বরিশাল শের-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে আন্দোলনে জড়িত এক যুবকের পরিচয় নিয় ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। হোসাইন আল সুহান নামে ওই যুবককে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের দাবি, তিনি নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা।
অন্যদিকে সুহান গত জুলাই আগস্টজুড়ে স্বৈরাচারী সরকার পতনে রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত সাড়ে ১১টায় বিক্ষোভ করে স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনকারীরা।
থানার ভেতরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে তাদের। এর আগে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে নগর ভবনের সামনে ফজলুল হক এভিনিউ সড়ক থেকে সুহানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত জেলা প্রশাসক কার্যালয় ঘেরাও করে ও সড়ক আটকে বিক্ষোভ করে আন্দোলনকারীরা। এরপর সন্ধ্যা ৬টা থেকে কোতয়ালি মডেল থানা ঘেরাও করে মূল ফটকে বিক্ষোভ করতে শুরু করে আন্দোলনকারীরা।
সুহানকে গ্রেপ্তারের খবরে রোববার দুপুর থেকে ডাকা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে সোমবার দুপুর তিনটার দিকে শেবাচিম হাসপাতালের চিকিৎসকসহ অন্যান্যরা কাজে ফিরেছেন।
পুলিশ কমিশনার পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, সুহানকে বরিশাল শের-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীদের ওপর হামলাসহ গত জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্রদের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
তিনি আরও বলেন, সুহান ছাত্রলীগ নেতা তার প্রমান এই ছবিতে।
স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনের সদস্য তাহমিদ ইসলাম দাইয়ান মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে বলেন, ‘মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি ছিল। তাই আমরা নগর ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছিলাম। সেখানে পুলিশ আমাদের সমন্বয়ক সুহানকে নিয়ে গেছে। তার মুক্তির দাবিতে আমরা এখন থানায় অবস্থান নিয়েছি।’
কোতয়ালি মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রলীগের ক্যাডার সুহান বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও পলাতক শেখ হাসিনার মামাতো ভাই খোকন সেরনিয়াবাতের অনুসারী। তাকে গ্রেপ্তারের সময় স্বাস্থ্যখাত আন্দোলনের কয়েকজন সদস্য জোর করে টহল পিকআপে উঠেছিল। তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সুহানকে হাসপাতালে চিকিৎসক ও কর্মচারী মামলার আসামি হিসেবে আদালতে পাঠানো হবে।
এর আগে সোমবার বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে হামলা চালিয়ে কর্মকর্তা কর্মচারীদের আহত করার অভিযোগে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী বাহাদুর শিকদার বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।
মামলায় স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক মহিউদ্দিন রনিকে একমাত্র নামধারী ও অজ্ঞাত আরও ৮০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আইন অমান্য করে জনতার উপর হামলা, হত্যা করতে আঘাতসহ মারধর-জখমসহ হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক মহিউদ্দিন রনি বলেন, ডিসির প্রতিনিধি শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি দেওয়ার জন্য বলেন। শান্তিপূর্ণভাবে শিক্ষার্থীরা সবাই একসাথে স্মারকলিপি দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে যেতেই পুলিশ শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত দেয় এবং হোসাইন আল সুহানকে ধরে নিয়ে যায়।
একজন জুলাই যোদ্ধাকে এভাবে ডেবিল ট্যাগ দিয়ে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারে না। আমারা জানতে চাই কার র্নিদেশে গ্রেপ্তার করা হলো এবং কেন পুলিশ আমাদের নারী শিক্ষার্থীদের গায় হাত দিলো।
স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের এই যৌক্তিক আন্দোলনকে বানচাল করার জন্য একজন জুলাই যোদ্ধাকে ডেভিল হান্ট অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সুহান যখন ৮ম শ্রেণিতে পড়াকালে আওয়ামী লীগের একটি মিছিলে অংশগ্রহন করে, সেই মিছিলের ছবি দিয়ে তাকে ফ্যাসিস্টের দোসর বানিয়ে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পুরো স্বাস্থ্যখাত আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য একটি কুচক্রী মহল ও পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।
বরিশালে যারা গত জুলাই আগষ্টে সরকার পতনের আন্দোলন করেছে তারা সুহানকে চেনে এবং জানে। সুহানের গায়ে ১৭ টি গুলি (স্প্রিন্টারের) আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়। গ্রেপ্তারকৃত সোহানের বাবা সাংবাদিকদের বলেন, আমার ছেলে সরকার পতনে পুলিশের গুলি স্বৈরাচারী সরকারের নেতা কর্মীদের হাতে মারধরের শিকার হয়। আমার ছেলে আহার নিদ্রা পরিহার করে রাজপথে থেকে আন্দোলন চালিয়েছে।
আমার ছেলের বাচ্চাকালের একটা ছবি বের করে ছেলে পেলেদের যৌক্তিক আন্দোলনকে ভুল প্রমাণিত করতে চাচ্ছে একটি মহল, আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই, এরই সাথে আমার ছেলেকে জামিনে যাতে বিলম্ব না করে, সে বিষয় আদালতে দাবিগুলি পেশ করবো।
প্রসঙ্গত, ২৩ দিন ধরে চলা আন্দোলনের মধ্যে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধের পাশাপাশি গত ১১ আগস্ট শেবাচিম হাসপাতালের জরুরি গেটে আমরণ অনশনে বসেন কয়েক শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালিয়ে অনশন থেকে তুলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
এ সময় দুই পক্ষের একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে দাবি করা হয়। গত রোববার শেবাচিম হাসপাতালের কর্মকর্তা কর্মচারীরা নিরাপদ কর্মস্থলের দাবিতে আন্দোলনে নামে।
একই সময় ছাত্রজনতা শেবাচিমের প্রধান গেটে অবস্থানকালে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তখন ছাত্রজনতার ছোড়া ইটে চিকিৎসক আহত হয় বলে অভিযোগ তোলা হয়।
এরপর রোববার দুপুর থেকে হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ডাক দিয়ে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানায়। সোমবার সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসকরা জানান, হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার না করা হলে হাসপাতাল শাটডাউনের কথা জানান।
দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর অব্যবস্থাপনা দূর, রোগীদের হয়রানি ও স্বাস্থ্যখাতের সিন্ডিকেট নির্মুলের দাবিতে চলমান এই আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কয়েকজন নেতা। এর মধ্যে সুহান একজন, যদিও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটি ব্যতীত সকল পদ স্থগিত করা হয়েছে।
মহিউদ্দিন রনি আরো বলেন, স্বাস্থ্য খাত সংস্কারের এই যৌক্তিক আন্দোলন, দলীয় লেজুর ভিত্তিক ডাক্তারদের নিয়োগ,এবং দালাল নির্মূল এর যে দাবি ছাত্র জনতা তুলেছেন, এই দাবী সরকার যদি মেনে নেয় তাহলে একটি কুচক্রী মহল সন্ত্রাসবাদ কায়েম দালাল সিন্ডিকেট পরিচালনা স্বাস্থ্যখাতকে কেন্দ্র করে অনিয়ম দুর্নীতি করতে না। তাই আমাদের বিরুদ্ধে কঠিন ষড়যন্ত্র হচ্ছে।

০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:৩৯
বরিশাল নগরের রসুলপুর বরফকল এলাকায় পিকআপ ভ্যানে তৈরি করা হয়েছিল গোপন চেম্বার। সেই চেম্বারেই লুকিয়ে আনা হচ্ছিল বিপুল পরিমাণ গাঁজা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ৯০ কেজি গাঁজা। আটক করা হয়েছে রাহুল হাওলাদার নামে এক যুবককে।
শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে রাত দেড়টা পর্যন্ত নগরের কোতোয়ালি মডেল থানার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলপুর বরফকল এলাকায় অভিযান চালায় ডিএনসির বরিশাল বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের একটি দল।
ডিএনসি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পিকআপ ভ্যানটিতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ভ্যানটির পাশে থাকা তিনজন পালানোর চেষ্টা করেন। ধাওয়া দিয়ে রাহুল হাওলাদারকে আটক করা সম্ভব হলেও পালিয়ে যান আরও দুজন।
পরে পিকআপের পেছনের ঢালাইয়ের ভেতরে বিশেষভাবে তৈরি গোপন চেম্বারের সন্ধান পান ডিএনসি সদস্যরা। চেম্বার খুলতেই বেরিয়ে আসে স্কচটেপে মোড়ানো ৩০টি পলিথিনের পোটলা। প্রতিটি পোটলায় ছিল তিন কেজি করে গাঁজা। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা হয় ৯০ কেজি গাঁজা।
এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যান এবং চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদনের একটি কপিও জব্দ করা হয়।
আটক রাহুল হাওলাদার নগরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কলাপট্টি এলাকার বাসিন্দা। পলাতক দুজন হলেন মো. সিরাজ মিয়া (৩৭) এবং মো. পলাশ হাওলাদার (৪২)।
বরিশাল ডিএনসির বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ খোরশিদ আলম বলেন, “গাঁজা পরিবহনের জন্য পিকআপটির পেছনে বিশেষ কায়দায় গোপন চেম্বার তৈরি করা হয়েছিল। পলাতক দুজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে ডিএনসি।
বরিশাল নগরের রসুলপুর বরফকল এলাকায় পিকআপ ভ্যানে তৈরি করা হয়েছিল গোপন চেম্বার। সেই চেম্বারেই লুকিয়ে আনা হচ্ছিল বিপুল পরিমাণ গাঁজা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ৯০ কেজি গাঁজা। আটক করা হয়েছে রাহুল হাওলাদার নামে এক যুবককে।
শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে রাত দেড়টা পর্যন্ত নগরের কোতোয়ালি মডেল থানার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলপুর বরফকল এলাকায় অভিযান চালায় ডিএনসির বরিশাল বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের একটি দল।
ডিএনসি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পিকআপ ভ্যানটিতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ভ্যানটির পাশে থাকা তিনজন পালানোর চেষ্টা করেন। ধাওয়া দিয়ে রাহুল হাওলাদারকে আটক করা সম্ভব হলেও পালিয়ে যান আরও দুজন।
পরে পিকআপের পেছনের ঢালাইয়ের ভেতরে বিশেষভাবে তৈরি গোপন চেম্বারের সন্ধান পান ডিএনসি সদস্যরা। চেম্বার খুলতেই বেরিয়ে আসে স্কচটেপে মোড়ানো ৩০টি পলিথিনের পোটলা। প্রতিটি পোটলায় ছিল তিন কেজি করে গাঁজা। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা হয় ৯০ কেজি গাঁজা।
এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যান এবং চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদনের একটি কপিও জব্দ করা হয়।
আটক রাহুল হাওলাদার নগরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কলাপট্টি এলাকার বাসিন্দা। পলাতক দুজন হলেন মো. সিরাজ মিয়া (৩৭) এবং মো. পলাশ হাওলাদার (৪২)।
বরিশাল ডিএনসির বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ খোরশিদ আলম বলেন, “গাঁজা পরিবহনের জন্য পিকআপটির পেছনে বিশেষ কায়দায় গোপন চেম্বার তৈরি করা হয়েছিল। পলাতক দুজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে ডিএনসি।

০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৩:৩৪
বরিশাল-মাদারীপুর সীমান্তে বাসের সিট নিয়ে বিরোধের জেরে মাদারীপুরের কালকিনি ও বরিশালের গৌরনদী উপজেলার দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে প্রায় ২০টি দোকান। ককটেল বিস্ফোরণ ও মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভের কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার সীমান্তবর্তী ভূরঘাটা সেতু এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বরিশাল যাওয়ার জন্য ভূরঘাটা এলাকার একটি বাস কাউন্টারে টিকিট কাটতে যান মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বনগ্রামের বাসিন্দা এমারত ঘরামী। অসুস্থতার কারণে তিনি বাসের সামনের সিট চাইলে কাউন্টারের সুপারভাইজার তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে এমারতের সঙ্গে কাউন্টারের কর্মচারী সবুজ ফকিরের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সবুজের চাচাতো ভাই আকাশ ফকির এসে এমারতকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে ওই কাউন্টারে যান এমারত। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে উপস্থিত লোকজন পরিস্থিতি শান্ত করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সন্ধ্যায় ভূরঘাটা সেতু এলাকায় দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করা হলে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়, দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।
সংঘর্ষে ভূরঘাটা এলাকার প্রায় ২০টি দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
খবর পেয়ে কালকিনি ও গৌরনদী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম বলেন, টিকিট কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বরিশাল-মাদারীপুর সীমান্তে বাসের সিট নিয়ে বিরোধের জেরে মাদারীপুরের কালকিনি ও বরিশালের গৌরনদী উপজেলার দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে প্রায় ২০টি দোকান। ককটেল বিস্ফোরণ ও মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভের কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার সীমান্তবর্তী ভূরঘাটা সেতু এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বরিশাল যাওয়ার জন্য ভূরঘাটা এলাকার একটি বাস কাউন্টারে টিকিট কাটতে যান মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বনগ্রামের বাসিন্দা এমারত ঘরামী। অসুস্থতার কারণে তিনি বাসের সামনের সিট চাইলে কাউন্টারের সুপারভাইজার তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে এমারতের সঙ্গে কাউন্টারের কর্মচারী সবুজ ফকিরের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সবুজের চাচাতো ভাই আকাশ ফকির এসে এমারতকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে ওই কাউন্টারে যান এমারত। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে উপস্থিত লোকজন পরিস্থিতি শান্ত করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সন্ধ্যায় ভূরঘাটা সেতু এলাকায় দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করা হলে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়, দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।
সংঘর্ষে ভূরঘাটা এলাকার প্রায় ২০টি দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
খবর পেয়ে কালকিনি ও গৌরনদী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম বলেন, টিকিট কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

০২ অক্টোবর, ২০২৬ ০২:৩১
বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে হাত বাঁধা বাবাকে নিজের হাতে চা-রুটি খাওয়ানোর দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনার কেন্দ্রে আসা তুবা অবশেষে ফিরেছে বিদ্যালয়ে। চার মাসের শিক্ষাবিরতি কাটিয়ে বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজার হাত ধরে বামরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যায় চতুর্থ শ্রেণির এই শিক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল এলাকায় তুবার বাড়িতে যান ইউএনও। সেখান থেকে তুবাকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছান তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর শ্রেণিকক্ষে ফিরে শিক্ষক ও সহপাঠীদের স্বাগত পায় শিশুটি।
তুবার মা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, আর্থিক সংকটসহ পারিবারিক নানা প্রতিকূলতার কারণে চার মাস ধরে মেয়েটির পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছিল। প্রশাসনের সহযোগিতায় আবার বিদ্যালয়ে ফিরতে পারায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
ইউএনও মো. আলী সুজা বলেন, দীর্ঘ সময় একটি শিশুর শিক্ষাজীবন থমকে থাকা উদ্বেগের বিষয়। তুবার বিষয়টি জানার পর তাকে নিজেই বিদ্যালয়ে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেন তিনি। ভবিষ্যতে তার পড়াশোনায় যেন আর ছেদ না পড়ে, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
তুবার পরিবারের পরিস্থিতি সম্পর্কে ইউএনও বলেন, তার বাবা অনিককে ইতোমধ্যে চিকিৎসার জন্য পুনর্বাসনকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসা শেষে স্বাভাবিক জীবনে ফিরলে তাকে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি তুবার শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখার বিষয়টিও প্রশাসনের নজরদারিতে থাকবে।
এর আগে ২৬ সেপ্টেম্বর উজিরপুরের বামরাইল এলাকায় কথিত চুরির অভিযোগে অনিক সরদারকে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধরের ঘটনা ঘটে। ওই সময় বাবার কাছে যায় তুবা। হাত বাঁধা অবস্থায় থাকা বাবাকে নিজের হাতে চা ও রুটি খাওয়ায় সে। সেই মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। পরে তুবার দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টিও সামনে আসে।
বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে হাত বাঁধা বাবাকে নিজের হাতে চা-রুটি খাওয়ানোর দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনার কেন্দ্রে আসা তুবা অবশেষে ফিরেছে বিদ্যালয়ে। চার মাসের শিক্ষাবিরতি কাটিয়ে বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজার হাত ধরে বামরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যায় চতুর্থ শ্রেণির এই শিক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল এলাকায় তুবার বাড়িতে যান ইউএনও। সেখান থেকে তুবাকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছান তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর শ্রেণিকক্ষে ফিরে শিক্ষক ও সহপাঠীদের স্বাগত পায় শিশুটি।
তুবার মা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, আর্থিক সংকটসহ পারিবারিক নানা প্রতিকূলতার কারণে চার মাস ধরে মেয়েটির পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছিল। প্রশাসনের সহযোগিতায় আবার বিদ্যালয়ে ফিরতে পারায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
ইউএনও মো. আলী সুজা বলেন, দীর্ঘ সময় একটি শিশুর শিক্ষাজীবন থমকে থাকা উদ্বেগের বিষয়। তুবার বিষয়টি জানার পর তাকে নিজেই বিদ্যালয়ে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেন তিনি। ভবিষ্যতে তার পড়াশোনায় যেন আর ছেদ না পড়ে, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
তুবার পরিবারের পরিস্থিতি সম্পর্কে ইউএনও বলেন, তার বাবা অনিককে ইতোমধ্যে চিকিৎসার জন্য পুনর্বাসনকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসা শেষে স্বাভাবিক জীবনে ফিরলে তাকে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি তুবার শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখার বিষয়টিও প্রশাসনের নজরদারিতে থাকবে।
এর আগে ২৬ সেপ্টেম্বর উজিরপুরের বামরাইল এলাকায় কথিত চুরির অভিযোগে অনিক সরদারকে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধরের ঘটনা ঘটে। ওই সময় বাবার কাছে যায় তুবা। হাত বাঁধা অবস্থায় থাকা বাবাকে নিজের হাতে চা ও রুটি খাওয়ায় সে। সেই মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। পরে তুবার দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টিও সামনে আসে।

২২ আগস্ট, ২০২৫ ২১:৪৫
বরিশাল শের-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে আন্দোলনে জড়িত এক যুবকের পরিচয় নিয় ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। হোসাইন আল সুহান নামে ওই যুবককে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের দাবি, তিনি নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা।
অন্যদিকে সুহান গত জুলাই আগস্টজুড়ে স্বৈরাচারী সরকার পতনে রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত সাড়ে ১১টায় বিক্ষোভ করে স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনকারীরা।
থানার ভেতরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে তাদের। এর আগে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে নগর ভবনের সামনে ফজলুল হক এভিনিউ সড়ক থেকে সুহানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত জেলা প্রশাসক কার্যালয় ঘেরাও করে ও সড়ক আটকে বিক্ষোভ করে আন্দোলনকারীরা। এরপর সন্ধ্যা ৬টা থেকে কোতয়ালি মডেল থানা ঘেরাও করে মূল ফটকে বিক্ষোভ করতে শুরু করে আন্দোলনকারীরা।
সুহানকে গ্রেপ্তারের খবরে রোববার দুপুর থেকে ডাকা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে সোমবার দুপুর তিনটার দিকে শেবাচিম হাসপাতালের চিকিৎসকসহ অন্যান্যরা কাজে ফিরেছেন।
পুলিশ কমিশনার পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, সুহানকে বরিশাল শের-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীদের ওপর হামলাসহ গত জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্রদের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
তিনি আরও বলেন, সুহান ছাত্রলীগ নেতা তার প্রমান এই ছবিতে।
স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনের সদস্য তাহমিদ ইসলাম দাইয়ান মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে বলেন, ‘মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি ছিল। তাই আমরা নগর ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছিলাম। সেখানে পুলিশ আমাদের সমন্বয়ক সুহানকে নিয়ে গেছে। তার মুক্তির দাবিতে আমরা এখন থানায় অবস্থান নিয়েছি।’
কোতয়ালি মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রলীগের ক্যাডার সুহান বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও পলাতক শেখ হাসিনার মামাতো ভাই খোকন সেরনিয়াবাতের অনুসারী। তাকে গ্রেপ্তারের সময় স্বাস্থ্যখাত আন্দোলনের কয়েকজন সদস্য জোর করে টহল পিকআপে উঠেছিল। তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সুহানকে হাসপাতালে চিকিৎসক ও কর্মচারী মামলার আসামি হিসেবে আদালতে পাঠানো হবে।
এর আগে সোমবার বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে হামলা চালিয়ে কর্মকর্তা কর্মচারীদের আহত করার অভিযোগে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী বাহাদুর শিকদার বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।
মামলায় স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক মহিউদ্দিন রনিকে একমাত্র নামধারী ও অজ্ঞাত আরও ৮০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আইন অমান্য করে জনতার উপর হামলা, হত্যা করতে আঘাতসহ মারধর-জখমসহ হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক মহিউদ্দিন রনি বলেন, ডিসির প্রতিনিধি শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি দেওয়ার জন্য বলেন। শান্তিপূর্ণভাবে শিক্ষার্থীরা সবাই একসাথে স্মারকলিপি দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে যেতেই পুলিশ শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত দেয় এবং হোসাইন আল সুহানকে ধরে নিয়ে যায়।
একজন জুলাই যোদ্ধাকে এভাবে ডেবিল ট্যাগ দিয়ে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারে না। আমারা জানতে চাই কার র্নিদেশে গ্রেপ্তার করা হলো এবং কেন পুলিশ আমাদের নারী শিক্ষার্থীদের গায় হাত দিলো।
স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের এই যৌক্তিক আন্দোলনকে বানচাল করার জন্য একজন জুলাই যোদ্ধাকে ডেভিল হান্ট অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সুহান যখন ৮ম শ্রেণিতে পড়াকালে আওয়ামী লীগের একটি মিছিলে অংশগ্রহন করে, সেই মিছিলের ছবি দিয়ে তাকে ফ্যাসিস্টের দোসর বানিয়ে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পুরো স্বাস্থ্যখাত আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য একটি কুচক্রী মহল ও পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।
বরিশালে যারা গত জুলাই আগষ্টে সরকার পতনের আন্দোলন করেছে তারা সুহানকে চেনে এবং জানে। সুহানের গায়ে ১৭ টি গুলি (স্প্রিন্টারের) আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়। গ্রেপ্তারকৃত সোহানের বাবা সাংবাদিকদের বলেন, আমার ছেলে সরকার পতনে পুলিশের গুলি স্বৈরাচারী সরকারের নেতা কর্মীদের হাতে মারধরের শিকার হয়। আমার ছেলে আহার নিদ্রা পরিহার করে রাজপথে থেকে আন্দোলন চালিয়েছে।
আমার ছেলের বাচ্চাকালের একটা ছবি বের করে ছেলে পেলেদের যৌক্তিক আন্দোলনকে ভুল প্রমাণিত করতে চাচ্ছে একটি মহল, আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই, এরই সাথে আমার ছেলেকে জামিনে যাতে বিলম্ব না করে, সে বিষয় আদালতে দাবিগুলি পেশ করবো।
প্রসঙ্গত, ২৩ দিন ধরে চলা আন্দোলনের মধ্যে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধের পাশাপাশি গত ১১ আগস্ট শেবাচিম হাসপাতালের জরুরি গেটে আমরণ অনশনে বসেন কয়েক শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালিয়ে অনশন থেকে তুলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
এ সময় দুই পক্ষের একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে দাবি করা হয়। গত রোববার শেবাচিম হাসপাতালের কর্মকর্তা কর্মচারীরা নিরাপদ কর্মস্থলের দাবিতে আন্দোলনে নামে।
একই সময় ছাত্রজনতা শেবাচিমের প্রধান গেটে অবস্থানকালে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তখন ছাত্রজনতার ছোড়া ইটে চিকিৎসক আহত হয় বলে অভিযোগ তোলা হয়।
এরপর রোববার দুপুর থেকে হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ডাক দিয়ে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানায়। সোমবার সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসকরা জানান, হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার না করা হলে হাসপাতাল শাটডাউনের কথা জানান।
দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর অব্যবস্থাপনা দূর, রোগীদের হয়রানি ও স্বাস্থ্যখাতের সিন্ডিকেট নির্মুলের দাবিতে চলমান এই আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কয়েকজন নেতা। এর মধ্যে সুহান একজন, যদিও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটি ব্যতীত সকল পদ স্থগিত করা হয়েছে।
মহিউদ্দিন রনি আরো বলেন, স্বাস্থ্য খাত সংস্কারের এই যৌক্তিক আন্দোলন, দলীয় লেজুর ভিত্তিক ডাক্তারদের নিয়োগ,এবং দালাল নির্মূল এর যে দাবি ছাত্র জনতা তুলেছেন, এই দাবী সরকার যদি মেনে নেয় তাহলে একটি কুচক্রী মহল সন্ত্রাসবাদ কায়েম দালাল সিন্ডিকেট পরিচালনা স্বাস্থ্যখাতকে কেন্দ্র করে অনিয়ম দুর্নীতি করতে না। তাই আমাদের বিরুদ্ধে কঠিন ষড়যন্ত্র হচ্ছে।
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:২২
০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৪৫
০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:১১
০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:৪৯