বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা এসএম জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে আগস্টে সরকারবিরোধী আন্দোলনকারী খুনের মামলা হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সকারের মন্ত্রী-এমপিদের নির্দেশে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে গত ৫ আগস্ট রাজধানী ঢাকার ভাটারাধীন এলাকায় তিনি ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালিয়েছেন। সেই হামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সহযোদ্ধা আল-আমিনের মৃত্যু হয়। জাকিরসহ সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত শিক্ষার্থীর আপন চাচা পঞ্চাশোর্ধ্ব ‘রহমান মাল’ বাদী হয়ে গত ১ ডিসেম্বর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৮৭ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ২৫০ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে মামলাটি করেন। আলোচিত এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এবং দলটির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ তৎকালীন সরকারের মন্ত্রী-এমপি, সরকারি কর্মকর্তা, আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী, জাতীয় পার্টির শীর্ষসারির নেতাদের অভিযুক্ত করা হয়।
মামলাটির ৮৪ নং অভিযুক্ত জাকির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থেকে বরিশালে ব্যাপক ত্রাস চালিয়েছে। এবং রাজনৈতিক ব্যানারে বহুমুখী অপকর্ম করতে গিয়ে সে সমূহ বিপদের আলামত পেয়ে একাধিকবার নেতাও বদল করে। প্রথমে সে শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র নাম ভাঙিয়ে চললেও পরর্তীতে তারই পুত্র মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র কাছাকাছি জাকিরকে দেখা যায়। পরে সাদিকের সাথে দূরত্ব তৈরি হলে এসএম জাকির বরিশাল সদর আসনের এমপি ও সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের সান্নিধ্য পেতে দৌঁড়ঝাপ শুরু করে, এবং কিছুদিন পর কাঙ্খিত লক্ষেও পৌছে যায়।

সূত্র জানিয়েছে, প্রথমে হাসানাত আব্দুল্লাহ, পরে তার ছেলে সাদিক আব্দুল্লাহ এবং সর্বশেষ জাহিদ ফারুকের সাথে ছত্রছায়ায় থেকে জাকির ধনকূবের বনে গেছে। বিশেষ করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেশ কয়েকটি ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে নিয়ে সে ব্যাপক অর্থ কামিয়ে নিয়েছে। এবং রাজনৈতিক পদবিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বেলসপার্কসংলগ্ন শতকোটি টাকার সরকারি ভূমি তার স্ত্রীর নামে বরাদ্দও নিয়ে নেয়।
জেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, সাবেক জেলা প্রশাসককে জনৈক শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতার চাপের মুখে অফিসার্স মেসের ভূমিটি জাকিরের স্ত্রীর নামে বরাদ্দ দিতে বাধ্য করে। এবং প্রশাসন তাকে ভূমিটিতে ভবন নির্মাণ করার ক্ষেত্রে শর্তজুড়ে দিলেও তা উপেক্ষা করেছে। এছাড়া সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাশে জাকিরের স্ত্রী নামে প্লানবিহীন ভবনটিতে রেস্তোরাঁ করা নিয়েও তুমুল বিতর্ক রয়েছে।
এছাড়াও বহু অঘটন পটিয়াসি এসএম জাকির হোসেন বরিশালে বিরোধী মতের সাংবাদিকদের ওপর সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে হামলা চালিয়ে মারধর করা এবং বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দিয়ে একাধিক সংবাদকর্মীকে জেল খাটানোর অভিযোগও আছে। তৎকালীন সময় তার হাত থেকে রেহাই পাননি বিএনপি নেতাকর্মীরাও। সে বরিশাল বিএনপি নেতা মুসফিকুল হাসান মাসুমকে মামলা দিয়ে তার হয়রানি করাসহ ইন্টারনেট ব্যবসা বন্ধ করেও দেয়।
বরিশালের এই ত্রাস সর্বশেষ আওয়ামী লীগ সরকার পতনের দিন অর্থাৎ ৫ আগস্ট রাজধানী ঢাকার ভাটারা এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সহযোদ্ধার ওপর সদলবলে হামলা চালিয়ে হত্যা করেছে, যা অনেকের ছিল অজনা, আসেনি আলোচনায়ও। সেই হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহত আল-আমিনের চাচা ঢাকার আদালতে গত ১ ডিসেম্বর সন্ত্রাসী জাকিরসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষসারির নেতাদের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে ভাটারা থানা পুলিশকে নথিভুক্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণের নির্দেশ দেন। বরিশাল আওয়ামী সন্ত্রাস জাকির ঢাকায় আন্দোলনকারী খুনে জড়িত এবং তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে, এই খবর বুধবার রাতে ছড়িয়ে পড়লে সংবাদকর্মীরা তথ্য সংগ্রহে দৌঁড়ঝাপ শুরু করেন।
এদিকে ভাটারা থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে জানিয়েছে, আদালতের আদেশে মামলাটি নথিভুক্ত করাসহ অভিযুক্ত সন্ত্রাসীদের ধরতে পুলিশ ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আওয়ামী সন্ত্রাসী এসএম জাকির ৫ আগস্ট ঢাকায় খুন করে কদিন আত্মগোপনে থাকলেও পরবর্তীতে বরিশালে এসে বীরদর্পে ঘোরাঘুরি শুরু করে। এবং বোল পাল্টে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীসহ বরিশাল প্রশাসনের সান্নিধ্য পেতে মরিয়া চেষ্টা করতে থাকে, যা নিয়েও তুমুল বিকর্ত দেখা দেয়। তবে রহস্যজনক কারণে বরিশালে সে কোনো মামলায় অভিযুক্ত হয়নি।
অভিযোগ আছে, এই আওয়ামী সন্ত্রাসীকে বরিশালের খিস্ট্রান সম্প্রদায় আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। এবং আইনজীবীর মাধ্যমে তার সন্ত্রাসী কার্যকলাপের ফিরিস্তি উপস্থাপন করলেও তার উগ্রতা রোহিত করা সম্ভব হয়নি।
অভিজ্ঞমহল বলছে, এসএম জাকির আওয়ামী লীগের ব্যানারে গত কয়েক বছরে নানান অপকর্ম করেছে। সর্বশেষ সে আন্দোলনকারী খুনে জড়িত এমন তথ্য এতদিন লুকোচাপা থাকলেও শেষত্বক প্রকাশে এসেছে। এবং তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিৎ এই সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা।’

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:০০

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:২৪

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:১০

২৯ মে, ২০২৫ ১৬:২৬
বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা এসএম জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে আগস্টে সরকারবিরোধী আন্দোলনকারী খুনের মামলা হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সকারের মন্ত্রী-এমপিদের নির্দেশে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে গত ৫ আগস্ট রাজধানী ঢাকার ভাটারাধীন এলাকায় তিনি ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালিয়েছেন। সেই হামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সহযোদ্ধা আল-আমিনের মৃত্যু হয়। জাকিরসহ সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত শিক্ষার্থীর আপন চাচা পঞ্চাশোর্ধ্ব ‘রহমান মাল’ বাদী হয়ে গত ১ ডিসেম্বর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৮৭ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ২৫০ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে মামলাটি করেন। আলোচিত এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এবং দলটির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ তৎকালীন সরকারের মন্ত্রী-এমপি, সরকারি কর্মকর্তা, আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী, জাতীয় পার্টির শীর্ষসারির নেতাদের অভিযুক্ত করা হয়।
মামলাটির ৮৪ নং অভিযুক্ত জাকির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থেকে বরিশালে ব্যাপক ত্রাস চালিয়েছে। এবং রাজনৈতিক ব্যানারে বহুমুখী অপকর্ম করতে গিয়ে সে সমূহ বিপদের আলামত পেয়ে একাধিকবার নেতাও বদল করে। প্রথমে সে শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র নাম ভাঙিয়ে চললেও পরর্তীতে তারই পুত্র মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র কাছাকাছি জাকিরকে দেখা যায়। পরে সাদিকের সাথে দূরত্ব তৈরি হলে এসএম জাকির বরিশাল সদর আসনের এমপি ও সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের সান্নিধ্য পেতে দৌঁড়ঝাপ শুরু করে, এবং কিছুদিন পর কাঙ্খিত লক্ষেও পৌছে যায়।

সূত্র জানিয়েছে, প্রথমে হাসানাত আব্দুল্লাহ, পরে তার ছেলে সাদিক আব্দুল্লাহ এবং সর্বশেষ জাহিদ ফারুকের সাথে ছত্রছায়ায় থেকে জাকির ধনকূবের বনে গেছে। বিশেষ করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেশ কয়েকটি ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে নিয়ে সে ব্যাপক অর্থ কামিয়ে নিয়েছে। এবং রাজনৈতিক পদবিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বেলসপার্কসংলগ্ন শতকোটি টাকার সরকারি ভূমি তার স্ত্রীর নামে বরাদ্দও নিয়ে নেয়।
জেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, সাবেক জেলা প্রশাসককে জনৈক শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতার চাপের মুখে অফিসার্স মেসের ভূমিটি জাকিরের স্ত্রীর নামে বরাদ্দ দিতে বাধ্য করে। এবং প্রশাসন তাকে ভূমিটিতে ভবন নির্মাণ করার ক্ষেত্রে শর্তজুড়ে দিলেও তা উপেক্ষা করেছে। এছাড়া সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাশে জাকিরের স্ত্রী নামে প্লানবিহীন ভবনটিতে রেস্তোরাঁ করা নিয়েও তুমুল বিতর্ক রয়েছে।
এছাড়াও বহু অঘটন পটিয়াসি এসএম জাকির হোসেন বরিশালে বিরোধী মতের সাংবাদিকদের ওপর সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে হামলা চালিয়ে মারধর করা এবং বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দিয়ে একাধিক সংবাদকর্মীকে জেল খাটানোর অভিযোগও আছে। তৎকালীন সময় তার হাত থেকে রেহাই পাননি বিএনপি নেতাকর্মীরাও। সে বরিশাল বিএনপি নেতা মুসফিকুল হাসান মাসুমকে মামলা দিয়ে তার হয়রানি করাসহ ইন্টারনেট ব্যবসা বন্ধ করেও দেয়।
বরিশালের এই ত্রাস সর্বশেষ আওয়ামী লীগ সরকার পতনের দিন অর্থাৎ ৫ আগস্ট রাজধানী ঢাকার ভাটারা এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সহযোদ্ধার ওপর সদলবলে হামলা চালিয়ে হত্যা করেছে, যা অনেকের ছিল অজনা, আসেনি আলোচনায়ও। সেই হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহত আল-আমিনের চাচা ঢাকার আদালতে গত ১ ডিসেম্বর সন্ত্রাসী জাকিরসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষসারির নেতাদের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে ভাটারা থানা পুলিশকে নথিভুক্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণের নির্দেশ দেন। বরিশাল আওয়ামী সন্ত্রাস জাকির ঢাকায় আন্দোলনকারী খুনে জড়িত এবং তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে, এই খবর বুধবার রাতে ছড়িয়ে পড়লে সংবাদকর্মীরা তথ্য সংগ্রহে দৌঁড়ঝাপ শুরু করেন।
এদিকে ভাটারা থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে জানিয়েছে, আদালতের আদেশে মামলাটি নথিভুক্ত করাসহ অভিযুক্ত সন্ত্রাসীদের ধরতে পুলিশ ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আওয়ামী সন্ত্রাসী এসএম জাকির ৫ আগস্ট ঢাকায় খুন করে কদিন আত্মগোপনে থাকলেও পরবর্তীতে বরিশালে এসে বীরদর্পে ঘোরাঘুরি শুরু করে। এবং বোল পাল্টে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীসহ বরিশাল প্রশাসনের সান্নিধ্য পেতে মরিয়া চেষ্টা করতে থাকে, যা নিয়েও তুমুল বিকর্ত দেখা দেয়। তবে রহস্যজনক কারণে বরিশালে সে কোনো মামলায় অভিযুক্ত হয়নি।
অভিযোগ আছে, এই আওয়ামী সন্ত্রাসীকে বরিশালের খিস্ট্রান সম্প্রদায় আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। এবং আইনজীবীর মাধ্যমে তার সন্ত্রাসী কার্যকলাপের ফিরিস্তি উপস্থাপন করলেও তার উগ্রতা রোহিত করা সম্ভব হয়নি।
অভিজ্ঞমহল বলছে, এসএম জাকির আওয়ামী লীগের ব্যানারে গত কয়েক বছরে নানান অপকর্ম করেছে। সর্বশেষ সে আন্দোলনকারী খুনে জড়িত এমন তথ্য এতদিন লুকোচাপা থাকলেও শেষত্বক প্রকাশে এসেছে। এবং তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিৎ এই সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা।’
প্রকৃতি যখন নিজের হাতে কোনো ক্যানভাস সাজায়, তখন তার রূপ কেমন হতে পারে, তা বরিশালের সাতলা বিলে না গেলে অনুধাবন করা অসম্ভব। শরতের ভোরের আলো ফুটতেই এখানে চোখ জুড়িয়ে যায় এক অলৌকিক দৃশ্যে। মাইলের পর মাইল বিস্তৃত এক জলাশয়, আর তার বুক চিরে মাথা উচুঁ করে দাঁড়িয়ে আছে কোটি কোটি লাল শাপলা। দূর থেকে মনে হবে যেন সবুজ পাতার বিছানায় কেউ লাল গালিচা পেতে রেখেছে, কিংবা ভোরের উদীয়মান সূর্যটাই টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে পানির বুকে।বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা হলেও, একসঙ্গে এত শাপলার মেলা দেশের আর কোথাও দেখা যায় না। তাই বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার এই সাতলা গ্রামটি এখন সারা দেশে পরিচিত 'শাপলার রাজধানী' বা 'লাল শাপলার স্বর্গরাজ্য' হিসেবে।
বছরের অন্য সময়ে সাতলা বিল দেখতে আর দশটা সাধারণ জলাভূমির মতোই মনে হয়। শুষ্ক মৌসুমে এখানে চাষ হয় ইরি ধান। কিন্তু বর্ষার পানি আসতেই বিলটি তার রূপ বদলাতে শুরু করে। মে-জুন মাস থেকে বিলে পানি জমতে শুরু করলে প্রাকৃতিকভাবেই জন্ম নেয় লাল শাপলা। আগস্ট থেকে শুরু করে নভেম্বর পর্যন্ত চলে শাপলার এই রাজত্ব। তবে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে বিলের সৌন্দর্য পৌঁছায় তার চূড়ায়। ভোরের আলোয় লাল শাপলার মেলাসাতলা বিলের আসল রূপ দেখতে হলে আপনাকে ঘুমকে ছুটি দিতে হবে। সূর্য ওঠার ঠিক আগে, যখন চারপাশ হালকা কুয়াশায় ঢাকা থাকে, তখন বিলের রূপ সবচেয়ে মোহনীয় দেখায়। ভোরের নরম আলোয় পাপড়ি মেলে ধরা শাপলাগুলোর ওপর যখন ভোরের শিশিরবিন্দু জমে থাকে, তখন মনে হয় যেন মুক্তো ছড়ানো রয়েছে। সকাল ৮টা বা ৯টা বেজে যাওয়ার পর যখন রোদের তীব্রতা বাড়ে, তখন ফুলগুলো ধীরে ধীরে বুজে যায়। তাই সাতলার সৌন্দর্য উপভোগ করার মোক্ষম সময় হলো ভোর ৬টা থেকে সকাল ৮টা।বিলের জীবন ও জীবিকাসাতলা বিল শুধু পর্যটকদের জন্যই আনন্দের খোরাক নয়, এটি স্থানীয় শত শত পরিবারের জীবিকার প্রধান উৎস। বিলের বুকজুড়ে যখন নৌকায় করে পর্যটকেরা ঘুরে বেড়ায়, স্থানীয় মাঝিরা গল্প শোনায় এই বিলের। অনেকে আবার বিল থেকে শাপলা তুলে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন। এই শাপলা দিয়ে তৈরি হয় সুস্বাদু তরকারি। শুধু তাই নয়, বিলের মিষ্টি শালুকও স্থানীয়দের অন্যতম প্রিয় খাবার।
বরিশাল সদর কিংবা উজিরপুর উপজেলা থেকে খুব সহজেই সাতলা বিলে যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে লঞ্চ বা বাসে বরিশাল এসে, সেখান থেকে মাহিন্দ্র (থ্রি-হুইলার) বা বাস যোগে শিকারপুর হয়ে শাতলা যাওয়া যায়। এছাড়া ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে করেও উজিরপুর বা সাতলা যাওয়া সম্ভব। বিলে ঘোরার জন্য স্থানীয় ঘাটে ছোট ছোট ডিঙি নৌকা পাওয়া যায়, যা ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে ভাড়া নেওয়া যায়।
প্রকৃতির এই অপরূপ সৃষ্টিকে টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার। ভ্রমণের সময় প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট বা কোনো বর্জ্য বিলে ফেলে পানি দূষিত করবেন না। মনে রাখবেন, ফুল গাছের চেয়ে পানির বুকেই সবচেয়ে বেশি সুন্দর। তাই অকারণে ফুল ছিঁড়ে প্রকৃতির এই সৌন্দর্য নষ্ট করা থেকে বিরত থাকাই একজন সচেতন ভ্রমণকারীর পরিচয়। ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি মুছে প্রকৃতির সান্নিধ্যে এক চিলতে শান্তি পেতে চাইলে, শরতের কোনো এক ভোরে ঘুরে আসতেই পারেন লাল শাপলার এই স্বর্গরাজ্য থেকে।’
প্রকৃতি যখন নিজের হাতে কোনো ক্যানভাস সাজায়, তখন তার রূপ কেমন হতে পারে, তা বরিশালের সাতলা বিলে না গেলে অনুধাবন করা অসম্ভব। শরতের ভোরের আলো ফুটতেই এখানে চোখ জুড়িয়ে যায় এক অলৌকিক দৃশ্যে। মাইলের পর মাইল বিস্তৃত এক জলাশয়, আর তার বুক চিরে মাথা উচুঁ করে দাঁড়িয়ে আছে কোটি কোটি লাল শাপলা। দূর থেকে মনে হবে যেন সবুজ পাতার বিছানায় কেউ লাল গালিচা পেতে রেখেছে, কিংবা ভোরের উদীয়মান সূর্যটাই টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে পানির বুকে।বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা হলেও, একসঙ্গে এত শাপলার মেলা দেশের আর কোথাও দেখা যায় না। তাই বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার এই সাতলা গ্রামটি এখন সারা দেশে পরিচিত 'শাপলার রাজধানী' বা 'লাল শাপলার স্বর্গরাজ্য' হিসেবে।
বছরের অন্য সময়ে সাতলা বিল দেখতে আর দশটা সাধারণ জলাভূমির মতোই মনে হয়। শুষ্ক মৌসুমে এখানে চাষ হয় ইরি ধান। কিন্তু বর্ষার পানি আসতেই বিলটি তার রূপ বদলাতে শুরু করে। মে-জুন মাস থেকে বিলে পানি জমতে শুরু করলে প্রাকৃতিকভাবেই জন্ম নেয় লাল শাপলা। আগস্ট থেকে শুরু করে নভেম্বর পর্যন্ত চলে শাপলার এই রাজত্ব। তবে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে বিলের সৌন্দর্য পৌঁছায় তার চূড়ায়। ভোরের আলোয় লাল শাপলার মেলাসাতলা বিলের আসল রূপ দেখতে হলে আপনাকে ঘুমকে ছুটি দিতে হবে। সূর্য ওঠার ঠিক আগে, যখন চারপাশ হালকা কুয়াশায় ঢাকা থাকে, তখন বিলের রূপ সবচেয়ে মোহনীয় দেখায়। ভোরের নরম আলোয় পাপড়ি মেলে ধরা শাপলাগুলোর ওপর যখন ভোরের শিশিরবিন্দু জমে থাকে, তখন মনে হয় যেন মুক্তো ছড়ানো রয়েছে। সকাল ৮টা বা ৯টা বেজে যাওয়ার পর যখন রোদের তীব্রতা বাড়ে, তখন ফুলগুলো ধীরে ধীরে বুজে যায়। তাই সাতলার সৌন্দর্য উপভোগ করার মোক্ষম সময় হলো ভোর ৬টা থেকে সকাল ৮টা।বিলের জীবন ও জীবিকাসাতলা বিল শুধু পর্যটকদের জন্যই আনন্দের খোরাক নয়, এটি স্থানীয় শত শত পরিবারের জীবিকার প্রধান উৎস। বিলের বুকজুড়ে যখন নৌকায় করে পর্যটকেরা ঘুরে বেড়ায়, স্থানীয় মাঝিরা গল্প শোনায় এই বিলের। অনেকে আবার বিল থেকে শাপলা তুলে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন। এই শাপলা দিয়ে তৈরি হয় সুস্বাদু তরকারি। শুধু তাই নয়, বিলের মিষ্টি শালুকও স্থানীয়দের অন্যতম প্রিয় খাবার।
বরিশাল সদর কিংবা উজিরপুর উপজেলা থেকে খুব সহজেই সাতলা বিলে যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে লঞ্চ বা বাসে বরিশাল এসে, সেখান থেকে মাহিন্দ্র (থ্রি-হুইলার) বা বাস যোগে শিকারপুর হয়ে শাতলা যাওয়া যায়। এছাড়া ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে করেও উজিরপুর বা সাতলা যাওয়া সম্ভব। বিলে ঘোরার জন্য স্থানীয় ঘাটে ছোট ছোট ডিঙি নৌকা পাওয়া যায়, যা ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে ভাড়া নেওয়া যায়।
প্রকৃতির এই অপরূপ সৃষ্টিকে টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার। ভ্রমণের সময় প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট বা কোনো বর্জ্য বিলে ফেলে পানি দূষিত করবেন না। মনে রাখবেন, ফুল গাছের চেয়ে পানির বুকেই সবচেয়ে বেশি সুন্দর। তাই অকারণে ফুল ছিঁড়ে প্রকৃতির এই সৌন্দর্য নষ্ট করা থেকে বিরত থাকাই একজন সচেতন ভ্রমণকারীর পরিচয়। ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি মুছে প্রকৃতির সান্নিধ্যে এক চিলতে শান্তি পেতে চাইলে, শরতের কোনো এক ভোরে ঘুরে আসতেই পারেন লাল শাপলার এই স্বর্গরাজ্য থেকে।’
বরিশালে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, শিক্ষক নেতা, সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মো. বেলায়েত হোসেনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তাঁকে শোক ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে ‘বেলায়েত হোসেন ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে আঞ্জুমানের মুসলিম গোরস্থানে মরহুমের কবর জিয়ারত, দোয়া মোনাজাত, বৃক্ষরোপণ, প্রবীণদের সাথে সহমর্মিতার মধ্যাহ্নভোজ, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প এবং এক আবেগঘন স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বরিশাল নগরীর রায় রোডস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা মিন্টু বসু সড়কের ‘খেয়ালী গ্রুপ থিয়েটার’ মিলনায়তনে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেনের শিক্ষা, সাহিত্য, সমাজসেবা ও মুক্তিযুদ্ধে অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। স্মরণসভায় তাঁর বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্মের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘যে জীবন মানুষের’ প্রদর্শিত হয়।

স্মরণসভায় উপস্থিত থেকে মরহুমের স্মৃতি ও কাজের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল জেলা সভাপতি ও টিআইবি প্রতিনিধি প্রফেসর গাজী জাহিদ হোসেন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি প্রফেসর শাহ সাজেদা, সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর স ম ইমানুল হাকিম ও প্রফেসর ড. ননী গোপাল দাস, বিএম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ফজলুল হক, এবং ঝালকাঠি সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর নুরুল আমিন।
এছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন বাকশিস বরিশাল আঞ্চলিক শাখার সভাপতি অধ্যাপক মহসিন উল ইসলাম হাবুল, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মুহসিন উদ্দীন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর মাহাবুবুর রহমান, সনাক সভাপতি অধ্যাপিকা টুনু রানী কর্মকার, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজল ঘোষ, বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নেতা অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান সেলিম, বরিশাল মহানগর কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফখরুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ এম. এ. বায়েজিদ, বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আব্দুল মোতালেব হাওলাদার, নীলু-মনু ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক নজরুল হক নিলু, শিক্ষাবিদ অধ্যাপিকা বেগম ফয়জুন নাহার শেলী, শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খোকন এবং ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর বিমল চক্রবর্তী।

উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা বলেন, 'অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেন কেবল একজন সফল শিক্ষাবিদ বা শিক্ষক নেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠান গড়ার কারিগর ও মানবিকতার অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। হিজলা কলেজ, ঝালকাঠি মহিলা কলেজ ও সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি শিক্ষক সমাজ ও সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে আজীবন লড়ে গেছেন। প্রগতিশীল চেতনা, অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি এবং নীরব সমাজসেবার মাধ্যমে তিনি যে আদর্শ রেখে গেছেন, তা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।'
উল্লেখ্য, অধ্যক্ষ মো. বেলায়েত হোসেনের বড় ছেলে ড. মো. বাহাউদ্দিন গোলাপ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার এবং ছোট ছেলে রেহান উদ্দিন রোমান পেট্রোবাংলার কর্মকর্তা। দীর্ঘ কর্মময় জীবন শেষে ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই মহীয়সী ব্যক্তিত্ব। আয়োজকদের পক্ষ থেকে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় সকলের কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। #

বরিশালে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, শিক্ষক নেতা, সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মো. বেলায়েত হোসেনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তাঁকে শোক ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে ‘বেলায়েত হোসেন ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে আঞ্জুমানের মুসলিম গোরস্থানে মরহুমের কবর জিয়ারত, দোয়া মোনাজাত, বৃক্ষরোপণ, প্রবীণদের সাথে সহমর্মিতার মধ্যাহ্নভোজ, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প এবং এক আবেগঘন স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বরিশাল নগরীর রায় রোডস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা মিন্টু বসু সড়কের ‘খেয়ালী গ্রুপ থিয়েটার’ মিলনায়তনে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেনের শিক্ষা, সাহিত্য, সমাজসেবা ও মুক্তিযুদ্ধে অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। স্মরণসভায় তাঁর বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্মের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘যে জীবন মানুষের’ প্রদর্শিত হয়।

স্মরণসভায় উপস্থিত থেকে মরহুমের স্মৃতি ও কাজের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল জেলা সভাপতি ও টিআইবি প্রতিনিধি প্রফেসর গাজী জাহিদ হোসেন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি প্রফেসর শাহ সাজেদা, সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর স ম ইমানুল হাকিম ও প্রফেসর ড. ননী গোপাল দাস, বিএম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ফজলুল হক, এবং ঝালকাঠি সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর নুরুল আমিন।
এছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন বাকশিস বরিশাল আঞ্চলিক শাখার সভাপতি অধ্যাপক মহসিন উল ইসলাম হাবুল, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মুহসিন উদ্দীন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর মাহাবুবুর রহমান, সনাক সভাপতি অধ্যাপিকা টুনু রানী কর্মকার, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজল ঘোষ, বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নেতা অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান সেলিম, বরিশাল মহানগর কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফখরুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ এম. এ. বায়েজিদ, বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আব্দুল মোতালেব হাওলাদার, নীলু-মনু ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক নজরুল হক নিলু, শিক্ষাবিদ অধ্যাপিকা বেগম ফয়জুন নাহার শেলী, শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খোকন এবং ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর বিমল চক্রবর্তী।

উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা বলেন, 'অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেন কেবল একজন সফল শিক্ষাবিদ বা শিক্ষক নেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠান গড়ার কারিগর ও মানবিকতার অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। হিজলা কলেজ, ঝালকাঠি মহিলা কলেজ ও সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি শিক্ষক সমাজ ও সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে আজীবন লড়ে গেছেন। প্রগতিশীল চেতনা, অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি এবং নীরব সমাজসেবার মাধ্যমে তিনি যে আদর্শ রেখে গেছেন, তা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।'
উল্লেখ্য, অধ্যক্ষ মো. বেলায়েত হোসেনের বড় ছেলে ড. মো. বাহাউদ্দিন গোলাপ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার এবং ছোট ছেলে রেহান উদ্দিন রোমান পেট্রোবাংলার কর্মকর্তা। দীর্ঘ কর্মময় জীবন শেষে ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই মহীয়সী ব্যক্তিত্ব। আয়োজকদের পক্ষ থেকে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় সকলের কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। #

শুধুমাত্র বেড়িবাঁধের স্লোপ দখল করে তোলা ৬৭৩ টি স্থাপনা অপসারণে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছিল সাত কোটি ৩১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৩৭ টাকা। কুয়াকাটা-গঙ্গামতি পর্যটন এলকার স্বার্থে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৪৮ নম্বর পোল্ডারের ৩৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ পুনরাকৃতিকরণ ও সৌন্দর্যবর্ধন এবং সাগরের ভাঙন থেকে রক্ষায় ২০১৯ সালে এমন উদ্যোগ দেওয়া হয়েছিল। এরপরে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় প্রায় দেড় শ’ কোটি টাকা ব্যয় করে ৩৯ কিলোমিটার বাঁধের মেরামত, পুনরাকৃতিকরণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়। কুয়াকাটা সৈকত ঘেঁষা সাগরের পার ঘেঁষে ভাঙনরোধে স্থাপন করা হয়েছে কংক্রিটের ব্লক। বাঁধের রিভার ও কান্ট্রি সাইটে বনায়ন করা হয়েছে। ঘাঁসের আবরণ তৈরি করা হয়েছে। অথচ সেই বেড়িবাঁধের স্লোপ দখল করে ফের স্থাপনা তোলার কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ছোট-বড় অন্তত দুই শ’ স্থাপনা তোলা হয়েছে। এক কথায় এখানে চলছে অরাজক পরিস্থিতি।
এই পোল্ডারের ৩৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রক্ষায় বাঁধের পৃনরাকৃতি ছাড়াও নয়টি স্লুইসগেট মেরামত ও নতুনভাবে করা হয়েছে। পর্যটন এলাকার সৌন্দর্য রক্ষা ছাড়াও লতাচাপলী, কুয়াকাটা পৌরসভা ও ধুলাসার ইউনিয়নের একাংশের এসব বাঁধ মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সরকার এমন উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদাসীনতার কারণে বাঁধের গাছ কেটে বর্তমানে আবার এসব স্থাপনা তোলা হয়েছে। এখনও স্থাপনা তোলার কাজ চলছে। সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ক্ষতিপুরণ দিয়ে বাঁধ ঠিক করা হলেও আবার ওই বাঁধে স্থাপনা তোলা হলেও কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ নির্বিকার রয়েছেন। ফলে একেতো ফের বাঁধ দখল হয়ে যাচ্ছে। বাঁধের গাছপালা কাটা পড়ছে। বন্যার ঝুঁকিতে পড়ছে গোটা পর্যটন এলাকা। এক কথায় দখলের দৌরাত্ম চলছে ফ্রি-স্টাইলে। একটি মধ্যস্বত্বভোগীচক্র আবার এই দখলদারদের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করছেন রাজনৈতিক দলের একটি চিহ্নিত চক্র। ফলে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধটি দখলের পাশাপাশি নাজুক হয়ে যাচ্ছে। যাচ্ছে পর্যটকের কাছে আকর্ষণহীন হয়ে। এখনই এসব স্থাপনা উচ্ছেদ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে জেল জরিমানা করলেই পর্যটন এলাকার সৌন্দর্য রক্ষার বাঁধটি রক্ষা সম্ভব বলে মনে করছেন অধিকাংশ সচেতন মানুষ।
সরেজমিনে বুধবার গিয়ে দেখা গেছে, কুয়াকাটা সৈকতের মিরাবাড়ি থেকে ঝাউবাগান পর্যন্ত বেড়িবাঁধের রিভার সাইটে শত শত স্থাপনা তোলা হয়েছে। সেখান থেকে গঙ্গামতি সেতু এলাকার ধোলাইর মার্কেট পর্যন্ত এলাকায় কিছু কিছু স্থাপনা তোলা হয়েছে। ধোলাই মার্কেটের দুইদিকে এখনো স্থাপনা তোলার কাজ চলছে। সেখানে বনভিাগের সৃজিত বাঁধের স্লোপের গাছপালা কেটে সেখানেই তোলা হচ্ছে স্থাপনা। বনবিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড কারও এনিয়ে যেন কোন দায় নেই। বাধাহীন দখল চলছে বাঁধের স্লোপ।
পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো: শাহআলম জানান, কুয়াকাটা সৈকতের পাশে যেসব স্থাপনা তোলা হয়েছে তা অপসারণে মাইকিং করা হয়েছে। এছাড়া ধোলাইর মার্কেটের তোলা স্থাপনা অপসারণেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাঁধের সৃজিত গাছপালা কেটে কীভাবে দোকানপাটসহ স্থাপনা তোলা হচ্ছে। বনবিভাগ গঙ্গামতি বিট কর্মকর্তা এনিয়ে সঠিক কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।
কুয়াকাটা সী বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য ও কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক জানান, এসব স্থাপনা অপসারণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
শুধুমাত্র বেড়িবাঁধের স্লোপ দখল করে তোলা ৬৭৩ টি স্থাপনা অপসারণে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছিল সাত কোটি ৩১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৩৭ টাকা। কুয়াকাটা-গঙ্গামতি পর্যটন এলকার স্বার্থে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৪৮ নম্বর পোল্ডারের ৩৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ পুনরাকৃতিকরণ ও সৌন্দর্যবর্ধন এবং সাগরের ভাঙন থেকে রক্ষায় ২০১৯ সালে এমন উদ্যোগ দেওয়া হয়েছিল। এরপরে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় প্রায় দেড় শ’ কোটি টাকা ব্যয় করে ৩৯ কিলোমিটার বাঁধের মেরামত, পুনরাকৃতিকরণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়। কুয়াকাটা সৈকত ঘেঁষা সাগরের পার ঘেঁষে ভাঙনরোধে স্থাপন করা হয়েছে কংক্রিটের ব্লক। বাঁধের রিভার ও কান্ট্রি সাইটে বনায়ন করা হয়েছে। ঘাঁসের আবরণ তৈরি করা হয়েছে। অথচ সেই বেড়িবাঁধের স্লোপ দখল করে ফের স্থাপনা তোলার কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ছোট-বড় অন্তত দুই শ’ স্থাপনা তোলা হয়েছে। এক কথায় এখানে চলছে অরাজক পরিস্থিতি।
এই পোল্ডারের ৩৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রক্ষায় বাঁধের পৃনরাকৃতি ছাড়াও নয়টি স্লুইসগেট মেরামত ও নতুনভাবে করা হয়েছে। পর্যটন এলাকার সৌন্দর্য রক্ষা ছাড়াও লতাচাপলী, কুয়াকাটা পৌরসভা ও ধুলাসার ইউনিয়নের একাংশের এসব বাঁধ মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সরকার এমন উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদাসীনতার কারণে বাঁধের গাছ কেটে বর্তমানে আবার এসব স্থাপনা তোলা হয়েছে। এখনও স্থাপনা তোলার কাজ চলছে। সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ক্ষতিপুরণ দিয়ে বাঁধ ঠিক করা হলেও আবার ওই বাঁধে স্থাপনা তোলা হলেও কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ নির্বিকার রয়েছেন। ফলে একেতো ফের বাঁধ দখল হয়ে যাচ্ছে। বাঁধের গাছপালা কাটা পড়ছে। বন্যার ঝুঁকিতে পড়ছে গোটা পর্যটন এলাকা। এক কথায় দখলের দৌরাত্ম চলছে ফ্রি-স্টাইলে। একটি মধ্যস্বত্বভোগীচক্র আবার এই দখলদারদের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করছেন রাজনৈতিক দলের একটি চিহ্নিত চক্র। ফলে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধটি দখলের পাশাপাশি নাজুক হয়ে যাচ্ছে। যাচ্ছে পর্যটকের কাছে আকর্ষণহীন হয়ে। এখনই এসব স্থাপনা উচ্ছেদ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে জেল জরিমানা করলেই পর্যটন এলাকার সৌন্দর্য রক্ষার বাঁধটি রক্ষা সম্ভব বলে মনে করছেন অধিকাংশ সচেতন মানুষ।
সরেজমিনে বুধবার গিয়ে দেখা গেছে, কুয়াকাটা সৈকতের মিরাবাড়ি থেকে ঝাউবাগান পর্যন্ত বেড়িবাঁধের রিভার সাইটে শত শত স্থাপনা তোলা হয়েছে। সেখান থেকে গঙ্গামতি সেতু এলাকার ধোলাইর মার্কেট পর্যন্ত এলাকায় কিছু কিছু স্থাপনা তোলা হয়েছে। ধোলাই মার্কেটের দুইদিকে এখনো স্থাপনা তোলার কাজ চলছে। সেখানে বনভিাগের সৃজিত বাঁধের স্লোপের গাছপালা কেটে সেখানেই তোলা হচ্ছে স্থাপনা। বনবিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড কারও এনিয়ে যেন কোন দায় নেই। বাধাহীন দখল চলছে বাঁধের স্লোপ।
পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো: শাহআলম জানান, কুয়াকাটা সৈকতের পাশে যেসব স্থাপনা তোলা হয়েছে তা অপসারণে মাইকিং করা হয়েছে। এছাড়া ধোলাইর মার্কেটের তোলা স্থাপনা অপসারণেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাঁধের সৃজিত গাছপালা কেটে কীভাবে দোকানপাটসহ স্থাপনা তোলা হচ্ছে। বনবিভাগ গঙ্গামতি বিট কর্মকর্তা এনিয়ে সঠিক কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।
কুয়াকাটা সী বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য ও কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক জানান, এসব স্থাপনা অপসারণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:১২
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:১৩
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:৪৩
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:০৫