর্যন্ত বছরে ১৬টি করে কার্গো আসবে।
এতে গড় বার্ষিক খরচ দাঁড়াবে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ছাড়াও এক্সিলারেট স্পট মার্কেট থেকেও এলএনজি সরবরাহ করছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৬৩৭ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ১৬টি কার্গো এলএনজি সরবরাহ করেছে কোম্পানিটি। ভবিষ্যতে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে বছরে ২০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের বেশি স্পট কার্গো সরবরাহ করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
শুল্ক ঘাটতি কমাতে ঢাকার নীতিপত্র: ‘বাংলাদেশ-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা নিরসনে জ্বালানি আমদানি’ শীর্ষক নীতিপত্রে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে দ্রুত ক্রয় বৃদ্ধির সুযোগ বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানি আমদানিতেই রয়েছে। বিশেষ করে প্রাথমিক জ্বালানি, মূলত এলএনজি এবং পেট্রোলিয়াম পণ্যের (অপরিশোধিত তেল, পরিশোধিত তেল, এলপিজি ইত্যাদি) ওপর নির্ভরশীল।
নীতিপত্রের সুপারিশে বলা হয়েছে, ৩ দশমিক ৮ মিলিয়ন টন জ্বালানি তেল আমদানির পরিকল্পনায় মার্কিন পরিশোধকদের অন্তর্ভুক্ত করতে সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) আমদানি প্রক্রিয়া ব্যবহার করা। মার্কিন গালফ কোস্ট রিফাইনারি থেকে ডিজেল এবং জ্বালানি তেলের জন্য দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি বা টেন্ডার নিয়ে আলোচনা করা।
বছরে মাত্র শূন্য দশমিক ২ মিলিয়ন টন মার্কিন উৎস থেকে প্রাপ্ত ডিজেল (প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার) অত্যন্ত উপকারী হবে। একইভাবে, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান এলপিজি চাহিদা মেটাতে মার্কিন সরবরাহকারীদের সঙ্গে এলপিজি কার্গোর জন্য টেন্ডার শুরুর সুপারিশ করা হয়েছে।

২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:২০

০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৪৭
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ বলেছেন, পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়, পুলিশ হবে জনগণের বন্ধু, সেবক এবং আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগকারী। তিনি বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মানবাধিকার সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব, সততা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
রোববার (২ আগস্ট) সকালে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সারদায় ২৭তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচের (১ম পর্যায়) সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। সাইবার অপরাধ, ডিজিটাল প্রতারণা, অনলাইন জালিয়াতি ও প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ সদস্যদের আধুনিক প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করতে হবে। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের মাধ্যমে পুলিশকে একটি মানবিক ও জনমুখী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পুলিশ বাহিনীর প্রধান শক্তি হলো জনগণের আস্থা। তাই কোনো প্রকার রাজনৈতিক প্রভাব, পক্ষপাতিত্ব বা গোষ্ঠীগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে সংবিধান ও আইনের প্রতি আনুগত্য বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশপ্রেম, সততা, পেশাদারিত্ব ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্নকারী কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের জনগণের কল্যাণে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এ সময় বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের জন্য তিনজন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের মধ্যে পুরস্কার তুলে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।’

০১ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৩৪

১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১২:৩১
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক ঘাটতি কমাতে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি আমদানি চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহকারী মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে এই চুক্তি হয়েছে।
যার আওতায় ১৫ বছরে ধাপে ধাপে ১ লাখ কোটি টাকার এলএনজি সরবরাহ করবে কোম্পানিটি। ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস বর্তমানে মার্কিন এই কোম্পানির স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজর হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি রাষ্ট্রদূতের চাকরি ছেড়ে এক্সিলারেট এনার্জিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে বাংলাদেশে কোম্পানিটির ব্যবসা ক্রমেই বড় হচ্ছে।
দেশে আলোচিত এক নাম পিটার হাস। বহুজাতিক কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জিতে যোগ দেওয়ার আগে বাংলাদেশে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২২ সালের মার্চে ঢাকার দূতাবাসের দায়িত্ব নেন। চাকরি ছেড়ে দেন ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই।
এমন সময় তিনি চাকরি ছাড়েন, যখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে টালমাটাল বাংলাদেশ। এর কিছুদিন পর ৫ আগস্ট পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের দায়িত্ব পালনকালে দুই বছর পিটার ডি হাস দেশের মানবাধিকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, নাগরিক সমাজের ভূমিকা নিয়ে সরব হওয়ার পাশাপাশি একটি সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন ইস্যুতে সরব ছিলেন।
এদিকে, চলতি মাসের শুরুতে পিটার হাস বাংলাদেশে আসেন। এসেই তিনি প্রথমে যান কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ)। পরে ৩ সেপ্টেম্বর তিনি পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তাদের মধ্যে বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
সরকারের সঙ্গে চুক্তি অনুসারে, সাড়ে ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা) এলএনজি সরবরাহ করবে এক্সিলারেট এনার্জি। আগামী বছর থেকে ১৫ বছরব্যাপী ২৩২ কার্গো এলএনজি সরবরাহ করবে মার্কিন এই বহুজাতিক কোম্পানি।
আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি ক্রয়েও মার্কিন এই কোম্পানিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এ ছাড়া বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এই খাতের অন্যান্য পণ্য, বিশেষ করে ডিজেল আমদানির কথাও ভাবছে সরকার। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানান।
চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) মহাব্যবস্থাপক (এলএনজি ডিভিশন) প্রকৌশলী মো. শাহ আলম। তিনি বলেন, ‘সরকার দেশের গ্যাস সংকট কমাতে এলএনজি আমদানির ওপর জোর দিয়েছে। এরই অংশ হিসেবেই মার্কিন এই কোম্পানির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করা হয়েছে।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের পাল্টা শুল্ক নিয়ে আলোচনায় আরও বেশি মার্কিন পণ্য কেনার ব্যাপারে দুই দেশ একমত হয়েছে। এমনিতেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি আমদানি করছে বাংলাদেশ।
ভবিষ্যতে কীভাবে দেশটি থেকে অর্থাৎ এক্সিলারেট এনার্জির মতো প্রতিষ্ঠান থেকে এলএনজি আমদানি বাড়ানো যায়, তা নিয়ে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলমের সঙ্গে কোম্পানির স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজর পিটার হাসের কথা হয়েছে।
একই সময় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পাঠানো ‘বাংলাদেশ-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা নিরসনে জ্বালানি আমদানি’ নীতিপত্রেও বিষয়টি বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে।
জানা গেছে, চুক্তিটি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিশেষ বিধানের অধীনে করা হয়েছে। ২০২৩ সালের ২৩ নভেম্বর এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর বিদ্যুৎ, জ্বালানি খাতের বিশেষ বিধানের অধীনে থাকা একাধিক চুক্তি বাতিল করলেও এটি করেনি। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, মার্কিন এই কোম্পানির সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি হওয়ায় আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে সেটি বাতিল করা যায়নি।
চুক্তি অনুযায়ী, এক্সিলারেট এনার্জি ২০৪০ সাল পর্যন্ত বছরে শূন্য দশমিক ৮৫ থেকে এক মিলিয়ন টন (এমটিপিএ) এলএনজি বাংলাদেশে সরবরাহ করবে। এর মধ্যে ২০২৬-২৭ সালে ২৮টি কার্গো আমদানি করা হবে। পরে ২০২৮ থেকে ২০৪০ সাল পর্যন্ত বছরে ১৬টি করে কার্গো আসবে।
এতে গড় বার্ষিক খরচ দাঁড়াবে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ছাড়াও এক্সিলারেট স্পট মার্কেট থেকেও এলএনজি সরবরাহ করছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৬৩৭ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ১৬টি কার্গো এলএনজি সরবরাহ করেছে কোম্পানিটি। ভবিষ্যতে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে বছরে ২০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের বেশি স্পট কার্গো সরবরাহ করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
শুল্ক ঘাটতি কমাতে ঢাকার নীতিপত্র: ‘বাংলাদেশ-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা নিরসনে জ্বালানি আমদানি’ শীর্ষক নীতিপত্রে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে দ্রুত ক্রয় বৃদ্ধির সুযোগ বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানি আমদানিতেই রয়েছে। বিশেষ করে প্রাথমিক জ্বালানি, মূলত এলএনজি এবং পেট্রোলিয়াম পণ্যের (অপরিশোধিত তেল, পরিশোধিত তেল, এলপিজি ইত্যাদি) ওপর নির্ভরশীল।
নীতিপত্রের সুপারিশে বলা হয়েছে, ৩ দশমিক ৮ মিলিয়ন টন জ্বালানি তেল আমদানির পরিকল্পনায় মার্কিন পরিশোধকদের অন্তর্ভুক্ত করতে সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) আমদানি প্রক্রিয়া ব্যবহার করা। মার্কিন গালফ কোস্ট রিফাইনারি থেকে ডিজেল এবং জ্বালানি তেলের জন্য দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি বা টেন্ডার নিয়ে আলোচনা করা।
বছরে মাত্র শূন্য দশমিক ২ মিলিয়ন টন মার্কিন উৎস থেকে প্রাপ্ত ডিজেল (প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার) অত্যন্ত উপকারী হবে। একইভাবে, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান এলপিজি চাহিদা মেটাতে মার্কিন সরবরাহকারীদের সঙ্গে এলপিজি কার্গোর জন্য টেন্ডার শুরুর সুপারিশ করা হয়েছে।
একসময় কন্যাসন্তানকে স্কুলে পাঠানোই ছিল অনেক পরিবারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও সন্তানদের শিক্ষিত করার স্বপ্ন দেখেছিলেন রামুর উলামিয়া। তার সেই স্বপ্ন আজ অনন্য এক সাফল্যের গল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার ১৩ মেয়ের মধ্যে ৮ জনই এখন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। পরিবারের ১৬ সন্তানের মধ্যে ১৩ জন মেয়ে ও তিনজন ছেলে—প্রায় সবাই উচ্চশিক্ষিত।
শুধু একটি পরিবারের সাফল্য নয়, রামুর প্রত্যন্ত জনপদে নারীশিক্ষার প্রসারে উলামিয়ার এই উদ্যোগ এখন অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নিজের সন্তানদের শিক্ষিত করার পাশাপাশি তাদের মাধ্যমে অসংখ্য শিশুর ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উলামিয়া এমন এক সময়ে মেয়েদের শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছিলেন, যখন গ্রামাঞ্চলে কন্যাসন্তানদের স্কুলে পাঠানোর প্রবণতা খুবই কম ছিল। সামাজিক নানা বাধা ও প্রচলিত ধারণাকে উপেক্ষা করে তিনি সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেন। তার বিশ্বাস ছিল—ছেলে-মেয়ে সবার জন্য শিক্ষার সুযোগ সমান হওয়া উচিত।
উলামিয়ার ১৩ মেয়ের মধ্যে আটজন বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। হুসনে আরা বেগম বান্দরবান আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, সাবেকুন্নাহার কাজল হাটহাজারী উপজেলার ফতেপুর লতিফপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, মুজিবুননাহার চকরিয়া উপজেলার কাজীর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, রিজিয়া আক্তার চকরিয়া উপজেলার নিজপানখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং সেলিনা আক্তার রামু উপজেলার মেরংলোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত।
এ ছাড়া তাহমিদা ইয়াছমিন রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, ফাহমিদা ইয়াছমিন রাউজান উপজেলার পশ্চিম সোলতানকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং শারমিন আফরোজ নওরীন রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সন্তানদের পড়াশোনার ব্যাপারে উলামিয়া ছিলেন অত্যন্ত সচেতন। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও তিনি তাদের শিক্ষার সুযোগ করে দিয়েছেন। তার মেয়েরাও বাবার স্বপ্নকে নিজেদের জীবনের লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছেন। শিক্ষাজীবন শেষ করে তারা শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হয়েছেন এবং এখন গ্রামের শিশুদের শিক্ষা দেওয়ার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।
উলামিয়ার মেয়ে আনোয়ারা বেগম তার শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত তার ক্লাসে অনেক ছেলে শিক্ষার্থীর বিপরীতে তিনি ছিলেন একমাত্র মেয়ে শিক্ষার্থী। সে সময় নানা প্রতিকূলতা থাকলেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে পরিবারের পক্ষ থেকে তিনি পেয়েছেন পূর্ণ সমর্থন।
উলামিয়ার বড় ছেলে ও রামু সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছলিম উল্লাহ বলেন, তাদের বাবা সবসময় সন্তানদের শিক্ষার ব্যাপারে উৎসাহ দিতেন। তার ভাষায়, বাবার কাছে শিক্ষা ছিল সম্মানের প্রতীক। বাবার মৃত্যুর পরও তিনি নিজের ক্যারিয়ারের পাশাপাশি ছোট ভাই-বোনদের পড়াশোনা ও প্রতিষ্ঠিত করার দায়িত্ব পালন করেছেন।
জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল শামসুদ্দিন মো. প্রিন্স বলেন, উলামিয়ার ত্যাগ, দূরদর্শিতা ও মেয়েদের শিক্ষার প্রতি তার গুরুত্বের কারণে পরিবারটি এলাকায় একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। তার পরিবারের সাফল্য দেখে অন্য পরিবারগুলোও মেয়েদের শিক্ষার বিষয়ে উৎসাহিত হচ্ছে।
রামু উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. হানিফ মিয়া বলেন, একই পরিবারের আটজন সদস্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া সত্যিই বিরল ঘটনা। তাদের এই সাফল্যে আমরা গর্বিত। পরিবারটি অন্যদের জন্যও অনুকরণীয় উদাহরণ।
কক্সবাজারে নারীশিক্ষার পিছিয়ে থাকার প্রসঙ্গ তুলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব এবং রামুর কৃতী সন্তান মাফরুহা সুলতানা বলেন, আর্থিক সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি ধর্মীয় ও সামাজিক নানা কারণে এই অঞ্চলে নারীশিক্ষা দীর্ঘদিন পিছিয়ে ছিল। এমন বাস্তবতায় সামাজিক বাধা উপেক্ষা করে উলামিয়া তার কন্যাসন্তানদের শিক্ষিত করে তুলেছেন। এর মাধ্যমে তিনি শুধু একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়েননি, সমাজ ও দেশ গঠনের জন্য একাধিক শিক্ষিত মানুষ তৈরি করেছেন।
তিনি আরও বলেন, এই সাফল্যের পেছনে উলামিয়ার স্ত্রীদের অবদানও গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানদের লালন-পালন, শিক্ষার প্রতি তাদের সমর্থন এবং পরিবারের প্রতি তাদের ত্যাগ এই সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি।
একজন বাবার দূরদর্শিতা, মায়ের ত্যাগ এবং সন্তানদের অধ্যবসায়ের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই পরিবার এখন রামুর মানুষের কাছে একটি অনন্য উদাহরণ। ১৩ মেয়ের মধ্যে আটজনের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া প্রমাণ করে, সুযোগ ও পরিবারের সহযোগিতা পেলে মেয়েরাও পরিবার, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
উলামিয়ার পরিবারের গল্প তাই শুধু একটি পরিবারের সাফল্যের গল্প নয়; এটি নারীশিক্ষা, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং একটি প্রজন্মকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার অনুপ্রেরণার গল্প।
একসময় কন্যাসন্তানকে স্কুলে পাঠানোই ছিল অনেক পরিবারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও সন্তানদের শিক্ষিত করার স্বপ্ন দেখেছিলেন রামুর উলামিয়া। তার সেই স্বপ্ন আজ অনন্য এক সাফল্যের গল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার ১৩ মেয়ের মধ্যে ৮ জনই এখন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। পরিবারের ১৬ সন্তানের মধ্যে ১৩ জন মেয়ে ও তিনজন ছেলে—প্রায় সবাই উচ্চশিক্ষিত।
শুধু একটি পরিবারের সাফল্য নয়, রামুর প্রত্যন্ত জনপদে নারীশিক্ষার প্রসারে উলামিয়ার এই উদ্যোগ এখন অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নিজের সন্তানদের শিক্ষিত করার পাশাপাশি তাদের মাধ্যমে অসংখ্য শিশুর ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উলামিয়া এমন এক সময়ে মেয়েদের শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছিলেন, যখন গ্রামাঞ্চলে কন্যাসন্তানদের স্কুলে পাঠানোর প্রবণতা খুবই কম ছিল। সামাজিক নানা বাধা ও প্রচলিত ধারণাকে উপেক্ষা করে তিনি সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেন। তার বিশ্বাস ছিল—ছেলে-মেয়ে সবার জন্য শিক্ষার সুযোগ সমান হওয়া উচিত।
উলামিয়ার ১৩ মেয়ের মধ্যে আটজন বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। হুসনে আরা বেগম বান্দরবান আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, সাবেকুন্নাহার কাজল হাটহাজারী উপজেলার ফতেপুর লতিফপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, মুজিবুননাহার চকরিয়া উপজেলার কাজীর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, রিজিয়া আক্তার চকরিয়া উপজেলার নিজপানখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং সেলিনা আক্তার রামু উপজেলার মেরংলোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত।
এ ছাড়া তাহমিদা ইয়াছমিন রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, ফাহমিদা ইয়াছমিন রাউজান উপজেলার পশ্চিম সোলতানকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং শারমিন আফরোজ নওরীন রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সন্তানদের পড়াশোনার ব্যাপারে উলামিয়া ছিলেন অত্যন্ত সচেতন। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও তিনি তাদের শিক্ষার সুযোগ করে দিয়েছেন। তার মেয়েরাও বাবার স্বপ্নকে নিজেদের জীবনের লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছেন। শিক্ষাজীবন শেষ করে তারা শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হয়েছেন এবং এখন গ্রামের শিশুদের শিক্ষা দেওয়ার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।
উলামিয়ার মেয়ে আনোয়ারা বেগম তার শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত তার ক্লাসে অনেক ছেলে শিক্ষার্থীর বিপরীতে তিনি ছিলেন একমাত্র মেয়ে শিক্ষার্থী। সে সময় নানা প্রতিকূলতা থাকলেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে পরিবারের পক্ষ থেকে তিনি পেয়েছেন পূর্ণ সমর্থন।
উলামিয়ার বড় ছেলে ও রামু সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছলিম উল্লাহ বলেন, তাদের বাবা সবসময় সন্তানদের শিক্ষার ব্যাপারে উৎসাহ দিতেন। তার ভাষায়, বাবার কাছে শিক্ষা ছিল সম্মানের প্রতীক। বাবার মৃত্যুর পরও তিনি নিজের ক্যারিয়ারের পাশাপাশি ছোট ভাই-বোনদের পড়াশোনা ও প্রতিষ্ঠিত করার দায়িত্ব পালন করেছেন।
জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল শামসুদ্দিন মো. প্রিন্স বলেন, উলামিয়ার ত্যাগ, দূরদর্শিতা ও মেয়েদের শিক্ষার প্রতি তার গুরুত্বের কারণে পরিবারটি এলাকায় একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। তার পরিবারের সাফল্য দেখে অন্য পরিবারগুলোও মেয়েদের শিক্ষার বিষয়ে উৎসাহিত হচ্ছে।
রামু উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. হানিফ মিয়া বলেন, একই পরিবারের আটজন সদস্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া সত্যিই বিরল ঘটনা। তাদের এই সাফল্যে আমরা গর্বিত। পরিবারটি অন্যদের জন্যও অনুকরণীয় উদাহরণ।
কক্সবাজারে নারীশিক্ষার পিছিয়ে থাকার প্রসঙ্গ তুলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব এবং রামুর কৃতী সন্তান মাফরুহা সুলতানা বলেন, আর্থিক সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি ধর্মীয় ও সামাজিক নানা কারণে এই অঞ্চলে নারীশিক্ষা দীর্ঘদিন পিছিয়ে ছিল। এমন বাস্তবতায় সামাজিক বাধা উপেক্ষা করে উলামিয়া তার কন্যাসন্তানদের শিক্ষিত করে তুলেছেন। এর মাধ্যমে তিনি শুধু একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়েননি, সমাজ ও দেশ গঠনের জন্য একাধিক শিক্ষিত মানুষ তৈরি করেছেন।
তিনি আরও বলেন, এই সাফল্যের পেছনে উলামিয়ার স্ত্রীদের অবদানও গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানদের লালন-পালন, শিক্ষার প্রতি তাদের সমর্থন এবং পরিবারের প্রতি তাদের ত্যাগ এই সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি।
একজন বাবার দূরদর্শিতা, মায়ের ত্যাগ এবং সন্তানদের অধ্যবসায়ের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই পরিবার এখন রামুর মানুষের কাছে একটি অনন্য উদাহরণ। ১৩ মেয়ের মধ্যে আটজনের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া প্রমাণ করে, সুযোগ ও পরিবারের সহযোগিতা পেলে মেয়েরাও পরিবার, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
উলামিয়ার পরিবারের গল্প তাই শুধু একটি পরিবারের সাফল্যের গল্প নয়; এটি নারীশিক্ষা, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং একটি প্রজন্মকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার অনুপ্রেরণার গল্প।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ বলেছেন, পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়, পুলিশ হবে জনগণের বন্ধু, সেবক এবং আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগকারী। তিনি বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মানবাধিকার সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব, সততা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
রোববার (২ আগস্ট) সকালে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সারদায় ২৭তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচের (১ম পর্যায়) সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। সাইবার অপরাধ, ডিজিটাল প্রতারণা, অনলাইন জালিয়াতি ও প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ সদস্যদের আধুনিক প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করতে হবে। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের মাধ্যমে পুলিশকে একটি মানবিক ও জনমুখী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পুলিশ বাহিনীর প্রধান শক্তি হলো জনগণের আস্থা। তাই কোনো প্রকার রাজনৈতিক প্রভাব, পক্ষপাতিত্ব বা গোষ্ঠীগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে সংবিধান ও আইনের প্রতি আনুগত্য বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশপ্রেম, সততা, পেশাদারিত্ব ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্নকারী কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের জনগণের কল্যাণে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এ সময় বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের জন্য তিনজন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের মধ্যে পুরস্কার তুলে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।’
সংসদের ছোটখাটো বিষয়কে রাজপথে আনাসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্থিরতা ও বিভ্রান্তি তৈরির অপচেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। শনিবার (০১ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ) ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর যৌথ উদ্যোগে ‘ফ্যাসিবাদের ১৫ বছর ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক ফটো অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন এবং বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে আমরা যখন গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিচর্চা করতে চাই এবং জাতীয় সংসদকে একটি কার্যকর সংসদীয় সংস্কৃতির ধারায় এগিয়ে নিতে চাই, তখন দেখা যায় কেউ কেউ সংসদের চেয়ে রাজপথকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন।সরকার ষড়যন্ত্রের গভীরতা সম্পর্কে সচেতন। তবে দায়িত্বশীল সরকার হিসেবে তারা উত্তেজনা নয়, বরং গঠনমূলক সমাধানেই বিশ্বাসী।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বুঝি বলেই দায়িত্বশীল আচরণ করি, অভিভাবকের ভাষায় কথা বলি। সংসদের ছোটখাটো বিষয়কে রাজপথে আনাসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্থিরতা ও বিভ্রান্তি তৈরির অপচেষ্টা চলছে। প্রতিক্রিয়াশীল ও উসকানিমূলক বক্তব্য কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দূষিত পরিবেশ সৃষ্টি করে রাষ্ট্র পরিচালনা করা যায় না।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল মানুষের ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং একটি স্বাধীন, স্বনির্ভর ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। সেই আন্দোলনের পর্ব শেষ হয়েছে। এখন দেশ গঠনের সময়।’
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘এখন আমাদের প্রধান দায়িত্ব দেশ গড়া। যারা সমস্যা তৈরি করবে, তাদের সঙ্গে প্রথমে গঠনমূলকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। তবে রাষ্ট্র, দেশ ও জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও পিছপা হবে না।’
তিনি বলেন, দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে আলোকচিত্র গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে কাজ করবে। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গণতন্ত্র ও আন্দোলনের ইতিহাস জানতে সহায়তা করবে।
অনুষ্ঠানে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, গত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ছিল বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম। এই আন্দোলনের ত্যাগ, নির্যাতন ও আত্মদানের বাস্তব চিত্র তিন দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে ফুটে উঠেছে।
তিনি বলেন, এই প্রদর্শনী অতীতের নির্মমতা স্মরণ করিয়ে দেবে এবং ভবিষ্যতে যেন দেশে আর কোনো স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল ১৬ বছরের আন্দোলন, শোষণ, নিপীড়ন ও ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। তিনি শহিদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বিপিজেএর সভাপতি এ কে এম মহসীন বলেন, ফটোসাংবাদিকরা ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে, এমনকি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়েও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করেন। অথচ তাদের প্রাপ্য সম্মান ও মূল্যায়ন অনেক সময় করা হয় না, যা দুঃখজনক।
তিনি বলেন, ফটোসাংবাদিকদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। তাদের মূল্যায়ন করা উচিত। এ সময় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিগত ১৭ বছরের আন্দোলনে আহত ফটোসাংবাদিকদের যথাযথ মূল্যায়ন করেছেন।
সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন বলেন, জুলাই আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা একক গোষ্ঠীর অর্জন নয়; এটি ছিল সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত সংগ্রাম। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে কেউ কেউ জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব এককভাবে দাবি করে বিভাজন সৃষ্টি করছেন, যা আন্দোলনের চেতনার পরিপন্থি।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্যাতনের শিকার হলেও তা নিয়ে কখনো রাজনৈতিক প্রচারণা করেননি।’
সংসদের ছোটখাটো বিষয়কে রাজপথে আনাসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্থিরতা ও বিভ্রান্তি তৈরির অপচেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। শনিবার (০১ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ) ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর যৌথ উদ্যোগে ‘ফ্যাসিবাদের ১৫ বছর ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক ফটো অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন এবং বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে আমরা যখন গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিচর্চা করতে চাই এবং জাতীয় সংসদকে একটি কার্যকর সংসদীয় সংস্কৃতির ধারায় এগিয়ে নিতে চাই, তখন দেখা যায় কেউ কেউ সংসদের চেয়ে রাজপথকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন।সরকার ষড়যন্ত্রের গভীরতা সম্পর্কে সচেতন। তবে দায়িত্বশীল সরকার হিসেবে তারা উত্তেজনা নয়, বরং গঠনমূলক সমাধানেই বিশ্বাসী।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বুঝি বলেই দায়িত্বশীল আচরণ করি, অভিভাবকের ভাষায় কথা বলি। সংসদের ছোটখাটো বিষয়কে রাজপথে আনাসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্থিরতা ও বিভ্রান্তি তৈরির অপচেষ্টা চলছে। প্রতিক্রিয়াশীল ও উসকানিমূলক বক্তব্য কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দূষিত পরিবেশ সৃষ্টি করে রাষ্ট্র পরিচালনা করা যায় না।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল মানুষের ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং একটি স্বাধীন, স্বনির্ভর ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। সেই আন্দোলনের পর্ব শেষ হয়েছে। এখন দেশ গঠনের সময়।’
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘এখন আমাদের প্রধান দায়িত্ব দেশ গড়া। যারা সমস্যা তৈরি করবে, তাদের সঙ্গে প্রথমে গঠনমূলকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। তবে রাষ্ট্র, দেশ ও জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও পিছপা হবে না।’
তিনি বলেন, দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে আলোকচিত্র গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে কাজ করবে। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গণতন্ত্র ও আন্দোলনের ইতিহাস জানতে সহায়তা করবে।
অনুষ্ঠানে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, গত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ছিল বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম। এই আন্দোলনের ত্যাগ, নির্যাতন ও আত্মদানের বাস্তব চিত্র তিন দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে ফুটে উঠেছে।
তিনি বলেন, এই প্রদর্শনী অতীতের নির্মমতা স্মরণ করিয়ে দেবে এবং ভবিষ্যতে যেন দেশে আর কোনো স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল ১৬ বছরের আন্দোলন, শোষণ, নিপীড়ন ও ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। তিনি শহিদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বিপিজেএর সভাপতি এ কে এম মহসীন বলেন, ফটোসাংবাদিকরা ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে, এমনকি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়েও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করেন। অথচ তাদের প্রাপ্য সম্মান ও মূল্যায়ন অনেক সময় করা হয় না, যা দুঃখজনক।
তিনি বলেন, ফটোসাংবাদিকদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। তাদের মূল্যায়ন করা উচিত। এ সময় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিগত ১৭ বছরের আন্দোলনে আহত ফটোসাংবাদিকদের যথাযথ মূল্যায়ন করেছেন।
সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন বলেন, জুলাই আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা একক গোষ্ঠীর অর্জন নয়; এটি ছিল সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত সংগ্রাম। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে কেউ কেউ জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব এককভাবে দাবি করে বিভাজন সৃষ্টি করছেন, যা আন্দোলনের চেতনার পরিপন্থি।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্যাতনের শিকার হলেও তা নিয়ে কখনো রাজনৈতিক প্রচারণা করেননি।’
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৫৭
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:০৮
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:২৪
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০৬