সেবাপ্রত্যাশীদের স্যার সম্বোধন করে আলোচনায় আসা এই কর্মকর্তার মানবসেবাই যেনো ধর্ম
স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের শাসনামলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যখন সেবামূলক কর্মকান্ড বাদ দিয়ে কর্মস্থলে আধিপত্য বিস্তার করাসহ অর্থ ইনকামের ধান্ধায় মত্ত ছিলেন, ঠিক তখনই ব্যতিক্রর্মী রূপে আবির্ভুত হয়েছিলেন বরিশাল সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ পারভেজ। রাজনৈতিক নেতাদের লেজুরবৃত্তি নয়, বরং কিভাবে মানবকল্যাণ করে নিজেকে আলোচনায় রাখা যায় কর্মক্ষেত্রে সবটুকু দিয়ে তিনি প্রাণপণ চেষ্টা করেছেন, করছেন। এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জনসাধারণের মুখে নিজেদের প্রশংসা শোনার পাশপাশি তাদের স্যার সম্বোধন না করাতে ক্ষুব্ধ হতেন, তখনই তৎকালীন প্রবেশন অফিসার সাজ্জাদ উল্টো সেবাপ্রত্যাশীদের স্যার ডেকে সেই রীতি কিছুটা হলেও ভাঙতে পেরেছিলেন। অবশ্য এর জন্য তাকে বেশ ঝুট-ঝামেলায়ও পড়তে হয়, তার এমন মানবিক ও পেশাদার আচরণকে আওয়ামী লীগ শাসনামলে অনেকেই বাকা চোখে দেখেছেন এবং রাগে-ক্ষোভে ফুঁসেছেন। পাশাপাশি চালিয়েছেন নানামুখী ষড়যন্ত্র কি ভাবে এই আলোচিত কর্মকর্তাকে বিতর্কিত করে দাবিয়ে করে রাখা যায়। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে সাজ্জাদ এতটাই স্বচ্ছ-পরিচ্ছন্ন ছিলেন, যে তাকে বেকায়দায় ফেলা অতটা সহজ হয়নি। ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরে একটি পক্ষ তাকে আওয়ামী লীগের দোষর আখ্যা দিয়ে মানবিক কর্মকান্ডের লাগাম টানতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত তাতে ব্যর্থ হয়েছে। এনিয়ে কর্মকর্তা সাজ্জাদ প্রথমে কিছুটা কিছুটা ভীত বা বিব্রত হলেও কর্মস্থলে তার মানবসেবা অব্যাহত রেখেছেন এবং আগামীতেও এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ডেনীয় বিখ্যাত লেখক লেক হান্স ক্রিশ্চিয়ান আন্দারসেন একটি উক্তিতে বলেছিলেন, ‘মানবতার প্রতি ভালোবাসা ও সহানুভূতি একটি মহান মূল্যবোধ, যা সমাজকে বদলে দিতে পারে।’ বরিশাল সমাজসেবার আলোচিত এই কর্মকর্তা সাজ্জাদ যেনো সেই রূপকথা জাদুকর হান্সকে অনুসরণ বা অনুকরণ করে দীর্ঘ পথ পরিক্রমা পাড়ি দিয়ে এক অন্ধকার জনপদকে আলোকিত করার স্বপ্নে এগিয়ে চলছেন দুর্বার।
সূত্র জানিয়েছে, বরিশাল সমাজসেবার কর্মকর্তা সাজ্জাদ পারভেজ কর্মক্ষেত্রে দুর্নীতি বা অনিয়ম করেছেন এমন উদাহরণ নেই। বরং তার ঝুড়িতে আছে মানবসেবার বদৌলতে একাধিক পুরস্কার ও খ্যাতি, যা নিয়ে তিনি সময় বিশেষ গর্ব করেন। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পরে এই কর্মকর্তার অতীত নেতিবাচক কর্মকান্ড খুঁজতে গিয়ে শুধু পাওয়া গেল মানুষের পাশে থাকা এবং তাদের যথাস্বাধ্য সেবার এক অন্যান্য উদাহরণ। জানা গেছে, এই মানবিক কর্মকর্তাকে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে পদোন্নতি দিয়ে প্রবেশন অফিসার থেকে সহকারি পরিচালক পদমর্যাদা দিয়ে দায়িত্ব বাড়িয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এরপরেও তিনি অতীত ধারাবাহিকতা বজায় রক্ষা করে চলছেন এবং সেবাপ্রত্যাশীদের মন জয় করতে কখনও কখনও নিজেও ব্যক্তিগতভাবে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন।
বরিশালের স্থানীয় পত্র-পত্রিকাগুলো বিভিন্ন সময়ে সাজ্জাদ পারভেজের ইতিবাচক কর্মকান্ড তুলে ধরে মোটা দাগে শিরোনাম করে। কোনো কোনো সংবাদমাধ্যমে তাকে মানবিক কর্মকর্তা অভিহিত করে কিছুসংখ্যক লোককে সহযোগিতার কথা বলা হলেও এর ব্যাপ্তি আরও সুবিশাল। সাজ্জাদ পারভেজ প্রচারবিমুখ কর্মকর্তা হওয়ায় মানবিক কল্যাণমূলক অনেক কর্মকান্ডই আলোচনায় আসেনি।
সূত্র জানায়, সাজ্জাদ পারভেজ প্রবেশন কর্মকর্তা থাকাকালীন দিন-রাত সমান্তরাল ছুটেছেন চলেছেন। এবং অসহায় মানুষকে সরকারি সহায়তা দেওয়াসহ বিভিন্ন উপায়ে তাদের কাছাকাছি থেকেছেন। এমনকি সরকারিভাবে সম্ভবপর না হলেও নিজের তরফে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। উদাহরণস্বরুপ বলা যায়, রাস্তা থেকে অসুস্থ বা বিকারগ্রস্ত মানুষকে তুলে নিয়েও তিনি চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন, যারা এখন সুস্থতার সাথে স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন। পাশাপাশি ছিন্নমূলকে সহায়তা করাসহ কারাবন্দি জীবন কাটিয়ে নি:স্ব এমন অসংখ্য মানুষকে খুঁজে খুঁজে বের সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিয়ে তাদের ন্যূনতম ইনকামের পথ বাতলে দেন।
এই মানবিক কর্মকর্তা অতীতের ইতিবাচক কর্মকান্ডের ঢোল না বাজিয়ে নীরবে-নিভৃতে এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চান। এবং অবসরগ্রহণের পরেও নিজেকে মানবকল্যাণে বিলিয়ে দেওয়ার দৃঢ় সংকল্প নিয়েছেন। এমন একজন স্বপ্নবাজ মানুষকে ৫ আগস্টের পর সুবিধাবাদীদের বেকায়দায় ফেলার প্রয়াস ভালো ভাবে নেয়নি বরিশালের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং সুশীলসমাজ। বরং ওই অপপ্রচারে সাজ্জাদ পারভেজের জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি করেছে এবং তাকে আরও উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
অভিন্ন তথ্য দিয়ে বরিশাল সমাজসের কজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তা হয়ে সাজ্জাদ পারভেজ তার কাজকে অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। রাজনৈতিক অনেক চাপ থাকা সত্ত্বেও তিনি অসহায়-দরিদ্র মানুষের সেবা সহযোগিতা দিয়ে নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করছেন। বিশেষ করে যখনই তিনি সেবাপ্রত্যাশীদের স্যার সম্বোধন করা শুরু করেছেন এবং তার দপ্তরে এ সংক্রান্ত একটি লেখা টেবিলে রেখেছেন তখন অনেক কর্মকর্তার গাত্রদাহ শুরু হয়। ওই সময় সাজ্জাদের সোজাসাপ্টা উত্তর ছিল, প্রজাত্বন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাধারণ মানুষ স্যার বলবে না, বরং সেবাপ্রত্যাশীদের কর্মকর্তারা স্যার হিসেবে অভিহিত করবেন। অবশ্য সাজ্জাদ পারভেজের এমন উক্তি সেই সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরালও হয়েছিল, যা নিয়ে সাংবাদিকেরা লেখালেখিও কম করেননি। মাঠপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তার এমন মনভাব সেবাপ্রত্যাশীদের সুবর্ণ সুযোগ যেমন তৈরি করেছিল, তেমনই অভিজ্ঞ বা বোদ্ধমহলকে পুলোকিত করেছিল।
কর্মগুণের বদৌলতে সমাজসেবার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তাও সাজ্জাদ পারভেজকে মানবিক অফিসার হিসেবে খ্যাতি দিয়েছেন। তার ভাষায়, আওয়ামী লীগের শাসনামলে কর্মকর্তারা সাধারণত রাজনৈতিক নেতাদের তৈলমর্দন করাসহ অর্থ ইনকামের ধান্ধায় মত্ত ছিলেন। বিপরিতে সাজ্জাদ পারভেজ দিন-রাত সমান্তরাল ছুটে চলেছেন শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রাপ্ত। এমনকি অসহায় মানুষকে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে ছুটেছেন দুর্বার। কখনও কখনও সরকারি বরাদ্দ না থাকায় ব্যক্তিগতভাবেও তিনি সহায়তার হাত প্রসারিত করেছেন, এমন অসংখ্য উদাহরণ আছে। এ কথায় বলতে গেলে, তিনি যেনো ডেনীয় বিখ্যাত লেখক লেক হান্স ক্রিশ্চিয়ান আন্দারসেনকে অনুকরণ করে মানবকল্যাণের পথ সুগম করতে উদগ্রীব হয়ে আছেন। এই ছুটে চলা এবং চাকরি শেষে নিজেকে মানবসেবায় আরও বিস্তৃত করার সংকল্প সাজ্জাদ পারভেজকে অন্যান্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে এমন, মন্তব্য পাওয়া গেছে।
বলা বাহুল্য যে, করোনা মহামারির প্রাক্কালে প্রবেশন অফিসার থাকাকালীন সাজ্জাদ জীবনের ঝুঁকি নিয়েও কাজ করেছেন। সরকারি বরাদ্দ অসহায়-দরিদ্র মানুষের বাসায় পৌঁছে দিয়েছিলেন। এবং মহামারিতে আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা দিতে শহরের আনাচে-কানাচে থেকে শুরু করে হাসপাতালগুলোতেও ছুটে বেরিয়েছেন। এই মানবিক এবং কর্মক্ষেত্রে পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তাকে সমাজসেবার আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে মানবসেবা করার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া জরুরি, মন্তব্য পাওয়া যায়।
অবশ্য কর্মকর্তা সাজ্জাদ পারভেজ বড় দায়িত্বপ্রাপ্তি নিয়ে মোটেও চিন্তিত নন। তার ভাষায়, তিনি সরকারের যে চেয়ারেই থাকবেন না কেনো, সেখান থেকে আলো ছড়িয়ে যাবেন। এবং আজীবন সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থাকার অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন।’

০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:০১
মেঘনা ব্যাংক পিএলসির বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (এসবিএমসিএইচ) সাব-শাখা নতুন ঠিকানায় স্থানান্তর করা হয়েছে। জেলার সদর উপজেলার সাগরদী এলাকার আমতলার মোড়ে নতুন স্থানে সাব-শাখাটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মেঘনা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মিজানুর রহমান। সোমবার (৫ অক্টোবর) ব্যাংকটির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে মেঘনা ব্যাংক পিএলসির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. মমতাজুল করিম এন আহমেদ, হেড অব হিউম্যান রিসোর্সেস রাশেদুল আলম, হেড অব রিটেইল ব্যাংকিং সামিউল কবিরসহ ব্যাংকের নিকটস্থ শাখাগুলোর ব্যবস্থাপক, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, গ্রাহক ও অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, নতুন স্থানে সাব-শাখাটি স্থানান্তরের ফলে এলাকার গ্রাহকদের জন্য ব্যাংকিং সেবা আরও সহজলভ্য, সুবিধাজনক ও কার্যকর হবে।
তিনি বলেন, নতুন অবস্থান থেকে সাব-শাখাটি ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক—উভয় শ্রেণির গ্রাহকদের আরও দক্ষতার সঙ্গে ব্যাংকিং সেবা দিতে সক্ষম হবে। এর মাধ্যমে গ্রাহককেন্দ্রিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মেঘনা ব্যাংকের অঙ্গীকার আরও শক্তিশালী হবে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করে, নতুন ঠিকানায় সাব-শাখাটির কার্যক্রমের মাধ্যমে সাগরদী ও আশপাশের এলাকার গ্রাহকরা আরও দ্রুত ও সহজে প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সেবা পাবেন।
খবর বিজ্ঞপ্তি
মেঘনা ব্যাংক পিএলসির বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (এসবিএমসিএইচ) সাব-শাখা নতুন ঠিকানায় স্থানান্তর করা হয়েছে। জেলার সদর উপজেলার সাগরদী এলাকার আমতলার মোড়ে নতুন স্থানে সাব-শাখাটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মেঘনা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মিজানুর রহমান। সোমবার (৫ অক্টোবর) ব্যাংকটির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে মেঘনা ব্যাংক পিএলসির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. মমতাজুল করিম এন আহমেদ, হেড অব হিউম্যান রিসোর্সেস রাশেদুল আলম, হেড অব রিটেইল ব্যাংকিং সামিউল কবিরসহ ব্যাংকের নিকটস্থ শাখাগুলোর ব্যবস্থাপক, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, গ্রাহক ও অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, নতুন স্থানে সাব-শাখাটি স্থানান্তরের ফলে এলাকার গ্রাহকদের জন্য ব্যাংকিং সেবা আরও সহজলভ্য, সুবিধাজনক ও কার্যকর হবে।
তিনি বলেন, নতুন অবস্থান থেকে সাব-শাখাটি ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক—উভয় শ্রেণির গ্রাহকদের আরও দক্ষতার সঙ্গে ব্যাংকিং সেবা দিতে সক্ষম হবে। এর মাধ্যমে গ্রাহককেন্দ্রিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মেঘনা ব্যাংকের অঙ্গীকার আরও শক্তিশালী হবে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করে, নতুন ঠিকানায় সাব-শাখাটির কার্যক্রমের মাধ্যমে সাগরদী ও আশপাশের এলাকার গ্রাহকরা আরও দ্রুত ও সহজে প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সেবা পাবেন।
খবর বিজ্ঞপ্তি

০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:০২
বরিশাল আদালত চত্বরে ১০ তলা জুডিশিয়াল ভবনের ষষ্ঠ তলা থেকে পড়ে নাজমুল হক (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নাজমুল হক বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের ক্যাশিয়ার পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি বরিশাল নগরের কাশীপুর হাইস্কুলসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা এনামুল হকের ছেলে।
বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বিষয়টি বরিশালটাইমসকে নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, ভবনের ষষ্ঠ তলা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন নাজমুল। পরে তাকে উদ্ধার করা হলেও তিনি মারা যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, নাজমুল হক কেন আদালত চত্বরে এসেছিলেন এবং কীভাবে জুডিশিয়াল ভবনের ষষ্ঠ তলা থেকে নিচে পড়ে গেলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় আদালত চত্বরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নাজমুলের ভবন থেকে পড়ে যাওয়ার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।’
বরিশাল আদালত চত্বরে ১০ তলা জুডিশিয়াল ভবনের ষষ্ঠ তলা থেকে পড়ে নাজমুল হক (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নাজমুল হক বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের ক্যাশিয়ার পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি বরিশাল নগরের কাশীপুর হাইস্কুলসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা এনামুল হকের ছেলে।
বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বিষয়টি বরিশালটাইমসকে নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, ভবনের ষষ্ঠ তলা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন নাজমুল। পরে তাকে উদ্ধার করা হলেও তিনি মারা যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, নাজমুল হক কেন আদালত চত্বরে এসেছিলেন এবং কীভাবে জুডিশিয়াল ভবনের ষষ্ঠ তলা থেকে নিচে পড়ে গেলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় আদালত চত্বরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নাজমুলের ভবন থেকে পড়ে যাওয়ার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।’

০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:৪৯
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় পারিবারিক কলহ ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগের পর বিষপানে অসুস্থ হওয়া ঝুমুর খানম সেতু (২৭) মারা গেছেন। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক সন্তানের এই মায়ের মৃত্যু হয়।
ঝুমুর আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের উত্তর শিহিপাশা গ্রামের আব্দুল করিম খানের মেয়ে। তিনি গৌরনদী পৌর এলাকার চরগাধাতলী গ্রামের শাহারিয়া কাজী ওরফে শাহাবুদ্দিনের স্ত্রী। প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের চার বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
পরিবারের ভাষ্য, রোববার (৪ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে স্বামীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার সময় ঝুমুর বিষপান করেন। বিষয়টি টের পেয়ে স্বজনরা দ্রুত তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সেখানেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় সোমবার বেলা ১১টার দিকে চিকিৎসকেরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকায় নিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে তার মৃত্যু হয়।
বাবা আব্দুল করিম খানের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই মেয়েকে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিভিন্নভাবে মানসিক চাপে রাখতেন। তার দাবি, শাহারিয়া কর্মসূত্রে কুয়েতে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। স্বামীর পরিবারের সদস্যদের উসকানি ও প্ররোচনায় মেয়ের ওপর মানসিক নির্যাতন বাড়তে থাকে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, একপর্যায়ে ঝুমুর ও তার শিশুকন্যাকে স্বামীর বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে মেয়েটি সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতেই বসবাস করছিলেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিয়ের সময় প্রত্যাশা অনুযায়ী মালামাল না দেওয়া, বিয়েতে পাঁচশ বরযাত্রী না আনা এবং ঝুমুরের শারীরিক সৌন্দর্য নিয়ে কটূক্তিসহ নানা বিষয়কে কেন্দ্র করে তাকে দীর্ঘদিন ধরে অপমান ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে।
তার দাবি, ঘটনার রাতে ভিডিও কলে কথা বলার সময় শাহারিয়া তার মেয়েকে গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তাকে বিষপান করে মারা যাওয়ার জন্য উসকানি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এর পরই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ঝুমুর পরিবারের সদস্যদের অগোচরে বিষপান করেন বলে দাবি তার বাবার।
এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন ঝুমুরের বাবা। আগৈলঝাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ মাসুদ খান বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে ঝুমুরের বাবার করা অভিযোগের বিষয়ে শাহারিয়া কাজী শাহাবুদ্দিনের পরিবারের কোনো সদস্যের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তারা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
স্বজনেরা জানান, কয়েক মাস আগে ঝুমুরের ২০ বছর বয়সী একমাত্র ভাই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই ঝুমুরের মৃত্যুতে পরিবারটি আবারও গভীর শোকের মধ্যে পড়েছে। তার মৃত্যুতে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যেও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় পারিবারিক কলহ ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগের পর বিষপানে অসুস্থ হওয়া ঝুমুর খানম সেতু (২৭) মারা গেছেন। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক সন্তানের এই মায়ের মৃত্যু হয়।
ঝুমুর আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের উত্তর শিহিপাশা গ্রামের আব্দুল করিম খানের মেয়ে। তিনি গৌরনদী পৌর এলাকার চরগাধাতলী গ্রামের শাহারিয়া কাজী ওরফে শাহাবুদ্দিনের স্ত্রী। প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের চার বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
পরিবারের ভাষ্য, রোববার (৪ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে স্বামীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার সময় ঝুমুর বিষপান করেন। বিষয়টি টের পেয়ে স্বজনরা দ্রুত তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সেখানেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় সোমবার বেলা ১১টার দিকে চিকিৎসকেরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকায় নিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে তার মৃত্যু হয়।
বাবা আব্দুল করিম খানের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই মেয়েকে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিভিন্নভাবে মানসিক চাপে রাখতেন। তার দাবি, শাহারিয়া কর্মসূত্রে কুয়েতে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। স্বামীর পরিবারের সদস্যদের উসকানি ও প্ররোচনায় মেয়ের ওপর মানসিক নির্যাতন বাড়তে থাকে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, একপর্যায়ে ঝুমুর ও তার শিশুকন্যাকে স্বামীর বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে মেয়েটি সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতেই বসবাস করছিলেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিয়ের সময় প্রত্যাশা অনুযায়ী মালামাল না দেওয়া, বিয়েতে পাঁচশ বরযাত্রী না আনা এবং ঝুমুরের শারীরিক সৌন্দর্য নিয়ে কটূক্তিসহ নানা বিষয়কে কেন্দ্র করে তাকে দীর্ঘদিন ধরে অপমান ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে।
তার দাবি, ঘটনার রাতে ভিডিও কলে কথা বলার সময় শাহারিয়া তার মেয়েকে গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তাকে বিষপান করে মারা যাওয়ার জন্য উসকানি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এর পরই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ঝুমুর পরিবারের সদস্যদের অগোচরে বিষপান করেন বলে দাবি তার বাবার।
এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন ঝুমুরের বাবা। আগৈলঝাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ মাসুদ খান বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে ঝুমুরের বাবার করা অভিযোগের বিষয়ে শাহারিয়া কাজী শাহাবুদ্দিনের পরিবারের কোনো সদস্যের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তারা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
স্বজনেরা জানান, কয়েক মাস আগে ঝুমুরের ২০ বছর বয়সী একমাত্র ভাই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই ঝুমুরের মৃত্যুতে পরিবারটি আবারও গভীর শোকের মধ্যে পড়েছে। তার মৃত্যুতে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যেও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।

২০ জুন, ২০২৫ ০১:৩৪
সেবাপ্রত্যাশীদের স্যার সম্বোধন করে আলোচনায় আসা এই কর্মকর্তার মানবসেবাই যেনো ধর্ম
স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের শাসনামলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যখন সেবামূলক কর্মকান্ড বাদ দিয়ে কর্মস্থলে আধিপত্য বিস্তার করাসহ অর্থ ইনকামের ধান্ধায় মত্ত ছিলেন, ঠিক তখনই ব্যতিক্রর্মী রূপে আবির্ভুত হয়েছিলেন বরিশাল সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ পারভেজ। রাজনৈতিক নেতাদের লেজুরবৃত্তি নয়, বরং কিভাবে মানবকল্যাণ করে নিজেকে আলোচনায় রাখা যায় কর্মক্ষেত্রে সবটুকু দিয়ে তিনি প্রাণপণ চেষ্টা করেছেন, করছেন। এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জনসাধারণের মুখে নিজেদের প্রশংসা শোনার পাশপাশি তাদের স্যার সম্বোধন না করাতে ক্ষুব্ধ হতেন, তখনই তৎকালীন প্রবেশন অফিসার সাজ্জাদ উল্টো সেবাপ্রত্যাশীদের স্যার ডেকে সেই রীতি কিছুটা হলেও ভাঙতে পেরেছিলেন। অবশ্য এর জন্য তাকে বেশ ঝুট-ঝামেলায়ও পড়তে হয়, তার এমন মানবিক ও পেশাদার আচরণকে আওয়ামী লীগ শাসনামলে অনেকেই বাকা চোখে দেখেছেন এবং রাগে-ক্ষোভে ফুঁসেছেন। পাশাপাশি চালিয়েছেন নানামুখী ষড়যন্ত্র কি ভাবে এই আলোচিত কর্মকর্তাকে বিতর্কিত করে দাবিয়ে করে রাখা যায়। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে সাজ্জাদ এতটাই স্বচ্ছ-পরিচ্ছন্ন ছিলেন, যে তাকে বেকায়দায় ফেলা অতটা সহজ হয়নি। ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরে একটি পক্ষ তাকে আওয়ামী লীগের দোষর আখ্যা দিয়ে মানবিক কর্মকান্ডের লাগাম টানতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত তাতে ব্যর্থ হয়েছে। এনিয়ে কর্মকর্তা সাজ্জাদ প্রথমে কিছুটা কিছুটা ভীত বা বিব্রত হলেও কর্মস্থলে তার মানবসেবা অব্যাহত রেখেছেন এবং আগামীতেও এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ডেনীয় বিখ্যাত লেখক লেক হান্স ক্রিশ্চিয়ান আন্দারসেন একটি উক্তিতে বলেছিলেন, ‘মানবতার প্রতি ভালোবাসা ও সহানুভূতি একটি মহান মূল্যবোধ, যা সমাজকে বদলে দিতে পারে।’ বরিশাল সমাজসেবার আলোচিত এই কর্মকর্তা সাজ্জাদ যেনো সেই রূপকথা জাদুকর হান্সকে অনুসরণ বা অনুকরণ করে দীর্ঘ পথ পরিক্রমা পাড়ি দিয়ে এক অন্ধকার জনপদকে আলোকিত করার স্বপ্নে এগিয়ে চলছেন দুর্বার।
সূত্র জানিয়েছে, বরিশাল সমাজসেবার কর্মকর্তা সাজ্জাদ পারভেজ কর্মক্ষেত্রে দুর্নীতি বা অনিয়ম করেছেন এমন উদাহরণ নেই। বরং তার ঝুড়িতে আছে মানবসেবার বদৌলতে একাধিক পুরস্কার ও খ্যাতি, যা নিয়ে তিনি সময় বিশেষ গর্ব করেন। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পরে এই কর্মকর্তার অতীত নেতিবাচক কর্মকান্ড খুঁজতে গিয়ে শুধু পাওয়া গেল মানুষের পাশে থাকা এবং তাদের যথাস্বাধ্য সেবার এক অন্যান্য উদাহরণ। জানা গেছে, এই মানবিক কর্মকর্তাকে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে পদোন্নতি দিয়ে প্রবেশন অফিসার থেকে সহকারি পরিচালক পদমর্যাদা দিয়ে দায়িত্ব বাড়িয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এরপরেও তিনি অতীত ধারাবাহিকতা বজায় রক্ষা করে চলছেন এবং সেবাপ্রত্যাশীদের মন জয় করতে কখনও কখনও নিজেও ব্যক্তিগতভাবে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন।
বরিশালের স্থানীয় পত্র-পত্রিকাগুলো বিভিন্ন সময়ে সাজ্জাদ পারভেজের ইতিবাচক কর্মকান্ড তুলে ধরে মোটা দাগে শিরোনাম করে। কোনো কোনো সংবাদমাধ্যমে তাকে মানবিক কর্মকর্তা অভিহিত করে কিছুসংখ্যক লোককে সহযোগিতার কথা বলা হলেও এর ব্যাপ্তি আরও সুবিশাল। সাজ্জাদ পারভেজ প্রচারবিমুখ কর্মকর্তা হওয়ায় মানবিক কল্যাণমূলক অনেক কর্মকান্ডই আলোচনায় আসেনি।
সূত্র জানায়, সাজ্জাদ পারভেজ প্রবেশন কর্মকর্তা থাকাকালীন দিন-রাত সমান্তরাল ছুটেছেন চলেছেন। এবং অসহায় মানুষকে সরকারি সহায়তা দেওয়াসহ বিভিন্ন উপায়ে তাদের কাছাকাছি থেকেছেন। এমনকি সরকারিভাবে সম্ভবপর না হলেও নিজের তরফে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। উদাহরণস্বরুপ বলা যায়, রাস্তা থেকে অসুস্থ বা বিকারগ্রস্ত মানুষকে তুলে নিয়েও তিনি চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন, যারা এখন সুস্থতার সাথে স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন। পাশাপাশি ছিন্নমূলকে সহায়তা করাসহ কারাবন্দি জীবন কাটিয়ে নি:স্ব এমন অসংখ্য মানুষকে খুঁজে খুঁজে বের সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিয়ে তাদের ন্যূনতম ইনকামের পথ বাতলে দেন।
এই মানবিক কর্মকর্তা অতীতের ইতিবাচক কর্মকান্ডের ঢোল না বাজিয়ে নীরবে-নিভৃতে এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চান। এবং অবসরগ্রহণের পরেও নিজেকে মানবকল্যাণে বিলিয়ে দেওয়ার দৃঢ় সংকল্প নিয়েছেন। এমন একজন স্বপ্নবাজ মানুষকে ৫ আগস্টের পর সুবিধাবাদীদের বেকায়দায় ফেলার প্রয়াস ভালো ভাবে নেয়নি বরিশালের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং সুশীলসমাজ। বরং ওই অপপ্রচারে সাজ্জাদ পারভেজের জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি করেছে এবং তাকে আরও উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
অভিন্ন তথ্য দিয়ে বরিশাল সমাজসের কজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তা হয়ে সাজ্জাদ পারভেজ তার কাজকে অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। রাজনৈতিক অনেক চাপ থাকা সত্ত্বেও তিনি অসহায়-দরিদ্র মানুষের সেবা সহযোগিতা দিয়ে নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করছেন। বিশেষ করে যখনই তিনি সেবাপ্রত্যাশীদের স্যার সম্বোধন করা শুরু করেছেন এবং তার দপ্তরে এ সংক্রান্ত একটি লেখা টেবিলে রেখেছেন তখন অনেক কর্মকর্তার গাত্রদাহ শুরু হয়। ওই সময় সাজ্জাদের সোজাসাপ্টা উত্তর ছিল, প্রজাত্বন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাধারণ মানুষ স্যার বলবে না, বরং সেবাপ্রত্যাশীদের কর্মকর্তারা স্যার হিসেবে অভিহিত করবেন। অবশ্য সাজ্জাদ পারভেজের এমন উক্তি সেই সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরালও হয়েছিল, যা নিয়ে সাংবাদিকেরা লেখালেখিও কম করেননি। মাঠপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তার এমন মনভাব সেবাপ্রত্যাশীদের সুবর্ণ সুযোগ যেমন তৈরি করেছিল, তেমনই অভিজ্ঞ বা বোদ্ধমহলকে পুলোকিত করেছিল।
কর্মগুণের বদৌলতে সমাজসেবার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তাও সাজ্জাদ পারভেজকে মানবিক অফিসার হিসেবে খ্যাতি দিয়েছেন। তার ভাষায়, আওয়ামী লীগের শাসনামলে কর্মকর্তারা সাধারণত রাজনৈতিক নেতাদের তৈলমর্দন করাসহ অর্থ ইনকামের ধান্ধায় মত্ত ছিলেন। বিপরিতে সাজ্জাদ পারভেজ দিন-রাত সমান্তরাল ছুটে চলেছেন শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রাপ্ত। এমনকি অসহায় মানুষকে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে ছুটেছেন দুর্বার। কখনও কখনও সরকারি বরাদ্দ না থাকায় ব্যক্তিগতভাবেও তিনি সহায়তার হাত প্রসারিত করেছেন, এমন অসংখ্য উদাহরণ আছে। এ কথায় বলতে গেলে, তিনি যেনো ডেনীয় বিখ্যাত লেখক লেক হান্স ক্রিশ্চিয়ান আন্দারসেনকে অনুকরণ করে মানবকল্যাণের পথ সুগম করতে উদগ্রীব হয়ে আছেন। এই ছুটে চলা এবং চাকরি শেষে নিজেকে মানবসেবায় আরও বিস্তৃত করার সংকল্প সাজ্জাদ পারভেজকে অন্যান্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে এমন, মন্তব্য পাওয়া গেছে।
বলা বাহুল্য যে, করোনা মহামারির প্রাক্কালে প্রবেশন অফিসার থাকাকালীন সাজ্জাদ জীবনের ঝুঁকি নিয়েও কাজ করেছেন। সরকারি বরাদ্দ অসহায়-দরিদ্র মানুষের বাসায় পৌঁছে দিয়েছিলেন। এবং মহামারিতে আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা দিতে শহরের আনাচে-কানাচে থেকে শুরু করে হাসপাতালগুলোতেও ছুটে বেরিয়েছেন। এই মানবিক এবং কর্মক্ষেত্রে পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তাকে সমাজসেবার আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে মানবসেবা করার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া জরুরি, মন্তব্য পাওয়া যায়।
অবশ্য কর্মকর্তা সাজ্জাদ পারভেজ বড় দায়িত্বপ্রাপ্তি নিয়ে মোটেও চিন্তিত নন। তার ভাষায়, তিনি সরকারের যে চেয়ারেই থাকবেন না কেনো, সেখান থেকে আলো ছড়িয়ে যাবেন। এবং আজীবন সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থাকার অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন।’
০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:১০
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:২৫
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৫২
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:৪৬