বাবুগঞ্জে ১৯ সেপ্টেম্বর বিএনপির উপজেলা সম্মেলন উপলক্ষ্যে বিতরণ করা আমন্ত্রণ পত্র।
দাওয়াত কার্ড বিলি শেষ হয়েছিল। মঞ্চ নির্মাণের কাজও প্রায় সম্পন্ন হওয়ার পথে ছিল। নেতাকর্মীদের মাঝে ছিল উচ্ছ্বাস আর উদ্দীপনা। দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ পরে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সম্মেলন ঘিরে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল উৎসবের প্রাণচাঞ্চল্য। তবে সম্মেলনের মাত্র একদিন আগে আচমকা স্থগিত করা হয়েছে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ওই ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পরে শুক্রবার ১৯ সেপ্টেম্বর ওই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মূহুর্তে তা অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্থগিত করা হয়। বরিশাল-৩ আসনের (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের প্রার্থী কেন্দ্রীয় দুই হেভিওয়েট নেতার দ্বন্দ্বের কারণেই শেষ মূহুর্তে এই সম্মেলন স্থগিত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশেই সম্মেলন স্থগিত হয়েছে বলে নিশ্চিত করলেও এর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে পারেনি বিএনপির দলীয় হাইকমান্ড।
বিএনপির স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, বাবুগঞ্জ উপজেলা সম্মেলন আয়োজনের মূল নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। তিনি ওই সম্মেলনের প্রধান অতিথি ছিলেন। তাকে প্রধান অতিথি করেই শুক্রবারের ওই উপজেলা বিএনপির সম্মেলনের দাওয়াত কার্ড বিলি করা হয়। এদিকে বিএনপির অপর একটি অংশের নেতৃত্ব দেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমানের অনুসারীদের অভিযোগ, তাদের কাউকেই রাখা হয়নি সম্মেলনের কোনো আয়োজনে। উপজেলা বিএনপির একটি বড় অংশকে উপেক্ষা করা হয়েছে। বিগত ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড সম্মেলনে গঠিত কমিটিতে জায়গা দেওয়া হয়নি দলের ত্যাগী এবং নির্যাতিত নেতাকর্মীদের। এমন অভিযোগ হাইকমান্ডে যাওয়ার পরেই দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম থেকে সম্মেলন স্থগিতের নির্দেশ আসে। সর্বশেষ ২০২৪ সালে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। এতে জয়নুল আবেদীনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ খানকে আহবায়ক এবং ওয়াহিদুল ইসলাম প্রিন্সকে সদস্য সচিব করে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এর আগে আওয়ামী লীগ আমলের প্রায় পুরো সময়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন ইসরাত হোসেন কচি তালুকদার। তিনি বেগম সেলিমা রহমানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তবে সেই কমিটিতেও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ওয়াহিদুল ইসলাম প্রিন্স।
বরিশাল জেলা বিএনপির সদস্য ও বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইসরাত হোসেন কচি তালুকদার বলেন, 'বিগত ১৭ বছর রাজপথে দলীয় কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে হামলা-মামলা ও কারাবরণকারী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন না করে বাবুগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে বিভিন্ন দলের বিতর্কিত লোকজন নিয়ে ওয়ার্ড এবং ইউনিয়ন কমিটি করা হয়েছে। যেসব কমিটি বিলুপ্ত হয়েছিল সেই বিলুপ্ত কমিটিই পুনর্বহাল করে নিজেদের অনুগত লোকজন নিয়ে উপজেলা বিএনপির সম্মেলন করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এবং সদস্য সচিব। ফলে দলের তৃণমূল পর্যায়ের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ এবং হতাশা ছড়িয়ে পড়ে। নিরুপায় হয়ে তারা দলের হাইকমান্ডের কাছে এসব তথ্যপ্রমাণসহ অভিযোগ জানায়।'
বরিশাল জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ও উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আওলাদ হোসেন বলেন, 'বিএনপির বর্তমান আহবায়ক এবং সদস্য সচিব নিজেদের কোরাম ভারী করতে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং ওয়ার্কার্স পার্টির নেতাকর্মীদের এনে বিএনপিতে পুনর্বাসন করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু ১৭ বছর লড়াই-সংগ্রাম করা বিএনপির ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের ওয়ার্ড এবং ইউনিয়নের পদ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ওয়ার্ড এবং ইউনিয়নগুলোতে নিজেদের ইচ্ছামতো লোক এনে বসানো হয়েছে। বিএনপির দুঃসময়ে এদের কাউকে অতীতেও খুঁজে পাওয়া যায়নি আর ভবিষ্যতেও পাওয়া যাবে না।'
তবে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সুলতান আহমেদ খান। তিনি বলেন, 'উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিটি করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নের হাজার হাজার নেতাকর্মীদের উপস্থিততে সম্মেলন করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন সম্মেলনে জেলা বিএনপির আহবায়ক এবং সদস্য সচিব উপস্থিত ছিলেন। বরিশাল-৩ আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক নেতা অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের বিএনপিতে জায়গা দেওয়ার তো প্রশ্নই আসে না। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমানের অনুসারীদের কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, এমন অভিযোগও সত্য নয়। ওয়ার্ড এবং ইউনিয়ন কমিটিতে তাদের অনেকেই স্থান পেয়েছে। এখন কেউ যদি ইচ্ছা করে সম্মেলনে না আসে আর দূরে বসে দোষ খুঁজে বেড়ায়, তারা চাইলে অনেককিছুই বলতে পারে।'
আহবায়ক সুলতান আহমেদ খান আরো বলেন, '১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আমি বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলাম। এরপরে ২০১০ সালে ইসরাত হোসেন কচি তালুকদারের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিতে আমাকে এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম ফকিরকে সাধারণ সদস্য পদেও রাখা হয়নি। তবুও জেলা এবং উপজেলার বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছি। আওয়ামী লীগের আমলে মহাসড়ক অবরোধের প্রথম নাশকতার মামলা আমার নামেই হয়েছে। আমি ২০১৮ সালে উপজেলা বিএনপির কমিটিতে সদস্য পদ ফিরে পাই এবং ২০২৩ সালে আহবায়কের দায়িত্ব গ্রহণ করি। ২০২৪ সালে আমাকে আহবায়ক রেখেই আবার আহবায়ক কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। সম্মেলনের মাধ্যমে সবাইকে নিয়ে জাঁকজমকপূর্ণ উপজেলা সম্মেলন করতে চেয়েছিলাম। তবে জেলার সদস্য সচিবের মাধ্যমে যতদূর জেনেছি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সরাসরি নির্দেশে সম্মেলন স্থগিত হয়েছে। শুধু বাবুগঞ্জ নয়, বরিশাল জেলার সব সম্মেলনই স্থগিত করা হয়েছে।'
বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহীন বলেন, 'রাজনৈতিক দলে দলীয় বিরোধ, মতভেদ আছে এবং থাকবে। এটা গণতন্ত্রের একটা অংশ। বাবুগঞ্জ উপজেলা সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে। তিনি জাতীয় নির্বাচনের আগে দলের মধ্যে কমিটি নিয়ে কোনো বিভাজন কিংবা সংঘাত চান না।'
এ বিষয়ে জানতে বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সামনে জাতীয় নির্বাচন। তাই দল চায় না এই সময়ে স্থানীয় বিরোধ আরো বেড়ে যাক। সে কারণেই সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। সামনের নির্বাচন অনেক কঠিন হবে। এই নির্বাচন বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কে কার লোক, সেটা নিয়ে বিভাজন করার সময় নয় এখন। সকল মতভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করতে হবে।' #

২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৫৯
বরিশালের মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের অপেক্ষমাণ স্থানে চলন্ত সিলিং ফ্যান খুলে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ফ্যানটির আঘাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে দুই শিশু। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে কেউ আহত হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী হাফসা বেগম জানান, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে চারটি বেঞ্চে দুই শিশুসহ পাঁচ থেকে ছয়জন বসে ছিলেন। এ সময় হঠাৎ ওপরের একটি চলন্ত সিলিং ফ্যান খুলে শিশু দুটির পাশেই পড়ে যায়। ফ্যানটি তাদের গায়ে না লাগায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
ঘটনার পর হাসপাতালের রোগী ও স্বজনদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, হাসপাতালের পুরোনো ফ্যানগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হলে তা রোগীদের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে। এ অবস্থায় হাসপাতালের সব ফ্যান পরীক্ষা করে ঝুঁকিপূর্ণ ফ্যান মেরামত বা পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সৈয়দ ফজলে রাব্বী বলেন, পুরোনো একটি ফ্যান খুলে পড়েছে। এ ঘটনায় কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হননি। হাসপাতালের সব ফ্যানের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে ঝুঁকিপূর্ণগুলো পরিবর্তনের জন্য ইলেকট্রিশিয়ানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বরিশালের মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের অপেক্ষমাণ স্থানে চলন্ত সিলিং ফ্যান খুলে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ফ্যানটির আঘাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে দুই শিশু। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে কেউ আহত হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী হাফসা বেগম জানান, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে চারটি বেঞ্চে দুই শিশুসহ পাঁচ থেকে ছয়জন বসে ছিলেন। এ সময় হঠাৎ ওপরের একটি চলন্ত সিলিং ফ্যান খুলে শিশু দুটির পাশেই পড়ে যায়। ফ্যানটি তাদের গায়ে না লাগায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
ঘটনার পর হাসপাতালের রোগী ও স্বজনদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, হাসপাতালের পুরোনো ফ্যানগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হলে তা রোগীদের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে। এ অবস্থায় হাসপাতালের সব ফ্যান পরীক্ষা করে ঝুঁকিপূর্ণ ফ্যান মেরামত বা পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সৈয়দ ফজলে রাব্বী বলেন, পুরোনো একটি ফ্যান খুলে পড়েছে। এ ঘটনায় কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হননি। হাসপাতালের সব ফ্যানের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে ঝুঁকিপূর্ণগুলো পরিবর্তনের জন্য ইলেকট্রিশিয়ানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৫:০৬
ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেটের বহু এলাকা অন্ধকারে, ঘাটতি ৩ হাজার মেগাওয়াট; কারণ অনুসন্ধানে দুই কমিটি
বরিশালের বিভিন্ন এলাকাসহ দেশের একাধিক অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকেরা। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগ বেড়েছে সাধারণ মানুষের। একই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের বিভিন্ন এলাকাতেও। এদিকে, জাতীয় গ্রিডের বিপর্যয়ের কারণে রাতেও প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহে এ বিপর্যয়ের ফলে বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন গ্রাহকেরা। তবে বরিশালের কোন কোন এলাকায় কতক্ষণ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিগুলো বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থার ত্রুটি, গ্রিডের পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবে।
তদন্তের মাধ্যমে বিপর্যয়ের কারণ শনাক্ত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেওয়ার কথা রয়েছে।
গ্রিড বিপর্যয়ের প্রভাব কাটিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, তা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে বরিশালসহ বিভিন্ন অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেটের বহু এলাকা অন্ধকারে, ঘাটতি ৩ হাজার মেগাওয়াট; কারণ অনুসন্ধানে দুই কমিটি
বরিশালের বিভিন্ন এলাকাসহ দেশের একাধিক অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকেরা। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগ বেড়েছে সাধারণ মানুষের। একই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের বিভিন্ন এলাকাতেও। এদিকে, জাতীয় গ্রিডের বিপর্যয়ের কারণে রাতেও প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহে এ বিপর্যয়ের ফলে বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন গ্রাহকেরা। তবে বরিশালের কোন কোন এলাকায় কতক্ষণ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিগুলো বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থার ত্রুটি, গ্রিডের পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবে।
তদন্তের মাধ্যমে বিপর্যয়ের কারণ শনাক্ত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেওয়ার কথা রয়েছে।
গ্রিড বিপর্যয়ের প্রভাব কাটিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, তা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে বরিশালসহ বিভিন্ন অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৩:৩৩
দেশের প্রতিটি উপজেলায় আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে একটি করে স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসার, নতুন প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরি এবং তরুণ প্রজন্মকে ক্রীড়ামুখী করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে বরিশালের কবি জীবনানন্দ দাশ স্টেডিয়ামে বিসিসি প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি উপজেলায় স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হলে স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বাড়বে। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে দক্ষ খেলোয়াড় তৈরির সুযোগও সম্প্রসারিত হবে। খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ, সুশৃঙ্খল ও মাদকমুক্ত রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তিনি বলেন, একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে যুবসমাজকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলায় তরুণদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে সরকার ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন, আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ এবং তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করার উদ্যোগ নিয়েছে।
দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে মাঠ নির্মাণ ও সংস্কারের প্রস্তাব পাওয়ার পর সেগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ ছাড়া ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে ‘খেলাধুলা’ নামে নতুন একটি বই অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’, বাংলাদেশের খেলাধুলার ইতিহাসসহ বিভিন্ন বিষয় স্থান পাবে বলে জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে খেলোয়াড়দের ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড দেওয়া হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে জাতীয় পর্যায়ে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ, পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ, জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার, বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক, অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহীনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও অতিথিরা।
দেশের প্রতিটি উপজেলায় আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে একটি করে স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসার, নতুন প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরি এবং তরুণ প্রজন্মকে ক্রীড়ামুখী করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে বরিশালের কবি জীবনানন্দ দাশ স্টেডিয়ামে বিসিসি প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি উপজেলায় স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হলে স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বাড়বে। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে দক্ষ খেলোয়াড় তৈরির সুযোগও সম্প্রসারিত হবে। খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ, সুশৃঙ্খল ও মাদকমুক্ত রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তিনি বলেন, একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে যুবসমাজকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলায় তরুণদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে সরকার ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন, আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ এবং তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করার উদ্যোগ নিয়েছে।
দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে মাঠ নির্মাণ ও সংস্কারের প্রস্তাব পাওয়ার পর সেগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ ছাড়া ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে ‘খেলাধুলা’ নামে নতুন একটি বই অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’, বাংলাদেশের খেলাধুলার ইতিহাসসহ বিভিন্ন বিষয় স্থান পাবে বলে জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে খেলোয়াড়দের ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড দেওয়া হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে জাতীয় পর্যায়ে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ, পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ, জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার, বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক, অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহীনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও অতিথিরা।

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৯:৫২
দাওয়াত কার্ড বিলি শেষ হয়েছিল। মঞ্চ নির্মাণের কাজও প্রায় সম্পন্ন হওয়ার পথে ছিল। নেতাকর্মীদের মাঝে ছিল উচ্ছ্বাস আর উদ্দীপনা। দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ পরে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সম্মেলন ঘিরে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল উৎসবের প্রাণচাঞ্চল্য। তবে সম্মেলনের মাত্র একদিন আগে আচমকা স্থগিত করা হয়েছে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ওই ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পরে শুক্রবার ১৯ সেপ্টেম্বর ওই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মূহুর্তে তা অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্থগিত করা হয়। বরিশাল-৩ আসনের (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের প্রার্থী কেন্দ্রীয় দুই হেভিওয়েট নেতার দ্বন্দ্বের কারণেই শেষ মূহুর্তে এই সম্মেলন স্থগিত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশেই সম্মেলন স্থগিত হয়েছে বলে নিশ্চিত করলেও এর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে পারেনি বিএনপির দলীয় হাইকমান্ড।
বিএনপির স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, বাবুগঞ্জ উপজেলা সম্মেলন আয়োজনের মূল নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। তিনি ওই সম্মেলনের প্রধান অতিথি ছিলেন। তাকে প্রধান অতিথি করেই শুক্রবারের ওই উপজেলা বিএনপির সম্মেলনের দাওয়াত কার্ড বিলি করা হয়। এদিকে বিএনপির অপর একটি অংশের নেতৃত্ব দেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমানের অনুসারীদের অভিযোগ, তাদের কাউকেই রাখা হয়নি সম্মেলনের কোনো আয়োজনে। উপজেলা বিএনপির একটি বড় অংশকে উপেক্ষা করা হয়েছে। বিগত ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড সম্মেলনে গঠিত কমিটিতে জায়গা দেওয়া হয়নি দলের ত্যাগী এবং নির্যাতিত নেতাকর্মীদের। এমন অভিযোগ হাইকমান্ডে যাওয়ার পরেই দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম থেকে সম্মেলন স্থগিতের নির্দেশ আসে। সর্বশেষ ২০২৪ সালে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। এতে জয়নুল আবেদীনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ খানকে আহবায়ক এবং ওয়াহিদুল ইসলাম প্রিন্সকে সদস্য সচিব করে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এর আগে আওয়ামী লীগ আমলের প্রায় পুরো সময়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন ইসরাত হোসেন কচি তালুকদার। তিনি বেগম সেলিমা রহমানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তবে সেই কমিটিতেও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ওয়াহিদুল ইসলাম প্রিন্স।
বরিশাল জেলা বিএনপির সদস্য ও বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইসরাত হোসেন কচি তালুকদার বলেন, 'বিগত ১৭ বছর রাজপথে দলীয় কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে হামলা-মামলা ও কারাবরণকারী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন না করে বাবুগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে বিভিন্ন দলের বিতর্কিত লোকজন নিয়ে ওয়ার্ড এবং ইউনিয়ন কমিটি করা হয়েছে। যেসব কমিটি বিলুপ্ত হয়েছিল সেই বিলুপ্ত কমিটিই পুনর্বহাল করে নিজেদের অনুগত লোকজন নিয়ে উপজেলা বিএনপির সম্মেলন করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এবং সদস্য সচিব। ফলে দলের তৃণমূল পর্যায়ের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ এবং হতাশা ছড়িয়ে পড়ে। নিরুপায় হয়ে তারা দলের হাইকমান্ডের কাছে এসব তথ্যপ্রমাণসহ অভিযোগ জানায়।'
বরিশাল জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ও উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আওলাদ হোসেন বলেন, 'বিএনপির বর্তমান আহবায়ক এবং সদস্য সচিব নিজেদের কোরাম ভারী করতে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং ওয়ার্কার্স পার্টির নেতাকর্মীদের এনে বিএনপিতে পুনর্বাসন করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু ১৭ বছর লড়াই-সংগ্রাম করা বিএনপির ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের ওয়ার্ড এবং ইউনিয়নের পদ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ওয়ার্ড এবং ইউনিয়নগুলোতে নিজেদের ইচ্ছামতো লোক এনে বসানো হয়েছে। বিএনপির দুঃসময়ে এদের কাউকে অতীতেও খুঁজে পাওয়া যায়নি আর ভবিষ্যতেও পাওয়া যাবে না।'
তবে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সুলতান আহমেদ খান। তিনি বলেন, 'উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিটি করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নের হাজার হাজার নেতাকর্মীদের উপস্থিততে সম্মেলন করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন সম্মেলনে জেলা বিএনপির আহবায়ক এবং সদস্য সচিব উপস্থিত ছিলেন। বরিশাল-৩ আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক নেতা অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের বিএনপিতে জায়গা দেওয়ার তো প্রশ্নই আসে না। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমানের অনুসারীদের কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, এমন অভিযোগও সত্য নয়। ওয়ার্ড এবং ইউনিয়ন কমিটিতে তাদের অনেকেই স্থান পেয়েছে। এখন কেউ যদি ইচ্ছা করে সম্মেলনে না আসে আর দূরে বসে দোষ খুঁজে বেড়ায়, তারা চাইলে অনেককিছুই বলতে পারে।'
আহবায়ক সুলতান আহমেদ খান আরো বলেন, '১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আমি বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলাম। এরপরে ২০১০ সালে ইসরাত হোসেন কচি তালুকদারের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিতে আমাকে এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম ফকিরকে সাধারণ সদস্য পদেও রাখা হয়নি। তবুও জেলা এবং উপজেলার বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছি। আওয়ামী লীগের আমলে মহাসড়ক অবরোধের প্রথম নাশকতার মামলা আমার নামেই হয়েছে। আমি ২০১৮ সালে উপজেলা বিএনপির কমিটিতে সদস্য পদ ফিরে পাই এবং ২০২৩ সালে আহবায়কের দায়িত্ব গ্রহণ করি। ২০২৪ সালে আমাকে আহবায়ক রেখেই আবার আহবায়ক কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। সম্মেলনের মাধ্যমে সবাইকে নিয়ে জাঁকজমকপূর্ণ উপজেলা সম্মেলন করতে চেয়েছিলাম। তবে জেলার সদস্য সচিবের মাধ্যমে যতদূর জেনেছি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সরাসরি নির্দেশে সম্মেলন স্থগিত হয়েছে। শুধু বাবুগঞ্জ নয়, বরিশাল জেলার সব সম্মেলনই স্থগিত করা হয়েছে।'
বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহীন বলেন, 'রাজনৈতিক দলে দলীয় বিরোধ, মতভেদ আছে এবং থাকবে। এটা গণতন্ত্রের একটা অংশ। বাবুগঞ্জ উপজেলা সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে। তিনি জাতীয় নির্বাচনের আগে দলের মধ্যে কমিটি নিয়ে কোনো বিভাজন কিংবা সংঘাত চান না।'
এ বিষয়ে জানতে বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সামনে জাতীয় নির্বাচন। তাই দল চায় না এই সময়ে স্থানীয় বিরোধ আরো বেড়ে যাক। সে কারণেই সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। সামনের নির্বাচন অনেক কঠিন হবে। এই নির্বাচন বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কে কার লোক, সেটা নিয়ে বিভাজন করার সময় নয় এখন। সকল মতভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করতে হবে।' #