Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৩:০৫
বরিশালের রায়পাশা-কড়াপুরে বিএনপি কর্মী দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী খুনের ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন নোংরা রাজনীতি শুরু হয়েছে। আলোচিত এ খুনের নেপথ্যে কে বা কারা এই তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করতে না পারলেও বিএনপির একটি অংশ প্রতিপক্ষ পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের ওপর দায় চাপানো চেষ্টা চালাচ্ছে।
পাশাপাশি মামলাটি নিয়ে বাণিজ্য করার অভিযোগও পাওয়া গেছে, যা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নানা আলোচনা শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের পক্ষে বর্তমান বাস্তবতায় বিএনপি কর্মী খুন করা সম্ভব কী না এমন প্রশ্নও তোলা হচ্ছে।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা রাতে বিএনপির সমর্থক গরু ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী খুনের এই ঘটনায় ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানা পুলিশ দুজন ফোরকান চৌধুরী এবং মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা বর্তমানে কারান্তরীণ আছে। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট আলোচিত এই খুনের রহস্য উন্মোচনে কাজ করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বোসেরহাট বাজারের ইজারাদার দেলোয়ার চৌধুরী ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা রাতে বাইসাইকেলযোগে বাসায় ফিরছিলেন। কিন্তু গন্তব্যে পৌছানোর আগেই তিনি স্থানীয় বড় আরিন্দা বাড়ি জামে মসজিদের কাছে খুন হন। ষাটোর্ধ্ব এই ব্যক্তির মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে অন্তত ৪/৫টি কোপ দেয় সন্ত্রাসীরা। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, গরু ব্যবসায়ী দেলোয়ার বাইসাইকেলযোগে বাসায় ফেরার পথে তাকে কেউ বা কারা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী কুপিয়ে হত্যা করে। এবং রক্তাক্ত লাশটি রাস্তার পাশে ডোবার ভেতরে ফেলে রেখে গেছে।
খুনের কিছুক্ষণ পরেই ঘটনাস্থলে লোকজন নিয়ে পৌছে যান ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বর হাবিবুর রহমান মিন্টু। এবং তিনি এই প্রাণবিয়োগের ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা জাকির চৌধুরী ও কবির চৌধুরীর নামটি সামনে নিয়ে আসেন। একই বাড়ির বাসিন্দা নিহত দেলোয়ার চৌধুরীর সাথে জমিসংক্রান্ত বিরোধ থাকলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন হওয়ার পর তারা পলাতক রয়েছেন।
এই মামলায় জামাল হোসেন নামের যাকে ১ নম্বর অভিযুক্ত করা হয়েছে, তিনি চৌধুরী বাড়ির মেয়ে জামাই। এছাড়া দুজন বিএনপির পদধারী নেতাকেও মামলায় আসামি করা হয়। শাহীন এবং রফিক নামের এই দুজন বিএনপি নেতাকে আসামি করায় বিতর্ক আরও জোরালো রূপ নেয়।
১ নং অভিযুক্ত জাকিরের স্বজনের অভিযোগ, দেলোয়ার চৌধুরী খুনের পর বোসেরহাট বাজারে তাদের মালিকানাধীন একটি দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়। এবং জাকিরকে মামলায় না জড়ানোর অভয় দিয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মেম্বর হাবিবুর রহমান মিন্টু ৫ লাখ টাকা দাবি করেন।
পুলিশ বলছে, আসামি করা নিয়ে বাণিজ্যের বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে শোনা যাচ্ছে। কিন্তু মামলায় যাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে, তা বাদী কমলা বেগমের সিদ্ধান্তে। ফলে এখানে পুলিশের করণীয় কিছু নেই। তাছাড়া এই হত্যাকান্ডে কারা জড়িত এবং কেনো দেলোয়ারকে খুন করা হলো তা পুলিশের তদন্তেই উঠে আসবে।
নিশ্চিত হওয়া গেছে, বিএনপি কর্মী খুনের আলোচিত এই মামলাটি পুলিশের উচ্চমহলের নির্দেশে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশও তদন্ত করছে। ডিবি পুলিশের ওসি ছগির হোসেনের নেতৃত্ব একটি টিম শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট বলছে, সবকিছু বিশ্লেষণ করে বলা যায়, দেলোয়ার চৌধুরীকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। এবং তাকে কোথায় ও কখন খুন করা হবে তা আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল বলে মনে হচ্ছে।
এই খুন আওয়ামী লীগের পলাতক নেতা কবির চৌধুরী এবং জামাল-সবুজদের নির্দেশে সন্ত্রাসীরা করেছে বলা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে মোড় ঘুরে যাওয়ার সম্ভবনা আছে। এক্ষেত্রে আলোচনায় আছে তৃতীয় একটি পক্ষ।
বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, স্বৈরাচারের দোষর পলাতক আওয়ামী লীগের নেতাদের ৫ একর ভূমি নিয়ে একটি বাড়ি রয়েছে, যেটি বিএনপি নেতা মিন্টু মেম্বরের বাসার কাছাকাছি।
এই ভূসম্পত্তি নিয়ে মিন্টু মেম্বরের বিরোধ চলছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন হলে দত্ত বাড়িটি দখল নিতে কয়েক দফা তোড়জোড় চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।
পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা জাকির চৌধুরীর স্বজনদের অভিযোগ, নিহত দেলোয়ার চৌধুরী তাদের স্বজন এবং তার সাথে জমিজমা নিয়ে কিছুটা বিরোধ ছিল। কিন্তু সেই বিরোধকে কেন্দ্র করে তাকে খুন করার মতো কিছু অতীতে বা বর্তমানে ঘটেনি।
তাদের অভিযোগ, কয়েক কোটি টাকা মূল্যের আলোচিত দত্ত বাড়িটি দখলে নিতে চাচাতো ভাই দেলোয়ার চৌধুরী খুনের মামলায় জড়িয়ে দৌড়ের ওপর রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি দত্ত বাড়ি দেখভালে জড়িতদের খুন-জখমের হুমকির দেওয়া হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
বাবার খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে স্থানীয় নোংরা রাজনীতি চলছে, তা খোদ দেলোয়ার চৌধুরীর ছেলে পুলিশ কনস্টেবল রায়হানও অনুমান করতে পেরেছেন। ক্ষুব্ধ রায়হান অভিযোগ করেন, ঘটনার চারদিনেও পুলিশ কোনো রহস্য উন্মোচন করতে পারেনি।
তবে যাদের মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে, তারা পলাতক থাকলেও এই খুনের সাথে জড়িত থাকার সম্ভবনা আছে। আবার তাদের ওপর দোষ চাপিয়ে অন্য কেউও ফায়দা লুটতে পারেন বলে সন্দেহ করেন তিনি। তবে রায়হান শুধু তার বাবার প্রকৃত খুনিকেই দেখতে চাইছেন।
দেলোয়ারের স্ত্রী কমলা বেগম এই মামলার বাদী হলেও তিনি আসামিদের কজনকে চেনেন না এবং তাদের নাম কি ভাবে আসল তাও বলতে পারছেন না। তিনি সাংবাদিকদের জানান, চাচাতো দেবরদের সাথে তার স্বামীর জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। তিনি তাদের নাম জানেন, মামলার এজাহারেও তা উল্লেখ করেছেন।
খুনের ঘটনাটি নিয়ে যে রাজনীতি হচ্ছে তা নিহতের স্ত্রীর বক্তব্যেও কিছুটা অনুমান করা গেছে। পুলিশ বলছে, মামলাটি গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের কোনো হস্তক্ষেপ ছিল না, বাদী যেভাবে এজাহার দিয়েছেন, সেভাবেই মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিমানবন্দর থানা পুলিশের ওসি মিজানুর রহমান জানান, খুনের ঘটনাটি নিয়ে তারা বিভিন্ন এঙ্গেলে কাজ শুরু করেছেন। পাশাপাশি গোয়েন্দাপুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও বেশ কয়েকটি ইউনিট কাজ করছে।
শনিবার সকালে ঘটনাস্থল ডোবা থেকে পুরুষ মানুষের তিনটি জুতা উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে একটি চাদর উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনার দিন ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে খুনিরা মোটরসাইকেলযোগে চাদরে ধারালো অস্ত্র মুড়িয়ে নিয়ে আসে এবং বড় আরিন্দা বাড়ি মসজিদের পাশে দেলোয়ারকে কুপিয়ে খুন করে।
দেলোয়ার চৌধুরীকে যে পূর্বপরিকল্পনার আলোকে খুন করা হয়, তা খোদ পুলিশও আচ করতে পেরেছে। পুলিশ কর্মকর্তা মিজান জানান, দেলোয়ার সেই রাতে সাথে করে দেড় লাখ টাকা নিয়ে বাসায় যাচ্ছিলেন। খুনের পরে তার পকেটেই টাকা পাওয়া যাওয়ায় পুলিশের এই সন্দেহ আরও জোরালো হয়।
তবে আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে, দেলোয়ার চৌধুরীকে যেখানে কুপিয়ে হত্যা করা হয়, তার আশেপাশে ২/১ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো সিসি ক্যামেরা নেই। আবার ২/৪টি প্রতিষ্ঠানে ক্যামেরা থাকলেও তা অকেজো হওয়ায় ভিডিও ধারণ হয়নি। ফলে এই খুনের ঘটনাটির রহস্য উন্মোচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রচন্ড বেগ পেতে হচ্ছে।
তবে তথ্য-প্রযুক্তির সহযোগিতায় খুব শিগগিরই খুনের নেপথ্য কী এবং কারা জড়িত তাদের সামনে আনতে পুলিশ সফল হবে মন্তব্য করেন ওসি মিজান। এবং এই খুনে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে যাদের নাম আলোচনায় আসছে, তারা জড়িত থাকলেও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না, জানান ওসি।’
নিরপরাধ মানুষসহ আ’লীগের পলাতক নেতাকর্মীদের ঢালাওভাবে আসামি করা নিয়ে প্রশ্ন।
বরিশালের রায়পাশা-কড়াপুরে বিএনপি কর্মী দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী খুনের ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন নোংরা রাজনীতি শুরু হয়েছে। আলোচিত এ খুনের নেপথ্যে কে বা কারা এই তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করতে না পারলেও বিএনপির একটি অংশ প্রতিপক্ষ পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের ওপর দায় চাপানো চেষ্টা চালাচ্ছে।
পাশাপাশি মামলাটি নিয়ে বাণিজ্য করার অভিযোগও পাওয়া গেছে, যা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নানা আলোচনা শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের পক্ষে বর্তমান বাস্তবতায় বিএনপি কর্মী খুন করা সম্ভব কী না এমন প্রশ্নও তোলা হচ্ছে।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা রাতে বিএনপির সমর্থক গরু ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী খুনের এই ঘটনায় ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানা পুলিশ দুজন ফোরকান চৌধুরী এবং মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা বর্তমানে কারান্তরীণ আছে। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট আলোচিত এই খুনের রহস্য উন্মোচনে কাজ করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বোসেরহাট বাজারের ইজারাদার দেলোয়ার চৌধুরী ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা রাতে বাইসাইকেলযোগে বাসায় ফিরছিলেন। কিন্তু গন্তব্যে পৌছানোর আগেই তিনি স্থানীয় বড় আরিন্দা বাড়ি জামে মসজিদের কাছে খুন হন। ষাটোর্ধ্ব এই ব্যক্তির মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে অন্তত ৪/৫টি কোপ দেয় সন্ত্রাসীরা। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, গরু ব্যবসায়ী দেলোয়ার বাইসাইকেলযোগে বাসায় ফেরার পথে তাকে কেউ বা কারা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী কুপিয়ে হত্যা করে। এবং রক্তাক্ত লাশটি রাস্তার পাশে ডোবার ভেতরে ফেলে রেখে গেছে।
খুনের কিছুক্ষণ পরেই ঘটনাস্থলে লোকজন নিয়ে পৌছে যান ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বর হাবিবুর রহমান মিন্টু। এবং তিনি এই প্রাণবিয়োগের ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা জাকির চৌধুরী ও কবির চৌধুরীর নামটি সামনে নিয়ে আসেন। একই বাড়ির বাসিন্দা নিহত দেলোয়ার চৌধুরীর সাথে জমিসংক্রান্ত বিরোধ থাকলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন হওয়ার পর তারা পলাতক রয়েছেন।
এই মামলায় জামাল হোসেন নামের যাকে ১ নম্বর অভিযুক্ত করা হয়েছে, তিনি চৌধুরী বাড়ির মেয়ে জামাই। এছাড়া দুজন বিএনপির পদধারী নেতাকেও মামলায় আসামি করা হয়। শাহীন এবং রফিক নামের এই দুজন বিএনপি নেতাকে আসামি করায় বিতর্ক আরও জোরালো রূপ নেয়।
১ নং অভিযুক্ত জাকিরের স্বজনের অভিযোগ, দেলোয়ার চৌধুরী খুনের পর বোসেরহাট বাজারে তাদের মালিকানাধীন একটি দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়। এবং জাকিরকে মামলায় না জড়ানোর অভয় দিয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মেম্বর হাবিবুর রহমান মিন্টু ৫ লাখ টাকা দাবি করেন।
পুলিশ বলছে, আসামি করা নিয়ে বাণিজ্যের বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে শোনা যাচ্ছে। কিন্তু মামলায় যাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে, তা বাদী কমলা বেগমের সিদ্ধান্তে। ফলে এখানে পুলিশের করণীয় কিছু নেই। তাছাড়া এই হত্যাকান্ডে কারা জড়িত এবং কেনো দেলোয়ারকে খুন করা হলো তা পুলিশের তদন্তেই উঠে আসবে।
নিশ্চিত হওয়া গেছে, বিএনপি কর্মী খুনের আলোচিত এই মামলাটি পুলিশের উচ্চমহলের নির্দেশে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশও তদন্ত করছে। ডিবি পুলিশের ওসি ছগির হোসেনের নেতৃত্ব একটি টিম শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট বলছে, সবকিছু বিশ্লেষণ করে বলা যায়, দেলোয়ার চৌধুরীকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। এবং তাকে কোথায় ও কখন খুন করা হবে তা আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল বলে মনে হচ্ছে।
এই খুন আওয়ামী লীগের পলাতক নেতা কবির চৌধুরী এবং জামাল-সবুজদের নির্দেশে সন্ত্রাসীরা করেছে বলা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে মোড় ঘুরে যাওয়ার সম্ভবনা আছে। এক্ষেত্রে আলোচনায় আছে তৃতীয় একটি পক্ষ।
বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, স্বৈরাচারের দোষর পলাতক আওয়ামী লীগের নেতাদের ৫ একর ভূমি নিয়ে একটি বাড়ি রয়েছে, যেটি বিএনপি নেতা মিন্টু মেম্বরের বাসার কাছাকাছি।
এই ভূসম্পত্তি নিয়ে মিন্টু মেম্বরের বিরোধ চলছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন হলে দত্ত বাড়িটি দখল নিতে কয়েক দফা তোড়জোড় চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।
পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা জাকির চৌধুরীর স্বজনদের অভিযোগ, নিহত দেলোয়ার চৌধুরী তাদের স্বজন এবং তার সাথে জমিজমা নিয়ে কিছুটা বিরোধ ছিল। কিন্তু সেই বিরোধকে কেন্দ্র করে তাকে খুন করার মতো কিছু অতীতে বা বর্তমানে ঘটেনি।
তাদের অভিযোগ, কয়েক কোটি টাকা মূল্যের আলোচিত দত্ত বাড়িটি দখলে নিতে চাচাতো ভাই দেলোয়ার চৌধুরী খুনের মামলায় জড়িয়ে দৌড়ের ওপর রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি দত্ত বাড়ি দেখভালে জড়িতদের খুন-জখমের হুমকির দেওয়া হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
বাবার খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে স্থানীয় নোংরা রাজনীতি চলছে, তা খোদ দেলোয়ার চৌধুরীর ছেলে পুলিশ কনস্টেবল রায়হানও অনুমান করতে পেরেছেন। ক্ষুব্ধ রায়হান অভিযোগ করেন, ঘটনার চারদিনেও পুলিশ কোনো রহস্য উন্মোচন করতে পারেনি।
তবে যাদের মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে, তারা পলাতক থাকলেও এই খুনের সাথে জড়িত থাকার সম্ভবনা আছে। আবার তাদের ওপর দোষ চাপিয়ে অন্য কেউও ফায়দা লুটতে পারেন বলে সন্দেহ করেন তিনি। তবে রায়হান শুধু তার বাবার প্রকৃত খুনিকেই দেখতে চাইছেন।
দেলোয়ারের স্ত্রী কমলা বেগম এই মামলার বাদী হলেও তিনি আসামিদের কজনকে চেনেন না এবং তাদের নাম কি ভাবে আসল তাও বলতে পারছেন না। তিনি সাংবাদিকদের জানান, চাচাতো দেবরদের সাথে তার স্বামীর জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। তিনি তাদের নাম জানেন, মামলার এজাহারেও তা উল্লেখ করেছেন।
খুনের ঘটনাটি নিয়ে যে রাজনীতি হচ্ছে তা নিহতের স্ত্রীর বক্তব্যেও কিছুটা অনুমান করা গেছে। পুলিশ বলছে, মামলাটি গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের কোনো হস্তক্ষেপ ছিল না, বাদী যেভাবে এজাহার দিয়েছেন, সেভাবেই মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিমানবন্দর থানা পুলিশের ওসি মিজানুর রহমান জানান, খুনের ঘটনাটি নিয়ে তারা বিভিন্ন এঙ্গেলে কাজ শুরু করেছেন। পাশাপাশি গোয়েন্দাপুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও বেশ কয়েকটি ইউনিট কাজ করছে।
শনিবার সকালে ঘটনাস্থল ডোবা থেকে পুরুষ মানুষের তিনটি জুতা উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে একটি চাদর উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনার দিন ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে খুনিরা মোটরসাইকেলযোগে চাদরে ধারালো অস্ত্র মুড়িয়ে নিয়ে আসে এবং বড় আরিন্দা বাড়ি মসজিদের পাশে দেলোয়ারকে কুপিয়ে খুন করে।
দেলোয়ার চৌধুরীকে যে পূর্বপরিকল্পনার আলোকে খুন করা হয়, তা খোদ পুলিশও আচ করতে পেরেছে। পুলিশ কর্মকর্তা মিজান জানান, দেলোয়ার সেই রাতে সাথে করে দেড় লাখ টাকা নিয়ে বাসায় যাচ্ছিলেন। খুনের পরে তার পকেটেই টাকা পাওয়া যাওয়ায় পুলিশের এই সন্দেহ আরও জোরালো হয়।
তবে আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে, দেলোয়ার চৌধুরীকে যেখানে কুপিয়ে হত্যা করা হয়, তার আশেপাশে ২/১ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো সিসি ক্যামেরা নেই। আবার ২/৪টি প্রতিষ্ঠানে ক্যামেরা থাকলেও তা অকেজো হওয়ায় ভিডিও ধারণ হয়নি। ফলে এই খুনের ঘটনাটির রহস্য উন্মোচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রচন্ড বেগ পেতে হচ্ছে।
তবে তথ্য-প্রযুক্তির সহযোগিতায় খুব শিগগিরই খুনের নেপথ্য কী এবং কারা জড়িত তাদের সামনে আনতে পুলিশ সফল হবে মন্তব্য করেন ওসি মিজান। এবং এই খুনে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে যাদের নাম আলোচনায় আসছে, তারা জড়িত থাকলেও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না, জানান ওসি।’

১২ মার্চ, ২০২৬ ১৯:২৭

১২ মার্চ, ২০২৬ ১৮:১৯
বরিশালের বাকেরগঞ্জে ট্রাক ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অটোরিকশায় থাকা আরও ১ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বরিশাল পটুয়াখালী মহাসড়কের গোলদার বাড়ি নামক স্থানে সকাল ৯ টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশা বাকেরগঞ্জ থেকে দাদুরহাট যাওয়ার পথে বিপরীত দিক পটুয়াখালী থেকে আসা একটি দ্রুতগামী তরমুজবাহী ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে পড়ে। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
এ সময় গুরুতর আহত অবস্থায় অটোরিকশাচালক হিরণ গাজী ও অটোরিক্সার যাত্রী দুইজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অটোচালক হিরণ গাজী নিহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করেন।

১২ মার্চ, ২০২৬ ১৬:৩৬
ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি তেল সরবরাহ চাইছেন মালিকরা। এ জন্য ডিপোগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে নৌপরিবহন মন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছে তারা। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল সংস্থার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট মো. বদিউজ্জামান বাদল সম্প্রতি নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে এ চিঠি পাঠান।
চিঠিতে বলা হয়, ঢাকা নদী বন্দর থেকে ৩৮টি নৌপথে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১৪০টির মতো লঞ্চ পরিচালিত হবে। বর্তমানে ৬০-৭০টি লঞ্চ চলাচল করছে। যার মধ্যে ঢাকা-বরিশাল নৌপথে পাঁচটি, প্রতিটি লঞ্চে গড়ে ৭ হাজার লিটার; পটুয়াখালীতে পাঁচটি, প্রতিটি লঞ্চে গড়ে ৬ হাজার লিটার; বেতুয়া রুটে তিনটি, প্রতিটি লঞ্চে গড়ে ৬ হাজার লিটার তেল লাগে। এমনিভাবে ৩৮টি নৌপথের জন্য গড়ে প্রতিদিন ২ লাখ ৫০ হাজার লিটার জ্বালানিতেলের প্রয়োজন হয়।
এতে বলা হয়, সম্প্রতি ঢাকা নদী বন্দরে লঞ্চে তেল সরবরাহকারী মিনি ওয়েল ট্যাংকার মালিকদের পক্ষ থেকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অবস্থিত পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ডিপো থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল সরবরাহ করছে না বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের গোদলাইন, ভৈরব, নরসিংদী, আরিচা, বরিশাল ও চাঁদপুরে অবস্থিত ডিপোগুলোও পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল সরবরাহ করছে না বলে লঞ্চ মালিকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ অবস্থায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যাত্রী সাধারণের যাতায়াতের সুবিধার্থে এবং যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোতে পর্যাপ্ত জ্বালানিতেল সরবরাহের জন্য ডিপোগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে নৌমন্ত্রীকে অনুরোধ জানানো হয় চিঠিতে।’
মাঠ কাঁপানো খ্যাতনামা ফুটবলার, সেনা কর্মকর্তা, ৭১'র রণাঙ্গনের খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর পর এবার স্পিকারের পদ অলঙ্কৃত করলেন বৃহত্তর বরিশালের কৃতি সন্তান (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য এবং ভোলা–৩ আসনের সাতবারের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টায় অধিবেশন শুরু হলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে স্পিকার হিসেবে শপথ করান। এই শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে দুপুর ১২টার পর সম্পন্ন হয়।
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বর্তমানে নতুন সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
ব্যক্তিগত জীবন ও শিক্ষা:
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের জন্ম ১৯৪৪ সালের ২৯ অক্টোবর ভোলার লালমোহনে। তার পিতা মরহুম ডা. আজহার উদ্দিন আহমদ ছিলেন পাকিস্তান জাতীয় সংসদের সাবেক সদস্য, এবং মা মরহুমা করিমুন নেছা বেগম গৃহিণী ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ১৯৬৪ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৬৫ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১ ডিসেম্বর ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হন এবং ১৯৭৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অবসর গ্রহণ করেন।
মুক্তিযুদ্ধ ও সামরিক জীবন
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য তিনি বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বীর বিক্রম পান। ৩১ জুলাই ১৯৭১, তিনি ১ম ইস্ট বেঙ্গলের কামালপুর বিওপি আক্রমণে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে আহত হন।
৩০ মার্চ ১৯৭১, যশোর ক্যান্টনমেন্টে তিনি তরুণ অফিসার হিসেবে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন এবং আট ঘণ্টাব্যাপী সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। পরে যশোর-খুলনা অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধকে সংগঠিত করেন এবং বেনাপোল অঞ্চলে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে একাধিক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিনি ১ম ইস্ট বেঙ্গল ব্যাটালিয়নের একমাত্র কমান্ডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১, মেজর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে সিলেট দখলের সময়ে তাঁর নেতৃত্বে ‘বি’ কোম্পানি পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করে।
রাজনৈতিক জীবন;
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ভোলা-৩ (লালমোহন ও তজমুদ্দিন) আসন থেকে সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন (৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম ও ১৩তম সংসদ)। ১৯৯১ সালে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদে জয়ী হন এবং ১৯৯২ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯৬ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধিন দ্বিতীয় সরকারের তিনি বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী এবং ২০০১-০৬ সালে তৃতীয় সরকারের পানিসম্পদ, বাণিজ্য ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধিন নতুন সরকারের তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালণ করছেন।
ক্রীড়াজীবন;
তিনি ছিলেন খ্যাতনামা ফুটবলার। ১৯৬৭-১৯৭১ সালে পাকিস্তান জাতীয় দলের সদস্য হিসেবে ইরান, তুরস্ক ও বার্মা (বর্তমান মিয়ানমার) সফর করেন। ১৯৭০ সালে তেহরানে অনুষ্ঠিত আরসিডি প্রতিযোগিতায় তিনি জাতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন। ২০০৫ সালে ফিফা তাকে বিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশের সেরা ফুটবলার হিসেবে সেন্টেনারি অর্ডার অব মেরিট সম্মাননা প্রদান করে। তিনি ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং দলের সদস্য হিসেবে ১২ বছর খেলেছেন এবং ১৯৭৬ সালে দলের অধিনায়কের দায়িত্বও পালন করেন। এছাড়া ১৯৬৪-৬৬ সালে প্রাদেশিক প্রতিযোগিতায় ১০০ ও ২০০ মিটার দৌড়ে পূর্ব পাকিস্তানের দ্রুততম মানবের খেতাব লাভ করেন।
পারিবারিক জীবন:
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের স্ত্রী দিলারা হাফিজ ছিলেন শিক্ষকতা পেশায় নিযুক্ত এবং ইডেন মহিলা কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা দপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে অবসর নেন। তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে—শাহরুখ হাফিজ, শামামা শাহরীন হাফিজ এবং তাহারাত হাফিজ।
মাঠ কাঁপানো খ্যাতনামা ফুটবলার, সেনা কর্মকর্তা, ৭১'র রণাঙ্গনের খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর পর এবার স্পিকারের পদ অলঙ্কৃত করলেন বৃহত্তর বরিশালের কৃতি সন্তান (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য এবং ভোলা–৩ আসনের সাতবারের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টায় অধিবেশন শুরু হলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে স্পিকার হিসেবে শপথ করান। এই শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে দুপুর ১২টার পর সম্পন্ন হয়।
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বর্তমানে নতুন সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
ব্যক্তিগত জীবন ও শিক্ষা:
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের জন্ম ১৯৪৪ সালের ২৯ অক্টোবর ভোলার লালমোহনে। তার পিতা মরহুম ডা. আজহার উদ্দিন আহমদ ছিলেন পাকিস্তান জাতীয় সংসদের সাবেক সদস্য, এবং মা মরহুমা করিমুন নেছা বেগম গৃহিণী ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ১৯৬৪ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৬৫ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১ ডিসেম্বর ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হন এবং ১৯৭৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অবসর গ্রহণ করেন।
মুক্তিযুদ্ধ ও সামরিক জীবন
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য তিনি বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বীর বিক্রম পান। ৩১ জুলাই ১৯৭১, তিনি ১ম ইস্ট বেঙ্গলের কামালপুর বিওপি আক্রমণে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে আহত হন।
৩০ মার্চ ১৯৭১, যশোর ক্যান্টনমেন্টে তিনি তরুণ অফিসার হিসেবে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন এবং আট ঘণ্টাব্যাপী সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। পরে যশোর-খুলনা অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধকে সংগঠিত করেন এবং বেনাপোল অঞ্চলে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে একাধিক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিনি ১ম ইস্ট বেঙ্গল ব্যাটালিয়নের একমাত্র কমান্ডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১, মেজর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে সিলেট দখলের সময়ে তাঁর নেতৃত্বে ‘বি’ কোম্পানি পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করে।
রাজনৈতিক জীবন;
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ভোলা-৩ (লালমোহন ও তজমুদ্দিন) আসন থেকে সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন (৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম ও ১৩তম সংসদ)। ১৯৯১ সালে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদে জয়ী হন এবং ১৯৯২ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯৬ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধিন দ্বিতীয় সরকারের তিনি বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী এবং ২০০১-০৬ সালে তৃতীয় সরকারের পানিসম্পদ, বাণিজ্য ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধিন নতুন সরকারের তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালণ করছেন।
ক্রীড়াজীবন;
তিনি ছিলেন খ্যাতনামা ফুটবলার। ১৯৬৭-১৯৭১ সালে পাকিস্তান জাতীয় দলের সদস্য হিসেবে ইরান, তুরস্ক ও বার্মা (বর্তমান মিয়ানমার) সফর করেন। ১৯৭০ সালে তেহরানে অনুষ্ঠিত আরসিডি প্রতিযোগিতায় তিনি জাতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন। ২০০৫ সালে ফিফা তাকে বিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশের সেরা ফুটবলার হিসেবে সেন্টেনারি অর্ডার অব মেরিট সম্মাননা প্রদান করে। তিনি ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং দলের সদস্য হিসেবে ১২ বছর খেলেছেন এবং ১৯৭৬ সালে দলের অধিনায়কের দায়িত্বও পালন করেন। এছাড়া ১৯৬৪-৬৬ সালে প্রাদেশিক প্রতিযোগিতায় ১০০ ও ২০০ মিটার দৌড়ে পূর্ব পাকিস্তানের দ্রুততম মানবের খেতাব লাভ করেন।
পারিবারিক জীবন:
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের স্ত্রী দিলারা হাফিজ ছিলেন শিক্ষকতা পেশায় নিযুক্ত এবং ইডেন মহিলা কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা দপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে অবসর নেন। তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে—শাহরুখ হাফিজ, শামামা শাহরীন হাফিজ এবং তাহারাত হাফিজ।
বরিশালের বাকেরগঞ্জে ট্রাক ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অটোরিকশায় থাকা আরও ১ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বরিশাল পটুয়াখালী মহাসড়কের গোলদার বাড়ি নামক স্থানে সকাল ৯ টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশা বাকেরগঞ্জ থেকে দাদুরহাট যাওয়ার পথে বিপরীত দিক পটুয়াখালী থেকে আসা একটি দ্রুতগামী তরমুজবাহী ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে পড়ে। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
এ সময় গুরুতর আহত অবস্থায় অটোরিকশাচালক হিরণ গাজী ও অটোরিক্সার যাত্রী দুইজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অটোচালক হিরণ গাজী নিহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করেন।
ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি তেল সরবরাহ চাইছেন মালিকরা। এ জন্য ডিপোগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে নৌপরিবহন মন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছে তারা। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল সংস্থার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট মো. বদিউজ্জামান বাদল সম্প্রতি নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে এ চিঠি পাঠান।
চিঠিতে বলা হয়, ঢাকা নদী বন্দর থেকে ৩৮টি নৌপথে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১৪০টির মতো লঞ্চ পরিচালিত হবে। বর্তমানে ৬০-৭০টি লঞ্চ চলাচল করছে। যার মধ্যে ঢাকা-বরিশাল নৌপথে পাঁচটি, প্রতিটি লঞ্চে গড়ে ৭ হাজার লিটার; পটুয়াখালীতে পাঁচটি, প্রতিটি লঞ্চে গড়ে ৬ হাজার লিটার; বেতুয়া রুটে তিনটি, প্রতিটি লঞ্চে গড়ে ৬ হাজার লিটার তেল লাগে। এমনিভাবে ৩৮টি নৌপথের জন্য গড়ে প্রতিদিন ২ লাখ ৫০ হাজার লিটার জ্বালানিতেলের প্রয়োজন হয়।
এতে বলা হয়, সম্প্রতি ঢাকা নদী বন্দরে লঞ্চে তেল সরবরাহকারী মিনি ওয়েল ট্যাংকার মালিকদের পক্ষ থেকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অবস্থিত পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ডিপো থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল সরবরাহ করছে না বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের গোদলাইন, ভৈরব, নরসিংদী, আরিচা, বরিশাল ও চাঁদপুরে অবস্থিত ডিপোগুলোও পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল সরবরাহ করছে না বলে লঞ্চ মালিকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ অবস্থায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যাত্রী সাধারণের যাতায়াতের সুবিধার্থে এবং যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোতে পর্যাপ্ত জ্বালানিতেল সরবরাহের জন্য ডিপোগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে নৌমন্ত্রীকে অনুরোধ জানানো হয় চিঠিতে।’
১২ মার্চ, ২০২৬ ২০:৫৩
১২ মার্চ, ২০২৬ ২০:২৫
১২ মার্চ, ২০২৬ ২০:০৩
১২ মার্চ, ২০২৬ ২০:০১