বরিশাল শহরের বধ্যভূমিসংলগ্ন ত্রিশ গোডাউন এলাকার সকালটি তখনও নিস্তব্ধ। কীর্তনখোলার জলের ওপর কুয়াশার স্বচ্ছ পাতলা আস্তরণ। হঠাৎ সেই নিস্তব্ধতা চিরে ভেসে এলো পুরনো সুর, স্টিমারের সাইরেন। এই শব্দে মুহূর্তেই নদীর সকাল বদলে গেল।
যেন বহুদিনের ঘুম ভাঙল কীর্তনখোলার, আর শহরের মানুষের মনে টোকা দিল সঞ্চিত স্মৃতি।
এই ফিরে আসা স্টিমারটি হলো পিএস মাহসুদ, যা কেবল একটি পরিবহন নয়, বরিশালের মানুষের স্মৃতির সঙ্গে মিশে থাকা এক টুকরো ইতিহাস। ১৯৩৮ সালে নির্মিত স্টিমারটি ২০২০ সাল পর্যন্ত নিয়মিত চলাচল করেছে, এরপর নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে এর যাত্রীসেবা থেমে যায়। সংস্কারের পর গত ১৫ নভেম্বর ঢাকার সদরঘাটে নৌপরিবহন উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন এটি উদ্বোধন করেন।
পিএস মাহসুদের চেহারা আজও ভারী ও রাজকীয়। এর কাঠের ডেক, পালের গঠন এবং ধাতব চাকা—সবকিছুই যেন কোনো জাদুঘরের স্মারক। তবে যাত্রীদের আরাম দিতে এর ভেতর নতুন করে সাজানো হয়েছে কেবিন, নিয়ন্ত্রণকক্ষ। নিশ্চিত করা হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা।
একসময় ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে স্টিমারের ওপরই ছিল যাত্রীদের প্রধান ভরসা। ধীরে চলা, ডেকে রাত কাটানো এবং নদীর ভোর দেখার মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছিল এক নদীসংলগ্ন সংস্কৃতি। বরিশাল শিক্ষাবোর্ডে সাবেক চেয়ারম্যান মো. আব্বাস উদ্দিন খান বন্ধুদের এগিয়ে দিতে এসে জানান, এই স্টিমারের সঙ্গে তাদের অনেক স্মৃতি জড়িত এবং ভিড় দেখলে তার ভালো লাগে।
৭৭ বছর বয়সী নার্গিস রফিকা রহমান ৬৩ বছর পর আবার ঢাকার পথে এই স্টিমারে উঠেছেন। তিনি বলেন, ‘১৯৬২ সালে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় শেষবার উঠেছিলাম।
এত বছর পর নৌপথে কেমন লাগে, সব আবার দেখতে চাই।’
৫৫ বছর বয়সী রওশন আরা বেগম দীর্ঘক্ষণ স্টিমারের দিকে তাকিয়ে থাকার পর বলেন, ‘স্টিমার যেতে দেখলে বুকের ভেতর যেন টান পড়ে।’ তিনি মনে করিয়ে দেন, সময় বদলালেও নদী কিন্তু আগের মতোই আছে। দ্রুতগামী লঞ্চ ও উন্নত সড়কের ভিড়ে মানুষ এখনও ধীর লয়ের স্টিমার ভ্রমণের সেই শান্তি খুঁজে বেড়ায়, আর নদীর ভোরের আলোয় চোখ মেলার অনুভূতি চায়। কীর্তনখোলার বাতাসে আজও জীবনানন্দ দাশের সেই নদীর ভোর ভেসে থাকে।
প্রথম যাত্রার ফিরতি পথে স্টিমার পিএস মাহসুদ শনিবার সকালে রওনা দিয়ে রাতেই ঢাকায় পৌঁছেছে। বিআইডাব্লিউটিসির বরিশাল টার্মিনাল সুপারিনটেনডেন্ট সোহেল খান জানান, যাত্রীসংখ্যা ছিল ‘খুবই আশাব্যঞ্জক’। এই যাত্রায় প্রথম শ্রেণিতে ১৬ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে দুইজন এবং শোভন শ্রেণিতে দুইজন যাত্রী ছিলেন। ঢাকা থেকে বরিশালে আসা ১৪ জন যাত্রী ফিরতি পথে শনিবার রাতে ঢাকায় ফিরেছেন।
সাংবাদিকরা যখন সকালে ত্রিশ গোডাউন এলাকার অস্থায়ী টার্মিনালে পৌঁছান, তখন একটু একটু করে ঘাট জমতে থাকে। ২০ জন যাত্রী যখন স্টিমারে ওঠেন, তখন ঐতিহ্যবাহী লাল গালিচা বিছিয়ে তাঁদের স্বাগত জানানো হয়। স্টিমারের নিচতলায় কর্মীরা তখন নাস্তার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, আর রান্নার গরম ভাপ ঘাটের কুয়াশার সঙ্গে মিশে যাচ্ছিল।
এই স্টিমার যাত্রার এক বিশেষ আকর্ষণ হলো ফিশ ‘কাটলেট’। কবি হেনরী স্বপন জানান, নব্বইয়ের দশকের শুরুতে যখন তিনি তৃতীয় শ্রেণির যাত্রী হয়ে বই কিনতে ঢাকায় যেতেন (তখন ভাড়া ছিল প্রায় ৫০ টাকা), তখন সেই কাটলেটই ছিল তার প্রধান টান। কাটলেটের দাম তখন ভাড়ার চেয়েও বেশি ছিল। টুনা ও সামুদ্রিক মাছ দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি করা এই কাটলেট পরিবেশন করা হতো কাটা চাকু, ছুরি ও সসের সঙ্গে।
এই নতুন যাত্রায়ও কাটলেট ছিল। এক যাত্রী ১৫০ টাকায় কাটলেট, ৫০০ টাকায় ব্রেকফাস্ট এবং ৫০০ টাকায় দুপুরের খাবার খান, যার মোট বিল দাঁড়ায় এক হাজার ২৩০ টাকা। যদিও বিলের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল, তবে কাটলেটের মান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শুক্রবার রাতের অন্ধকারে স্টিমার পৌঁছানোর কারণে অনেকে সেটি ভালোভাবে দেখতে পারেননি। তাই শনিবার সকাল থেকেই ঘাটে মানুষের ভিড় জমতে থাকে। কেউ ভিডিও করছিলেন, কেউ ছবি তুলছিলেন, আর কেউ চুপচাপ তাকিয়ে দেখছিলেন, যেন নদীর বুক থেকে ফিরে আসা কোনো পুরনো পরিচিত মুখ দেখছেন।
বিআইডাব্লিউটিসির পরিদর্শক জসিম উদ্দিন সিকদার বলেন, “আপাতত সংস্থাটিই স্টিমার পরিচালনা করছে। তবে দুই দফা টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে এবং লিজ মিলে গেলে এটি ‘হেরিটেজ ক্রুজ’ হিসেবে চলবে।”

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৫৭
বরিশালের হিজলায় মেঘনা নদীতে আক্তার হাওলাদার নামে চল্লিশোর্ধ্ব এক জেলেকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের চরমেমানিয়া এলাকায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে বেলা ১টার দিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত আক্তার হাওলাদার চরমেমানিয়া এলাকার সুলতান হাওলাদারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আক্তার হাওলাদার অন্য জেলেদের সঙ্গে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। এ সময় অন্য একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে আক্তার গুলিবিদ্ধ হন। পরে সঙ্গে থাকা জেলেরা তাকে জীবিত অবস্থায় নদীর তীরে নিয়ে আসেন এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে খবর দেন। মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান জানান, অন্য একটি ট্রলার থেকে গুলি ছোড়ার ঘটনায় আকতার গুলিবিদ্ধ হন বলে তার সঙ্গে থাকা জেলেরা জানিয়েছেন। তবে কারা এবং কী কারণে গুলি ছুড়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ঘটনার সময় নদীতে কোনো বাহিনীর অভিযান চলছিল না। কীভাবে ওই জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, কয়েকজন জেলে তাকে মেঘনা নদীতে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকার খবর দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। জেলেদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছিল। তবে কারা গুলি করেছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি।’

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৪৬
বরিশাল নগরীর সদর রোডে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় সজল কুমার চক্রবর্তী নামে এক আইনজীবী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে জগন্নাথ মন্দিরের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও নিহতের সহকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, সকালে মন্দির থেকে বের হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল সজলকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ও মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৮টা ৫ মিনিটে সজল কুমার চক্রবর্তীর মৃত্যু হয়।
বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।’

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৩৬

৩০ নভেম্বর, ২০২৫ ১৩:০১
বরিশাল শহরের বধ্যভূমিসংলগ্ন ত্রিশ গোডাউন এলাকার সকালটি তখনও নিস্তব্ধ। কীর্তনখোলার জলের ওপর কুয়াশার স্বচ্ছ পাতলা আস্তরণ। হঠাৎ সেই নিস্তব্ধতা চিরে ভেসে এলো পুরনো সুর, স্টিমারের সাইরেন। এই শব্দে মুহূর্তেই নদীর সকাল বদলে গেল।
যেন বহুদিনের ঘুম ভাঙল কীর্তনখোলার, আর শহরের মানুষের মনে টোকা দিল সঞ্চিত স্মৃতি।
এই ফিরে আসা স্টিমারটি হলো পিএস মাহসুদ, যা কেবল একটি পরিবহন নয়, বরিশালের মানুষের স্মৃতির সঙ্গে মিশে থাকা এক টুকরো ইতিহাস। ১৯৩৮ সালে নির্মিত স্টিমারটি ২০২০ সাল পর্যন্ত নিয়মিত চলাচল করেছে, এরপর নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে এর যাত্রীসেবা থেমে যায়। সংস্কারের পর গত ১৫ নভেম্বর ঢাকার সদরঘাটে নৌপরিবহন উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন এটি উদ্বোধন করেন।
পিএস মাহসুদের চেহারা আজও ভারী ও রাজকীয়। এর কাঠের ডেক, পালের গঠন এবং ধাতব চাকা—সবকিছুই যেন কোনো জাদুঘরের স্মারক। তবে যাত্রীদের আরাম দিতে এর ভেতর নতুন করে সাজানো হয়েছে কেবিন, নিয়ন্ত্রণকক্ষ। নিশ্চিত করা হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা।
একসময় ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে স্টিমারের ওপরই ছিল যাত্রীদের প্রধান ভরসা। ধীরে চলা, ডেকে রাত কাটানো এবং নদীর ভোর দেখার মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছিল এক নদীসংলগ্ন সংস্কৃতি। বরিশাল শিক্ষাবোর্ডে সাবেক চেয়ারম্যান মো. আব্বাস উদ্দিন খান বন্ধুদের এগিয়ে দিতে এসে জানান, এই স্টিমারের সঙ্গে তাদের অনেক স্মৃতি জড়িত এবং ভিড় দেখলে তার ভালো লাগে।
৭৭ বছর বয়সী নার্গিস রফিকা রহমান ৬৩ বছর পর আবার ঢাকার পথে এই স্টিমারে উঠেছেন। তিনি বলেন, ‘১৯৬২ সালে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় শেষবার উঠেছিলাম।
এত বছর পর নৌপথে কেমন লাগে, সব আবার দেখতে চাই।’
৫৫ বছর বয়সী রওশন আরা বেগম দীর্ঘক্ষণ স্টিমারের দিকে তাকিয়ে থাকার পর বলেন, ‘স্টিমার যেতে দেখলে বুকের ভেতর যেন টান পড়ে।’ তিনি মনে করিয়ে দেন, সময় বদলালেও নদী কিন্তু আগের মতোই আছে। দ্রুতগামী লঞ্চ ও উন্নত সড়কের ভিড়ে মানুষ এখনও ধীর লয়ের স্টিমার ভ্রমণের সেই শান্তি খুঁজে বেড়ায়, আর নদীর ভোরের আলোয় চোখ মেলার অনুভূতি চায়। কীর্তনখোলার বাতাসে আজও জীবনানন্দ দাশের সেই নদীর ভোর ভেসে থাকে।
প্রথম যাত্রার ফিরতি পথে স্টিমার পিএস মাহসুদ শনিবার সকালে রওনা দিয়ে রাতেই ঢাকায় পৌঁছেছে। বিআইডাব্লিউটিসির বরিশাল টার্মিনাল সুপারিনটেনডেন্ট সোহেল খান জানান, যাত্রীসংখ্যা ছিল ‘খুবই আশাব্যঞ্জক’। এই যাত্রায় প্রথম শ্রেণিতে ১৬ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে দুইজন এবং শোভন শ্রেণিতে দুইজন যাত্রী ছিলেন। ঢাকা থেকে বরিশালে আসা ১৪ জন যাত্রী ফিরতি পথে শনিবার রাতে ঢাকায় ফিরেছেন।
সাংবাদিকরা যখন সকালে ত্রিশ গোডাউন এলাকার অস্থায়ী টার্মিনালে পৌঁছান, তখন একটু একটু করে ঘাট জমতে থাকে। ২০ জন যাত্রী যখন স্টিমারে ওঠেন, তখন ঐতিহ্যবাহী লাল গালিচা বিছিয়ে তাঁদের স্বাগত জানানো হয়। স্টিমারের নিচতলায় কর্মীরা তখন নাস্তার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, আর রান্নার গরম ভাপ ঘাটের কুয়াশার সঙ্গে মিশে যাচ্ছিল।
এই স্টিমার যাত্রার এক বিশেষ আকর্ষণ হলো ফিশ ‘কাটলেট’। কবি হেনরী স্বপন জানান, নব্বইয়ের দশকের শুরুতে যখন তিনি তৃতীয় শ্রেণির যাত্রী হয়ে বই কিনতে ঢাকায় যেতেন (তখন ভাড়া ছিল প্রায় ৫০ টাকা), তখন সেই কাটলেটই ছিল তার প্রধান টান। কাটলেটের দাম তখন ভাড়ার চেয়েও বেশি ছিল। টুনা ও সামুদ্রিক মাছ দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি করা এই কাটলেট পরিবেশন করা হতো কাটা চাকু, ছুরি ও সসের সঙ্গে।
এই নতুন যাত্রায়ও কাটলেট ছিল। এক যাত্রী ১৫০ টাকায় কাটলেট, ৫০০ টাকায় ব্রেকফাস্ট এবং ৫০০ টাকায় দুপুরের খাবার খান, যার মোট বিল দাঁড়ায় এক হাজার ২৩০ টাকা। যদিও বিলের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল, তবে কাটলেটের মান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শুক্রবার রাতের অন্ধকারে স্টিমার পৌঁছানোর কারণে অনেকে সেটি ভালোভাবে দেখতে পারেননি। তাই শনিবার সকাল থেকেই ঘাটে মানুষের ভিড় জমতে থাকে। কেউ ভিডিও করছিলেন, কেউ ছবি তুলছিলেন, আর কেউ চুপচাপ তাকিয়ে দেখছিলেন, যেন নদীর বুক থেকে ফিরে আসা কোনো পুরনো পরিচিত মুখ দেখছেন।
বিআইডাব্লিউটিসির পরিদর্শক জসিম উদ্দিন সিকদার বলেন, “আপাতত সংস্থাটিই স্টিমার পরিচালনা করছে। তবে দুই দফা টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে এবং লিজ মিলে গেলে এটি ‘হেরিটেজ ক্রুজ’ হিসেবে চলবে।”
বরিশালের হিজলায় মেঘনা নদীতে আক্তার হাওলাদার নামে চল্লিশোর্ধ্ব এক জেলেকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের চরমেমানিয়া এলাকায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে বেলা ১টার দিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত আক্তার হাওলাদার চরমেমানিয়া এলাকার সুলতান হাওলাদারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আক্তার হাওলাদার অন্য জেলেদের সঙ্গে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। এ সময় অন্য একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে আক্তার গুলিবিদ্ধ হন। পরে সঙ্গে থাকা জেলেরা তাকে জীবিত অবস্থায় নদীর তীরে নিয়ে আসেন এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে খবর দেন। মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান জানান, অন্য একটি ট্রলার থেকে গুলি ছোড়ার ঘটনায় আকতার গুলিবিদ্ধ হন বলে তার সঙ্গে থাকা জেলেরা জানিয়েছেন। তবে কারা এবং কী কারণে গুলি ছুড়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ঘটনার সময় নদীতে কোনো বাহিনীর অভিযান চলছিল না। কীভাবে ওই জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, কয়েকজন জেলে তাকে মেঘনা নদীতে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকার খবর দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। জেলেদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছিল। তবে কারা গুলি করেছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি।’
বরিশাল নগরীর সদর রোডে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় সজল কুমার চক্রবর্তী নামে এক আইনজীবী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে জগন্নাথ মন্দিরের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও নিহতের সহকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, সকালে মন্দির থেকে বের হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল সজলকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ও মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৮টা ৫ মিনিটে সজল কুমার চক্রবর্তীর মৃত্যু হয়।
বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।’
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ২০১৫ সালে কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুক্তার হোসেনের অবশিষ্ট জেরা হবে। এর আগে গত ১৮ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।
এ মামলার আসামিরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ এবং উজিরপুর থানার সাবেক দুই সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, হাসানাত আবদুল্লাহ ও এ কে এম এহসানউল্লাহ পলাতক রয়েছেন। অপর দুই আসামি মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় কথিত ক্রসফায়ারে নিহত হন উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, গৌরনদী-গোপালগঞ্জ মহাসড়কের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় সেতুর পশ্চিম পাশে তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তাঁদের হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় অধস্তন পুলিশ সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যায় না।
২০২৬ সালের ২০ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আসামিপক্ষের জেরার মধ্য দিয়ে মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা মামলার অভিযোগের পক্ষে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মাধ্যমে আসামিপক্ষ তদন্তের বিভিন্ন দিক, সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ এবং সাক্ষ্যসংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ পাবে।
আজকের কার্যক্রমে তদন্ত কর্মকর্তার অবশিষ্ট জেরা সম্পন্ন হলে ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগোবে। তবে জেরা শেষে কী সিদ্ধান্ত বা আদেশ দেওয়া হয়েছে, তা আদালতের কার্যক্রমের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ২০১৫ সালে কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুক্তার হোসেনের অবশিষ্ট জেরা হবে। এর আগে গত ১৮ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।
এ মামলার আসামিরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ এবং উজিরপুর থানার সাবেক দুই সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, হাসানাত আবদুল্লাহ ও এ কে এম এহসানউল্লাহ পলাতক রয়েছেন। অপর দুই আসামি মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় কথিত ক্রসফায়ারে নিহত হন উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, গৌরনদী-গোপালগঞ্জ মহাসড়কের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় সেতুর পশ্চিম পাশে তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তাঁদের হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় অধস্তন পুলিশ সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যায় না।
২০২৬ সালের ২০ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আসামিপক্ষের জেরার মধ্য দিয়ে মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা মামলার অভিযোগের পক্ষে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মাধ্যমে আসামিপক্ষ তদন্তের বিভিন্ন দিক, সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ এবং সাক্ষ্যসংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ পাবে।
আজকের কার্যক্রমে তদন্ত কর্মকর্তার অবশিষ্ট জেরা সম্পন্ন হলে ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগোবে। তবে জেরা শেষে কী সিদ্ধান্ত বা আদেশ দেওয়া হয়েছে, তা আদালতের কার্যক্রমের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৫৯
২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:০৭
২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:০৮
২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৫৭