প্রয়াত আর জেলে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাসহ বরিশালে মামলা বাণিজ্যের মাস্টারমাইন্ডখ্যাত ছাত্রশক্তির নেতা মারজুক আব্দুল্লাহকে খুঁজছে পুলিশ। রোববার বিষয়টি জানিয়েছেন বরিশালের পুলিশ কমিশনার আশিক সাঈদ। পটুয়াখালীর দুমকি থানায় ডাকাতি চেষ্টার মামলায় মারজুক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে মারজুকের সর্বশেষ মিথ্যা মামলায় আসামির তালিকায় নাম থাকা বেশ কয়েকজনের কাছে এরই মধ্যে টাকা চাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে আসামির তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার শর্তে ওই টাকা চাওয়া হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। এছাড়া এ মিথ্যা মামলার আসামির তালিকায় বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতার নামও ঢোকানো হয়েছে। অথচ মামলার অভিযোগে আসামির তালিকায় থাকা ২৪৮ জনের সবাইকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী বলে উল্লেখ করেছেন মারজুক আব্দুল্লাহ।
[এই সংবাদটি আজ দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার অনলাইন ও প্রিন্ট ভার্সনে বরিশাল ব্যুরো চিফ সিনিয়র সাংবাদিক আকতার ফারুক শাহীনের নামে প্রকাশ পেয়েছে]
জুলাই বিপ্লবের পর বরিশালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (বৈছাআ) নেতা হিসাবে পরিচিতি পান মারজুক। ঝিনাইদহের বাসিন্দা মারজুকের নানাবাড়ি বাকেরগঞ্জের চরামদ্দি ইউনিয়নে। কয়েক বছর ধরে তিনি বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া করে থাকছেন। ৫ আগস্টের পর মারজুক প্রথম সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুসহ আওয়ামী লীগের ২৪৭ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। জুলাই আন্দোলনে হামলা, ভাঙচুর, গুলি আর মারধরের অভিযোগে দায়ের করা ওই মামলা দিয়েই বরিশালে প্রথমবার মামলা বাণিজ্যের মাস্টারমাইন্ড হিসাবে তার আত্মপ্রকাশ ঘটে। আসামির তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার কথা বলে বহুজনের কাছ থেকে তখন তিনি মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেন। মামলা বাণিজ্যের বিষয় নিয়ে সেসময় দেশের গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে জুলাই বিপ্লবকেন্দ্রিক আরও একটি মামলা বাণিজ্যের চেষ্টা করেছিলেন মারজুক। কিন্তু প্রশাসনের তৎপরতায় সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরই মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বিলুপ্ত করা হলে জেলা সমন্বয়কের পদ হারান মারজুক। পরবর্তী সময়ে এনসিপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রশক্তি গঠিত হলে তাকে বরিশাল মহানগর কমিটির যুগ্মসাধারণ সম্পাদক করা হয়। নতুন এ পরিচয়ে আবারও তিনি নগরীতে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টায় নামেন। ঘোষণা দেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচন করার। পরে অবশ্য ছাত্রশক্তির কমিটি বাতিল করে কেন্দ্র।
দলীয় কোন পদ-পদবিতে না থাকাবস্থায় বৃহস্পতিবার বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নতুন আরেকটি মামলার আবেদন করেন মারজুক। এবার তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ ২৪৮ জনের বিরুদ্ধে বেশকিছু মিথ্যা অভিযোগ আনেন। অভিযোগটি মামলা হিসাবে রেকর্ড না করে তদন্তের জন্য বরিশালের উপপুলিশ কমিশনারকে দায়িত্ব দেন আদালত। মারজুকের নতুন এ মামলার খবর জানাজানি হওয়ার পর বরিশালে তোলপাড় শুরু হয়। কেননা এতে কবরে ও জেলে থাকা এইসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা হয়েছে বোমা ও ককটেল নিক্ষেপের অভিযোগ। ৮ আসামির নাম দুবার করে লেখা হয়েছে তালিকায়। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে তালিকায় ৬ জন বিএনপি নেতাকর্মীর নামও রয়েছে।
বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার বলেন, ‘এর আগেও এই ছেলে এরকম মামলা বাণিজ্য করেছে। নতুন করে আবার এ মামলা দেওয়ার পেছনেও নিশ্চয়ই কোনো খারাপ উদ্দেশ্য রয়েছে। মামলায় বিএনপির লোকজনের নাম দেওয়াটাই তো সন্দেহ আর উদ্বেগজনক।’
এদিকে মামলার বাদী মারজুক আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে একটি ডাকাতি চেষ্টার মামলা বর্তমানে পটুয়াখালীর আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। গত বছরের ৬ জুন পটুয়াখালীর পায়রা ব্রিজ এলাকায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ডাকাতি চেষ্টার অভিযোগে ওই মামলা করেছিল দুমকি থানা পুলিশ। মামলার অপর দুই আসামি গ্রেফতার হওয়ার পর জামিনে মুক্তি পেলেও মারজুকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। পুলিশের খাতায় পলাতক আসামি হয়েও মারজুক কী করে প্রায় ১ বছর ধরে বরিশালে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, সেটাই এখন প্রশ্ন। বিষয়টি নিয়ে আলাপকালে বরিশালের পুলিশ কমিশনার আশিক সাঈদ বলেন, ‘আমি যেহেতু এখানে নতুন এসেছি, তাই বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তবে ওয়ারেন্টের কপি হাতে পেয়েছি। এখন তার (মারজুক আব্দুল্লাহ) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বরিশাল আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘যেহেতু অভিযোগটি তদন্তে আছে, তাই এটি নিয়ে টেনশনের কিছু নেই। তদন্তে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে এমনিতেই আদালত তা খারিজ করে দেবেন।’

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৫৭
বরিশালের হিজলায় মেঘনা নদীতে আক্তার হাওলাদার নামে চল্লিশোর্ধ্ব এক জেলেকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের চরমেমানিয়া এলাকায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে বেলা ১টার দিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত আক্তার হাওলাদার চরমেমানিয়া এলাকার সুলতান হাওলাদারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আক্তার হাওলাদার অন্য জেলেদের সঙ্গে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। এ সময় অন্য একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে আক্তার গুলিবিদ্ধ হন। পরে সঙ্গে থাকা জেলেরা তাকে জীবিত অবস্থায় নদীর তীরে নিয়ে আসেন এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে খবর দেন। মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান জানান, অন্য একটি ট্রলার থেকে গুলি ছোড়ার ঘটনায় আকতার গুলিবিদ্ধ হন বলে তার সঙ্গে থাকা জেলেরা জানিয়েছেন। তবে কারা এবং কী কারণে গুলি ছুড়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ঘটনার সময় নদীতে কোনো বাহিনীর অভিযান চলছিল না। কীভাবে ওই জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, কয়েকজন জেলে তাকে মেঘনা নদীতে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকার খবর দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। জেলেদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছিল। তবে কারা গুলি করেছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি।’
বরিশালের হিজলায় মেঘনা নদীতে আক্তার হাওলাদার নামে চল্লিশোর্ধ্ব এক জেলেকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের চরমেমানিয়া এলাকায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে বেলা ১টার দিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত আক্তার হাওলাদার চরমেমানিয়া এলাকার সুলতান হাওলাদারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আক্তার হাওলাদার অন্য জেলেদের সঙ্গে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। এ সময় অন্য একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে আক্তার গুলিবিদ্ধ হন। পরে সঙ্গে থাকা জেলেরা তাকে জীবিত অবস্থায় নদীর তীরে নিয়ে আসেন এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে খবর দেন। মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান জানান, অন্য একটি ট্রলার থেকে গুলি ছোড়ার ঘটনায় আকতার গুলিবিদ্ধ হন বলে তার সঙ্গে থাকা জেলেরা জানিয়েছেন। তবে কারা এবং কী কারণে গুলি ছুড়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ঘটনার সময় নদীতে কোনো বাহিনীর অভিযান চলছিল না। কীভাবে ওই জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, কয়েকজন জেলে তাকে মেঘনা নদীতে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকার খবর দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। জেলেদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছিল। তবে কারা গুলি করেছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি।’

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৪৬
বরিশাল নগরীর সদর রোডে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় সজল কুমার চক্রবর্তী নামে এক আইনজীবী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে জগন্নাথ মন্দিরের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও নিহতের সহকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, সকালে মন্দির থেকে বের হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল সজলকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ও মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৮টা ৫ মিনিটে সজল কুমার চক্রবর্তীর মৃত্যু হয়।
বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।’
বরিশাল নগরীর সদর রোডে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় সজল কুমার চক্রবর্তী নামে এক আইনজীবী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে জগন্নাথ মন্দিরের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও নিহতের সহকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, সকালে মন্দির থেকে বের হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল সজলকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ও মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৮টা ৫ মিনিটে সজল কুমার চক্রবর্তীর মৃত্যু হয়।
বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।’

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৩৬
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ২০১৫ সালে কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুক্তার হোসেনের অবশিষ্ট জেরা হবে। এর আগে গত ১৮ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।
এ মামলার আসামিরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ এবং উজিরপুর থানার সাবেক দুই সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, হাসানাত আবদুল্লাহ ও এ কে এম এহসানউল্লাহ পলাতক রয়েছেন। অপর দুই আসামি মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় কথিত ক্রসফায়ারে নিহত হন উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, গৌরনদী-গোপালগঞ্জ মহাসড়কের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় সেতুর পশ্চিম পাশে তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তাঁদের হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় অধস্তন পুলিশ সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যায় না।
২০২৬ সালের ২০ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আসামিপক্ষের জেরার মধ্য দিয়ে মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা মামলার অভিযোগের পক্ষে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মাধ্যমে আসামিপক্ষ তদন্তের বিভিন্ন দিক, সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ এবং সাক্ষ্যসংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ পাবে।
আজকের কার্যক্রমে তদন্ত কর্মকর্তার অবশিষ্ট জেরা সম্পন্ন হলে ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগোবে। তবে জেরা শেষে কী সিদ্ধান্ত বা আদেশ দেওয়া হয়েছে, তা আদালতের কার্যক্রমের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ২০১৫ সালে কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুক্তার হোসেনের অবশিষ্ট জেরা হবে। এর আগে গত ১৮ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।
এ মামলার আসামিরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ এবং উজিরপুর থানার সাবেক দুই সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, হাসানাত আবদুল্লাহ ও এ কে এম এহসানউল্লাহ পলাতক রয়েছেন। অপর দুই আসামি মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় কথিত ক্রসফায়ারে নিহত হন উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, গৌরনদী-গোপালগঞ্জ মহাসড়কের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় সেতুর পশ্চিম পাশে তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তাঁদের হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় অধস্তন পুলিশ সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যায় না।
২০২৬ সালের ২০ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আসামিপক্ষের জেরার মধ্য দিয়ে মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা মামলার অভিযোগের পক্ষে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মাধ্যমে আসামিপক্ষ তদন্তের বিভিন্ন দিক, সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ এবং সাক্ষ্যসংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ পাবে।
আজকের কার্যক্রমে তদন্ত কর্মকর্তার অবশিষ্ট জেরা সম্পন্ন হলে ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগোবে। তবে জেরা শেষে কী সিদ্ধান্ত বা আদেশ দেওয়া হয়েছে, তা আদালতের কার্যক্রমের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

০৬ জুলাই, ২০২৬ ১৫:২২
প্রয়াত আর জেলে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাসহ বরিশালে মামলা বাণিজ্যের মাস্টারমাইন্ডখ্যাত ছাত্রশক্তির নেতা মারজুক আব্দুল্লাহকে খুঁজছে পুলিশ। রোববার বিষয়টি জানিয়েছেন বরিশালের পুলিশ কমিশনার আশিক সাঈদ। পটুয়াখালীর দুমকি থানায় ডাকাতি চেষ্টার মামলায় মারজুক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে মারজুকের সর্বশেষ মিথ্যা মামলায় আসামির তালিকায় নাম থাকা বেশ কয়েকজনের কাছে এরই মধ্যে টাকা চাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে আসামির তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার শর্তে ওই টাকা চাওয়া হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। এছাড়া এ মিথ্যা মামলার আসামির তালিকায় বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতার নামও ঢোকানো হয়েছে। অথচ মামলার অভিযোগে আসামির তালিকায় থাকা ২৪৮ জনের সবাইকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী বলে উল্লেখ করেছেন মারজুক আব্দুল্লাহ।
[এই সংবাদটি আজ দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার অনলাইন ও প্রিন্ট ভার্সনে বরিশাল ব্যুরো চিফ সিনিয়র সাংবাদিক আকতার ফারুক শাহীনের নামে প্রকাশ পেয়েছে]
জুলাই বিপ্লবের পর বরিশালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (বৈছাআ) নেতা হিসাবে পরিচিতি পান মারজুক। ঝিনাইদহের বাসিন্দা মারজুকের নানাবাড়ি বাকেরগঞ্জের চরামদ্দি ইউনিয়নে। কয়েক বছর ধরে তিনি বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া করে থাকছেন। ৫ আগস্টের পর মারজুক প্রথম সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুসহ আওয়ামী লীগের ২৪৭ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। জুলাই আন্দোলনে হামলা, ভাঙচুর, গুলি আর মারধরের অভিযোগে দায়ের করা ওই মামলা দিয়েই বরিশালে প্রথমবার মামলা বাণিজ্যের মাস্টারমাইন্ড হিসাবে তার আত্মপ্রকাশ ঘটে। আসামির তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার কথা বলে বহুজনের কাছ থেকে তখন তিনি মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেন। মামলা বাণিজ্যের বিষয় নিয়ে সেসময় দেশের গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে জুলাই বিপ্লবকেন্দ্রিক আরও একটি মামলা বাণিজ্যের চেষ্টা করেছিলেন মারজুক। কিন্তু প্রশাসনের তৎপরতায় সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরই মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বিলুপ্ত করা হলে জেলা সমন্বয়কের পদ হারান মারজুক। পরবর্তী সময়ে এনসিপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রশক্তি গঠিত হলে তাকে বরিশাল মহানগর কমিটির যুগ্মসাধারণ সম্পাদক করা হয়। নতুন এ পরিচয়ে আবারও তিনি নগরীতে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টায় নামেন। ঘোষণা দেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচন করার। পরে অবশ্য ছাত্রশক্তির কমিটি বাতিল করে কেন্দ্র।
দলীয় কোন পদ-পদবিতে না থাকাবস্থায় বৃহস্পতিবার বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নতুন আরেকটি মামলার আবেদন করেন মারজুক। এবার তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ ২৪৮ জনের বিরুদ্ধে বেশকিছু মিথ্যা অভিযোগ আনেন। অভিযোগটি মামলা হিসাবে রেকর্ড না করে তদন্তের জন্য বরিশালের উপপুলিশ কমিশনারকে দায়িত্ব দেন আদালত। মারজুকের নতুন এ মামলার খবর জানাজানি হওয়ার পর বরিশালে তোলপাড় শুরু হয়। কেননা এতে কবরে ও জেলে থাকা এইসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা হয়েছে বোমা ও ককটেল নিক্ষেপের অভিযোগ। ৮ আসামির নাম দুবার করে লেখা হয়েছে তালিকায়। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে তালিকায় ৬ জন বিএনপি নেতাকর্মীর নামও রয়েছে।
বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার বলেন, ‘এর আগেও এই ছেলে এরকম মামলা বাণিজ্য করেছে। নতুন করে আবার এ মামলা দেওয়ার পেছনেও নিশ্চয়ই কোনো খারাপ উদ্দেশ্য রয়েছে। মামলায় বিএনপির লোকজনের নাম দেওয়াটাই তো সন্দেহ আর উদ্বেগজনক।’
এদিকে মামলার বাদী মারজুক আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে একটি ডাকাতি চেষ্টার মামলা বর্তমানে পটুয়াখালীর আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। গত বছরের ৬ জুন পটুয়াখালীর পায়রা ব্রিজ এলাকায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ডাকাতি চেষ্টার অভিযোগে ওই মামলা করেছিল দুমকি থানা পুলিশ। মামলার অপর দুই আসামি গ্রেফতার হওয়ার পর জামিনে মুক্তি পেলেও মারজুকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। পুলিশের খাতায় পলাতক আসামি হয়েও মারজুক কী করে প্রায় ১ বছর ধরে বরিশালে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, সেটাই এখন প্রশ্ন। বিষয়টি নিয়ে আলাপকালে বরিশালের পুলিশ কমিশনার আশিক সাঈদ বলেন, ‘আমি যেহেতু এখানে নতুন এসেছি, তাই বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তবে ওয়ারেন্টের কপি হাতে পেয়েছি। এখন তার (মারজুক আব্দুল্লাহ) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বরিশাল আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘যেহেতু অভিযোগটি তদন্তে আছে, তাই এটি নিয়ে টেনশনের কিছু নেই। তদন্তে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে এমনিতেই আদালত তা খারিজ করে দেবেন।’