Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.

০২ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০১:০৩
প্রথমবারের মতো বরিশালে সমাবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামসহ ইসলামপন্থী আটটি দল। শহরের বেলসপার্ক মাঠে মঙ্গলবারের (২ ডিসেম্বর) এই সমাবেশকে ঘিরে ব্যাপক আয়োজন করা হয়েছে। গত তিনদিন ধরে মঞ্চ তৈরি করা থেকে শুরু করে কর্মী-সমর্থকদের অবস্থান নেওয়ার জন্য বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। বিভাগীয় শহরের এই সমাবেশে ১০ লক্ষধিক মানুষের সমাগম ঘটবে বলে প্রত্যাশা করছেন বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন এবং জামায়াত ইসলামীসহ দলগুলোর শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব। এমনকি সমাবেশের একদিন আগে অর্থাৎ সোমবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেও ৮টি দলের নেতারা বিপুলসংখ্যক লোক সমাবেত হওয়ার বিষয়টি ইঙ্গিত করেছেন।
বিভিন্ন মাধ্যম নিশ্চিত হওয়া গেছে, অতীতে ইসলামপন্থী দলগুলোর মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি থাকলেও গত বছরের জুলাই আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে একত্রিত হয়ে ঝাপিয়ে পড়ে। ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে একই বছরের ৫ আগস্ট সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগে বাধ্য হলে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ঐক্য ধরে রাখতে কৌশল নেয়। শোনা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে এই আটটি দল মোর্চা গঠন করার ব্যাপক সম্ভবনা রয়েছে, যার প্রাকপ্রস্তুতি শুরু করেছে বরিশালে বিভাগীয় সমাবেশের মধ্যে দিয়ে।
শহরের বান্দরোডস্থ ঐতিহ্যবাহী বেলসপার্ক মাঠে মঙ্গলবারের এই সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) দক্ষিণাঞ্চলের ২১ টি সংসদীয় আসন থেকে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে আসতে চাইছে। পাশাপাশি মাদারীপুর, ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকেও কর্মী-অনুসারীরা আসছেন।
সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনের আগেই জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়াসহ ৫ দফার স্বপক্ষে আটটি ইসলামিক দল একত্রিত হওয়া রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করবে। বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপিসহ অপরাপর রাজনৈতিক দলগুলো তার প্রভাব কিছুটা আচ করতে পারছে।
রাজনৈতিক কুশীলবদের মতে, ইসলাম ভিত্তিক আটটি দল বরিশালে সমাবেশ করে ব্যাপক লোকসমাগম ঘটিয়ে রাজনীতিতে আলোচনায় থাকতে চাইছে। এবং বিভাগীয় শহর বরিশালে তাদের শক্তপোক্ত অবস্থান থাকার বিষয়টিও রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে তুলে ধরতে চায়।
সমাবেশকে ঘিরে সর্বশেষ বরিশালে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জামায়াত ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনসহ উল্লেখিত আটটি দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব। সোমবার অপরাহ্নে বরিশাল শহরের একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তাদের ৫ দফা তুলে ধরাসহ ২ ডিসেম্বর বেলসপার্কের সমাবেশকে জনসমুদ্রে রূপ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
৮ দলের প্রতিনিধিরা জানান, মঙ্গলবার বিভাগীয় সমাবেশে ১০ লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মানুষের সমাগম ঘটবে এবং এর মাধ্যমে ইসলামিক দলগুলোর মধ্যে দুরত্ব কমে আসবে। আয়োজিত এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম পির সাহেব চরমোনাই। এবং সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।
সূত্রে জানা গেছে, সমাবেশে উল্লেখিত আটটি দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখবেন এবং আগামীতে নিজেদের মধ্যেকার বিরোধ ভুলে কি ভাবে এক কাতারে আসা যায় তা নিয়ে মতামত তুলে ধরবেন। এই তথ্য অস্বীকার না করলেও দলগুলোর নেতাকর্মীরা বলছেন, জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন, উন্নত নৈতিকতাসমৃদ্ধ সমাজ প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি-দুঃশাসন প্রতিরোধ এবং সর্বশ্রেণির মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষে জনগণকে সচেতন ও সম্পৃক্ত করতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
জানা গেছে, আট দলের ৫ দফার মধ্যে আছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আদেশ জারি। আদেশের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোট অনুষ্ঠান। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন ও সকল পর্যায়ে লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি। জুলাই গণঅভ্যুত্থান, শাপলা ট্রাজিডি ও বিডিআর গণহত্যায় সংশ্লিষ্ট সকল মানবতাবিরোধী অপরাধীর বিচার। জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলের সকল ফ্যাসিবাদের দোসর ও সহযোগিদের বিচারের আওতায় আনা এবং বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের রাজনৈতিক কর্মকান্ড বন্ধ রাখা।
জামায়াতের একটি সূত্র বলছে, ১০ লাখ লোক সমাবেত করে দাবিগুলো জোরালো কণ্ঠে সরকারের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি ইসলামপন্থীদের একটি সোজাপথ অনুসরণের উদাহরণ তৈরি হতে পারে বরিশাল বেলসপার্ক। তবে এই সমাবেশে ১০ লাখ বা তার বেশি লোক সমাবেত হলেও বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরির কোনো সুযোগ নেই। বরং দলটির নেতাকর্মীরা বলছেন, দেশের রাজনীতিতে বরিশাল থেকে নতুন অধ্যায় তৈরি করতে যাচ্ছে ইসলাম ভিত্তিক ৮টি দল।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলালের কণ্ঠেও এমনটা আভাস পাওয়া গেছে। এই নেতা বলেন, বরিশালে ২ ডিসেম্বরের সমাবেশে নতুন ইতিহাস রচিত হবে। ১০ লাখ মানুষের সমাগমে সমাবেশস্থল জনসমুদ্রে রূপ নেবে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, সমাবেশে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন ৩০০জন স্বেচ্ছাসেবক। এছাড়াও আগত মুসল্লীদের জন্য সেনিটেশন ও অজুর ব্যবস্থা থাকবে। গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ মাঠ, পরেশ সাগর মাঠ, সিএন্ডবি রোড, আমতলা পানির ট্যাংকি এরিয়া, হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ, ক্লাব রোড। নৌ-পার্কিংয়ের জন্য বরিশাল লঞ্চঘাট, ডিসিঘাট ও চাঁদমারী খেয়াঘাট নির্ধারন করা হয়েছে।
আট দলের সমাবেশকে ঘিরে নগরী নিরাপদ রাখতে বরিশাল মেট্রোপলিটন এবং জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও ব্যাপক ব্যবস্থাগ্রহণ করা হয়েছে। বরিশাল পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বরিশালটাইমসকে জানিয়েছেন, সমাবেশকে ঘিরে তাদের কয়েকস্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি রয়েছে। পাশাপাশি আয়োজকেরাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে।
ইসলামপন্থীদের সমাবেশ আয়োজন এবং প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে বরিশালে এক ভিন্ন পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সমাবেশস্থল বেলসপার্ক মাঠে একদিন আগেই সোমবার সন্ধ্যা থেকে দলগুলোর কর্মী-অনুসারীদের আগমনে উৎসবমুখরতা তৈরি হয়। মঙ্গলবার আটটি দলের নেতারা এই সমাবেশ থেকে কর্মীদের উদ্দেশে কি বার্তা দেবেন তা নিয়ে বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানান আলোচনা হচ্ছে। তবে একটি প্রসঙ্গ আলোচনা খুব গুরুত্ব পেয়েছে, সেটি হচ্ছে এই সমাবেশ থেকে বরিশালের ২১ আসনে তাদের সমর্থিত একক প্রার্থীর নাম ঘোষণা হওয়ার বিষয়টি শোনা যাচ্ছে।’
প্রথমবারের মতো বরিশালে সমাবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামসহ ইসলামপন্থী আটটি দল। শহরের বেলসপার্ক মাঠে মঙ্গলবারের (২ ডিসেম্বর) এই সমাবেশকে ঘিরে ব্যাপক আয়োজন করা হয়েছে। গত তিনদিন ধরে মঞ্চ তৈরি করা থেকে শুরু করে কর্মী-সমর্থকদের অবস্থান নেওয়ার জন্য বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। বিভাগীয় শহরের এই সমাবেশে ১০ লক্ষধিক মানুষের সমাগম ঘটবে বলে প্রত্যাশা করছেন বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন এবং জামায়াত ইসলামীসহ দলগুলোর শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব। এমনকি সমাবেশের একদিন আগে অর্থাৎ সোমবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেও ৮টি দলের নেতারা বিপুলসংখ্যক লোক সমাবেত হওয়ার বিষয়টি ইঙ্গিত করেছেন।
বিভিন্ন মাধ্যম নিশ্চিত হওয়া গেছে, অতীতে ইসলামপন্থী দলগুলোর মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি থাকলেও গত বছরের জুলাই আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে একত্রিত হয়ে ঝাপিয়ে পড়ে। ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে একই বছরের ৫ আগস্ট সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগে বাধ্য হলে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ঐক্য ধরে রাখতে কৌশল নেয়। শোনা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে এই আটটি দল মোর্চা গঠন করার ব্যাপক সম্ভবনা রয়েছে, যার প্রাকপ্রস্তুতি শুরু করেছে বরিশালে বিভাগীয় সমাবেশের মধ্যে দিয়ে।
শহরের বান্দরোডস্থ ঐতিহ্যবাহী বেলসপার্ক মাঠে মঙ্গলবারের এই সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) দক্ষিণাঞ্চলের ২১ টি সংসদীয় আসন থেকে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে আসতে চাইছে। পাশাপাশি মাদারীপুর, ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকেও কর্মী-অনুসারীরা আসছেন।
সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনের আগেই জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়াসহ ৫ দফার স্বপক্ষে আটটি ইসলামিক দল একত্রিত হওয়া রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করবে। বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপিসহ অপরাপর রাজনৈতিক দলগুলো তার প্রভাব কিছুটা আচ করতে পারছে।
রাজনৈতিক কুশীলবদের মতে, ইসলাম ভিত্তিক আটটি দল বরিশালে সমাবেশ করে ব্যাপক লোকসমাগম ঘটিয়ে রাজনীতিতে আলোচনায় থাকতে চাইছে। এবং বিভাগীয় শহর বরিশালে তাদের শক্তপোক্ত অবস্থান থাকার বিষয়টিও রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে তুলে ধরতে চায়।
সমাবেশকে ঘিরে সর্বশেষ বরিশালে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জামায়াত ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনসহ উল্লেখিত আটটি দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব। সোমবার অপরাহ্নে বরিশাল শহরের একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তাদের ৫ দফা তুলে ধরাসহ ২ ডিসেম্বর বেলসপার্কের সমাবেশকে জনসমুদ্রে রূপ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
৮ দলের প্রতিনিধিরা জানান, মঙ্গলবার বিভাগীয় সমাবেশে ১০ লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মানুষের সমাগম ঘটবে এবং এর মাধ্যমে ইসলামিক দলগুলোর মধ্যে দুরত্ব কমে আসবে। আয়োজিত এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম পির সাহেব চরমোনাই। এবং সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।
সূত্রে জানা গেছে, সমাবেশে উল্লেখিত আটটি দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখবেন এবং আগামীতে নিজেদের মধ্যেকার বিরোধ ভুলে কি ভাবে এক কাতারে আসা যায় তা নিয়ে মতামত তুলে ধরবেন। এই তথ্য অস্বীকার না করলেও দলগুলোর নেতাকর্মীরা বলছেন, জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন, উন্নত নৈতিকতাসমৃদ্ধ সমাজ প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি-দুঃশাসন প্রতিরোধ এবং সর্বশ্রেণির মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষে জনগণকে সচেতন ও সম্পৃক্ত করতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
জানা গেছে, আট দলের ৫ দফার মধ্যে আছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আদেশ জারি। আদেশের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোট অনুষ্ঠান। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন ও সকল পর্যায়ে লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি। জুলাই গণঅভ্যুত্থান, শাপলা ট্রাজিডি ও বিডিআর গণহত্যায় সংশ্লিষ্ট সকল মানবতাবিরোধী অপরাধীর বিচার। জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলের সকল ফ্যাসিবাদের দোসর ও সহযোগিদের বিচারের আওতায় আনা এবং বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের রাজনৈতিক কর্মকান্ড বন্ধ রাখা।
জামায়াতের একটি সূত্র বলছে, ১০ লাখ লোক সমাবেত করে দাবিগুলো জোরালো কণ্ঠে সরকারের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি ইসলামপন্থীদের একটি সোজাপথ অনুসরণের উদাহরণ তৈরি হতে পারে বরিশাল বেলসপার্ক। তবে এই সমাবেশে ১০ লাখ বা তার বেশি লোক সমাবেত হলেও বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরির কোনো সুযোগ নেই। বরং দলটির নেতাকর্মীরা বলছেন, দেশের রাজনীতিতে বরিশাল থেকে নতুন অধ্যায় তৈরি করতে যাচ্ছে ইসলাম ভিত্তিক ৮টি দল।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলালের কণ্ঠেও এমনটা আভাস পাওয়া গেছে। এই নেতা বলেন, বরিশালে ২ ডিসেম্বরের সমাবেশে নতুন ইতিহাস রচিত হবে। ১০ লাখ মানুষের সমাগমে সমাবেশস্থল জনসমুদ্রে রূপ নেবে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, সমাবেশে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন ৩০০জন স্বেচ্ছাসেবক। এছাড়াও আগত মুসল্লীদের জন্য সেনিটেশন ও অজুর ব্যবস্থা থাকবে। গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ মাঠ, পরেশ সাগর মাঠ, সিএন্ডবি রোড, আমতলা পানির ট্যাংকি এরিয়া, হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ, ক্লাব রোড। নৌ-পার্কিংয়ের জন্য বরিশাল লঞ্চঘাট, ডিসিঘাট ও চাঁদমারী খেয়াঘাট নির্ধারন করা হয়েছে।
আট দলের সমাবেশকে ঘিরে নগরী নিরাপদ রাখতে বরিশাল মেট্রোপলিটন এবং জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও ব্যাপক ব্যবস্থাগ্রহণ করা হয়েছে। বরিশাল পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বরিশালটাইমসকে জানিয়েছেন, সমাবেশকে ঘিরে তাদের কয়েকস্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি রয়েছে। পাশাপাশি আয়োজকেরাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে।
ইসলামপন্থীদের সমাবেশ আয়োজন এবং প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে বরিশালে এক ভিন্ন পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সমাবেশস্থল বেলসপার্ক মাঠে একদিন আগেই সোমবার সন্ধ্যা থেকে দলগুলোর কর্মী-অনুসারীদের আগমনে উৎসবমুখরতা তৈরি হয়। মঙ্গলবার আটটি দলের নেতারা এই সমাবেশ থেকে কর্মীদের উদ্দেশে কি বার্তা দেবেন তা নিয়ে বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানান আলোচনা হচ্ছে। তবে একটি প্রসঙ্গ আলোচনা খুব গুরুত্ব পেয়েছে, সেটি হচ্ছে এই সমাবেশ থেকে বরিশালের ২১ আসনে তাদের সমর্থিত একক প্রার্থীর নাম ঘোষণা হওয়ার বিষয়টি শোনা যাচ্ছে।’

১২ মার্চ, ২০২৬ ১৯:২৭

১২ মার্চ, ২০২৬ ১৮:১৯
বরিশালের বাকেরগঞ্জে ট্রাক ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অটোরিকশায় থাকা আরও ১ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বরিশাল পটুয়াখালী মহাসড়কের গোলদার বাড়ি নামক স্থানে সকাল ৯ টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশা বাকেরগঞ্জ থেকে দাদুরহাট যাওয়ার পথে বিপরীত দিক পটুয়াখালী থেকে আসা একটি দ্রুতগামী তরমুজবাহী ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে পড়ে। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
এ সময় গুরুতর আহত অবস্থায় অটোরিকশাচালক হিরণ গাজী ও অটোরিক্সার যাত্রী দুইজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অটোচালক হিরণ গাজী নিহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করেন।

১২ মার্চ, ২০২৬ ১৬:৩৬
ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি তেল সরবরাহ চাইছেন মালিকরা। এ জন্য ডিপোগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে নৌপরিবহন মন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছে তারা। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল সংস্থার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট মো. বদিউজ্জামান বাদল সম্প্রতি নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে এ চিঠি পাঠান।
চিঠিতে বলা হয়, ঢাকা নদী বন্দর থেকে ৩৮টি নৌপথে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১৪০টির মতো লঞ্চ পরিচালিত হবে। বর্তমানে ৬০-৭০টি লঞ্চ চলাচল করছে। যার মধ্যে ঢাকা-বরিশাল নৌপথে পাঁচটি, প্রতিটি লঞ্চে গড়ে ৭ হাজার লিটার; পটুয়াখালীতে পাঁচটি, প্রতিটি লঞ্চে গড়ে ৬ হাজার লিটার; বেতুয়া রুটে তিনটি, প্রতিটি লঞ্চে গড়ে ৬ হাজার লিটার তেল লাগে। এমনিভাবে ৩৮টি নৌপথের জন্য গড়ে প্রতিদিন ২ লাখ ৫০ হাজার লিটার জ্বালানিতেলের প্রয়োজন হয়।
এতে বলা হয়, সম্প্রতি ঢাকা নদী বন্দরে লঞ্চে তেল সরবরাহকারী মিনি ওয়েল ট্যাংকার মালিকদের পক্ষ থেকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অবস্থিত পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ডিপো থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল সরবরাহ করছে না বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের গোদলাইন, ভৈরব, নরসিংদী, আরিচা, বরিশাল ও চাঁদপুরে অবস্থিত ডিপোগুলোও পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল সরবরাহ করছে না বলে লঞ্চ মালিকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ অবস্থায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যাত্রী সাধারণের যাতায়াতের সুবিধার্থে এবং যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোতে পর্যাপ্ত জ্বালানিতেল সরবরাহের জন্য ডিপোগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে নৌমন্ত্রীকে অনুরোধ জানানো হয় চিঠিতে।’
মাঠ কাঁপানো খ্যাতনামা ফুটবলার, সেনা কর্মকর্তা, ৭১'র রণাঙ্গনের খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর পর এবার স্পিকারের পদ অলঙ্কৃত করলেন বৃহত্তর বরিশালের কৃতি সন্তান (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য এবং ভোলা–৩ আসনের সাতবারের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টায় অধিবেশন শুরু হলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে স্পিকার হিসেবে শপথ করান। এই শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে দুপুর ১২টার পর সম্পন্ন হয়।
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বর্তমানে নতুন সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
ব্যক্তিগত জীবন ও শিক্ষা:
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের জন্ম ১৯৪৪ সালের ২৯ অক্টোবর ভোলার লালমোহনে। তার পিতা মরহুম ডা. আজহার উদ্দিন আহমদ ছিলেন পাকিস্তান জাতীয় সংসদের সাবেক সদস্য, এবং মা মরহুমা করিমুন নেছা বেগম গৃহিণী ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ১৯৬৪ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৬৫ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১ ডিসেম্বর ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হন এবং ১৯৭৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অবসর গ্রহণ করেন।
মুক্তিযুদ্ধ ও সামরিক জীবন
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য তিনি বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বীর বিক্রম পান। ৩১ জুলাই ১৯৭১, তিনি ১ম ইস্ট বেঙ্গলের কামালপুর বিওপি আক্রমণে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে আহত হন।
৩০ মার্চ ১৯৭১, যশোর ক্যান্টনমেন্টে তিনি তরুণ অফিসার হিসেবে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন এবং আট ঘণ্টাব্যাপী সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। পরে যশোর-খুলনা অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধকে সংগঠিত করেন এবং বেনাপোল অঞ্চলে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে একাধিক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিনি ১ম ইস্ট বেঙ্গল ব্যাটালিয়নের একমাত্র কমান্ডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১, মেজর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে সিলেট দখলের সময়ে তাঁর নেতৃত্বে ‘বি’ কোম্পানি পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করে।
রাজনৈতিক জীবন;
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ভোলা-৩ (লালমোহন ও তজমুদ্দিন) আসন থেকে সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন (৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম ও ১৩তম সংসদ)। ১৯৯১ সালে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদে জয়ী হন এবং ১৯৯২ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯৬ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধিন দ্বিতীয় সরকারের তিনি বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী এবং ২০০১-০৬ সালে তৃতীয় সরকারের পানিসম্পদ, বাণিজ্য ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধিন নতুন সরকারের তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালণ করছেন।
ক্রীড়াজীবন;
তিনি ছিলেন খ্যাতনামা ফুটবলার। ১৯৬৭-১৯৭১ সালে পাকিস্তান জাতীয় দলের সদস্য হিসেবে ইরান, তুরস্ক ও বার্মা (বর্তমান মিয়ানমার) সফর করেন। ১৯৭০ সালে তেহরানে অনুষ্ঠিত আরসিডি প্রতিযোগিতায় তিনি জাতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন। ২০০৫ সালে ফিফা তাকে বিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশের সেরা ফুটবলার হিসেবে সেন্টেনারি অর্ডার অব মেরিট সম্মাননা প্রদান করে। তিনি ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং দলের সদস্য হিসেবে ১২ বছর খেলেছেন এবং ১৯৭৬ সালে দলের অধিনায়কের দায়িত্বও পালন করেন। এছাড়া ১৯৬৪-৬৬ সালে প্রাদেশিক প্রতিযোগিতায় ১০০ ও ২০০ মিটার দৌড়ে পূর্ব পাকিস্তানের দ্রুততম মানবের খেতাব লাভ করেন।
পারিবারিক জীবন:
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের স্ত্রী দিলারা হাফিজ ছিলেন শিক্ষকতা পেশায় নিযুক্ত এবং ইডেন মহিলা কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা দপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে অবসর নেন। তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে—শাহরুখ হাফিজ, শামামা শাহরীন হাফিজ এবং তাহারাত হাফিজ।
মাঠ কাঁপানো খ্যাতনামা ফুটবলার, সেনা কর্মকর্তা, ৭১'র রণাঙ্গনের খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর পর এবার স্পিকারের পদ অলঙ্কৃত করলেন বৃহত্তর বরিশালের কৃতি সন্তান (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য এবং ভোলা–৩ আসনের সাতবারের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টায় অধিবেশন শুরু হলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে স্পিকার হিসেবে শপথ করান। এই শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে দুপুর ১২টার পর সম্পন্ন হয়।
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বর্তমানে নতুন সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
ব্যক্তিগত জীবন ও শিক্ষা:
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের জন্ম ১৯৪৪ সালের ২৯ অক্টোবর ভোলার লালমোহনে। তার পিতা মরহুম ডা. আজহার উদ্দিন আহমদ ছিলেন পাকিস্তান জাতীয় সংসদের সাবেক সদস্য, এবং মা মরহুমা করিমুন নেছা বেগম গৃহিণী ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ১৯৬৪ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৬৫ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১ ডিসেম্বর ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হন এবং ১৯৭৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অবসর গ্রহণ করেন।
মুক্তিযুদ্ধ ও সামরিক জীবন
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য তিনি বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বীর বিক্রম পান। ৩১ জুলাই ১৯৭১, তিনি ১ম ইস্ট বেঙ্গলের কামালপুর বিওপি আক্রমণে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে আহত হন।
৩০ মার্চ ১৯৭১, যশোর ক্যান্টনমেন্টে তিনি তরুণ অফিসার হিসেবে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন এবং আট ঘণ্টাব্যাপী সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। পরে যশোর-খুলনা অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধকে সংগঠিত করেন এবং বেনাপোল অঞ্চলে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে একাধিক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিনি ১ম ইস্ট বেঙ্গল ব্যাটালিয়নের একমাত্র কমান্ডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১, মেজর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে সিলেট দখলের সময়ে তাঁর নেতৃত্বে ‘বি’ কোম্পানি পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করে।
রাজনৈতিক জীবন;
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ভোলা-৩ (লালমোহন ও তজমুদ্দিন) আসন থেকে সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন (৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম ও ১৩তম সংসদ)। ১৯৯১ সালে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদে জয়ী হন এবং ১৯৯২ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯৬ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধিন দ্বিতীয় সরকারের তিনি বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী এবং ২০০১-০৬ সালে তৃতীয় সরকারের পানিসম্পদ, বাণিজ্য ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধিন নতুন সরকারের তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালণ করছেন।
ক্রীড়াজীবন;
তিনি ছিলেন খ্যাতনামা ফুটবলার। ১৯৬৭-১৯৭১ সালে পাকিস্তান জাতীয় দলের সদস্য হিসেবে ইরান, তুরস্ক ও বার্মা (বর্তমান মিয়ানমার) সফর করেন। ১৯৭০ সালে তেহরানে অনুষ্ঠিত আরসিডি প্রতিযোগিতায় তিনি জাতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন। ২০০৫ সালে ফিফা তাকে বিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশের সেরা ফুটবলার হিসেবে সেন্টেনারি অর্ডার অব মেরিট সম্মাননা প্রদান করে। তিনি ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং দলের সদস্য হিসেবে ১২ বছর খেলেছেন এবং ১৯৭৬ সালে দলের অধিনায়কের দায়িত্বও পালন করেন। এছাড়া ১৯৬৪-৬৬ সালে প্রাদেশিক প্রতিযোগিতায় ১০০ ও ২০০ মিটার দৌড়ে পূর্ব পাকিস্তানের দ্রুততম মানবের খেতাব লাভ করেন।
পারিবারিক জীবন:
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের স্ত্রী দিলারা হাফিজ ছিলেন শিক্ষকতা পেশায় নিযুক্ত এবং ইডেন মহিলা কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা দপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে অবসর নেন। তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে—শাহরুখ হাফিজ, শামামা শাহরীন হাফিজ এবং তাহারাত হাফিজ।
বরিশালের বাকেরগঞ্জে ট্রাক ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অটোরিকশায় থাকা আরও ১ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বরিশাল পটুয়াখালী মহাসড়কের গোলদার বাড়ি নামক স্থানে সকাল ৯ টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশা বাকেরগঞ্জ থেকে দাদুরহাট যাওয়ার পথে বিপরীত দিক পটুয়াখালী থেকে আসা একটি দ্রুতগামী তরমুজবাহী ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে পড়ে। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
এ সময় গুরুতর আহত অবস্থায় অটোরিকশাচালক হিরণ গাজী ও অটোরিক্সার যাত্রী দুইজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অটোচালক হিরণ গাজী নিহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করেন।
ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি তেল সরবরাহ চাইছেন মালিকরা। এ জন্য ডিপোগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে নৌপরিবহন মন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছে তারা। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল সংস্থার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট মো. বদিউজ্জামান বাদল সম্প্রতি নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে এ চিঠি পাঠান।
চিঠিতে বলা হয়, ঢাকা নদী বন্দর থেকে ৩৮টি নৌপথে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১৪০টির মতো লঞ্চ পরিচালিত হবে। বর্তমানে ৬০-৭০টি লঞ্চ চলাচল করছে। যার মধ্যে ঢাকা-বরিশাল নৌপথে পাঁচটি, প্রতিটি লঞ্চে গড়ে ৭ হাজার লিটার; পটুয়াখালীতে পাঁচটি, প্রতিটি লঞ্চে গড়ে ৬ হাজার লিটার; বেতুয়া রুটে তিনটি, প্রতিটি লঞ্চে গড়ে ৬ হাজার লিটার তেল লাগে। এমনিভাবে ৩৮টি নৌপথের জন্য গড়ে প্রতিদিন ২ লাখ ৫০ হাজার লিটার জ্বালানিতেলের প্রয়োজন হয়।
এতে বলা হয়, সম্প্রতি ঢাকা নদী বন্দরে লঞ্চে তেল সরবরাহকারী মিনি ওয়েল ট্যাংকার মালিকদের পক্ষ থেকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অবস্থিত পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ডিপো থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল সরবরাহ করছে না বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের গোদলাইন, ভৈরব, নরসিংদী, আরিচা, বরিশাল ও চাঁদপুরে অবস্থিত ডিপোগুলোও পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল সরবরাহ করছে না বলে লঞ্চ মালিকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ অবস্থায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যাত্রী সাধারণের যাতায়াতের সুবিধার্থে এবং যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোতে পর্যাপ্ত জ্বালানিতেল সরবরাহের জন্য ডিপোগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে নৌমন্ত্রীকে অনুরোধ জানানো হয় চিঠিতে।’
১২ মার্চ, ২০২৬ ২০:৫৩
১২ মার্চ, ২০২৬ ২০:২৫
১২ মার্চ, ২০২৬ ২০:০৩
১২ মার্চ, ২০২৬ ২০:০১