
০৮ আগস্ট, ২০২৫ ১৩:৪৩
বরগুনার তালতলী উপজেলার কড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. ইসহাক মাঝির বিরুদ্ধে ভুয়া জন্ম তারিখ দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সনদ গ্রহণ, জাল সনদপত্রে রাষ্ট্রীয় সুবিধা গ্রহণ ও ভূমি জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা প্রশাসনের তদন্তে একাধিক অনিয়মের প্রমাণ মিললেও আওয়ামী ঘরানার এই জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
জানা যায়, মৃত আব্দুল কাদের মাঝির ছেলে মো. ইসহাক মাঝি ১৯৬৬ সালের ৭ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি পেতে তিনি নিজের জন্মসাল পরিবর্তন করে ১৯৫৫ সালের ৭ জানুয়ারি দেখান।
ফলে জন্ম তারিখ জালিয়াতির মাধ্যমে বড় ভাই ইব্রাহিম মাঝির (জন্ম ১৯৬২) থেকেও বয়সে ‘বড়’ হয়ে যান। এই ভুয়া জন্ম তারিখ ও একটি জাল শিক্ষা সনদের ভিত্তিতে ২০২১ সালের ১৮ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত গেজেটে তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হলে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ২০২২ সালের ৩ মার্চ তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের তদন্তে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর, সিল ও মনোগ্রাম জাল করার বিষয়টি প্রমাণিত হয়।
ইসহাক মাঝির দেওয়া সনদে উল্লেখ রয়েছে তিনি ১৯৬৯ সালে এম এম আলীর বন্দর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে অষ্টম শ্রেণি পাস করেন। অথচ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭২ সালে। বর্তমানে তিনি মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা নিয়মিত ভোগ করছেন।
বাকিতে ইয়াবা না দেওয়ায় মাদক বিক্রেতাকে হত্যাবাকিতে ইয়াবা না দেওয়ায় মাদক বিক্রেতাকে হত্যা এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দা মো. জালাল গাজী জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল জামুকা'য় অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) গত ২১ জুলাই মো. ইসহাক মাঝিকে সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ দেয়। কিন্তু নির্ধারিত তারিখে তিনি সেখানে উপস্থিত হননি।
সচেতন মহল বলছে, মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় এ দেশের গৌরবের প্রতীক। সেই পরিচয় যদি কেউ মিথ্যা তথ্যে অর্জন করে, তবে সেটি গোটা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।
এছাড়াও জমি বন্দোবস্ত সংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। প্রকৃত পরিচয় গোপন করে ‘শহিদুল ইসলাম’ নামে এবং স্ত্রী মোসা. জাহানারা বেগমের সঙ্গে যৌথভাবে ৭১০ আম/২০০৬-০৭ নম্বর বন্দোবস্ত মামলায় আলীর বন্দর মৌজার খাস খতিয়ানভুক্ত ৪০৯৪ নম্বর দাগে প্রায় ৯০ শতাংশ জমি বন্দোবস্ত নেন তিনি।
অথচ ২০০০ সালের ১৮ এপ্রিল তিনি ২ একর ৬৬ শতাংশ জমি ক্রয় করেন, যা তার ভূমিহীনতার দাবিকে মিথ্যা প্রমাণ করে। তার মা মরিয়ম বেগমের নামেও এক একর জমি বন্দোবস্ত নেওয়া হয়েছে, যেখানে পূর্বেই তার নামে ১৫.৫০ শতাংশ জমি ছিল। একইভাবে শ্বশুর আব্দুস সাত্তার কবিরাজের পুত্র সাজিয়ে মো. জাকির নামে আরও এক একর জমি বন্দোবস্ত নেওয়া হয়।
একই এলাকার জালাল গাজী তার ভূমি জালিয়াতির বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। সেই অভিযোগের আলোকে তালতলীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিনকে তদন্তের নির্দেশ দেন এবং তদন্তে একাধিক অনিয়ম ও জালিয়াতির প্রমাণ মেলে।
নুরু মাতুব্বর, জামাল মাস্টার আলতাফ মাস্টারসহ স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি নিয়ে জনমনে ক্ষোভ রয়েছে। দ্রুত আইনি ব্যবস্থা চেয়ে এলাকাবাসী বলেন, জনপ্রতিনিধির দায়িত্বপালনের পাশাপাশি এই ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড শুধু অনৈতিকই নয়, বরং রাষ্ট্র ও জনগণের সঙ্গে সরাসরি প্রতারণা। তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে সকল সরকারি সুযোগ-সুবিধা বাতিল করা হোক।
কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. আজিজুল হক শিকদার বলেন, জন্ম তারিখ পরিবর্তন করায় ইসাহাক মাঝি তার আপন বড় ভাইয়ের থেকেও ৭ বছরের বড়! এর বেশি কিছু বলতে চাই না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুঠোফোনে অভিযুক্ত মো. ইসাহাক মাঝি জানান, আমি শিক্ষিত নই, এজন্য ভোটার আইডি কার্ডে জন্ম তারিখ ভুল হয়েছে। সেটা সংশোধন করতে নির্বাচন কমিশনে অষ্টম শ্রেণি পাশের ভুয়া সনদ কেন দিলেন- সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে তিনি জানান, জন্ম তারিখ পরিবর্তনের আবেদন আমি করেছি। কিন্তু শিক্ষা সনদ নির্বাচন অফিসে কে জমা দিয়েছে, আমি জানি না। এ সময় বড় ভাই ইব্রাহিম মাঝি আপনার থেকে ৭ বছরের ছোট হলো কি করে, প্রশ্ন করতেই তিনি লাইন কেটে দেন।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের দায়িত্বে থাকা উম্মে সালমা বলেন, ইসাহাক মাঝির বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত রিপোর্ট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। তথ্য জালিয়াতি করায় তার মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল করা হবে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি জানান, এ বিষয়ে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) সিদ্ধান্ত নিবে। এখানে আমার কিছুই করার নেই।
বরগুনার তালতলী উপজেলার কড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. ইসহাক মাঝির বিরুদ্ধে ভুয়া জন্ম তারিখ দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সনদ গ্রহণ, জাল সনদপত্রে রাষ্ট্রীয় সুবিধা গ্রহণ ও ভূমি জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা প্রশাসনের তদন্তে একাধিক অনিয়মের প্রমাণ মিললেও আওয়ামী ঘরানার এই জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
জানা যায়, মৃত আব্দুল কাদের মাঝির ছেলে মো. ইসহাক মাঝি ১৯৬৬ সালের ৭ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি পেতে তিনি নিজের জন্মসাল পরিবর্তন করে ১৯৫৫ সালের ৭ জানুয়ারি দেখান।
ফলে জন্ম তারিখ জালিয়াতির মাধ্যমে বড় ভাই ইব্রাহিম মাঝির (জন্ম ১৯৬২) থেকেও বয়সে ‘বড়’ হয়ে যান। এই ভুয়া জন্ম তারিখ ও একটি জাল শিক্ষা সনদের ভিত্তিতে ২০২১ সালের ১৮ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত গেজেটে তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হলে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ২০২২ সালের ৩ মার্চ তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের তদন্তে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর, সিল ও মনোগ্রাম জাল করার বিষয়টি প্রমাণিত হয়।
ইসহাক মাঝির দেওয়া সনদে উল্লেখ রয়েছে তিনি ১৯৬৯ সালে এম এম আলীর বন্দর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে অষ্টম শ্রেণি পাস করেন। অথচ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭২ সালে। বর্তমানে তিনি মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা নিয়মিত ভোগ করছেন।
বাকিতে ইয়াবা না দেওয়ায় মাদক বিক্রেতাকে হত্যাবাকিতে ইয়াবা না দেওয়ায় মাদক বিক্রেতাকে হত্যা এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দা মো. জালাল গাজী জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল জামুকা'য় অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) গত ২১ জুলাই মো. ইসহাক মাঝিকে সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ দেয়। কিন্তু নির্ধারিত তারিখে তিনি সেখানে উপস্থিত হননি।
সচেতন মহল বলছে, মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় এ দেশের গৌরবের প্রতীক। সেই পরিচয় যদি কেউ মিথ্যা তথ্যে অর্জন করে, তবে সেটি গোটা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।
এছাড়াও জমি বন্দোবস্ত সংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। প্রকৃত পরিচয় গোপন করে ‘শহিদুল ইসলাম’ নামে এবং স্ত্রী মোসা. জাহানারা বেগমের সঙ্গে যৌথভাবে ৭১০ আম/২০০৬-০৭ নম্বর বন্দোবস্ত মামলায় আলীর বন্দর মৌজার খাস খতিয়ানভুক্ত ৪০৯৪ নম্বর দাগে প্রায় ৯০ শতাংশ জমি বন্দোবস্ত নেন তিনি।
অথচ ২০০০ সালের ১৮ এপ্রিল তিনি ২ একর ৬৬ শতাংশ জমি ক্রয় করেন, যা তার ভূমিহীনতার দাবিকে মিথ্যা প্রমাণ করে। তার মা মরিয়ম বেগমের নামেও এক একর জমি বন্দোবস্ত নেওয়া হয়েছে, যেখানে পূর্বেই তার নামে ১৫.৫০ শতাংশ জমি ছিল। একইভাবে শ্বশুর আব্দুস সাত্তার কবিরাজের পুত্র সাজিয়ে মো. জাকির নামে আরও এক একর জমি বন্দোবস্ত নেওয়া হয়।
একই এলাকার জালাল গাজী তার ভূমি জালিয়াতির বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। সেই অভিযোগের আলোকে তালতলীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিনকে তদন্তের নির্দেশ দেন এবং তদন্তে একাধিক অনিয়ম ও জালিয়াতির প্রমাণ মেলে।
নুরু মাতুব্বর, জামাল মাস্টার আলতাফ মাস্টারসহ স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি নিয়ে জনমনে ক্ষোভ রয়েছে। দ্রুত আইনি ব্যবস্থা চেয়ে এলাকাবাসী বলেন, জনপ্রতিনিধির দায়িত্বপালনের পাশাপাশি এই ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড শুধু অনৈতিকই নয়, বরং রাষ্ট্র ও জনগণের সঙ্গে সরাসরি প্রতারণা। তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে সকল সরকারি সুযোগ-সুবিধা বাতিল করা হোক।
কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. আজিজুল হক শিকদার বলেন, জন্ম তারিখ পরিবর্তন করায় ইসাহাক মাঝি তার আপন বড় ভাইয়ের থেকেও ৭ বছরের বড়! এর বেশি কিছু বলতে চাই না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুঠোফোনে অভিযুক্ত মো. ইসাহাক মাঝি জানান, আমি শিক্ষিত নই, এজন্য ভোটার আইডি কার্ডে জন্ম তারিখ ভুল হয়েছে। সেটা সংশোধন করতে নির্বাচন কমিশনে অষ্টম শ্রেণি পাশের ভুয়া সনদ কেন দিলেন- সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে তিনি জানান, জন্ম তারিখ পরিবর্তনের আবেদন আমি করেছি। কিন্তু শিক্ষা সনদ নির্বাচন অফিসে কে জমা দিয়েছে, আমি জানি না। এ সময় বড় ভাই ইব্রাহিম মাঝি আপনার থেকে ৭ বছরের ছোট হলো কি করে, প্রশ্ন করতেই তিনি লাইন কেটে দেন।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের দায়িত্বে থাকা উম্মে সালমা বলেন, ইসাহাক মাঝির বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত রিপোর্ট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। তথ্য জালিয়াতি করায় তার মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল করা হবে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি জানান, এ বিষয়ে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) সিদ্ধান্ত নিবে। এখানে আমার কিছুই করার নেই।

২৩ জুন, ২০২৬ ২২:৫৪
বরগুনার তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের ইদুপাড়া গ্রামের ছকিনাখাল এলাকায় বালুবাহী জাহাজের নিচে আটকে থাকা এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছেন স্থানীয় জেলেরা। মঙ্গলবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে এমভি ইসলাম মোল্লা নামের একটি বালুবাহী জাহাজের নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত মুসা (১৭) উপজেলার নিদ্রার চর ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি চান মিয়া ও পাখি বেগমের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে মুসা ইদুপাড়া গ্রামের শিশু জালাল উদ্দিন রুমির (৬) সঙ্গে সোনাকাটা ইউনিয়নের ছকিনাখালে গোসল করতে নামে। কিছুক্ষণ পর রুমি বাড়ি ফিরে যায়। তার ধারণা ছিল, মুসাও বাড়িতে ফিরে গেছে। কিন্তু রাত ৯টার দিকে পরিবারের সদস্যরা মুসার খোঁজ করলে রুমি জানায়, গোসলের সময় মুসাকে পানিতে ডুব দেওয়ার পর আর ওপরে উঠতে দেখেনি। সে ভেবেছিল মুসা হয়তো অন্য দিক দিয়ে বাড়িতে চলে গেছে।
খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ছকিনা কোস্ট গার্ড ও স্থানীয় জেলে ফারুক, জামাল, বেল্লালসহ কয়েকজন জেলে খালে জাল ফেলেন। পরে রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে এমভি ইসলাম মোল্লা নামের বালুবাহী জাহাজের নিচ থেকে মুসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়দের ধারণা, পানির স্রোতে মুসা জাহাজের নিচে আটকে পড়ে মারা যেতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তালতলী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সাগর ভদ্র জানান, খবর পেয়ে নৌ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরিশাল টাইমস
বরগুনার তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের ইদুপাড়া গ্রামের ছকিনাখাল এলাকায় বালুবাহী জাহাজের নিচে আটকে থাকা এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছেন স্থানীয় জেলেরা। মঙ্গলবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে এমভি ইসলাম মোল্লা নামের একটি বালুবাহী জাহাজের নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত মুসা (১৭) উপজেলার নিদ্রার চর ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি চান মিয়া ও পাখি বেগমের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে মুসা ইদুপাড়া গ্রামের শিশু জালাল উদ্দিন রুমির (৬) সঙ্গে সোনাকাটা ইউনিয়নের ছকিনাখালে গোসল করতে নামে। কিছুক্ষণ পর রুমি বাড়ি ফিরে যায়। তার ধারণা ছিল, মুসাও বাড়িতে ফিরে গেছে। কিন্তু রাত ৯টার দিকে পরিবারের সদস্যরা মুসার খোঁজ করলে রুমি জানায়, গোসলের সময় মুসাকে পানিতে ডুব দেওয়ার পর আর ওপরে উঠতে দেখেনি। সে ভেবেছিল মুসা হয়তো অন্য দিক দিয়ে বাড়িতে চলে গেছে।
খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ছকিনা কোস্ট গার্ড ও স্থানীয় জেলে ফারুক, জামাল, বেল্লালসহ কয়েকজন জেলে খালে জাল ফেলেন। পরে রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে এমভি ইসলাম মোল্লা নামের বালুবাহী জাহাজের নিচ থেকে মুসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়দের ধারণা, পানির স্রোতে মুসা জাহাজের নিচে আটকে পড়ে মারা যেতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তালতলী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সাগর ভদ্র জানান, খবর পেয়ে নৌ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরিশাল টাইমস

২০ জুন, ২০২৬ ১৭:৩১
নারী বাদীকে ‘আপনি কি সেই মাল’ বলা বরগুনার পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনামুল হককে বর্তমান কর্মস্থল থেকে (ক্লোজড) প্রত্যাহার করে বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণে গড়িমসি, ভুক্তভোগীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং সরকারি নম্বরে যোগাযোগ না করার অভিযোগের মধ্যেই এ আদেশ জারি করা হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) ও পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) এফ. এম. ফয়সাল স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
আদেশে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জেলা কর্মরত নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মো. এনামুল হককে প্রশাসনিক কারণে তার বর্তমান কর্মস্থল পাথরঘাটা থানা থেকে প্রত্যাহারপূর্বক পুলিশ সুপারের কার্যালয়, বরগুনায় সংযুক্ত করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বরগুনা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পাথরঘাটা সার্কেল) মোহাম্মদ শাহেদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, অফিস আদেশ অনুযায়ী ওসি মো. এনামুল হককে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে পাথরঘাটার এক নারী স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা করতে গিয়ে ওসির কাছে অপদস্ত হওয়ার অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, মামলা গ্রহণে টালবাহানা করা হয় এবং ন্যায়বিচার পেতে গিয়ে তিনি বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হন।
ওই নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওসি মোহাম্মদ এনাম তাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি কি সেই মাল? ইবলিস যেন কোথাকার’। এ ঘটনায় তিনি নিজেকে অপমানিত ও বিব্রত বোধ করেন। ওই সময় সাবেক পাথরঘাটা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির নেত্রী মরিয়ম চৌধুরী জেবু উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে মরিয়ম চৌধুরী জেবু বলেন, ‘আমার উপস্থিতিতে ওসি মামলার বাদীকে উদ্দেশ করে ‘আপনি কি সেই মাল?’ বলে মন্তব্য করেন।
এছাড়াও স্থানীয় সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ছিল— ওসি এনামুল হক সরকারি মোবাইল নম্বরে অধিকাংশ সময় ফোন রিসিভ করতেন না। জরুরি প্রয়োজনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে গিয়ে অনেকেই ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও একটি মামলা গ্রহণ না করা, নারী বাদীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা এবং এক নারীকে ফেরাউনের সঙ্গে তুলনা করার অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।
তবে ওসি মো. এনামুল হকের প্রত্যাহার ও সংযুক্তির বিষয়ে অফিস আদেশে নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে শুধুমাত্র ‘প্রশাসনিক কারণ’ দেখিয়ে তাকে বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।’
নারী বাদীকে ‘আপনি কি সেই মাল’ বলা বরগুনার পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনামুল হককে বর্তমান কর্মস্থল থেকে (ক্লোজড) প্রত্যাহার করে বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণে গড়িমসি, ভুক্তভোগীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং সরকারি নম্বরে যোগাযোগ না করার অভিযোগের মধ্যেই এ আদেশ জারি করা হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) ও পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) এফ. এম. ফয়সাল স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
আদেশে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জেলা কর্মরত নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মো. এনামুল হককে প্রশাসনিক কারণে তার বর্তমান কর্মস্থল পাথরঘাটা থানা থেকে প্রত্যাহারপূর্বক পুলিশ সুপারের কার্যালয়, বরগুনায় সংযুক্ত করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বরগুনা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পাথরঘাটা সার্কেল) মোহাম্মদ শাহেদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, অফিস আদেশ অনুযায়ী ওসি মো. এনামুল হককে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে পাথরঘাটার এক নারী স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা করতে গিয়ে ওসির কাছে অপদস্ত হওয়ার অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, মামলা গ্রহণে টালবাহানা করা হয় এবং ন্যায়বিচার পেতে গিয়ে তিনি বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হন।
ওই নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওসি মোহাম্মদ এনাম তাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি কি সেই মাল? ইবলিস যেন কোথাকার’। এ ঘটনায় তিনি নিজেকে অপমানিত ও বিব্রত বোধ করেন। ওই সময় সাবেক পাথরঘাটা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির নেত্রী মরিয়ম চৌধুরী জেবু উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে মরিয়ম চৌধুরী জেবু বলেন, ‘আমার উপস্থিতিতে ওসি মামলার বাদীকে উদ্দেশ করে ‘আপনি কি সেই মাল?’ বলে মন্তব্য করেন।
এছাড়াও স্থানীয় সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ছিল— ওসি এনামুল হক সরকারি মোবাইল নম্বরে অধিকাংশ সময় ফোন রিসিভ করতেন না। জরুরি প্রয়োজনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে গিয়ে অনেকেই ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও একটি মামলা গ্রহণ না করা, নারী বাদীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা এবং এক নারীকে ফেরাউনের সঙ্গে তুলনা করার অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।
তবে ওসি মো. এনামুল হকের প্রত্যাহার ও সংযুক্তির বিষয়ে অফিস আদেশে নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে শুধুমাত্র ‘প্রশাসনিক কারণ’ দেখিয়ে তাকে বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।’

২০ জুন, ২০২৬ ১২:১১
বরগুনার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত গবাদিপশুর সংখ্যা। খামারিদের পালন করা প্রায় গরুই আক্রান্ত হচ্ছে এই রোগে।
তবে সরকারিভাবে এই মুহূর্তে বরগুনায় ভ্যাকসিন সরবরাহ না থাকায় এবং ওষুধ সংকটের কারণে আক্রান্ত পশুর চিকিৎসা করাতে বিপাকে পড়ছেন বিভিন্ন এলাকার খামারি ও পশুপালকরা।
ফলে আক্রান্ত গরু মৃত্যুর শঙ্কাসহ বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন তারা। তবে জুলাই মাস থেকে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন জেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।
বরগুনা সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের মনসাতলী নামক এলাকার বাসিন্দা মিলন চন্দ্র রায়। তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে গরু পালন করছেন। এ বছর তার পালন করা ৬টি গরুই ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
শুধু মিলন চন্দ্রই নয়, একই এলাকার নাসির নামে আরেক প্রতিবেশীরও ৫টি গরু আক্রান্ত হয়েছে একই রোগে। আক্রান্তের এক দিন পরই তার একটি ছোট গরুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া, ওই এলাকার আরও কয়েকজন বাসিন্দার গরু, ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
হঠাৎ করে বরগুনায় গবাদিপশুর ক্ষুরা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও এই মুহূর্তে ভ্যাকসিন সরবরাহ নেই জেলার প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে। ফলে স্থানীয় পদ্ধতি এবং চিকিৎসকের পরামর্শে বাইরের দোকান থেকেই ওষুধ কিনে আক্রান্ত গরুর চিকিৎসা চালাচ্ছেন খামারি ও পশুপালকরা।
সরেজমিনে সদর উপজেলার ওই ইউনিয়নের বাসিন্দা মিলন চন্দ্র রায়ের বাড়িতে ঘুরে দেখা যায়, ঘরের সামনে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে তার ছয়টি গরু। প্রত্যকটি গরুই গত এক মাস ধরে ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত।
আর এ কারণেই গরুগুলোকে খাবার খাওয়ানোর জন্য কোথাও নিয়ে যেতে পারছেন না তিনি। দীর্ঘ একমাস ধরে আক্রান্ত ওই গরুগুলোকে সুস্থ করতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন মিলন ও তার স্ত্রী। প্রতিদিন খাবার ও ওষুধ খাওয়ানোসহ গরুগুলোকে বিশেষভাবে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করতে হচ্ছে তাদের।
মিলন ও তার স্ত্রী শিপু রানীর অভিযোগ, প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে গরুর জন্য ভ্যাকসিন এবং কোনো ধরনের ওষুধই পাওয়া যায়নি। ফলে বাধ্য হয়ে বাইরের দোকান থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে তাদের। শুধু তারাই নয় এলাকার অন্য পশুপলকদেরও এ একই অভিযোগ।
এ ছাড়া, আক্রান্ত গরুর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে দ্রুত সময়ের মধ্যে জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন সরবরাহের ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তারা।
এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের মনসাতলী নামক এলাকার বাসিন্দা মিলন চন্দ্র রায় ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি প্রায় ৪০ বছর ধরে গরু পালন করি। এ বছর প্রায় ১ মাস ধরে আমার গরুগুলো ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
শুধু আমার নয়, আশপাশের প্রায় সবার গরুই একই রোগে আক্রান্ত। পশু হাসপাতাল থেকে চিকিৎসার জন্য কোনো ওষুধ পাচ্ছি না। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে ওষুধ কিনে চিকিৎসা করাতে হচ্ছে। গরুর পেছনে সময় দিতে গিয়ে এখন অন্য কোনো কাজও করতে পারছি না।
মিলন চন্দ্র রায়ের স্ত্রী শিপু রানী বলেন, গত একমাস ধরে ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে আমাদের ছয়টি গুরু অসুস্থ। আমরা গরিব মানুষ, গরুর চিকিৎসা করাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু সরকারিভাবে কোনো ধরনের সহযোগিতা পাইনি। বাজার থেকে বেশি দামে ওষুধ কিনতে হচ্ছে আমাদের।
একই এলাকার বাসিন্দা মো. মাহমুদুল ইসলাম বলেন, এ বছর আমাদের এলাকার অসংখ্য গরু ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তবে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে বড় গরু মারা না গেলেও এলাকার বাসিন্দাদের ৩ থেকে ৪টি ছোট গরুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া, চিকিৎসকরা গ্রামে আসেন না। তাদের কাছে গেলে ওষুধ লিখে দেওয়া হয় তাও কিনতে হয় বাইরের দোকান থেকে। বর্তমান ক্ষুরা রোগের কোনো ভ্যাকসিনই পাওয়া যাচ্ছে না।
মো. নাসির নামে ওই এলাকার আরেক বাসিন্দা ঢাকা পোস্টকে বলেন, প্রথমে আমার একটি গরু রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। এক দিন পরে আমার পাঁচটি গরু আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। আক্রান্ত হওয়ার এক দিনের মধ্যে ছোট একটি গরু মারা যায়। এরপর চিকিৎসক অন্য গরুগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ লিখে দিলেও সরবরাহ না থাকায় সরকারিভাবে গরুর জন্য কোনো ওষুধ পাইনি। সব ওষুধ বাইরে থেকে কিনে চিকিৎসা করাতে হয়েছে।
বরগুনায় হঠাৎ করে ব্যাপকভাবে গবাদিপশুর ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ক্ষুরা রোগ সাধারণত বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়।
মানুষের সংস্পর্শের মাধ্যমেও এ রোগ সুস্থ পশুর মধ্যে ছড়াতে পারে। কোরবানির সময় এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পশু নিয়ে যাওয়া হয়। সাধারণত ওই সময়ের পরই ক্ষুরা রোগের বিস্তার ঘটে৷ আমাদের কাছে থাকা রিপোর্ট অনুযায়ী বর্তমানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবস্থায় বিভিন্ন এলাকায় এ রোগ দেখা দিয়েছে।
খামারিদের ভ্যাকসিনের পাশাপাশি আক্রান্ত পশুকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা এবং আক্রান্ত ওই পশুটিকে অন্য পশু থেকে আলাদা রাখার পরামর্শ দিচ্ছি। এ রোগে আক্রান্ত হলে বড় পশুর মৃত্যু হয় না। ছয় মাস থেকে এক বছর বয়সী কিছু পশুর মৃত্যু হতে পারে।
ভ্যাকসিন সরবরাহ নেই এবং ওষুধ সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের এই মুহূর্তে কোনো ভ্যাকসিন মজুদ নেই। কোরবানির আগে ভ্যাকসিনের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহেই আমরা ভ্যাকসিন পাবো এবং পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু করা হবে।
এখন আমরা খামারিদের প্রয়োজনীয় ওষুধ খাওয়ানোসহ বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিচ্ছি। তবে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
বরগুনার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত গবাদিপশুর সংখ্যা। খামারিদের পালন করা প্রায় গরুই আক্রান্ত হচ্ছে এই রোগে।
তবে সরকারিভাবে এই মুহূর্তে বরগুনায় ভ্যাকসিন সরবরাহ না থাকায় এবং ওষুধ সংকটের কারণে আক্রান্ত পশুর চিকিৎসা করাতে বিপাকে পড়ছেন বিভিন্ন এলাকার খামারি ও পশুপালকরা।
ফলে আক্রান্ত গরু মৃত্যুর শঙ্কাসহ বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন তারা। তবে জুলাই মাস থেকে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন জেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।
বরগুনা সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের মনসাতলী নামক এলাকার বাসিন্দা মিলন চন্দ্র রায়। তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে গরু পালন করছেন। এ বছর তার পালন করা ৬টি গরুই ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
শুধু মিলন চন্দ্রই নয়, একই এলাকার নাসির নামে আরেক প্রতিবেশীরও ৫টি গরু আক্রান্ত হয়েছে একই রোগে। আক্রান্তের এক দিন পরই তার একটি ছোট গরুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া, ওই এলাকার আরও কয়েকজন বাসিন্দার গরু, ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
হঠাৎ করে বরগুনায় গবাদিপশুর ক্ষুরা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও এই মুহূর্তে ভ্যাকসিন সরবরাহ নেই জেলার প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে। ফলে স্থানীয় পদ্ধতি এবং চিকিৎসকের পরামর্শে বাইরের দোকান থেকেই ওষুধ কিনে আক্রান্ত গরুর চিকিৎসা চালাচ্ছেন খামারি ও পশুপালকরা।
সরেজমিনে সদর উপজেলার ওই ইউনিয়নের বাসিন্দা মিলন চন্দ্র রায়ের বাড়িতে ঘুরে দেখা যায়, ঘরের সামনে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে তার ছয়টি গরু। প্রত্যকটি গরুই গত এক মাস ধরে ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত।
আর এ কারণেই গরুগুলোকে খাবার খাওয়ানোর জন্য কোথাও নিয়ে যেতে পারছেন না তিনি। দীর্ঘ একমাস ধরে আক্রান্ত ওই গরুগুলোকে সুস্থ করতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন মিলন ও তার স্ত্রী। প্রতিদিন খাবার ও ওষুধ খাওয়ানোসহ গরুগুলোকে বিশেষভাবে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করতে হচ্ছে তাদের।
মিলন ও তার স্ত্রী শিপু রানীর অভিযোগ, প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে গরুর জন্য ভ্যাকসিন এবং কোনো ধরনের ওষুধই পাওয়া যায়নি। ফলে বাধ্য হয়ে বাইরের দোকান থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে তাদের। শুধু তারাই নয় এলাকার অন্য পশুপলকদেরও এ একই অভিযোগ।
এ ছাড়া, আক্রান্ত গরুর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে দ্রুত সময়ের মধ্যে জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন সরবরাহের ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তারা।
এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের মনসাতলী নামক এলাকার বাসিন্দা মিলন চন্দ্র রায় ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি প্রায় ৪০ বছর ধরে গরু পালন করি। এ বছর প্রায় ১ মাস ধরে আমার গরুগুলো ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
শুধু আমার নয়, আশপাশের প্রায় সবার গরুই একই রোগে আক্রান্ত। পশু হাসপাতাল থেকে চিকিৎসার জন্য কোনো ওষুধ পাচ্ছি না। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে ওষুধ কিনে চিকিৎসা করাতে হচ্ছে। গরুর পেছনে সময় দিতে গিয়ে এখন অন্য কোনো কাজও করতে পারছি না।
মিলন চন্দ্র রায়ের স্ত্রী শিপু রানী বলেন, গত একমাস ধরে ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে আমাদের ছয়টি গুরু অসুস্থ। আমরা গরিব মানুষ, গরুর চিকিৎসা করাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু সরকারিভাবে কোনো ধরনের সহযোগিতা পাইনি। বাজার থেকে বেশি দামে ওষুধ কিনতে হচ্ছে আমাদের।
একই এলাকার বাসিন্দা মো. মাহমুদুল ইসলাম বলেন, এ বছর আমাদের এলাকার অসংখ্য গরু ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তবে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে বড় গরু মারা না গেলেও এলাকার বাসিন্দাদের ৩ থেকে ৪টি ছোট গরুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া, চিকিৎসকরা গ্রামে আসেন না। তাদের কাছে গেলে ওষুধ লিখে দেওয়া হয় তাও কিনতে হয় বাইরের দোকান থেকে। বর্তমান ক্ষুরা রোগের কোনো ভ্যাকসিনই পাওয়া যাচ্ছে না।
মো. নাসির নামে ওই এলাকার আরেক বাসিন্দা ঢাকা পোস্টকে বলেন, প্রথমে আমার একটি গরু রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। এক দিন পরে আমার পাঁচটি গরু আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। আক্রান্ত হওয়ার এক দিনের মধ্যে ছোট একটি গরু মারা যায়। এরপর চিকিৎসক অন্য গরুগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ লিখে দিলেও সরবরাহ না থাকায় সরকারিভাবে গরুর জন্য কোনো ওষুধ পাইনি। সব ওষুধ বাইরে থেকে কিনে চিকিৎসা করাতে হয়েছে।
বরগুনায় হঠাৎ করে ব্যাপকভাবে গবাদিপশুর ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ক্ষুরা রোগ সাধারণত বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়।
মানুষের সংস্পর্শের মাধ্যমেও এ রোগ সুস্থ পশুর মধ্যে ছড়াতে পারে। কোরবানির সময় এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পশু নিয়ে যাওয়া হয়। সাধারণত ওই সময়ের পরই ক্ষুরা রোগের বিস্তার ঘটে৷ আমাদের কাছে থাকা রিপোর্ট অনুযায়ী বর্তমানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবস্থায় বিভিন্ন এলাকায় এ রোগ দেখা দিয়েছে।
খামারিদের ভ্যাকসিনের পাশাপাশি আক্রান্ত পশুকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা এবং আক্রান্ত ওই পশুটিকে অন্য পশু থেকে আলাদা রাখার পরামর্শ দিচ্ছি। এ রোগে আক্রান্ত হলে বড় পশুর মৃত্যু হয় না। ছয় মাস থেকে এক বছর বয়সী কিছু পশুর মৃত্যু হতে পারে।
ভ্যাকসিন সরবরাহ নেই এবং ওষুধ সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের এই মুহূর্তে কোনো ভ্যাকসিন মজুদ নেই। কোরবানির আগে ভ্যাকসিনের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহেই আমরা ভ্যাকসিন পাবো এবং পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু করা হবে।
এখন আমরা খামারিদের প্রয়োজনীয় ওষুধ খাওয়ানোসহ বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিচ্ছি। তবে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১৪:৫৩
০৪ জুলাই, ২০২৬ ০০:৪৯
০৩ জুলাই, ২০২৬ ১৮:৩৯
০৩ জুলাই, ২০২৬ ১৭:০৬