
২৯ মে, ২০২৫ ১৬:৪৩
এক রাজ্যের এক রাজা, দ্বীপ উপজেলা মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলার আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ পঙ্কজ দেবনাথের বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না। এবার সংবাদকর্মীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে একটি মিথ্যা মামলা দিয়ে এখন পড়েছেন বিপাকে। অনুসারী সমর্থকরা হচ্ছেন বিব্রত। সেই সাথে তার নির্দেশ মানতে গিয়ে মেহেন্দিগঞ্জ থানা পুলিশ এখন ‘শ্যাম রাখি না কূল রাখি’ পরিস্থিতির মুখে ইউটার্ন দিতে চাইছে। সংসদ পঙ্কজ একজন বিধবা নারীকে বেইজ্জতি করায় সেই সংবাদ বরিশালের গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে তিনি এতটাই ক্ষুব্ধ ও বেসামাল হয়ে পড়েন যে- আত্মরক্ষার কৌশল এবং শায়েস্তা করতে গিয়ে বরিশালের সংবাদকর্মীদের সাথে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন। দিয়েছেন ২জন সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা।
গত ৭ সেপ্টেম্বর অনেকটা গোপনে মেহেন্দিগঞ্জ থানায় তার ইজ্জত হরণে একটি মহল দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বরিশালের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজপোর্টাল ‘বরিশালটাইমস’-এ সংসদ পঙ্কজের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদকে ইস্যু করে এই মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় নিউজপোর্টালটির সম্পাদক শাকিব বিপ্লব ও বার্তা সম্পাদক হাসিবুল ইলসামকে আসামী করা হয়েছে। এজাহারে বলা হয়- মনগড়া সংবাদ প্রকাশ করে তাকে হেয়প্রতিপন্ন এবং রাজনৈতিক ইমেজ ক্ষুণ্নে অপপ্রয়াস চালাতেই দুই মিডিয়াকর্মী কোন এক মহল দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন। কিন্তু সেই মহলটি কারা বা পরিচয় কী সেই বিষয়ে পরিস্কার কোন ধারণা দিতে পারেননি।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভা এলাকার বাসিন্দা মরিয়ম বেগম এই সাংসদের কাছে কয়েক দফা সহায়তা চেয়ে না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় ডাকবাংলো সম্মুখে গত ২৭ আগস্ট দুপুরে তার প্রাইভেটকারের সামনে দাড়িয়ে পথ আগলে ধরে প্রতিবাদ জানান। এসময় পঙ্কজ একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য ব্যস্ততার মাঝে এই বিধবা নারীর বিদ্রোহী অবস্থানে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং পরে দেখা করার পরামর্শ দেন। একপর্যায়ে ওই নারী তার গাড়ির ওপর হাত চাপরাতে থাকেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সাংসদের অনুসারীরা মরিয়ম বেগমকে টেনে হিচড়ে এক ধরনের শারীরিক নির্যাতন করেন।
এই অভিযোগ নিয়ে বিধবা ওই নারী ০১ সেপ্টেম্বর সোমবার সকালে বরিশাল আদালতে আসেন সাংসদ ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে। ঘটনাচক্রে খবর পেয়ে সংবাদকর্মীরা আদালতে উপস্থিত হয়ে একজন আইনজীবীর চেম্বারে ওই নারী সাক্ষাতকার নেন। এসময় তিনি ডাকবাংলোর সম্মুখে কি ঘটেছিল সে সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা জানিয়ে ক্ষোভ থেকে বরিশালে আইনে আশ্রয় নিতে আসার উদ্দেশের কথা জানান।
সরকার দলীয় সাংসদের বিরুদ্ধে একজন বিধবা নারীর মামলা দায়ের করার প্রস্তুতির খবরে সঙ্গত কারণে মিডিয়াসহ বরিশালের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা তার পিছু নেয়। এবং মামলাটি কখন দায়ের হবে তা নিয়ে অপেক্ষার পালা শুরু হয়। অগ্যতা ওই নারী অনেকটা গোপনে তার এজাহার দায়ের করে বাড়ি ফিরে যান। এরপর থেকে তিনি মিডিয়াকর্মীদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ রাখেন। কিন্তু একটি গোয়েন্দা সংস্থা ওই নারীর সাথে সেলফোনে যোগাযোগ করে মামলা দায়ের করেছেন কী না সেই বিষয়ে প্রশ্ন রাখলে এড়িয়ে গিয়ে পরদিন এই বিষয়ে জানতে পারবেন বলে মন্তব্য করেন।
ওই গোয়েন্দা সংস্থার মাঠপর্যায়ের একজন কর্মকর্তা ডাকবাংলোর ঘটনা নিশ্চিত হয়ে মিডিয়ার কাছেও এই বিষয়ে বেশকিছু তথ্য দেন। এমনকি ঘটনার সময়কালে সেখানে উপস্থিত মেহেন্দিগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার নাসির উদ্দিন অভিন্ন তথ্য স্বীকার করলেও শারীরিক লাঞ্ছিত করার বিষয়টি সত্য নয় বলে জানান।
ওই নারীর অভিযোগ অনুসারে তাকে লাঞ্ছিতকারী পৌর সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা আমু হোসেনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন- ঘটনা ঘটেছে ঠিকই, কিন্তু তা ডাকবাংলো সম্মুখে নয়। সাংসদ একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় আরসি কলেজ সম্মুখে মরিয়ম বেগম তার পথ আগলে ধরলে তাকে সরে যেতে বলা সত্ত্বেও উশৃঙ্খল আচারণ করলে স্থান ত্যাগে বাধ্য করা হয়। এবং ওই নারীকে বিকারগ্রস্ত হিসেবে আখ্যায়িত করে তার অভিযোগ পাগলে প্রলোভ বলে ওই সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা দাবি করেন।
অবশ্য সাংসদ পঙ্কজ দেবনাথ এই ধরনের ঘটনা অর্থাৎ ডাকবাংলো কিংবা আরসি কলেজ সম্মুখে ঘটেনি বলে অস্বীকার করেন। সাংসদের এই বক্তব্য এবং তার অনুগত সেই সেচ্ছাসেবকলীগ নেতার ভাষ্য সাংঘর্ষিক হলে প্রতীয়মাণ হয় সেদিন কিছু একটি ঘটেছে। যা কী না গোয়েন্দা সংস্থা নিশ্চিত হয়ে মিডিয়ার কাছে তথ্য দিয়েছিল।
ওই নারী ঠিক ওইদিন সোমবার বরিশাল আদালতে ৫ জনকে আসামি এবং পঙ্কজকে হুকুমদাতা হিসেবে এজাহারে উল্লেখ একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় বিচারক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছে বলে আদালত সূত্রে জানা যায়। মামলা হয়েছে কী না, এনিয়ে সন্দেহ এবং সত্যতা নিশ্চিতে মিডিয়া ও গোয়েন্দা সংস্থা পরদিন আর ঘাটাঘাটি না করায় বিষয়টি গোপনীয় ছিল। অর্থাৎ বিধবা ওই সেদিন মামলা দায়ের করেই হয়তো কৌশলগত কারণে তা চেপে গিয়ে সবাইকে এড়িয়ে চলতে থাকেন। ধারণা, পঙ্কজ নাথ বা তার অনুসারীদের তোপের মুখে পড়তে পারেন, এমন আশঙ্কা থেকেই মামলা দায়েরের পদক্ষেপটি চুপিসারে সম্পাদন করে নিরব থাকেন।
এদিকে ওই বিবধা নারীর আর্তি এবং সাংসদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতির পেছনকার নেপথ্যের খবর নিয়ে ‘বরিশালটাইমস’সহ আঞ্চলিক কয়েকটি দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ ছাপা হয়। যার শিরোনাম ছিল ‘সেদিন মেহেন্দিগঞ্জের ডাকবাংলোয় সাংসদের বিধবা নারী কী ঘটেছিল”। সূত্র জানায় এই সংবাদ প্রকাশের পর মেহেন্দিগঞ্জে অবস্থানরত ক্ষুব্ধ পঙ্কজ দেবনাথ তার অনুসারীদের নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে বৈঠক ডেকে অন্তত ‘বরিশালটাইমস’র বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার সিদ্ধান্ত নেন। সেক্ষেত্রে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম ভুলুকে এই মামলার বাদী করা হয়।
ওই সূত্রটি জানায়, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে প্রকাশিত সংবাদে সেধরনের কোন গ্রাউন্ড না থাকায় স্থানীয় থানা পুলিশ এই অভিযোগ নিতে প্রথমে গড়িমসি করে। সাংসদ পঙ্কজ পরে থানার ওসিকে চাপের মুখে মামলাটি গ্রহণে বাধ্য করেন। সংবাদকর্মীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের একটি ধরায় মামলা দেওয়ার ক্ষেত্রে জেলা পুলিশ সুপারকেও ওসি অবহিত করেননি। ওই সূত্রটি আভাস দেয় যে, মেহেন্দিগঞ্জের পরিস্থিতিগত কারণে থানার ওসি সাংসদ পঙ্কজের আঙ্গুলের ইশারায় চলতে বাধ্য হচ্ছেন। আবার ওসির সাথে জেলা পুলিশ সুপারের এক ধরনের মানসিক দ্বন্দ্ব থাকায় নিজের অবস্থান ধরে রাখতেই সাংসদের সান্নিধ্যে থাকছেন। যে কারণেই ওই মামলাটি গ্রহণের ক্ষেত্রে জেলার উচ্চপদস্থ কোন পুলিশ কর্মকর্তার সাথে পরামর্শ নেওয়া হয়নি।
এমন তথ্য স্বীকার করে জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম মঙ্গলবার রাতে বরিশালটাইমসসহ অন্যান্য মিডিয়াকর্মীদেরকে জানান, এই মামলাটি দায়েরের ক্ষেত্রে তিনি অবগত নন। একপর্যায়ে তার কাছে প্রকাশিত সংবাদটি উপস্থাপন করলে তিনিও স্বীকার করেন, এ ধরনের খবর প্রকাশের প্রেক্ষাপটে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা গ্রহণে আইনগত কোন নির্দেশনা নেই। সুতরাং প্রমাণিত হয়, জবরদস্তিমূলক থানা পুলিশকে ব্যবহার করে সরকার দলীয় এই সাংসদ ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।
বিস্ময়কর বিষয় হলো, ওই মামলার এজাহার পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রকাশিত যা বলা হয়েছে, তা উল্লেখ না করে তার ইজ্জত হরণে একদল আসামি সংবাদকর্মীদের তার বিরুদ্ধে প্রভাবিত করেছে। আসামি বা মহল বলতে সাংসদ কি বোঝাতে চেয়েছেন সে বিষয়ে থানার ওসি আবিদুর রহমানকে প্রশ্ন রাখা হলে তিনি খেই হারিয়ে ফেলে বারবার ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে টেলিফোন সংযোগ কেটে দেন। একপর্যায়ে তার এক সহকর্মীকে দিয়ে বরিশাল মিডিয়ার দুই সাংবাদিককে শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়ে বলা হয়, এই বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
জেলা পুলিশ সুপার যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেক্ষেত্রে প্রকাশ পেয়েছে, শুধু সংবাদকর্মীদের বিরুদ্ধে নয়, জেলা পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপরও ছড়ি ঘুরাতে চান। তিনি আশ্বস্ত করেন যে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাটি তিনি নিজেই তদন্তে তদারকি করবেন এবং কী ভাবে মামলাটি গ্রহণ করা হলো, সেই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জবাবদিহিতার মুখোমুখি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে জেলা আ’লীগের নেতৃবৃন্দ বলছেন, পঙ্কজ দলীয় সাংসদ হলেও জেলার শীর্ষ নেতাদের সাথে তার কোন যোগাযোগ নেই। মূলত তিনি দ্বীপাঞ্চল মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলায় নিজের ক্ষমতা কায়েম করে প্রকৃত কর্মীদের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে তার অনুগতদের মূল দল ও অঙ্গ সংগঠনসমূহের নেতৃত্বের শীর্ষ স্থানে বসিয়ে রাজার ন্যায় রাজত্ব চালাচ্ছেন। নির্যাতিত হচ্ছে, অনেক নিরহ মানুষ, এমনকি দলের ত্যাগী নেতাকর্মী-সমর্থকরাও।
স্থানীয় সূত্রমতে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং ভাইস চেয়ারম্যান
মামলার বাদী খোরশেদ আলম ভুলু ক্ষমতাধর এই সাংসদের অনুগত বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে মঙ্গলবার রাতে ভুলুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি আলাপচারিতায় বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে একপর্যায়ে অন্যের মামলায় নিজে বাদী হওয়ায়ার ক্ষেত্রে তার অসহায়ত্ব প্রকাশ পায়। এমনকি মামলাটি দায়ের সিদ্ধান্ত যে সঠিক হয়নি, তারও আভাস দেন।
উল্লেখ করা যেতে পারে মরিয়ম বেগম বরিশাল আদালতে যে মামলটি দায়ের করেছেন, সেখানে ৫ আসামির মধ্যে খোরশেদ আলম ভুলুর এক ছেলেও রয়েছেন। এই নেতার সাথে আলাপ এবং বিভিন্ন সূত্র আভাস ইঙ্গিত দিয়ে বলছে, ‘বরিশালটাইম’র বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে বরিশালের একটি মহলের ইন্ধন রয়েছে। সাংসদ পঙ্কজকে বোঝানো হয়েছে, সাংবাদিক শাকিব বিপ্লব এবং হাসিবুল ইসলাম জেলা আ’লীগের শীর্ষ নেতা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র পরিবার ঘনিষ্ট বা সমর্থক হিসেবে তার পুত্র বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র পক্ষালম্বনে বিভিন্ন সময়ে সংবাদ প্রকাশ করে। আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র সাথে নেতৃত্ব নিয়ে পঙ্কজ দেবনাথের বিরোধও এই দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে একটি ইস্যু হিসেবে বরিশালের ওই মহলটি উপস্থাপন করে মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলার অঘোষিত ওই রাজাকে ফুঁসলে দেয়, যুগিয়েছে সাহস।’
অথচ দেশে ক্যাসিনো কান্ডে যখন পঙ্কজ দেবনাথের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে গণমাধ্যম সোচ্চার, ঠিক তখন মেহেন্দিগঞ্জের এক যুবক তার ওপর নির্যাতনে অভিযোগ তুললে সরকার দলীয় এই সাংসদ সাংবাদিক শাকিব বিপ্লব ও হাসিবুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে তার রাজ্য সভায় আমন্ত্রণ করে নিয়ে গিয়ে রাজকীয় আথিতেয়তায় মধ্যহ্নভোজনে তৃপ্ত করে স্বপক্ষে থেকে গীত গাওয়ার অনুরোধ রেখেছিলেন। অন্তত ওই মুহূর্তে জেলার শীর্ষ নেতা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র পক্ষালম্বন করা করার একটি আবহ তৈরির কৌশল হিসেবে।’
এমপি পঙ্কজ দেবনাথ
এক রাজ্যের এক রাজা, দ্বীপ উপজেলা মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলার আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ পঙ্কজ দেবনাথের বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না। এবার সংবাদকর্মীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে একটি মিথ্যা মামলা দিয়ে এখন পড়েছেন বিপাকে। অনুসারী সমর্থকরা হচ্ছেন বিব্রত। সেই সাথে তার নির্দেশ মানতে গিয়ে মেহেন্দিগঞ্জ থানা পুলিশ এখন ‘শ্যাম রাখি না কূল রাখি’ পরিস্থিতির মুখে ইউটার্ন দিতে চাইছে। সংসদ পঙ্কজ একজন বিধবা নারীকে বেইজ্জতি করায় সেই সংবাদ বরিশালের গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে তিনি এতটাই ক্ষুব্ধ ও বেসামাল হয়ে পড়েন যে- আত্মরক্ষার কৌশল এবং শায়েস্তা করতে গিয়ে বরিশালের সংবাদকর্মীদের সাথে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন। দিয়েছেন ২জন সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা।
গত ৭ সেপ্টেম্বর অনেকটা গোপনে মেহেন্দিগঞ্জ থানায় তার ইজ্জত হরণে একটি মহল দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বরিশালের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজপোর্টাল ‘বরিশালটাইমস’-এ সংসদ পঙ্কজের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদকে ইস্যু করে এই মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় নিউজপোর্টালটির সম্পাদক শাকিব বিপ্লব ও বার্তা সম্পাদক হাসিবুল ইলসামকে আসামী করা হয়েছে। এজাহারে বলা হয়- মনগড়া সংবাদ প্রকাশ করে তাকে হেয়প্রতিপন্ন এবং রাজনৈতিক ইমেজ ক্ষুণ্নে অপপ্রয়াস চালাতেই দুই মিডিয়াকর্মী কোন এক মহল দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন। কিন্তু সেই মহলটি কারা বা পরিচয় কী সেই বিষয়ে পরিস্কার কোন ধারণা দিতে পারেননি।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভা এলাকার বাসিন্দা মরিয়ম বেগম এই সাংসদের কাছে কয়েক দফা সহায়তা চেয়ে না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় ডাকবাংলো সম্মুখে গত ২৭ আগস্ট দুপুরে তার প্রাইভেটকারের সামনে দাড়িয়ে পথ আগলে ধরে প্রতিবাদ জানান। এসময় পঙ্কজ একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য ব্যস্ততার মাঝে এই বিধবা নারীর বিদ্রোহী অবস্থানে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং পরে দেখা করার পরামর্শ দেন। একপর্যায়ে ওই নারী তার গাড়ির ওপর হাত চাপরাতে থাকেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সাংসদের অনুসারীরা মরিয়ম বেগমকে টেনে হিচড়ে এক ধরনের শারীরিক নির্যাতন করেন।
এই অভিযোগ নিয়ে বিধবা ওই নারী ০১ সেপ্টেম্বর সোমবার সকালে বরিশাল আদালতে আসেন সাংসদ ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে। ঘটনাচক্রে খবর পেয়ে সংবাদকর্মীরা আদালতে উপস্থিত হয়ে একজন আইনজীবীর চেম্বারে ওই নারী সাক্ষাতকার নেন। এসময় তিনি ডাকবাংলোর সম্মুখে কি ঘটেছিল সে সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা জানিয়ে ক্ষোভ থেকে বরিশালে আইনে আশ্রয় নিতে আসার উদ্দেশের কথা জানান।
সরকার দলীয় সাংসদের বিরুদ্ধে একজন বিধবা নারীর মামলা দায়ের করার প্রস্তুতির খবরে সঙ্গত কারণে মিডিয়াসহ বরিশালের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা তার পিছু নেয়। এবং মামলাটি কখন দায়ের হবে তা নিয়ে অপেক্ষার পালা শুরু হয়। অগ্যতা ওই নারী অনেকটা গোপনে তার এজাহার দায়ের করে বাড়ি ফিরে যান। এরপর থেকে তিনি মিডিয়াকর্মীদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ রাখেন। কিন্তু একটি গোয়েন্দা সংস্থা ওই নারীর সাথে সেলফোনে যোগাযোগ করে মামলা দায়ের করেছেন কী না সেই বিষয়ে প্রশ্ন রাখলে এড়িয়ে গিয়ে পরদিন এই বিষয়ে জানতে পারবেন বলে মন্তব্য করেন।
ওই গোয়েন্দা সংস্থার মাঠপর্যায়ের একজন কর্মকর্তা ডাকবাংলোর ঘটনা নিশ্চিত হয়ে মিডিয়ার কাছেও এই বিষয়ে বেশকিছু তথ্য দেন। এমনকি ঘটনার সময়কালে সেখানে উপস্থিত মেহেন্দিগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার নাসির উদ্দিন অভিন্ন তথ্য স্বীকার করলেও শারীরিক লাঞ্ছিত করার বিষয়টি সত্য নয় বলে জানান।
ওই নারীর অভিযোগ অনুসারে তাকে লাঞ্ছিতকারী পৌর সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা আমু হোসেনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন- ঘটনা ঘটেছে ঠিকই, কিন্তু তা ডাকবাংলো সম্মুখে নয়। সাংসদ একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় আরসি কলেজ সম্মুখে মরিয়ম বেগম তার পথ আগলে ধরলে তাকে সরে যেতে বলা সত্ত্বেও উশৃঙ্খল আচারণ করলে স্থান ত্যাগে বাধ্য করা হয়। এবং ওই নারীকে বিকারগ্রস্ত হিসেবে আখ্যায়িত করে তার অভিযোগ পাগলে প্রলোভ বলে ওই সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা দাবি করেন।
অবশ্য সাংসদ পঙ্কজ দেবনাথ এই ধরনের ঘটনা অর্থাৎ ডাকবাংলো কিংবা আরসি কলেজ সম্মুখে ঘটেনি বলে অস্বীকার করেন। সাংসদের এই বক্তব্য এবং তার অনুগত সেই সেচ্ছাসেবকলীগ নেতার ভাষ্য সাংঘর্ষিক হলে প্রতীয়মাণ হয় সেদিন কিছু একটি ঘটেছে। যা কী না গোয়েন্দা সংস্থা নিশ্চিত হয়ে মিডিয়ার কাছে তথ্য দিয়েছিল।
ওই নারী ঠিক ওইদিন সোমবার বরিশাল আদালতে ৫ জনকে আসামি এবং পঙ্কজকে হুকুমদাতা হিসেবে এজাহারে উল্লেখ একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় বিচারক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছে বলে আদালত সূত্রে জানা যায়। মামলা হয়েছে কী না, এনিয়ে সন্দেহ এবং সত্যতা নিশ্চিতে মিডিয়া ও গোয়েন্দা সংস্থা পরদিন আর ঘাটাঘাটি না করায় বিষয়টি গোপনীয় ছিল। অর্থাৎ বিধবা ওই সেদিন মামলা দায়ের করেই হয়তো কৌশলগত কারণে তা চেপে গিয়ে সবাইকে এড়িয়ে চলতে থাকেন। ধারণা, পঙ্কজ নাথ বা তার অনুসারীদের তোপের মুখে পড়তে পারেন, এমন আশঙ্কা থেকেই মামলা দায়েরের পদক্ষেপটি চুপিসারে সম্পাদন করে নিরব থাকেন।
এদিকে ওই বিবধা নারীর আর্তি এবং সাংসদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতির পেছনকার নেপথ্যের খবর নিয়ে ‘বরিশালটাইমস’সহ আঞ্চলিক কয়েকটি দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ ছাপা হয়। যার শিরোনাম ছিল ‘সেদিন মেহেন্দিগঞ্জের ডাকবাংলোয় সাংসদের বিধবা নারী কী ঘটেছিল”। সূত্র জানায় এই সংবাদ প্রকাশের পর মেহেন্দিগঞ্জে অবস্থানরত ক্ষুব্ধ পঙ্কজ দেবনাথ তার অনুসারীদের নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে বৈঠক ডেকে অন্তত ‘বরিশালটাইমস’র বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার সিদ্ধান্ত নেন। সেক্ষেত্রে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম ভুলুকে এই মামলার বাদী করা হয়।
ওই সূত্রটি জানায়, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে প্রকাশিত সংবাদে সেধরনের কোন গ্রাউন্ড না থাকায় স্থানীয় থানা পুলিশ এই অভিযোগ নিতে প্রথমে গড়িমসি করে। সাংসদ পঙ্কজ পরে থানার ওসিকে চাপের মুখে মামলাটি গ্রহণে বাধ্য করেন। সংবাদকর্মীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের একটি ধরায় মামলা দেওয়ার ক্ষেত্রে জেলা পুলিশ সুপারকেও ওসি অবহিত করেননি। ওই সূত্রটি আভাস দেয় যে, মেহেন্দিগঞ্জের পরিস্থিতিগত কারণে থানার ওসি সাংসদ পঙ্কজের আঙ্গুলের ইশারায় চলতে বাধ্য হচ্ছেন। আবার ওসির সাথে জেলা পুলিশ সুপারের এক ধরনের মানসিক দ্বন্দ্ব থাকায় নিজের অবস্থান ধরে রাখতেই সাংসদের সান্নিধ্যে থাকছেন। যে কারণেই ওই মামলাটি গ্রহণের ক্ষেত্রে জেলার উচ্চপদস্থ কোন পুলিশ কর্মকর্তার সাথে পরামর্শ নেওয়া হয়নি।
এমন তথ্য স্বীকার করে জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম মঙ্গলবার রাতে বরিশালটাইমসসহ অন্যান্য মিডিয়াকর্মীদেরকে জানান, এই মামলাটি দায়েরের ক্ষেত্রে তিনি অবগত নন। একপর্যায়ে তার কাছে প্রকাশিত সংবাদটি উপস্থাপন করলে তিনিও স্বীকার করেন, এ ধরনের খবর প্রকাশের প্রেক্ষাপটে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা গ্রহণে আইনগত কোন নির্দেশনা নেই। সুতরাং প্রমাণিত হয়, জবরদস্তিমূলক থানা পুলিশকে ব্যবহার করে সরকার দলীয় এই সাংসদ ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।
বিস্ময়কর বিষয় হলো, ওই মামলার এজাহার পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রকাশিত যা বলা হয়েছে, তা উল্লেখ না করে তার ইজ্জত হরণে একদল আসামি সংবাদকর্মীদের তার বিরুদ্ধে প্রভাবিত করেছে। আসামি বা মহল বলতে সাংসদ কি বোঝাতে চেয়েছেন সে বিষয়ে থানার ওসি আবিদুর রহমানকে প্রশ্ন রাখা হলে তিনি খেই হারিয়ে ফেলে বারবার ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে টেলিফোন সংযোগ কেটে দেন। একপর্যায়ে তার এক সহকর্মীকে দিয়ে বরিশাল মিডিয়ার দুই সাংবাদিককে শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়ে বলা হয়, এই বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
জেলা পুলিশ সুপার যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেক্ষেত্রে প্রকাশ পেয়েছে, শুধু সংবাদকর্মীদের বিরুদ্ধে নয়, জেলা পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপরও ছড়ি ঘুরাতে চান। তিনি আশ্বস্ত করেন যে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাটি তিনি নিজেই তদন্তে তদারকি করবেন এবং কী ভাবে মামলাটি গ্রহণ করা হলো, সেই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জবাবদিহিতার মুখোমুখি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে জেলা আ’লীগের নেতৃবৃন্দ বলছেন, পঙ্কজ দলীয় সাংসদ হলেও জেলার শীর্ষ নেতাদের সাথে তার কোন যোগাযোগ নেই। মূলত তিনি দ্বীপাঞ্চল মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলায় নিজের ক্ষমতা কায়েম করে প্রকৃত কর্মীদের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে তার অনুগতদের মূল দল ও অঙ্গ সংগঠনসমূহের নেতৃত্বের শীর্ষ স্থানে বসিয়ে রাজার ন্যায় রাজত্ব চালাচ্ছেন। নির্যাতিত হচ্ছে, অনেক নিরহ মানুষ, এমনকি দলের ত্যাগী নেতাকর্মী-সমর্থকরাও।
স্থানীয় সূত্রমতে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং ভাইস চেয়ারম্যান
মামলার বাদী খোরশেদ আলম ভুলু ক্ষমতাধর এই সাংসদের অনুগত বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে মঙ্গলবার রাতে ভুলুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি আলাপচারিতায় বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে একপর্যায়ে অন্যের মামলায় নিজে বাদী হওয়ায়ার ক্ষেত্রে তার অসহায়ত্ব প্রকাশ পায়। এমনকি মামলাটি দায়ের সিদ্ধান্ত যে সঠিক হয়নি, তারও আভাস দেন।
উল্লেখ করা যেতে পারে মরিয়ম বেগম বরিশাল আদালতে যে মামলটি দায়ের করেছেন, সেখানে ৫ আসামির মধ্যে খোরশেদ আলম ভুলুর এক ছেলেও রয়েছেন। এই নেতার সাথে আলাপ এবং বিভিন্ন সূত্র আভাস ইঙ্গিত দিয়ে বলছে, ‘বরিশালটাইম’র বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে বরিশালের একটি মহলের ইন্ধন রয়েছে। সাংসদ পঙ্কজকে বোঝানো হয়েছে, সাংবাদিক শাকিব বিপ্লব এবং হাসিবুল ইসলাম জেলা আ’লীগের শীর্ষ নেতা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র পরিবার ঘনিষ্ট বা সমর্থক হিসেবে তার পুত্র বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র পক্ষালম্বনে বিভিন্ন সময়ে সংবাদ প্রকাশ করে। আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র সাথে নেতৃত্ব নিয়ে পঙ্কজ দেবনাথের বিরোধও এই দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে একটি ইস্যু হিসেবে বরিশালের ওই মহলটি উপস্থাপন করে মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলার অঘোষিত ওই রাজাকে ফুঁসলে দেয়, যুগিয়েছে সাহস।’
অথচ দেশে ক্যাসিনো কান্ডে যখন পঙ্কজ দেবনাথের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে গণমাধ্যম সোচ্চার, ঠিক তখন মেহেন্দিগঞ্জের এক যুবক তার ওপর নির্যাতনে অভিযোগ তুললে সরকার দলীয় এই সাংসদ সাংবাদিক শাকিব বিপ্লব ও হাসিবুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে তার রাজ্য সভায় আমন্ত্রণ করে নিয়ে গিয়ে রাজকীয় আথিতেয়তায় মধ্যহ্নভোজনে তৃপ্ত করে স্বপক্ষে থেকে গীত গাওয়ার অনুরোধ রেখেছিলেন। অন্তত ওই মুহূর্তে জেলার শীর্ষ নেতা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র পক্ষালম্বন করা করার একটি আবহ তৈরির কৌশল হিসেবে।’

১৯ মার্চ, ২০২৬ ১৭:২৬
‘সরলতার প্রতিমা’, ‘যতটা মেঘ হলে বৃষ্টি নামে’, ‘কোনো কারণেই ফেরানো গেল না তাকে’, ‘যদি হিমালয় হয়ে দুঃখ আসে’র মতো জনপ্রিয় গানের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী খালিদের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী কেটে গেল নীরবেই।
চাইম ব্যান্ডের ভোকালিস্ট খালিদের মৃত্যুবার্ষিকী ছিল গতকাল বুধবার (১৮ মার্চ)। ২০২৫ সালের ১৮ মার্চ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান এই গায়ক। মৃত্যুর দুই বছরের মাথায় তাকে ভুলতে বসেছে সবাই!
১৯৬৫ সালের ১ আগস্ট গোপালগঞ্জে খালিদের জন্ম। ১৯৮১ সালে ফ্রিজিং পয়েন্ট নামের একটি ব্যান্ডে যোগ দেন তিনি। ১৯৮৩ সালে সেই ব্যান্ডের নাম বদলে ‘চাইম’ রাখা হয়। সারগাম থেকে প্রকাশিত চাইমের প্রথম অ্যালবাম (সেলফ টাইটেলড) দিয়ে যাত্রা শুরু তার। এরপর এগিয়ে যাওয়ার গল্প। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বেশকিছু জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন তিনি।
খালিদের গান শুনে অনেক অনেক তরুণ-তরুণীর বিকেল ঘনিয়ে সন্ধ্যা পেরিয়েছে। সেই খালিদ আজ নেই তবে তার গানগুলো এখনও ফিরে মানুষের মুখে মুখে।
উল্লেখ্য, আশির দশকের গোড়ার দিকে সংগীত জগতে খালিদের অভিষেক হয়। পুরো নাম খালিদ আনোয়ার সাইফুল্লাহ। নব্বই দশকে বেশ সাফল্যের সঙ্গে গান করে গেছেন তিনি। খালিদের ছেলে জুহাইফা আরিক ও স্ত্রী শামীমা জামান থাকেন নিউ ইয়র্কে।
বরিশাল টাইমস
‘সরলতার প্রতিমা’, ‘যতটা মেঘ হলে বৃষ্টি নামে’, ‘কোনো কারণেই ফেরানো গেল না তাকে’, ‘যদি হিমালয় হয়ে দুঃখ আসে’র মতো জনপ্রিয় গানের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী খালিদের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী কেটে গেল নীরবেই।
চাইম ব্যান্ডের ভোকালিস্ট খালিদের মৃত্যুবার্ষিকী ছিল গতকাল বুধবার (১৮ মার্চ)। ২০২৫ সালের ১৮ মার্চ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান এই গায়ক। মৃত্যুর দুই বছরের মাথায় তাকে ভুলতে বসেছে সবাই!
১৯৬৫ সালের ১ আগস্ট গোপালগঞ্জে খালিদের জন্ম। ১৯৮১ সালে ফ্রিজিং পয়েন্ট নামের একটি ব্যান্ডে যোগ দেন তিনি। ১৯৮৩ সালে সেই ব্যান্ডের নাম বদলে ‘চাইম’ রাখা হয়। সারগাম থেকে প্রকাশিত চাইমের প্রথম অ্যালবাম (সেলফ টাইটেলড) দিয়ে যাত্রা শুরু তার। এরপর এগিয়ে যাওয়ার গল্প। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বেশকিছু জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন তিনি।
খালিদের গান শুনে অনেক অনেক তরুণ-তরুণীর বিকেল ঘনিয়ে সন্ধ্যা পেরিয়েছে। সেই খালিদ আজ নেই তবে তার গানগুলো এখনও ফিরে মানুষের মুখে মুখে।
উল্লেখ্য, আশির দশকের গোড়ার দিকে সংগীত জগতে খালিদের অভিষেক হয়। পুরো নাম খালিদ আনোয়ার সাইফুল্লাহ। নব্বই দশকে বেশ সাফল্যের সঙ্গে গান করে গেছেন তিনি। খালিদের ছেলে জুহাইফা আরিক ও স্ত্রী শামীমা জামান থাকেন নিউ ইয়র্কে।
বরিশাল টাইমস

০৭ মার্চ, ২০২৬ ২১:৩৫
‘সার্জেন্ট’ পদে জনবল নিয়োগে এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। রোববার (৮ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে আবেদন শুরু হবে। যা চলবে ২ এপ্রিল রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
প্রতিষ্ঠানের নাম: বাংলাদেশ পুলিশ;
পদের নাম: সার্জেন্ট;
পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়;
চাকরির ধরন: পূর্ণকালীন (স্থায়ী);
বেতন: ১৬,০০০-৩৮,৬৪০ টাকা (গ্রেড-১০);
অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা: সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রাপ্য হবেন;
প্রার্থীর বয়স: সাধারণ প্রার্থীদের ১৯ থেকে ২৭ বছর (২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে)। তবে বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৩২ বছর পর্যন্ত শিথিলযোগ্য;
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ উভয়েই আবেদন করতে পারবেন;
শিক্ষাগত যোগ্যতা—
অন্যূন স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে;
মোটরসাইকেল চালনায় দক্ষ হতে হবে;
*কম্পিউটারে কাজের দক্ষতা থাকতে হবে;
বৈবাহিক অবস্থা: প্রার্থীকে অবশ্যই অবিবাহিত হতে হবে (তালাকপ্রাপ্ত গ্রহণযোগ্য নয়) এবং শিক্ষানবিশকাল শেষ না হওয়া পর্যন্ত অবিবাহিত থাকতে হবে;
শারীরিক যোগ্যতা—
উচ্চতা (পুরুষ): ন্যূনতম ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি (১.৭২৭২ মিটার) হতে হবে;
বুকের মাপ: স্বাভাবিক অবস্থায় ৩২ ইঞ্চি ও সম্প্রসারিত অবস্থায় ৩৪ ইঞ্চি হতে হবে;
উচ্চতা (নারী): ন্যূনতম ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি (১.৬২৫৬ মিটার) হতে হবে;
আবেদন যেভাবে—
আগ্রহী প্রার্থীরা এখানে ক্লিক করে সংশ্লিষ্ট পদে আবেদন করতে পারবেন;
আবেদনের শেষ তারিখ: আগামী ২ এপ্রিল ২০২৬, রাত ১১টা ৫৯ মিনিট;

‘সার্জেন্ট’ পদে জনবল নিয়োগে এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। রোববার (৮ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে আবেদন শুরু হবে। যা চলবে ২ এপ্রিল রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
প্রতিষ্ঠানের নাম: বাংলাদেশ পুলিশ;
পদের নাম: সার্জেন্ট;
পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়;
চাকরির ধরন: পূর্ণকালীন (স্থায়ী);
বেতন: ১৬,০০০-৩৮,৬৪০ টাকা (গ্রেড-১০);
অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা: সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রাপ্য হবেন;
প্রার্থীর বয়স: সাধারণ প্রার্থীদের ১৯ থেকে ২৭ বছর (২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে)। তবে বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৩২ বছর পর্যন্ত শিথিলযোগ্য;
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ উভয়েই আবেদন করতে পারবেন;
শিক্ষাগত যোগ্যতা—
অন্যূন স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে;
মোটরসাইকেল চালনায় দক্ষ হতে হবে;
*কম্পিউটারে কাজের দক্ষতা থাকতে হবে;
বৈবাহিক অবস্থা: প্রার্থীকে অবশ্যই অবিবাহিত হতে হবে (তালাকপ্রাপ্ত গ্রহণযোগ্য নয়) এবং শিক্ষানবিশকাল শেষ না হওয়া পর্যন্ত অবিবাহিত থাকতে হবে;
শারীরিক যোগ্যতা—
উচ্চতা (পুরুষ): ন্যূনতম ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি (১.৭২৭২ মিটার) হতে হবে;
বুকের মাপ: স্বাভাবিক অবস্থায় ৩২ ইঞ্চি ও সম্প্রসারিত অবস্থায় ৩৪ ইঞ্চি হতে হবে;
উচ্চতা (নারী): ন্যূনতম ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি (১.৬২৫৬ মিটার) হতে হবে;
আবেদন যেভাবে—
আগ্রহী প্রার্থীরা এখানে ক্লিক করে সংশ্লিষ্ট পদে আবেদন করতে পারবেন;
আবেদনের শেষ তারিখ: আগামী ২ এপ্রিল ২০২৬, রাত ১১টা ৫৯ মিনিট;


২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৫:৫৫
ছোটপর্দার চলতি সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী ইকরা আত্মহত্যা করেছেন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে এই অভিনেতার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। এ খবর দৈনিক রূপালী বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছেন অভিনেতা নিজেও।
আলভী বলেন, ‘আমি নাটকের শুটিংয়ে নেপালে অবস্থান করছি। কী কারণে ইকরা আত্মহত্যা করেছে, ঠিক জানি না। খবরটি পেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। আমার একমাত্র সন্তানের জন্য চিন্তা হচ্ছে।’
২০১০ সালের ৯ নভেম্বর পারিবারিক আয়োজনে ইকরাকে বিয়ে করেন আলভী। এরই মধ্যে তাদের ভালোবাসার সংসার ১৫ বছর পার করেছে।
কয়েক বছর ধরে অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথির সঙ্গে আলভীর প্রেমের গুঞ্জন চলছে। যদিও বরাবর বিষয়টি অস্বীকার করেছেন তারা। খবর রয়েছে, তিথিকে ঘিরেই অভিনেতার সংসারে অশান্তি।
সর্বশেষ গত শুক্রবার ছিল তিথির জন্মদিন। এদিন অভিনেত্রীর সঙ্গে একটি ছবি শেয়ার করে আলভী ফেসবুকে লিখেন, ‘শুভ জন্মদিন নায়িকা। জীবনে আরও অনেক দূর যেতে হবে। তুমি আমার দেখা এই ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে পরিশ্রমী কো-আর্টিস্ট ও পছন্দেরও। তোমার পরিশ্রম তোমাকে এগিয়ে নিয়ে যাবেই। সহজ, সরল-সুন্দর হোক তোমার জীবন।’
এর পরের দিনই এলো যাহের আলভীর স্ত্রীর ইকরার আত্মহত্যার খবর। এই মুহূর্তে নেপালে আলভীর সঙ্গে তিথি অবস্থান করছেন।
এই অভিনেতার ক্যারিয়ারের সূচনা ২০১২ সালে। এই সময়ে ছোটপর্দায় বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন আলভী।
ছোটপর্দার চলতি সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী ইকরা আত্মহত্যা করেছেন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে এই অভিনেতার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। এ খবর দৈনিক রূপালী বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছেন অভিনেতা নিজেও।
আলভী বলেন, ‘আমি নাটকের শুটিংয়ে নেপালে অবস্থান করছি। কী কারণে ইকরা আত্মহত্যা করেছে, ঠিক জানি না। খবরটি পেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। আমার একমাত্র সন্তানের জন্য চিন্তা হচ্ছে।’
২০১০ সালের ৯ নভেম্বর পারিবারিক আয়োজনে ইকরাকে বিয়ে করেন আলভী। এরই মধ্যে তাদের ভালোবাসার সংসার ১৫ বছর পার করেছে।
কয়েক বছর ধরে অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথির সঙ্গে আলভীর প্রেমের গুঞ্জন চলছে। যদিও বরাবর বিষয়টি অস্বীকার করেছেন তারা। খবর রয়েছে, তিথিকে ঘিরেই অভিনেতার সংসারে অশান্তি।
সর্বশেষ গত শুক্রবার ছিল তিথির জন্মদিন। এদিন অভিনেত্রীর সঙ্গে একটি ছবি শেয়ার করে আলভী ফেসবুকে লিখেন, ‘শুভ জন্মদিন নায়িকা। জীবনে আরও অনেক দূর যেতে হবে। তুমি আমার দেখা এই ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে পরিশ্রমী কো-আর্টিস্ট ও পছন্দেরও। তোমার পরিশ্রম তোমাকে এগিয়ে নিয়ে যাবেই। সহজ, সরল-সুন্দর হোক তোমার জীবন।’
এর পরের দিনই এলো যাহের আলভীর স্ত্রীর ইকরার আত্মহত্যার খবর। এই মুহূর্তে নেপালে আলভীর সঙ্গে তিথি অবস্থান করছেন।
এই অভিনেতার ক্যারিয়ারের সূচনা ২০১২ সালে। এই সময়ে ছোটপর্দায় বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন আলভী।
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.