বাবুগঞ্জে ১৯ সেপ্টেম্বর বিএনপির উপজেলা সম্মেলন উপলক্ষ্যে বিতরণ করা আমন্ত্রণ পত্র।
দাওয়াত কার্ড বিলি শেষ হয়েছিল। মঞ্চ নির্মাণের কাজও প্রায় সম্পন্ন হওয়ার পথে ছিল। নেতাকর্মীদের মাঝে ছিল উচ্ছ্বাস আর উদ্দীপনা। দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ পরে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সম্মেলন ঘিরে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল উৎসবের প্রাণচাঞ্চল্য। তবে সম্মেলনের মাত্র একদিন আগে আচমকা স্থগিত করা হয়েছে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ওই ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পরে শুক্রবার ১৯ সেপ্টেম্বর ওই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মূহুর্তে তা অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্থগিত করা হয়। বরিশাল-৩ আসনের (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের প্রার্থী কেন্দ্রীয় দুই হেভিওয়েট নেতার দ্বন্দ্বের কারণেই শেষ মূহুর্তে এই সম্মেলন স্থগিত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশেই সম্মেলন স্থগিত হয়েছে বলে নিশ্চিত করলেও এর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে পারেনি বিএনপির দলীয় হাইকমান্ড।
বিএনপির স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, বাবুগঞ্জ উপজেলা সম্মেলন আয়োজনের মূল নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। তিনি ওই সম্মেলনের প্রধান অতিথি ছিলেন। তাকে প্রধান অতিথি করেই শুক্রবারের ওই উপজেলা বিএনপির সম্মেলনের দাওয়াত কার্ড বিলি করা হয়। এদিকে বিএনপির অপর একটি অংশের নেতৃত্ব দেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমানের অনুসারীদের অভিযোগ, তাদের কাউকেই রাখা হয়নি সম্মেলনের কোনো আয়োজনে। উপজেলা বিএনপির একটি বড় অংশকে উপেক্ষা করা হয়েছে। বিগত ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড সম্মেলনে গঠিত কমিটিতে জায়গা দেওয়া হয়নি দলের ত্যাগী এবং নির্যাতিত নেতাকর্মীদের। এমন অভিযোগ হাইকমান্ডে যাওয়ার পরেই দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম থেকে সম্মেলন স্থগিতের নির্দেশ আসে। সর্বশেষ ২০২৪ সালে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। এতে জয়নুল আবেদীনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ খানকে আহবায়ক এবং ওয়াহিদুল ইসলাম প্রিন্সকে সদস্য সচিব করে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এর আগে আওয়ামী লীগ আমলের প্রায় পুরো সময়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন ইসরাত হোসেন কচি তালুকদার। তিনি বেগম সেলিমা রহমানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তবে সেই কমিটিতেও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ওয়াহিদুল ইসলাম প্রিন্স।
বরিশাল জেলা বিএনপির সদস্য ও বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইসরাত হোসেন কচি তালুকদার বলেন, 'বিগত ১৭ বছর রাজপথে দলীয় কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে হামলা-মামলা ও কারাবরণকারী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন না করে বাবুগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে বিভিন্ন দলের বিতর্কিত লোকজন নিয়ে ওয়ার্ড এবং ইউনিয়ন কমিটি করা হয়েছে। যেসব কমিটি বিলুপ্ত হয়েছিল সেই বিলুপ্ত কমিটিই পুনর্বহাল করে নিজেদের অনুগত লোকজন নিয়ে উপজেলা বিএনপির সম্মেলন করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এবং সদস্য সচিব। ফলে দলের তৃণমূল পর্যায়ের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ এবং হতাশা ছড়িয়ে পড়ে। নিরুপায় হয়ে তারা দলের হাইকমান্ডের কাছে এসব তথ্যপ্রমাণসহ অভিযোগ জানায়।'
বরিশাল জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ও উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আওলাদ হোসেন বলেন, 'বিএনপির বর্তমান আহবায়ক এবং সদস্য সচিব নিজেদের কোরাম ভারী করতে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং ওয়ার্কার্স পার্টির নেতাকর্মীদের এনে বিএনপিতে পুনর্বাসন করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু ১৭ বছর লড়াই-সংগ্রাম করা বিএনপির ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের ওয়ার্ড এবং ইউনিয়নের পদ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ওয়ার্ড এবং ইউনিয়নগুলোতে নিজেদের ইচ্ছামতো লোক এনে বসানো হয়েছে। বিএনপির দুঃসময়ে এদের কাউকে অতীতেও খুঁজে পাওয়া যায়নি আর ভবিষ্যতেও পাওয়া যাবে না।'
তবে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সুলতান আহমেদ খান। তিনি বলেন, 'উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিটি করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নের হাজার হাজার নেতাকর্মীদের উপস্থিততে সম্মেলন করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন সম্মেলনে জেলা বিএনপির আহবায়ক এবং সদস্য সচিব উপস্থিত ছিলেন। বরিশাল-৩ আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক নেতা অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের বিএনপিতে জায়গা দেওয়ার তো প্রশ্নই আসে না। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমানের অনুসারীদের কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, এমন অভিযোগও সত্য নয়। ওয়ার্ড এবং ইউনিয়ন কমিটিতে তাদের অনেকেই স্থান পেয়েছে। এখন কেউ যদি ইচ্ছা করে সম্মেলনে না আসে আর দূরে বসে দোষ খুঁজে বেড়ায়, তারা চাইলে অনেককিছুই বলতে পারে।'
আহবায়ক সুলতান আহমেদ খান আরো বলেন, '১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আমি বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলাম। এরপরে ২০১০ সালে ইসরাত হোসেন কচি তালুকদারের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিতে আমাকে এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম ফকিরকে সাধারণ সদস্য পদেও রাখা হয়নি। তবুও জেলা এবং উপজেলার বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছি। আওয়ামী লীগের আমলে মহাসড়ক অবরোধের প্রথম নাশকতার মামলা আমার নামেই হয়েছে। আমি ২০১৮ সালে উপজেলা বিএনপির কমিটিতে সদস্য পদ ফিরে পাই এবং ২০২৩ সালে আহবায়কের দায়িত্ব গ্রহণ করি। ২০২৪ সালে আমাকে আহবায়ক রেখেই আবার আহবায়ক কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। সম্মেলনের মাধ্যমে সবাইকে নিয়ে জাঁকজমকপূর্ণ উপজেলা সম্মেলন করতে চেয়েছিলাম। তবে জেলার সদস্য সচিবের মাধ্যমে যতদূর জেনেছি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সরাসরি নির্দেশে সম্মেলন স্থগিত হয়েছে। শুধু বাবুগঞ্জ নয়, বরিশাল জেলার সব সম্মেলনই স্থগিত করা হয়েছে।'
বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহীন বলেন, 'রাজনৈতিক দলে দলীয় বিরোধ, মতভেদ আছে এবং থাকবে। এটা গণতন্ত্রের একটা অংশ। বাবুগঞ্জ উপজেলা সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে। তিনি জাতীয় নির্বাচনের আগে দলের মধ্যে কমিটি নিয়ে কোনো বিভাজন কিংবা সংঘাত চান না।'
এ বিষয়ে জানতে বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সামনে জাতীয় নির্বাচন। তাই দল চায় না এই সময়ে স্থানীয় বিরোধ আরো বেড়ে যাক। সে কারণেই সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। সামনের নির্বাচন অনেক কঠিন হবে। এই নির্বাচন বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কে কার লোক, সেটা নিয়ে বিভাজন করার সময় নয় এখন। সকল মতভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করতে হবে।' #

২১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০৬
চরমোনাই পির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘোষণা দিলেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ভোট দিয়েছেন দলটির একমাত্র সংসদ সদস্য (এমপি) মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ। অবশ্য দলের নেতাদের দাবি, দলীয় আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের সিদ্ধান্তে অলিউল্লাহ ভোট দিতে যান। দলটির প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করিম মারুফ সাংবাদিকদের বলেন, ইসলামী আন্দোলনের এমপি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি পাঠায় ইসলামী আন্দোলন। বিবৃতিতে দলটির মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিষয়ে জুলাই সনদে ঐকমত্য হওয়া সিদ্ধান্ত থেকে সরে যাওয়ায় তারা এ নির্বাচনে ভোট দেবেন না। বিবৃতি এবং ভোট দেওয়ার বিষয়ে জানতে গাজী আতাউর রহমান ও অলিউল্লাহর মোবাইলে কয়েকবার ফোন করা হলেও তারা ধরেননি।
ইসলামী আন্দোলনের বিবৃতিতে আতাউর রহমান বলেন, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে যে সংকট, তার অন্যতম কারণ দলীয় রাষ্ট্রপতি। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে রাষ্ট্রপতির নির্বাচন বিষয়ে বেশ কিছু নীতিতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে বিএনপিরও ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) ছিল না। তারা প্রত্যাশা করেছিল, জুলাই সনদের সেই ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়া নীতিকে মান্য করে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। কিন্তু তা যেহেতু হয়নি, তাই এ নির্বাচনে ভোট দেওয়াকে তারা সমীচীন মনে করছে না।
বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই সনদে একমত হওয়া বিষয়গুলোর মধ্যে রাষ্ট্রপতি শিরোনামে ধারা-১০-এ বর্ণিত হয়েছে যে রাষ্ট্রপতি আইনসভার উভয় কক্ষের (উচ্চ ও নিম্নকক্ষ) সদস্যদের গোপন ভোটে নির্বাচিত হবেন। এ ধারায় বিএনপিও একমত হয়েছিল। ধারা-২৮-এ বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদে দলের বিরুদ্ধে ভোট দান প্রসঙ্গে অর্থ বিল ও আস্থা ভোট বাদে অন্য সব ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন। এ বিষয়ে বিএনপিসহ সবাই একমত হয়েছে। এই দুটি বিষয়ের কোনোটিই মান্য করা হচ্ছে না। এটা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে গাদ্দারি ছাড়া ভিন্ন কিছু নয়।’
চরমোনাই পির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘোষণা দিলেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ভোট দিয়েছেন দলটির একমাত্র সংসদ সদস্য (এমপি) মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ। অবশ্য দলের নেতাদের দাবি, দলীয় আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের সিদ্ধান্তে অলিউল্লাহ ভোট দিতে যান। দলটির প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করিম মারুফ সাংবাদিকদের বলেন, ইসলামী আন্দোলনের এমপি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি পাঠায় ইসলামী আন্দোলন। বিবৃতিতে দলটির মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিষয়ে জুলাই সনদে ঐকমত্য হওয়া সিদ্ধান্ত থেকে সরে যাওয়ায় তারা এ নির্বাচনে ভোট দেবেন না। বিবৃতি এবং ভোট দেওয়ার বিষয়ে জানতে গাজী আতাউর রহমান ও অলিউল্লাহর মোবাইলে কয়েকবার ফোন করা হলেও তারা ধরেননি।
ইসলামী আন্দোলনের বিবৃতিতে আতাউর রহমান বলেন, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে যে সংকট, তার অন্যতম কারণ দলীয় রাষ্ট্রপতি। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে রাষ্ট্রপতির নির্বাচন বিষয়ে বেশ কিছু নীতিতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে বিএনপিরও ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) ছিল না। তারা প্রত্যাশা করেছিল, জুলাই সনদের সেই ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়া নীতিকে মান্য করে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। কিন্তু তা যেহেতু হয়নি, তাই এ নির্বাচনে ভোট দেওয়াকে তারা সমীচীন মনে করছে না।
বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই সনদে একমত হওয়া বিষয়গুলোর মধ্যে রাষ্ট্রপতি শিরোনামে ধারা-১০-এ বর্ণিত হয়েছে যে রাষ্ট্রপতি আইনসভার উভয় কক্ষের (উচ্চ ও নিম্নকক্ষ) সদস্যদের গোপন ভোটে নির্বাচিত হবেন। এ ধারায় বিএনপিও একমত হয়েছিল। ধারা-২৮-এ বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদে দলের বিরুদ্ধে ভোট দান প্রসঙ্গে অর্থ বিল ও আস্থা ভোট বাদে অন্য সব ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন। এ বিষয়ে বিএনপিসহ সবাই একমত হয়েছে। এই দুটি বিষয়ের কোনোটিই মান্য করা হচ্ছে না। এটা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে গাদ্দারি ছাড়া ভিন্ন কিছু নয়।’

২০ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:১৫
বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য ২০ হাজার চারা গাছ বিতরণ করেছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি)। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এসব গাছের চারা বিতরণ করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশাল অডিটোরিয়ামে চারা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন।
এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম এবং বিসিসির সচিব রুম্পা শিকদার।
এছাড়া বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বনায়ন শাখার কর্মকর্তা এবং বরিশাল নগরীর বিভিন্ন কলেজ, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সর্বমোট ১৪৫ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২০ হাজার গাছের চারা প্রদান করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিসিসি প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সবুজ নগরী গড়ে তুলতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নগরবাসীকে এই সামাজিক বনায়ন কর্মসূচিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠান শেষে নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।'
বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য ২০ হাজার চারা গাছ বিতরণ করেছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি)। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এসব গাছের চারা বিতরণ করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশাল অডিটোরিয়ামে চারা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন।
এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম এবং বিসিসির সচিব রুম্পা শিকদার।
এছাড়া বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বনায়ন শাখার কর্মকর্তা এবং বরিশাল নগরীর বিভিন্ন কলেজ, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সর্বমোট ১৪৫ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২০ হাজার গাছের চারা প্রদান করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিসিসি প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সবুজ নগরী গড়ে তুলতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নগরবাসীকে এই সামাজিক বনায়ন কর্মসূচিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠান শেষে নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।'

২০ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৩০
বহু অঘটন পটিয়াসি বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) বিতর্কিত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারীকে সরিয়ে দিয়েছে সরকার। তাকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পরিচালক হিসেবে পদায়ন করা হয়। বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ নুর-এ-আলম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত দেড় বছর বরিশাল সিটি করপোরেশনে থাকাকালে কুয়াকাটায় রিসোর্ট প্রকল্প, ভবনের প্ল্যান অনুমোদনের নামে রেজাউল বারীর নানা দুর্নীতি তদন্তের দাবি করেছেন নগরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বিসিসি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৩ মার্চ বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে যোগদান করেন মো. রেজাউল বারী। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় না থাকার সুযোগে সিইও রেজাউল বারী ছিলেন বিসিসির একচ্ছত্র ক্ষমতাবান কর্মকর্তা। সিটি করপোরেশনে পদোন্নতি, নিয়োগ, কুয়াকাটায় রিসোর্ট করা এবং ভবনের প্লান অনুমোদনের নামে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিটি করপোরেশনের একজন কর্মকর্তা বলেন, রিসোর্ট, প্লান, পদায়ন, নিয়োগ এই সবকিছুতে সিইওকে সহযোগিতা করে আসছেন করপোরেশনের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই নগরভবনে সব দুর্নীতি ও অনিয়ম সংঘটিত হয়।
বিতর্কিত এই কর্মকর্তার বদলির খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারী আ. রশিদ নিলু। এই রাজনৈতিক জানান, সিটি করপোরেশনের রিসোর্ট করার জন্য জমি কেনা নিয়ে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন। উচ্চ আদালত জমি ক্রয়ের কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দিলেও তৎকালীন প্রশাসক রায়হান কাওসার বিসিসির সিইও রেজাউল বারীকে নিয়ে রিসোর্ট, ভবনের প্লান অনুমোদনে লুটপাট করেছেন। তিনি বলেন, বিসিসি জনগণের টাকায় বিলাসী রিসোর্ট করবে, এটা মানা যায় না। এসবের তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।
বদলি আদশের বিষয়টি স্বীকার করলেও বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলছেন, প্রশাসক যখন তাকে ছাড়বেন, তিনি তখনই বিদায় নেবেন। করপোরেশনের পক্ষ থেকে কুয়াকাটায় রিসোর্ট করা, প্ল্যান অনুমোদনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
বরিশাল সিটি করপোরেশনে প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বৃহস্পতিবার বিকেলে বরিশালটটাইমসকে বলেন, সিইও স্যার বদলি হয়েছেন, এমন একটি খবর শুনেছি।’
বহু অঘটন পটিয়াসি বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) বিতর্কিত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারীকে সরিয়ে দিয়েছে সরকার। তাকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পরিচালক হিসেবে পদায়ন করা হয়। বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ নুর-এ-আলম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত দেড় বছর বরিশাল সিটি করপোরেশনে থাকাকালে কুয়াকাটায় রিসোর্ট প্রকল্প, ভবনের প্ল্যান অনুমোদনের নামে রেজাউল বারীর নানা দুর্নীতি তদন্তের দাবি করেছেন নগরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বিসিসি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৩ মার্চ বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে যোগদান করেন মো. রেজাউল বারী। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় না থাকার সুযোগে সিইও রেজাউল বারী ছিলেন বিসিসির একচ্ছত্র ক্ষমতাবান কর্মকর্তা। সিটি করপোরেশনে পদোন্নতি, নিয়োগ, কুয়াকাটায় রিসোর্ট করা এবং ভবনের প্লান অনুমোদনের নামে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিটি করপোরেশনের একজন কর্মকর্তা বলেন, রিসোর্ট, প্লান, পদায়ন, নিয়োগ এই সবকিছুতে সিইওকে সহযোগিতা করে আসছেন করপোরেশনের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই নগরভবনে সব দুর্নীতি ও অনিয়ম সংঘটিত হয়।
বিতর্কিত এই কর্মকর্তার বদলির খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারী আ. রশিদ নিলু। এই রাজনৈতিক জানান, সিটি করপোরেশনের রিসোর্ট করার জন্য জমি কেনা নিয়ে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন। উচ্চ আদালত জমি ক্রয়ের কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দিলেও তৎকালীন প্রশাসক রায়হান কাওসার বিসিসির সিইও রেজাউল বারীকে নিয়ে রিসোর্ট, ভবনের প্লান অনুমোদনে লুটপাট করেছেন। তিনি বলেন, বিসিসি জনগণের টাকায় বিলাসী রিসোর্ট করবে, এটা মানা যায় না। এসবের তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।
বদলি আদশের বিষয়টি স্বীকার করলেও বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলছেন, প্রশাসক যখন তাকে ছাড়বেন, তিনি তখনই বিদায় নেবেন। করপোরেশনের পক্ষ থেকে কুয়াকাটায় রিসোর্ট করা, প্ল্যান অনুমোদনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
বরিশাল সিটি করপোরেশনে প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বৃহস্পতিবার বিকেলে বরিশালটটাইমসকে বলেন, সিইও স্যার বদলি হয়েছেন, এমন একটি খবর শুনেছি।’

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৯:৫২
দাওয়াত কার্ড বিলি শেষ হয়েছিল। মঞ্চ নির্মাণের কাজও প্রায় সম্পন্ন হওয়ার পথে ছিল। নেতাকর্মীদের মাঝে ছিল উচ্ছ্বাস আর উদ্দীপনা। দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ পরে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সম্মেলন ঘিরে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল উৎসবের প্রাণচাঞ্চল্য। তবে সম্মেলনের মাত্র একদিন আগে আচমকা স্থগিত করা হয়েছে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ওই ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পরে শুক্রবার ১৯ সেপ্টেম্বর ওই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মূহুর্তে তা অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্থগিত করা হয়। বরিশাল-৩ আসনের (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের প্রার্থী কেন্দ্রীয় দুই হেভিওয়েট নেতার দ্বন্দ্বের কারণেই শেষ মূহুর্তে এই সম্মেলন স্থগিত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশেই সম্মেলন স্থগিত হয়েছে বলে নিশ্চিত করলেও এর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে পারেনি বিএনপির দলীয় হাইকমান্ড।
বিএনপির স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, বাবুগঞ্জ উপজেলা সম্মেলন আয়োজনের মূল নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। তিনি ওই সম্মেলনের প্রধান অতিথি ছিলেন। তাকে প্রধান অতিথি করেই শুক্রবারের ওই উপজেলা বিএনপির সম্মেলনের দাওয়াত কার্ড বিলি করা হয়। এদিকে বিএনপির অপর একটি অংশের নেতৃত্ব দেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমানের অনুসারীদের অভিযোগ, তাদের কাউকেই রাখা হয়নি সম্মেলনের কোনো আয়োজনে। উপজেলা বিএনপির একটি বড় অংশকে উপেক্ষা করা হয়েছে। বিগত ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড সম্মেলনে গঠিত কমিটিতে জায়গা দেওয়া হয়নি দলের ত্যাগী এবং নির্যাতিত নেতাকর্মীদের। এমন অভিযোগ হাইকমান্ডে যাওয়ার পরেই দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম থেকে সম্মেলন স্থগিতের নির্দেশ আসে। সর্বশেষ ২০২৪ সালে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। এতে জয়নুল আবেদীনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ খানকে আহবায়ক এবং ওয়াহিদুল ইসলাম প্রিন্সকে সদস্য সচিব করে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এর আগে আওয়ামী লীগ আমলের প্রায় পুরো সময়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন ইসরাত হোসেন কচি তালুকদার। তিনি বেগম সেলিমা রহমানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তবে সেই কমিটিতেও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ওয়াহিদুল ইসলাম প্রিন্স।
বরিশাল জেলা বিএনপির সদস্য ও বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইসরাত হোসেন কচি তালুকদার বলেন, 'বিগত ১৭ বছর রাজপথে দলীয় কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে হামলা-মামলা ও কারাবরণকারী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন না করে বাবুগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে বিভিন্ন দলের বিতর্কিত লোকজন নিয়ে ওয়ার্ড এবং ইউনিয়ন কমিটি করা হয়েছে। যেসব কমিটি বিলুপ্ত হয়েছিল সেই বিলুপ্ত কমিটিই পুনর্বহাল করে নিজেদের অনুগত লোকজন নিয়ে উপজেলা বিএনপির সম্মেলন করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এবং সদস্য সচিব। ফলে দলের তৃণমূল পর্যায়ের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ এবং হতাশা ছড়িয়ে পড়ে। নিরুপায় হয়ে তারা দলের হাইকমান্ডের কাছে এসব তথ্যপ্রমাণসহ অভিযোগ জানায়।'
বরিশাল জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ও উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আওলাদ হোসেন বলেন, 'বিএনপির বর্তমান আহবায়ক এবং সদস্য সচিব নিজেদের কোরাম ভারী করতে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং ওয়ার্কার্স পার্টির নেতাকর্মীদের এনে বিএনপিতে পুনর্বাসন করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু ১৭ বছর লড়াই-সংগ্রাম করা বিএনপির ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের ওয়ার্ড এবং ইউনিয়নের পদ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ওয়ার্ড এবং ইউনিয়নগুলোতে নিজেদের ইচ্ছামতো লোক এনে বসানো হয়েছে। বিএনপির দুঃসময়ে এদের কাউকে অতীতেও খুঁজে পাওয়া যায়নি আর ভবিষ্যতেও পাওয়া যাবে না।'
তবে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সুলতান আহমেদ খান। তিনি বলেন, 'উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিটি করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নের হাজার হাজার নেতাকর্মীদের উপস্থিততে সম্মেলন করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন সম্মেলনে জেলা বিএনপির আহবায়ক এবং সদস্য সচিব উপস্থিত ছিলেন। বরিশাল-৩ আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক নেতা অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের বিএনপিতে জায়গা দেওয়ার তো প্রশ্নই আসে না। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমানের অনুসারীদের কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, এমন অভিযোগও সত্য নয়। ওয়ার্ড এবং ইউনিয়ন কমিটিতে তাদের অনেকেই স্থান পেয়েছে। এখন কেউ যদি ইচ্ছা করে সম্মেলনে না আসে আর দূরে বসে দোষ খুঁজে বেড়ায়, তারা চাইলে অনেককিছুই বলতে পারে।'
আহবায়ক সুলতান আহমেদ খান আরো বলেন, '১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আমি বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলাম। এরপরে ২০১০ সালে ইসরাত হোসেন কচি তালুকদারের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিতে আমাকে এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম ফকিরকে সাধারণ সদস্য পদেও রাখা হয়নি। তবুও জেলা এবং উপজেলার বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছি। আওয়ামী লীগের আমলে মহাসড়ক অবরোধের প্রথম নাশকতার মামলা আমার নামেই হয়েছে। আমি ২০১৮ সালে উপজেলা বিএনপির কমিটিতে সদস্য পদ ফিরে পাই এবং ২০২৩ সালে আহবায়কের দায়িত্ব গ্রহণ করি। ২০২৪ সালে আমাকে আহবায়ক রেখেই আবার আহবায়ক কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। সম্মেলনের মাধ্যমে সবাইকে নিয়ে জাঁকজমকপূর্ণ উপজেলা সম্মেলন করতে চেয়েছিলাম। তবে জেলার সদস্য সচিবের মাধ্যমে যতদূর জেনেছি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সরাসরি নির্দেশে সম্মেলন স্থগিত হয়েছে। শুধু বাবুগঞ্জ নয়, বরিশাল জেলার সব সম্মেলনই স্থগিত করা হয়েছে।'
বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহীন বলেন, 'রাজনৈতিক দলে দলীয় বিরোধ, মতভেদ আছে এবং থাকবে। এটা গণতন্ত্রের একটা অংশ। বাবুগঞ্জ উপজেলা সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে। তিনি জাতীয় নির্বাচনের আগে দলের মধ্যে কমিটি নিয়ে কোনো বিভাজন কিংবা সংঘাত চান না।'
এ বিষয়ে জানতে বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সামনে জাতীয় নির্বাচন। তাই দল চায় না এই সময়ে স্থানীয় বিরোধ আরো বেড়ে যাক। সে কারণেই সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। সামনের নির্বাচন অনেক কঠিন হবে। এই নির্বাচন বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কে কার লোক, সেটা নিয়ে বিভাজন করার সময় নয় এখন। সকল মতভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করতে হবে।' #
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ২১:০৯
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ২১:০০
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:২৩
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:০৭