
০১ জুলাই, ২০২৬ ১৭:২৪
পটুয়াাখালীর বাউফলে আলোচিত একটি ডাকাতি মামলার দীর্ঘদিনের পলাতক আসামি ও ডাকাত দলের সরদার মো. বাচ্চু সরদারকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৮। মঙ্গলবার (৩০ জুন) গভীর রাতে বরিশাল মহানগরীর কোতয়ালি মডেল থানার কালিজিরা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার বাচ্চু সরদার বাউফল উপজেলার কালাইয়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি আলম সরদারের ছেলে।
র্যাব ও বাউফল থানা সূত্রে জানায়, গত ২৪ আগস্ট ২০২৫ রাতে বাউফল উপজেলার বাসিন্দা আজাহার জোমাদ্দারের বাড়িতে ৬/৭ সদস্যের একটি ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে। পরে তারা নগদ ৫ লাখ টাকা এবং পায় ৪৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাউফল থানায় একটি ডাকাতি মামলা করেন।
র্যাবের দাবি, ঘটনার পর থেকেই বাচ্চু সরদার আত্মগোপনে চলে যান এবং বিভিন্ন স্থানে অবস্থান পরিবর্তন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করেন। দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-৮ এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান (পিপিএম-সেবা) বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশালটাইমসকে জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বরিশাল মহানগরীর কোতয়ালি মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’
পটুয়াাখালীর বাউফলে আলোচিত একটি ডাকাতি মামলার দীর্ঘদিনের পলাতক আসামি ও ডাকাত দলের সরদার মো. বাচ্চু সরদারকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৮। মঙ্গলবার (৩০ জুন) গভীর রাতে বরিশাল মহানগরীর কোতয়ালি মডেল থানার কালিজিরা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার বাচ্চু সরদার বাউফল উপজেলার কালাইয়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি আলম সরদারের ছেলে।
র্যাব ও বাউফল থানা সূত্রে জানায়, গত ২৪ আগস্ট ২০২৫ রাতে বাউফল উপজেলার বাসিন্দা আজাহার জোমাদ্দারের বাড়িতে ৬/৭ সদস্যের একটি ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে। পরে তারা নগদ ৫ লাখ টাকা এবং পায় ৪৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাউফল থানায় একটি ডাকাতি মামলা করেন।
র্যাবের দাবি, ঘটনার পর থেকেই বাচ্চু সরদার আত্মগোপনে চলে যান এবং বিভিন্ন স্থানে অবস্থান পরিবর্তন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করেন। দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-৮ এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান (পিপিএম-সেবা) বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশালটাইমসকে জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বরিশাল মহানগরীর কোতয়ালি মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’

০১ জুলাই, ২০২৬ ১৩:৫২

৩০ জুন, ২০২৬ ২২:৪৩
বাউফল উপজেলায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কালাইয়া ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মো. ইমরান হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার কালাইয়া বন্দরের কাপুরিয়াপট্টি এলাকা তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইমরান উপজেলা ছাত্রশিবিরের কালাইয়া ইউনিয়ন শাখার সভাপতি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার রাতে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে প্রথমে কালাইয়া মোল্লা মাকের্ট এলাকায় পরে দাসপাড়া বাসস্টান্ড এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত-সমর্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন।
এ ঘটনায় আল মামুন নামে এক বিএনপি নেতা বাদী হয়ে বাউফল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় দাসপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা এএনএম জাহাঙ্গির হোসেনকে প্রধান করে ৪০জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৪০ থেকে ৫০ জন আসামি করা হয়। একই মামলায় ছাত্রশিবির নেতা মো. ইমরান হোসেনকেও আসামি করা হয়েছে। ওই মামলার ভিত্তিতেই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
বাউফল থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. ইমরান হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

৩০ জুন, ২০২৬ ১৮:১৮
পটুয়াখালীর বাউফলে কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যানের,উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ মনির মোল্লা'র বাসভবন ও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ ফিরোজ হাওলাদার কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) উপজেলার কালাইয়া বাণিজ্যিক বন্দর এলাকায় পৃথক এ ঘটনা ঘটে।
কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফিরোজ হাওলাদার অভিযোগ করেন, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এস এম ফয়সাল আহমেদ ওরফে মনির মোল্লার বাসভবন এবং তার কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় তাকে মারধর করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
ফিরোজ হাওলাদার আরও অভিযোগ করেন, বিএনপির একটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। সোমবার তারা মিছিল নিয়ে এসে তার কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতারা বলেন, গত শনিবার রাতে ফ্যাসিবাদবিরোধী মিছিল চলাকালে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন এবং প্রায় ২০টি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার কালাইয়া ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা একটি মিছিল বের করেন।
তাদের দাবি, মিছিলটি গরুর হাট এলাকায় পৌঁছালে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফিরোজ হাওলাদারের সঙ্গে দেখা হয়। এ সময় তাকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানানো হলে তিনি উত্তেজিত আচরণ করেন। পরে সিনিয়র নেতারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। হামলা বা ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির কোনো নেতাকর্মী জড়িত নন বলেও দাবি করেন তারা।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, সাবেক চেয়ারম্যানের বাসভবন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে ভাঙচুরের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের দাবিতে কুয়াকাটা-ভাঙ্গা ৬ লেন সড়ক, পর্যটনশিল্প বিকাশে কুয়াকাটা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন, পায়রা বন্দরকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীতকরণ, কুয়াকাটায় বিমানবন্দর নির্মাণ, কুয়াকাটা উপজেলায় রূপান্তর, ভাঙ্গা রেলস্টেশন থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত রেল সংযোগ, নদীভাঙন রোধে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, বরিশাল-ভোলা সেতু নির্মাণ, ভোলার গ্যাস দিয়ে শিল্পাঞ্চল (ভোলা-বরিশাল-পটুয়াখালী) গড়ে তোলাসহ ৯ দফা দাবিতে ৩০ কিলোমিটার সড়কজুড়ে দীর্ঘ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টাব্যাপী কুয়াকাটা-ঢাকা মহাসড়কের পায়রা বন্দরের ৬ লেন সড়ক পর্যন্ত এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। নাগরিক সমাজের উদ্যোগে এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি, কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন (টোয়াক), হোটেল মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন, কুয়াকাটা প্রেসক্লাব, মহিপুর প্রেসক্লাব, কলাপাড়া প্রেসক্লাব, কুয়াকাটা শিল্পী গোষ্ঠী, কলাপাড়া ও কুয়াকাটা নাগরিক সমাজসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন আলাদা আলাদা ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে এতে অংশগ্রহণ করেন। এতে কয়েক হাজার মানুষ এ দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে মানববন্ধনে শামিল হন।
দক্ষিণাঞ্চলের ভাঙ্গা-কুয়াকাটা মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানজট ও দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা বর্তমানে জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মহাসড়কটি দ্রুত ৬ লেন করার দাবি দীর্ঘদিনের। অন্যদিকে কুয়াকাটা পর্যটন তথা দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন হয়েছে, পায়রা বন্দর, সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন, লাইট হাউসসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, সেই কুয়াকাটা এখন অবহেলিত। দক্ষিণাঞ্চলের মেঘা প্রকল্পে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ ৮ দফা দাবিতে রাস্তায় নামে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা এবং দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জেলা পটুয়াখালীর সঙ্গে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ভাঙ্গা-কুয়াকাটা মহাসড়ক। তবে এটি জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, ‘পর্যটন শিল্পের বিকাশ, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং দক্ষিণাঞ্চলের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে মহাসড়কটি ৬ লেনে উন্নীত করা সময়ের দাবি। এটি বাস্তবায়ন হলে যাতায়াত আরও নিরাপদ, দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।
অপরদিকে কুয়াকাটায় ৩ তারকা মানের হোটেলসহ ৩ শতাধিক হোটেল-মোটেল রিসোর্ট গড়ে উঠছে। হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। এসব বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ নিশ্চয়তায় কুয়াকাটা উপজেলা সময়ের দাবি বলে মনে করছেন কুয়াকাটার নাগরিক সমাজ।
মানববন্ধনে তারা ভাঙ্গা-কুয়াকাটা মহাসড়ক দ্রুত ৬ লেনে উন্নীতকরণ, কুয়াকাটাকে উপজেলায় রূপান্তর, পায়রা বন্দর পূর্ণাঙ্গ চালু, কুয়াকাটা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনসহ ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি উদ্যোগ ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের দাবিতে কুয়াকাটা-ভাঙ্গা ৬ লেন সড়ক, পর্যটনশিল্প বিকাশে কুয়াকাটা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন, পায়রা বন্দরকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীতকরণ, কুয়াকাটায় বিমানবন্দর নির্মাণ, কুয়াকাটা উপজেলায় রূপান্তর, ভাঙ্গা রেলস্টেশন থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত রেল সংযোগ, নদীভাঙন রোধে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, বরিশাল-ভোলা সেতু নির্মাণ, ভোলার গ্যাস দিয়ে শিল্পাঞ্চল (ভোলা-বরিশাল-পটুয়াখালী) গড়ে তোলাসহ ৯ দফা দাবিতে ৩০ কিলোমিটার সড়কজুড়ে দীর্ঘ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টাব্যাপী কুয়াকাটা-ঢাকা মহাসড়কের পায়রা বন্দরের ৬ লেন সড়ক পর্যন্ত এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। নাগরিক সমাজের উদ্যোগে এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি, কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন (টোয়াক), হোটেল মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন, কুয়াকাটা প্রেসক্লাব, মহিপুর প্রেসক্লাব, কলাপাড়া প্রেসক্লাব, কুয়াকাটা শিল্পী গোষ্ঠী, কলাপাড়া ও কুয়াকাটা নাগরিক সমাজসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন আলাদা আলাদা ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে এতে অংশগ্রহণ করেন। এতে কয়েক হাজার মানুষ এ দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে মানববন্ধনে শামিল হন।
দক্ষিণাঞ্চলের ভাঙ্গা-কুয়াকাটা মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানজট ও দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা বর্তমানে জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মহাসড়কটি দ্রুত ৬ লেন করার দাবি দীর্ঘদিনের। অন্যদিকে কুয়াকাটা পর্যটন তথা দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন হয়েছে, পায়রা বন্দর, সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন, লাইট হাউসসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, সেই কুয়াকাটা এখন অবহেলিত। দক্ষিণাঞ্চলের মেঘা প্রকল্পে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ ৮ দফা দাবিতে রাস্তায় নামে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা এবং দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জেলা পটুয়াখালীর সঙ্গে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ভাঙ্গা-কুয়াকাটা মহাসড়ক। তবে এটি জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, ‘পর্যটন শিল্পের বিকাশ, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং দক্ষিণাঞ্চলের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে মহাসড়কটি ৬ লেনে উন্নীত করা সময়ের দাবি। এটি বাস্তবায়ন হলে যাতায়াত আরও নিরাপদ, দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।
অপরদিকে কুয়াকাটায় ৩ তারকা মানের হোটেলসহ ৩ শতাধিক হোটেল-মোটেল রিসোর্ট গড়ে উঠছে। হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। এসব বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ নিশ্চয়তায় কুয়াকাটা উপজেলা সময়ের দাবি বলে মনে করছেন কুয়াকাটার নাগরিক সমাজ।
মানববন্ধনে তারা ভাঙ্গা-কুয়াকাটা মহাসড়ক দ্রুত ৬ লেনে উন্নীতকরণ, কুয়াকাটাকে উপজেলায় রূপান্তর, পায়রা বন্দর পূর্ণাঙ্গ চালু, কুয়াকাটা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনসহ ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি উদ্যোগ ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বাউফল উপজেলায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কালাইয়া ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মো. ইমরান হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার কালাইয়া বন্দরের কাপুরিয়াপট্টি এলাকা তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইমরান উপজেলা ছাত্রশিবিরের কালাইয়া ইউনিয়ন শাখার সভাপতি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার রাতে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে প্রথমে কালাইয়া মোল্লা মাকের্ট এলাকায় পরে দাসপাড়া বাসস্টান্ড এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত-সমর্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন।
এ ঘটনায় আল মামুন নামে এক বিএনপি নেতা বাদী হয়ে বাউফল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় দাসপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা এএনএম জাহাঙ্গির হোসেনকে প্রধান করে ৪০জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৪০ থেকে ৫০ জন আসামি করা হয়। একই মামলায় ছাত্রশিবির নেতা মো. ইমরান হোসেনকেও আসামি করা হয়েছে। ওই মামলার ভিত্তিতেই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
বাউফল থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. ইমরান হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পটুয়াখালীর বাউফলে কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যানের,উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ মনির মোল্লা'র বাসভবন ও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ ফিরোজ হাওলাদার কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) উপজেলার কালাইয়া বাণিজ্যিক বন্দর এলাকায় পৃথক এ ঘটনা ঘটে।
কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফিরোজ হাওলাদার অভিযোগ করেন, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এস এম ফয়সাল আহমেদ ওরফে মনির মোল্লার বাসভবন এবং তার কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় তাকে মারধর করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
ফিরোজ হাওলাদার আরও অভিযোগ করেন, বিএনপির একটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। সোমবার তারা মিছিল নিয়ে এসে তার কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতারা বলেন, গত শনিবার রাতে ফ্যাসিবাদবিরোধী মিছিল চলাকালে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন এবং প্রায় ২০টি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার কালাইয়া ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা একটি মিছিল বের করেন।
তাদের দাবি, মিছিলটি গরুর হাট এলাকায় পৌঁছালে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফিরোজ হাওলাদারের সঙ্গে দেখা হয়। এ সময় তাকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানানো হলে তিনি উত্তেজিত আচরণ করেন। পরে সিনিয়র নেতারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। হামলা বা ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির কোনো নেতাকর্মী জড়িত নন বলেও দাবি করেন তারা।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, সাবেক চেয়ারম্যানের বাসভবন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে ভাঙচুরের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।