
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৯:৫২
দাওয়াত কার্ড বিলি শেষ হয়েছিল। মঞ্চ নির্মাণের কাজও প্রায় সম্পন্ন হওয়ার পথে ছিল। নেতাকর্মীদের মাঝে ছিল উচ্ছ্বাস আর উদ্দীপনা। দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ পরে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সম্মেলন ঘিরে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল উৎসবের প্রাণচাঞ্চল্য। তবে সম্মেলনের মাত্র একদিন আগে আচমকা স্থগিত করা হয়েছে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ওই ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পরে শুক্রবার ১৯ সেপ্টেম্বর ওই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মূহুর্তে তা অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্থগিত করা হয়। বরিশাল-৩ আসনের (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের প্রার্থী কেন্দ্রীয় দুই হেভিওয়েট নেতার দ্বন্দ্বের কারণেই শেষ মূহুর্তে এই সম্মেলন স্থগিত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশেই সম্মেলন স্থগিত হয়েছে বলে নিশ্চিত করলেও এর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে পারেনি বিএনপির দলীয় হাইকমান্ড।
বিএনপির স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, বাবুগঞ্জ উপজেলা সম্মেলন আয়োজনের মূল নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। তিনি ওই সম্মেলনের প্রধান অতিথি ছিলেন। তাকে প্রধান অতিথি করেই শুক্রবারের ওই উপজেলা বিএনপির সম্মেলনের দাওয়াত কার্ড বিলি করা হয়। এদিকে বিএনপির অপর একটি অংশের নেতৃত্ব দেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমানের অনুসারীদের অভিযোগ, তাদের কাউকেই রাখা হয়নি সম্মেলনের কোনো আয়োজনে। উপজেলা বিএনপির একটি বড় অংশকে উপেক্ষা করা হয়েছে। বিগত ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড সম্মেলনে গঠিত কমিটিতে জায়গা দেওয়া হয়নি দলের ত্যাগী এবং নির্যাতিত নেতাকর্মীদের। এমন অভিযোগ হাইকমান্ডে যাওয়ার পরেই দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম থেকে সম্মেলন স্থগিতের নির্দেশ আসে। সর্বশেষ ২০২৪ সালে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। এতে জয়নুল আবেদীনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ খানকে আহবায়ক এবং ওয়াহিদুল ইসলাম প্রিন্সকে সদস্য সচিব করে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এর আগে আওয়ামী লীগ আমলের প্রায় পুরো সময়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন ইসরাত হোসেন কচি তালুকদার। তিনি বেগম সেলিমা রহমানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তবে সেই কমিটিতেও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ওয়াহিদুল ইসলাম প্রিন্স।
বরিশাল জেলা বিএনপির সদস্য ও বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইসরাত হোসেন কচি তালুকদার বলেন, 'বিগত ১৭ বছর রাজপথে দলীয় কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে হামলা-মামলা ও কারাবরণকারী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন না করে বাবুগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে বিভিন্ন দলের বিতর্কিত লোকজন নিয়ে ওয়ার্ড এবং ইউনিয়ন কমিটি করা হয়েছে। যেসব কমিটি বিলুপ্ত হয়েছিল সেই বিলুপ্ত কমিটিই পুনর্বহাল করে নিজেদের অনুগত লোকজন নিয়ে উপজেলা বিএনপির সম্মেলন করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এবং সদস্য সচিব। ফলে দলের তৃণমূল পর্যায়ের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ এবং হতাশা ছড়িয়ে পড়ে। নিরুপায় হয়ে তারা দলের হাইকমান্ডের কাছে এসব তথ্যপ্রমাণসহ অভিযোগ জানায়।'
বরিশাল জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ও উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আওলাদ হোসেন বলেন, 'বিএনপির বর্তমান আহবায়ক এবং সদস্য সচিব নিজেদের কোরাম ভারী করতে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং ওয়ার্কার্স পার্টির নেতাকর্মীদের এনে বিএনপিতে পুনর্বাসন করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু ১৭ বছর লড়াই-সংগ্রাম করা বিএনপির ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের ওয়ার্ড এবং ইউনিয়নের পদ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ওয়ার্ড এবং ইউনিয়নগুলোতে নিজেদের ইচ্ছামতো লোক এনে বসানো হয়েছে। বিএনপির দুঃসময়ে এদের কাউকে অতীতেও খুঁজে পাওয়া যায়নি আর ভবিষ্যতেও পাওয়া যাবে না।'
তবে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সুলতান আহমেদ খান। তিনি বলেন, 'উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিটি করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নের হাজার হাজার নেতাকর্মীদের উপস্থিততে সম্মেলন করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন সম্মেলনে জেলা বিএনপির আহবায়ক এবং সদস্য সচিব উপস্থিত ছিলেন। বরিশাল-৩ আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক নেতা অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের বিএনপিতে জায়গা দেওয়ার তো প্রশ্নই আসে না। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমানের অনুসারীদের কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, এমন অভিযোগও সত্য নয়। ওয়ার্ড এবং ইউনিয়ন কমিটিতে তাদের অনেকেই স্থান পেয়েছে। এখন কেউ যদি ইচ্ছা করে সম্মেলনে না আসে আর দূরে বসে দোষ খুঁজে বেড়ায়, তারা চাইলে অনেককিছুই বলতে পারে।'
আহবায়ক সুলতান আহমেদ খান আরো বলেন, '১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আমি বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলাম। এরপরে ২০১০ সালে ইসরাত হোসেন কচি তালুকদারের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিতে আমাকে এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম ফকিরকে সাধারণ সদস্য পদেও রাখা হয়নি। তবুও জেলা এবং উপজেলার বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছি। আওয়ামী লীগের আমলে মহাসড়ক অবরোধের প্রথম নাশকতার মামলা আমার নামেই হয়েছে। আমি ২০১৮ সালে উপজেলা বিএনপির কমিটিতে সদস্য পদ ফিরে পাই এবং ২০২৩ সালে আহবায়কের দায়িত্ব গ্রহণ করি। ২০২৪ সালে আমাকে আহবায়ক রেখেই আবার আহবায়ক কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। সম্মেলনের মাধ্যমে সবাইকে নিয়ে জাঁকজমকপূর্ণ উপজেলা সম্মেলন করতে চেয়েছিলাম। তবে জেলার সদস্য সচিবের মাধ্যমে যতদূর জেনেছি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সরাসরি নির্দেশে সম্মেলন স্থগিত হয়েছে। শুধু বাবুগঞ্জ নয়, বরিশাল জেলার সব সম্মেলনই স্থগিত করা হয়েছে।'
বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহীন বলেন, 'রাজনৈতিক দলে দলীয় বিরোধ, মতভেদ আছে এবং থাকবে। এটা গণতন্ত্রের একটা অংশ। বাবুগঞ্জ উপজেলা সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে। তিনি জাতীয় নির্বাচনের আগে দলের মধ্যে কমিটি নিয়ে কোনো বিভাজন কিংবা সংঘাত চান না।'
এ বিষয়ে জানতে বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সামনে জাতীয় নির্বাচন। তাই দল চায় না এই সময়ে স্থানীয় বিরোধ আরো বেড়ে যাক। সে কারণেই সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। সামনের নির্বাচন অনেক কঠিন হবে। এই নির্বাচন বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কে কার লোক, সেটা নিয়ে বিভাজন করার সময় নয় এখন। সকল মতভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করতে হবে।' #
বাবুগঞ্জে ১৯ সেপ্টেম্বর বিএনপির উপজেলা সম্মেলন উপলক্ষ্যে বিতরণ করা আমন্ত্রণ পত্র।
দাওয়াত কার্ড বিলি শেষ হয়েছিল। মঞ্চ নির্মাণের কাজও প্রায় সম্পন্ন হওয়ার পথে ছিল। নেতাকর্মীদের মাঝে ছিল উচ্ছ্বাস আর উদ্দীপনা। দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ পরে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সম্মেলন ঘিরে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল উৎসবের প্রাণচাঞ্চল্য। তবে সম্মেলনের মাত্র একদিন আগে আচমকা স্থগিত করা হয়েছে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ওই ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পরে শুক্রবার ১৯ সেপ্টেম্বর ওই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মূহুর্তে তা অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্থগিত করা হয়। বরিশাল-৩ আসনের (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের প্রার্থী কেন্দ্রীয় দুই হেভিওয়েট নেতার দ্বন্দ্বের কারণেই শেষ মূহুর্তে এই সম্মেলন স্থগিত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশেই সম্মেলন স্থগিত হয়েছে বলে নিশ্চিত করলেও এর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে পারেনি বিএনপির দলীয় হাইকমান্ড।
বিএনপির স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, বাবুগঞ্জ উপজেলা সম্মেলন আয়োজনের মূল নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। তিনি ওই সম্মেলনের প্রধান অতিথি ছিলেন। তাকে প্রধান অতিথি করেই শুক্রবারের ওই উপজেলা বিএনপির সম্মেলনের দাওয়াত কার্ড বিলি করা হয়। এদিকে বিএনপির অপর একটি অংশের নেতৃত্ব দেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমানের অনুসারীদের অভিযোগ, তাদের কাউকেই রাখা হয়নি সম্মেলনের কোনো আয়োজনে। উপজেলা বিএনপির একটি বড় অংশকে উপেক্ষা করা হয়েছে। বিগত ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড সম্মেলনে গঠিত কমিটিতে জায়গা দেওয়া হয়নি দলের ত্যাগী এবং নির্যাতিত নেতাকর্মীদের। এমন অভিযোগ হাইকমান্ডে যাওয়ার পরেই দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম থেকে সম্মেলন স্থগিতের নির্দেশ আসে। সর্বশেষ ২০২৪ সালে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। এতে জয়নুল আবেদীনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ খানকে আহবায়ক এবং ওয়াহিদুল ইসলাম প্রিন্সকে সদস্য সচিব করে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এর আগে আওয়ামী লীগ আমলের প্রায় পুরো সময়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন ইসরাত হোসেন কচি তালুকদার। তিনি বেগম সেলিমা রহমানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তবে সেই কমিটিতেও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ওয়াহিদুল ইসলাম প্রিন্স।
বরিশাল জেলা বিএনপির সদস্য ও বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইসরাত হোসেন কচি তালুকদার বলেন, 'বিগত ১৭ বছর রাজপথে দলীয় কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে হামলা-মামলা ও কারাবরণকারী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন না করে বাবুগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে বিভিন্ন দলের বিতর্কিত লোকজন নিয়ে ওয়ার্ড এবং ইউনিয়ন কমিটি করা হয়েছে। যেসব কমিটি বিলুপ্ত হয়েছিল সেই বিলুপ্ত কমিটিই পুনর্বহাল করে নিজেদের অনুগত লোকজন নিয়ে উপজেলা বিএনপির সম্মেলন করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এবং সদস্য সচিব। ফলে দলের তৃণমূল পর্যায়ের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ এবং হতাশা ছড়িয়ে পড়ে। নিরুপায় হয়ে তারা দলের হাইকমান্ডের কাছে এসব তথ্যপ্রমাণসহ অভিযোগ জানায়।'
বরিশাল জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ও উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আওলাদ হোসেন বলেন, 'বিএনপির বর্তমান আহবায়ক এবং সদস্য সচিব নিজেদের কোরাম ভারী করতে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং ওয়ার্কার্স পার্টির নেতাকর্মীদের এনে বিএনপিতে পুনর্বাসন করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু ১৭ বছর লড়াই-সংগ্রাম করা বিএনপির ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের ওয়ার্ড এবং ইউনিয়নের পদ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ওয়ার্ড এবং ইউনিয়নগুলোতে নিজেদের ইচ্ছামতো লোক এনে বসানো হয়েছে। বিএনপির দুঃসময়ে এদের কাউকে অতীতেও খুঁজে পাওয়া যায়নি আর ভবিষ্যতেও পাওয়া যাবে না।'
তবে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সুলতান আহমেদ খান। তিনি বলেন, 'উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিটি করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নের হাজার হাজার নেতাকর্মীদের উপস্থিততে সম্মেলন করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন সম্মেলনে জেলা বিএনপির আহবায়ক এবং সদস্য সচিব উপস্থিত ছিলেন। বরিশাল-৩ আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক নেতা অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের বিএনপিতে জায়গা দেওয়ার তো প্রশ্নই আসে না। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমানের অনুসারীদের কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, এমন অভিযোগও সত্য নয়। ওয়ার্ড এবং ইউনিয়ন কমিটিতে তাদের অনেকেই স্থান পেয়েছে। এখন কেউ যদি ইচ্ছা করে সম্মেলনে না আসে আর দূরে বসে দোষ খুঁজে বেড়ায়, তারা চাইলে অনেককিছুই বলতে পারে।'
আহবায়ক সুলতান আহমেদ খান আরো বলেন, '১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আমি বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলাম। এরপরে ২০১০ সালে ইসরাত হোসেন কচি তালুকদারের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিতে আমাকে এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম ফকিরকে সাধারণ সদস্য পদেও রাখা হয়নি। তবুও জেলা এবং উপজেলার বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছি। আওয়ামী লীগের আমলে মহাসড়ক অবরোধের প্রথম নাশকতার মামলা আমার নামেই হয়েছে। আমি ২০১৮ সালে উপজেলা বিএনপির কমিটিতে সদস্য পদ ফিরে পাই এবং ২০২৩ সালে আহবায়কের দায়িত্ব গ্রহণ করি। ২০২৪ সালে আমাকে আহবায়ক রেখেই আবার আহবায়ক কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। সম্মেলনের মাধ্যমে সবাইকে নিয়ে জাঁকজমকপূর্ণ উপজেলা সম্মেলন করতে চেয়েছিলাম। তবে জেলার সদস্য সচিবের মাধ্যমে যতদূর জেনেছি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সরাসরি নির্দেশে সম্মেলন স্থগিত হয়েছে। শুধু বাবুগঞ্জ নয়, বরিশাল জেলার সব সম্মেলনই স্থগিত করা হয়েছে।'
বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহীন বলেন, 'রাজনৈতিক দলে দলীয় বিরোধ, মতভেদ আছে এবং থাকবে। এটা গণতন্ত্রের একটা অংশ। বাবুগঞ্জ উপজেলা সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে। তিনি জাতীয় নির্বাচনের আগে দলের মধ্যে কমিটি নিয়ে কোনো বিভাজন কিংবা সংঘাত চান না।'
এ বিষয়ে জানতে বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সামনে জাতীয় নির্বাচন। তাই দল চায় না এই সময়ে স্থানীয় বিরোধ আরো বেড়ে যাক। সে কারণেই সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। সামনের নির্বাচন অনেক কঠিন হবে। এই নির্বাচন বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কে কার লোক, সেটা নিয়ে বিভাজন করার সময় নয় এখন। সকল মতভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করতে হবে।' #

০৯ জুলাই, ২০২৬ ০০:১৭

০৮ জুলাই, ২০২৬ ২২:৩৬

০৮ জুলাই, ২০২৬ ২০:১৬
বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ইংরেজি ২য় পত্রে ১০ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অসদুপায় অবলম্বন করায় তাদের বহিষ্কার করা হয়। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক শরীফ মোর্শেদ রেজা স্বাক্ষরিত দৈনিক তথ্য বিবরণীতে বুধবার বিকালে এ তথ্য জানানো হয়।
সূত্র জানায়, বিভাগের ৬ জেলার ১৪২টি পরীক্ষাকেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৫৪ হাজার ৬৫৮ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ৫২ হাজার ৯৯৩ জন। অনুপস্থিত ছিল ১ হাজার ৭১৯ জন।
ইংরেজি ২য় পত্র পরীক্ষায় বরিশাল জেলায় ৩ জন, ঝালকাঠিতে একজন এবং পটুয়াখালী জেলায় ৬ জন পরীক্ষার্থী বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে কোনো পরিদর্শক বা শিক্ষককে বহিষ্কার করা হয়নি বলে জানিয়েছেন বোর্ড কর্তৃপক্ষ।
বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক শরীফ মোর্শেদ রেজা দৈনিক তথ্য বিবরণীতে জানান, পরীক্ষা সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের কানকি ব্রিজ থেকে চেয়ারম্যান হাট পর্যন্ত ও পার্শ্ববর্তী উপজেলা বেতাগী পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার রাস্তার বেহাল অবস্থা। রাস্তার কিছু অংশে ইট উঠে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত হয়েছে। বৃষ্টি হলে গর্তে পানি জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এছাড়াও কিছু অংশ গত বছর নতুন করে মাটি ফেলে সংস্কার করা হয়েছে। বর্তমানে পুরো রাস্তাটি মাটির হওয়ায় চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ইউনিয়নের ৫ গ্রামের হাজারো মানুষের। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের দাবি তাদের।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন কালিগঞ্জ হাট, কাঁঠালতলীর হাট, বিসমিল্লাহর বাজার, কানকিরহাট, গাজীর হাট, নূরনগর বাজার, নান্টু বাজার, এমপির হাট, চেয়ারম্যান হাট এলাকার বাসিন্দারা চলাচল করে। এ ছাড়া ছোট রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এমএ মালেক ডিগ্রি কলেজ, দক্ষিণ-পশ্চিম রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পার্শ্ববর্তী মির্জাগঞ্জ উপজেলার আকতার হোসেন চৌধুরী মেমোরিয়াল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদেরও এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়। বর্ষ মৌসুম শুরুর পর থেকে সড়কটিতে কোন প্রকার যানবাহন চলে না। এখন বৃষ্টি হলে গর্তে পানি জমে পুরো রাস্তাই কাদামাটি হয়ে যায়। রাস্তাটি দিয়ে হেঁটে চলাই মুশকিল হয়ে পড়েছে। কাঁচা কাদা মাটির সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো সড়ক কর্দমাক্ত হয়ে চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, রোগী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সড়কটির সংস্কারের দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুমে হাঁটুসমান কাদা জমে যাওয়ায় পথচারীদের চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
এলাকার শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিদিন বিদ্যালয় ও কলেজে যেতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। অনেক সময় কাদা মাড়িয়ে কিংবা জুতা হাতে নিয়ে চলাচল করতে হয়। কৃষকরাও তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে সমস্যায় পড়ছেন, ফলে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়। জরুরি মুহূর্তে অ্যাম্বুলেন্স কিংবা অন্য কোনো যানবাহন সহজে প্রবেশ করতে পারে না।
এলাকাবাসী দ্রুত সড়কটি পাকা করে জনদুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিয়ে দ্রুত সড়কটির উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হলে হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে।
ছোট রঘুনাথপুরের বাসিন্দা বারেক হাওলাদার বলেন, গ্রামবাসী মিলে রাস্তাটি বিভিন্ন স্থানে মাটি দিয়ে কয়েকবার সংস্কার করা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে আবার বড় বড় গর্ত হয়ে গেছে। বিভিন্ন জায়গায় রাস্তাটি ভেঙেও গেছে। চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জাহিদুল হাসান (বাবু) বলেন, এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ অব্যাহত আছে। দ্রুত রাস্তাটি পুনর্নির্মাণ কিংবা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উপজেলা (এলজিইডি) প্রকৌশলী হাসনাই আহমেদ জানান, রাস্তাটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ এলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের কানকি ব্রিজ থেকে চেয়ারম্যান হাট পর্যন্ত ও পার্শ্ববর্তী উপজেলা বেতাগী পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার রাস্তার বেহাল অবস্থা। রাস্তার কিছু অংশে ইট উঠে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত হয়েছে। বৃষ্টি হলে গর্তে পানি জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এছাড়াও কিছু অংশ গত বছর নতুন করে মাটি ফেলে সংস্কার করা হয়েছে। বর্তমানে পুরো রাস্তাটি মাটির হওয়ায় চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ইউনিয়নের ৫ গ্রামের হাজারো মানুষের। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের দাবি তাদের।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন কালিগঞ্জ হাট, কাঁঠালতলীর হাট, বিসমিল্লাহর বাজার, কানকিরহাট, গাজীর হাট, নূরনগর বাজার, নান্টু বাজার, এমপির হাট, চেয়ারম্যান হাট এলাকার বাসিন্দারা চলাচল করে। এ ছাড়া ছোট রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এমএ মালেক ডিগ্রি কলেজ, দক্ষিণ-পশ্চিম রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পার্শ্ববর্তী মির্জাগঞ্জ উপজেলার আকতার হোসেন চৌধুরী মেমোরিয়াল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদেরও এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়। বর্ষ মৌসুম শুরুর পর থেকে সড়কটিতে কোন প্রকার যানবাহন চলে না। এখন বৃষ্টি হলে গর্তে পানি জমে পুরো রাস্তাই কাদামাটি হয়ে যায়। রাস্তাটি দিয়ে হেঁটে চলাই মুশকিল হয়ে পড়েছে। কাঁচা কাদা মাটির সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো সড়ক কর্দমাক্ত হয়ে চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, রোগী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সড়কটির সংস্কারের দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুমে হাঁটুসমান কাদা জমে যাওয়ায় পথচারীদের চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
এলাকার শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিদিন বিদ্যালয় ও কলেজে যেতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। অনেক সময় কাদা মাড়িয়ে কিংবা জুতা হাতে নিয়ে চলাচল করতে হয়। কৃষকরাও তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে সমস্যায় পড়ছেন, ফলে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়। জরুরি মুহূর্তে অ্যাম্বুলেন্স কিংবা অন্য কোনো যানবাহন সহজে প্রবেশ করতে পারে না।
এলাকাবাসী দ্রুত সড়কটি পাকা করে জনদুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিয়ে দ্রুত সড়কটির উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হলে হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে।
ছোট রঘুনাথপুরের বাসিন্দা বারেক হাওলাদার বলেন, গ্রামবাসী মিলে রাস্তাটি বিভিন্ন স্থানে মাটি দিয়ে কয়েকবার সংস্কার করা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে আবার বড় বড় গর্ত হয়ে গেছে। বিভিন্ন জায়গায় রাস্তাটি ভেঙেও গেছে। চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জাহিদুল হাসান (বাবু) বলেন, এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ অব্যাহত আছে। দ্রুত রাস্তাটি পুনর্নির্মাণ কিংবা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উপজেলা (এলজিইডি) প্রকৌশলী হাসনাই আহমেদ জানান, রাস্তাটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ এলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রাহুতকাঠী খেয়াঘাটে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য খেয়াভাড়া মওকুফ করা হয়েছে। শেষ পরীক্ষা পর্যন্ত খেয়া পারাপারে তাদের দিতে হবে না ট্রলারভাড়া। আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। এদিকে প্রশাসনের এই শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী নাগরিক সংগঠন সুজন।
জানা যায়, উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নে সরকারি আবুল কালাম কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে প্রতিদিন কয়েকশো শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা রাহুতকাঠী খেয়াঘাট থেকে পারাপার হন। এই সুযোগে খেয়াঘাটে বাড়তি ভাড়া আদায় ও হয়রানি অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের স্বার্থে খেয়াভাড়া মওকুফ করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন ছাত্রপক্ষের নেতা রাকিব সিকদার।
মঙ্গলবার ওই লিখিত আবেদন নিয়ে এবি পার্টির বরিশাল জেলা ও মহানগর কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জি.এম রাব্বী নেতৃত্বে ছাত্রপক্ষের আহবায়ক আইয়ুব নবীসহ ছাত্রনেতাদের একটি প্রতিনিধি দল বাবুগঞ্জের ইউএনওর সাথে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভা করেন। এসময় ছাত্রনেতাদের অনুরোধে পরীক্ষার্থীদের জন্য রাহুতকাঠী খেয়াঘাটের ট্রলারভাড়া মওকুফের সিদ্ধান্ত নেন ইউএনও আসমা উল হুসনা। রাহুতকাঠী খেয়াঘাটের ইজারাদারকে ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য তাৎক্ষণিক নির্দেশনাও দেন তিনি।
এবি পার্টির বরিশাল জেলা ও মহানগর কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জি.এম রাব্বী বলেন, 'এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের রাহুতকাঠী খেয়াঘাটে ট্রলারভাড়া মওকুফ, মাদক প্রতিরোধ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে আলোচনার জন্য এবি পার্টির ছাত্রপক্ষের প্রতিনিধি দলের সাথে ইউএনওর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইউএনও মহোদয় সার্বিক বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষার্থীদের জন্য রাহুতকাঠী খেয়াঘাটের ভাড়া মওকুফ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ছাত্রদের দাবির বিষয়ে তার কুইক রেসপন্সসহ অন্যান্য বিষয়েও তার নিষ্ঠা এবং আন্তরিকতা আমাদের মুগ্ধ করেছে।'
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কমিটির বাবুগঞ্জ উপজেলা সম্পাদক আরিফ আহমেদ মুন্না এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের খেয়াভাড়া মওকুফের ঘটনায় অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, 'শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ও স্বার্থরক্ষায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তাঁর নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধ অসাধারণ। তিনি উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়ে জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছেন। মাদক উদ্ধার, বালু উত্তোলন এবং মাটি চুরির ঘটনায় তার পরিচালিত মোবাইল কোর্টের অভিযান প্রশংসার দাবি রাখে। প্রশাসনের একজন জনবান্ধব কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর এসব মানবিক ও জনহিতৈষী কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকুক।'
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনা বলেন, 'ছাত্রদের একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসে রাহুতকাঠী খেয়াঘাটে পরীক্ষার্থীদের জন্য খেয়াভাড়া মওকুফ করার দাবি জানান। তারা এ বিষয়ে একটি লিখিত আবেদনও করেন। পরে তাৎক্ষণিকভাবে এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে পরীক্ষার্থীদের জন্য খেয়া পারাপারে ট্রলারভাড়া মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং খেয়াঘাটের ইজারাদারকে সাথেসাথেই তা কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরীক্ষা দিতে আসা-যাওয়া করা শিক্ষার্থীরা তাদের এডমিট কার্ড বা পরীক্ষার প্রমাণপত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে বিনামূল্যে খেয়া পারাপার হতে পারবেন।' #
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রাহুতকাঠী খেয়াঘাটে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য খেয়াভাড়া মওকুফ করা হয়েছে। শেষ পরীক্ষা পর্যন্ত খেয়া পারাপারে তাদের দিতে হবে না ট্রলারভাড়া। আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। এদিকে প্রশাসনের এই শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী নাগরিক সংগঠন সুজন।
জানা যায়, উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নে সরকারি আবুল কালাম কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে প্রতিদিন কয়েকশো শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা রাহুতকাঠী খেয়াঘাট থেকে পারাপার হন। এই সুযোগে খেয়াঘাটে বাড়তি ভাড়া আদায় ও হয়রানি অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের স্বার্থে খেয়াভাড়া মওকুফ করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন ছাত্রপক্ষের নেতা রাকিব সিকদার।
মঙ্গলবার ওই লিখিত আবেদন নিয়ে এবি পার্টির বরিশাল জেলা ও মহানগর কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জি.এম রাব্বী নেতৃত্বে ছাত্রপক্ষের আহবায়ক আইয়ুব নবীসহ ছাত্রনেতাদের একটি প্রতিনিধি দল বাবুগঞ্জের ইউএনওর সাথে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভা করেন। এসময় ছাত্রনেতাদের অনুরোধে পরীক্ষার্থীদের জন্য রাহুতকাঠী খেয়াঘাটের ট্রলারভাড়া মওকুফের সিদ্ধান্ত নেন ইউএনও আসমা উল হুসনা। রাহুতকাঠী খেয়াঘাটের ইজারাদারকে ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য তাৎক্ষণিক নির্দেশনাও দেন তিনি।
এবি পার্টির বরিশাল জেলা ও মহানগর কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জি.এম রাব্বী বলেন, 'এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের রাহুতকাঠী খেয়াঘাটে ট্রলারভাড়া মওকুফ, মাদক প্রতিরোধ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে আলোচনার জন্য এবি পার্টির ছাত্রপক্ষের প্রতিনিধি দলের সাথে ইউএনওর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইউএনও মহোদয় সার্বিক বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষার্থীদের জন্য রাহুতকাঠী খেয়াঘাটের ভাড়া মওকুফ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ছাত্রদের দাবির বিষয়ে তার কুইক রেসপন্সসহ অন্যান্য বিষয়েও তার নিষ্ঠা এবং আন্তরিকতা আমাদের মুগ্ধ করেছে।'
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কমিটির বাবুগঞ্জ উপজেলা সম্পাদক আরিফ আহমেদ মুন্না এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের খেয়াভাড়া মওকুফের ঘটনায় অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, 'শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ও স্বার্থরক্ষায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তাঁর নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধ অসাধারণ। তিনি উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়ে জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছেন। মাদক উদ্ধার, বালু উত্তোলন এবং মাটি চুরির ঘটনায় তার পরিচালিত মোবাইল কোর্টের অভিযান প্রশংসার দাবি রাখে। প্রশাসনের একজন জনবান্ধব কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর এসব মানবিক ও জনহিতৈষী কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকুক।'
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনা বলেন, 'ছাত্রদের একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসে রাহুতকাঠী খেয়াঘাটে পরীক্ষার্থীদের জন্য খেয়াভাড়া মওকুফ করার দাবি জানান। তারা এ বিষয়ে একটি লিখিত আবেদনও করেন। পরে তাৎক্ষণিকভাবে এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে পরীক্ষার্থীদের জন্য খেয়া পারাপারে ট্রলারভাড়া মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং খেয়াঘাটের ইজারাদারকে সাথেসাথেই তা কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরীক্ষা দিতে আসা-যাওয়া করা শিক্ষার্থীরা তাদের এডমিট কার্ড বা পরীক্ষার প্রমাণপত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে বিনামূল্যে খেয়া পারাপার হতে পারবেন।' #
বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ইংরেজি ২য় পত্রে ১০ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অসদুপায় অবলম্বন করায় তাদের বহিষ্কার করা হয়। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক শরীফ মোর্শেদ রেজা স্বাক্ষরিত দৈনিক তথ্য বিবরণীতে বুধবার বিকালে এ তথ্য জানানো হয়।
সূত্র জানায়, বিভাগের ৬ জেলার ১৪২টি পরীক্ষাকেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৫৪ হাজার ৬৫৮ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ৫২ হাজার ৯৯৩ জন। অনুপস্থিত ছিল ১ হাজার ৭১৯ জন।
ইংরেজি ২য় পত্র পরীক্ষায় বরিশাল জেলায় ৩ জন, ঝালকাঠিতে একজন এবং পটুয়াখালী জেলায় ৬ জন পরীক্ষার্থী বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে কোনো পরিদর্শক বা শিক্ষককে বহিষ্কার করা হয়নি বলে জানিয়েছেন বোর্ড কর্তৃপক্ষ।
বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক শরীফ মোর্শেদ রেজা দৈনিক তথ্য বিবরণীতে জানান, পরীক্ষা সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
০৯ জুলাই, ২০২৬ ০০:১৭
০৮ জুলাই, ২০২৬ ২২:৩৬
০৮ জুলাই, ২০২৬ ২০:১৬
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১৯:৫১