নদীবেষ্টিত বরিশাল বিভাগের ৪২টি উপজেলার মধ্যে ১৩টি দুর্গম হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। সরকারি নথিতে দুই হাজার ৮শ ৩৮টি ভোট কেন্দ্রের অর্ধেকের বেশিই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ৩৪টি কেন্দ্র বিদ্যুৎ বিহীন। যদিও এযাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ সতর্কবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল মহানগরীর কাশিপুরের ১২ নং তিলক কলাডেমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দেখা যায় পুরোদমে চলছে সিসি ক্যামেরা বসানোর কাজ। দ্রুত সময়ে সকল কেন্দ্রেই সিসি ক্যামেরা স্থাপনে তড়িঘড়ি। নির্বাচন কমিশনের অমন উদ্যোগে খুশি ভোট গ্রহণকারীরাও।
ভোট কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো অপারেটর সাব্বির বলেন, 'নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনানুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ছয়টি করে এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে দুইটি করে ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
নারী ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা আকলিমা বেগম জানান, 'তিনি যতগুলো ভোটে দায়িত্ব পালন করেছেন তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তা এবারের নির্বাচনে। সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রে ভিন্নতা দেখা গেছে।' তিনি আরও বলেন, 'সঠিক নিরাপত্তা দিয়ে যেন সুষ্ঠুভাবে যেন ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করতে পারে।'
তথ্য বলছে, দেশের সবচে বেশি নদীবেষ্টিত বিভাগ বরিশাল। বিভাগে এমন বেশ কয়েকটি উপজেলা রয়েছে যা মূল শহর থেকে একদম বিচ্ছিন্ন। যাতায়াতে ভরসা নৌ পথ। আছে চরাঞ্চলসহ একেবারে দুর্গম উপজেলা। বিভাগে দুই হাজার ৮৩৮টি কেন্দ্রে হবে ভোটগ্রহণ।
বিভাগীয় প্রশাসনে তথ্যমতে, এসব কেন্দ্রের অর্ধেকের বেশিই ঝুঁকিপূর্ণ। মাত্র ২৩৯টি কেন্দ্রে আগে থেকে আছে সিসি ক্যামেরা। আর বিদ্যুৎ নেই ৩৪টি কেন্দ্রে। আর বিভাগের ৪২ উপজেলার ১৩টিই দুর্গম। যার মধ্যে বরিশাল জেলাতেই অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রই ২১২টি। এখানে মোট কেন্দ্র ৮৩৩টি আর ঝুঁকিপূর্ণ ১৯৬ টি।
বরগুনা জেলায় মোট কেন্দ্র ৩১২টি, যার মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৭৫টি এবং ঝুঁকিপূর্ণ ৬৯টি। পটুয়াখালীর ৫১৩টি কেন্দ্রের ঝুঁকিপূর্ণ ১৮০টি আর ঝুঁকিপূর্ণ ১৩৫টি। দ্বীপজেলা ভোলায় ৫২৫টি কেন্দ্রের ঝুঁকিপূর্ণ ১৫৪টি আর অতি ঝূঁকিপূর্ন ৯৯টি। ঝালকাঠি জেলাতে ২৩৭ টি কেন্দ্রের ঝুঁকিপূর্ন ৮৩ ও অতিঝূঁকিপূর্ন ৫০ ও পিরোজপুরের ৪১৮ কেন্দ্রের ঝুঁকিপূর্ণ ১৩৯ টি ও অতিঝূঁকিপূর্ণ ৫৬টি।
এছাড়া বিভাগের বেতাগী, পাথরঘাটা, বামনা, গলাচিপা, রাঙ্গাবালী, কলাপাড়া, দশমিনা, চরফ্যাশন, মনপুরা, মেহেন্দীগঞ্জ, হিজলা, মুলাদী ও কাউখালী উপজেলাকে দূর্গম উপজেলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশালের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, 'সুষ্ঠু নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা নজরদারিতে আনতে হবে দূর্গম এলাকাগুলো।'
এ বিষয়ে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি মো. মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, 'ভৌগোলিক কারনে বরিশাল বিভাগকে ভাগ করা হয়েছে কয়েকটি নিরাপত্তা স্তরে। ভোলা, পটুয়াখালী ও বরগুনার উপকূলীয় আসনগুলোতে নৌ-বাহিনী ও কোস্টগার্ডের বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বিজিবি ও সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন হয়েছে সর্বত্র। দুর্গম আসনগুলোতে ব্যবহার হবে ড্রোন। নিরাপত্তা নিশ্চিতে বরাদ্দ এসেছে একটি বিশেষ হেলিকপ্টারও।' নির্বাচন কমিশনের তথ্য মতে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় ২১টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার ২২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৮ জন।

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:২১
বরিশালের মুলাদীতে শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নিষিদ্ধঘোষিত যুবলীগের তিন নেতাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার বরিশাল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তারা। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করে তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো তিনজন হলেন—মুলাদী উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আলামিন শিকদার, জাকির হাওলাদার ও আরিফ হাওলাদার।
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ মার্চ নাজিরপুর ইউনিয়নের একটি স্থানে কেক কেটে শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উদযাপন করেন নিষিদ্ধঘোষিত যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এ ঘটনায় ওই রাতেই মুলাদী থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে।
মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, ১৭ মার্চ কেক কাটার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি করে। মামলার অধিকাংশ আসামিই বর্তমানে পলাতক। মঙ্গলবার আদালতে আত্মসমর্পণ করা আসামিদের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বরিশালের মুলাদীতে শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নিষিদ্ধঘোষিত যুবলীগের তিন নেতাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার বরিশাল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তারা। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করে তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো তিনজন হলেন—মুলাদী উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আলামিন শিকদার, জাকির হাওলাদার ও আরিফ হাওলাদার।
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ মার্চ নাজিরপুর ইউনিয়নের একটি স্থানে কেক কেটে শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উদযাপন করেন নিষিদ্ধঘোষিত যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এ ঘটনায় ওই রাতেই মুলাদী থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে।
মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, ১৭ মার্চ কেক কাটার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি করে। মামলার অধিকাংশ আসামিই বর্তমানে পলাতক। মঙ্গলবার আদালতে আত্মসমর্পণ করা আসামিদের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে।

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:৪৬
কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ‘বিএনপির দোসরদের’ তালিকা করার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
পাটওয়ারী লিখেছেন, ‘সময় এসেছে, চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত বিএনপির দোসরদের তালিকা করার।’
চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে সরকারকে ‘আসসালামু আলাইকুম’: পাটওয়ারী
তিনি যাদের নাম উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে রয়েছেন- পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
বাকিদের নাম কমেন্টে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপির এই নেতা।
এর আগে গতকাল এক পোস্টে চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে সরকারকে ‘আসসালামু আলাইকুম’ জানাবেন বলেও মন্তব্য করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ‘বিএনপির দোসরদের’ তালিকা করার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
পাটওয়ারী লিখেছেন, ‘সময় এসেছে, চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত বিএনপির দোসরদের তালিকা করার।’
চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে সরকারকে ‘আসসালামু আলাইকুম’: পাটওয়ারী
তিনি যাদের নাম উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে রয়েছেন- পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
বাকিদের নাম কমেন্টে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপির এই নেতা।
এর আগে গতকাল এক পোস্টে চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে সরকারকে ‘আসসালামু আলাইকুম’ জানাবেন বলেও মন্তব্য করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:২৪
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তৎকালীন ডিআইজি মো. হুমায়ুন কবিরের তদন্ত সংস্থায় দেওয়া জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জবানবন্দিটি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণের আবেদন করা হলে তা মঞ্জুর করা হয়। একই দিনে মামলায় ২৩ নম্বর সাক্ষী হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণও সম্পন্ন হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা জবানবন্দিতে সাবেক ডিআইজি মো. হুমায়ুন কবির দাবি করেন, তৎকালীন বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর রাজনৈতিক নির্দেশ ও প্রভাবের কারণে তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ আগৈলঝাড়ায় দুই বিএনপি নেতাকে ‘ক্রসফায়ারে’ হত্যার ঘটনায় জড়িত হন।
জবানবন্দির বরাত দিয়ে মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আগৈলঝাড়ায় ফলবাহী একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়। ওই মামলায় এসপি এহসানউল্লাহর তদারকিতে ঢাকা ও কেরানীগঞ্জ থেকে আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং উপজেলা জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ১৫ মিনিটে আগৈলঝাড়া এলাকায় গুলি করে তাঁদের হত্যা করা হয় বলে মামলার অভিযোগ।
সাবেক ডিআইজি হুমায়ুন কবিরের জবানবন্দি অনুযায়ী, ঘটনার পর তিনি আগৈলঝাড়া থানার তৎকালীন ওসি মনিরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ওসি তাকে জানান, এসপি এহসানউল্লাহ গ্রেপ্তার দুই আসামিকে ‘ক্রসফায়ার’ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে আগৈলঝাড়া থানার পুলিশ সদস্যরা এতে রাজি না হওয়ায় উজিরপুর থানা থেকে পুলিশ সদস্য এনে হত্যাকাণ্ডটি কার্যকর করা হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
জবানবন্দিতে আরও বলা হয়, ঘটনার পর এসপি নিজে থানায় গিয়ে জিডিতে এ বিষয়ে নোট দেওয়ার নির্দেশ দেন।
হুমায়ুন কবির আরও দাবি করেন, এহসানউল্লাহর ওই ভূমিকার কারণে ২০১৫ সালে তাঁর বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনে (এসিআর) বিরূপ মন্তব্য লিখে পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠিয়েছিলেন তিনি। পরে এহসানউল্লাহকে বরিশাল থেকে মাগুরায় বদলি করা হয়।
তবে মামলার নথিতে সাবেক ডিআইজির জবানবন্দির বরাতে আরও দাবি করা হয়েছে, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হওয়ায় বিরূপ মন্তব্য থাকা সত্ত্বেও এহসানউল্লাহ পরবর্তীতে অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি পান এবং পুনরায় বরিশাল রেঞ্জে পদায়ন পান।
এ মামলায় আসামি করা হয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশালের তৎকালীন এসপি এ কে এম এহসানউল্লাহ এবং উজিরপুর থানার সাবেক দুই এএসআই মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিনকে।
আসামিদের মধ্যে হাসানাত আবদুল্লাহ ও এহসানউল্লাহ পলাতক রয়েছেন। মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। মঙ্গলবার তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার জেরে টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লাকে হত্যার পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে গৌরনদী–গোপালগঞ্জ হাইওয়ের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় ব্রিজের পশ্চিম পাশে অধস্তন পুলিশ সদস্যদের দিয়ে তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়।
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তৎকালীন ডিআইজি মো. হুমায়ুন কবিরের তদন্ত সংস্থায় দেওয়া জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জবানবন্দিটি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণের আবেদন করা হলে তা মঞ্জুর করা হয়। একই দিনে মামলায় ২৩ নম্বর সাক্ষী হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণও সম্পন্ন হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা জবানবন্দিতে সাবেক ডিআইজি মো. হুমায়ুন কবির দাবি করেন, তৎকালীন বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর রাজনৈতিক নির্দেশ ও প্রভাবের কারণে তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ আগৈলঝাড়ায় দুই বিএনপি নেতাকে ‘ক্রসফায়ারে’ হত্যার ঘটনায় জড়িত হন।
জবানবন্দির বরাত দিয়ে মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আগৈলঝাড়ায় ফলবাহী একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়। ওই মামলায় এসপি এহসানউল্লাহর তদারকিতে ঢাকা ও কেরানীগঞ্জ থেকে আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং উপজেলা জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ১৫ মিনিটে আগৈলঝাড়া এলাকায় গুলি করে তাঁদের হত্যা করা হয় বলে মামলার অভিযোগ।
সাবেক ডিআইজি হুমায়ুন কবিরের জবানবন্দি অনুযায়ী, ঘটনার পর তিনি আগৈলঝাড়া থানার তৎকালীন ওসি মনিরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ওসি তাকে জানান, এসপি এহসানউল্লাহ গ্রেপ্তার দুই আসামিকে ‘ক্রসফায়ার’ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে আগৈলঝাড়া থানার পুলিশ সদস্যরা এতে রাজি না হওয়ায় উজিরপুর থানা থেকে পুলিশ সদস্য এনে হত্যাকাণ্ডটি কার্যকর করা হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
জবানবন্দিতে আরও বলা হয়, ঘটনার পর এসপি নিজে থানায় গিয়ে জিডিতে এ বিষয়ে নোট দেওয়ার নির্দেশ দেন।
হুমায়ুন কবির আরও দাবি করেন, এহসানউল্লাহর ওই ভূমিকার কারণে ২০১৫ সালে তাঁর বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনে (এসিআর) বিরূপ মন্তব্য লিখে পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠিয়েছিলেন তিনি। পরে এহসানউল্লাহকে বরিশাল থেকে মাগুরায় বদলি করা হয়।
তবে মামলার নথিতে সাবেক ডিআইজির জবানবন্দির বরাতে আরও দাবি করা হয়েছে, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হওয়ায় বিরূপ মন্তব্য থাকা সত্ত্বেও এহসানউল্লাহ পরবর্তীতে অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি পান এবং পুনরায় বরিশাল রেঞ্জে পদায়ন পান।
এ মামলায় আসামি করা হয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশালের তৎকালীন এসপি এ কে এম এহসানউল্লাহ এবং উজিরপুর থানার সাবেক দুই এএসআই মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিনকে।
আসামিদের মধ্যে হাসানাত আবদুল্লাহ ও এহসানউল্লাহ পলাতক রয়েছেন। মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। মঙ্গলবার তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার জেরে টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লাকে হত্যার পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে গৌরনদী–গোপালগঞ্জ হাইওয়ের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় ব্রিজের পশ্চিম পাশে অধস্তন পুলিশ সদস্যদের দিয়ে তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়।
০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৭:৩৮
নদীবেষ্টিত বরিশাল বিভাগের ৪২টি উপজেলার মধ্যে ১৩টি দুর্গম হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। সরকারি নথিতে দুই হাজার ৮শ ৩৮টি ভোট কেন্দ্রের অর্ধেকের বেশিই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ৩৪টি কেন্দ্র বিদ্যুৎ বিহীন। যদিও এযাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ সতর্কবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল মহানগরীর কাশিপুরের ১২ নং তিলক কলাডেমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দেখা যায় পুরোদমে চলছে সিসি ক্যামেরা বসানোর কাজ। দ্রুত সময়ে সকল কেন্দ্রেই সিসি ক্যামেরা স্থাপনে তড়িঘড়ি। নির্বাচন কমিশনের অমন উদ্যোগে খুশি ভোট গ্রহণকারীরাও।
ভোট কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো অপারেটর সাব্বির বলেন, 'নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনানুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ছয়টি করে এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে দুইটি করে ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
নারী ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা আকলিমা বেগম জানান, 'তিনি যতগুলো ভোটে দায়িত্ব পালন করেছেন তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তা এবারের নির্বাচনে। সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রে ভিন্নতা দেখা গেছে।' তিনি আরও বলেন, 'সঠিক নিরাপত্তা দিয়ে যেন সুষ্ঠুভাবে যেন ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করতে পারে।'
তথ্য বলছে, দেশের সবচে বেশি নদীবেষ্টিত বিভাগ বরিশাল। বিভাগে এমন বেশ কয়েকটি উপজেলা রয়েছে যা মূল শহর থেকে একদম বিচ্ছিন্ন। যাতায়াতে ভরসা নৌ পথ। আছে চরাঞ্চলসহ একেবারে দুর্গম উপজেলা। বিভাগে দুই হাজার ৮৩৮টি কেন্দ্রে হবে ভোটগ্রহণ।
বিভাগীয় প্রশাসনে তথ্যমতে, এসব কেন্দ্রের অর্ধেকের বেশিই ঝুঁকিপূর্ণ। মাত্র ২৩৯টি কেন্দ্রে আগে থেকে আছে সিসি ক্যামেরা। আর বিদ্যুৎ নেই ৩৪টি কেন্দ্রে। আর বিভাগের ৪২ উপজেলার ১৩টিই দুর্গম। যার মধ্যে বরিশাল জেলাতেই অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রই ২১২টি। এখানে মোট কেন্দ্র ৮৩৩টি আর ঝুঁকিপূর্ণ ১৯৬ টি।
বরগুনা জেলায় মোট কেন্দ্র ৩১২টি, যার মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৭৫টি এবং ঝুঁকিপূর্ণ ৬৯টি। পটুয়াখালীর ৫১৩টি কেন্দ্রের ঝুঁকিপূর্ণ ১৮০টি আর ঝুঁকিপূর্ণ ১৩৫টি। দ্বীপজেলা ভোলায় ৫২৫টি কেন্দ্রের ঝুঁকিপূর্ণ ১৫৪টি আর অতি ঝূঁকিপূর্ন ৯৯টি। ঝালকাঠি জেলাতে ২৩৭ টি কেন্দ্রের ঝুঁকিপূর্ন ৮৩ ও অতিঝূঁকিপূর্ন ৫০ ও পিরোজপুরের ৪১৮ কেন্দ্রের ঝুঁকিপূর্ণ ১৩৯ টি ও অতিঝূঁকিপূর্ণ ৫৬টি।
এছাড়া বিভাগের বেতাগী, পাথরঘাটা, বামনা, গলাচিপা, রাঙ্গাবালী, কলাপাড়া, দশমিনা, চরফ্যাশন, মনপুরা, মেহেন্দীগঞ্জ, হিজলা, মুলাদী ও কাউখালী উপজেলাকে দূর্গম উপজেলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশালের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, 'সুষ্ঠু নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা নজরদারিতে আনতে হবে দূর্গম এলাকাগুলো।'
এ বিষয়ে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি মো. মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, 'ভৌগোলিক কারনে বরিশাল বিভাগকে ভাগ করা হয়েছে কয়েকটি নিরাপত্তা স্তরে। ভোলা, পটুয়াখালী ও বরগুনার উপকূলীয় আসনগুলোতে নৌ-বাহিনী ও কোস্টগার্ডের বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বিজিবি ও সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন হয়েছে সর্বত্র। দুর্গম আসনগুলোতে ব্যবহার হবে ড্রোন। নিরাপত্তা নিশ্চিতে বরাদ্দ এসেছে একটি বিশেষ হেলিকপ্টারও।' নির্বাচন কমিশনের তথ্য মতে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় ২১টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার ২২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৮ জন।
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:১৬
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:০১
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ০২:৩১
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:৫২