Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.

৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৩:১৫
নির্বাচন এলেই রাজনীতির মাঠে টাকার ঝনঝনানি ওঠে। কোটি কোটি টাকার হিসাব আর অদৃশ্য লেনদেনের কালো ছায়া নির্বাচনী পরিবেশকে গ্রাস করে। প্রচারণা মানেই তখন ব্যানার, ফেস্টুন, হ্যান্ডবিল, কর্মী নামানোর খরচ; উঠান বৈঠকের আড়ালে ব্যয়বহুল আয়োজন। ভোটের রাজনীতির এই চেনা ছবিতেই অভ্যস্ত মানুষ।
এমন কাঠামোর মধ্যেই বরিশালে তৈরি হয়েছে এক ভিন্ন গল্প। সেখানে নেই কোনো শিল্পগোষ্ঠী, নেই প্রভাবশালী দাতার নাম। রয়েছে শুধু মাটির ব্যাংক আর দুই থেকে ১০ টাকার ক্ষুদ্র সঞ্চয়, যার প্রতিটি নোটে মিশে আছে খেটে খাওয়া মানুষের ঘাম।
নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী ব্যয় মেটাতে এই পথ বেছে নিয়েছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)।
প্রচলিত রাজনৈতিক অর্থনীতিকে সরাসরি প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে মাটির ব্যাংক মডেল।
‘জনগণের টাকায় নির্বাচন করবেন জনগণের প্রার্থী’— এই স্লোগান শুধু বক্তব্যে নয়, বাস্তবেও প্রয়োগ করা হচ্ছে। বরিশাল-৫ আসনে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট সমর্থিত ও বাসদ মনোনীত প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তী এই মডেলের উদ্যেক্তা।
মাসখানেক আগে নগরীর রিকশা গ্যারেজ, হোটেল, ছোট দোকান আর সাধারণ মানুষের বাড়িতে কয়েক শ মাটির ব্যাংক পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। কেউ নিজের আয় থেকে প্রতিদিন দুই টাকা করে জমিয়েছেন, কেউ পাঁচ টাকা, কেউ বা ১০ টাকা, টাকার অঙ্কে যা খুবই ছোট, কিন্তু প্রতীকে অনেক বড়।
মনীষার এই উদ্যোগ নিয়ে গত ২১ ডিসেম্বর কালের কণ্ঠে ‘মাটির ব্যাংকে ভোটের খরচ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বরিশাল জেলা বাসদ কার্যালয়ে সেই মাটির ব্যাংকগুলো ভাঙা হয়। একে একে ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে কয়েন আর নোট। প্রতিটি মুদ্রাই যেন প্রচলিত রাজনীতির বিরুদ্ধে একটি নীরব প্রতিবাদ।
ডা. মনীষা বলেন, এটি শুধু অর্থ সংগ্রহের পদ্ধতি নয়, নির্বাচনকে ‘ব্যবসা’ থেকে আলাদা করার রাজনৈতিক প্রয়াস। তাঁর ভাষায়, পুঁজিপতিরা বিনিয়োগের মতো করে নির্বাচনে টাকা ঢালেন। অনেক সময় কালো টাকা ছড়ানো হয়। পরে ক্ষমতায় গিয়ে সেই টাকা বহু গুণে তুলে নেওয়া হয়। এই চক্র ভাঙতেই সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকায় নির্বাচনের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।
বরিশাল মহিলা পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শাহ সাজেদা মনে করেন, এই উদ্যোগ রাজনীতির দায়বদ্ধতার প্রশ্নটিকে সামনে নিয়ে এসেছে। তাঁর মতে, বড় দাতার অর্থ মানেই ভবিষ্যতের সমঝোতা ও দেনাপাওনা। সেখানে রিকশাচালক বা দোকানির দেওয়া পাঁচ টাকার অনুদান কোনো সুবিধা দাবি করে না। বরং এই ক্ষুদ্র দান প্রার্থীকে জনগণের কাছে আরো বেশি জবাবদিহির মধ্যে রাখে।
মাটির ব্যাংকে ভোটের খরচ
মনীষা বলেন, এই নির্বাচন আমাদের কাছে শুধু ক্ষমতার হিসাব নয়, রাজনীতির চরিত্র বদলানোর চেষ্টা। এখানে নেই করপোরেট অর্থ, নেই প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর অনুগ্রহ। সাধারণ মানুষের ছোট ছোট সহায়তার ওপর ভর করেই চলছে পুরো নির্বাচনী কার্যক্রম। সেই ভাবনা থেকেই মাটির ব্যাংকের ধারণা।
মনীষা আরো বলেন, সংসদ যেহেতু জনগণের, সেখানে প্রতিনিধিরা যাবেন জনগণের কথাই বলতে। তাই সেই যাত্রার ব্যয়ও জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণে হওয়াই স্বাভাবিক। এই উদ্যোগ প্রচলিত টাকার খেলা, পেশিশক্তি আর ভোট কেনাবেচার রাজনীতির ঠিক উল্টো ছবি তুলে ধরে।
মনীষা জানান, নির্বাচনী ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৫ লাখ টাকা। এখন পর্যন্ত নগদ সংগ্রহ হয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। তবে তাঁর মতে, অর্থের চেয়েও বড় অবদান স্বেচ্ছাসেবকদের। কেউ নিজের গাড়ি নিয়ে প্রচারণায় নেমেছেন, কেউ রিকশা বা ইজি বাইক নিয়ে এলাকায় এলাকায় ঘুরছেন। কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই চলছে এই কাজ, ফলে ব্যয় যেমন কমছে, তেমনি তৈরি হচ্ছে অংশগ্রহণের এক নতুন রাজনীতি।
এ লড়াই কেন, কার বিরুদ্ধে- এমন প্রশ্নের জবাবে মনীষা বলেন, এই লড়াই কোনো একক দলের বিরুদ্ধে নয়। এই লড়াই সেই রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে, যেখানে কর্মী নামাতে টাকা লাগে, ভোটের আগে চলে নগদ বণ্টন। জয়-পরাজয়ের হিসাবের বাইরেও এই সংগ্রামের লক্ষ্য লুটপাটের রাজনীতি ও পুরনো ব্যবস্থার বদল।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, এই মডেল কতটা টেকসই হবে বা মূল ধারার রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে। তবে কালো টাকার দাপটের রাজনীতিতে মাটির ব্যাংক অন্তত একটি নৈতিক প্রতিবাদ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। আর এই নীরব প্রতিবাদই হয়তো আজকের রাজনীতিতে সবচেয়ে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে।
নির্বাচন এলেই রাজনীতির মাঠে টাকার ঝনঝনানি ওঠে। কোটি কোটি টাকার হিসাব আর অদৃশ্য লেনদেনের কালো ছায়া নির্বাচনী পরিবেশকে গ্রাস করে। প্রচারণা মানেই তখন ব্যানার, ফেস্টুন, হ্যান্ডবিল, কর্মী নামানোর খরচ; উঠান বৈঠকের আড়ালে ব্যয়বহুল আয়োজন। ভোটের রাজনীতির এই চেনা ছবিতেই অভ্যস্ত মানুষ।
এমন কাঠামোর মধ্যেই বরিশালে তৈরি হয়েছে এক ভিন্ন গল্প। সেখানে নেই কোনো শিল্পগোষ্ঠী, নেই প্রভাবশালী দাতার নাম। রয়েছে শুধু মাটির ব্যাংক আর দুই থেকে ১০ টাকার ক্ষুদ্র সঞ্চয়, যার প্রতিটি নোটে মিশে আছে খেটে খাওয়া মানুষের ঘাম।
নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী ব্যয় মেটাতে এই পথ বেছে নিয়েছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)।
প্রচলিত রাজনৈতিক অর্থনীতিকে সরাসরি প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে মাটির ব্যাংক মডেল।
‘জনগণের টাকায় নির্বাচন করবেন জনগণের প্রার্থী’— এই স্লোগান শুধু বক্তব্যে নয়, বাস্তবেও প্রয়োগ করা হচ্ছে। বরিশাল-৫ আসনে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট সমর্থিত ও বাসদ মনোনীত প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তী এই মডেলের উদ্যেক্তা।
মাসখানেক আগে নগরীর রিকশা গ্যারেজ, হোটেল, ছোট দোকান আর সাধারণ মানুষের বাড়িতে কয়েক শ মাটির ব্যাংক পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। কেউ নিজের আয় থেকে প্রতিদিন দুই টাকা করে জমিয়েছেন, কেউ পাঁচ টাকা, কেউ বা ১০ টাকা, টাকার অঙ্কে যা খুবই ছোট, কিন্তু প্রতীকে অনেক বড়।
মনীষার এই উদ্যোগ নিয়ে গত ২১ ডিসেম্বর কালের কণ্ঠে ‘মাটির ব্যাংকে ভোটের খরচ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বরিশাল জেলা বাসদ কার্যালয়ে সেই মাটির ব্যাংকগুলো ভাঙা হয়। একে একে ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে কয়েন আর নোট। প্রতিটি মুদ্রাই যেন প্রচলিত রাজনীতির বিরুদ্ধে একটি নীরব প্রতিবাদ।
ডা. মনীষা বলেন, এটি শুধু অর্থ সংগ্রহের পদ্ধতি নয়, নির্বাচনকে ‘ব্যবসা’ থেকে আলাদা করার রাজনৈতিক প্রয়াস। তাঁর ভাষায়, পুঁজিপতিরা বিনিয়োগের মতো করে নির্বাচনে টাকা ঢালেন। অনেক সময় কালো টাকা ছড়ানো হয়। পরে ক্ষমতায় গিয়ে সেই টাকা বহু গুণে তুলে নেওয়া হয়। এই চক্র ভাঙতেই সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকায় নির্বাচনের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।
বরিশাল মহিলা পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শাহ সাজেদা মনে করেন, এই উদ্যোগ রাজনীতির দায়বদ্ধতার প্রশ্নটিকে সামনে নিয়ে এসেছে। তাঁর মতে, বড় দাতার অর্থ মানেই ভবিষ্যতের সমঝোতা ও দেনাপাওনা। সেখানে রিকশাচালক বা দোকানির দেওয়া পাঁচ টাকার অনুদান কোনো সুবিধা দাবি করে না। বরং এই ক্ষুদ্র দান প্রার্থীকে জনগণের কাছে আরো বেশি জবাবদিহির মধ্যে রাখে।
মাটির ব্যাংকে ভোটের খরচ
মনীষা বলেন, এই নির্বাচন আমাদের কাছে শুধু ক্ষমতার হিসাব নয়, রাজনীতির চরিত্র বদলানোর চেষ্টা। এখানে নেই করপোরেট অর্থ, নেই প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর অনুগ্রহ। সাধারণ মানুষের ছোট ছোট সহায়তার ওপর ভর করেই চলছে পুরো নির্বাচনী কার্যক্রম। সেই ভাবনা থেকেই মাটির ব্যাংকের ধারণা।
মনীষা আরো বলেন, সংসদ যেহেতু জনগণের, সেখানে প্রতিনিধিরা যাবেন জনগণের কথাই বলতে। তাই সেই যাত্রার ব্যয়ও জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণে হওয়াই স্বাভাবিক। এই উদ্যোগ প্রচলিত টাকার খেলা, পেশিশক্তি আর ভোট কেনাবেচার রাজনীতির ঠিক উল্টো ছবি তুলে ধরে।
মনীষা জানান, নির্বাচনী ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৫ লাখ টাকা। এখন পর্যন্ত নগদ সংগ্রহ হয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। তবে তাঁর মতে, অর্থের চেয়েও বড় অবদান স্বেচ্ছাসেবকদের। কেউ নিজের গাড়ি নিয়ে প্রচারণায় নেমেছেন, কেউ রিকশা বা ইজি বাইক নিয়ে এলাকায় এলাকায় ঘুরছেন। কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই চলছে এই কাজ, ফলে ব্যয় যেমন কমছে, তেমনি তৈরি হচ্ছে অংশগ্রহণের এক নতুন রাজনীতি।
এ লড়াই কেন, কার বিরুদ্ধে- এমন প্রশ্নের জবাবে মনীষা বলেন, এই লড়াই কোনো একক দলের বিরুদ্ধে নয়। এই লড়াই সেই রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে, যেখানে কর্মী নামাতে টাকা লাগে, ভোটের আগে চলে নগদ বণ্টন। জয়-পরাজয়ের হিসাবের বাইরেও এই সংগ্রামের লক্ষ্য লুটপাটের রাজনীতি ও পুরনো ব্যবস্থার বদল।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, এই মডেল কতটা টেকসই হবে বা মূল ধারার রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে। তবে কালো টাকার দাপটের রাজনীতিতে মাটির ব্যাংক অন্তত একটি নৈতিক প্রতিবাদ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। আর এই নীরব প্রতিবাদই হয়তো আজকের রাজনীতিতে সবচেয়ে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে।

৩০ মার্চ, ২০২৬ ১৯:৪২
বরিশালের ভাটার খাল বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ (সোমবার, ৩০ মার্চ) বরিশালে এ আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৪ ইউনিট।
প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।
বিস্তারিত আসছে...
বরিশালের ভাটার খাল বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ (সোমবার, ৩০ মার্চ) বরিশালে এ আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৪ ইউনিট।
প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।
বিস্তারিত আসছে...

৩০ মার্চ, ২০২৬ ১৮:৩৩
বরিশাল সদর উপজেলা চরকাউয়া ইউনিয়নে অবৈধভাবে পরিচালিত ২টি ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। (৩০শে মার্চ সোমবার) দুপুর ১২টার সময় বরিশাল বিভাগীয় ও জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরে উদ্যোগে বরিশাল বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তর কার্যালয়ের বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাভলী ইয়াসমিন এর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দীন।
অভিযানে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত-২০১৯) অনুযায়ী চরকাউয়া এলাকার ড্রাম চিমনিযুক্ত মেসার্স ফাইভ স্টার ব্রিকস, প্রোঃ মোঃ সরোয়ার হাওলাদার গং কে ১,৫০,০০০/ (এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা) জরিমানা ও ইটভাটার চিমনী ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে ও ফায়ার সার্ভিস দ্বারা কাচা ইট নষ্ট করা হয়েছে।
অভিযান সম্পর্কে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট লাভলী ইয়াসমিন সাংবাদিকদের জানান, পরিবেশ ও কৃষিজমি রক্ষায় অবৈধ ইটভাটা ও মাটি কাটার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দিন বলেন, লুনা ব্রিকসে অবৈধ ভাবে পাঁজা তৈরি করে ইট তৈরি করে আসছে। এ পূর্বেও গত ডিসেম্বর মাসে তাদের ২লক্ষ টাকা জরিমানা, অবৈধ ড্রাম চিমনি গুড়িয়ে দেয়া হয়েছিলো।
অভিযানের সময় প্রশাসনের উপস্থিতি টেরপেয়ে মেসার্স লুনা ব্রিকস ইটভাটার মালিক ও ম্যানেজার পালিয়ে গেছে। তাদের অবৈধ কাঁচা ইট ধ্বংস করা হয়েছে। কাউকে আটক করা সম্ভব হয় নি।
এছাড়া ফাইভ স্টার ব্রিকসকে আজ দেড় লক্ষ টাকা জরিমানা করা, অবৈধ চিমনি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় পানি ঢেলে ধ্বংস করা হয়।
তিনি আরো বলেন, বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তর কার্যালয়ের বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাভলী ইয়াসমিন ফাইভ স্টার ব্রিকস ইটভাটা কতৃপক্ষকে ৭দিনে সময় দিয়েছেন।
৭দিনের ভিতর তাদের সকল অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করাসহ ও অবৈধ ইটভাটা অপসারণ করা এবং ফাইভ স্টার কতৃপক্ষ মুসলেকা দিয়েছে। আমরা কাউকে বিন্দু মাত্র ছাড় দিবো না। এ অভিযান চলমান থাকবে।
অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তর বিভাগীয় ও বরিশাল জেলা কার্যালয়ের দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

৩০ মার্চ, ২০২৬ ১৮:২৪
সারাদেশের মতো বরিশাল বিভাগজুড়েও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে সংক্রামক রোগ হাম এ আক্রান্তের সংখ্যা। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত বিভাগে হামে আক্রান্ত হয়ে ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ২০৬ শিশুর শরীরে হামের ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ৭৭ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল জানিয়েছেন, আক্রান্ত ও মৃত্যুর অধিকাংশ ঘটনাই সাম্প্রতিক সময়ে ঘটেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, বিভাগের ভোলা জেলায় হামের টিকার সংকট রয়েছে। তবে বরিশালসহ অন্যান্য পাঁচ জেলায় টিকার পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।
বরিশাল বিভাগের প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম)-এ গত তিন মাসে ১৩০ জন হাম আক্রান্ত শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে শুধু মার্চ মাসেই আক্রান্ত হয়েছে ৮৯ জন, যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির ইঙ্গিত দেয়।
সোমবার (৩০ মার্চ) সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালে ৩৪ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। যেখানে সংক্রমণ রোধে তাদের জন্য আলাদা ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার ওমর নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। এছাড়া সোমবার সকালে আরও এক শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে, যার পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
বরিশাল সদর উপজেলার কর্ণকাঠি এলাকার বাসিন্দা রহিমা তালুকদার বলেন, ‘সাত দিন আগে আমার ৯ মাসের কন্যাশিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রথমে জ্বর মনে হলেও পরে চিকিৎসকরা তা হাম বলে শনাক্ত করেন। এরপরই অন্য শিশু রোগীদের কাছ থেকে আমার শিশুকে আলাদা করে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এখানকার চিকিৎসাসেবার মান মোটামুটি ভালো।’
শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, 'শিশুদের হামের টিকা ৯ মাস বয়সে দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে ৭ মাস বয়সের শিশুদেরও এ রোগে আক্রান্ত হতে দেখছি। হাসপাতালে হামের টিকা পর্যাপ্ত রয়েছে। ওয়ার্ডটিতে বেড সংকট ছিল, তা সমাধান করা হয়েছে।' তাঁরা সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, 'হাম অত্যন্ত সংক্রামক। ছোঁয়াচে এই রোগটি আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে খুব দ্রুত ছড়ায়। রোগীর সঙ্গে একই ঘরে থাকলেও সংক্রমণ হতে পারে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে শিশুদের নিরাপদে রাখতে হবে। এছাড়া যেকোনো বয়সীর এ রোগ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাই তিনি সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।'
বরিশাল সদর উপজেলা চরকাউয়া ইউনিয়নে অবৈধভাবে পরিচালিত ২টি ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। (৩০শে মার্চ সোমবার) দুপুর ১২টার সময় বরিশাল বিভাগীয় ও জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরে উদ্যোগে বরিশাল বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তর কার্যালয়ের বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাভলী ইয়াসমিন এর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দীন।
অভিযানে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত-২০১৯) অনুযায়ী চরকাউয়া এলাকার ড্রাম চিমনিযুক্ত মেসার্স ফাইভ স্টার ব্রিকস, প্রোঃ মোঃ সরোয়ার হাওলাদার গং কে ১,৫০,০০০/ (এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা) জরিমানা ও ইটভাটার চিমনী ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে ও ফায়ার সার্ভিস দ্বারা কাচা ইট নষ্ট করা হয়েছে।
অভিযান সম্পর্কে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট লাভলী ইয়াসমিন সাংবাদিকদের জানান, পরিবেশ ও কৃষিজমি রক্ষায় অবৈধ ইটভাটা ও মাটি কাটার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দিন বলেন, লুনা ব্রিকসে অবৈধ ভাবে পাঁজা তৈরি করে ইট তৈরি করে আসছে। এ পূর্বেও গত ডিসেম্বর মাসে তাদের ২লক্ষ টাকা জরিমানা, অবৈধ ড্রাম চিমনি গুড়িয়ে দেয়া হয়েছিলো।
অভিযানের সময় প্রশাসনের উপস্থিতি টেরপেয়ে মেসার্স লুনা ব্রিকস ইটভাটার মালিক ও ম্যানেজার পালিয়ে গেছে। তাদের অবৈধ কাঁচা ইট ধ্বংস করা হয়েছে। কাউকে আটক করা সম্ভব হয় নি।
এছাড়া ফাইভ স্টার ব্রিকসকে আজ দেড় লক্ষ টাকা জরিমানা করা, অবৈধ চিমনি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় পানি ঢেলে ধ্বংস করা হয়।
তিনি আরো বলেন, বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তর কার্যালয়ের বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাভলী ইয়াসমিন ফাইভ স্টার ব্রিকস ইটভাটা কতৃপক্ষকে ৭দিনে সময় দিয়েছেন।
৭দিনের ভিতর তাদের সকল অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করাসহ ও অবৈধ ইটভাটা অপসারণ করা এবং ফাইভ স্টার কতৃপক্ষ মুসলেকা দিয়েছে। আমরা কাউকে বিন্দু মাত্র ছাড় দিবো না। এ অভিযান চলমান থাকবে।
অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তর বিভাগীয় ও বরিশাল জেলা কার্যালয়ের দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সারাদেশের মতো বরিশাল বিভাগজুড়েও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে সংক্রামক রোগ হাম এ আক্রান্তের সংখ্যা। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত বিভাগে হামে আক্রান্ত হয়ে ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ২০৬ শিশুর শরীরে হামের ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ৭৭ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল জানিয়েছেন, আক্রান্ত ও মৃত্যুর অধিকাংশ ঘটনাই সাম্প্রতিক সময়ে ঘটেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, বিভাগের ভোলা জেলায় হামের টিকার সংকট রয়েছে। তবে বরিশালসহ অন্যান্য পাঁচ জেলায় টিকার পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।
বরিশাল বিভাগের প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম)-এ গত তিন মাসে ১৩০ জন হাম আক্রান্ত শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে শুধু মার্চ মাসেই আক্রান্ত হয়েছে ৮৯ জন, যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির ইঙ্গিত দেয়।
সোমবার (৩০ মার্চ) সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালে ৩৪ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। যেখানে সংক্রমণ রোধে তাদের জন্য আলাদা ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার ওমর নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। এছাড়া সোমবার সকালে আরও এক শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে, যার পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
বরিশাল সদর উপজেলার কর্ণকাঠি এলাকার বাসিন্দা রহিমা তালুকদার বলেন, ‘সাত দিন আগে আমার ৯ মাসের কন্যাশিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রথমে জ্বর মনে হলেও পরে চিকিৎসকরা তা হাম বলে শনাক্ত করেন। এরপরই অন্য শিশু রোগীদের কাছ থেকে আমার শিশুকে আলাদা করে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এখানকার চিকিৎসাসেবার মান মোটামুটি ভালো।’
শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, 'শিশুদের হামের টিকা ৯ মাস বয়সে দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে ৭ মাস বয়সের শিশুদেরও এ রোগে আক্রান্ত হতে দেখছি। হাসপাতালে হামের টিকা পর্যাপ্ত রয়েছে। ওয়ার্ডটিতে বেড সংকট ছিল, তা সমাধান করা হয়েছে।' তাঁরা সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, 'হাম অত্যন্ত সংক্রামক। ছোঁয়াচে এই রোগটি আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে খুব দ্রুত ছড়ায়। রোগীর সঙ্গে একই ঘরে থাকলেও সংক্রমণ হতে পারে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে শিশুদের নিরাপদে রাখতে হবে। এছাড়া যেকোনো বয়সীর এ রোগ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাই তিনি সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।'