
২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৩:০৫
বরিশালের রায়পাশা-কড়াপুরে বিএনপি কর্মী দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী খুনের ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন নোংরা রাজনীতি শুরু হয়েছে। আলোচিত এ খুনের নেপথ্যে কে বা কারা এই তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করতে না পারলেও বিএনপির একটি অংশ প্রতিপক্ষ পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের ওপর দায় চাপানো চেষ্টা চালাচ্ছে।
পাশাপাশি মামলাটি নিয়ে বাণিজ্য করার অভিযোগও পাওয়া গেছে, যা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নানা আলোচনা শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের পক্ষে বর্তমান বাস্তবতায় বিএনপি কর্মী খুন করা সম্ভব কী না এমন প্রশ্নও তোলা হচ্ছে।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা রাতে বিএনপির সমর্থক গরু ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী খুনের এই ঘটনায় ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানা পুলিশ দুজন ফোরকান চৌধুরী এবং মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা বর্তমানে কারান্তরীণ আছে। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট আলোচিত এই খুনের রহস্য উন্মোচনে কাজ করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বোসেরহাট বাজারের ইজারাদার দেলোয়ার চৌধুরী ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা রাতে বাইসাইকেলযোগে বাসায় ফিরছিলেন। কিন্তু গন্তব্যে পৌছানোর আগেই তিনি স্থানীয় বড় আরিন্দা বাড়ি জামে মসজিদের কাছে খুন হন। ষাটোর্ধ্ব এই ব্যক্তির মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে অন্তত ৪/৫টি কোপ দেয় সন্ত্রাসীরা। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, গরু ব্যবসায়ী দেলোয়ার বাইসাইকেলযোগে বাসায় ফেরার পথে তাকে কেউ বা কারা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী কুপিয়ে হত্যা করে। এবং রক্তাক্ত লাশটি রাস্তার পাশে ডোবার ভেতরে ফেলে রেখে গেছে।
খুনের কিছুক্ষণ পরেই ঘটনাস্থলে লোকজন নিয়ে পৌছে যান ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বর হাবিবুর রহমান মিন্টু। এবং তিনি এই প্রাণবিয়োগের ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা জাকির চৌধুরী ও কবির চৌধুরীর নামটি সামনে নিয়ে আসেন। একই বাড়ির বাসিন্দা নিহত দেলোয়ার চৌধুরীর সাথে জমিসংক্রান্ত বিরোধ থাকলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন হওয়ার পর তারা পলাতক রয়েছেন।
এই মামলায় জামাল হোসেন নামের যাকে ১ নম্বর অভিযুক্ত করা হয়েছে, তিনি চৌধুরী বাড়ির মেয়ে জামাই। এছাড়া দুজন বিএনপির পদধারী নেতাকেও মামলায় আসামি করা হয়। শাহীন এবং রফিক নামের এই দুজন বিএনপি নেতাকে আসামি করায় বিতর্ক আরও জোরালো রূপ নেয়।
১ নং অভিযুক্ত জাকিরের স্বজনের অভিযোগ, দেলোয়ার চৌধুরী খুনের পর বোসেরহাট বাজারে তাদের মালিকানাধীন একটি দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়। এবং জাকিরকে মামলায় না জড়ানোর অভয় দিয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মেম্বর হাবিবুর রহমান মিন্টু ৫ লাখ টাকা দাবি করেন।
পুলিশ বলছে, আসামি করা নিয়ে বাণিজ্যের বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে শোনা যাচ্ছে। কিন্তু মামলায় যাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে, তা বাদী কমলা বেগমের সিদ্ধান্তে। ফলে এখানে পুলিশের করণীয় কিছু নেই। তাছাড়া এই হত্যাকান্ডে কারা জড়িত এবং কেনো দেলোয়ারকে খুন করা হলো তা পুলিশের তদন্তেই উঠে আসবে।
নিশ্চিত হওয়া গেছে, বিএনপি কর্মী খুনের আলোচিত এই মামলাটি পুলিশের উচ্চমহলের নির্দেশে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশও তদন্ত করছে। ডিবি পুলিশের ওসি ছগির হোসেনের নেতৃত্ব একটি টিম শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট বলছে, সবকিছু বিশ্লেষণ করে বলা যায়, দেলোয়ার চৌধুরীকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। এবং তাকে কোথায় ও কখন খুন করা হবে তা আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল বলে মনে হচ্ছে।
এই খুন আওয়ামী লীগের পলাতক নেতা কবির চৌধুরী এবং জামাল-সবুজদের নির্দেশে সন্ত্রাসীরা করেছে বলা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে মোড় ঘুরে যাওয়ার সম্ভবনা আছে। এক্ষেত্রে আলোচনায় আছে তৃতীয় একটি পক্ষ।
বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, স্বৈরাচারের দোষর পলাতক আওয়ামী লীগের নেতাদের ৫ একর ভূমি নিয়ে একটি বাড়ি রয়েছে, যেটি বিএনপি নেতা মিন্টু মেম্বরের বাসার কাছাকাছি।
এই ভূসম্পত্তি নিয়ে মিন্টু মেম্বরের বিরোধ চলছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন হলে দত্ত বাড়িটি দখল নিতে কয়েক দফা তোড়জোড় চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।
পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা জাকির চৌধুরীর স্বজনদের অভিযোগ, নিহত দেলোয়ার চৌধুরী তাদের স্বজন এবং তার সাথে জমিজমা নিয়ে কিছুটা বিরোধ ছিল। কিন্তু সেই বিরোধকে কেন্দ্র করে তাকে খুন করার মতো কিছু অতীতে বা বর্তমানে ঘটেনি।
তাদের অভিযোগ, কয়েক কোটি টাকা মূল্যের আলোচিত দত্ত বাড়িটি দখলে নিতে চাচাতো ভাই দেলোয়ার চৌধুরী খুনের মামলায় জড়িয়ে দৌড়ের ওপর রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি দত্ত বাড়ি দেখভালে জড়িতদের খুন-জখমের হুমকির দেওয়া হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
বাবার খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে স্থানীয় নোংরা রাজনীতি চলছে, তা খোদ দেলোয়ার চৌধুরীর ছেলে পুলিশ কনস্টেবল রায়হানও অনুমান করতে পেরেছেন। ক্ষুব্ধ রায়হান অভিযোগ করেন, ঘটনার চারদিনেও পুলিশ কোনো রহস্য উন্মোচন করতে পারেনি।
তবে যাদের মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে, তারা পলাতক থাকলেও এই খুনের সাথে জড়িত থাকার সম্ভবনা আছে। আবার তাদের ওপর দোষ চাপিয়ে অন্য কেউও ফায়দা লুটতে পারেন বলে সন্দেহ করেন তিনি। তবে রায়হান শুধু তার বাবার প্রকৃত খুনিকেই দেখতে চাইছেন।
দেলোয়ারের স্ত্রী কমলা বেগম এই মামলার বাদী হলেও তিনি আসামিদের কজনকে চেনেন না এবং তাদের নাম কি ভাবে আসল তাও বলতে পারছেন না। তিনি সাংবাদিকদের জানান, চাচাতো দেবরদের সাথে তার স্বামীর জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। তিনি তাদের নাম জানেন, মামলার এজাহারেও তা উল্লেখ করেছেন।
খুনের ঘটনাটি নিয়ে যে রাজনীতি হচ্ছে তা নিহতের স্ত্রীর বক্তব্যেও কিছুটা অনুমান করা গেছে। পুলিশ বলছে, মামলাটি গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের কোনো হস্তক্ষেপ ছিল না, বাদী যেভাবে এজাহার দিয়েছেন, সেভাবেই মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিমানবন্দর থানা পুলিশের ওসি মিজানুর রহমান জানান, খুনের ঘটনাটি নিয়ে তারা বিভিন্ন এঙ্গেলে কাজ শুরু করেছেন। পাশাপাশি গোয়েন্দাপুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও বেশ কয়েকটি ইউনিট কাজ করছে।
শনিবার সকালে ঘটনাস্থল ডোবা থেকে পুরুষ মানুষের তিনটি জুতা উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে একটি চাদর উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনার দিন ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে খুনিরা মোটরসাইকেলযোগে চাদরে ধারালো অস্ত্র মুড়িয়ে নিয়ে আসে এবং বড় আরিন্দা বাড়ি মসজিদের পাশে দেলোয়ারকে কুপিয়ে খুন করে।
দেলোয়ার চৌধুরীকে যে পূর্বপরিকল্পনার আলোকে খুন করা হয়, তা খোদ পুলিশও আচ করতে পেরেছে। পুলিশ কর্মকর্তা মিজান জানান, দেলোয়ার সেই রাতে সাথে করে দেড় লাখ টাকা নিয়ে বাসায় যাচ্ছিলেন। খুনের পরে তার পকেটেই টাকা পাওয়া যাওয়ায় পুলিশের এই সন্দেহ আরও জোরালো হয়।
তবে আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে, দেলোয়ার চৌধুরীকে যেখানে কুপিয়ে হত্যা করা হয়, তার আশেপাশে ২/১ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো সিসি ক্যামেরা নেই। আবার ২/৪টি প্রতিষ্ঠানে ক্যামেরা থাকলেও তা অকেজো হওয়ায় ভিডিও ধারণ হয়নি। ফলে এই খুনের ঘটনাটির রহস্য উন্মোচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রচন্ড বেগ পেতে হচ্ছে।
তবে তথ্য-প্রযুক্তির সহযোগিতায় খুব শিগগিরই খুনের নেপথ্য কী এবং কারা জড়িত তাদের সামনে আনতে পুলিশ সফল হবে মন্তব্য করেন ওসি মিজান। এবং এই খুনে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে যাদের নাম আলোচনায় আসছে, তারা জড়িত থাকলেও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না, জানান ওসি।’
নিরপরাধ মানুষসহ আ’লীগের পলাতক নেতাকর্মীদের ঢালাওভাবে আসামি করা নিয়ে প্রশ্ন।
বরিশালের রায়পাশা-কড়াপুরে বিএনপি কর্মী দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী খুনের ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন নোংরা রাজনীতি শুরু হয়েছে। আলোচিত এ খুনের নেপথ্যে কে বা কারা এই তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করতে না পারলেও বিএনপির একটি অংশ প্রতিপক্ষ পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের ওপর দায় চাপানো চেষ্টা চালাচ্ছে।
পাশাপাশি মামলাটি নিয়ে বাণিজ্য করার অভিযোগও পাওয়া গেছে, যা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নানা আলোচনা শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের পক্ষে বর্তমান বাস্তবতায় বিএনপি কর্মী খুন করা সম্ভব কী না এমন প্রশ্নও তোলা হচ্ছে।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা রাতে বিএনপির সমর্থক গরু ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী খুনের এই ঘটনায় ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানা পুলিশ দুজন ফোরকান চৌধুরী এবং মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা বর্তমানে কারান্তরীণ আছে। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট আলোচিত এই খুনের রহস্য উন্মোচনে কাজ করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বোসেরহাট বাজারের ইজারাদার দেলোয়ার চৌধুরী ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা রাতে বাইসাইকেলযোগে বাসায় ফিরছিলেন। কিন্তু গন্তব্যে পৌছানোর আগেই তিনি স্থানীয় বড় আরিন্দা বাড়ি জামে মসজিদের কাছে খুন হন। ষাটোর্ধ্ব এই ব্যক্তির মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে অন্তত ৪/৫টি কোপ দেয় সন্ত্রাসীরা। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, গরু ব্যবসায়ী দেলোয়ার বাইসাইকেলযোগে বাসায় ফেরার পথে তাকে কেউ বা কারা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী কুপিয়ে হত্যা করে। এবং রক্তাক্ত লাশটি রাস্তার পাশে ডোবার ভেতরে ফেলে রেখে গেছে।
খুনের কিছুক্ষণ পরেই ঘটনাস্থলে লোকজন নিয়ে পৌছে যান ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বর হাবিবুর রহমান মিন্টু। এবং তিনি এই প্রাণবিয়োগের ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা জাকির চৌধুরী ও কবির চৌধুরীর নামটি সামনে নিয়ে আসেন। একই বাড়ির বাসিন্দা নিহত দেলোয়ার চৌধুরীর সাথে জমিসংক্রান্ত বিরোধ থাকলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন হওয়ার পর তারা পলাতক রয়েছেন।
এই মামলায় জামাল হোসেন নামের যাকে ১ নম্বর অভিযুক্ত করা হয়েছে, তিনি চৌধুরী বাড়ির মেয়ে জামাই। এছাড়া দুজন বিএনপির পদধারী নেতাকেও মামলায় আসামি করা হয়। শাহীন এবং রফিক নামের এই দুজন বিএনপি নেতাকে আসামি করায় বিতর্ক আরও জোরালো রূপ নেয়।
১ নং অভিযুক্ত জাকিরের স্বজনের অভিযোগ, দেলোয়ার চৌধুরী খুনের পর বোসেরহাট বাজারে তাদের মালিকানাধীন একটি দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়। এবং জাকিরকে মামলায় না জড়ানোর অভয় দিয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মেম্বর হাবিবুর রহমান মিন্টু ৫ লাখ টাকা দাবি করেন।
পুলিশ বলছে, আসামি করা নিয়ে বাণিজ্যের বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে শোনা যাচ্ছে। কিন্তু মামলায় যাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে, তা বাদী কমলা বেগমের সিদ্ধান্তে। ফলে এখানে পুলিশের করণীয় কিছু নেই। তাছাড়া এই হত্যাকান্ডে কারা জড়িত এবং কেনো দেলোয়ারকে খুন করা হলো তা পুলিশের তদন্তেই উঠে আসবে।
নিশ্চিত হওয়া গেছে, বিএনপি কর্মী খুনের আলোচিত এই মামলাটি পুলিশের উচ্চমহলের নির্দেশে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশও তদন্ত করছে। ডিবি পুলিশের ওসি ছগির হোসেনের নেতৃত্ব একটি টিম শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট বলছে, সবকিছু বিশ্লেষণ করে বলা যায়, দেলোয়ার চৌধুরীকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। এবং তাকে কোথায় ও কখন খুন করা হবে তা আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল বলে মনে হচ্ছে।
এই খুন আওয়ামী লীগের পলাতক নেতা কবির চৌধুরী এবং জামাল-সবুজদের নির্দেশে সন্ত্রাসীরা করেছে বলা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে মোড় ঘুরে যাওয়ার সম্ভবনা আছে। এক্ষেত্রে আলোচনায় আছে তৃতীয় একটি পক্ষ।
বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, স্বৈরাচারের দোষর পলাতক আওয়ামী লীগের নেতাদের ৫ একর ভূমি নিয়ে একটি বাড়ি রয়েছে, যেটি বিএনপি নেতা মিন্টু মেম্বরের বাসার কাছাকাছি।
এই ভূসম্পত্তি নিয়ে মিন্টু মেম্বরের বিরোধ চলছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন হলে দত্ত বাড়িটি দখল নিতে কয়েক দফা তোড়জোড় চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।
পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা জাকির চৌধুরীর স্বজনদের অভিযোগ, নিহত দেলোয়ার চৌধুরী তাদের স্বজন এবং তার সাথে জমিজমা নিয়ে কিছুটা বিরোধ ছিল। কিন্তু সেই বিরোধকে কেন্দ্র করে তাকে খুন করার মতো কিছু অতীতে বা বর্তমানে ঘটেনি।
তাদের অভিযোগ, কয়েক কোটি টাকা মূল্যের আলোচিত দত্ত বাড়িটি দখলে নিতে চাচাতো ভাই দেলোয়ার চৌধুরী খুনের মামলায় জড়িয়ে দৌড়ের ওপর রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি দত্ত বাড়ি দেখভালে জড়িতদের খুন-জখমের হুমকির দেওয়া হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
বাবার খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে স্থানীয় নোংরা রাজনীতি চলছে, তা খোদ দেলোয়ার চৌধুরীর ছেলে পুলিশ কনস্টেবল রায়হানও অনুমান করতে পেরেছেন। ক্ষুব্ধ রায়হান অভিযোগ করেন, ঘটনার চারদিনেও পুলিশ কোনো রহস্য উন্মোচন করতে পারেনি।
তবে যাদের মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে, তারা পলাতক থাকলেও এই খুনের সাথে জড়িত থাকার সম্ভবনা আছে। আবার তাদের ওপর দোষ চাপিয়ে অন্য কেউও ফায়দা লুটতে পারেন বলে সন্দেহ করেন তিনি। তবে রায়হান শুধু তার বাবার প্রকৃত খুনিকেই দেখতে চাইছেন।
দেলোয়ারের স্ত্রী কমলা বেগম এই মামলার বাদী হলেও তিনি আসামিদের কজনকে চেনেন না এবং তাদের নাম কি ভাবে আসল তাও বলতে পারছেন না। তিনি সাংবাদিকদের জানান, চাচাতো দেবরদের সাথে তার স্বামীর জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। তিনি তাদের নাম জানেন, মামলার এজাহারেও তা উল্লেখ করেছেন।
খুনের ঘটনাটি নিয়ে যে রাজনীতি হচ্ছে তা নিহতের স্ত্রীর বক্তব্যেও কিছুটা অনুমান করা গেছে। পুলিশ বলছে, মামলাটি গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের কোনো হস্তক্ষেপ ছিল না, বাদী যেভাবে এজাহার দিয়েছেন, সেভাবেই মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিমানবন্দর থানা পুলিশের ওসি মিজানুর রহমান জানান, খুনের ঘটনাটি নিয়ে তারা বিভিন্ন এঙ্গেলে কাজ শুরু করেছেন। পাশাপাশি গোয়েন্দাপুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও বেশ কয়েকটি ইউনিট কাজ করছে।
শনিবার সকালে ঘটনাস্থল ডোবা থেকে পুরুষ মানুষের তিনটি জুতা উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে একটি চাদর উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনার দিন ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে খুনিরা মোটরসাইকেলযোগে চাদরে ধারালো অস্ত্র মুড়িয়ে নিয়ে আসে এবং বড় আরিন্দা বাড়ি মসজিদের পাশে দেলোয়ারকে কুপিয়ে খুন করে।
দেলোয়ার চৌধুরীকে যে পূর্বপরিকল্পনার আলোকে খুন করা হয়, তা খোদ পুলিশও আচ করতে পেরেছে। পুলিশ কর্মকর্তা মিজান জানান, দেলোয়ার সেই রাতে সাথে করে দেড় লাখ টাকা নিয়ে বাসায় যাচ্ছিলেন। খুনের পরে তার পকেটেই টাকা পাওয়া যাওয়ায় পুলিশের এই সন্দেহ আরও জোরালো হয়।
তবে আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে, দেলোয়ার চৌধুরীকে যেখানে কুপিয়ে হত্যা করা হয়, তার আশেপাশে ২/১ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো সিসি ক্যামেরা নেই। আবার ২/৪টি প্রতিষ্ঠানে ক্যামেরা থাকলেও তা অকেজো হওয়ায় ভিডিও ধারণ হয়নি। ফলে এই খুনের ঘটনাটির রহস্য উন্মোচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রচন্ড বেগ পেতে হচ্ছে।
তবে তথ্য-প্রযুক্তির সহযোগিতায় খুব শিগগিরই খুনের নেপথ্য কী এবং কারা জড়িত তাদের সামনে আনতে পুলিশ সফল হবে মন্তব্য করেন ওসি মিজান। এবং এই খুনে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে যাদের নাম আলোচনায় আসছে, তারা জড়িত থাকলেও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না, জানান ওসি।’

১৩ জুন, ২০২৬ ২০:০৭
মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধসহ তিন দফা দাবিতে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের পাঁচ জেলায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন। আগামীকাল রোববার থেকে এ ধর্মঘট শুরু হবে বলে জানিয়েছেন নেতারা।
বাগেরহাট আন্তঃজেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফকির শহীদুল ইসলাম জানান, ধর্মঘটের আওতায় থাকবে বাগেরহাট, খুলনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বরিশাল জেলা।
ফকির শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘খুলনা ও বরিশাল বিভাগের সড়কগুলোতে অনুমোদনহীন অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজ নেওয়া বাস চলাচল করছে। মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার অবাধে চলাচল করায় পরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনকে বারবার অবহিত করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
তিনি আরও জানান, ধর্মঘট শুরু হলে পাঁচ জেলায় সব ধরনের যাত্রীবাহী পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকবে।
যে তিন দাবিতে ধর্মঘটের ডাক
১. সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজকৃত গাড়ি চলাচল বন্ধ করা এবং নীতিমালা অনুযায়ী জেলা টার্মিনালে একটি মাত্র কাউন্টার চালু রেখে পথে পথে থাকা সব অবৈধ কাউন্টার অপসারণ।
২. আঞ্চলিক মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার (মাহেন্দ্র, নছিমন, করিমন, অটোরিকশা) চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করা।
৩. দূরপাল্লার পরিবহনে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে লোকাল বা মাঝপথের যাত্রী পরিবহন বন্ধ করা।
এ ঘটনা প্রসঙ্গে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, পরিবহন মালিকদের তিন দফা দাবির বিষয়ে প্রশাসন অবগত রয়েছে। অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট এড়াতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
বরিশাল টাইমস
মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধসহ তিন দফা দাবিতে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের পাঁচ জেলায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন। আগামীকাল রোববার থেকে এ ধর্মঘট শুরু হবে বলে জানিয়েছেন নেতারা।
বাগেরহাট আন্তঃজেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফকির শহীদুল ইসলাম জানান, ধর্মঘটের আওতায় থাকবে বাগেরহাট, খুলনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বরিশাল জেলা।
ফকির শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘খুলনা ও বরিশাল বিভাগের সড়কগুলোতে অনুমোদনহীন অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজ নেওয়া বাস চলাচল করছে। মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার অবাধে চলাচল করায় পরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনকে বারবার অবহিত করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
তিনি আরও জানান, ধর্মঘট শুরু হলে পাঁচ জেলায় সব ধরনের যাত্রীবাহী পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকবে।
যে তিন দাবিতে ধর্মঘটের ডাক
১. সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজকৃত গাড়ি চলাচল বন্ধ করা এবং নীতিমালা অনুযায়ী জেলা টার্মিনালে একটি মাত্র কাউন্টার চালু রেখে পথে পথে থাকা সব অবৈধ কাউন্টার অপসারণ।
২. আঞ্চলিক মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার (মাহেন্দ্র, নছিমন, করিমন, অটোরিকশা) চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করা।
৩. দূরপাল্লার পরিবহনে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে লোকাল বা মাঝপথের যাত্রী পরিবহন বন্ধ করা।
এ ঘটনা প্রসঙ্গে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, পরিবহন মালিকদের তিন দফা দাবির বিষয়ে প্রশাসন অবগত রয়েছে। অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট এড়াতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
বরিশাল টাইমস

১৩ জুন, ২০২৬ ১৮:২৪
বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে তিন কেজি গাঁজাসহ এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি চাপাতি ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে অভিযানের মূল লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত মাদক কারবারি নজরুল বেপারী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) ভোররাত চারটার দিকে উপজেলার ওটরা ইউনিয়নের কেশবকাটি গ্রামে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল।
দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে নজরুল বেপারীর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিকালে বাড়ির ভেতর থেকে তিন কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে একটি চাপাতি ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযান চলাকালে মূল অভিযুক্ত নজরুল বেপারী কৌশলে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী মাহামুদা বেগমকে (৩৮) ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানান, উদ্ধার মাদক ও অস্ত্রের ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক নজরুল বেপারীকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে তিন কেজি গাঁজাসহ এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি চাপাতি ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে অভিযানের মূল লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত মাদক কারবারি নজরুল বেপারী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) ভোররাত চারটার দিকে উপজেলার ওটরা ইউনিয়নের কেশবকাটি গ্রামে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল।
দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে নজরুল বেপারীর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিকালে বাড়ির ভেতর থেকে তিন কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে একটি চাপাতি ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযান চলাকালে মূল অভিযুক্ত নজরুল বেপারী কৌশলে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী মাহামুদা বেগমকে (৩৮) ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানান, উদ্ধার মাদক ও অস্ত্রের ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক নজরুল বেপারীকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

১৩ জুন, ২০২৬ ১৫:০৪
বরিশালের গৌরনদীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে এক যুবককে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়েছে। মৃত ভেবে ফেলে যাওয়া ওই যুবকের নাম আরিফ আকন। তিনি বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে গৌরনদী উপজেলার গেরাকুল গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত আরিফ আকন ওই গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলাম আকনের একমাত্র ছেলে। কয়েক মাস আগে এক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আরিফের বাম হাত ভেঙে প্রায় অকেজো হয়ে যায়।
ভুক্তভোগী বড় বোন তিরা মনি বেগম জানান, তাদের পুরোনো বাড়ির সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে বাথরুম নির্মাণ করছিলেন প্রতিবেশী আনোয়ার আকনের ছেলে নসিমনচালক রুবেল আকন। বিষয়টি জানতে পেরে শুক্রবার সকালে আরিফ ঘটনাস্থলে যান। সেখানে রুবেলকে না পেয়ে তার পরিবারের সদস্যদের নির্মাণাধীন বাথরুমটি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন।
দুপুরে রুবেল বাড়িতে ফিরে বিষয়টি জানতে পেরে আরিফকে হত্যার হুমকি দেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিকেলে রুবেল ও তার কয়েকজন সহযোগী বাড়ির পাশে আরিফকে একা পেয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। তারা লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আরিফের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে মারাত্মক জখম করেন। একপর্যায়ে আরিফ সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে মৃত ভেবে হামলাকারীরা তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
পরে খবর পেয়ে আরিফের মা ও প্রতিবেশীরা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাতেই তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিরা মনি বেগম আরও জানান, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার ভাইয়ের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রুবেল আকনসহ তার সহযোগীরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিক হাসান রাসেল জানান, এই ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বরিশাল টাইমস
বরিশালের গৌরনদীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে এক যুবককে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়েছে। মৃত ভেবে ফেলে যাওয়া ওই যুবকের নাম আরিফ আকন। তিনি বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে গৌরনদী উপজেলার গেরাকুল গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত আরিফ আকন ওই গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলাম আকনের একমাত্র ছেলে। কয়েক মাস আগে এক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আরিফের বাম হাত ভেঙে প্রায় অকেজো হয়ে যায়।
ভুক্তভোগী বড় বোন তিরা মনি বেগম জানান, তাদের পুরোনো বাড়ির সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে বাথরুম নির্মাণ করছিলেন প্রতিবেশী আনোয়ার আকনের ছেলে নসিমনচালক রুবেল আকন। বিষয়টি জানতে পেরে শুক্রবার সকালে আরিফ ঘটনাস্থলে যান। সেখানে রুবেলকে না পেয়ে তার পরিবারের সদস্যদের নির্মাণাধীন বাথরুমটি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন।
দুপুরে রুবেল বাড়িতে ফিরে বিষয়টি জানতে পেরে আরিফকে হত্যার হুমকি দেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিকেলে রুবেল ও তার কয়েকজন সহযোগী বাড়ির পাশে আরিফকে একা পেয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। তারা লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আরিফের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে মারাত্মক জখম করেন। একপর্যায়ে আরিফ সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে মৃত ভেবে হামলাকারীরা তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
পরে খবর পেয়ে আরিফের মা ও প্রতিবেশীরা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাতেই তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিরা মনি বেগম আরও জানান, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার ভাইয়ের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রুবেল আকনসহ তার সহযোগীরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিক হাসান রাসেল জানান, এই ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বরিশাল টাইমস
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.