
১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ২০:৪৮
বরিশাল কৃষি অঞ্চলের প্রধান দানাদার খাদ্য ফসল আমনের প্রায় ২৪ লাখ টন চাল কৃষকের ঘরে উঠলেও দরপতনে মুখের হাসি ম্লান করে দিচ্ছে। সাম্প্রতিককালের মধ্যে এবারই প্রথম রোপণের পরে বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়াই এ অঞ্চলের কৃষকের গোলায় নির্বিঘ্নে আমন ধান উঠল। তবে বীজতলা তৈরি সহ রোপণ শুরুর প্রাক্কালে কয়েক দফায় অতিবর্ষণ সহ বর্ষণজনিত প্লাবনে বীজতলা ও রোপণের তৈরিকৃত কিছু জমি বিনষ্ট হলেও প্রয়োজনের অতিরিক্ত বীজতলা সহ দুর্যোগ পরবর্তী দ্রুততম সময়ে পুনরায় জমি তৈরি সম্পন্ন করতে পারায় তেমন কোনো বাধা তৈরি হয়নি। কিন্তু বরিশালে আমনের দরপতনে কৃষকের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। এখন প্রতিমণ আমন ধান বিক্রি হচ্ছে ৯শ টাকা থেকে হাজার ৫০ টাকার মধ্যে। অথচ সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে প্রতিমণ আমনের উৎপাদন ব্যয় ছিল হাজার টাকার ওপরে।
সদ্য সমাপ্ত খরিপ-২ মৌসুমে দেশে পৌনে ২ কোটি টনেরও বেশি আমন চাল ঘরে তোলার লক্ষ্যে ৫৭ লাখ ১৮ হাজার ৩শ হেক্টরে আবাদ লক্ষ্য অতিক্রম করেন কৃষিযোদ্ধাগণ। বরিশাল অঞ্চলেও মূল লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে এবার ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৩৪ হেক্টরে আবাদ সম্পন্নের ফলে উৎপাদনও ছিল লক্ষ্যমাত্রার বেশি। এমনকি এবারের খরিপ-২ মৌসুমে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে গত বছরের ২৩ লাখ ২২ হাজার ৯৫৮ টনের স্থলে প্রকৃত উৎপাদন হয়েছে প্রায় ২৩.৬০ লাখ টনের কাছে। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩৩ হাজার টন বেশি। এর বাইরে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার টন বোনা আমনও ইতোমধ্যে কৃষকের ঘরে উঠেছে।
আমনের এই উৎপাদন কিছুটা স্বস্তি দিলেও এখনো বরিশাল অঞ্চলে প্রধান দানাদার এই খাদ্য ফসলের গড় ফলন হেক্টরে ২.৯২ টনের মতো। মূলত বরিশালে এখনো প্রায় ৩৫ ভাগ জমিতে সনাতন স্থানীয় জাতের আমনের আবাদ ও উৎপাদন হয়ে থাকে। ফলে দেশের অন্য এলাকার তুলনায় বরিশালে ফলন কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছে না।
যদিও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-ডিএই’র মতে উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ ও প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে কৃষকের কাছে সরবরাহের ফলে গত দুই দশকে এ অঞ্চলেও আমনের ফলন ও উৎপাদন বেড়েছে। আগামীতে উফশী ও হাইব্রিড জাতের আবাদ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে বীজ ও আবাদ প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন ডিএই’র বরিশাল অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী ও অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম সিকদার।
কৃষকদের দাবি, উচ্চ ফলনশীল জাতের ধানের বীজের পাশাপাশি উৎপাদন প্রযুক্তি জ্ঞানের অভাবে তাদের পক্ষে কম জমিতে বেশি ধান উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। অথচ আবাদকৃত আমনের অন্তত ৮০ ভাগে উফশী এবং ২০ ভাগ হাইব্রিড ধানের আবাদ সম্ভব হলেও বরিশাল অঞ্চলে উৎপাদন অন্তত ৩০ লাখ টনে উন্নীত করা সম্ভব বলে মনে করছেন মাঠ পর্যায়ের কৃষিবিদগণ। এতে করে বরিশালে উদ্বৃত্ত খাদ্যশস্যের পরিমাণ বর্তমানের ১৪ লাখ টন থেকে ২০ লাখ টনে উন্নীত হতে পারে বলেও মনে করছেন কৃষিবিদগণ।
তবে বরিশাল অঞ্চলে উফশী জাতের আবাদ সম্প্রসারণের বিষয়টি অনেকটা এগোলেও হাইব্রিড জাতের ক্ষেত্রে এখনো তা নগণ্য। সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলে আবাদকৃত ৮ লাখ ৮৫ হাজার হেক্টর আমনের মাত্র ২২ হাজার ৫শ হেক্টরে হাইব্রিড জাতের ধানের আবাদ হয়েছে বলে জানা গেছে। গড় উৎপাদন ছিল হেক্টরে ৩.৯৭ টন চাল। এমনকি এ অঞ্চলে সদ্য সমাপ্ত খরিপ-২ মৌসুমেও ৩ লক্ষাধিক হেক্টরে স্থানীয় জাতের আমনের আবাদ হয়েছে। যার গড় উৎপাদন ছিল মাত্র ১.৭৩ টন প্রতি হেক্টরে। বিষয়টি নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে অধিকতর মনোযোগী হবার তাগিদ দিয়েছেন কৃষিবিদগণ। এদিকে এবার আবাদ ও ফলন সহ উৎপাদন আশাতীত হলেও ধানের দর পতন কৃষকদের চরমভাবে হতাশ করছে। বিষয়টি নিয়ে এ অঞ্চলের প্রশাসনিক পর্যায়েও তেমন কোনো পদক্ষেপ লক্ষণীয় নয়। মাঠ পর্যায়ের কৃষিবিদদের মতে, উৎপাদিত ধান বিক্রি করে যদি কৃষকদের পুঁজিই ফিরে না আসে তবে, ভবিষ্যতে এই দানাদার খাদ্য ফসল আবাদে তাদের আগ্রহ ধরে রাখা যাবে না।
বরিশাল কৃষি অঞ্চলের প্রধান দানাদার খাদ্য ফসল আমনের প্রায় ২৪ লাখ টন চাল কৃষকের ঘরে উঠলেও দরপতনে মুখের হাসি ম্লান করে দিচ্ছে। সাম্প্রতিককালের মধ্যে এবারই প্রথম রোপণের পরে বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়াই এ অঞ্চলের কৃষকের গোলায় নির্বিঘ্নে আমন ধান উঠল। তবে বীজতলা তৈরি সহ রোপণ শুরুর প্রাক্কালে কয়েক দফায় অতিবর্ষণ সহ বর্ষণজনিত প্লাবনে বীজতলা ও রোপণের তৈরিকৃত কিছু জমি বিনষ্ট হলেও প্রয়োজনের অতিরিক্ত বীজতলা সহ দুর্যোগ পরবর্তী দ্রুততম সময়ে পুনরায় জমি তৈরি সম্পন্ন করতে পারায় তেমন কোনো বাধা তৈরি হয়নি। কিন্তু বরিশালে আমনের দরপতনে কৃষকের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। এখন প্রতিমণ আমন ধান বিক্রি হচ্ছে ৯শ টাকা থেকে হাজার ৫০ টাকার মধ্যে। অথচ সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে প্রতিমণ আমনের উৎপাদন ব্যয় ছিল হাজার টাকার ওপরে।
সদ্য সমাপ্ত খরিপ-২ মৌসুমে দেশে পৌনে ২ কোটি টনেরও বেশি আমন চাল ঘরে তোলার লক্ষ্যে ৫৭ লাখ ১৮ হাজার ৩শ হেক্টরে আবাদ লক্ষ্য অতিক্রম করেন কৃষিযোদ্ধাগণ। বরিশাল অঞ্চলেও মূল লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে এবার ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৩৪ হেক্টরে আবাদ সম্পন্নের ফলে উৎপাদনও ছিল লক্ষ্যমাত্রার বেশি। এমনকি এবারের খরিপ-২ মৌসুমে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে গত বছরের ২৩ লাখ ২২ হাজার ৯৫৮ টনের স্থলে প্রকৃত উৎপাদন হয়েছে প্রায় ২৩.৬০ লাখ টনের কাছে। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩৩ হাজার টন বেশি। এর বাইরে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার টন বোনা আমনও ইতোমধ্যে কৃষকের ঘরে উঠেছে।
আমনের এই উৎপাদন কিছুটা স্বস্তি দিলেও এখনো বরিশাল অঞ্চলে প্রধান দানাদার এই খাদ্য ফসলের গড় ফলন হেক্টরে ২.৯২ টনের মতো। মূলত বরিশালে এখনো প্রায় ৩৫ ভাগ জমিতে সনাতন স্থানীয় জাতের আমনের আবাদ ও উৎপাদন হয়ে থাকে। ফলে দেশের অন্য এলাকার তুলনায় বরিশালে ফলন কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছে না।
যদিও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-ডিএই’র মতে উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ ও প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে কৃষকের কাছে সরবরাহের ফলে গত দুই দশকে এ অঞ্চলেও আমনের ফলন ও উৎপাদন বেড়েছে। আগামীতে উফশী ও হাইব্রিড জাতের আবাদ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে বীজ ও আবাদ প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন ডিএই’র বরিশাল অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী ও অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম সিকদার।
কৃষকদের দাবি, উচ্চ ফলনশীল জাতের ধানের বীজের পাশাপাশি উৎপাদন প্রযুক্তি জ্ঞানের অভাবে তাদের পক্ষে কম জমিতে বেশি ধান উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। অথচ আবাদকৃত আমনের অন্তত ৮০ ভাগে উফশী এবং ২০ ভাগ হাইব্রিড ধানের আবাদ সম্ভব হলেও বরিশাল অঞ্চলে উৎপাদন অন্তত ৩০ লাখ টনে উন্নীত করা সম্ভব বলে মনে করছেন মাঠ পর্যায়ের কৃষিবিদগণ। এতে করে বরিশালে উদ্বৃত্ত খাদ্যশস্যের পরিমাণ বর্তমানের ১৪ লাখ টন থেকে ২০ লাখ টনে উন্নীত হতে পারে বলেও মনে করছেন কৃষিবিদগণ।
তবে বরিশাল অঞ্চলে উফশী জাতের আবাদ সম্প্রসারণের বিষয়টি অনেকটা এগোলেও হাইব্রিড জাতের ক্ষেত্রে এখনো তা নগণ্য। সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলে আবাদকৃত ৮ লাখ ৮৫ হাজার হেক্টর আমনের মাত্র ২২ হাজার ৫শ হেক্টরে হাইব্রিড জাতের ধানের আবাদ হয়েছে বলে জানা গেছে। গড় উৎপাদন ছিল হেক্টরে ৩.৯৭ টন চাল। এমনকি এ অঞ্চলে সদ্য সমাপ্ত খরিপ-২ মৌসুমেও ৩ লক্ষাধিক হেক্টরে স্থানীয় জাতের আমনের আবাদ হয়েছে। যার গড় উৎপাদন ছিল মাত্র ১.৭৩ টন প্রতি হেক্টরে। বিষয়টি নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে অধিকতর মনোযোগী হবার তাগিদ দিয়েছেন কৃষিবিদগণ। এদিকে এবার আবাদ ও ফলন সহ উৎপাদন আশাতীত হলেও ধানের দর পতন কৃষকদের চরমভাবে হতাশ করছে। বিষয়টি নিয়ে এ অঞ্চলের প্রশাসনিক পর্যায়েও তেমন কোনো পদক্ষেপ লক্ষণীয় নয়। মাঠ পর্যায়ের কৃষিবিদদের মতে, উৎপাদিত ধান বিক্রি করে যদি কৃষকদের পুঁজিই ফিরে না আসে তবে, ভবিষ্যতে এই দানাদার খাদ্য ফসল আবাদে তাদের আগ্রহ ধরে রাখা যাবে না।

১৩ জুন, ২০২৬ ২০:০৭
মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধসহ তিন দফা দাবিতে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের পাঁচ জেলায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন। আগামীকাল রোববার থেকে এ ধর্মঘট শুরু হবে বলে জানিয়েছেন নেতারা।
বাগেরহাট আন্তঃজেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফকির শহীদুল ইসলাম জানান, ধর্মঘটের আওতায় থাকবে বাগেরহাট, খুলনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বরিশাল জেলা।
ফকির শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘খুলনা ও বরিশাল বিভাগের সড়কগুলোতে অনুমোদনহীন অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজ নেওয়া বাস চলাচল করছে। মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার অবাধে চলাচল করায় পরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনকে বারবার অবহিত করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
তিনি আরও জানান, ধর্মঘট শুরু হলে পাঁচ জেলায় সব ধরনের যাত্রীবাহী পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকবে।
যে তিন দাবিতে ধর্মঘটের ডাক
১. সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজকৃত গাড়ি চলাচল বন্ধ করা এবং নীতিমালা অনুযায়ী জেলা টার্মিনালে একটি মাত্র কাউন্টার চালু রেখে পথে পথে থাকা সব অবৈধ কাউন্টার অপসারণ।
২. আঞ্চলিক মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার (মাহেন্দ্র, নছিমন, করিমন, অটোরিকশা) চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করা।
৩. দূরপাল্লার পরিবহনে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে লোকাল বা মাঝপথের যাত্রী পরিবহন বন্ধ করা।
এ ঘটনা প্রসঙ্গে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, পরিবহন মালিকদের তিন দফা দাবির বিষয়ে প্রশাসন অবগত রয়েছে। অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট এড়াতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
বরিশাল টাইমস

১৩ জুন, ২০২৬ ১৮:২৪
বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে তিন কেজি গাঁজাসহ এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি চাপাতি ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে অভিযানের মূল লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত মাদক কারবারি নজরুল বেপারী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) ভোররাত চারটার দিকে উপজেলার ওটরা ইউনিয়নের কেশবকাটি গ্রামে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল।
দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে নজরুল বেপারীর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিকালে বাড়ির ভেতর থেকে তিন কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে একটি চাপাতি ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযান চলাকালে মূল অভিযুক্ত নজরুল বেপারী কৌশলে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী মাহামুদা বেগমকে (৩৮) ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানান, উদ্ধার মাদক ও অস্ত্রের ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক নজরুল বেপারীকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

১৩ জুন, ২০২৬ ১৫:০৪
বরিশালের গৌরনদীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে এক যুবককে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়েছে। মৃত ভেবে ফেলে যাওয়া ওই যুবকের নাম আরিফ আকন। তিনি বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে গৌরনদী উপজেলার গেরাকুল গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত আরিফ আকন ওই গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলাম আকনের একমাত্র ছেলে। কয়েক মাস আগে এক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আরিফের বাম হাত ভেঙে প্রায় অকেজো হয়ে যায়।
ভুক্তভোগী বড় বোন তিরা মনি বেগম জানান, তাদের পুরোনো বাড়ির সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে বাথরুম নির্মাণ করছিলেন প্রতিবেশী আনোয়ার আকনের ছেলে নসিমনচালক রুবেল আকন। বিষয়টি জানতে পেরে শুক্রবার সকালে আরিফ ঘটনাস্থলে যান। সেখানে রুবেলকে না পেয়ে তার পরিবারের সদস্যদের নির্মাণাধীন বাথরুমটি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন।
দুপুরে রুবেল বাড়িতে ফিরে বিষয়টি জানতে পেরে আরিফকে হত্যার হুমকি দেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিকেলে রুবেল ও তার কয়েকজন সহযোগী বাড়ির পাশে আরিফকে একা পেয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। তারা লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আরিফের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে মারাত্মক জখম করেন। একপর্যায়ে আরিফ সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে মৃত ভেবে হামলাকারীরা তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
পরে খবর পেয়ে আরিফের মা ও প্রতিবেশীরা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাতেই তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিরা মনি বেগম আরও জানান, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার ভাইয়ের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রুবেল আকনসহ তার সহযোগীরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিক হাসান রাসেল জানান, এই ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বরিশাল টাইমস
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধসহ তিন দফা দাবিতে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের পাঁচ জেলায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন। আগামীকাল রোববার থেকে এ ধর্মঘট শুরু হবে বলে জানিয়েছেন নেতারা।
বাগেরহাট আন্তঃজেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফকির শহীদুল ইসলাম জানান, ধর্মঘটের আওতায় থাকবে বাগেরহাট, খুলনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বরিশাল জেলা।
ফকির শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘খুলনা ও বরিশাল বিভাগের সড়কগুলোতে অনুমোদনহীন অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজ নেওয়া বাস চলাচল করছে। মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার অবাধে চলাচল করায় পরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনকে বারবার অবহিত করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
তিনি আরও জানান, ধর্মঘট শুরু হলে পাঁচ জেলায় সব ধরনের যাত্রীবাহী পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকবে।
যে তিন দাবিতে ধর্মঘটের ডাক
১. সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজকৃত গাড়ি চলাচল বন্ধ করা এবং নীতিমালা অনুযায়ী জেলা টার্মিনালে একটি মাত্র কাউন্টার চালু রেখে পথে পথে থাকা সব অবৈধ কাউন্টার অপসারণ।
২. আঞ্চলিক মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার (মাহেন্দ্র, নছিমন, করিমন, অটোরিকশা) চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করা।
৩. দূরপাল্লার পরিবহনে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে লোকাল বা মাঝপথের যাত্রী পরিবহন বন্ধ করা।
এ ঘটনা প্রসঙ্গে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, পরিবহন মালিকদের তিন দফা দাবির বিষয়ে প্রশাসন অবগত রয়েছে। অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট এড়াতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
বরিশাল টাইমস
বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে তিন কেজি গাঁজাসহ এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি চাপাতি ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে অভিযানের মূল লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত মাদক কারবারি নজরুল বেপারী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) ভোররাত চারটার দিকে উপজেলার ওটরা ইউনিয়নের কেশবকাটি গ্রামে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল।
দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে নজরুল বেপারীর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিকালে বাড়ির ভেতর থেকে তিন কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে একটি চাপাতি ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযান চলাকালে মূল অভিযুক্ত নজরুল বেপারী কৌশলে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী মাহামুদা বেগমকে (৩৮) ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানান, উদ্ধার মাদক ও অস্ত্রের ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক নজরুল বেপারীকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বরিশালের গৌরনদীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে এক যুবককে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়েছে। মৃত ভেবে ফেলে যাওয়া ওই যুবকের নাম আরিফ আকন। তিনি বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে গৌরনদী উপজেলার গেরাকুল গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত আরিফ আকন ওই গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলাম আকনের একমাত্র ছেলে। কয়েক মাস আগে এক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আরিফের বাম হাত ভেঙে প্রায় অকেজো হয়ে যায়।
ভুক্তভোগী বড় বোন তিরা মনি বেগম জানান, তাদের পুরোনো বাড়ির সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে বাথরুম নির্মাণ করছিলেন প্রতিবেশী আনোয়ার আকনের ছেলে নসিমনচালক রুবেল আকন। বিষয়টি জানতে পেরে শুক্রবার সকালে আরিফ ঘটনাস্থলে যান। সেখানে রুবেলকে না পেয়ে তার পরিবারের সদস্যদের নির্মাণাধীন বাথরুমটি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন।
দুপুরে রুবেল বাড়িতে ফিরে বিষয়টি জানতে পেরে আরিফকে হত্যার হুমকি দেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিকেলে রুবেল ও তার কয়েকজন সহযোগী বাড়ির পাশে আরিফকে একা পেয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। তারা লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আরিফের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে মারাত্মক জখম করেন। একপর্যায়ে আরিফ সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে মৃত ভেবে হামলাকারীরা তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
পরে খবর পেয়ে আরিফের মা ও প্রতিবেশীরা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাতেই তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিরা মনি বেগম আরও জানান, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার ভাইয়ের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রুবেল আকনসহ তার সহযোগীরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিক হাসান রাসেল জানান, এই ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বরিশাল টাইমস