নির্বাচন এলেই রাজনীতির মাঠে টাকার ঝনঝনানি ওঠে। কোটি কোটি টাকার হিসাব আর অদৃশ্য লেনদেনের কালো ছায়া নির্বাচনী পরিবেশকে গ্রাস করে। প্রচারণা মানেই তখন ব্যানার, ফেস্টুন, হ্যান্ডবিল, কর্মী নামানোর খরচ; উঠান বৈঠকের আড়ালে ব্যয়বহুল আয়োজন। ভোটের রাজনীতির এই চেনা ছবিতেই অভ্যস্ত মানুষ।
এমন কাঠামোর মধ্যেই বরিশালে তৈরি হয়েছে এক ভিন্ন গল্প। সেখানে নেই কোনো শিল্পগোষ্ঠী, নেই প্রভাবশালী দাতার নাম। রয়েছে শুধু মাটির ব্যাংক আর দুই থেকে ১০ টাকার ক্ষুদ্র সঞ্চয়, যার প্রতিটি নোটে মিশে আছে খেটে খাওয়া মানুষের ঘাম।
নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী ব্যয় মেটাতে এই পথ বেছে নিয়েছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)।
প্রচলিত রাজনৈতিক অর্থনীতিকে সরাসরি প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে মাটির ব্যাংক মডেল।
‘জনগণের টাকায় নির্বাচন করবেন জনগণের প্রার্থী’— এই স্লোগান শুধু বক্তব্যে নয়, বাস্তবেও প্রয়োগ করা হচ্ছে। বরিশাল-৫ আসনে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট সমর্থিত ও বাসদ মনোনীত প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তী এই মডেলের উদ্যেক্তা।
মাসখানেক আগে নগরীর রিকশা গ্যারেজ, হোটেল, ছোট দোকান আর সাধারণ মানুষের বাড়িতে কয়েক শ মাটির ব্যাংক পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। কেউ নিজের আয় থেকে প্রতিদিন দুই টাকা করে জমিয়েছেন, কেউ পাঁচ টাকা, কেউ বা ১০ টাকা, টাকার অঙ্কে যা খুবই ছোট, কিন্তু প্রতীকে অনেক বড়।
মনীষার এই উদ্যোগ নিয়ে গত ২১ ডিসেম্বর কালের কণ্ঠে ‘মাটির ব্যাংকে ভোটের খরচ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বরিশাল জেলা বাসদ কার্যালয়ে সেই মাটির ব্যাংকগুলো ভাঙা হয়। একে একে ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে কয়েন আর নোট। প্রতিটি মুদ্রাই যেন প্রচলিত রাজনীতির বিরুদ্ধে একটি নীরব প্রতিবাদ।
ডা. মনীষা বলেন, এটি শুধু অর্থ সংগ্রহের পদ্ধতি নয়, নির্বাচনকে ‘ব্যবসা’ থেকে আলাদা করার রাজনৈতিক প্রয়াস। তাঁর ভাষায়, পুঁজিপতিরা বিনিয়োগের মতো করে নির্বাচনে টাকা ঢালেন। অনেক সময় কালো টাকা ছড়ানো হয়। পরে ক্ষমতায় গিয়ে সেই টাকা বহু গুণে তুলে নেওয়া হয়। এই চক্র ভাঙতেই সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকায় নির্বাচনের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।
বরিশাল মহিলা পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শাহ সাজেদা মনে করেন, এই উদ্যোগ রাজনীতির দায়বদ্ধতার প্রশ্নটিকে সামনে নিয়ে এসেছে। তাঁর মতে, বড় দাতার অর্থ মানেই ভবিষ্যতের সমঝোতা ও দেনাপাওনা। সেখানে রিকশাচালক বা দোকানির দেওয়া পাঁচ টাকার অনুদান কোনো সুবিধা দাবি করে না। বরং এই ক্ষুদ্র দান প্রার্থীকে জনগণের কাছে আরো বেশি জবাবদিহির মধ্যে রাখে।
মাটির ব্যাংকে ভোটের খরচ
মনীষা বলেন, এই নির্বাচন আমাদের কাছে শুধু ক্ষমতার হিসাব নয়, রাজনীতির চরিত্র বদলানোর চেষ্টা। এখানে নেই করপোরেট অর্থ, নেই প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর অনুগ্রহ। সাধারণ মানুষের ছোট ছোট সহায়তার ওপর ভর করেই চলছে পুরো নির্বাচনী কার্যক্রম। সেই ভাবনা থেকেই মাটির ব্যাংকের ধারণা।
মনীষা আরো বলেন, সংসদ যেহেতু জনগণের, সেখানে প্রতিনিধিরা যাবেন জনগণের কথাই বলতে। তাই সেই যাত্রার ব্যয়ও জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণে হওয়াই স্বাভাবিক। এই উদ্যোগ প্রচলিত টাকার খেলা, পেশিশক্তি আর ভোট কেনাবেচার রাজনীতির ঠিক উল্টো ছবি তুলে ধরে।
মনীষা জানান, নির্বাচনী ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৫ লাখ টাকা। এখন পর্যন্ত নগদ সংগ্রহ হয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। তবে তাঁর মতে, অর্থের চেয়েও বড় অবদান স্বেচ্ছাসেবকদের। কেউ নিজের গাড়ি নিয়ে প্রচারণায় নেমেছেন, কেউ রিকশা বা ইজি বাইক নিয়ে এলাকায় এলাকায় ঘুরছেন। কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই চলছে এই কাজ, ফলে ব্যয় যেমন কমছে, তেমনি তৈরি হচ্ছে অংশগ্রহণের এক নতুন রাজনীতি।
এ লড়াই কেন, কার বিরুদ্ধে- এমন প্রশ্নের জবাবে মনীষা বলেন, এই লড়াই কোনো একক দলের বিরুদ্ধে নয়। এই লড়াই সেই রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে, যেখানে কর্মী নামাতে টাকা লাগে, ভোটের আগে চলে নগদ বণ্টন। জয়-পরাজয়ের হিসাবের বাইরেও এই সংগ্রামের লক্ষ্য লুটপাটের রাজনীতি ও পুরনো ব্যবস্থার বদল।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, এই মডেল কতটা টেকসই হবে বা মূল ধারার রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে। তবে কালো টাকার দাপটের রাজনীতিতে মাটির ব্যাংক অন্তত একটি নৈতিক প্রতিবাদ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। আর এই নীরব প্রতিবাদই হয়তো আজকের রাজনীতিতে সবচেয়ে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে।

০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:২২
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সম্মুখে যুবকদের দুটি গ্রুপ শুক্রবার মধ্য রাতে হঠাৎ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। লাঠিসোঠা নিয়ে উভয়গ্রুপের ঘণ্টাব্যাপি পাল্টাপাল্টি ধাওয়া-ইটপাটকেল নিক্ষেপে ভিসি গেটসংলগ্ন বরিশাল-কুয়াকাটা আঞ্চলিক সড়কসহ আশপাশ এলাকাসমূহে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে মেট্রোপলিটন বন্দর (সাহেবেরহাট) পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও নৈরাজ্যে কারা জড়িত তা নিশ্চিত বলতে পারছে না।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি গেটের বিপরিত পাশের একটি মেসে অবস্থানরত বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের দুটি গ্রুপ আকস্মিক লাঠিসোঠা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এবং একপর্যায়ে দুটি গ্রুপ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় লিপ্ত হওয়ার পাশাপাশি একে অপরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়েছেন। তখন পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, ঘণ্টাখানেক ধরে এমন পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
শুক্রবার রাত ১০টার এই সংঘাতে কারা জড়িত তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র বলছে, ১ নম্বর গেটের বিপরিত পাশের মেস থেকে সংঘাতের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে তা ব্যাপক আকারে রূপ এবং তার আভা বাইরে ছড়িয়ে পড়ে অর্থাৎ দুটি গ্রুপ বিশ্ববিদ্যালয় সম্মুখ সড়কে প্রকাশ্য সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন। মেসের অভ্যন্তরে দরজার ছিটকিনি আটকানোকে কেন্দ্র করে সমাজবিজ্ঞান এবং অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হয় বলে সূত্রটি দাবি করেছে।
তবে এই সংঘাতে কারা জড়িত সেই খবর তাৎক্ষণিক নিশ্চিত করতে না পারলেও সূত্রগুলো গভীর রাতে জানিয়েছে, প্রথমে সংঘাতটি সমাজবিজ্ঞান এবং অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে থাকলেও পর্যায়ক্রমে আরও কয়েকটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা জড়িয়ে উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলেন।
সবশেষ রাত ১২টার সময় খবর নিয়ে জানা গেছে, অর্থনীতি বিভাগের একদল শিক্ষার্থী লাঠিসোটা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি গেটের বিপরিত পাশে ছাতিমতলা এলাকায় অবস্থান নিয়ে আছেন। অনুরূপভাবে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটসংলগ্ন ভোলার রোড এলাকায় অবস্থান করছেন। শিক্ষার্থীদের দুটি গ্রুপের এই মুখোমুখি অবস্থান রাতে ফের সংঘাতের আশঙ্কা বদ্ধমূল করে তুলেছে, পুলিশও আছে সতর্ক।
পুলিশের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও শিক্ষার্থীদের এই সংঘাত রোধে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেন সহকারী প্রক্টর ড. গাজী সাখাওয়াত হোসেন। তবে ঘটনায় কারা জড়িত তিনিও সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি।
বরিশাল মেট্রোপলিটন বন্দর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেনও অনুরূপ তথ্য দিয়েছেন। পুলিশ কর্মকর্তা বরিশালটাইমসকে জানান, দুটি গ্রুপ মুখোমুখি হয়ে আছেন, তাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাশাপাশি তারাও কাজ করছেন। তবে কি কারণে এবং কারা গভীর রাতে সংঘাতে জড়ালেন তা সুনিশ্চিত বলা সম্ভব হচ্ছে না, মন্তব্য করেন ওসি।’
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সম্মুখে যুবকদের দুটি গ্রুপ শুক্রবার মধ্য রাতে হঠাৎ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। লাঠিসোঠা নিয়ে উভয়গ্রুপের ঘণ্টাব্যাপি পাল্টাপাল্টি ধাওয়া-ইটপাটকেল নিক্ষেপে ভিসি গেটসংলগ্ন বরিশাল-কুয়াকাটা আঞ্চলিক সড়কসহ আশপাশ এলাকাসমূহে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে মেট্রোপলিটন বন্দর (সাহেবেরহাট) পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও নৈরাজ্যে কারা জড়িত তা নিশ্চিত বলতে পারছে না।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি গেটের বিপরিত পাশের একটি মেসে অবস্থানরত বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের দুটি গ্রুপ আকস্মিক লাঠিসোঠা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এবং একপর্যায়ে দুটি গ্রুপ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় লিপ্ত হওয়ার পাশাপাশি একে অপরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়েছেন। তখন পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, ঘণ্টাখানেক ধরে এমন পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
শুক্রবার রাত ১০টার এই সংঘাতে কারা জড়িত তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র বলছে, ১ নম্বর গেটের বিপরিত পাশের মেস থেকে সংঘাতের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে তা ব্যাপক আকারে রূপ এবং তার আভা বাইরে ছড়িয়ে পড়ে অর্থাৎ দুটি গ্রুপ বিশ্ববিদ্যালয় সম্মুখ সড়কে প্রকাশ্য সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন। মেসের অভ্যন্তরে দরজার ছিটকিনি আটকানোকে কেন্দ্র করে সমাজবিজ্ঞান এবং অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হয় বলে সূত্রটি দাবি করেছে।
তবে এই সংঘাতে কারা জড়িত সেই খবর তাৎক্ষণিক নিশ্চিত করতে না পারলেও সূত্রগুলো গভীর রাতে জানিয়েছে, প্রথমে সংঘাতটি সমাজবিজ্ঞান এবং অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে থাকলেও পর্যায়ক্রমে আরও কয়েকটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা জড়িয়ে উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলেন।
সবশেষ রাত ১২টার সময় খবর নিয়ে জানা গেছে, অর্থনীতি বিভাগের একদল শিক্ষার্থী লাঠিসোটা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি গেটের বিপরিত পাশে ছাতিমতলা এলাকায় অবস্থান নিয়ে আছেন। অনুরূপভাবে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটসংলগ্ন ভোলার রোড এলাকায় অবস্থান করছেন। শিক্ষার্থীদের দুটি গ্রুপের এই মুখোমুখি অবস্থান রাতে ফের সংঘাতের আশঙ্কা বদ্ধমূল করে তুলেছে, পুলিশও আছে সতর্ক।
পুলিশের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও শিক্ষার্থীদের এই সংঘাত রোধে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেন সহকারী প্রক্টর ড. গাজী সাখাওয়াত হোসেন। তবে ঘটনায় কারা জড়িত তিনিও সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি।
বরিশাল মেট্রোপলিটন বন্দর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেনও অনুরূপ তথ্য দিয়েছেন। পুলিশ কর্মকর্তা বরিশালটাইমসকে জানান, দুটি গ্রুপ মুখোমুখি হয়ে আছেন, তাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাশাপাশি তারাও কাজ করছেন। তবে কি কারণে এবং কারা গভীর রাতে সংঘাতে জড়ালেন তা সুনিশ্চিত বলা সম্ভব হচ্ছে না, মন্তব্য করেন ওসি।’

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৪৬
বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইউরো স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে পাঁচজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গৌরনদী উপজেলার আশোকাঠী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে ঢাকাগামী ইউরো স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১২-২৭৯৫) আশোকাঠী এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়।
দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন অফিসার মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দুর্ঘটনাকবলিত বাস থেকে আহতদের উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন গৌরনদীর মো. মাহবুব (৩৯) ও শিশু আব্দুর রহমান (২), বরিশালের মনিরুজ্জামান (৩৮) ও মমতাজ বেগম (৬০) এবং চট্টগ্রামের জামাল হোসেন (৩৩)।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তথ্যমতে, দুর্ঘটনায় মোট পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, একজন নারী ও একজন শিশু। এ ঘটনায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইউরো স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে পাঁচজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গৌরনদী উপজেলার আশোকাঠী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে ঢাকাগামী ইউরো স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১২-২৭৯৫) আশোকাঠী এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়।
দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন অফিসার মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দুর্ঘটনাকবলিত বাস থেকে আহতদের উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন গৌরনদীর মো. মাহবুব (৩৯) ও শিশু আব্দুর রহমান (২), বরিশালের মনিরুজ্জামান (৩৮) ও মমতাজ বেগম (৬০) এবং চট্টগ্রামের জামাল হোসেন (৩৩)।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তথ্যমতে, দুর্ঘটনায় মোট পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, একজন নারী ও একজন শিশু। এ ঘটনায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৩৭
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ধামুড়া-শোলক সড়কে প্রায় ৬ কোটি ৮৩ লাখ ৩৯ হাজার ৫৩৫ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু দেড় বছর ধরে পড়ে আছে সংযোগ সড়কের অভাবে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিত সেতুটি এখনো যান চলাচলের জন্য কার্যকর না হওয়ায় স্থানীয় মানুষের কোনো কাজে আসছে না।
এদিকে সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ নিয়ে দেখা দিয়েছে নতুন জটিলতা।
স্থানীয় জমির মালিকদের অভিযোগ, যথাযথ জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে জমির মালিকদের চাপ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সেতু নির্মাণের আগে সংযোগ সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় জমির বিষয়টি যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে সেতু নির্মাণ শেষ হলেও দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় সেটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
জমির মালিক আঃ রব হাওলাদার অভিযোগ করেন, সেতু নির্মাণের সময় তার জমির ওপর দিয়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণের বিষয়ে আপত্তি জানালে প্রকৌশলী সুব্রত রায় সরকারি নিয়মে জমি অধিগ্রহণ করে নেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে তার দাবি।
আঃ রব হাওলাদারের অভিযোগ, বর্তমানে জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি না হয়ে বরং মামলা করার হুমকি ও বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এমনকি স্বেচ্ছায় জমি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্যও চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় জমির মালিকদের প্রশ্ন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ব্যবহার করা হবে কি না। তাদের দাবি, উন্নয়ন প্রকল্প হলেও জমির মালিকের সম্পত্তির অধিকার এবং প্রচলিত আইন মেনেই জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সেতু নির্মাণের সময়ই সংযোগ সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় জমি, মালিকানা ও ভূমি ব্যবস্থাপনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হলে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। এখন প্রকল্পের সেই ঘাটতির দায় সাধারণ জমির মালিকদের ওপর চাপানো হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ অবস্থায় সংযোগ সড়কের কাজ শুরুর আগে প্রকল্পের নকশা, জমির দাগ-খতিয়ান, মালিকানা এবং জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত নথি প্রকাশ্যে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে কোনো কাজ না করার দাবি তাদের।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করা না হলে জমির মালিকদের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বড় ধরনের বিরোধ সৃষ্টি হতে পারে। এ জন্য জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরেজমিন তদন্ত দাবি করেছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে যুক্ত করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি উন্নয়নের নামে জমি দখল নয়, আইনানুগভাবে জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করে দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হোক।
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ধামুড়া-শোলক সড়কে প্রায় ৬ কোটি ৮৩ লাখ ৩৯ হাজার ৫৩৫ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু দেড় বছর ধরে পড়ে আছে সংযোগ সড়কের অভাবে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিত সেতুটি এখনো যান চলাচলের জন্য কার্যকর না হওয়ায় স্থানীয় মানুষের কোনো কাজে আসছে না।
এদিকে সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ নিয়ে দেখা দিয়েছে নতুন জটিলতা।
স্থানীয় জমির মালিকদের অভিযোগ, যথাযথ জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে জমির মালিকদের চাপ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সেতু নির্মাণের আগে সংযোগ সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় জমির বিষয়টি যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে সেতু নির্মাণ শেষ হলেও দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় সেটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
জমির মালিক আঃ রব হাওলাদার অভিযোগ করেন, সেতু নির্মাণের সময় তার জমির ওপর দিয়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণের বিষয়ে আপত্তি জানালে প্রকৌশলী সুব্রত রায় সরকারি নিয়মে জমি অধিগ্রহণ করে নেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে তার দাবি।
আঃ রব হাওলাদারের অভিযোগ, বর্তমানে জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি না হয়ে বরং মামলা করার হুমকি ও বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এমনকি স্বেচ্ছায় জমি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্যও চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় জমির মালিকদের প্রশ্ন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ব্যবহার করা হবে কি না। তাদের দাবি, উন্নয়ন প্রকল্প হলেও জমির মালিকের সম্পত্তির অধিকার এবং প্রচলিত আইন মেনেই জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সেতু নির্মাণের সময়ই সংযোগ সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় জমি, মালিকানা ও ভূমি ব্যবস্থাপনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হলে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। এখন প্রকল্পের সেই ঘাটতির দায় সাধারণ জমির মালিকদের ওপর চাপানো হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ অবস্থায় সংযোগ সড়কের কাজ শুরুর আগে প্রকল্পের নকশা, জমির দাগ-খতিয়ান, মালিকানা এবং জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত নথি প্রকাশ্যে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে কোনো কাজ না করার দাবি তাদের।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করা না হলে জমির মালিকদের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বড় ধরনের বিরোধ সৃষ্টি হতে পারে। এ জন্য জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরেজমিন তদন্ত দাবি করেছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে যুক্ত করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি উন্নয়নের নামে জমি দখল নয়, আইনানুগভাবে জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করে দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হোক।

৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৩:১৫
নির্বাচন এলেই রাজনীতির মাঠে টাকার ঝনঝনানি ওঠে। কোটি কোটি টাকার হিসাব আর অদৃশ্য লেনদেনের কালো ছায়া নির্বাচনী পরিবেশকে গ্রাস করে। প্রচারণা মানেই তখন ব্যানার, ফেস্টুন, হ্যান্ডবিল, কর্মী নামানোর খরচ; উঠান বৈঠকের আড়ালে ব্যয়বহুল আয়োজন। ভোটের রাজনীতির এই চেনা ছবিতেই অভ্যস্ত মানুষ।
এমন কাঠামোর মধ্যেই বরিশালে তৈরি হয়েছে এক ভিন্ন গল্প। সেখানে নেই কোনো শিল্পগোষ্ঠী, নেই প্রভাবশালী দাতার নাম। রয়েছে শুধু মাটির ব্যাংক আর দুই থেকে ১০ টাকার ক্ষুদ্র সঞ্চয়, যার প্রতিটি নোটে মিশে আছে খেটে খাওয়া মানুষের ঘাম।
নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী ব্যয় মেটাতে এই পথ বেছে নিয়েছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)।
প্রচলিত রাজনৈতিক অর্থনীতিকে সরাসরি প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে মাটির ব্যাংক মডেল।
‘জনগণের টাকায় নির্বাচন করবেন জনগণের প্রার্থী’— এই স্লোগান শুধু বক্তব্যে নয়, বাস্তবেও প্রয়োগ করা হচ্ছে। বরিশাল-৫ আসনে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট সমর্থিত ও বাসদ মনোনীত প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তী এই মডেলের উদ্যেক্তা।
মাসখানেক আগে নগরীর রিকশা গ্যারেজ, হোটেল, ছোট দোকান আর সাধারণ মানুষের বাড়িতে কয়েক শ মাটির ব্যাংক পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। কেউ নিজের আয় থেকে প্রতিদিন দুই টাকা করে জমিয়েছেন, কেউ পাঁচ টাকা, কেউ বা ১০ টাকা, টাকার অঙ্কে যা খুবই ছোট, কিন্তু প্রতীকে অনেক বড়।
মনীষার এই উদ্যোগ নিয়ে গত ২১ ডিসেম্বর কালের কণ্ঠে ‘মাটির ব্যাংকে ভোটের খরচ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বরিশাল জেলা বাসদ কার্যালয়ে সেই মাটির ব্যাংকগুলো ভাঙা হয়। একে একে ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে কয়েন আর নোট। প্রতিটি মুদ্রাই যেন প্রচলিত রাজনীতির বিরুদ্ধে একটি নীরব প্রতিবাদ।
ডা. মনীষা বলেন, এটি শুধু অর্থ সংগ্রহের পদ্ধতি নয়, নির্বাচনকে ‘ব্যবসা’ থেকে আলাদা করার রাজনৈতিক প্রয়াস। তাঁর ভাষায়, পুঁজিপতিরা বিনিয়োগের মতো করে নির্বাচনে টাকা ঢালেন। অনেক সময় কালো টাকা ছড়ানো হয়। পরে ক্ষমতায় গিয়ে সেই টাকা বহু গুণে তুলে নেওয়া হয়। এই চক্র ভাঙতেই সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকায় নির্বাচনের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।
বরিশাল মহিলা পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শাহ সাজেদা মনে করেন, এই উদ্যোগ রাজনীতির দায়বদ্ধতার প্রশ্নটিকে সামনে নিয়ে এসেছে। তাঁর মতে, বড় দাতার অর্থ মানেই ভবিষ্যতের সমঝোতা ও দেনাপাওনা। সেখানে রিকশাচালক বা দোকানির দেওয়া পাঁচ টাকার অনুদান কোনো সুবিধা দাবি করে না। বরং এই ক্ষুদ্র দান প্রার্থীকে জনগণের কাছে আরো বেশি জবাবদিহির মধ্যে রাখে।
মাটির ব্যাংকে ভোটের খরচ
মনীষা বলেন, এই নির্বাচন আমাদের কাছে শুধু ক্ষমতার হিসাব নয়, রাজনীতির চরিত্র বদলানোর চেষ্টা। এখানে নেই করপোরেট অর্থ, নেই প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর অনুগ্রহ। সাধারণ মানুষের ছোট ছোট সহায়তার ওপর ভর করেই চলছে পুরো নির্বাচনী কার্যক্রম। সেই ভাবনা থেকেই মাটির ব্যাংকের ধারণা।
মনীষা আরো বলেন, সংসদ যেহেতু জনগণের, সেখানে প্রতিনিধিরা যাবেন জনগণের কথাই বলতে। তাই সেই যাত্রার ব্যয়ও জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণে হওয়াই স্বাভাবিক। এই উদ্যোগ প্রচলিত টাকার খেলা, পেশিশক্তি আর ভোট কেনাবেচার রাজনীতির ঠিক উল্টো ছবি তুলে ধরে।
মনীষা জানান, নির্বাচনী ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৫ লাখ টাকা। এখন পর্যন্ত নগদ সংগ্রহ হয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। তবে তাঁর মতে, অর্থের চেয়েও বড় অবদান স্বেচ্ছাসেবকদের। কেউ নিজের গাড়ি নিয়ে প্রচারণায় নেমেছেন, কেউ রিকশা বা ইজি বাইক নিয়ে এলাকায় এলাকায় ঘুরছেন। কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই চলছে এই কাজ, ফলে ব্যয় যেমন কমছে, তেমনি তৈরি হচ্ছে অংশগ্রহণের এক নতুন রাজনীতি।
এ লড়াই কেন, কার বিরুদ্ধে- এমন প্রশ্নের জবাবে মনীষা বলেন, এই লড়াই কোনো একক দলের বিরুদ্ধে নয়। এই লড়াই সেই রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে, যেখানে কর্মী নামাতে টাকা লাগে, ভোটের আগে চলে নগদ বণ্টন। জয়-পরাজয়ের হিসাবের বাইরেও এই সংগ্রামের লক্ষ্য লুটপাটের রাজনীতি ও পুরনো ব্যবস্থার বদল।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, এই মডেল কতটা টেকসই হবে বা মূল ধারার রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে। তবে কালো টাকার দাপটের রাজনীতিতে মাটির ব্যাংক অন্তত একটি নৈতিক প্রতিবাদ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। আর এই নীরব প্রতিবাদই হয়তো আজকের রাজনীতিতে সবচেয়ে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:১২
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:০৩
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:০০
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:১৯