নেতৃত্বসারির নেতাদের সাথে আপসরফার গুঞ্জন, বিএনপির তৃণমূলে বাড়ছে ক্ষোভ।
বহু অঘটন পটিয়াসি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী গ্রেপ্তার এবং জনরোষের ভয়ে এলাকা ত্যাগ করলেও হঠাৎ করে তারা ফিরতে শুরু করেছেন। তাদের নামে জুলাই আন্দোলনের একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও তারা প্রকাশ্যে ঘুরছেন এবং গাড়িযোগে এলাকায় মহড়া দিচ্ছেন। এনিয়ে জুলাই আন্দোলনকারীদের ভেতরকার প্রচন্ড ক্ষোভ আছে এবং আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনে খোদ বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বকে দোষারোপ করা হচ্ছে। বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন লিটন লিটন মোল্লা শুক্রবার রাতে কোনো এক সময় গড়িয়ারপাড় এলাকায় গাড়ি নিয়ে কর্মী-সমর্থকসমেত মহড়া দেন এবং এর বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছড়িয়ে পড়লে বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল বিতর্ক দেখা দেয়। একাধিক মামলার আসামি হয়েও কাশিপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান লিটন মোল্লা কি ভাবে এলাকায় প্রকাশ্যে মহড়া দিলেন তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানববন্দর থানা পুলিশকেও বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতার মহড়ার বিষয়ে বিমানবন্দর থানা পুলিশ মিডিয়ায় দায়সাড়া বক্তব্য রাখলেও ইউনিয়নের তৃণমূল বিএনপিতে ক্ষোভ চরমাকারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের পদধারী একাধিক নেতা গত ১৬ বছর গোটা বরিশাল শহর দাপিয়ে বেরিয়েছেন এবং দলীয় ব্যানারে বিভিন্ন অপকর্ম করা ও বিএনপি-জামায়াতসহ সাধারণ মানুষকে নিপিড়ন করে বিতর্কের শীর্ষ আছেন তারা একাধিক মামলায় অভিযুক্ত হয়ে প্রকাশ্যে ঘুরছেন। এনিয়ে তৃণমূল বিএনপিতে ক্ষোভ থাকলেও নেতৃত্বসারির নেতাদের রহস্যজনক নিরবতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অভিযোগ আছে, সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশও স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ইস্যুতে এক ধরনের নমনীয়তা দেখাচ্ছেন। বিতর্কিত আওয়ামী লীগ নেতা কাশিপুরের চেয়ারম্যান লিটন মোল্লার ক্ষেত্রে পুলিশকে একটু বেশিমাত্রায় উদাসীন দেখা যাচ্ছে।
বিগত সময়ে মামলা-হামলার শিকার তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীর অভিযোগ, বরিশাল শহরের উত্তর-পশ্চিম গড়িয়ারপাড় এলাকায় লিটন মোল্লা এবং তার ভাই কালাম মোল্লা গত ১৭ বছর এক ধরনের শাসন-শোষণ করেছেন। তাদের ভুমিদস্যুতা-চাঁদাবাজি এবং অপকর্মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে বহু মানুষ হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। কিন্তু তাদের ক্ষমতার প্রভাবের কাছে কেউ মুখ খোলার সাহস দেখাননি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন হলে তারা দুই ভাইসহ বাহিনীর অপরাপর সদস্যরা জনরোষ এবং গ্রেপ্তার এড়াতে কিছুদিনের জন্য অন্তর্ধানে চলে যান। কিন্তু তারা পলাতক থাকলেও সরকারকে বিপদে ফেলতে বিভিন্ন মাধ্যম তৎপরতা অব্যাহত রাখেন।
বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, আলোচিত সন্ত্রাসী লিটনের ভাই বরিশাল সিটির ৩০ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর কালাম মোল্লা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় বলয়ের মধ্যে সন্ত্রাসীদের নিয়ে মশালমিছিল করে নিজের শক্তি জানান দিয়েছেন। সেই ঘটনায় পুলিশ-প্রশাসন কজনকে গ্রেপ্তার করলেও কালাম মোল্লা এখনও পলাতক আছেন। এবার দীর্ঘ ১৮ মাস পরে প্রকাশ্যে মহড়া দিয়ে আলোচনায় এসেছেন তারই আপন ভাই কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লিটন মোল্লা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শুক্রবার ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে লিটন মোল্লা একটি প্রাইভেটকারযোগে গড়িয়ারপাড়ে আসেন। এবং তার সাথে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি গ্রুপও ছিল। তারা বেশ কিছুক্ষণ ৩০ নং ওয়ার্ডের গড়িয়ারপাড়ে অবস্থান নিয়ে ছিলেন এবং কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বিশেষ দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্যও রাখেন। এসময় সেখানে এক উত্তেজনাকর পরিবেশ-পরিস্থিতি তৈরি হয়, যার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
আলোচিত সন্ত্রাসী লিটন মোল্লার এলাকায় উপস্থিতি সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবগত না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও তৃণমূল বিএনপি অভিযোগ করেছে, আলোচিত জল কাদের মোল্লার তিন সন্তান কালাম মোল্লা, লিটন মোল্লা এবং মুন্না মোল্লা সকলেই অতীতে আওয়ামী লীগ শাসনামলে বহুমুখী সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন। এবং জুলাই আন্দোলনে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও হয়। এরপরে গণরোষ এবং পুলিশী হয়রানি এড়াতে তারা কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও ধীরে ধীরে বিএনপির নেতৃত্বসারির নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলতে সক্ষম হন। শোনা যাচ্ছে, ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে তারা থানা পুলিশের সাথেও আপসরফা করেছেন, এই কারণে থানাসংলগ্ন তাদের বাসা হওয়া সত্ত্বেও পুলিশকে সেখানে অভিযান চালাতে দেখা যাচ্ছে না।
অবশ্য প্রতাপশালী এই পরিবারের সাথে যে বিমানবন্দর থানা পুলিশের ওসি মিজানুর রহমানের যোগাযোগের বিষয়টি শোনা যায়, তাও অমুলক বলছে না স্থানীয় বিএনপি কর্মীরা। কাশিপুর এলাকার বাসিন্দা বিএনপি কর্মী আবির আহমেদ রূপালী বাংলাদেশের কাছে অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে তাদের তিন ভাইয়ের সন্ত্রাসের ভয়ংকর রূপ কাশিপুর-বাবুগঞ্জসহ আশপাশের মানুষ কিছুটা হলেও দেখেছে। দেশের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে তারা একাধিক মামলায় অভিযুক্ত হয়েও সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে মহড়া দিচ্ছে, যা আতঙ্ক-উদ্বেগের বটে।
আওয়ামী লীগের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের এমন প্রত্যার্বতনে বিএনপির কর্মীরা তাদের দলের ইউনিয়ন পর্যায়ে নেতৃত্বসারির নেতাদের দোষারোপ করেছেন। অনেকে বলছেন, নেতারা টাকার কাছে ম্যানেজ হয়ে গেছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, লোকবল এবং অর্থ দুটিতেই আওয়ামী লীগের নেতারা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী। ফলে তাদের সাথে ঝামেলা না করে বিএনপি নেতারা সমঝোতা বা আপসরফার পথ বেচে নিচ্ছেন।
তবে লিটন মোল্লা বা কোনো কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা এলাকায় মহড়া দেওয়ার বিষয়ে তেমন কিছু জানা নেই বলে দাবি করেছেন কাশিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ন কবির ওয়াসিম। তার সাথে আপসরফার বিষয়টি অস্বীকার করে বলছেন, লিটন বা কালামের নামে একাধিক মামলা আছে, পুলিশ ইচ্ছা করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে।
তাহলে কি পুলিশের নির্লুপ্তায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বাহিনী নিয়ে মহড়া দেওয়ার সাহস বা শক্তি প্রদর্শন করছেন- এমন প্রশ্নে উত্তরে ওয়াসিম বলেন, এই বিষয়ে তারাই ভালো বলতে পারেন।
পুলিশের সাথে লিটন মোল্লার সখ্যতার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, লিটন মোল্লা শুক্রবার রাতে গাড়িযোগে গড়িয়ারপাড়ে এসেছিলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি এর আগেই স্থান ত্যাগ করায় তাকে আর আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।
বিভিন্ন সূত্রে অভিযোগ, লিটন মোল্লা নির্বাচনের পর থেকে এলাকায় ঘুরছেন এবং বাসায় রাত্রিযাপন করেন? এই প্রশ্নে ওসি মিজানুর রহমান রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারে কাজ করছে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, নিষিদ্ধ কোনো গোষ্ঠীকে সক্রিয় হতে দেওয়ার সুযোগ নেই। মাঠপুলিশকে এমন নির্দেশনা দেওয়া আছে। এক্ষেত্রে কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বা সদস্যর যদি গাফলতি দেখা যায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।’

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০৩
পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনার অবকাঠামোগত সক্ষমতা আরো বাড়াতে, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) বন্দর থানা ভবন (মেট্রো টাইপ-১) নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বন্দর থানা ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মঞ্জুর, এমপি।
এ সময় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্সহ বরিশাল পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এবং বিএমপি কমিশনার বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা থানার সার্বিক কার্যক্রম ও বিদ্যমান অবকাঠামোগত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
নতুন থানা ভবন নির্মাণের মাধ্যমে বন্দর থানার প্রশাসনিক কার্যক্রম বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনার অবকাঠামোগত সক্ষমতা আরো বাড়াতে, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) বন্দর থানা ভবন (মেট্রো টাইপ-১) নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বন্দর থানা ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মঞ্জুর, এমপি।
এ সময় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্সহ বরিশাল পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এবং বিএমপি কমিশনার বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা থানার সার্বিক কার্যক্রম ও বিদ্যমান অবকাঠামোগত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
নতুন থানা ভবন নির্মাণের মাধ্যমে বন্দর থানার প্রশাসনিক কার্যক্রম বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:০৯
বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর। তিনি বলেন, ‘অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে।’
আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল নগরের বন্দর থানা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্সে আছি। বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো কাজে যাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধেও সরকারের অবস্থান কঠোর।’
মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইতোমধ্যে পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলায় সভা হয়েছে জানিয়ে আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সভা করা হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
পরে প্রতিমন্ত্রী বরিশাল বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।’
বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর। তিনি বলেন, ‘অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে।’
আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল নগরের বন্দর থানা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্সে আছি। বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো কাজে যাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধেও সরকারের অবস্থান কঠোর।’
মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইতোমধ্যে পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলায় সভা হয়েছে জানিয়ে আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সভা করা হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
পরে প্রতিমন্ত্রী বরিশাল বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।’

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:২৫
বরিশালের উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তার সরকারি উন্নয়ন কাজের তদারকিতে গাফেলতিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত ও বিচারের দাবিতে উজিরপুর উপজেলার ধামুরা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রব হাওলাদারের ছেলে মো. মাছুম হাওলাদার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এ লিখিত আভিযোগ দিয়েছেন।
এতে তিনি আভিযোগ করেন উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় উজিরপুরে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থেকে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি সংক্রান্ত অপকর্মের সাথে জড়িত হয়ে পড়েছেন। তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারসহ বিভিন্ন কাজে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজসে সরকারের অর্থের অপচয়সহ নানা দুর্নীতি মূলক কর্মকান্ডের সাথে লিপ্ত রয়েছেন। যা তদন্ত করলেই প্রমান মিলবে। ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার সেগুন বাগিচাস্থ দুদকের প্রধান কর্য্যলয়ে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগটি করা হয়।
অভিযোগকারী মাছুম হাওলাদার বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দাপটের সাথে চাকুরি করা সুব্রত রায় তার তদারকিতে থাকা বিভিন্ন সড়ক, ব্রিজ ও কালর্ভাট নির্মাণে ঠিকাদারদের ব্যাপক অনিয়মকে অর্থের বিনিময়ে সহয়াতা করেন ।
বর্তমান সরকারের আমলেও তিনি উজিরপুরে একই ভাবে চাকুরি করছেন। তার কারনে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হচ্ছে। যা দুর্নীতির শামিল। উপজেলার ধামুরা এলাকার বেশ কয়েকটি ব্রিজের পুরাতন মালপত্র নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তার তদারকিতে থাকা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এসব অভিযোগ সত্য নয়, ভিত্তিহীন দাবি করে উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেন, উপজেলার ধামুরা এলাকায়।নির্মিত একটি ব্রিজের সম্প্রতি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে গেলে কিছু সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে মাছুম হাওলাদার কাজে বাধা দেন। কাগজপত্রে দেখা যায় ওটা খাস সম্পত্তি।
তারপরেও বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই অংশের কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়। ব্রিজের সংযোগ সড়কের এ সম্পত্তি নিয়ে ক্ষিপ্ত মাছুম হাওলাদার তাকে হয়রাণি ও তার পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুদকে এ অভিযোগ দিয়েছেন।’
বরিশালের উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তার সরকারি উন্নয়ন কাজের তদারকিতে গাফেলতিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত ও বিচারের দাবিতে উজিরপুর উপজেলার ধামুরা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রব হাওলাদারের ছেলে মো. মাছুম হাওলাদার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এ লিখিত আভিযোগ দিয়েছেন।
এতে তিনি আভিযোগ করেন উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় উজিরপুরে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থেকে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি সংক্রান্ত অপকর্মের সাথে জড়িত হয়ে পড়েছেন। তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারসহ বিভিন্ন কাজে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজসে সরকারের অর্থের অপচয়সহ নানা দুর্নীতি মূলক কর্মকান্ডের সাথে লিপ্ত রয়েছেন। যা তদন্ত করলেই প্রমান মিলবে। ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার সেগুন বাগিচাস্থ দুদকের প্রধান কর্য্যলয়ে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগটি করা হয়।
অভিযোগকারী মাছুম হাওলাদার বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দাপটের সাথে চাকুরি করা সুব্রত রায় তার তদারকিতে থাকা বিভিন্ন সড়ক, ব্রিজ ও কালর্ভাট নির্মাণে ঠিকাদারদের ব্যাপক অনিয়মকে অর্থের বিনিময়ে সহয়াতা করেন ।
বর্তমান সরকারের আমলেও তিনি উজিরপুরে একই ভাবে চাকুরি করছেন। তার কারনে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হচ্ছে। যা দুর্নীতির শামিল। উপজেলার ধামুরা এলাকার বেশ কয়েকটি ব্রিজের পুরাতন মালপত্র নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তার তদারকিতে থাকা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এসব অভিযোগ সত্য নয়, ভিত্তিহীন দাবি করে উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেন, উপজেলার ধামুরা এলাকায়।নির্মিত একটি ব্রিজের সম্প্রতি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে গেলে কিছু সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে মাছুম হাওলাদার কাজে বাধা দেন। কাগজপত্রে দেখা যায় ওটা খাস সম্পত্তি।
তারপরেও বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই অংশের কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়। ব্রিজের সংযোগ সড়কের এ সম্পত্তি নিয়ে ক্ষিপ্ত মাছুম হাওলাদার তাকে হয়রাণি ও তার পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুদকে এ অভিযোগ দিয়েছেন।’

০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:৩৯
নেতৃত্বসারির নেতাদের সাথে আপসরফার গুঞ্জন, বিএনপির তৃণমূলে বাড়ছে ক্ষোভ।
বহু অঘটন পটিয়াসি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী গ্রেপ্তার এবং জনরোষের ভয়ে এলাকা ত্যাগ করলেও হঠাৎ করে তারা ফিরতে শুরু করেছেন। তাদের নামে জুলাই আন্দোলনের একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও তারা প্রকাশ্যে ঘুরছেন এবং গাড়িযোগে এলাকায় মহড়া দিচ্ছেন। এনিয়ে জুলাই আন্দোলনকারীদের ভেতরকার প্রচন্ড ক্ষোভ আছে এবং আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনে খোদ বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বকে দোষারোপ করা হচ্ছে। বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন লিটন লিটন মোল্লা শুক্রবার রাতে কোনো এক সময় গড়িয়ারপাড় এলাকায় গাড়ি নিয়ে কর্মী-সমর্থকসমেত মহড়া দেন এবং এর বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছড়িয়ে পড়লে বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল বিতর্ক দেখা দেয়। একাধিক মামলার আসামি হয়েও কাশিপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান লিটন মোল্লা কি ভাবে এলাকায় প্রকাশ্যে মহড়া দিলেন তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানববন্দর থানা পুলিশকেও বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতার মহড়ার বিষয়ে বিমানবন্দর থানা পুলিশ মিডিয়ায় দায়সাড়া বক্তব্য রাখলেও ইউনিয়নের তৃণমূল বিএনপিতে ক্ষোভ চরমাকারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের পদধারী একাধিক নেতা গত ১৬ বছর গোটা বরিশাল শহর দাপিয়ে বেরিয়েছেন এবং দলীয় ব্যানারে বিভিন্ন অপকর্ম করা ও বিএনপি-জামায়াতসহ সাধারণ মানুষকে নিপিড়ন করে বিতর্কের শীর্ষ আছেন তারা একাধিক মামলায় অভিযুক্ত হয়ে প্রকাশ্যে ঘুরছেন। এনিয়ে তৃণমূল বিএনপিতে ক্ষোভ থাকলেও নেতৃত্বসারির নেতাদের রহস্যজনক নিরবতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অভিযোগ আছে, সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশও স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ইস্যুতে এক ধরনের নমনীয়তা দেখাচ্ছেন। বিতর্কিত আওয়ামী লীগ নেতা কাশিপুরের চেয়ারম্যান লিটন মোল্লার ক্ষেত্রে পুলিশকে একটু বেশিমাত্রায় উদাসীন দেখা যাচ্ছে।
বিগত সময়ে মামলা-হামলার শিকার তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীর অভিযোগ, বরিশাল শহরের উত্তর-পশ্চিম গড়িয়ারপাড় এলাকায় লিটন মোল্লা এবং তার ভাই কালাম মোল্লা গত ১৭ বছর এক ধরনের শাসন-শোষণ করেছেন। তাদের ভুমিদস্যুতা-চাঁদাবাজি এবং অপকর্মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে বহু মানুষ হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। কিন্তু তাদের ক্ষমতার প্রভাবের কাছে কেউ মুখ খোলার সাহস দেখাননি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন হলে তারা দুই ভাইসহ বাহিনীর অপরাপর সদস্যরা জনরোষ এবং গ্রেপ্তার এড়াতে কিছুদিনের জন্য অন্তর্ধানে চলে যান। কিন্তু তারা পলাতক থাকলেও সরকারকে বিপদে ফেলতে বিভিন্ন মাধ্যম তৎপরতা অব্যাহত রাখেন।
বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, আলোচিত সন্ত্রাসী লিটনের ভাই বরিশাল সিটির ৩০ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর কালাম মোল্লা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় বলয়ের মধ্যে সন্ত্রাসীদের নিয়ে মশালমিছিল করে নিজের শক্তি জানান দিয়েছেন। সেই ঘটনায় পুলিশ-প্রশাসন কজনকে গ্রেপ্তার করলেও কালাম মোল্লা এখনও পলাতক আছেন। এবার দীর্ঘ ১৮ মাস পরে প্রকাশ্যে মহড়া দিয়ে আলোচনায় এসেছেন তারই আপন ভাই কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লিটন মোল্লা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শুক্রবার ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে লিটন মোল্লা একটি প্রাইভেটকারযোগে গড়িয়ারপাড়ে আসেন। এবং তার সাথে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি গ্রুপও ছিল। তারা বেশ কিছুক্ষণ ৩০ নং ওয়ার্ডের গড়িয়ারপাড়ে অবস্থান নিয়ে ছিলেন এবং কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বিশেষ দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্যও রাখেন। এসময় সেখানে এক উত্তেজনাকর পরিবেশ-পরিস্থিতি তৈরি হয়, যার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
আলোচিত সন্ত্রাসী লিটন মোল্লার এলাকায় উপস্থিতি সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবগত না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও তৃণমূল বিএনপি অভিযোগ করেছে, আলোচিত জল কাদের মোল্লার তিন সন্তান কালাম মোল্লা, লিটন মোল্লা এবং মুন্না মোল্লা সকলেই অতীতে আওয়ামী লীগ শাসনামলে বহুমুখী সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন। এবং জুলাই আন্দোলনে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও হয়। এরপরে গণরোষ এবং পুলিশী হয়রানি এড়াতে তারা কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও ধীরে ধীরে বিএনপির নেতৃত্বসারির নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলতে সক্ষম হন। শোনা যাচ্ছে, ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে তারা থানা পুলিশের সাথেও আপসরফা করেছেন, এই কারণে থানাসংলগ্ন তাদের বাসা হওয়া সত্ত্বেও পুলিশকে সেখানে অভিযান চালাতে দেখা যাচ্ছে না।
অবশ্য প্রতাপশালী এই পরিবারের সাথে যে বিমানবন্দর থানা পুলিশের ওসি মিজানুর রহমানের যোগাযোগের বিষয়টি শোনা যায়, তাও অমুলক বলছে না স্থানীয় বিএনপি কর্মীরা। কাশিপুর এলাকার বাসিন্দা বিএনপি কর্মী আবির আহমেদ রূপালী বাংলাদেশের কাছে অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে তাদের তিন ভাইয়ের সন্ত্রাসের ভয়ংকর রূপ কাশিপুর-বাবুগঞ্জসহ আশপাশের মানুষ কিছুটা হলেও দেখেছে। দেশের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে তারা একাধিক মামলায় অভিযুক্ত হয়েও সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে মহড়া দিচ্ছে, যা আতঙ্ক-উদ্বেগের বটে।
আওয়ামী লীগের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের এমন প্রত্যার্বতনে বিএনপির কর্মীরা তাদের দলের ইউনিয়ন পর্যায়ে নেতৃত্বসারির নেতাদের দোষারোপ করেছেন। অনেকে বলছেন, নেতারা টাকার কাছে ম্যানেজ হয়ে গেছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, লোকবল এবং অর্থ দুটিতেই আওয়ামী লীগের নেতারা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী। ফলে তাদের সাথে ঝামেলা না করে বিএনপি নেতারা সমঝোতা বা আপসরফার পথ বেচে নিচ্ছেন।
তবে লিটন মোল্লা বা কোনো কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা এলাকায় মহড়া দেওয়ার বিষয়ে তেমন কিছু জানা নেই বলে দাবি করেছেন কাশিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ন কবির ওয়াসিম। তার সাথে আপসরফার বিষয়টি অস্বীকার করে বলছেন, লিটন বা কালামের নামে একাধিক মামলা আছে, পুলিশ ইচ্ছা করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে।
তাহলে কি পুলিশের নির্লুপ্তায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বাহিনী নিয়ে মহড়া দেওয়ার সাহস বা শক্তি প্রদর্শন করছেন- এমন প্রশ্নে উত্তরে ওয়াসিম বলেন, এই বিষয়ে তারাই ভালো বলতে পারেন।
পুলিশের সাথে লিটন মোল্লার সখ্যতার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, লিটন মোল্লা শুক্রবার রাতে গাড়িযোগে গড়িয়ারপাড়ে এসেছিলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি এর আগেই স্থান ত্যাগ করায় তাকে আর আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।
বিভিন্ন সূত্রে অভিযোগ, লিটন মোল্লা নির্বাচনের পর থেকে এলাকায় ঘুরছেন এবং বাসায় রাত্রিযাপন করেন? এই প্রশ্নে ওসি মিজানুর রহমান রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারে কাজ করছে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, নিষিদ্ধ কোনো গোষ্ঠীকে সক্রিয় হতে দেওয়ার সুযোগ নেই। মাঠপুলিশকে এমন নির্দেশনা দেওয়া আছে। এক্ষেত্রে কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বা সদস্যর যদি গাফলতি দেখা যায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।’
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৫৮
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৩৬
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:৫২
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:২১