বরিশাল কৃষি অঞ্চলের প্রধান দানাদার খাদ্য ফসল আমনের প্রায় ২৪ লাখ টন চাল কৃষকের ঘরে উঠলেও দরপতনে মুখের হাসি ম্লান করে দিচ্ছে। সাম্প্রতিককালের মধ্যে এবারই প্রথম রোপণের পরে বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়াই এ অঞ্চলের কৃষকের গোলায় নির্বিঘ্নে আমন ধান উঠল। তবে বীজতলা তৈরি সহ রোপণ শুরুর প্রাক্কালে কয়েক দফায় অতিবর্ষণ সহ বর্ষণজনিত প্লাবনে বীজতলা ও রোপণের তৈরিকৃত কিছু জমি বিনষ্ট হলেও প্রয়োজনের অতিরিক্ত বীজতলা সহ দুর্যোগ পরবর্তী দ্রুততম সময়ে পুনরায় জমি তৈরি সম্পন্ন করতে পারায় তেমন কোনো বাধা তৈরি হয়নি। কিন্তু বরিশালে আমনের দরপতনে কৃষকের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। এখন প্রতিমণ আমন ধান বিক্রি হচ্ছে ৯শ টাকা থেকে হাজার ৫০ টাকার মধ্যে। অথচ সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে প্রতিমণ আমনের উৎপাদন ব্যয় ছিল হাজার টাকার ওপরে।
সদ্য সমাপ্ত খরিপ-২ মৌসুমে দেশে পৌনে ২ কোটি টনেরও বেশি আমন চাল ঘরে তোলার লক্ষ্যে ৫৭ লাখ ১৮ হাজার ৩শ হেক্টরে আবাদ লক্ষ্য অতিক্রম করেন কৃষিযোদ্ধাগণ। বরিশাল অঞ্চলেও মূল লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে এবার ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৩৪ হেক্টরে আবাদ সম্পন্নের ফলে উৎপাদনও ছিল লক্ষ্যমাত্রার বেশি। এমনকি এবারের খরিপ-২ মৌসুমে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে গত বছরের ২৩ লাখ ২২ হাজার ৯৫৮ টনের স্থলে প্রকৃত উৎপাদন হয়েছে প্রায় ২৩.৬০ লাখ টনের কাছে। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩৩ হাজার টন বেশি। এর বাইরে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার টন বোনা আমনও ইতোমধ্যে কৃষকের ঘরে উঠেছে।
আমনের এই উৎপাদন কিছুটা স্বস্তি দিলেও এখনো বরিশাল অঞ্চলে প্রধান দানাদার এই খাদ্য ফসলের গড় ফলন হেক্টরে ২.৯২ টনের মতো। মূলত বরিশালে এখনো প্রায় ৩৫ ভাগ জমিতে সনাতন স্থানীয় জাতের আমনের আবাদ ও উৎপাদন হয়ে থাকে। ফলে দেশের অন্য এলাকার তুলনায় বরিশালে ফলন কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছে না।
যদিও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-ডিএই’র মতে উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ ও প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে কৃষকের কাছে সরবরাহের ফলে গত দুই দশকে এ অঞ্চলেও আমনের ফলন ও উৎপাদন বেড়েছে। আগামীতে উফশী ও হাইব্রিড জাতের আবাদ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে বীজ ও আবাদ প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন ডিএই’র বরিশাল অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী ও অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম সিকদার।
কৃষকদের দাবি, উচ্চ ফলনশীল জাতের ধানের বীজের পাশাপাশি উৎপাদন প্রযুক্তি জ্ঞানের অভাবে তাদের পক্ষে কম জমিতে বেশি ধান উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। অথচ আবাদকৃত আমনের অন্তত ৮০ ভাগে উফশী এবং ২০ ভাগ হাইব্রিড ধানের আবাদ সম্ভব হলেও বরিশাল অঞ্চলে উৎপাদন অন্তত ৩০ লাখ টনে উন্নীত করা সম্ভব বলে মনে করছেন মাঠ পর্যায়ের কৃষিবিদগণ। এতে করে বরিশালে উদ্বৃত্ত খাদ্যশস্যের পরিমাণ বর্তমানের ১৪ লাখ টন থেকে ২০ লাখ টনে উন্নীত হতে পারে বলেও মনে করছেন কৃষিবিদগণ।
তবে বরিশাল অঞ্চলে উফশী জাতের আবাদ সম্প্রসারণের বিষয়টি অনেকটা এগোলেও হাইব্রিড জাতের ক্ষেত্রে এখনো তা নগণ্য। সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলে আবাদকৃত ৮ লাখ ৮৫ হাজার হেক্টর আমনের মাত্র ২২ হাজার ৫শ হেক্টরে হাইব্রিড জাতের ধানের আবাদ হয়েছে বলে জানা গেছে। গড় উৎপাদন ছিল হেক্টরে ৩.৯৭ টন চাল। এমনকি এ অঞ্চলে সদ্য সমাপ্ত খরিপ-২ মৌসুমেও ৩ লক্ষাধিক হেক্টরে স্থানীয় জাতের আমনের আবাদ হয়েছে। যার গড় উৎপাদন ছিল মাত্র ১.৭৩ টন প্রতি হেক্টরে। বিষয়টি নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে অধিকতর মনোযোগী হবার তাগিদ দিয়েছেন কৃষিবিদগণ। এদিকে এবার আবাদ ও ফলন সহ উৎপাদন আশাতীত হলেও ধানের দর পতন কৃষকদের চরমভাবে হতাশ করছে। বিষয়টি নিয়ে এ অঞ্চলের প্রশাসনিক পর্যায়েও তেমন কোনো পদক্ষেপ লক্ষণীয় নয়। মাঠ পর্যায়ের কৃষিবিদদের মতে, উৎপাদিত ধান বিক্রি করে যদি কৃষকদের পুঁজিই ফিরে না আসে তবে, ভবিষ্যতে এই দানাদার খাদ্য ফসল আবাদে তাদের আগ্রহ ধরে রাখা যাবে না।

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৪৪
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মো. বেলায়েত হোসেনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার)। এ উপলক্ষে ‘বেলায়েত হোসেন ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
কর্মসূচির সূচনা হবে ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় বরিশাল আঞ্জুমানের মুসলিম গোরস্থানে মরহুমের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে। এরপর বেলা ১১টায় সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজে বৃক্ষরোপণ, বাদ যোহর মরহুমের নিজ এলাকা ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের সোনা মিয়ার পুল এবং পার্শ্ববর্তী মসজিদ ও স্থানীয় এতিমখানাসমূহে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর ২টায় কাউনিয়া হাউজিংয়ে অবস্থিত বৃদ্ধাশ্রমে প্রবীণদের সাথে সহমর্মিতার মধ্যাহ্নভোজ এবং বিকেল ৩টা থেকে সেখানে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালিত হবে।
দিনব্যাপী এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেল ৫টায় বরিশাল রায় রোডস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা মিন্টু বসু সড়কের ‘খেয়ালী গ্রুপ থিয়েটার’ মিলনায়তনে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে প্রদর্শিত হবে অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেনের বর্নাঢ্য জীবন ও কর্ম নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্য চিত্র, যে জীবন মানুষের।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে মরহুমের আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী, গুণগ্রাহী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সকল কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, তিনি বরিশালের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার, প্রাবন্ধিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বাহাউদ্দিন গোলাপের পিতা।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মো. বেলায়েত হোসেনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার)। এ উপলক্ষে ‘বেলায়েত হোসেন ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
কর্মসূচির সূচনা হবে ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় বরিশাল আঞ্জুমানের মুসলিম গোরস্থানে মরহুমের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে। এরপর বেলা ১১টায় সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজে বৃক্ষরোপণ, বাদ যোহর মরহুমের নিজ এলাকা ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের সোনা মিয়ার পুল এবং পার্শ্ববর্তী মসজিদ ও স্থানীয় এতিমখানাসমূহে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর ২টায় কাউনিয়া হাউজিংয়ে অবস্থিত বৃদ্ধাশ্রমে প্রবীণদের সাথে সহমর্মিতার মধ্যাহ্নভোজ এবং বিকেল ৩টা থেকে সেখানে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালিত হবে।
দিনব্যাপী এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেল ৫টায় বরিশাল রায় রোডস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা মিন্টু বসু সড়কের ‘খেয়ালী গ্রুপ থিয়েটার’ মিলনায়তনে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে প্রদর্শিত হবে অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেনের বর্নাঢ্য জীবন ও কর্ম নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্য চিত্র, যে জীবন মানুষের।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে মরহুমের আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী, গুণগ্রাহী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সকল কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, তিনি বরিশালের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার, প্রাবন্ধিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বাহাউদ্দিন গোলাপের পিতা।

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:৩৫
বরিশালের বাবুগঞ্জে দ্রুতগতির বাসের ধাক্কায় এক সহকারী শিক্ষিকা নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের দ্বারিকা-শিকারপুর ব্রিজের ঢালের পশ্চিম পাশে রাকুদিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রেহানা বেগম (৪৫) রাকুদিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা নাসিরউদ্দিনের স্ত্রী।
স্থানীয় ও মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে শিকারপুর ব্রিজের ঢাল এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন রেহানা বেগম। এ সময় ঢাকা থেকে বরিশালগামী লাবিবা কোম্পানির ‘আহনাফ পরিবহন’ নামের একটি বেপরোয়া গতির বাস তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ছিটকে সড়কের পাশে পড়ে গিয়ে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মাদরাসার শিক্ষকেরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে রেহানা বেগমকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়। City& Local Guides
তার মৃত্যুর খবর মাদরাসায় পৌঁছালে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা, দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালকের বিচার ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চলাচল বন্ধের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধ করে রাখার কারণে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, ফলে দুর্ভোগে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী ও সাধারণ মানুষ।
সংবাদ পেয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানার পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও বাবুগঞ্জ থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে চালক ও বাস আটকের আশ্বাসসহ লাবিবা কোম্পানির কয়েকটি বাস আটক করা হলে প্রায় এক ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। ব্রেকিংনিউজ
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বরিশালটাইমসকে জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত নারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থাগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।’
বরিশালের বাবুগঞ্জে দ্রুতগতির বাসের ধাক্কায় এক সহকারী শিক্ষিকা নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের দ্বারিকা-শিকারপুর ব্রিজের ঢালের পশ্চিম পাশে রাকুদিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রেহানা বেগম (৪৫) রাকুদিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা নাসিরউদ্দিনের স্ত্রী।
স্থানীয় ও মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে শিকারপুর ব্রিজের ঢাল এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন রেহানা বেগম। এ সময় ঢাকা থেকে বরিশালগামী লাবিবা কোম্পানির ‘আহনাফ পরিবহন’ নামের একটি বেপরোয়া গতির বাস তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ছিটকে সড়কের পাশে পড়ে গিয়ে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মাদরাসার শিক্ষকেরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে রেহানা বেগমকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়। City& Local Guides
তার মৃত্যুর খবর মাদরাসায় পৌঁছালে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা, দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালকের বিচার ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চলাচল বন্ধের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধ করে রাখার কারণে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, ফলে দুর্ভোগে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী ও সাধারণ মানুষ।
সংবাদ পেয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানার পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও বাবুগঞ্জ থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে চালক ও বাস আটকের আশ্বাসসহ লাবিবা কোম্পানির কয়েকটি বাস আটক করা হলে প্রায় এক ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। ব্রেকিংনিউজ
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বরিশালটাইমসকে জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত নারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থাগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।’

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:২০
একসময় ‘বাংলার শস্যভাণ্ডার’ আর নদী-খালের সৌন্দর্যে ‘বাংলার ভেনিস’ নামে পরিচিত ছিল বরিশাল। বন্দরে দূর-দূরান্তের বণিকদের আনাগোনা ছিল। সেই বরিশাল এখন দেশের সবচেয়ে দরিদ্র বিভাগ। কৃষি উৎপাদন কমেছে, গড়ে ওঠেনি শিল্প-কারখানা, তৈরি হয়নি পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান। গ্যাসের বড় মজুদ থাকার পরও কাজে লাগানো যায়নি সেই সম্পদ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) দারিদ্র্য মানচিত্র ২০২২ অনুযায়ী, দেশে দারিদ্র্যের হার ১৯ দশমিক ২ শতাংশ।
বরিশাল বিভাগে এ হার ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ। দেশের আট বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ। একসময় দেশের দরিদ্রতম বিভাগ রংপুর হলেও এখন সেই অবস্থানে বরিশাল। কর্মসংস্থানের অভাবে এ অঞ্চলের মানুষ ঢাকামুখী হচ্ছে।
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, বরিশালের স্থানীয় বাসিন্দাদের ১৮ দশমিক ৬২ শতাংশ এখন ঢাকায় বসবাস করছে। স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস-২০২৩-এর তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বস্তিবাসীর প্রায় ১৩ শতাংশ বরিশালের।
বরিশালকে একসময় শস্যভাণ্ডার বলা হলেও ধান উৎপাদনে এখন পিছিয়ে পড়ছে বিভাগটি। বিবিএসের ইয়ারবুক অব অ্যাগ্রিকালচারাল স্ট্যাটিসটিকস-২০২৫ অনুযায়ী, আউশ উৎপাদনে বরিশাল চতুর্থ, আমনে পঞ্চম এবং বোরো উৎপাদনে অষ্টম।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিভাগটিতে আউশ উৎপাদন হয়েছিল ৪ লাখ ৩০ হাজার ২০ টন।
পরের অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৩৯৯ টনে। আমন উৎপাদনও ১৬ লাখ ৩৫ হাজার ৮৬৯ টন থেকে কমে ১৬ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ টনে নেমেছে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতির অধ্যাপক এ এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বরিশাল সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের একটি। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও লবণাক্ততা বাড়ায় অনেক জমিতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে কৃষক বিকল্প হিসেবে চিংড়ি চাষসহ অন্য কাজে যাচ্ছেন।
আরো পড়ুন
মৎস্যসম্পদেও একই চিত্র। বিভাগীয় মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বরিশালে ৩ লাখ ৭২ হাজার টন ইলিশ উৎপাদন হলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে হয়েছে ২ লাখ ৬৬ হাজার টন। তিন বছরে উৎপাদন কমেছে প্রায় ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ।
বিবিএসের ২০২৫ সালের এক জরিপে দেখা যায়, ধান, গম ও শস্য উৎপাদনে বরিশালের কৃষকদের বার্ষিক নিট আয় মাত্র ৬ হাজার ৮১ টাকা আট বিভাগের মধ্যে সর্বনিম্ন।
ভোলায় রয়েছে প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় মজুদ। বাপেক্সের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে বর্তমানে ১ দশমিক ৭৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদ রয়েছে। ১৯৯৫ সালে শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এ সম্পদকে ঘিরে বড় শিল্পায়ন হয়নি।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগে শিল্প-কারখানা কার্যত সীমিত। বিভাগের ছয় জেলার মধ্যে বরিশাল ছাড়া বাকি পাঁচ জেলায় উল্লেখযোগ্য কলকারখানা নেই। বরিশাল জেলায় কারখানা রয়েছে ৪০৯টি, যেখানে কাজ করেন প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক।
বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার বলেন, যে ধরনের শিল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি। কৃষি ও মৎস্যকে ঘিরে আগের অর্থনৈতিক তৎপরতাও কমেছে। ফলে কর্মসংস্থানের সংকট রয়েছে।
স্থানীয় রাজনীতিক ও অর্থনীতিবিদদের মতে, নদীনির্ভর যোগাযোগব্যবস্থা এবং শিল্পায়নের অভাব বরিশালের অর্থনৈতিক বিকাশে বড় বাধা। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাবও সমন্বিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারেনি।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের বড় রাজনৈতিক নেতারা জাতীয় রাজনীতিতে বেশি মনোযোগী ছিলেন। পুরো অঞ্চলের জন্য পরিকল্পিত ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি।
তবে পরিস্থিতি বদলাতে বর্তমান সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। ভোলাকে মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভোলার গ্যাস স্থানীয়ভাবে ব্যবহার করে শিল্পকারখানা, সার কারখানা ও ৫০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন গণমাধ্যমকে বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুতের অপ্রতুলতা এবং দুর্গম যোগাযোগের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে শিল্প গড়ে ওঠেনি। ভোলার গ্যাসের সঠিক ব্যবহার, পায়রা বন্দর সচল, কুয়াকাটায় পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন ও সড়ক যোগাযোগ বাড়ানো গেলে দক্ষিণাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক কাঠামো দ্রুত বদলে যেতে পারে।
একসময় ‘বাংলার শস্যভাণ্ডার’ আর নদী-খালের সৌন্দর্যে ‘বাংলার ভেনিস’ নামে পরিচিত ছিল বরিশাল। বন্দরে দূর-দূরান্তের বণিকদের আনাগোনা ছিল। সেই বরিশাল এখন দেশের সবচেয়ে দরিদ্র বিভাগ। কৃষি উৎপাদন কমেছে, গড়ে ওঠেনি শিল্প-কারখানা, তৈরি হয়নি পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান। গ্যাসের বড় মজুদ থাকার পরও কাজে লাগানো যায়নি সেই সম্পদ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) দারিদ্র্য মানচিত্র ২০২২ অনুযায়ী, দেশে দারিদ্র্যের হার ১৯ দশমিক ২ শতাংশ।
বরিশাল বিভাগে এ হার ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ। দেশের আট বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ। একসময় দেশের দরিদ্রতম বিভাগ রংপুর হলেও এখন সেই অবস্থানে বরিশাল। কর্মসংস্থানের অভাবে এ অঞ্চলের মানুষ ঢাকামুখী হচ্ছে।
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, বরিশালের স্থানীয় বাসিন্দাদের ১৮ দশমিক ৬২ শতাংশ এখন ঢাকায় বসবাস করছে। স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস-২০২৩-এর তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বস্তিবাসীর প্রায় ১৩ শতাংশ বরিশালের।
বরিশালকে একসময় শস্যভাণ্ডার বলা হলেও ধান উৎপাদনে এখন পিছিয়ে পড়ছে বিভাগটি। বিবিএসের ইয়ারবুক অব অ্যাগ্রিকালচারাল স্ট্যাটিসটিকস-২০২৫ অনুযায়ী, আউশ উৎপাদনে বরিশাল চতুর্থ, আমনে পঞ্চম এবং বোরো উৎপাদনে অষ্টম।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিভাগটিতে আউশ উৎপাদন হয়েছিল ৪ লাখ ৩০ হাজার ২০ টন।
পরের অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৩৯৯ টনে। আমন উৎপাদনও ১৬ লাখ ৩৫ হাজার ৮৬৯ টন থেকে কমে ১৬ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ টনে নেমেছে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতির অধ্যাপক এ এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বরিশাল সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের একটি। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও লবণাক্ততা বাড়ায় অনেক জমিতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে কৃষক বিকল্প হিসেবে চিংড়ি চাষসহ অন্য কাজে যাচ্ছেন।
আরো পড়ুন
মৎস্যসম্পদেও একই চিত্র। বিভাগীয় মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বরিশালে ৩ লাখ ৭২ হাজার টন ইলিশ উৎপাদন হলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে হয়েছে ২ লাখ ৬৬ হাজার টন। তিন বছরে উৎপাদন কমেছে প্রায় ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ।
বিবিএসের ২০২৫ সালের এক জরিপে দেখা যায়, ধান, গম ও শস্য উৎপাদনে বরিশালের কৃষকদের বার্ষিক নিট আয় মাত্র ৬ হাজার ৮১ টাকা আট বিভাগের মধ্যে সর্বনিম্ন।
ভোলায় রয়েছে প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় মজুদ। বাপেক্সের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে বর্তমানে ১ দশমিক ৭৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদ রয়েছে। ১৯৯৫ সালে শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এ সম্পদকে ঘিরে বড় শিল্পায়ন হয়নি।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগে শিল্প-কারখানা কার্যত সীমিত। বিভাগের ছয় জেলার মধ্যে বরিশাল ছাড়া বাকি পাঁচ জেলায় উল্লেখযোগ্য কলকারখানা নেই। বরিশাল জেলায় কারখানা রয়েছে ৪০৯টি, যেখানে কাজ করেন প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক।
বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার বলেন, যে ধরনের শিল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি। কৃষি ও মৎস্যকে ঘিরে আগের অর্থনৈতিক তৎপরতাও কমেছে। ফলে কর্মসংস্থানের সংকট রয়েছে।
স্থানীয় রাজনীতিক ও অর্থনীতিবিদদের মতে, নদীনির্ভর যোগাযোগব্যবস্থা এবং শিল্পায়নের অভাব বরিশালের অর্থনৈতিক বিকাশে বড় বাধা। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাবও সমন্বিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারেনি।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের বড় রাজনৈতিক নেতারা জাতীয় রাজনীতিতে বেশি মনোযোগী ছিলেন। পুরো অঞ্চলের জন্য পরিকল্পিত ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি।
তবে পরিস্থিতি বদলাতে বর্তমান সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। ভোলাকে মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভোলার গ্যাস স্থানীয়ভাবে ব্যবহার করে শিল্পকারখানা, সার কারখানা ও ৫০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন গণমাধ্যমকে বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুতের অপ্রতুলতা এবং দুর্গম যোগাযোগের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে শিল্প গড়ে ওঠেনি। ভোলার গ্যাসের সঠিক ব্যবহার, পায়রা বন্দর সচল, কুয়াকাটায় পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন ও সড়ক যোগাযোগ বাড়ানো গেলে দক্ষিণাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক কাঠামো দ্রুত বদলে যেতে পারে।

১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ২০:৪৮
বরিশাল কৃষি অঞ্চলের প্রধান দানাদার খাদ্য ফসল আমনের প্রায় ২৪ লাখ টন চাল কৃষকের ঘরে উঠলেও দরপতনে মুখের হাসি ম্লান করে দিচ্ছে। সাম্প্রতিককালের মধ্যে এবারই প্রথম রোপণের পরে বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়াই এ অঞ্চলের কৃষকের গোলায় নির্বিঘ্নে আমন ধান উঠল। তবে বীজতলা তৈরি সহ রোপণ শুরুর প্রাক্কালে কয়েক দফায় অতিবর্ষণ সহ বর্ষণজনিত প্লাবনে বীজতলা ও রোপণের তৈরিকৃত কিছু জমি বিনষ্ট হলেও প্রয়োজনের অতিরিক্ত বীজতলা সহ দুর্যোগ পরবর্তী দ্রুততম সময়ে পুনরায় জমি তৈরি সম্পন্ন করতে পারায় তেমন কোনো বাধা তৈরি হয়নি। কিন্তু বরিশালে আমনের দরপতনে কৃষকের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। এখন প্রতিমণ আমন ধান বিক্রি হচ্ছে ৯শ টাকা থেকে হাজার ৫০ টাকার মধ্যে। অথচ সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে প্রতিমণ আমনের উৎপাদন ব্যয় ছিল হাজার টাকার ওপরে।
সদ্য সমাপ্ত খরিপ-২ মৌসুমে দেশে পৌনে ২ কোটি টনেরও বেশি আমন চাল ঘরে তোলার লক্ষ্যে ৫৭ লাখ ১৮ হাজার ৩শ হেক্টরে আবাদ লক্ষ্য অতিক্রম করেন কৃষিযোদ্ধাগণ। বরিশাল অঞ্চলেও মূল লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে এবার ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৩৪ হেক্টরে আবাদ সম্পন্নের ফলে উৎপাদনও ছিল লক্ষ্যমাত্রার বেশি। এমনকি এবারের খরিপ-২ মৌসুমে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে গত বছরের ২৩ লাখ ২২ হাজার ৯৫৮ টনের স্থলে প্রকৃত উৎপাদন হয়েছে প্রায় ২৩.৬০ লাখ টনের কাছে। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩৩ হাজার টন বেশি। এর বাইরে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার টন বোনা আমনও ইতোমধ্যে কৃষকের ঘরে উঠেছে।
আমনের এই উৎপাদন কিছুটা স্বস্তি দিলেও এখনো বরিশাল অঞ্চলে প্রধান দানাদার এই খাদ্য ফসলের গড় ফলন হেক্টরে ২.৯২ টনের মতো। মূলত বরিশালে এখনো প্রায় ৩৫ ভাগ জমিতে সনাতন স্থানীয় জাতের আমনের আবাদ ও উৎপাদন হয়ে থাকে। ফলে দেশের অন্য এলাকার তুলনায় বরিশালে ফলন কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছে না।
যদিও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-ডিএই’র মতে উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ ও প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে কৃষকের কাছে সরবরাহের ফলে গত দুই দশকে এ অঞ্চলেও আমনের ফলন ও উৎপাদন বেড়েছে। আগামীতে উফশী ও হাইব্রিড জাতের আবাদ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে বীজ ও আবাদ প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন ডিএই’র বরিশাল অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী ও অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম সিকদার।
কৃষকদের দাবি, উচ্চ ফলনশীল জাতের ধানের বীজের পাশাপাশি উৎপাদন প্রযুক্তি জ্ঞানের অভাবে তাদের পক্ষে কম জমিতে বেশি ধান উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। অথচ আবাদকৃত আমনের অন্তত ৮০ ভাগে উফশী এবং ২০ ভাগ হাইব্রিড ধানের আবাদ সম্ভব হলেও বরিশাল অঞ্চলে উৎপাদন অন্তত ৩০ লাখ টনে উন্নীত করা সম্ভব বলে মনে করছেন মাঠ পর্যায়ের কৃষিবিদগণ। এতে করে বরিশালে উদ্বৃত্ত খাদ্যশস্যের পরিমাণ বর্তমানের ১৪ লাখ টন থেকে ২০ লাখ টনে উন্নীত হতে পারে বলেও মনে করছেন কৃষিবিদগণ।
তবে বরিশাল অঞ্চলে উফশী জাতের আবাদ সম্প্রসারণের বিষয়টি অনেকটা এগোলেও হাইব্রিড জাতের ক্ষেত্রে এখনো তা নগণ্য। সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলে আবাদকৃত ৮ লাখ ৮৫ হাজার হেক্টর আমনের মাত্র ২২ হাজার ৫শ হেক্টরে হাইব্রিড জাতের ধানের আবাদ হয়েছে বলে জানা গেছে। গড় উৎপাদন ছিল হেক্টরে ৩.৯৭ টন চাল। এমনকি এ অঞ্চলে সদ্য সমাপ্ত খরিপ-২ মৌসুমেও ৩ লক্ষাধিক হেক্টরে স্থানীয় জাতের আমনের আবাদ হয়েছে। যার গড় উৎপাদন ছিল মাত্র ১.৭৩ টন প্রতি হেক্টরে। বিষয়টি নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে অধিকতর মনোযোগী হবার তাগিদ দিয়েছেন কৃষিবিদগণ। এদিকে এবার আবাদ ও ফলন সহ উৎপাদন আশাতীত হলেও ধানের দর পতন কৃষকদের চরমভাবে হতাশ করছে। বিষয়টি নিয়ে এ অঞ্চলের প্রশাসনিক পর্যায়েও তেমন কোনো পদক্ষেপ লক্ষণীয় নয়। মাঠ পর্যায়ের কৃষিবিদদের মতে, উৎপাদিত ধান বিক্রি করে যদি কৃষকদের পুঁজিই ফিরে না আসে তবে, ভবিষ্যতে এই দানাদার খাদ্য ফসল আবাদে তাদের আগ্রহ ধরে রাখা যাবে না।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৪৪
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:৩৫
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:২২
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:২০