ছবি: সংগৃহীত
নির্ধারত সময়ের আগে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় বিক্ষুব্ধদের চাপের মুখে আংশিক টাকা ফেরত দিতে পিসি জসিমের সমঝোতা বৈঠক।
কিছুতেই বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না বরিশাল আনসার বাহিনীর। এবার প্রকাশ্যে এসেছে সদর উপজেলার কর্নকাঠিতে একটি প্রকল্পে অঙ্গীভূত আনসার সদস্য নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়টি। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় আনসার ক্যাম্পের ইনচার্জ পিসি জসিম উদ্দিন অর্ধ লাখ টাকার বদৌলতে তিন আনসার সদস্য শুভ, জাহিদ এবং তাপসকে নিয়োগ পেতে সহযোগিতা করেন। জেলা আনসার কর্মকর্তাকে ম্যানেজের নামে দুজনের কাছ থেকে ৪০ হাজার এবং একজনের কাছ থেকে আরও ১৭ হাজার টাকা নিয়েছেন। প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বলে এই অর্থ নেওয়া হলেও চার মাসের মাথায় চায়না ন্যাশনাল বিজিবি ক্যাম্প কার্যক্রম বন্ধ হতে যাওয়া এবং বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় পিসি জসিম বেকায়দায় পড়েছেন। সংক্ষুব্ধ তিন আনসার সদস্য তাদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থও ফেরত চেয়েছে, যা নিয়ে গত ১৩ এপ্রিল ওই প্রকল্পে নিয়োজিত পিসি হুমায়নের মধ্যস্ততায় স্থানীয় তালুকদার মার্কেটে সমঝোতা বৈঠক করে জসিম। আনসার নিয়ে ঘুষ বাণিজ্য এবং সেই টাকা নিয়ে গন্ডগোল পরিশেষে সমঝোতা বৈঠকের ঘটনাটি প্রকাশ পেতেই বাহিনীটির শুরু হয়েছে তোলপাড়। এবং এই ঘুষ বাণিজ্যের ঘটনাটি শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের সংক্ষুব্ধ করে তুলেছে বলে জানা গেছে।
বিভিন্ন সূত্র জানায়, ঘুষখোর পিসি জসিম এর আগেও বেশ কয়েকটি বিতর্কিত ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন। আওয়ামী লীগপন্থী এই আনসার কর্মকর্তা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পরে আন্দোলনের নামে বিভিন্নভাবে অন্তর্বর্তী সরকারকে বিপদে ফেলারও চেষ্টা চালিয়েছেন। কিন্তু সেখানে তিনি ব্যর্থ হয়ে চাকরি রক্ষার্থে একপর্যায়ে চেপে ঘুস বাণিজ্যের পথ বেচে নিয়েছেন। পিসি জসিম যে বিতর্কিত কর্মকর্তা এবং স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের দোসর তা বরিশাল জেলা আনসার অফিসের একাধিক কর্মকর্তা এবং চায়না ক্যাম্পে নিয়োজিত তার সহকর্মীরাও নিশ্চিত করেন।
শুভ-তাপস এবং জাহিদ অভিযোগ করেন, গত ১ জানুয়ারি তাদের তিনজনকে চায়না ন্যাশনাল বিজিবি ক্যাম্পে নিয়োগ পেতে সহযোগিতা করে মোট সাতান্ন হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। একই কর্মস্থলে এক বছর থাকতে হলেও জেলা কমান্ড্যান্ট মো. রাকিবুল ইসলামকে ম্যানেজ করতে হবে বলে এই অর্থ নেওয়া হয়। কিন্তু চার মাস অতিক্রম হওয়ার আগেই তাদের সরিয়ে দেওয়ার একটি পরিবেশ তৈরি হলে ঘুষের লেনদেনের বিষয়টি আলোচনায় আসে। এবং তিন আনসার সদস্য পিসি জসিমের কাছে টাকা ফেরত চেয়ে চাপপ্রয়োগ করতে থাকেন। এনিয়ে কিছুদিন নিজেদের মধ্যেকার সংঘাত-সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হলে গত ১৩ এপ্রিল চায়না ক্যাম্পের ইনচার্জ হুমায়ন কবিরের মধ্যস্ততায় তালুকদার মার্কেটে একটি সমঝোতা বৈঠক বসানো হয়।
সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পিসি জসিম শুভ এবং তাপসের ৪০ হাজারের ১২ হাজার টাকা এবং জাহিদের ১৭ হাজার টাকার ৪ হাজার ফেরত দিতে সম্মত হন। এবং বাকি টাকা জেলা আনসার কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম নিয়েছেন, যা আর ফেরত আনা সম্ভবপর নয় বলে সরল স্বীকারোক্তি দেন পিসি জসিম।
কিভাবে ঘুষ বাণিজ্য হয় এবং পিসি হুমায়নের মধ্যস্ততায় তালুকদার মার্কেটে সমঝোতা বৈঠকে অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে এ প্রতিবেদকের সাথে ভুক্তভোগী তিন আনসার সদস্য খোলামেলা কথা বলেছেন, যার ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত আছে।
পিসি জসিম প্রথমে এই ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ অস্বীকার করলেও বিভিন্ন মাধ্যম থেকে যোগাযোগ করে সংবাদ প্রকাশ না করতে অনুরোধ রাখেন এবং আর্থিক সমঝোতার প্রস্তাবও দেয়া হয়। ফলে এই গোটা ঘুষ বাণিজ্য যে তার মাধ্যমে হয়েছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তাছাড়া সমঝোতা বৈঠকে মধ্যস্ততা করা পিসি হুমায়নও ঘুস বাণিজ্যে জসিম জড়িত থাকার বিষয়টি এ প্রতিবেদকের কাছে স্বীকার করেছেন।
তবে অঙ্গীভুত আনসার কর্মকর্তা পিসি জসিমের এই ঘুষ বাণিজ্য সম্পর্কে মোটেও ওয়াকিবহাল নন বলে জানিয়েছেন জেলা আনসার কমান্ড্যান্ট মো. রাকিবুল ইসলাম। তিনি সাংবাদিকদের জানান, পিসি জসিমের ঘুষগ্রহণ এবং সেই টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে বৈঠক হওয়ার খবর বিভিন্ন মাধ্যম শুনেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন, ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে। ঘুষের টাকার অধিকাংশ আপনাকে দিয়ে ম্যানেজ করা হয়, জসিমের এমন বক্তব্য অস্বীকার করেছেন জেলা কর্মকর্তা।
অঙ্গীভূত আনসার সদস্য নিয়োগে এর আগেও একাধিক ঘুষ লেনদেনসহ ব্যাপক বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে জেলা উপজেলার শীর্ষ কর্মকর্তারা, যা নিয়ে অতীতে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় একাধিক শিরোনাম হয়। কিন্তু সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তনের পরেও এই আনসার নিয়োগের ক্ষেত্রে এই ঘুষের রীতি চলমান থাকায় বাহিনীটির স্বচ্ছতা নিয়ে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। এখন দেখা যায়, আদর্শচ্যুৎ এবং নীতিবিবর্জিত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বাহিনীর তরফ থেকে কি ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’
বরিশাল টাইমস

২৯ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:৩৯
বরিশালের বানারীপাড়ায় সাইবার মামলায় উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের আহমদাবাদ (বেতাল) হোসাইনিয়া আলিম মাদ্রাসা'র সদ্য সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হালিমকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৮।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটের, দিকে বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকার লুৎফুর রহমান সড়কের ভাড়াটিয়া বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে র্যাব-৮ তাকে বানারীপাড়া থানায় হস্তান্তর করেন। মামলা দায়েরের বিষয়ে বাদী অ্যাডভোকেট গোলাম মাওলা জুবায়ের বলেন, ওই মাদরাসার সাবেক শিক্ষক তার মরহুম পিতা আব্দুল জব্বার ফকিরের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হালিম কিছুদিন পূর্বে স্থানীয় এক সাংবাদিককে দেওয়া ভিডিও বার্তায় অসত্য, আপত্তিজনক ও মানহানিকর বক্তব্য প্রদান করেন। তার এ ভিডিও বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হয়।
এতে তার মরহুম পিতা ও তার পরিবারের সম্মানহানি হয়েছে। ফলে তিনি বাদী হয়ে মাওলানা আব্দুল হালিম এবং ভিডিও বক্তব্যধারণ ও প্রচারকারী ওই সাংবাদিককে আসামী করে বরিশাল সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় মাওলানা আব্দুল হালিমকে শনিবার বরিশাল নগরী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বানারীপাড়া থানার ওসি মো. মজিবুর রহমান জানান,সাইবার মামলার আসামী মাওলনা আব্দুল হালিমকে র্যাব গ্রেপ্তার করে থানায় সোপর্দ করার পরে এদিন (শনিবার) বিকালে তাকে বরিশাল আদালতে পাঠানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত প্রশাসনিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, নিজ হাতে ঘষামাজা সার্টিফিকেট, আর্থিক অনিয়ম ও দায়িত্ব পালনে গুরুতর অসাদাচারণসহ নানা অভিযোগে তাকে অধ্যক্ষের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। গত ১৪ জুলাই সকালে রুহুল আমিন জসিমের সভাপতিত্বে মাদরাসার গর্ভনিংবডির সভায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে উপাধ্যক্ষ মো. অলিউল্লাহ্কে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব অর্পণ করা হয় এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

২৯ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৪৯
বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানা পুলিশের অভিযানে বিপুলসংখ্যক ইয়াবাসহ মনু ইসলাম ওরফে মনির (৩৮) নামের এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়েছেন। শনিবার বেলা দেড়টার দিকে তাকে থানাধীন কলসগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, জামালপুরের শ্রীচন্দ্রবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা যুবক মনু ইসলাম ওরফে মনির চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদক সরবরাহ করে থাকেন। শনিবার সেই ধারাবাহিকতায় তিনি ১৪০০ পিস ইয়াবার একটি চালান বরিশালে নিয়ে আসেন এবং গন্তব্যের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। কিন্তু এর আগে টুপি-পাঞ্জাবী পরিহিত এই ব্যক্তিকে কাশিপুরের কলসগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় বিমানবন্দর থানা পুলিশের একটি টিম।
এই অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন এসআই মো. জাহিদ হাসান। পুলিশ কর্মকর্তা বরিশালটাইমসকে জানান, মাদকের চালানটি বরিশাল শহরের এক ব্যবসায়ীকে পৌছে দেওয়ার উদ্দেশে নিয়ে আসেন মনু ইসলাম ওরফে মনির। কিন্তু এর আগেই তাকে পাকড়াও করা হয়।
এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করেছে বিমানবন্দর থানা পুলিশ।’

২৮ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:২৬
কারও বাবা নেই, কারও মা নেই! তবে সকলেই মেধাবী, আগামীর স্বপ্নে বিভোর- এই ধরনের ২০ শিশুর অগ্রযাত্রায় সারথী হতে এগিয়ে এসেছে বরিশালের আলোচিত ‘৮৪ ইভেন্ট গ্রুপ’। বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা শিশু সুরক্ষা কমিটির অভিভাবক সমাবেশ ও শিক্ষা বৃত্তির আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠনটি দারিদ্র্য শিশুদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করে। অবশ্য এই সংগঠনটি এরআগেও এই ধরনের সমাজকল্যাণ এবং মানবিক কর্মকান্ডে অংশ নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা তৈরি করে।
সংগঠনটি জানায়, বৃহস্পতিবার আয়োজন করে ‘৮৪ ইভেন্ট গ্রুপ’ চার শিশুর ৬ মাসের শিক্ষা অভিভাবকত্ব গ্রহণ করাসহ প্রাথমিকভাবে ৫ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাদের এই ধরনের মানবিক কর্মকান্ডে অনুপ্রাণিত হয়ে আরও ১৬ শিশুর দায়িত্ব নিয়েছেন সমাজের সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষা বৃত্তি বিতরণ করেন বিভাগীয় পরিচালক শাহ্ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।
‘৮৪ ইভেন্ট গ্রুপ’সংশ্লিষ্টরা জানান, বহুমুখী প্রতিকূল পরিবেশ এবং দারিদ্র্যতার মধ্যেও ২০ শিশু পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছে, যার প্রেক্ষিতে সংগঠনটি এই আয়োজন করেছে। এবং আগামীতে পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছে।
একটি শিশুর স্বপ্ন যেনো দারিদ্র্যের কাছে যেনো হার না মানে। এবং তাদের চোখের স্বপ্নগুলো বেঁচে থাকুক ও আলোর পথে এগিয়ে যাক- এমন স্লোগানে আগামীর পথে হাঁটছে ‘৮৪ ইভেন্ট গ্রুপ’।

১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১৪:৪৮
নির্ধারত সময়ের আগে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় বিক্ষুব্ধদের চাপের মুখে আংশিক টাকা ফেরত দিতে পিসি জসিমের সমঝোতা বৈঠক।
কিছুতেই বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না বরিশাল আনসার বাহিনীর। এবার প্রকাশ্যে এসেছে সদর উপজেলার কর্নকাঠিতে একটি প্রকল্পে অঙ্গীভূত আনসার সদস্য নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়টি। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় আনসার ক্যাম্পের ইনচার্জ পিসি জসিম উদ্দিন অর্ধ লাখ টাকার বদৌলতে তিন আনসার সদস্য শুভ, জাহিদ এবং তাপসকে নিয়োগ পেতে সহযোগিতা করেন। জেলা আনসার কর্মকর্তাকে ম্যানেজের নামে দুজনের কাছ থেকে ৪০ হাজার এবং একজনের কাছ থেকে আরও ১৭ হাজার টাকা নিয়েছেন। প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বলে এই অর্থ নেওয়া হলেও চার মাসের মাথায় চায়না ন্যাশনাল বিজিবি ক্যাম্প কার্যক্রম বন্ধ হতে যাওয়া এবং বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় পিসি জসিম বেকায়দায় পড়েছেন। সংক্ষুব্ধ তিন আনসার সদস্য তাদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থও ফেরত চেয়েছে, যা নিয়ে গত ১৩ এপ্রিল ওই প্রকল্পে নিয়োজিত পিসি হুমায়নের মধ্যস্ততায় স্থানীয় তালুকদার মার্কেটে সমঝোতা বৈঠক করে জসিম। আনসার নিয়ে ঘুষ বাণিজ্য এবং সেই টাকা নিয়ে গন্ডগোল পরিশেষে সমঝোতা বৈঠকের ঘটনাটি প্রকাশ পেতেই বাহিনীটির শুরু হয়েছে তোলপাড়। এবং এই ঘুষ বাণিজ্যের ঘটনাটি শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের সংক্ষুব্ধ করে তুলেছে বলে জানা গেছে।
বিভিন্ন সূত্র জানায়, ঘুষখোর পিসি জসিম এর আগেও বেশ কয়েকটি বিতর্কিত ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন। আওয়ামী লীগপন্থী এই আনসার কর্মকর্তা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পরে আন্দোলনের নামে বিভিন্নভাবে অন্তর্বর্তী সরকারকে বিপদে ফেলারও চেষ্টা চালিয়েছেন। কিন্তু সেখানে তিনি ব্যর্থ হয়ে চাকরি রক্ষার্থে একপর্যায়ে চেপে ঘুস বাণিজ্যের পথ বেচে নিয়েছেন। পিসি জসিম যে বিতর্কিত কর্মকর্তা এবং স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের দোসর তা বরিশাল জেলা আনসার অফিসের একাধিক কর্মকর্তা এবং চায়না ক্যাম্পে নিয়োজিত তার সহকর্মীরাও নিশ্চিত করেন।
শুভ-তাপস এবং জাহিদ অভিযোগ করেন, গত ১ জানুয়ারি তাদের তিনজনকে চায়না ন্যাশনাল বিজিবি ক্যাম্পে নিয়োগ পেতে সহযোগিতা করে মোট সাতান্ন হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। একই কর্মস্থলে এক বছর থাকতে হলেও জেলা কমান্ড্যান্ট মো. রাকিবুল ইসলামকে ম্যানেজ করতে হবে বলে এই অর্থ নেওয়া হয়। কিন্তু চার মাস অতিক্রম হওয়ার আগেই তাদের সরিয়ে দেওয়ার একটি পরিবেশ তৈরি হলে ঘুষের লেনদেনের বিষয়টি আলোচনায় আসে। এবং তিন আনসার সদস্য পিসি জসিমের কাছে টাকা ফেরত চেয়ে চাপপ্রয়োগ করতে থাকেন। এনিয়ে কিছুদিন নিজেদের মধ্যেকার সংঘাত-সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হলে গত ১৩ এপ্রিল চায়না ক্যাম্পের ইনচার্জ হুমায়ন কবিরের মধ্যস্ততায় তালুকদার মার্কেটে একটি সমঝোতা বৈঠক বসানো হয়।
সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পিসি জসিম শুভ এবং তাপসের ৪০ হাজারের ১২ হাজার টাকা এবং জাহিদের ১৭ হাজার টাকার ৪ হাজার ফেরত দিতে সম্মত হন। এবং বাকি টাকা জেলা আনসার কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম নিয়েছেন, যা আর ফেরত আনা সম্ভবপর নয় বলে সরল স্বীকারোক্তি দেন পিসি জসিম।
কিভাবে ঘুষ বাণিজ্য হয় এবং পিসি হুমায়নের মধ্যস্ততায় তালুকদার মার্কেটে সমঝোতা বৈঠকে অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে এ প্রতিবেদকের সাথে ভুক্তভোগী তিন আনসার সদস্য খোলামেলা কথা বলেছেন, যার ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত আছে।
পিসি জসিম প্রথমে এই ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ অস্বীকার করলেও বিভিন্ন মাধ্যম থেকে যোগাযোগ করে সংবাদ প্রকাশ না করতে অনুরোধ রাখেন এবং আর্থিক সমঝোতার প্রস্তাবও দেয়া হয়। ফলে এই গোটা ঘুষ বাণিজ্য যে তার মাধ্যমে হয়েছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তাছাড়া সমঝোতা বৈঠকে মধ্যস্ততা করা পিসি হুমায়নও ঘুস বাণিজ্যে জসিম জড়িত থাকার বিষয়টি এ প্রতিবেদকের কাছে স্বীকার করেছেন।
তবে অঙ্গীভুত আনসার কর্মকর্তা পিসি জসিমের এই ঘুষ বাণিজ্য সম্পর্কে মোটেও ওয়াকিবহাল নন বলে জানিয়েছেন জেলা আনসার কমান্ড্যান্ট মো. রাকিবুল ইসলাম। তিনি সাংবাদিকদের জানান, পিসি জসিমের ঘুষগ্রহণ এবং সেই টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে বৈঠক হওয়ার খবর বিভিন্ন মাধ্যম শুনেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন, ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে। ঘুষের টাকার অধিকাংশ আপনাকে দিয়ে ম্যানেজ করা হয়, জসিমের এমন বক্তব্য অস্বীকার করেছেন জেলা কর্মকর্তা।
অঙ্গীভূত আনসার সদস্য নিয়োগে এর আগেও একাধিক ঘুষ লেনদেনসহ ব্যাপক বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে জেলা উপজেলার শীর্ষ কর্মকর্তারা, যা নিয়ে অতীতে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় একাধিক শিরোনাম হয়। কিন্তু সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তনের পরেও এই আনসার নিয়োগের ক্ষেত্রে এই ঘুষের রীতি চলমান থাকায় বাহিনীটির স্বচ্ছতা নিয়ে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। এখন দেখা যায়, আদর্শচ্যুৎ এবং নীতিবিবর্জিত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বাহিনীর তরফ থেকে কি ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’
বরিশাল টাইমস
বরিশালের বানারীপাড়ায় সাইবার মামলায় উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের আহমদাবাদ (বেতাল) হোসাইনিয়া আলিম মাদ্রাসা'র সদ্য সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হালিমকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৮।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটের, দিকে বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকার লুৎফুর রহমান সড়কের ভাড়াটিয়া বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে র্যাব-৮ তাকে বানারীপাড়া থানায় হস্তান্তর করেন। মামলা দায়েরের বিষয়ে বাদী অ্যাডভোকেট গোলাম মাওলা জুবায়ের বলেন, ওই মাদরাসার সাবেক শিক্ষক তার মরহুম পিতা আব্দুল জব্বার ফকিরের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হালিম কিছুদিন পূর্বে স্থানীয় এক সাংবাদিককে দেওয়া ভিডিও বার্তায় অসত্য, আপত্তিজনক ও মানহানিকর বক্তব্য প্রদান করেন। তার এ ভিডিও বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হয়।
এতে তার মরহুম পিতা ও তার পরিবারের সম্মানহানি হয়েছে। ফলে তিনি বাদী হয়ে মাওলানা আব্দুল হালিম এবং ভিডিও বক্তব্যধারণ ও প্রচারকারী ওই সাংবাদিককে আসামী করে বরিশাল সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় মাওলানা আব্দুল হালিমকে শনিবার বরিশাল নগরী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বানারীপাড়া থানার ওসি মো. মজিবুর রহমান জানান,সাইবার মামলার আসামী মাওলনা আব্দুল হালিমকে র্যাব গ্রেপ্তার করে থানায় সোপর্দ করার পরে এদিন (শনিবার) বিকালে তাকে বরিশাল আদালতে পাঠানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত প্রশাসনিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, নিজ হাতে ঘষামাজা সার্টিফিকেট, আর্থিক অনিয়ম ও দায়িত্ব পালনে গুরুতর অসাদাচারণসহ নানা অভিযোগে তাকে অধ্যক্ষের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। গত ১৪ জুলাই সকালে রুহুল আমিন জসিমের সভাপতিত্বে মাদরাসার গর্ভনিংবডির সভায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে উপাধ্যক্ষ মো. অলিউল্লাহ্কে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব অর্পণ করা হয় এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানা পুলিশের অভিযানে বিপুলসংখ্যক ইয়াবাসহ মনু ইসলাম ওরফে মনির (৩৮) নামের এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়েছেন। শনিবার বেলা দেড়টার দিকে তাকে থানাধীন কলসগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, জামালপুরের শ্রীচন্দ্রবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা যুবক মনু ইসলাম ওরফে মনির চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদক সরবরাহ করে থাকেন। শনিবার সেই ধারাবাহিকতায় তিনি ১৪০০ পিস ইয়াবার একটি চালান বরিশালে নিয়ে আসেন এবং গন্তব্যের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। কিন্তু এর আগে টুপি-পাঞ্জাবী পরিহিত এই ব্যক্তিকে কাশিপুরের কলসগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় বিমানবন্দর থানা পুলিশের একটি টিম।
এই অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন এসআই মো. জাহিদ হাসান। পুলিশ কর্মকর্তা বরিশালটাইমসকে জানান, মাদকের চালানটি বরিশাল শহরের এক ব্যবসায়ীকে পৌছে দেওয়ার উদ্দেশে নিয়ে আসেন মনু ইসলাম ওরফে মনির। কিন্তু এর আগেই তাকে পাকড়াও করা হয়।
এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করেছে বিমানবন্দর থানা পুলিশ।’
কারও বাবা নেই, কারও মা নেই! তবে সকলেই মেধাবী, আগামীর স্বপ্নে বিভোর- এই ধরনের ২০ শিশুর অগ্রযাত্রায় সারথী হতে এগিয়ে এসেছে বরিশালের আলোচিত ‘৮৪ ইভেন্ট গ্রুপ’। বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা শিশু সুরক্ষা কমিটির অভিভাবক সমাবেশ ও শিক্ষা বৃত্তির আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠনটি দারিদ্র্য শিশুদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করে। অবশ্য এই সংগঠনটি এরআগেও এই ধরনের সমাজকল্যাণ এবং মানবিক কর্মকান্ডে অংশ নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা তৈরি করে।
সংগঠনটি জানায়, বৃহস্পতিবার আয়োজন করে ‘৮৪ ইভেন্ট গ্রুপ’ চার শিশুর ৬ মাসের শিক্ষা অভিভাবকত্ব গ্রহণ করাসহ প্রাথমিকভাবে ৫ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাদের এই ধরনের মানবিক কর্মকান্ডে অনুপ্রাণিত হয়ে আরও ১৬ শিশুর দায়িত্ব নিয়েছেন সমাজের সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষা বৃত্তি বিতরণ করেন বিভাগীয় পরিচালক শাহ্ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।
‘৮৪ ইভেন্ট গ্রুপ’সংশ্লিষ্টরা জানান, বহুমুখী প্রতিকূল পরিবেশ এবং দারিদ্র্যতার মধ্যেও ২০ শিশু পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছে, যার প্রেক্ষিতে সংগঠনটি এই আয়োজন করেছে। এবং আগামীতে পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছে।
একটি শিশুর স্বপ্ন যেনো দারিদ্র্যের কাছে যেনো হার না মানে। এবং তাদের চোখের স্বপ্নগুলো বেঁচে থাকুক ও আলোর পথে এগিয়ে যাক- এমন স্লোগানে আগামীর পথে হাঁটছে ‘৮৪ ইভেন্ট গ্রুপ’।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:১৯
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৫৭
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:০৮
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:২৪