নিরপরাধ মানুষসহ আ’লীগের পলাতক নেতাকর্মীদের ঢালাওভাবে আসামি করা নিয়ে প্রশ্ন।
বরিশালের রায়পাশা-কড়াপুরে বিএনপি কর্মী দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী খুনের ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন নোংরা রাজনীতি শুরু হয়েছে। আলোচিত এ খুনের নেপথ্যে কে বা কারা এই তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করতে না পারলেও বিএনপির একটি অংশ প্রতিপক্ষ পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের ওপর দায় চাপানো চেষ্টা চালাচ্ছে।
পাশাপাশি মামলাটি নিয়ে বাণিজ্য করার অভিযোগও পাওয়া গেছে, যা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নানা আলোচনা শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের পক্ষে বর্তমান বাস্তবতায় বিএনপি কর্মী খুন করা সম্ভব কী না এমন প্রশ্নও তোলা হচ্ছে।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা রাতে বিএনপির সমর্থক গরু ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী খুনের এই ঘটনায় ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানা পুলিশ দুজন ফোরকান চৌধুরী এবং মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা বর্তমানে কারান্তরীণ আছে। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট আলোচিত এই খুনের রহস্য উন্মোচনে কাজ করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বোসেরহাট বাজারের ইজারাদার দেলোয়ার চৌধুরী ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা রাতে বাইসাইকেলযোগে বাসায় ফিরছিলেন। কিন্তু গন্তব্যে পৌছানোর আগেই তিনি স্থানীয় বড় আরিন্দা বাড়ি জামে মসজিদের কাছে খুন হন। ষাটোর্ধ্ব এই ব্যক্তির মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে অন্তত ৪/৫টি কোপ দেয় সন্ত্রাসীরা। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, গরু ব্যবসায়ী দেলোয়ার বাইসাইকেলযোগে বাসায় ফেরার পথে তাকে কেউ বা কারা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী কুপিয়ে হত্যা করে। এবং রক্তাক্ত লাশটি রাস্তার পাশে ডোবার ভেতরে ফেলে রেখে গেছে।
খুনের কিছুক্ষণ পরেই ঘটনাস্থলে লোকজন নিয়ে পৌছে যান ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বর হাবিবুর রহমান মিন্টু। এবং তিনি এই প্রাণবিয়োগের ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা জাকির চৌধুরী ও কবির চৌধুরীর নামটি সামনে নিয়ে আসেন। একই বাড়ির বাসিন্দা নিহত দেলোয়ার চৌধুরীর সাথে জমিসংক্রান্ত বিরোধ থাকলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন হওয়ার পর তারা পলাতক রয়েছেন।
এই মামলায় জামাল হোসেন নামের যাকে ১ নম্বর অভিযুক্ত করা হয়েছে, তিনি চৌধুরী বাড়ির মেয়ে জামাই। এছাড়া দুজন বিএনপির পদধারী নেতাকেও মামলায় আসামি করা হয়। শাহীন এবং রফিক নামের এই দুজন বিএনপি নেতাকে আসামি করায় বিতর্ক আরও জোরালো রূপ নেয়।
১ নং অভিযুক্ত জাকিরের স্বজনের অভিযোগ, দেলোয়ার চৌধুরী খুনের পর বোসেরহাট বাজারে তাদের মালিকানাধীন একটি দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়। এবং জাকিরকে মামলায় না জড়ানোর অভয় দিয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মেম্বর হাবিবুর রহমান মিন্টু ৫ লাখ টাকা দাবি করেন।
পুলিশ বলছে, আসামি করা নিয়ে বাণিজ্যের বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে শোনা যাচ্ছে। কিন্তু মামলায় যাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে, তা বাদী কমলা বেগমের সিদ্ধান্তে। ফলে এখানে পুলিশের করণীয় কিছু নেই। তাছাড়া এই হত্যাকান্ডে কারা জড়িত এবং কেনো দেলোয়ারকে খুন করা হলো তা পুলিশের তদন্তেই উঠে আসবে।
নিশ্চিত হওয়া গেছে, বিএনপি কর্মী খুনের আলোচিত এই মামলাটি পুলিশের উচ্চমহলের নির্দেশে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশও তদন্ত করছে। ডিবি পুলিশের ওসি ছগির হোসেনের নেতৃত্ব একটি টিম শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট বলছে, সবকিছু বিশ্লেষণ করে বলা যায়, দেলোয়ার চৌধুরীকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। এবং তাকে কোথায় ও কখন খুন করা হবে তা আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল বলে মনে হচ্ছে।
এই খুন আওয়ামী লীগের পলাতক নেতা কবির চৌধুরী এবং জামাল-সবুজদের নির্দেশে সন্ত্রাসীরা করেছে বলা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে মোড় ঘুরে যাওয়ার সম্ভবনা আছে। এক্ষেত্রে আলোচনায় আছে তৃতীয় একটি পক্ষ।
বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, স্বৈরাচারের দোষর পলাতক আওয়ামী লীগের নেতাদের ৫ একর ভূমি নিয়ে একটি বাড়ি রয়েছে, যেটি বিএনপি নেতা মিন্টু মেম্বরের বাসার কাছাকাছি।
এই ভূসম্পত্তি নিয়ে মিন্টু মেম্বরের বিরোধ চলছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন হলে দত্ত বাড়িটি দখল নিতে কয়েক দফা তোড়জোড় চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।
পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা জাকির চৌধুরীর স্বজনদের অভিযোগ, নিহত দেলোয়ার চৌধুরী তাদের স্বজন এবং তার সাথে জমিজমা নিয়ে কিছুটা বিরোধ ছিল। কিন্তু সেই বিরোধকে কেন্দ্র করে তাকে খুন করার মতো কিছু অতীতে বা বর্তমানে ঘটেনি।
তাদের অভিযোগ, কয়েক কোটি টাকা মূল্যের আলোচিত দত্ত বাড়িটি দখলে নিতে চাচাতো ভাই দেলোয়ার চৌধুরী খুনের মামলায় জড়িয়ে দৌড়ের ওপর রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি দত্ত বাড়ি দেখভালে জড়িতদের খুন-জখমের হুমকির দেওয়া হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
বাবার খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে স্থানীয় নোংরা রাজনীতি চলছে, তা খোদ দেলোয়ার চৌধুরীর ছেলে পুলিশ কনস্টেবল রায়হানও অনুমান করতে পেরেছেন। ক্ষুব্ধ রায়হান অভিযোগ করেন, ঘটনার চারদিনেও পুলিশ কোনো রহস্য উন্মোচন করতে পারেনি।
তবে যাদের মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে, তারা পলাতক থাকলেও এই খুনের সাথে জড়িত থাকার সম্ভবনা আছে। আবার তাদের ওপর দোষ চাপিয়ে অন্য কেউও ফায়দা লুটতে পারেন বলে সন্দেহ করেন তিনি। তবে রায়হান শুধু তার বাবার প্রকৃত খুনিকেই দেখতে চাইছেন।
দেলোয়ারের স্ত্রী কমলা বেগম এই মামলার বাদী হলেও তিনি আসামিদের কজনকে চেনেন না এবং তাদের নাম কি ভাবে আসল তাও বলতে পারছেন না। তিনি সাংবাদিকদের জানান, চাচাতো দেবরদের সাথে তার স্বামীর জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। তিনি তাদের নাম জানেন, মামলার এজাহারেও তা উল্লেখ করেছেন।
খুনের ঘটনাটি নিয়ে যে রাজনীতি হচ্ছে তা নিহতের স্ত্রীর বক্তব্যেও কিছুটা অনুমান করা গেছে। পুলিশ বলছে, মামলাটি গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের কোনো হস্তক্ষেপ ছিল না, বাদী যেভাবে এজাহার দিয়েছেন, সেভাবেই মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিমানবন্দর থানা পুলিশের ওসি মিজানুর রহমান জানান, খুনের ঘটনাটি নিয়ে তারা বিভিন্ন এঙ্গেলে কাজ শুরু করেছেন। পাশাপাশি গোয়েন্দাপুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও বেশ কয়েকটি ইউনিট কাজ করছে।
শনিবার সকালে ঘটনাস্থল ডোবা থেকে পুরুষ মানুষের তিনটি জুতা উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে একটি চাদর উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনার দিন ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে খুনিরা মোটরসাইকেলযোগে চাদরে ধারালো অস্ত্র মুড়িয়ে নিয়ে আসে এবং বড় আরিন্দা বাড়ি মসজিদের পাশে দেলোয়ারকে কুপিয়ে খুন করে।
দেলোয়ার চৌধুরীকে যে পূর্বপরিকল্পনার আলোকে খুন করা হয়, তা খোদ পুলিশও আচ করতে পেরেছে। পুলিশ কর্মকর্তা মিজান জানান, দেলোয়ার সেই রাতে সাথে করে দেড় লাখ টাকা নিয়ে বাসায় যাচ্ছিলেন। খুনের পরে তার পকেটেই টাকা পাওয়া যাওয়ায় পুলিশের এই সন্দেহ আরও জোরালো হয়।
তবে আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে, দেলোয়ার চৌধুরীকে যেখানে কুপিয়ে হত্যা করা হয়, তার আশেপাশে ২/১ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো সিসি ক্যামেরা নেই। আবার ২/৪টি প্রতিষ্ঠানে ক্যামেরা থাকলেও তা অকেজো হওয়ায় ভিডিও ধারণ হয়নি। ফলে এই খুনের ঘটনাটির রহস্য উন্মোচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রচন্ড বেগ পেতে হচ্ছে।
তবে তথ্য-প্রযুক্তির সহযোগিতায় খুব শিগগিরই খুনের নেপথ্য কী এবং কারা জড়িত তাদের সামনে আনতে পুলিশ সফল হবে মন্তব্য করেন ওসি মিজান। এবং এই খুনে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে যাদের নাম আলোচনায় আসছে, তারা জড়িত থাকলেও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না, জানান ওসি।’

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০৩
পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনার অবকাঠামোগত সক্ষমতা আরো বাড়াতে, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) বন্দর থানা ভবন (মেট্রো টাইপ-১) নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বন্দর থানা ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মঞ্জুর, এমপি।
এ সময় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্সহ বরিশাল পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এবং বিএমপি কমিশনার বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা থানার সার্বিক কার্যক্রম ও বিদ্যমান অবকাঠামোগত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
নতুন থানা ভবন নির্মাণের মাধ্যমে বন্দর থানার প্রশাসনিক কার্যক্রম বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনার অবকাঠামোগত সক্ষমতা আরো বাড়াতে, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) বন্দর থানা ভবন (মেট্রো টাইপ-১) নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বন্দর থানা ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মঞ্জুর, এমপি।
এ সময় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্সহ বরিশাল পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এবং বিএমপি কমিশনার বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা থানার সার্বিক কার্যক্রম ও বিদ্যমান অবকাঠামোগত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
নতুন থানা ভবন নির্মাণের মাধ্যমে বন্দর থানার প্রশাসনিক কার্যক্রম বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:০৯
বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর। তিনি বলেন, ‘অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে।’
আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল নগরের বন্দর থানা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্সে আছি। বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো কাজে যাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধেও সরকারের অবস্থান কঠোর।’
মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইতোমধ্যে পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলায় সভা হয়েছে জানিয়ে আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সভা করা হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
পরে প্রতিমন্ত্রী বরিশাল বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।’
বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর। তিনি বলেন, ‘অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে।’
আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল নগরের বন্দর থানা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্সে আছি। বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো কাজে যাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধেও সরকারের অবস্থান কঠোর।’
মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইতোমধ্যে পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলায় সভা হয়েছে জানিয়ে আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সভা করা হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
পরে প্রতিমন্ত্রী বরিশাল বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।’

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:২৫
বরিশালের উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তার সরকারি উন্নয়ন কাজের তদারকিতে গাফেলতিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত ও বিচারের দাবিতে উজিরপুর উপজেলার ধামুরা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রব হাওলাদারের ছেলে মো. মাছুম হাওলাদার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এ লিখিত আভিযোগ দিয়েছেন।
এতে তিনি আভিযোগ করেন উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় উজিরপুরে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থেকে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি সংক্রান্ত অপকর্মের সাথে জড়িত হয়ে পড়েছেন। তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারসহ বিভিন্ন কাজে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজসে সরকারের অর্থের অপচয়সহ নানা দুর্নীতি মূলক কর্মকান্ডের সাথে লিপ্ত রয়েছেন। যা তদন্ত করলেই প্রমান মিলবে। ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার সেগুন বাগিচাস্থ দুদকের প্রধান কর্য্যলয়ে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগটি করা হয়।
অভিযোগকারী মাছুম হাওলাদার বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দাপটের সাথে চাকুরি করা সুব্রত রায় তার তদারকিতে থাকা বিভিন্ন সড়ক, ব্রিজ ও কালর্ভাট নির্মাণে ঠিকাদারদের ব্যাপক অনিয়মকে অর্থের বিনিময়ে সহয়াতা করেন ।
বর্তমান সরকারের আমলেও তিনি উজিরপুরে একই ভাবে চাকুরি করছেন। তার কারনে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হচ্ছে। যা দুর্নীতির শামিল। উপজেলার ধামুরা এলাকার বেশ কয়েকটি ব্রিজের পুরাতন মালপত্র নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তার তদারকিতে থাকা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এসব অভিযোগ সত্য নয়, ভিত্তিহীন দাবি করে উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেন, উপজেলার ধামুরা এলাকায়।নির্মিত একটি ব্রিজের সম্প্রতি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে গেলে কিছু সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে মাছুম হাওলাদার কাজে বাধা দেন। কাগজপত্রে দেখা যায় ওটা খাস সম্পত্তি।
তারপরেও বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই অংশের কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়। ব্রিজের সংযোগ সড়কের এ সম্পত্তি নিয়ে ক্ষিপ্ত মাছুম হাওলাদার তাকে হয়রাণি ও তার পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুদকে এ অভিযোগ দিয়েছেন।’
বরিশালের উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তার সরকারি উন্নয়ন কাজের তদারকিতে গাফেলতিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত ও বিচারের দাবিতে উজিরপুর উপজেলার ধামুরা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রব হাওলাদারের ছেলে মো. মাছুম হাওলাদার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এ লিখিত আভিযোগ দিয়েছেন।
এতে তিনি আভিযোগ করেন উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় উজিরপুরে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থেকে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি সংক্রান্ত অপকর্মের সাথে জড়িত হয়ে পড়েছেন। তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারসহ বিভিন্ন কাজে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজসে সরকারের অর্থের অপচয়সহ নানা দুর্নীতি মূলক কর্মকান্ডের সাথে লিপ্ত রয়েছেন। যা তদন্ত করলেই প্রমান মিলবে। ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার সেগুন বাগিচাস্থ দুদকের প্রধান কর্য্যলয়ে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগটি করা হয়।
অভিযোগকারী মাছুম হাওলাদার বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দাপটের সাথে চাকুরি করা সুব্রত রায় তার তদারকিতে থাকা বিভিন্ন সড়ক, ব্রিজ ও কালর্ভাট নির্মাণে ঠিকাদারদের ব্যাপক অনিয়মকে অর্থের বিনিময়ে সহয়াতা করেন ।
বর্তমান সরকারের আমলেও তিনি উজিরপুরে একই ভাবে চাকুরি করছেন। তার কারনে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হচ্ছে। যা দুর্নীতির শামিল। উপজেলার ধামুরা এলাকার বেশ কয়েকটি ব্রিজের পুরাতন মালপত্র নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তার তদারকিতে থাকা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এসব অভিযোগ সত্য নয়, ভিত্তিহীন দাবি করে উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেন, উপজেলার ধামুরা এলাকায়।নির্মিত একটি ব্রিজের সম্প্রতি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে গেলে কিছু সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে মাছুম হাওলাদার কাজে বাধা দেন। কাগজপত্রে দেখা যায় ওটা খাস সম্পত্তি।
তারপরেও বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই অংশের কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়। ব্রিজের সংযোগ সড়কের এ সম্পত্তি নিয়ে ক্ষিপ্ত মাছুম হাওলাদার তাকে হয়রাণি ও তার পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুদকে এ অভিযোগ দিয়েছেন।’

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৩:০৫
বরিশালের রায়পাশা-কড়াপুরে বিএনপি কর্মী দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী খুনের ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন নোংরা রাজনীতি শুরু হয়েছে। আলোচিত এ খুনের নেপথ্যে কে বা কারা এই তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করতে না পারলেও বিএনপির একটি অংশ প্রতিপক্ষ পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের ওপর দায় চাপানো চেষ্টা চালাচ্ছে।
পাশাপাশি মামলাটি নিয়ে বাণিজ্য করার অভিযোগও পাওয়া গেছে, যা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নানা আলোচনা শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের পক্ষে বর্তমান বাস্তবতায় বিএনপি কর্মী খুন করা সম্ভব কী না এমন প্রশ্নও তোলা হচ্ছে।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা রাতে বিএনপির সমর্থক গরু ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী খুনের এই ঘটনায় ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানা পুলিশ দুজন ফোরকান চৌধুরী এবং মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা বর্তমানে কারান্তরীণ আছে। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট আলোচিত এই খুনের রহস্য উন্মোচনে কাজ করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বোসেরহাট বাজারের ইজারাদার দেলোয়ার চৌধুরী ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা রাতে বাইসাইকেলযোগে বাসায় ফিরছিলেন। কিন্তু গন্তব্যে পৌছানোর আগেই তিনি স্থানীয় বড় আরিন্দা বাড়ি জামে মসজিদের কাছে খুন হন। ষাটোর্ধ্ব এই ব্যক্তির মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে অন্তত ৪/৫টি কোপ দেয় সন্ত্রাসীরা। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, গরু ব্যবসায়ী দেলোয়ার বাইসাইকেলযোগে বাসায় ফেরার পথে তাকে কেউ বা কারা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী কুপিয়ে হত্যা করে। এবং রক্তাক্ত লাশটি রাস্তার পাশে ডোবার ভেতরে ফেলে রেখে গেছে।
খুনের কিছুক্ষণ পরেই ঘটনাস্থলে লোকজন নিয়ে পৌছে যান ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বর হাবিবুর রহমান মিন্টু। এবং তিনি এই প্রাণবিয়োগের ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা জাকির চৌধুরী ও কবির চৌধুরীর নামটি সামনে নিয়ে আসেন। একই বাড়ির বাসিন্দা নিহত দেলোয়ার চৌধুরীর সাথে জমিসংক্রান্ত বিরোধ থাকলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন হওয়ার পর তারা পলাতক রয়েছেন।
এই মামলায় জামাল হোসেন নামের যাকে ১ নম্বর অভিযুক্ত করা হয়েছে, তিনি চৌধুরী বাড়ির মেয়ে জামাই। এছাড়া দুজন বিএনপির পদধারী নেতাকেও মামলায় আসামি করা হয়। শাহীন এবং রফিক নামের এই দুজন বিএনপি নেতাকে আসামি করায় বিতর্ক আরও জোরালো রূপ নেয়।
১ নং অভিযুক্ত জাকিরের স্বজনের অভিযোগ, দেলোয়ার চৌধুরী খুনের পর বোসেরহাট বাজারে তাদের মালিকানাধীন একটি দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়। এবং জাকিরকে মামলায় না জড়ানোর অভয় দিয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মেম্বর হাবিবুর রহমান মিন্টু ৫ লাখ টাকা দাবি করেন।
পুলিশ বলছে, আসামি করা নিয়ে বাণিজ্যের বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে শোনা যাচ্ছে। কিন্তু মামলায় যাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে, তা বাদী কমলা বেগমের সিদ্ধান্তে। ফলে এখানে পুলিশের করণীয় কিছু নেই। তাছাড়া এই হত্যাকান্ডে কারা জড়িত এবং কেনো দেলোয়ারকে খুন করা হলো তা পুলিশের তদন্তেই উঠে আসবে।
নিশ্চিত হওয়া গেছে, বিএনপি কর্মী খুনের আলোচিত এই মামলাটি পুলিশের উচ্চমহলের নির্দেশে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশও তদন্ত করছে। ডিবি পুলিশের ওসি ছগির হোসেনের নেতৃত্ব একটি টিম শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট বলছে, সবকিছু বিশ্লেষণ করে বলা যায়, দেলোয়ার চৌধুরীকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। এবং তাকে কোথায় ও কখন খুন করা হবে তা আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল বলে মনে হচ্ছে।
এই খুন আওয়ামী লীগের পলাতক নেতা কবির চৌধুরী এবং জামাল-সবুজদের নির্দেশে সন্ত্রাসীরা করেছে বলা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে মোড় ঘুরে যাওয়ার সম্ভবনা আছে। এক্ষেত্রে আলোচনায় আছে তৃতীয় একটি পক্ষ।
বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, স্বৈরাচারের দোষর পলাতক আওয়ামী লীগের নেতাদের ৫ একর ভূমি নিয়ে একটি বাড়ি রয়েছে, যেটি বিএনপি নেতা মিন্টু মেম্বরের বাসার কাছাকাছি।
এই ভূসম্পত্তি নিয়ে মিন্টু মেম্বরের বিরোধ চলছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন হলে দত্ত বাড়িটি দখল নিতে কয়েক দফা তোড়জোড় চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।
পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা জাকির চৌধুরীর স্বজনদের অভিযোগ, নিহত দেলোয়ার চৌধুরী তাদের স্বজন এবং তার সাথে জমিজমা নিয়ে কিছুটা বিরোধ ছিল। কিন্তু সেই বিরোধকে কেন্দ্র করে তাকে খুন করার মতো কিছু অতীতে বা বর্তমানে ঘটেনি।
তাদের অভিযোগ, কয়েক কোটি টাকা মূল্যের আলোচিত দত্ত বাড়িটি দখলে নিতে চাচাতো ভাই দেলোয়ার চৌধুরী খুনের মামলায় জড়িয়ে দৌড়ের ওপর রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি দত্ত বাড়ি দেখভালে জড়িতদের খুন-জখমের হুমকির দেওয়া হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
বাবার খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে স্থানীয় নোংরা রাজনীতি চলছে, তা খোদ দেলোয়ার চৌধুরীর ছেলে পুলিশ কনস্টেবল রায়হানও অনুমান করতে পেরেছেন। ক্ষুব্ধ রায়হান অভিযোগ করেন, ঘটনার চারদিনেও পুলিশ কোনো রহস্য উন্মোচন করতে পারেনি।
তবে যাদের মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে, তারা পলাতক থাকলেও এই খুনের সাথে জড়িত থাকার সম্ভবনা আছে। আবার তাদের ওপর দোষ চাপিয়ে অন্য কেউও ফায়দা লুটতে পারেন বলে সন্দেহ করেন তিনি। তবে রায়হান শুধু তার বাবার প্রকৃত খুনিকেই দেখতে চাইছেন।
দেলোয়ারের স্ত্রী কমলা বেগম এই মামলার বাদী হলেও তিনি আসামিদের কজনকে চেনেন না এবং তাদের নাম কি ভাবে আসল তাও বলতে পারছেন না। তিনি সাংবাদিকদের জানান, চাচাতো দেবরদের সাথে তার স্বামীর জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। তিনি তাদের নাম জানেন, মামলার এজাহারেও তা উল্লেখ করেছেন।
খুনের ঘটনাটি নিয়ে যে রাজনীতি হচ্ছে তা নিহতের স্ত্রীর বক্তব্যেও কিছুটা অনুমান করা গেছে। পুলিশ বলছে, মামলাটি গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের কোনো হস্তক্ষেপ ছিল না, বাদী যেভাবে এজাহার দিয়েছেন, সেভাবেই মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিমানবন্দর থানা পুলিশের ওসি মিজানুর রহমান জানান, খুনের ঘটনাটি নিয়ে তারা বিভিন্ন এঙ্গেলে কাজ শুরু করেছেন। পাশাপাশি গোয়েন্দাপুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও বেশ কয়েকটি ইউনিট কাজ করছে।
শনিবার সকালে ঘটনাস্থল ডোবা থেকে পুরুষ মানুষের তিনটি জুতা উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে একটি চাদর উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনার দিন ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে খুনিরা মোটরসাইকেলযোগে চাদরে ধারালো অস্ত্র মুড়িয়ে নিয়ে আসে এবং বড় আরিন্দা বাড়ি মসজিদের পাশে দেলোয়ারকে কুপিয়ে খুন করে।
দেলোয়ার চৌধুরীকে যে পূর্বপরিকল্পনার আলোকে খুন করা হয়, তা খোদ পুলিশও আচ করতে পেরেছে। পুলিশ কর্মকর্তা মিজান জানান, দেলোয়ার সেই রাতে সাথে করে দেড় লাখ টাকা নিয়ে বাসায় যাচ্ছিলেন। খুনের পরে তার পকেটেই টাকা পাওয়া যাওয়ায় পুলিশের এই সন্দেহ আরও জোরালো হয়।
তবে আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে, দেলোয়ার চৌধুরীকে যেখানে কুপিয়ে হত্যা করা হয়, তার আশেপাশে ২/১ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো সিসি ক্যামেরা নেই। আবার ২/৪টি প্রতিষ্ঠানে ক্যামেরা থাকলেও তা অকেজো হওয়ায় ভিডিও ধারণ হয়নি। ফলে এই খুনের ঘটনাটির রহস্য উন্মোচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রচন্ড বেগ পেতে হচ্ছে।
তবে তথ্য-প্রযুক্তির সহযোগিতায় খুব শিগগিরই খুনের নেপথ্য কী এবং কারা জড়িত তাদের সামনে আনতে পুলিশ সফল হবে মন্তব্য করেন ওসি মিজান। এবং এই খুনে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে যাদের নাম আলোচনায় আসছে, তারা জড়িত থাকলেও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না, জানান ওসি।’
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৫৮
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৩৬
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:৫২
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:২১