ছবি:সংগ্রহীত
বরিশালের বাজারে মাছ কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা। ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে ইলিশের সরবরাহ বাড়লেও স্বস্তি ফেরেনি মাছের বাজারে। নদ-নদীতে দেশি প্রজাতির মাছের সরবরাহ কম থাকায় চাহিদা বেড়েছে চাষের মাছের। সেই সুযোগে সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। অন্যদিকে সবজির বাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা থাকায় কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছেন ক্রেতারা।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে বরিশাল নগরীর পোর্ট রোডের মাছের বাজার ও বহুমুখী সিটি মার্কেটের পাইকারি সবজির বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
পোর্ট রোড মাছের বাজারে প্রতি কেজি পাবদা ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা, রুই ২৮০ থেকে ৪৫০, কাতলা ২৮০ থেকে ৫০০, তেলাপিয়া ১৬০ থেকে ১৮০, পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০, চাষের কৈ ২০০ থেকে ২২০ এবং দেশি কৈ ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া চাষের শিং ৫০০ থেকে ৬০০, টেংরা ৫৫০ থেকে ৬৫০, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০, চিংড়ি ৭৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ এবং কোরাল ৫০০ থেকে ৯৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে ইলিশের দাম ৫০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত।
মাছের এমন চড়া দামে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। নগরীর বাংলাবাজারে বাজার করতে আসা রাসেল বলেন, কয়েক দিন ধরে সবজির দাম স্বাভাবিক থাকলেও মাছের বাজারে আগুন। নিজেদের নদ-নদীর মাছের দামও নাগালের বাইরে। সাধারণ মানুষ কী কিনে খাবে? এ জন্য নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা দরকার।
সাইফুল নামের আরেক ক্রেতা বলেন, এক কেজি চিংড়ি মাছ ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায় কিনেছেন। এখন সেই মাছ ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে অন্যান্য মাছের দামও বেড়েছে। ফলে চাহিদা অনুযায়ী পছন্দের মাছ কিনতে না পেরে তেলাপিয়া ও পাঙাশের মতো মাছ কিনতে হচ্ছে।
বারেক নামের আরেক ক্রেতা বলেন, নিজেদের নদ-নদীর ইলিশও এখন কেনার সাধ্যের বাইরে। অন্যান্য মাছও কেনা যাচ্ছে না। চাষের পাঙাশ ও তেলাপিয়ার দামও দিন দিন বাড়ছে। তাঁর অভিযোগ, মাছের দাম বাড়ানো-কমানোর ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের কারসাজি রয়েছে।
পোর্ট রোডের পাইকারি মাছ বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, নদীর মাছের সরবরাহ কম থাকায় চাষের মাছের চাহিদা বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দামে। সপ্তাহের ব্যবধানে আকার ও প্রকারভেদে বিভিন্ন মাছের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
অন্যদিকে নগরীর বহুমুখী সিটি মার্কেটের পাইকারি সবজির বাজারে বেশির ভাগ পণ্যের দাম রয়েছে আগের মতোই। প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৮০ টাকা, পটল ৩০, ঢেঁড়স ৪০, চিচিঙ্গা ৪০, ধুন্দল ৫০, ঝিঙা ৪০, করলা ৪০, ফুলকপি ৪০, বাঁধাকপি ৫৫, গাজর ৯০, পেঁপে ৬ থেকে ১০ এবং লাউ ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। তবে নতুন উঠতে শুরু করা শীতকালীন শিমের দাম কেজিপ্রতি ৯০ থেকে ১০০ টাকা।
পাইকারি বাজারের তুলনায় খুচরা বাজারে এসব সবজির দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে দেখা গেছে।
আমিন নামের এক ক্রেতা বলেন, বৃষ্টির মৌসুমে সরবরাহ কম থাকায় সবজির দাম বেশি ছিল। এখন আবার পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কথা বলে দাম বাড়তি রাখা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
বহুমুখী সিটি মার্কেটের পাইকারি সবজির ব্যবসায়ী আলামিন বলেন, পণ্যের দাম বাড়ানো বা কমানোর ক্ষেত্রে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের তেমন কোনো হাত নেই। তাঁরা যে দামে পণ্য কিনে আনেন, সে অনুযায়ী বিক্রি করেন।
এদিকে মুরগির বাজারে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। কয়েক দিন ধরে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা, লেয়ার ৩৩০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে গরু ও খাসির মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

০২ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:৩৬
ডিজিটাল দুনিয়ায় এখন তরুণদের জয়জয়কার। সাধারণ একটি স্মার্টফোন আর এক বুক সৃজনশীলতা নিয়ে যারা বদলে দিচ্ছেন বিনোদন ও তথ্যের সংজ্ঞা, তাদেরই একজন বরিশালের তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটর রায়হান আবির। নিজের অনন্য নির্মাণশৈলী, চিন্তাভাবনা আর পরিশ্রমের জোরে তিনি এবার জায়গা করে নিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ আয়োজিত জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘গেট দ্য চ্যালেঞ্জ’র ফাইনাল রাউন্ডে।
সারাদেশের হাজারো প্রতিভাবান কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের পেছনে ফেলে সেরা ২৫ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান পাওয়া রায়হান আবিরের এই অর্জন কেবল তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বরিশালের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক বিরাট অনুপ্রেরণা।
বরিশালের স্থানীয় আবহাওয়া ও সংস্কৃতিতে বড় হওয়া রায়হান আবির সবসময় একটু ভিন্নভাবে চিন্তা করতে ভালোবাসতেন। চারপাশের চেনা গল্পগুলোকে ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দি করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার নেশাটা তার বেশ পুরোনো। প্রাতিষ্ঠানিক কোনো বড় একাডেমি বা দামি গ্যাজেট ছাড়াই কেবল মেধা ও একাগ্রতাকে পুঁজি করে শুরু হয়েছিল তার এই যাত্রা। ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাণের কঠিন প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে নিজের একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি।
দেশের সম্ভাবনাময় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের খুঁজে বের করতে এবং তাদের পেশাদারিত্বের আঙিনায় দক্ষ করে তুলতে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ আয়োজন করে এই রিয়েলিটি শো। কয়েক হাজার প্রতিযোগীর মধ্যে ধাপে ধাপে বিভিন্ন জটিল টাস্ক বা ‘চ্যালেঞ্জ’ পার হয়ে নিজের বুদ্ধিমত্তা ও সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রাখেন আবির। স্ক্রিপ্ট রাইটিং, ভিডিও এডিটিং থেকে শুরু করে ক্যামেরার সামনে অনন্য উপস্থাপনা-সবখানেই বিচারকদের মন জয় করে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেন তিনি।
প্রতিযোগিতার ফাইনাল পর্ব নিয়ে দারুণ আশাবাদী রায়হান আবির। নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি জানান, এটি তার জন্য একটি বড় পরীক্ষা এবং একই সাথে শেখার দারুণ এক সুযোগ। ফাইনাল রাউন্ডে আরও চমকপ্রদ ও সৃজনশীল কনটেন্ট উপহার দিয়ে তিনি কেবল বরিশাল নয়, পুরো দেশের দর্শকদের মন জয় করতে চান।
নিজের মেধা, সৃজনশীলতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে ভবিষ্যতে দেশের ডিজিটাল কনটেন্ট ইন্ডাস্ট্রিতে আরও বড় পরিসরে অবদান রাখার প্রত্যাশা করছেন রায়হান আবির।
ডিজিটাল দুনিয়ায় এখন তরুণদের জয়জয়কার। সাধারণ একটি স্মার্টফোন আর এক বুক সৃজনশীলতা নিয়ে যারা বদলে দিচ্ছেন বিনোদন ও তথ্যের সংজ্ঞা, তাদেরই একজন বরিশালের তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটর রায়হান আবির। নিজের অনন্য নির্মাণশৈলী, চিন্তাভাবনা আর পরিশ্রমের জোরে তিনি এবার জায়গা করে নিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ আয়োজিত জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘গেট দ্য চ্যালেঞ্জ’র ফাইনাল রাউন্ডে।
সারাদেশের হাজারো প্রতিভাবান কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের পেছনে ফেলে সেরা ২৫ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান পাওয়া রায়হান আবিরের এই অর্জন কেবল তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বরিশালের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক বিরাট অনুপ্রেরণা।
বরিশালের স্থানীয় আবহাওয়া ও সংস্কৃতিতে বড় হওয়া রায়হান আবির সবসময় একটু ভিন্নভাবে চিন্তা করতে ভালোবাসতেন। চারপাশের চেনা গল্পগুলোকে ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দি করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার নেশাটা তার বেশ পুরোনো। প্রাতিষ্ঠানিক কোনো বড় একাডেমি বা দামি গ্যাজেট ছাড়াই কেবল মেধা ও একাগ্রতাকে পুঁজি করে শুরু হয়েছিল তার এই যাত্রা। ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাণের কঠিন প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে নিজের একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি।
দেশের সম্ভাবনাময় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের খুঁজে বের করতে এবং তাদের পেশাদারিত্বের আঙিনায় দক্ষ করে তুলতে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ আয়োজন করে এই রিয়েলিটি শো। কয়েক হাজার প্রতিযোগীর মধ্যে ধাপে ধাপে বিভিন্ন জটিল টাস্ক বা ‘চ্যালেঞ্জ’ পার হয়ে নিজের বুদ্ধিমত্তা ও সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রাখেন আবির। স্ক্রিপ্ট রাইটিং, ভিডিও এডিটিং থেকে শুরু করে ক্যামেরার সামনে অনন্য উপস্থাপনা-সবখানেই বিচারকদের মন জয় করে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেন তিনি।
প্রতিযোগিতার ফাইনাল পর্ব নিয়ে দারুণ আশাবাদী রায়হান আবির। নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি জানান, এটি তার জন্য একটি বড় পরীক্ষা এবং একই সাথে শেখার দারুণ এক সুযোগ। ফাইনাল রাউন্ডে আরও চমকপ্রদ ও সৃজনশীল কনটেন্ট উপহার দিয়ে তিনি কেবল বরিশাল নয়, পুরো দেশের দর্শকদের মন জয় করতে চান।
নিজের মেধা, সৃজনশীলতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে ভবিষ্যতে দেশের ডিজিটাল কনটেন্ট ইন্ডাস্ট্রিতে আরও বড় পরিসরে অবদান রাখার প্রত্যাশা করছেন রায়হান আবির।

০২ নভেম্বর, ২০২৬ ১০:১১
বিয়ের মাত্র ১৭ দিন। নতুন সংসার, নতুন স্বপ্ন আর ভবিষ্যৎ ঘিরে নানা প্রত্যাশা। এর মধ্যেই ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক নববধূর। বরিশালের বাকেরগঞ্জে ওই নববধূকে ধর্ষণের অভিযোগে তাঁর দুলাভাই ও চাচা শ্বশুরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বাকেরগঞ্জ উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের আড়াইবেকী গ্রামের মো. ইমরান প্যাদা ও রাকিব প্যাদা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ অক্টোবর রাতে নতুন পোশাক কিনে দেওয়ার কথা বলে নববধূকে বাজারে নিয়ে যান ইমরান প্যাদা। কেনাকাটা শেষে বাড়ি ফেরার পথে নির্জন স্থানে নিয়ে ইমরান ও রাকিব মিলে তাঁকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
এ ঘটনার পর আইনি প্রতিকার চেয়ে গত ২৩ অক্টোবর বরিশাল জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে লিখিত অভিযোগ করেন ওই নারী। পরে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে ৩০ অক্টোবর বাকেরগঞ্জ থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন তিনি।
মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করে।
বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন জানান, মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তরা পালিয়ে যান। পরে পুলিশের অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বিয়ের অল্প দিনের মাথায় এমন অভিযোগ ঘিরে এলাকায় উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী নববধূর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
বিয়ের মাত্র ১৭ দিন। নতুন সংসার, নতুন স্বপ্ন আর ভবিষ্যৎ ঘিরে নানা প্রত্যাশা। এর মধ্যেই ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক নববধূর। বরিশালের বাকেরগঞ্জে ওই নববধূকে ধর্ষণের অভিযোগে তাঁর দুলাভাই ও চাচা শ্বশুরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বাকেরগঞ্জ উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের আড়াইবেকী গ্রামের মো. ইমরান প্যাদা ও রাকিব প্যাদা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ অক্টোবর রাতে নতুন পোশাক কিনে দেওয়ার কথা বলে নববধূকে বাজারে নিয়ে যান ইমরান প্যাদা। কেনাকাটা শেষে বাড়ি ফেরার পথে নির্জন স্থানে নিয়ে ইমরান ও রাকিব মিলে তাঁকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
এ ঘটনার পর আইনি প্রতিকার চেয়ে গত ২৩ অক্টোবর বরিশাল জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে লিখিত অভিযোগ করেন ওই নারী। পরে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে ৩০ অক্টোবর বাকেরগঞ্জ থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন তিনি।
মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করে।
বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন জানান, মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তরা পালিয়ে যান। পরে পুলিশের অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বিয়ের অল্প দিনের মাথায় এমন অভিযোগ ঘিরে এলাকায় উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী নববধূর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

০২ নভেম্বর, ২০২৬ ০২:২৮
পায়রা বন্দরে বিদেশি জাহাজের আগমন ধারাবাহিকভাবে কমছে। ২০২২–২৩ অর্থবছরে এ বন্দরে ১১১টি বিদেশি জাহাজ এলেও সর্বশেষ ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এসেছে মাত্র ২৯টি। অর্থাৎ তিন বছরের ব্যবধানে জাহাজের সংখ্যা কমেছে ৮২টি। বন্দরের নাব্যতা সংকট, শুল্কায়ন প্রক্রিয়ার জটিলতা ও সড়ক যোগাযোগের সীমাবদ্ধতাকে এর অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
রোববার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উপস্থাপিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২–২৩ অর্থবছরে পায়রা বন্দরে ১১১টি বিদেশি জাহাজ আসে। পরের অর্থবছর ২০২৩–২৪ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২৩টিতে। তবে এরপর থেকেই জাহাজের আগমন কমতে থাকে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ৮৫টি এবং ২০২৫–২৬ অর্থবছরে মাত্র ২৯টি বিদেশি জাহাজ বন্দরে আসে।
প্রতিবেদনে পায়রা বন্দরের কার্যক্রমে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাবনাবাদ চ্যানেলের পলিপ্রবণতা, নাব্যতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ, পণ্য খালাসে শুল্কায়ন জটিলতা এবং সড়ক যোগাযোগের দুর্বলতা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাবনাবাদ চ্যানেল অত্যন্ত পলিপ্রবণ হওয়ায় এর নাব্যতা বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। নিরাপদে নৌযান চলাচল নিশ্চিত করতে চ্যানেলটিতে নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন রক্ষণাবেক্ষণ ড্রেজিং প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পণ্য খালাসের ক্ষেত্রেও জটিলতার বিষয়টি উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, পণ্য ছাড়করণের কার্যক্রম শুধু বন্দর কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভরশীল নয়। এর সঙ্গে কাস্টম হাউস, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও শিপিং লাইনগুলো সম্পৃক্ত। বর্তমানে পায়রা বন্দরের ব্যবহারকারীদের এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম বরিশাল ও খুলনা কাস্টম হাউসের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হয়। এ কারণে বন্দরসংলগ্ন এলাকায় একটি পূর্ণাঙ্গ কাস্টম হাউস স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।
সড়ক যোগাযোগের সীমাবদ্ধতাকেও বন্দরের অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত সড়কের উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো দুই লেনের। ফলে পায়রা বন্দরের সঙ্গে নির্বিঘ্ন সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার প্রস্তাব ইতিমধ্যে একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকা-পায়রা রুটে ছয়টি স্থানে টোল আদায়ের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে পণ্য পরিবহনের সময় ও ব্যয় বাড়ছে, যা বন্দরের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন বিভিন্ন অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রধানেরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরেন। এ সময় কমিটির পক্ষ থেকে সব কাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখা, সতর্কতার সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও রপ্তানি পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। দুই দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের ব্যবধান, বিদ্যমান সম্ভাবনা এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন কমিটির সদস্যরা। এ ছাড়া ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্থলবন্দরগুলোর বাণিজ্যসংক্রান্ত চুক্তির বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনে দেশের ১৭টি স্থলবন্দরের কার্যক্রমের তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়েছে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে এসব স্থলবন্দর দিয়ে ১ কোটি ৫২ লাখ ৮৬ হাজার ৬০৬ টন পণ্য আমদানি করা হয়। বিপরীতে রপ্তানি হয় ১২ লাখ ৭২ হাজার ৩২৮ টন পণ্য।
২০২৫–২৬ অর্থবছরে আমদানির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ৬৪ লাখ ১২ হাজার ৫৪৭ টনে। তবে এ সময়ে রপ্তানি কমে ৯ লাখ ৬৫ হাজার ১৮৯ মেট্রিক টনে নেমে আসে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এসব স্থলবন্দর দিয়ে ৩৯ লাখ ৮৬ হাজার ২২৩ টন পণ্য আমদানি এবং ৩ লাখ ১৫ হাজার ৩৩৮ টন পণ্য রপ্তানি হয়েছে।
জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংসদীয় কমিটির সভাপতি জয়নুল আবদিন ফারুক। এতে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, কমিটির সদস্য মো. হাফিজ ইব্রাহিম, আনিছুর রহমান, সাঈদ আহমেদ, সানজিদা ইয়াসমিন, মো. নাজমুল হুদা ও আবদুল হান্নান মাসউদ।
পায়রা বন্দরে বিদেশি জাহাজের আগমন ধারাবাহিকভাবে কমছে। ২০২২–২৩ অর্থবছরে এ বন্দরে ১১১টি বিদেশি জাহাজ এলেও সর্বশেষ ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এসেছে মাত্র ২৯টি। অর্থাৎ তিন বছরের ব্যবধানে জাহাজের সংখ্যা কমেছে ৮২টি। বন্দরের নাব্যতা সংকট, শুল্কায়ন প্রক্রিয়ার জটিলতা ও সড়ক যোগাযোগের সীমাবদ্ধতাকে এর অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
রোববার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উপস্থাপিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২–২৩ অর্থবছরে পায়রা বন্দরে ১১১টি বিদেশি জাহাজ আসে। পরের অর্থবছর ২০২৩–২৪ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২৩টিতে। তবে এরপর থেকেই জাহাজের আগমন কমতে থাকে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ৮৫টি এবং ২০২৫–২৬ অর্থবছরে মাত্র ২৯টি বিদেশি জাহাজ বন্দরে আসে।
প্রতিবেদনে পায়রা বন্দরের কার্যক্রমে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাবনাবাদ চ্যানেলের পলিপ্রবণতা, নাব্যতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ, পণ্য খালাসে শুল্কায়ন জটিলতা এবং সড়ক যোগাযোগের দুর্বলতা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাবনাবাদ চ্যানেল অত্যন্ত পলিপ্রবণ হওয়ায় এর নাব্যতা বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। নিরাপদে নৌযান চলাচল নিশ্চিত করতে চ্যানেলটিতে নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন রক্ষণাবেক্ষণ ড্রেজিং প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পণ্য খালাসের ক্ষেত্রেও জটিলতার বিষয়টি উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, পণ্য ছাড়করণের কার্যক্রম শুধু বন্দর কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভরশীল নয়। এর সঙ্গে কাস্টম হাউস, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও শিপিং লাইনগুলো সম্পৃক্ত। বর্তমানে পায়রা বন্দরের ব্যবহারকারীদের এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম বরিশাল ও খুলনা কাস্টম হাউসের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হয়। এ কারণে বন্দরসংলগ্ন এলাকায় একটি পূর্ণাঙ্গ কাস্টম হাউস স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।
সড়ক যোগাযোগের সীমাবদ্ধতাকেও বন্দরের অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত সড়কের উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো দুই লেনের। ফলে পায়রা বন্দরের সঙ্গে নির্বিঘ্ন সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার প্রস্তাব ইতিমধ্যে একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকা-পায়রা রুটে ছয়টি স্থানে টোল আদায়ের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে পণ্য পরিবহনের সময় ও ব্যয় বাড়ছে, যা বন্দরের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন বিভিন্ন অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রধানেরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরেন। এ সময় কমিটির পক্ষ থেকে সব কাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখা, সতর্কতার সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও রপ্তানি পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। দুই দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের ব্যবধান, বিদ্যমান সম্ভাবনা এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন কমিটির সদস্যরা। এ ছাড়া ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্থলবন্দরগুলোর বাণিজ্যসংক্রান্ত চুক্তির বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনে দেশের ১৭টি স্থলবন্দরের কার্যক্রমের তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়েছে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে এসব স্থলবন্দর দিয়ে ১ কোটি ৫২ লাখ ৮৬ হাজার ৬০৬ টন পণ্য আমদানি করা হয়। বিপরীতে রপ্তানি হয় ১২ লাখ ৭২ হাজার ৩২৮ টন পণ্য।
২০২৫–২৬ অর্থবছরে আমদানির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ৬৪ লাখ ১২ হাজার ৫৪৭ টনে। তবে এ সময়ে রপ্তানি কমে ৯ লাখ ৬৫ হাজার ১৮৯ মেট্রিক টনে নেমে আসে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এসব স্থলবন্দর দিয়ে ৩৯ লাখ ৮৬ হাজার ২২৩ টন পণ্য আমদানি এবং ৩ লাখ ১৫ হাজার ৩৩৮ টন পণ্য রপ্তানি হয়েছে।
জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংসদীয় কমিটির সভাপতি জয়নুল আবদিন ফারুক। এতে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, কমিটির সদস্য মো. হাফিজ ইব্রাহিম, আনিছুর রহমান, সাঈদ আহমেদ, সানজিদা ইয়াসমিন, মো. নাজমুল হুদা ও আবদুল হান্নান মাসউদ।
০২ নভেম্বর, ২০২৬ ১৪:৩৫
বরিশালের বাজারে মাছ কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা। ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে ইলিশের সরবরাহ বাড়লেও স্বস্তি ফেরেনি মাছের বাজারে। নদ-নদীতে দেশি প্রজাতির মাছের সরবরাহ কম থাকায় চাহিদা বেড়েছে চাষের মাছের। সেই সুযোগে সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। অন্যদিকে সবজির বাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা থাকায় কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছেন ক্রেতারা।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে বরিশাল নগরীর পোর্ট রোডের মাছের বাজার ও বহুমুখী সিটি মার্কেটের পাইকারি সবজির বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
পোর্ট রোড মাছের বাজারে প্রতি কেজি পাবদা ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা, রুই ২৮০ থেকে ৪৫০, কাতলা ২৮০ থেকে ৫০০, তেলাপিয়া ১৬০ থেকে ১৮০, পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০, চাষের কৈ ২০০ থেকে ২২০ এবং দেশি কৈ ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া চাষের শিং ৫০০ থেকে ৬০০, টেংরা ৫৫০ থেকে ৬৫০, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০, চিংড়ি ৭৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ এবং কোরাল ৫০০ থেকে ৯৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে ইলিশের দাম ৫০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত।
মাছের এমন চড়া দামে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। নগরীর বাংলাবাজারে বাজার করতে আসা রাসেল বলেন, কয়েক দিন ধরে সবজির দাম স্বাভাবিক থাকলেও মাছের বাজারে আগুন। নিজেদের নদ-নদীর মাছের দামও নাগালের বাইরে। সাধারণ মানুষ কী কিনে খাবে? এ জন্য নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা দরকার।
সাইফুল নামের আরেক ক্রেতা বলেন, এক কেজি চিংড়ি মাছ ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায় কিনেছেন। এখন সেই মাছ ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে অন্যান্য মাছের দামও বেড়েছে। ফলে চাহিদা অনুযায়ী পছন্দের মাছ কিনতে না পেরে তেলাপিয়া ও পাঙাশের মতো মাছ কিনতে হচ্ছে।
বারেক নামের আরেক ক্রেতা বলেন, নিজেদের নদ-নদীর ইলিশও এখন কেনার সাধ্যের বাইরে। অন্যান্য মাছও কেনা যাচ্ছে না। চাষের পাঙাশ ও তেলাপিয়ার দামও দিন দিন বাড়ছে। তাঁর অভিযোগ, মাছের দাম বাড়ানো-কমানোর ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের কারসাজি রয়েছে।
পোর্ট রোডের পাইকারি মাছ বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, নদীর মাছের সরবরাহ কম থাকায় চাষের মাছের চাহিদা বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দামে। সপ্তাহের ব্যবধানে আকার ও প্রকারভেদে বিভিন্ন মাছের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
অন্যদিকে নগরীর বহুমুখী সিটি মার্কেটের পাইকারি সবজির বাজারে বেশির ভাগ পণ্যের দাম রয়েছে আগের মতোই। প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৮০ টাকা, পটল ৩০, ঢেঁড়স ৪০, চিচিঙ্গা ৪০, ধুন্দল ৫০, ঝিঙা ৪০, করলা ৪০, ফুলকপি ৪০, বাঁধাকপি ৫৫, গাজর ৯০, পেঁপে ৬ থেকে ১০ এবং লাউ ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। তবে নতুন উঠতে শুরু করা শীতকালীন শিমের দাম কেজিপ্রতি ৯০ থেকে ১০০ টাকা।
পাইকারি বাজারের তুলনায় খুচরা বাজারে এসব সবজির দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে দেখা গেছে।
আমিন নামের এক ক্রেতা বলেন, বৃষ্টির মৌসুমে সরবরাহ কম থাকায় সবজির দাম বেশি ছিল। এখন আবার পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কথা বলে দাম বাড়তি রাখা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
বহুমুখী সিটি মার্কেটের পাইকারি সবজির ব্যবসায়ী আলামিন বলেন, পণ্যের দাম বাড়ানো বা কমানোর ক্ষেত্রে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের তেমন কোনো হাত নেই। তাঁরা যে দামে পণ্য কিনে আনেন, সে অনুযায়ী বিক্রি করেন।
এদিকে মুরগির বাজারে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। কয়েক দিন ধরে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা, লেয়ার ৩৩০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে গরু ও খাসির মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
০২ নভেম্বর, ২০২৬ ১৪:৩৫
০২ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:৩৬
০২ নভেম্বর, ২০২৬ ১০:১১
০২ নভেম্বর, ২০২৬ ০২:২৮