যখন যে দল ক্ষমতায় আসে সেই দলের নেতা বনে যান তিনি। ৫ আগস্টের আগে ছিলেন যুবলীগ নেতা। এরপরে বিএনপি'র ছত্রছায়ায় একটি হাইস্কুল ও কলেজের সভাপতি হতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন। তবে তাতে ব্যর্থ হয়ে নামেন নতুন মিশনে। সুইডেন এবং স্পেনের দুটি আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতায় বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা এলাকায় শিল্পাঞ্চল তৈরি করছে বাংলাদেশ সরকারের বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। সেই শিল্পাঞ্চল নির্মাণ প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ ও জনবল নিয়োগসহ সকল কাজ সম্পন্ন করার জন্য এইচআর (হিউম্যান রিসোর্স) বিভাগের প্রধান হিসেবে তাকে নিয়োগ করেছে সরকার। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব স্বাক্ষরিত এমন একটি সরকারি প্রজ্ঞাপনের চিঠি ফেসবুকে পোস্ট করেন তিনি। এলাকায় শিল্পাঞ্চল গড়ে ওঠা এবং এর দেখভালের সার্বিক দায়িত্ব পাওয়ায় তিনি নেটিজেনদের শুভেচ্ছা আর অভিনন্দনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাসতে থাকেন। তবে এতেই ঘটে যায় মূল বিপত্তি। একপর্যায়ে সেই পোস্ট ভাইরাল হয়ে পৌঁছে যায় পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে। এভাবেই ফাঁস হয়ে যায় তার কল্পকাহিনী নির্ভর ভয়ঙ্কর প্রতারণার ফাঁদ পাতা গল্পটা। এরপরে পাট অধিদপ্তরের ডিজি'র নির্দেশে মামলা দায়ের করা হলে গ্রেপ্তার হন স্বঘোষিত সেই এইচআর ডিপার্টমেন্টের প্রধান মিজানুর রহমান। গতকাল রাতে তাকে ডিবি এবং এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযুক্ত মিজানুর রহমান বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের মাধবপাশা গ্রামের জহুর সরদারের ছেলে।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র এবং অনুসন্ধানে জানা যায়, একসময়ে বরিশালের সুরভী লঞ্চ কোম্পানির ম্যানেজার পদে চাকরি করতেন মিজানুর রহমান। সেখানে সাংবাদিক পেটানোসহ নানান অভিযোগ আলোচিত-সমালোচিত হওয়ার পরে চাকরিচ্যুত হন তিনি। এরপরে গ্রামের বাড়ি মাধবপাশায় এসে তিনি বিভিন্ন টুর্নামেন্টের আয়োজন করে নিজেকে একজন ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে পরিচিতি লাভে মনোযোগী হন। এসময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে নিজেও হয়ে যান স্বঘোষিত এক যুবলীগ নেতা। তবে দলীয় কোনো পদ-পদবি ছিল না তার। এদিকে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরপরই পালিয়ে যান মাধবপাশা চন্দ্রদ্বীপ হাইস্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ প্রণব কুমার বেপারী। প্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রধান শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে চলতি দায়িত্ব গ্রহণের পরে ম্যানেজিং কমিটি (এডহক) গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেখানে সভাপতি প্রার্থী হন স্থানীয় এই আলোচিত মিজানুর রহমান। বিএনপি'র স্থানীয় কতিপয় নেতাদের শেল্টার নিয়ে তিনি রাতারাতি হয়ে যান বিএনপি নেতা। সভাপতি হওয়ার জন্য শুরু করেন তদবির ও ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ। এডহক কমিটির সভাপতি হওয়ার জন্য বরিশাল জেলা প্রশাসক এবং বাবুগঞ্জের ইউএনও'র উপরে অবৈধ চাপসৃষ্টির অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় বিএনপির একটি গ্রুপের চাপে মিজানুর রহমানের নাম এক নম্বরে প্রস্তাব করে সভাপতি নিয়োগের জন্য ৩ জনের নাম শিক্ষাবোর্ডে পাঠায় চন্দ্রদ্বীপ হাইস্কুল ও কলেজ কর্তৃপক্ষ। এদিকে তাকে পতিত স্বৈরাচারের দোসর ও যুবলীগ নেতা আখ্যা দিয়ে সভাপতি পদে নিযুক্ত না করার জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও শিক্ষাবোর্ডসহ বিভিন্ন জায়গায় আবেদন করে তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা। প্রমাণ হিসেবে যুবলীগ নেতাদের সাথে তার অন্তরঙ্গ মুহুর্তের বেশকিছু ছবিও অভিযোগের সাথে দাখিল করা হয়। সভাপতি প্রার্থী নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পরবর্তীকালে নিরপেক্ষ ব্যক্তি হিসেবে বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে চন্দ্রদ্বীপ হাইস্কুল ও কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি মনোনীত করে বরিশালের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। এদিকে এ ঘটনায় বরিশাল জেলা প্রশাসক মোঃ দেলোয়ার হোসেনকে দায়ী করে তার বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকা ডোনেশন দাবির অভিযোগ তুলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে দরখাস্ত করেন ক্ষুব্ধ সভাপতি প্রার্থী মিজানুর রহমান। কয়েকটি গণমাধ্যমে জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশও করান তিনি। তবে মন্ত্রণালয় তদন্ত করে তার সেই অভিযোগের কোনো সত্যতা পায়নি।
মাধবপাশা চন্দ্রদ্বীপ হাইস্কুল ও কলেজের এডহক কমিটি গঠন প্রক্রিয়া প্রায় ৭ মাস আটকে রাখা এবং জেলা প্রশাসককে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে নাজেহাল করায় সর্বমহলে আলোচিত এক নাম হয়ে ওঠেন মিজানুর রহমান। সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের পদ-পদবি ধারণ না করলেও তাকে নিয়ে মানুষের কৌতুহল বাড়তে থাকে। ফলে মাধবপাশা এলাকায় তার ভক্ত-অনুসারীর সংখ্যাও বেড়ে যায়। এদিকে এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কয়েকদিন আগে তিনি নিজের ফেসবুক ওয়ালে একটি সরকারি প্রজ্ঞাপনের চিঠি পোস্ট করে লেখেন আলহামদুলিল্লাহ। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনের বলা হয়- বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং শিল্পায়ন কার্যক্রম জোরদারকরণের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক খ্যাতনামা সুইডেনের এইচ অ্যান্ড এম কর্পোরেশন এবং স্পেনের ইন্ডিটেক্স গ্রুপের জারা সংস্থা ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা এলাকায় তাদের আঞ্চলিক শাখা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ওই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য স্থান নির্বাচন, জমি অধিগ্রহণ, জনবল নিয়োগ ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য হেড অব হিউম্যান রিসোর্স ডিপার্টমেন্ট হিসেবে জনাব মিজানুর রহমানকে নিয়োগ প্রদান করা হলো। এইচআর ডিপার্টমেন্টের প্রধান হিসেবে মিজানুর রহমানের নেতৃত্ব এই প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ ও জনবল নিয়োগসহ যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রজ্ঞাপনের চিঠিতে আরও বলা হয়- এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মাধবপাশা এলাকা একটি শিল্পাঞ্চলে রূপান্তরিত হবে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়। একই সাথে মিজানুর রহমানকে তার এইচআর প্রধানের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের নির্দেশ এবং সকলকে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত ওই প্রজ্ঞাপনের চিঠি মিজানুর রহমানের ফেসবুক আইডিতে আপলোডের পরে শুরু হয় তোলপাড়। মাধবপাশা অঞ্চলে এমন এক ঐতিহাসিক শিল্পাঞ্চল গড়ে ওঠা এবং তা বাস্তবায়নে প্রধান দায়িত্ব পাওয়া মিজানুর রহমান নেটিজেনদের শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দনে ভাসতে থাকেন। মুহূর্তেই এই পোস্ট ভাইরাল হয়ে যায় এবং সেটা পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দৃষ্টিগোচর হয়। তবে সতর্কতা হিসেবে মন্ত্রণালয়ের ওই ভুয়া প্রজ্ঞাপনের চিঠিটা ফেসবুকে আপলোডের আগে সচিবের নামের অংশ, স্মারক নম্বর এবং তারিখের জায়গা লাল রং দিয়ে ঢেকে দেন তিনি।
বরিশাল অঞ্চলের পাট অধিদপ্তরের মুখ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, গত ২৮ আগস্ট সকালে পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মহোদয় ফোন করে আমাকে এই প্রতারণার ঘটনাটি জানান এবং সরজমিনে গিয়ে খোঁজখবর নিয়ে উল্লেখিত পোস্টদাতা ব্যক্তির নাম-পরিচয় সনাক্ত করতে বলেন। আমি স্যারের নির্দেশে ঘটনাস্থল মাধবপাশা বাজারে গিয়ে বিভিন্ন লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রতারক ব্যক্তির নাম-পরিচয় নিশ্চিত করি। তিনি এই বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের নাম ব্যবহার করে সম্পূর্ণ প্রতারণার উদ্দেশ্যে এই ভুয়া প্রজ্ঞাপনটি সৃষ্টি করেন এবং সেটি তিনি নিজেই তার ফেসবুকে পোস্ট করেন বলে নিশ্চিত হই। মিজানুর রহমান মাধবপাশা এলাকার স্থানীয় জনগণের সাথে প্রতারণার মাধ্যমে অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যেই সরকারি ওই ভুয়া প্রজ্ঞাপন সৃষ্টি করেন। তার এই জালিয়াতির অভিপ্রায় নিশ্চিত হওয়ার পরে আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে নিকটস্থ এয়ারপোর্ট থানায় বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করি।'
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাবুগঞ্জের মাধবপাশা এলাকার স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি বলেন, 'মিজানুর রহমান ভদ্রতার মুখোশ পরা এক ভয়ঙ্কর প্রতারক। তিনি আওয়ামী লীগের আমলে যুবলীগ নেতা হয়ে বিভিন্ন অপকর্ম করেছেন। তিনি মানুষের কাছে নিজেকে একজন ক্রীড়ামোদী ও সংগঠক হিসেবে পরিচয় দিলেও এর আড়ালে প্রতারণার মাধ্যমে মানুষের টাকা আত্মসাৎ করাই ছিল তার মূল পেশা। তিনি একসময়ে বরিশালের সুরভী লঞ্চ কোম্পানিতে চাকরি করলেও সাংবাদিক পেটানোসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির দায়ে সেখানে চাকরি হারান। এরপরে ৫ আগস্টের পরে তিনি স্থানীয় কিছু লোভী বিএনপি নেতাদের সমর্থন নিয়ে বিএনপি সেজে মাধবপাশা চন্দ্রদ্বীপ হাইস্কুল ও কলেজের সভাপতি হওয়ার মিশন নিয়ে নামেন। মূলত সভাপতি হয়ে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ আত্মসাৎ এবং নিয়োগবাণিজ্য করাই ছিল তার টার্গেট। তবে জেলা প্রশাসক মহোদয় তার দুরভিসন্ধি বুঝতে পারায় জুলাই মাসে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। নিরপেক্ষ একজন সরকারি কর্মকর্তাকে সভাপতি নিয়োগ করে চন্দ্রদ্বীপ হাইস্কুল ও কলেজের এডহক কমিটি গঠন করা হয়। এরপরেই তিনি আরও বড় ধরনের প্রতারণার মিশন নিয়ে মাধবপাশা এলাকায় শিল্পাঞ্চল প্রকল্প বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। সেটা মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য নিজে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি প্রজ্ঞাপন তৈরি করে নিজেই সেই প্রকল্পের প্রধান দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হন। তার এই সুপরিকল্পিত প্রতারণার ফাঁদ শুরুতেই ধরা না পড়লে শিল্পাঞ্চল প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ এবং জনবল নিয়োগের নামে সর্বস্বান্ত করা হতো মাধবপাশা এলাকার শতশত মানুষকে।'
এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল মামুন-উল-ইসলাম বলেন, 'সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫'এর ২১ থেকে ২৫ পর্যন্ত মোট ৫টি ধারায় অপরাধ সংঘটনের দায়ে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে গতকাল সন্ধ্যায় একটি মামলা দায়ের করেছেন বরিশাল অঞ্চলের পাট অধিদপ্তরের মুখ্য পরিদর্শক। রাতেই অভিযান চালিয়ে মামলার একমাত্র আসামি মিজানুর রহমানকে মাধবপাশা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ ইন্সপেক্টর সনজীত চন্দ্র নাথ চাঞ্চল্যকর এই মামলাটির তদন্ত করছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি অন্যায়ভাবে লাভবান হওয়ার জন্য অন্যের পরিচয় ধারণ করে স্থানীয় লোকজনের সাথে প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া সরকারি প্রজ্ঞাপন সৃষ্টি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা করার অপরাধ করেছেন বলে মামলার প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে।'
এদিকে এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মিজানুর রহমানের সাথে থানা হাজতে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তিনি কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে পরবর্তীতে তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে তার বক্তব্য দেবেন বলেও সাংবাদিকদের জানান। #

২২ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:১৩
সংবাদমাধ্যমে পরিবর্তন আসার ক্ষেত্রে বড় ধরনের অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে পলিটিক্যাল সিস্টেম (রাজনৈতিক ব্যবস্থা)- এমন মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। শনিবার বরিশাল নগরীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘দুর্নীতিবিরোধী অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও ডেটা সাংবাদিকতা’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
গবেষক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমরা আশা করেছিলাম, গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কারের পাশাপাশি গণমাধ্যম কাঙ্খিত সংস্কার হবে। কিন্তু তা হয়নি। এবং অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ‘গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের’ প্রতিবেদনে যে সুপারিশ করা হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে যদি অন্তর্বর্তী সরকার ও বর্তমান সরকার তাদের অঙ্গীকার অনুযায়ী বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিয়ে কিছু উদ্যোগ নিত, তাহলে গণমাধ্যমের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর কিছু হলেও সমাধান হতো।
লেখক ড. ইফতেখারুজ্জামান প্রশিক্ষণার্থী গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আমাদের কাজের প্রচার-প্রসার ও আমাদের কাজের মাধ্যমে সুফল পাওয়ার সম্ভাবনার উৎস্যক্ষেত্র গণমাধ্যম। গণমাধ্যমের ওপর আমরাও নির্ভরশীল অনেকাংশে। দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আমাদের পাশাপাশি গণমাধ্যমের যে সুনির্দিষ্ট ভূমিকা আছে, সেটি প্রতিপালন করার সক্ষমতা সৃষ্টি এবং কাজের লক্ষ্য অর্জনে গণমাধ্যম সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করেন তিনি।’
দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রিন্ট ও ইলেট্রনিক্স মিডিয়ার ৪১ জন সাংবাদিক অংশ নেন।
এর আগে বেলা ১১টায় ড. ইফতেখারুজ্জামান সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) ও অ্যাকটিভ সিটিজেন্স গ্রুপের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সেখানে তিনি বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে শুধু প্রতিষ্ঠানগত উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। নাগরিকদের সচেতনতা, সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সামাজিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগকে সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে।’
সংবাদ সম্পাদনা, হা/ই।
সংবাদমাধ্যমে পরিবর্তন আসার ক্ষেত্রে বড় ধরনের অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে পলিটিক্যাল সিস্টেম (রাজনৈতিক ব্যবস্থা)- এমন মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। শনিবার বরিশাল নগরীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘দুর্নীতিবিরোধী অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও ডেটা সাংবাদিকতা’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
গবেষক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমরা আশা করেছিলাম, গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কারের পাশাপাশি গণমাধ্যম কাঙ্খিত সংস্কার হবে। কিন্তু তা হয়নি। এবং অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ‘গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের’ প্রতিবেদনে যে সুপারিশ করা হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে যদি অন্তর্বর্তী সরকার ও বর্তমান সরকার তাদের অঙ্গীকার অনুযায়ী বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিয়ে কিছু উদ্যোগ নিত, তাহলে গণমাধ্যমের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর কিছু হলেও সমাধান হতো।
লেখক ড. ইফতেখারুজ্জামান প্রশিক্ষণার্থী গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আমাদের কাজের প্রচার-প্রসার ও আমাদের কাজের মাধ্যমে সুফল পাওয়ার সম্ভাবনার উৎস্যক্ষেত্র গণমাধ্যম। গণমাধ্যমের ওপর আমরাও নির্ভরশীল অনেকাংশে। দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আমাদের পাশাপাশি গণমাধ্যমের যে সুনির্দিষ্ট ভূমিকা আছে, সেটি প্রতিপালন করার সক্ষমতা সৃষ্টি এবং কাজের লক্ষ্য অর্জনে গণমাধ্যম সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করেন তিনি।’
দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রিন্ট ও ইলেট্রনিক্স মিডিয়ার ৪১ জন সাংবাদিক অংশ নেন।
এর আগে বেলা ১১টায় ড. ইফতেখারুজ্জামান সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) ও অ্যাকটিভ সিটিজেন্স গ্রুপের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সেখানে তিনি বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে শুধু প্রতিষ্ঠানগত উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। নাগরিকদের সচেতনতা, সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সামাজিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগকে সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে।’
সংবাদ সম্পাদনা, হা/ই।

২২ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:১৭
বরিশালের জেলা ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ) ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আগৈলঝাড়া উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানের নামে নিরীহ মানুষকে হয়রানি, অর্থ আদায় ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২২ আগস্ট) বরিশাল প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব অভিযোগ তোলেন আগৈলঝাড়া উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: জাফর হাওলাদার ও একই এলাকার বাসিন্দা বাদশা হাওলাদার। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সম্প্রতি ডিবি পুলিশের দায়েরকৃত একটি নাটকীয় মামলার সাক্ষী স্থানীয় লালমিয়া হাওলাদার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জাফর হাওলাদার অভিযোগ করেন, জেলা ডিবি পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তা মোল্লাপাড়া এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী নয়ন ঢালী এবং পাশ্ববর্তী গৈলা ইউপির ভদ্রপাড়ার সাহিন সরদারকে সোর্স হিসেবে ব্যবহার করে মানুষকে হয়রানি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। তারা প্রায় প্রতিদিনই সাদা পোশাকে উপজেলার মোল্লাপাড়া, সাহেবেরহাটসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে এসে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানের নামে ওই দুই সোর্সের মাধ্যমে গ্রামের স্বচ্ছল পরিবারের উঠতি বয়সী কিশোর-তরুনদের প্রথমে আটক করে। পরে তাদেরকে মাদক দিয়ে মামলায় ফাসানোর ভয় দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। যেসব পরিবার দাবি করা টাকা না দিতে পারে বা প্রতিবাদ করে তাদের সাজানো মামলায় চালান দেওয়া হয়।
তিনি লিখিত বক্তব্যে আরও জানান, গত ১১ আগস্ট রাত সাড়ে ৯ টার দিকে তার ছেলে নাদিম হোসেন (২৫), প্রতিবেশি বাদশা হাওলাদারের ছেলে কলেজ শিক্ষার্থী সাব্বির ও শহিদুল হাওলাদারের ছেলে কলেজ শিক্ষার্থী সোহাগ বাড়ির সামনে দাড়িয়ে মোবাইল ফোন দেখছিলো। হঠাৎ সেখানে এলাকার চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা নয়ন ঢালী ও ভদ্রপাড়া এলাকার সাহিনকে নিয়ে সাদা পোশাকে উপস্থিত হয় জেলা ডিবির এএসআই রাজিব চন্দ্র পাল, এসআই আবজাল হোসাইনসহ ৫/৭ জন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা। এ সময় তার ছেলে নাদিমসহ সাব্বির ও সোহাগকে আটক করে। এরমধ্যে প্রতিবেশিরা খবর দিলে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতেই দেখেন এএসআই রাজিব পালসহ অন্যরা নাদিম, সাব্বির ও সোহাগকে নিয়ে যাচ্ছে। পরে আশেপাশের লোকজনের সাথে কথা বলে জানতে পারেন তার ছেলে নাদিম ও সাথে থাকা সাব্বির এবং সোহাগ কারো সাথেই কোনো মাদকদ্রব্য পায়নি। এ ঘটনার পরে গভীর রাতে প্রতিবেশী সাব্বির ও সোহাগের পরিবারের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে পূর্বে ডিবির হয়রানির প্রতিবাদ করায় ক্ষোভ থেকে তার ছেলে নাদিমকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে গৌরনদী থানার একটি মামলায় ১০১ পিস ইয়াবাসহ তাকে আটকের ভুয়া এজাহার তৈরি করা হয়, যার সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই বলে দাবি করেন তিনি।
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, মামলার এজাহারে ডিবি পুলিশের এসআই আবজাল হোসাইন উল্লেখ করেছেন তার ছেলে নাদিমের কাছ থেকে ১০১ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থল দেখানো হয়েছে গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া বাজার সংলগ্ন ছয়গ্রামগামী রাস্তার মুখ। যা সম্পূর্ন মিথ্যা এবং বানোয়াট। এজাহারে যাদের সাক্ষী করা হয়েছে তারা এই ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকা ডিবি পুলিশের করা ভূয়া মামলার ১ নম্বর সাক্ষী লালমিয়া হাওলাদার বলেন ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। অথচ কিভাবে তাকে সাক্ষী দেওয়া হয়েছে সেটিও অজানা।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী জাফর হাওলাদার জেলা ডিবি পুলিশের অপকর্মের ফিরিস্তি তুলে বলেন, কিছুদিন আগে রত্নপুর ইউনিয়নের বরিয়াল বারহাজার গ্রামের কাওসার নামের একজন মাছ চাষী ও খামার ব্যবসায়ীর মুরগির খামারে অভিযান চালায় একদল সাদা পোশাকধারী সদস্যরা। পরে জানা যায় তারা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্য। তারা কাওসারের মুরগীর খামারে কোনো মাদকদ্রব্য না পেলেও মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। কযেকদিন পরে আবারও সেই মুরগির খামারে অভিযানে যায় জেলা ডিবি পুলিশের সদস্যরা এবং তারাও একইভাবে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। এমনকি সেখান থেকে একটি মোবাইল ফোনও লুটে নেয়। কিন্তু ভুক্তভোগী কাওসার তাদের ভয়ে মুখ খুলতে পারছে না৷
বিএনপি নেতা জাফর হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, ইতিপূর্বে তাদের এলাকায় জেলা ডিবি পুলিশের এএসআই রাজিব চন্দ্র পাল ও মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের সদস্যরা একাধিক ধরপাকড় বাণিজ্যের ঘটনা ঘটায়। যা নিয়ে প্রতিবাদ করায় পুলিশের ওই কর্মকর্তারা আগে থেকেই তাকে হুমকির মুখে রেখেছিলেন। ভুক্তভোগী হিসেবে তিনি এ বিষয়ে উর্ধ্বতন পুলিশ প্রশাসন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সাথে নাটকীয় ও মিথ্যা মামলা থেকে তার ছেলে নাদিমের নাম প্রত্যাহার এবং এলাকার নিরীহ মানুষকে জিম্মি করে বাণিজ্য চালানো অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনের শেষের দিকে উপস্থিত হয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এএসআই রাজিবের সোর্স মাদক বিক্রতা নয়ন ঢালী বলেন, গত ১১ আগস্ট রাতের ঘটনায় তিনি উপস্থিত ছিলেন। তার সামনেই পুরো ঘটনা ঘটেছে। ওই রাতে আটককৃত নাদিম, সাব্বির ও সোহাগের কাছে কোনো মাদক পায় নাই। নাদিমকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী কলেজ শিক্ষার্থী সাব্বিবের বাবা বাদশা হাওলাদার বলেন, তার ছেলে ও প্রতিবেশী সোহাগকে আটক করার পরে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে আনা হয়। তিনি এসব অসাধু কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।’
বরিশালের জেলা ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ) ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আগৈলঝাড়া উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানের নামে নিরীহ মানুষকে হয়রানি, অর্থ আদায় ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২২ আগস্ট) বরিশাল প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব অভিযোগ তোলেন আগৈলঝাড়া উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: জাফর হাওলাদার ও একই এলাকার বাসিন্দা বাদশা হাওলাদার। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সম্প্রতি ডিবি পুলিশের দায়েরকৃত একটি নাটকীয় মামলার সাক্ষী স্থানীয় লালমিয়া হাওলাদার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জাফর হাওলাদার অভিযোগ করেন, জেলা ডিবি পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তা মোল্লাপাড়া এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী নয়ন ঢালী এবং পাশ্ববর্তী গৈলা ইউপির ভদ্রপাড়ার সাহিন সরদারকে সোর্স হিসেবে ব্যবহার করে মানুষকে হয়রানি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। তারা প্রায় প্রতিদিনই সাদা পোশাকে উপজেলার মোল্লাপাড়া, সাহেবেরহাটসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে এসে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানের নামে ওই দুই সোর্সের মাধ্যমে গ্রামের স্বচ্ছল পরিবারের উঠতি বয়সী কিশোর-তরুনদের প্রথমে আটক করে। পরে তাদেরকে মাদক দিয়ে মামলায় ফাসানোর ভয় দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। যেসব পরিবার দাবি করা টাকা না দিতে পারে বা প্রতিবাদ করে তাদের সাজানো মামলায় চালান দেওয়া হয়।
তিনি লিখিত বক্তব্যে আরও জানান, গত ১১ আগস্ট রাত সাড়ে ৯ টার দিকে তার ছেলে নাদিম হোসেন (২৫), প্রতিবেশি বাদশা হাওলাদারের ছেলে কলেজ শিক্ষার্থী সাব্বির ও শহিদুল হাওলাদারের ছেলে কলেজ শিক্ষার্থী সোহাগ বাড়ির সামনে দাড়িয়ে মোবাইল ফোন দেখছিলো। হঠাৎ সেখানে এলাকার চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা নয়ন ঢালী ও ভদ্রপাড়া এলাকার সাহিনকে নিয়ে সাদা পোশাকে উপস্থিত হয় জেলা ডিবির এএসআই রাজিব চন্দ্র পাল, এসআই আবজাল হোসাইনসহ ৫/৭ জন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা। এ সময় তার ছেলে নাদিমসহ সাব্বির ও সোহাগকে আটক করে। এরমধ্যে প্রতিবেশিরা খবর দিলে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতেই দেখেন এএসআই রাজিব পালসহ অন্যরা নাদিম, সাব্বির ও সোহাগকে নিয়ে যাচ্ছে। পরে আশেপাশের লোকজনের সাথে কথা বলে জানতে পারেন তার ছেলে নাদিম ও সাথে থাকা সাব্বির এবং সোহাগ কারো সাথেই কোনো মাদকদ্রব্য পায়নি। এ ঘটনার পরে গভীর রাতে প্রতিবেশী সাব্বির ও সোহাগের পরিবারের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে পূর্বে ডিবির হয়রানির প্রতিবাদ করায় ক্ষোভ থেকে তার ছেলে নাদিমকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে গৌরনদী থানার একটি মামলায় ১০১ পিস ইয়াবাসহ তাকে আটকের ভুয়া এজাহার তৈরি করা হয়, যার সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই বলে দাবি করেন তিনি।
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, মামলার এজাহারে ডিবি পুলিশের এসআই আবজাল হোসাইন উল্লেখ করেছেন তার ছেলে নাদিমের কাছ থেকে ১০১ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থল দেখানো হয়েছে গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া বাজার সংলগ্ন ছয়গ্রামগামী রাস্তার মুখ। যা সম্পূর্ন মিথ্যা এবং বানোয়াট। এজাহারে যাদের সাক্ষী করা হয়েছে তারা এই ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকা ডিবি পুলিশের করা ভূয়া মামলার ১ নম্বর সাক্ষী লালমিয়া হাওলাদার বলেন ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। অথচ কিভাবে তাকে সাক্ষী দেওয়া হয়েছে সেটিও অজানা।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী জাফর হাওলাদার জেলা ডিবি পুলিশের অপকর্মের ফিরিস্তি তুলে বলেন, কিছুদিন আগে রত্নপুর ইউনিয়নের বরিয়াল বারহাজার গ্রামের কাওসার নামের একজন মাছ চাষী ও খামার ব্যবসায়ীর মুরগির খামারে অভিযান চালায় একদল সাদা পোশাকধারী সদস্যরা। পরে জানা যায় তারা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্য। তারা কাওসারের মুরগীর খামারে কোনো মাদকদ্রব্য না পেলেও মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। কযেকদিন পরে আবারও সেই মুরগির খামারে অভিযানে যায় জেলা ডিবি পুলিশের সদস্যরা এবং তারাও একইভাবে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। এমনকি সেখান থেকে একটি মোবাইল ফোনও লুটে নেয়। কিন্তু ভুক্তভোগী কাওসার তাদের ভয়ে মুখ খুলতে পারছে না৷
বিএনপি নেতা জাফর হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, ইতিপূর্বে তাদের এলাকায় জেলা ডিবি পুলিশের এএসআই রাজিব চন্দ্র পাল ও মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের সদস্যরা একাধিক ধরপাকড় বাণিজ্যের ঘটনা ঘটায়। যা নিয়ে প্রতিবাদ করায় পুলিশের ওই কর্মকর্তারা আগে থেকেই তাকে হুমকির মুখে রেখেছিলেন। ভুক্তভোগী হিসেবে তিনি এ বিষয়ে উর্ধ্বতন পুলিশ প্রশাসন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সাথে নাটকীয় ও মিথ্যা মামলা থেকে তার ছেলে নাদিমের নাম প্রত্যাহার এবং এলাকার নিরীহ মানুষকে জিম্মি করে বাণিজ্য চালানো অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনের শেষের দিকে উপস্থিত হয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এএসআই রাজিবের সোর্স মাদক বিক্রতা নয়ন ঢালী বলেন, গত ১১ আগস্ট রাতের ঘটনায় তিনি উপস্থিত ছিলেন। তার সামনেই পুরো ঘটনা ঘটেছে। ওই রাতে আটককৃত নাদিম, সাব্বির ও সোহাগের কাছে কোনো মাদক পায় নাই। নাদিমকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী কলেজ শিক্ষার্থী সাব্বিবের বাবা বাদশা হাওলাদার বলেন, তার ছেলে ও প্রতিবেশী সোহাগকে আটক করার পরে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে আনা হয়। তিনি এসব অসাধু কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।’

২২ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:০৮
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন জহির উদ্দিন স্বপন। আজ শনিবার (২২ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করেছেন। তার পদত্যাগ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
পদত্যাগের পর জহির উদ্দিন স্বপনকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পৃথক প্রজ্ঞাপনে ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর রুল ৩বি(১) ও ৩বি(২) অনুযায়ী তাকে এ পদে নিয়োগের কথা জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জহির উদ্দিন স্বপন মন্ত্রীর পদমর্যাদা, বেতন-ভাতা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
এদিকে জহির উদ্দিন স্বপনের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নতুন দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর ৩(৪) বিধি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের এ দায়িত্ব বণ্টন ও পুনর্বণ্টন করেছেন।’
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন জহির উদ্দিন স্বপন। আজ শনিবার (২২ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করেছেন। তার পদত্যাগ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
পদত্যাগের পর জহির উদ্দিন স্বপনকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পৃথক প্রজ্ঞাপনে ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর রুল ৩বি(১) ও ৩বি(২) অনুযায়ী তাকে এ পদে নিয়োগের কথা জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জহির উদ্দিন স্বপন মন্ত্রীর পদমর্যাদা, বেতন-ভাতা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
এদিকে জহির উদ্দিন স্বপনের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নতুন দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর ৩(৪) বিধি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের এ দায়িত্ব বণ্টন ও পুনর্বণ্টন করেছেন।’

৩০ আগস্ট, ২০২৫ ১২:৫৩
যখন যে দল ক্ষমতায় আসে সেই দলের নেতা বনে যান তিনি। ৫ আগস্টের আগে ছিলেন যুবলীগ নেতা। এরপরে বিএনপি'র ছত্রছায়ায় একটি হাইস্কুল ও কলেজের সভাপতি হতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন। তবে তাতে ব্যর্থ হয়ে নামেন নতুন মিশনে। সুইডেন এবং স্পেনের দুটি আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতায় বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা এলাকায় শিল্পাঞ্চল তৈরি করছে বাংলাদেশ সরকারের বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। সেই শিল্পাঞ্চল নির্মাণ প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ ও জনবল নিয়োগসহ সকল কাজ সম্পন্ন করার জন্য এইচআর (হিউম্যান রিসোর্স) বিভাগের প্রধান হিসেবে তাকে নিয়োগ করেছে সরকার। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব স্বাক্ষরিত এমন একটি সরকারি প্রজ্ঞাপনের চিঠি ফেসবুকে পোস্ট করেন তিনি। এলাকায় শিল্পাঞ্চল গড়ে ওঠা এবং এর দেখভালের সার্বিক দায়িত্ব পাওয়ায় তিনি নেটিজেনদের শুভেচ্ছা আর অভিনন্দনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাসতে থাকেন। তবে এতেই ঘটে যায় মূল বিপত্তি। একপর্যায়ে সেই পোস্ট ভাইরাল হয়ে পৌঁছে যায় পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে। এভাবেই ফাঁস হয়ে যায় তার কল্পকাহিনী নির্ভর ভয়ঙ্কর প্রতারণার ফাঁদ পাতা গল্পটা। এরপরে পাট অধিদপ্তরের ডিজি'র নির্দেশে মামলা দায়ের করা হলে গ্রেপ্তার হন স্বঘোষিত সেই এইচআর ডিপার্টমেন্টের প্রধান মিজানুর রহমান। গতকাল রাতে তাকে ডিবি এবং এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযুক্ত মিজানুর রহমান বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের মাধবপাশা গ্রামের জহুর সরদারের ছেলে।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র এবং অনুসন্ধানে জানা যায়, একসময়ে বরিশালের সুরভী লঞ্চ কোম্পানির ম্যানেজার পদে চাকরি করতেন মিজানুর রহমান। সেখানে সাংবাদিক পেটানোসহ নানান অভিযোগ আলোচিত-সমালোচিত হওয়ার পরে চাকরিচ্যুত হন তিনি। এরপরে গ্রামের বাড়ি মাধবপাশায় এসে তিনি বিভিন্ন টুর্নামেন্টের আয়োজন করে নিজেকে একজন ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে পরিচিতি লাভে মনোযোগী হন। এসময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে নিজেও হয়ে যান স্বঘোষিত এক যুবলীগ নেতা। তবে দলীয় কোনো পদ-পদবি ছিল না তার। এদিকে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরপরই পালিয়ে যান মাধবপাশা চন্দ্রদ্বীপ হাইস্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ প্রণব কুমার বেপারী। প্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রধান শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে চলতি দায়িত্ব গ্রহণের পরে ম্যানেজিং কমিটি (এডহক) গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেখানে সভাপতি প্রার্থী হন স্থানীয় এই আলোচিত মিজানুর রহমান। বিএনপি'র স্থানীয় কতিপয় নেতাদের শেল্টার নিয়ে তিনি রাতারাতি হয়ে যান বিএনপি নেতা। সভাপতি হওয়ার জন্য শুরু করেন তদবির ও ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ। এডহক কমিটির সভাপতি হওয়ার জন্য বরিশাল জেলা প্রশাসক এবং বাবুগঞ্জের ইউএনও'র উপরে অবৈধ চাপসৃষ্টির অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় বিএনপির একটি গ্রুপের চাপে মিজানুর রহমানের নাম এক নম্বরে প্রস্তাব করে সভাপতি নিয়োগের জন্য ৩ জনের নাম শিক্ষাবোর্ডে পাঠায় চন্দ্রদ্বীপ হাইস্কুল ও কলেজ কর্তৃপক্ষ। এদিকে তাকে পতিত স্বৈরাচারের দোসর ও যুবলীগ নেতা আখ্যা দিয়ে সভাপতি পদে নিযুক্ত না করার জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও শিক্ষাবোর্ডসহ বিভিন্ন জায়গায় আবেদন করে তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা। প্রমাণ হিসেবে যুবলীগ নেতাদের সাথে তার অন্তরঙ্গ মুহুর্তের বেশকিছু ছবিও অভিযোগের সাথে দাখিল করা হয়। সভাপতি প্রার্থী নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পরবর্তীকালে নিরপেক্ষ ব্যক্তি হিসেবে বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে চন্দ্রদ্বীপ হাইস্কুল ও কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি মনোনীত করে বরিশালের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। এদিকে এ ঘটনায় বরিশাল জেলা প্রশাসক মোঃ দেলোয়ার হোসেনকে দায়ী করে তার বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকা ডোনেশন দাবির অভিযোগ তুলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে দরখাস্ত করেন ক্ষুব্ধ সভাপতি প্রার্থী মিজানুর রহমান। কয়েকটি গণমাধ্যমে জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশও করান তিনি। তবে মন্ত্রণালয় তদন্ত করে তার সেই অভিযোগের কোনো সত্যতা পায়নি।
মাধবপাশা চন্দ্রদ্বীপ হাইস্কুল ও কলেজের এডহক কমিটি গঠন প্রক্রিয়া প্রায় ৭ মাস আটকে রাখা এবং জেলা প্রশাসককে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে নাজেহাল করায় সর্বমহলে আলোচিত এক নাম হয়ে ওঠেন মিজানুর রহমান। সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের পদ-পদবি ধারণ না করলেও তাকে নিয়ে মানুষের কৌতুহল বাড়তে থাকে। ফলে মাধবপাশা এলাকায় তার ভক্ত-অনুসারীর সংখ্যাও বেড়ে যায়। এদিকে এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কয়েকদিন আগে তিনি নিজের ফেসবুক ওয়ালে একটি সরকারি প্রজ্ঞাপনের চিঠি পোস্ট করে লেখেন আলহামদুলিল্লাহ। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনের বলা হয়- বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং শিল্পায়ন কার্যক্রম জোরদারকরণের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক খ্যাতনামা সুইডেনের এইচ অ্যান্ড এম কর্পোরেশন এবং স্পেনের ইন্ডিটেক্স গ্রুপের জারা সংস্থা ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা এলাকায় তাদের আঞ্চলিক শাখা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ওই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য স্থান নির্বাচন, জমি অধিগ্রহণ, জনবল নিয়োগ ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য হেড অব হিউম্যান রিসোর্স ডিপার্টমেন্ট হিসেবে জনাব মিজানুর রহমানকে নিয়োগ প্রদান করা হলো। এইচআর ডিপার্টমেন্টের প্রধান হিসেবে মিজানুর রহমানের নেতৃত্ব এই প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ ও জনবল নিয়োগসহ যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রজ্ঞাপনের চিঠিতে আরও বলা হয়- এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মাধবপাশা এলাকা একটি শিল্পাঞ্চলে রূপান্তরিত হবে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়। একই সাথে মিজানুর রহমানকে তার এইচআর প্রধানের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের নির্দেশ এবং সকলকে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত ওই প্রজ্ঞাপনের চিঠি মিজানুর রহমানের ফেসবুক আইডিতে আপলোডের পরে শুরু হয় তোলপাড়। মাধবপাশা অঞ্চলে এমন এক ঐতিহাসিক শিল্পাঞ্চল গড়ে ওঠা এবং তা বাস্তবায়নে প্রধান দায়িত্ব পাওয়া মিজানুর রহমান নেটিজেনদের শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দনে ভাসতে থাকেন। মুহূর্তেই এই পোস্ট ভাইরাল হয়ে যায় এবং সেটা পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দৃষ্টিগোচর হয়। তবে সতর্কতা হিসেবে মন্ত্রণালয়ের ওই ভুয়া প্রজ্ঞাপনের চিঠিটা ফেসবুকে আপলোডের আগে সচিবের নামের অংশ, স্মারক নম্বর এবং তারিখের জায়গা লাল রং দিয়ে ঢেকে দেন তিনি।
বরিশাল অঞ্চলের পাট অধিদপ্তরের মুখ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, গত ২৮ আগস্ট সকালে পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মহোদয় ফোন করে আমাকে এই প্রতারণার ঘটনাটি জানান এবং সরজমিনে গিয়ে খোঁজখবর নিয়ে উল্লেখিত পোস্টদাতা ব্যক্তির নাম-পরিচয় সনাক্ত করতে বলেন। আমি স্যারের নির্দেশে ঘটনাস্থল মাধবপাশা বাজারে গিয়ে বিভিন্ন লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রতারক ব্যক্তির নাম-পরিচয় নিশ্চিত করি। তিনি এই বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের নাম ব্যবহার করে সম্পূর্ণ প্রতারণার উদ্দেশ্যে এই ভুয়া প্রজ্ঞাপনটি সৃষ্টি করেন এবং সেটি তিনি নিজেই তার ফেসবুকে পোস্ট করেন বলে নিশ্চিত হই। মিজানুর রহমান মাধবপাশা এলাকার স্থানীয় জনগণের সাথে প্রতারণার মাধ্যমে অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যেই সরকারি ওই ভুয়া প্রজ্ঞাপন সৃষ্টি করেন। তার এই জালিয়াতির অভিপ্রায় নিশ্চিত হওয়ার পরে আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে নিকটস্থ এয়ারপোর্ট থানায় বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করি।'
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাবুগঞ্জের মাধবপাশা এলাকার স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি বলেন, 'মিজানুর রহমান ভদ্রতার মুখোশ পরা এক ভয়ঙ্কর প্রতারক। তিনি আওয়ামী লীগের আমলে যুবলীগ নেতা হয়ে বিভিন্ন অপকর্ম করেছেন। তিনি মানুষের কাছে নিজেকে একজন ক্রীড়ামোদী ও সংগঠক হিসেবে পরিচয় দিলেও এর আড়ালে প্রতারণার মাধ্যমে মানুষের টাকা আত্মসাৎ করাই ছিল তার মূল পেশা। তিনি একসময়ে বরিশালের সুরভী লঞ্চ কোম্পানিতে চাকরি করলেও সাংবাদিক পেটানোসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির দায়ে সেখানে চাকরি হারান। এরপরে ৫ আগস্টের পরে তিনি স্থানীয় কিছু লোভী বিএনপি নেতাদের সমর্থন নিয়ে বিএনপি সেজে মাধবপাশা চন্দ্রদ্বীপ হাইস্কুল ও কলেজের সভাপতি হওয়ার মিশন নিয়ে নামেন। মূলত সভাপতি হয়ে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ আত্মসাৎ এবং নিয়োগবাণিজ্য করাই ছিল তার টার্গেট। তবে জেলা প্রশাসক মহোদয় তার দুরভিসন্ধি বুঝতে পারায় জুলাই মাসে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। নিরপেক্ষ একজন সরকারি কর্মকর্তাকে সভাপতি নিয়োগ করে চন্দ্রদ্বীপ হাইস্কুল ও কলেজের এডহক কমিটি গঠন করা হয়। এরপরেই তিনি আরও বড় ধরনের প্রতারণার মিশন নিয়ে মাধবপাশা এলাকায় শিল্পাঞ্চল প্রকল্প বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। সেটা মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য নিজে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি প্রজ্ঞাপন তৈরি করে নিজেই সেই প্রকল্পের প্রধান দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হন। তার এই সুপরিকল্পিত প্রতারণার ফাঁদ শুরুতেই ধরা না পড়লে শিল্পাঞ্চল প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ এবং জনবল নিয়োগের নামে সর্বস্বান্ত করা হতো মাধবপাশা এলাকার শতশত মানুষকে।'
এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল মামুন-উল-ইসলাম বলেন, 'সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫'এর ২১ থেকে ২৫ পর্যন্ত মোট ৫টি ধারায় অপরাধ সংঘটনের দায়ে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে গতকাল সন্ধ্যায় একটি মামলা দায়ের করেছেন বরিশাল অঞ্চলের পাট অধিদপ্তরের মুখ্য পরিদর্শক। রাতেই অভিযান চালিয়ে মামলার একমাত্র আসামি মিজানুর রহমানকে মাধবপাশা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ ইন্সপেক্টর সনজীত চন্দ্র নাথ চাঞ্চল্যকর এই মামলাটির তদন্ত করছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি অন্যায়ভাবে লাভবান হওয়ার জন্য অন্যের পরিচয় ধারণ করে স্থানীয় লোকজনের সাথে প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া সরকারি প্রজ্ঞাপন সৃষ্টি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা করার অপরাধ করেছেন বলে মামলার প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে।'
এদিকে এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মিজানুর রহমানের সাথে থানা হাজতে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তিনি কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে পরবর্তীতে তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে তার বক্তব্য দেবেন বলেও সাংবাদিকদের জানান। #
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ২১:০৯
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ২১:০০
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:২৩
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:০৭