সাত সকালের রোদ তখনও উত্তাপ ছড়ায়নি। সেই কাঁচা রোদ মেখেই ঘর থেকে নেমে পড়েন মনীষা চক্রবর্ত্তী। বরিশাল শহরের এক প্রান্তে হাঁটা শুরু করেন। সঙ্গে নেই গাড়ি; নেই দলীয় বহর কিংবা হ্যান্ড মাইকের চিৎকার। পাঁচ-সাতজন মানুষ পাশে থাকলেও নেই স্লোগান, এমনকি শোরগোলও নেই।
মনীষা পেশায় চিকিৎসক। পরিচিত ‘গরিবের ডাক্তার’ নামে। বিনা পয়সায় চিকিৎসা করাই তাঁর পরিচয়ের বড় অংশ। ৩৪তম বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে সুযোগ পেয়েও সরকারি চাকরিতে যোগ দেননি। বেছে নিয়েছেন রাজনীতিকেই। বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)’র বরিশাল জেলা কমিটির সমন্বয়ক তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ আসনে বাসদ মনোনীত গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট সমর্থিত প্রার্থী।
পথে হাঁটার সময় একজনের হাতে থাকে শুধু একটি ব্যাগ। ভেতরে কিছু লিফলেট। তাও নিজে বাড়িয়ে দেন না মনীষা। কেউ চাইলে দেন, না চাইলে নয়। তাঁর রাজনীতি কেবল বক্তৃতা আর পোস্টারে আটকে নেই।
আন্দোলন-সংগ্রামে মনীষাকে প্রায়ই দেখা যায় সামনের সারিতে। মাসের এক তৃতীয়াংশ সময় তাঁর সকাল শুরু হয় শহরের প্রাণকেন্দ্র অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে কোনো না কোনো কর্মসূচির মধ্য দিয়ে। খেটে খাওয়া মানুষের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে জেলেও যেতে হয়েছে। তবু রাজপথ ছাড়েননি।
নির্বাচনী প্রচারণায়ও মনীষার কৌশল আলাদা। সকালে টানা তিন ঘণ্টা হাঁটা। দোকানে ঢোকেন, বেঞ্চিতে বসেন, চা খান। ভোট চান না। বরং প্রশ্ন করেন-গত কয়েক বছরে কী বদলেছে, কী বদলায়নি। মানুষের সমস্যা কী, তারা দিন কাটাচ্ছে কীভাবে, সেটাই জানতে চান।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে সরকারি ব্রজমোহন কলেজে গিয়েছিলেন পূজো দেখতে। সেখানেও প্রচারণার কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি। কিন্তু শিক্ষার্থীদের ভিড় ছিল। কারণ তাঁদের আন্দোলন-সংগ্রামে মনীষাকে পাশে পেয়েছেন তারা।
এই কথোপকথনের ছবি তোলা হয় না। ভিডিও হয় না। সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হয় না। মনীষার যুক্তি, প্রচার যত কম, সম্পর্ক তত গভীর। তাঁর কথায়, ‘ভোট চাইতে সবাই আসে। কথা শুনতে আসে কয়জন?’
দুপুরের পর আবার হাঁটা। পথে পথে ছোট ছোট উঠান বৈঠক। বক্তৃতা দীর্ঘ হয় না। দুই-তিনজন মানুষ থাকলেও তিনি কম বলেন, বেশি শোনেন। ভোটারদের প্রশ্ন করেন, তাদের অভাব-অভিযোগের কথা জানতে চান।
সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলো তাঁর অজানা নয়। তবু নিজেকে তিনি শ্রোতার জায়গায় রাখেন। তাঁর ধারণা, নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতির পাহাড় গড়া হয়, ভোটের পর সেই পাহাড়ে আর কেউ ওঠে না। পিছিয়ে পড়া এলাকাগুলোয় প্রার্থীদের দেখা মেলে শুধু নির্বাচন এলেই।
অন্য প্রার্থীরা যখন মিছিল আর শোডাউনে ব্যস্ত, এলাকায় ঢোকার আগেই বহরের শব্দে জানান দেন কোনো মান্যগণ্য ব্যক্তি এসেছেন, মনীষাদের পথ সেখানে আলাদা। সাধারণ মানুষের সংকট নিয়ে আন্দোলনই তাঁদের রাজনীতির কেন্দ্র। প্রচারণায় সেই কথাই সামনে আসে।
মানুষের কথা শোনা, সেই কথাকে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্দোলনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া- এটাই তাঁদের কৌশল। ভোটারদের কাছে একটি বিষয় স্পষ্ট করে বলা হয়, নির্বাচিত হলেও আন্দোলনে থাকবেন। নির্বাচিত না হলেও মানুষের পাশে থাকবেন। কারণ তাঁরা অতিথি পাখির মতো শোডাউন দিয়ে এলাকায় ঢোকেন না। দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যে শিকড় গড়ে উঠেছে, সেটাকেই ভরসা করেন। তাই হাতে গোনা কয়েকজনকে নিয়েই মানুষের কাছে যান, যেন কেউ বিরক্ত না হন।
দিনের বেলায় গ্রামের মানুষ কাজে ব্যস্ত। তাই রাত নামলেই গ্রামের দৃশ্য বদলায়। বাজারে, বাড়ির ভেতরে ছোট ছোট বৈঠক বসে। পর্দা টানা বারান্দায় গোল হয়ে বসেন দশ-বারোজন। আলো কম, কথা বেশি। রাজনীতি, বঞ্চনা আর জীবনের হিসাব একে অন্যের সঙ্গে মিশে যায়।
এসব বৈঠকেই মনীষা হয়ে ওঠেন গল্পের অংশ। তাঁর কথায়, ‘এগুলোই আসল প্রচার। বহর নিয়ে দিনের বেলায় যে প্রচার হয়, তার অনেকটাই লোক দেখানো।’ দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত ছয় ঘণ্টার প্রচারণার মধ্যে অন্তত পাঁচ ঘণ্টাই হাঁটেন মনীষা। ক্লান্তি লুকোনোর চেষ্টা নেই। তাঁর বিশ্বাস, মানুষের কাছে পৌঁছাতে হলে আগে তাদের জীবন বুঝতে হবে।
বরিশাল জেলা মহিলা পরিষদের সভানেত্রী অধ্যাপক শাহ সাজেদা বলেন, হেঁটে হেঁটে মানুষের পাশে থাকার এমন রাজনীতি মনীষা ছাড়া আর কারো মধ্যে চোখে পড়ে না। বড় ব্যানার বা জাঁকজমকপূর্ণ প্রচারে এই জনসম্পৃক্ততার রাজনীতি ধরা পড়ে না। কিন্তু অনেক উঠান বৈঠক, অনেক চায়ের দোকানে তাঁর নীরব ছাপ থেকে যায়। কারণ মনীষা খেটে খাওয়া মানুষের বিপদে-আপদে ৩৬৫ দিনই পাশে থাকেন।

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:২৫
বরিশালের উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তার সরকারি উন্নয়ন কাজের তদারকিতে গাফেলতিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত ও বিচারের দাবিতে উজিরপুর উপজেলার ধামুরা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রব হাওলাদারের ছেলে মো. মাছুম হাওলাদার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এ লিখিত আভিযোগ দিয়েছেন।
এতে তিনি আভিযোগ করেন উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় উজিরপুরে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থেকে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি সংক্রান্ত অপকর্মের সাথে জড়িত হয়ে পড়েছেন। তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারসহ বিভিন্ন কাজে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজসে সরকারের অর্থের অপচয়সহ নানা দুর্নীতি মূলক কর্মকান্ডের সাথে লিপ্ত রয়েছেন। যা তদন্ত করলেই প্রমান মিলবে। ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার সেগুন বাগিচাস্থ দুদকের প্রধান কর্য্যলয়ে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগটি করা হয়।
অভিযোগকারী মাছুম হাওলাদার বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দাপটের সাথে চাকুরি করা সুব্রত রায় তার তদারকিতে থাকা বিভিন্ন সড়ক, ব্রিজ ও কালর্ভাট নির্মাণে ঠিকাদারদের ব্যাপক অনিয়মকে অর্থের বিনিময়ে সহয়াতা করেন ।
বর্তমান সরকারের আমলেও তিনি উজিরপুরে একই ভাবে চাকুরি করছেন। তার কারনে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হচ্ছে। যা দুর্নীতির শামিল। উপজেলার ধামুরা এলাকার বেশ কয়েকটি ব্রিজের পুরাতন মালপত্র নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তার তদারকিতে থাকা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এসব অভিযোগ সত্য নয়, ভিত্তিহীন দাবি করে উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেন, উপজেলার ধামুরা এলাকায়।নির্মিত একটি ব্রিজের সম্প্রতি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে গেলে কিছু সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে মাছুম হাওলাদার কাজে বাধা দেন। কাগজপত্রে দেখা যায় ওটা খাস সম্পত্তি।
তারপরেও বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই অংশের কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়। ব্রিজের সংযোগ সড়কের এ সম্পত্তি নিয়ে ক্ষিপ্ত মাছুম হাওলাদার তাকে হয়রাণি ও তার পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুদকে এ অভিযোগ দিয়েছেন।’
বরিশালের উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তার সরকারি উন্নয়ন কাজের তদারকিতে গাফেলতিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত ও বিচারের দাবিতে উজিরপুর উপজেলার ধামুরা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রব হাওলাদারের ছেলে মো. মাছুম হাওলাদার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এ লিখিত আভিযোগ দিয়েছেন।
এতে তিনি আভিযোগ করেন উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় উজিরপুরে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থেকে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি সংক্রান্ত অপকর্মের সাথে জড়িত হয়ে পড়েছেন। তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারসহ বিভিন্ন কাজে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজসে সরকারের অর্থের অপচয়সহ নানা দুর্নীতি মূলক কর্মকান্ডের সাথে লিপ্ত রয়েছেন। যা তদন্ত করলেই প্রমান মিলবে। ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার সেগুন বাগিচাস্থ দুদকের প্রধান কর্য্যলয়ে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগটি করা হয়।
অভিযোগকারী মাছুম হাওলাদার বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দাপটের সাথে চাকুরি করা সুব্রত রায় তার তদারকিতে থাকা বিভিন্ন সড়ক, ব্রিজ ও কালর্ভাট নির্মাণে ঠিকাদারদের ব্যাপক অনিয়মকে অর্থের বিনিময়ে সহয়াতা করেন ।
বর্তমান সরকারের আমলেও তিনি উজিরপুরে একই ভাবে চাকুরি করছেন। তার কারনে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হচ্ছে। যা দুর্নীতির শামিল। উপজেলার ধামুরা এলাকার বেশ কয়েকটি ব্রিজের পুরাতন মালপত্র নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তার তদারকিতে থাকা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এসব অভিযোগ সত্য নয়, ভিত্তিহীন দাবি করে উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেন, উপজেলার ধামুরা এলাকায়।নির্মিত একটি ব্রিজের সম্প্রতি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে গেলে কিছু সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে মাছুম হাওলাদার কাজে বাধা দেন। কাগজপত্রে দেখা যায় ওটা খাস সম্পত্তি।
তারপরেও বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই অংশের কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়। ব্রিজের সংযোগ সড়কের এ সম্পত্তি নিয়ে ক্ষিপ্ত মাছুম হাওলাদার তাকে হয়রাণি ও তার পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুদকে এ অভিযোগ দিয়েছেন।’

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৫:৫৬
বরিশাল নগরের ফজলুল হক এভিনিউ ও সদর রোড এলাকা ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা, মেয়াদোত্তীর্ণ ট্রেড লাইসেন্সে ব্যবসা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য সরবরাহের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিসিসির এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ উজ জামানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনা করার দায়ে মুসলিম সুইটস এন্ড রেস্তোরাঁ ও মা গৌরনদী মিষ্টান্ন ভান্ডারকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৫৩ ধারায় মোট ১৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
এ সময় সর্বসাধারণের চলাচলের নির্ধারিত স্থান (ফুটপাত) দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করার দায়ে ২ টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ একাধিক পরিচালিত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন ২০০৯-এর ৯২(৭) ধারা, স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন ২০০৯ এর ৯২(৩) ধারায় মোট ২৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
জনস্বার্থে নগরীর সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে, জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন(বিসিসি)।
বরিশাল টাইমস
বরিশাল নগরের ফজলুল হক এভিনিউ ও সদর রোড এলাকা ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা, মেয়াদোত্তীর্ণ ট্রেড লাইসেন্সে ব্যবসা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য সরবরাহের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিসিসির এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ উজ জামানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনা করার দায়ে মুসলিম সুইটস এন্ড রেস্তোরাঁ ও মা গৌরনদী মিষ্টান্ন ভান্ডারকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৫৩ ধারায় মোট ১৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
এ সময় সর্বসাধারণের চলাচলের নির্ধারিত স্থান (ফুটপাত) দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করার দায়ে ২ টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ একাধিক পরিচালিত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন ২০০৯-এর ৯২(৭) ধারা, স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন ২০০৯ এর ৯২(৩) ধারায় মোট ২৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
জনস্বার্থে নগরীর সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে, জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন(বিসিসি)।
বরিশাল টাইমস

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৪৪
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মো. বেলায়েত হোসেনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার)। এ উপলক্ষে ‘বেলায়েত হোসেন ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
কর্মসূচির সূচনা হবে ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় বরিশাল আঞ্জুমানের মুসলিম গোরস্থানে মরহুমের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে। এরপর বেলা ১১টায় সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজে বৃক্ষরোপণ, বাদ যোহর মরহুমের নিজ এলাকা ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের সোনা মিয়ার পুল এবং পার্শ্ববর্তী মসজিদ ও স্থানীয় এতিমখানাসমূহে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর ২টায় কাউনিয়া হাউজিংয়ে অবস্থিত বৃদ্ধাশ্রমে প্রবীণদের সাথে সহমর্মিতার মধ্যাহ্নভোজ এবং বিকেল ৩টা থেকে সেখানে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালিত হবে।
দিনব্যাপী এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেল ৫টায় বরিশাল রায় রোডস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা মিন্টু বসু সড়কের ‘খেয়ালী গ্রুপ থিয়েটার’ মিলনায়তনে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে প্রদর্শিত হবে অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেনের বর্নাঢ্য জীবন ও কর্ম নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্য চিত্র, যে জীবন মানুষের।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে মরহুমের আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী, গুণগ্রাহী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সকল কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, তিনি বরিশালের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার, প্রাবন্ধিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বাহাউদ্দিন গোলাপের পিতা।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মো. বেলায়েত হোসেনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার)। এ উপলক্ষে ‘বেলায়েত হোসেন ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
কর্মসূচির সূচনা হবে ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় বরিশাল আঞ্জুমানের মুসলিম গোরস্থানে মরহুমের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে। এরপর বেলা ১১টায় সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজে বৃক্ষরোপণ, বাদ যোহর মরহুমের নিজ এলাকা ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের সোনা মিয়ার পুল এবং পার্শ্ববর্তী মসজিদ ও স্থানীয় এতিমখানাসমূহে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর ২টায় কাউনিয়া হাউজিংয়ে অবস্থিত বৃদ্ধাশ্রমে প্রবীণদের সাথে সহমর্মিতার মধ্যাহ্নভোজ এবং বিকেল ৩টা থেকে সেখানে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালিত হবে।
দিনব্যাপী এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেল ৫টায় বরিশাল রায় রোডস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা মিন্টু বসু সড়কের ‘খেয়ালী গ্রুপ থিয়েটার’ মিলনায়তনে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে প্রদর্শিত হবে অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেনের বর্নাঢ্য জীবন ও কর্ম নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্য চিত্র, যে জীবন মানুষের।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে মরহুমের আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী, গুণগ্রাহী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সকল কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, তিনি বরিশালের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার, প্রাবন্ধিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বাহাউদ্দিন গোলাপের পিতা।

২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৩:৪৭
সাত সকালের রোদ তখনও উত্তাপ ছড়ায়নি। সেই কাঁচা রোদ মেখেই ঘর থেকে নেমে পড়েন মনীষা চক্রবর্ত্তী। বরিশাল শহরের এক প্রান্তে হাঁটা শুরু করেন। সঙ্গে নেই গাড়ি; নেই দলীয় বহর কিংবা হ্যান্ড মাইকের চিৎকার। পাঁচ-সাতজন মানুষ পাশে থাকলেও নেই স্লোগান, এমনকি শোরগোলও নেই।
মনীষা পেশায় চিকিৎসক। পরিচিত ‘গরিবের ডাক্তার’ নামে। বিনা পয়সায় চিকিৎসা করাই তাঁর পরিচয়ের বড় অংশ। ৩৪তম বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে সুযোগ পেয়েও সরকারি চাকরিতে যোগ দেননি। বেছে নিয়েছেন রাজনীতিকেই। বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)’র বরিশাল জেলা কমিটির সমন্বয়ক তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ আসনে বাসদ মনোনীত গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট সমর্থিত প্রার্থী।
পথে হাঁটার সময় একজনের হাতে থাকে শুধু একটি ব্যাগ। ভেতরে কিছু লিফলেট। তাও নিজে বাড়িয়ে দেন না মনীষা। কেউ চাইলে দেন, না চাইলে নয়। তাঁর রাজনীতি কেবল বক্তৃতা আর পোস্টারে আটকে নেই।
আন্দোলন-সংগ্রামে মনীষাকে প্রায়ই দেখা যায় সামনের সারিতে। মাসের এক তৃতীয়াংশ সময় তাঁর সকাল শুরু হয় শহরের প্রাণকেন্দ্র অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে কোনো না কোনো কর্মসূচির মধ্য দিয়ে। খেটে খাওয়া মানুষের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে জেলেও যেতে হয়েছে। তবু রাজপথ ছাড়েননি।
নির্বাচনী প্রচারণায়ও মনীষার কৌশল আলাদা। সকালে টানা তিন ঘণ্টা হাঁটা। দোকানে ঢোকেন, বেঞ্চিতে বসেন, চা খান। ভোট চান না। বরং প্রশ্ন করেন-গত কয়েক বছরে কী বদলেছে, কী বদলায়নি। মানুষের সমস্যা কী, তারা দিন কাটাচ্ছে কীভাবে, সেটাই জানতে চান।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে সরকারি ব্রজমোহন কলেজে গিয়েছিলেন পূজো দেখতে। সেখানেও প্রচারণার কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি। কিন্তু শিক্ষার্থীদের ভিড় ছিল। কারণ তাঁদের আন্দোলন-সংগ্রামে মনীষাকে পাশে পেয়েছেন তারা।
এই কথোপকথনের ছবি তোলা হয় না। ভিডিও হয় না। সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হয় না। মনীষার যুক্তি, প্রচার যত কম, সম্পর্ক তত গভীর। তাঁর কথায়, ‘ভোট চাইতে সবাই আসে। কথা শুনতে আসে কয়জন?’
দুপুরের পর আবার হাঁটা। পথে পথে ছোট ছোট উঠান বৈঠক। বক্তৃতা দীর্ঘ হয় না। দুই-তিনজন মানুষ থাকলেও তিনি কম বলেন, বেশি শোনেন। ভোটারদের প্রশ্ন করেন, তাদের অভাব-অভিযোগের কথা জানতে চান।
সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলো তাঁর অজানা নয়। তবু নিজেকে তিনি শ্রোতার জায়গায় রাখেন। তাঁর ধারণা, নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতির পাহাড় গড়া হয়, ভোটের পর সেই পাহাড়ে আর কেউ ওঠে না। পিছিয়ে পড়া এলাকাগুলোয় প্রার্থীদের দেখা মেলে শুধু নির্বাচন এলেই।
অন্য প্রার্থীরা যখন মিছিল আর শোডাউনে ব্যস্ত, এলাকায় ঢোকার আগেই বহরের শব্দে জানান দেন কোনো মান্যগণ্য ব্যক্তি এসেছেন, মনীষাদের পথ সেখানে আলাদা। সাধারণ মানুষের সংকট নিয়ে আন্দোলনই তাঁদের রাজনীতির কেন্দ্র। প্রচারণায় সেই কথাই সামনে আসে।
মানুষের কথা শোনা, সেই কথাকে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্দোলনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া- এটাই তাঁদের কৌশল। ভোটারদের কাছে একটি বিষয় স্পষ্ট করে বলা হয়, নির্বাচিত হলেও আন্দোলনে থাকবেন। নির্বাচিত না হলেও মানুষের পাশে থাকবেন। কারণ তাঁরা অতিথি পাখির মতো শোডাউন দিয়ে এলাকায় ঢোকেন না। দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যে শিকড় গড়ে উঠেছে, সেটাকেই ভরসা করেন। তাই হাতে গোনা কয়েকজনকে নিয়েই মানুষের কাছে যান, যেন কেউ বিরক্ত না হন।
দিনের বেলায় গ্রামের মানুষ কাজে ব্যস্ত। তাই রাত নামলেই গ্রামের দৃশ্য বদলায়। বাজারে, বাড়ির ভেতরে ছোট ছোট বৈঠক বসে। পর্দা টানা বারান্দায় গোল হয়ে বসেন দশ-বারোজন। আলো কম, কথা বেশি। রাজনীতি, বঞ্চনা আর জীবনের হিসাব একে অন্যের সঙ্গে মিশে যায়।
এসব বৈঠকেই মনীষা হয়ে ওঠেন গল্পের অংশ। তাঁর কথায়, ‘এগুলোই আসল প্রচার। বহর নিয়ে দিনের বেলায় যে প্রচার হয়, তার অনেকটাই লোক দেখানো।’ দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত ছয় ঘণ্টার প্রচারণার মধ্যে অন্তত পাঁচ ঘণ্টাই হাঁটেন মনীষা। ক্লান্তি লুকোনোর চেষ্টা নেই। তাঁর বিশ্বাস, মানুষের কাছে পৌঁছাতে হলে আগে তাদের জীবন বুঝতে হবে।
বরিশাল জেলা মহিলা পরিষদের সভানেত্রী অধ্যাপক শাহ সাজেদা বলেন, হেঁটে হেঁটে মানুষের পাশে থাকার এমন রাজনীতি মনীষা ছাড়া আর কারো মধ্যে চোখে পড়ে না। বড় ব্যানার বা জাঁকজমকপূর্ণ প্রচারে এই জনসম্পৃক্ততার রাজনীতি ধরা পড়ে না। কিন্তু অনেক উঠান বৈঠক, অনেক চায়ের দোকানে তাঁর নীরব ছাপ থেকে যায়। কারণ মনীষা খেটে খাওয়া মানুষের বিপদে-আপদে ৩৬৫ দিনই পাশে থাকেন।
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০৩
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:০৯
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৫৪
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:২৫