
২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০২:০০
স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বরিশাল নগরীর ১০ নং ওয়ার্ডে বিএনপির দুটি গ্রুপ সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। ওয়ার্ড বিএনপি নেতা কামরুল ইসলাম এবং মহানগর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম তরিক অনুসারী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের রোববার রাতের এই সংঘর্ষে বান্দরোড-বেলসপার্কসহ আশপাশ এলাকাসমূহে উত্তেজনা দেখা দেয়। উভয়গ্রুপের অন্তত ত্রিশ মিনিটের অধিক সময় লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় বেলসপার্কে আগন্তক দর্শনার্থীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যেকার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে উভয়গ্রুপকে ছাত্রভঙ্গ করে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র বলছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন হলে ১০ নং ওয়ার্ডে বিএনপি নেতা কামরুল ইসলাম-কবির সিকদারদের সাথে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই শুরু হয় মহানগর ছাত্রদল সিনিয়র সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম তরিকের অনুগত হিরন-বেল্লালদের। বেশকিছু দিন ধরে উভয়গ্রুপের মধ্যে এনিয়ে ভেতরে ভেতরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
বুধবার দুপুরে তরিক অনুসারী ওয়ার্ড ছাত্রদল নেতাকর্মী পার্শ্ববর্তী বরফকল এলাকায় কবিরের সাথে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। তখন ওয়ার্ড বিএনপি নেতা তোতাসহ আরও কজনের হস্তক্ষেপে থামলেও রাত ১১টার দিতে তা ব্যাপক আকারে দেখা দেয়।
ওয়ার্ড বিএনপি নেতা কামরুল ইসলাম এ প্রতিবেদকের কাছে দাবি করেন, কোস্টগার্ডে মাঝি নিয়োগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল নেতা তরিক অনুসারীরা বরিশাল মহানগর যুবদলের তথ্য বিষয়ক সম্পাদক কবির সিকদারকে মারধর করেছে। অবশ্য এই কবির সিকদারের বিরুদ্ধেও আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরে স্থানীয় নীরিহ বাসিন্দাদের হয়রানির অভিযোগ আছে।
কামরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, দুপুরে কবির সিকদারকে হেনস্থার ঘটনাটি মীমাংসা করতে একটি সিদ্ধান্ত হয়েছিল। রাত ১০টায় আহুত সেই শালিস আয়োজনে তরিকের অনুসারী কেউ অংশ নেয়নি। বরং রাব্বি নামের যুবক তাকে ফোন করে মারার হুমকি দেয়।
১০ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শাহাদাত ইসলাম তোতা জানান, তিনিও রাতের সংঘাতের ঘটনার সাক্ষী। দুটি গ্রুপ লাঠিসোটা এবং অস্ত্রের মহড়া দিয়ে সংঘাতে জড়িয়েছে। এতে কামরুল-কবির গ্রুপের চারজন বেল্লাল, মামুন, ইমন এবং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মালেক আহত হয়েছেন, তাদের বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এসময় ছাত্রদল নেতা তরিক উপস্থিত থাকলেও তিনি উভয়গ্রুপকে শান্ত রাখার চেষ্টা করেন, জানান তোতা।
তবে তরিক অনুসারীদের দাবি, বেলসপার্ক মাঠ থেকে তার কর্মীরা একযোগে ১০ নং ওয়ার্ডের বরফকল এলাকায় শালিস বৈঠকে অংশ নিতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু এর আগে কামরুল-কবির লোকজন নিয়ে এসে তাদের ওপর হামলা করে। এতে বেশ কয়েকজন আহতও হয়েছেন। তরিকের কর্মীদের অভিযোগ, বিএনপি নেতা কামরুল আওয়ামী লীগের লোকজন নিয়ে ‘জয়বাংলা’ শ্লোগান দিয়ে তাদের ওপর হামলা করে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের আওতাধীন স্টিমারঘাট ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ গোলাম মো. নাসিম বরিশালটাইমসকে জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে কেডিসি-বান্দরোড এবং বেলসপার্ক এলাকার বিশৃঙ্খলা রোধ করে। পুলিশের ধাওয়ায় দুগ্রুপ ছত্রভঙ্গ হয়ে গেছে এবং বর্তমানে পরিবেশ পরিস্থিতিও শান্ত রয়েছে। পরবর্তীতে এই ঘটনায় কোনো পক্ষ অভিযোগ করলে তদন্ত করে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
সংঘাতের এই ঘটনার পরে বরফকল এবং কেডিসি এলাকায় পুলিশ-সেনাবাহিনী কয়েক দফা হানা দিয়েছে। তবে সংঘর্ষে জড়িত কাউকে আটক করার খবর পাওয়া যায়নি।
বুধবার রাত পৌনে ২টার সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, দুটি গ্রুপই মুখোমুখি অবস্থানে আছে এবং এনিয়ে স্থানীয় আতঙ্কে রয়েছেন।
যদিও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শাহাদাত ইসলাম তোতা এ প্রতিবেদককে এবার বলছেন, বিষয়টি তাদের রাজনৈতিক অভিভাবক বরিশাল সদর আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরওয়ার এবং বরিশাল মহানগর যুবদলের সভাপতি মাসুদ হাসান মামুনকে অবহিত করা হয়েছে। তাদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন, এই জন্য সবাই অপেক্ষা করছেন।
অবশ্য ছাত্রদল নেতা তরিকও এমপি সরওয়ারের অনুসারী এবং বেল্লাল-সোহেল ও আল আমিনদের নিয়ে কেডিসি এলাকায় তার একটি বৃহৎ বলয় রয়েছে।
স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বরিশাল নগরীর ১০ নং ওয়ার্ডে বিএনপির দুটি গ্রুপ সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। ওয়ার্ড বিএনপি নেতা কামরুল ইসলাম এবং মহানগর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম তরিক অনুসারী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের রোববার রাতের এই সংঘর্ষে বান্দরোড-বেলসপার্কসহ আশপাশ এলাকাসমূহে উত্তেজনা দেখা দেয়। উভয়গ্রুপের অন্তত ত্রিশ মিনিটের অধিক সময় লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় বেলসপার্কে আগন্তক দর্শনার্থীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যেকার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে উভয়গ্রুপকে ছাত্রভঙ্গ করে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র বলছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন হলে ১০ নং ওয়ার্ডে বিএনপি নেতা কামরুল ইসলাম-কবির সিকদারদের সাথে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই শুরু হয় মহানগর ছাত্রদল সিনিয়র সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম তরিকের অনুগত হিরন-বেল্লালদের। বেশকিছু দিন ধরে উভয়গ্রুপের মধ্যে এনিয়ে ভেতরে ভেতরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
বুধবার দুপুরে তরিক অনুসারী ওয়ার্ড ছাত্রদল নেতাকর্মী পার্শ্ববর্তী বরফকল এলাকায় কবিরের সাথে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। তখন ওয়ার্ড বিএনপি নেতা তোতাসহ আরও কজনের হস্তক্ষেপে থামলেও রাত ১১টার দিতে তা ব্যাপক আকারে দেখা দেয়।
ওয়ার্ড বিএনপি নেতা কামরুল ইসলাম এ প্রতিবেদকের কাছে দাবি করেন, কোস্টগার্ডে মাঝি নিয়োগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল নেতা তরিক অনুসারীরা বরিশাল মহানগর যুবদলের তথ্য বিষয়ক সম্পাদক কবির সিকদারকে মারধর করেছে। অবশ্য এই কবির সিকদারের বিরুদ্ধেও আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরে স্থানীয় নীরিহ বাসিন্দাদের হয়রানির অভিযোগ আছে।
কামরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, দুপুরে কবির সিকদারকে হেনস্থার ঘটনাটি মীমাংসা করতে একটি সিদ্ধান্ত হয়েছিল। রাত ১০টায় আহুত সেই শালিস আয়োজনে তরিকের অনুসারী কেউ অংশ নেয়নি। বরং রাব্বি নামের যুবক তাকে ফোন করে মারার হুমকি দেয়।
১০ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শাহাদাত ইসলাম তোতা জানান, তিনিও রাতের সংঘাতের ঘটনার সাক্ষী। দুটি গ্রুপ লাঠিসোটা এবং অস্ত্রের মহড়া দিয়ে সংঘাতে জড়িয়েছে। এতে কামরুল-কবির গ্রুপের চারজন বেল্লাল, মামুন, ইমন এবং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মালেক আহত হয়েছেন, তাদের বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এসময় ছাত্রদল নেতা তরিক উপস্থিত থাকলেও তিনি উভয়গ্রুপকে শান্ত রাখার চেষ্টা করেন, জানান তোতা।
তবে তরিক অনুসারীদের দাবি, বেলসপার্ক মাঠ থেকে তার কর্মীরা একযোগে ১০ নং ওয়ার্ডের বরফকল এলাকায় শালিস বৈঠকে অংশ নিতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু এর আগে কামরুল-কবির লোকজন নিয়ে এসে তাদের ওপর হামলা করে। এতে বেশ কয়েকজন আহতও হয়েছেন। তরিকের কর্মীদের অভিযোগ, বিএনপি নেতা কামরুল আওয়ামী লীগের লোকজন নিয়ে ‘জয়বাংলা’ শ্লোগান দিয়ে তাদের ওপর হামলা করে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের আওতাধীন স্টিমারঘাট ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ গোলাম মো. নাসিম বরিশালটাইমসকে জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে কেডিসি-বান্দরোড এবং বেলসপার্ক এলাকার বিশৃঙ্খলা রোধ করে। পুলিশের ধাওয়ায় দুগ্রুপ ছত্রভঙ্গ হয়ে গেছে এবং বর্তমানে পরিবেশ পরিস্থিতিও শান্ত রয়েছে। পরবর্তীতে এই ঘটনায় কোনো পক্ষ অভিযোগ করলে তদন্ত করে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
সংঘাতের এই ঘটনার পরে বরফকল এবং কেডিসি এলাকায় পুলিশ-সেনাবাহিনী কয়েক দফা হানা দিয়েছে। তবে সংঘর্ষে জড়িত কাউকে আটক করার খবর পাওয়া যায়নি।
বুধবার রাত পৌনে ২টার সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, দুটি গ্রুপই মুখোমুখি অবস্থানে আছে এবং এনিয়ে স্থানীয় আতঙ্কে রয়েছেন।
যদিও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শাহাদাত ইসলাম তোতা এ প্রতিবেদককে এবার বলছেন, বিষয়টি তাদের রাজনৈতিক অভিভাবক বরিশাল সদর আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরওয়ার এবং বরিশাল মহানগর যুবদলের সভাপতি মাসুদ হাসান মামুনকে অবহিত করা হয়েছে। তাদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন, এই জন্য সবাই অপেক্ষা করছেন।
অবশ্য ছাত্রদল নেতা তরিকও এমপি সরওয়ারের অনুসারী এবং বেল্লাল-সোহেল ও আল আমিনদের নিয়ে কেডিসি এলাকায় তার একটি বৃহৎ বলয় রয়েছে।
২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০২:০০
২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২৩:২৯
২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২৩:১৮

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
বরিশাল আদালতের এজলাস কক্ষ ভাঙচুরের প্রতিবাদে সুপ্রিম কোর্টে আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীরা মানববন্ধন এবং বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। এ কর্মসূচি ঘিরে দুপক্ষের মধ্যে হট্টগোল হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আইনজীবী সমিতির সামনে সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের ব্যানারে আওয়ামী লীগপন্থি কয়েকজন আইনজীবী মানববন্ধন করেন। এতে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী আবু সাঈদ সাগর, আইনজীবী সুব্রত কুন্ডু, চঞ্চল কুমার বিশ্বাস, কুমার দেবুল দে প্রমুখ। তারা বরিশাল আদালতের এজলাস কক্ষ ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করেন।
অন্যদিকে, বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট চত্বর এবং আইনজীবী সমিতির নিচতলা ও দ্বিতীয়তলা প্রদক্ষিণ করেন। মিছিলে অংশ নেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী কামরুল ইসলাম সজল, সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক গাজি মো. তৌহিদুল ইসলাম, কাজী জয়নুল আবেদীন প্রমুখ।
অভিযোগ উঠেছে, বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলের একপর্যায়ে সেখান থেকে মানববন্ধনরত আওয়ামী লীগের আইনজীবীদের ব্যানার ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে আইনজীবী সমিতির সাবেক সিনিয়র সহ-সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের সাবেক আইন সম্পাদক আবু সাঈদ সাগরের রুমে গিয়ে (দ্বিতীয় তলায় ২০২১ নম্বর কক্ষ) শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুর করা হয়।
আবু সাঈদ সাগর বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন আইনজীবী সমিতিতে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের জনপ্রিয়তা দেখে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে একদল আইনজীবী আমার রুমে স্থাপিত বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুর করে। আমি এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’
এ বিষয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী কামরুল ইসলাম সজল সাংবাদিকদের বলেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থক কতিপয় আইনজীবী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সম্পর্কে কটূক্তি করেছিল। এ ঘটনায় সাধারণ আইনজীবীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। ছবি ভাঙচুরের ঘটনা জানা নেই।’
বরিশাল আদালতের এজলাস কক্ষ ভাঙচুরের প্রতিবাদে সুপ্রিম কোর্টে আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীরা মানববন্ধন এবং বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। এ কর্মসূচি ঘিরে দুপক্ষের মধ্যে হট্টগোল হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আইনজীবী সমিতির সামনে সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের ব্যানারে আওয়ামী লীগপন্থি কয়েকজন আইনজীবী মানববন্ধন করেন। এতে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী আবু সাঈদ সাগর, আইনজীবী সুব্রত কুন্ডু, চঞ্চল কুমার বিশ্বাস, কুমার দেবুল দে প্রমুখ। তারা বরিশাল আদালতের এজলাস কক্ষ ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করেন।
অন্যদিকে, বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট চত্বর এবং আইনজীবী সমিতির নিচতলা ও দ্বিতীয়তলা প্রদক্ষিণ করেন। মিছিলে অংশ নেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী কামরুল ইসলাম সজল, সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক গাজি মো. তৌহিদুল ইসলাম, কাজী জয়নুল আবেদীন প্রমুখ।
অভিযোগ উঠেছে, বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলের একপর্যায়ে সেখান থেকে মানববন্ধনরত আওয়ামী লীগের আইনজীবীদের ব্যানার ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে আইনজীবী সমিতির সাবেক সিনিয়র সহ-সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের সাবেক আইন সম্পাদক আবু সাঈদ সাগরের রুমে গিয়ে (দ্বিতীয় তলায় ২০২১ নম্বর কক্ষ) শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুর করা হয়।
আবু সাঈদ সাগর বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন আইনজীবী সমিতিতে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের জনপ্রিয়তা দেখে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে একদল আইনজীবী আমার রুমে স্থাপিত বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুর করে। আমি এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’
এ বিষয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী কামরুল ইসলাম সজল সাংবাদিকদের বলেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থক কতিপয় আইনজীবী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সম্পর্কে কটূক্তি করেছিল। এ ঘটনায় সাধারণ আইনজীবীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। ছবি ভাঙচুরের ঘটনা জানা নেই।’

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২০:৪৪
আওয়ামী লীগ নেতাদের ধারাবাহিক জামিনে মুক্তি দেওয়ার প্রতিবাদে বিচারকের উপস্থিতিতে এজলাস কক্ষে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে কেন্দ্র বুধবার বরিশালে উত্তেজনাকর একটি দিন পার হলো।
একদিন আগের সেই ঘটনায় বুধবার বেলা ১০টার দিকে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বিএনপি নেতা সাদিকুর রহমান লিংকনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া এবং পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপর্দ করলে বিচারকের কারাগারে প্রেরণ আদেশ উত্তেজনার পারদ আরও উর্ধ্বমুখী করে তোলে। বিশেষ করে বরিশাল আদালত চত্ত্বরে ক্ষোভে ফেটে পড়তে দেখা যায় বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের। কিন্তু তাদের কোনো লাভ হয়নি, বরং বারের সভাপতিকে শেষ পর্যন্ত কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের এজলাস কক্ষের একটি হট্টগোলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারকের উপস্থিতিতে এজলাস কক্ষের এই ধরনের বিশৃঙ্খল ভিডিও নিয়ে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালত থেকে সপ্তাহখানেকের ব্যবধানে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের অন্তত অর্ধডজন শীর্ষস্থানীয় নেতাদের জামিন অযোগ্য মামলায় জামিন দেওয়া হয়। গত সোমবার একই আদালত থেকে একটি আলোচিত মামলায় জামিনে মুক্তি বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও দুইবারের সাবেক এমপি তালুকদার মো. ইউনুস। শীর্ষস্থানীয় নেতা ইউনুস জামিনে মুক্তি প্রাপ্তির পরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা।
এর প্রতিবাদে তারা মঙ্গলবার আদালত বর্জন করেন এবং বরিশালে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের এজলাস কক্ষে প্রবেশ করে হট্টগোল শুরু করে দেন। মূলত সেই ঘটনায় আদালতের সিসি ক্যামেরায় ধারণ হওয়া ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল হলে বিষয়টি নিয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। অবশ্য এই ভিডিওর সাথে নেতিবাচক শিরোনামজুড়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ফেসবুক থেকেও প্রচার করা হয়। এবং সেই ভিডিওর নিচে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের নেতিবাচক কমেন্টও লক্ষ্য করা যায়।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার এজলাস কক্ষের সেই ঘটনাকে কেন্দ্র বুধবার সকাল থেকেই আদালত চত্ত্বরে অবস্থান নেয় পুলিশসংখ্যক পুলিশ। পাশাপাশি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়। বেলা ১০টার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি টিম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনকে আইনজীবী কক্ষ থেকে আটক করে এবং সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট আদালতে উপস্থাপন করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বাবের সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনকে কারাগারে পাঠানোর খবর সংক্ষুব্ধ করে তোলে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের। এই ঘটনায় বুধবার সকাল থেকেই তারা আদালত বর্জন করাসহ অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারকের অপসারণ দাবি করেন। পাশাপাশি সভাপতির মুক্তির দাবিতে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের মুল ফটকে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকেন। তখন সাদিকুর রহমান লিংকন আদালত ভবনের নিতে পুলিশ হেফাজতে ছিলেন।
নেতাকে মুক্ত করতে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের বিক্ষোভে আদালত চত্ত্বরের পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সেনাবাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য সেখানে অবস্থান নেন। এবং পরিবেশ-পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে কাজ করেন।
বলা যায়, সেনা বাহিনী-পুলিশ এবং র্যাব আদালত কম্পাউন্ডে এক ধরনের বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে। কিন্তু বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের বিক্ষোভ প্রতিবাদের কারণে সাদিকুর রহমানকে কিছুতেই আদালতের হাজতখানা থেকে বাহির করা যাচ্ছিল না।
ফলে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেও আদালতে এই ঘটনায় উত্তেজনা বিরাজ করে এবং সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। তবে সবশেষ বিকেল ৫টার দিকে আদালত প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কৌশলী পদক্ষেপ রাখায় বিএনপি নেতাকে কারাগারে যাওয়া থেকে আর রক্ষা করা যায়নি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আদালতের একাধিক সূত্র রূপালী বাংলাদেশকে নিশ্চিত করে, আদালতের এজলাসে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় বুধবার দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা হয়।
অবশ্য এই মামলা গ্রহণের আগেই পুলিশ তাকে আদালত চত্ত্বর থেকে গ্রেপ্তার করে হেফাজতে নেয়, এমনকি কিছুক্ষণের মধ্যে আদালতেও তোলে।
পরে তাকে দ্রুত বিচার আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলে বিকেলে তার জামিন আবেদন করে বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা। কিন্তু বিচারক সেই জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন এবং আগামী ২ মার্চ এই মামলার শুনানির দিনক্ষণ ধার্য রাখেন। আদালত থেকে সবশেষ এই সিদ্ধান্ত আসার পরে সেনাবাহিনী- পুলিশ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সম্মুখ কর্ডন করে আসামী বহনকারী প্রিজনভ্যানে করে সাদিকুর রহমান লিংকনকে কারাগারের অভিমুখে নিয়ে যায়।
সভাপতিকে কারাগারে পাঠানোর এই ঘটনায় বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা বৃহস্পতিবারও আদালত বর্জনের ঘোষণা দেন। এবং সেখান থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণার আগাম বার্তা সাংবাদিকদের দিয়ে রেখেছেন।
বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান, আদালতের নির্দেশে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি লিংকনসহ নামধারী ১২জনকে অভিযুক্ত করে মামলা গ্রহণ করা হয়।
এই মামলায় আরও চারজন অজ্ঞাত আসামি আছেন। বুধবার সভাপতিকে আটকের পরে আদালতে সোপর্দ করলে তাকে বিচারক কারাগারে প্রেরণ আদেশ দেন। বিকেলে তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
এর আগে তার মুক্তির দাবিতে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা বিক্ষোভ করেন। এই গোটা ঘটনায় আদালত প্রশাসন কোনো রূপ মন্তব্য না করলেও বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের দাবি, বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারক শরীয়তউল্লাহ স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের দোষর। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বরিশাল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য তালুকদার মো. ইউনুসকে জামিন দিয়ে তার প্রমাণ দিয়েছেন।
এর আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশাল ৫ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের তিন নেতা জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। জামিনপ্রাপ্ত অন্য দুজন হচ্ছেন, বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন এবং বরিশাল মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান।
আওয়ামী লীগ নেতাদের জামিনের ধারাবাহিকতা বহাল থাকা এবং তাদের নেতাকে মামলায় কারাগারে পাঠানো নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন বিএনপিপন্থী আইনজীবী এইচএম আনিসুর রহমান।
তিনি জানান, বিচারক স্বৈরাচারের পক্ষ নিয়ে বরিশাল আদালতে একটি কালো অধ্যয় তৈরি তৈরি করলেন, যা খুব খারাপ একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এই ঘটনায় পরবর্তী পদক্ষেপ বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা কি রাখবেন তা দেখতে অপেক্ষা করতে হবে, মন্তব্য করেন তিনি।
আওয়ামী লীগ নেতাদের ধারাবাহিক জামিনে মুক্তি দেওয়ার প্রতিবাদে বিচারকের উপস্থিতিতে এজলাস কক্ষে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে কেন্দ্র বুধবার বরিশালে উত্তেজনাকর একটি দিন পার হলো।
একদিন আগের সেই ঘটনায় বুধবার বেলা ১০টার দিকে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বিএনপি নেতা সাদিকুর রহমান লিংকনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া এবং পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপর্দ করলে বিচারকের কারাগারে প্রেরণ আদেশ উত্তেজনার পারদ আরও উর্ধ্বমুখী করে তোলে। বিশেষ করে বরিশাল আদালত চত্ত্বরে ক্ষোভে ফেটে পড়তে দেখা যায় বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের। কিন্তু তাদের কোনো লাভ হয়নি, বরং বারের সভাপতিকে শেষ পর্যন্ত কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের এজলাস কক্ষের একটি হট্টগোলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারকের উপস্থিতিতে এজলাস কক্ষের এই ধরনের বিশৃঙ্খল ভিডিও নিয়ে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালত থেকে সপ্তাহখানেকের ব্যবধানে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের অন্তত অর্ধডজন শীর্ষস্থানীয় নেতাদের জামিন অযোগ্য মামলায় জামিন দেওয়া হয়। গত সোমবার একই আদালত থেকে একটি আলোচিত মামলায় জামিনে মুক্তি বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও দুইবারের সাবেক এমপি তালুকদার মো. ইউনুস। শীর্ষস্থানীয় নেতা ইউনুস জামিনে মুক্তি প্রাপ্তির পরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা।
এর প্রতিবাদে তারা মঙ্গলবার আদালত বর্জন করেন এবং বরিশালে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের এজলাস কক্ষে প্রবেশ করে হট্টগোল শুরু করে দেন। মূলত সেই ঘটনায় আদালতের সিসি ক্যামেরায় ধারণ হওয়া ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল হলে বিষয়টি নিয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। অবশ্য এই ভিডিওর সাথে নেতিবাচক শিরোনামজুড়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ফেসবুক থেকেও প্রচার করা হয়। এবং সেই ভিডিওর নিচে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের নেতিবাচক কমেন্টও লক্ষ্য করা যায়।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার এজলাস কক্ষের সেই ঘটনাকে কেন্দ্র বুধবার সকাল থেকেই আদালত চত্ত্বরে অবস্থান নেয় পুলিশসংখ্যক পুলিশ। পাশাপাশি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়। বেলা ১০টার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি টিম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনকে আইনজীবী কক্ষ থেকে আটক করে এবং সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট আদালতে উপস্থাপন করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বাবের সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনকে কারাগারে পাঠানোর খবর সংক্ষুব্ধ করে তোলে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের। এই ঘটনায় বুধবার সকাল থেকেই তারা আদালত বর্জন করাসহ অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারকের অপসারণ দাবি করেন। পাশাপাশি সভাপতির মুক্তির দাবিতে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের মুল ফটকে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকেন। তখন সাদিকুর রহমান লিংকন আদালত ভবনের নিতে পুলিশ হেফাজতে ছিলেন।
নেতাকে মুক্ত করতে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের বিক্ষোভে আদালত চত্ত্বরের পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সেনাবাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য সেখানে অবস্থান নেন। এবং পরিবেশ-পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে কাজ করেন।
বলা যায়, সেনা বাহিনী-পুলিশ এবং র্যাব আদালত কম্পাউন্ডে এক ধরনের বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে। কিন্তু বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের বিক্ষোভ প্রতিবাদের কারণে সাদিকুর রহমানকে কিছুতেই আদালতের হাজতখানা থেকে বাহির করা যাচ্ছিল না।
ফলে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেও আদালতে এই ঘটনায় উত্তেজনা বিরাজ করে এবং সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। তবে সবশেষ বিকেল ৫টার দিকে আদালত প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কৌশলী পদক্ষেপ রাখায় বিএনপি নেতাকে কারাগারে যাওয়া থেকে আর রক্ষা করা যায়নি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আদালতের একাধিক সূত্র রূপালী বাংলাদেশকে নিশ্চিত করে, আদালতের এজলাসে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় বুধবার দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা হয়।
অবশ্য এই মামলা গ্রহণের আগেই পুলিশ তাকে আদালত চত্ত্বর থেকে গ্রেপ্তার করে হেফাজতে নেয়, এমনকি কিছুক্ষণের মধ্যে আদালতেও তোলে।
পরে তাকে দ্রুত বিচার আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলে বিকেলে তার জামিন আবেদন করে বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা। কিন্তু বিচারক সেই জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন এবং আগামী ২ মার্চ এই মামলার শুনানির দিনক্ষণ ধার্য রাখেন। আদালত থেকে সবশেষ এই সিদ্ধান্ত আসার পরে সেনাবাহিনী- পুলিশ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সম্মুখ কর্ডন করে আসামী বহনকারী প্রিজনভ্যানে করে সাদিকুর রহমান লিংকনকে কারাগারের অভিমুখে নিয়ে যায়।
সভাপতিকে কারাগারে পাঠানোর এই ঘটনায় বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা বৃহস্পতিবারও আদালত বর্জনের ঘোষণা দেন। এবং সেখান থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণার আগাম বার্তা সাংবাদিকদের দিয়ে রেখেছেন।
বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান, আদালতের নির্দেশে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি লিংকনসহ নামধারী ১২জনকে অভিযুক্ত করে মামলা গ্রহণ করা হয়।
এই মামলায় আরও চারজন অজ্ঞাত আসামি আছেন। বুধবার সভাপতিকে আটকের পরে আদালতে সোপর্দ করলে তাকে বিচারক কারাগারে প্রেরণ আদেশ দেন। বিকেলে তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
এর আগে তার মুক্তির দাবিতে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা বিক্ষোভ করেন। এই গোটা ঘটনায় আদালত প্রশাসন কোনো রূপ মন্তব্য না করলেও বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের দাবি, বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারক শরীয়তউল্লাহ স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের দোষর। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বরিশাল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য তালুকদার মো. ইউনুসকে জামিন দিয়ে তার প্রমাণ দিয়েছেন।
এর আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশাল ৫ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের তিন নেতা জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। জামিনপ্রাপ্ত অন্য দুজন হচ্ছেন, বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন এবং বরিশাল মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান।
আওয়ামী লীগ নেতাদের জামিনের ধারাবাহিকতা বহাল থাকা এবং তাদের নেতাকে মামলায় কারাগারে পাঠানো নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন বিএনপিপন্থী আইনজীবী এইচএম আনিসুর রহমান।
তিনি জানান, বিচারক স্বৈরাচারের পক্ষ নিয়ে বরিশাল আদালতে একটি কালো অধ্যয় তৈরি তৈরি করলেন, যা খুব খারাপ একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এই ঘটনায় পরবর্তী পদক্ষেপ বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা কি রাখবেন তা দেখতে অপেক্ষা করতে হবে, মন্তব্য করেন তিনি।

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৮:৫৯
বরিশালের বানারীপাড়ায় কৃতকর্মের জন্য দুঃসংবাদ পেলেন দুই বিএনপি নেতা। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দলের নীতি আদর্শ সংহতি পরিপন্থী নানা আচরণের কারনে উপজেলার ইলুহার ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ মেহেদী হাসান মিরাজকে বহিস্কার ও সহসভাপতি শাহাদাত হোসেন মেননের পদ স্থগিত করা হয়েছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারী) বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ শাহ্ আলম মিঞা ও সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ মৃধা স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি পত্রে মেহেদী হাসান মিরাজকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ বিএনপির সকল পদ থেকে বহিস্কার ও শাহাদাত হোসেন মেননের প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সকল পদ স্থগিত করা হয়।
এছাড়াও বহিস্কারাদেশ পত্রে বহিস্কৃত মিরাজের কোন অপকর্মের দায়ভার বিএনপি নেবে না এবং দলের নেতা-কর্মীদের তার সঙ্গে কোন সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এদিকে দুই বিএনপি নেতার বহিস্কার ও স্থগিতাদেশের এ পৃথক দুটি পত্র বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
বরিশালের বানারীপাড়ায় কৃতকর্মের জন্য দুঃসংবাদ পেলেন দুই বিএনপি নেতা। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দলের নীতি আদর্শ সংহতি পরিপন্থী নানা আচরণের কারনে উপজেলার ইলুহার ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ মেহেদী হাসান মিরাজকে বহিস্কার ও সহসভাপতি শাহাদাত হোসেন মেননের পদ স্থগিত করা হয়েছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারী) বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ শাহ্ আলম মিঞা ও সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ মৃধা স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি পত্রে মেহেদী হাসান মিরাজকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ বিএনপির সকল পদ থেকে বহিস্কার ও শাহাদাত হোসেন মেননের প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সকল পদ স্থগিত করা হয়।
এছাড়াও বহিস্কারাদেশ পত্রে বহিস্কৃত মিরাজের কোন অপকর্মের দায়ভার বিএনপি নেবে না এবং দলের নেতা-কর্মীদের তার সঙ্গে কোন সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এদিকে দুই বিএনপি নেতার বহিস্কার ও স্থগিতাদেশের এ পৃথক দুটি পত্র বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.