পটুয়াখালীর বাউফলে চর কচুয়ার চরের জমি নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে বিরোধে প্রায় ২শ একর জমির তরমুজ চাষাবাদ বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছেন চাষীরা। বাঁধামুখে খেতে সার কীটনাশক ও পরিচর্যা করতে না পারায় প্রায় ৪ কোটি টাকার ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। এমন ঘটনা ঘটেছে উপজেলার চর কুচয়ার চরে।
বিরোধ নিষ্পত্তি ও চাষাবাদ চলমান রাখার দাবি নিয়ে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো সুফল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী চাষিরা।
বন্দোবস্ত জমির মালিকদের ভাষ্যমতে, উপজেলার চরকচুয়া মৌজায় সরকার ১৯৭৩ ও ১৯৯৪ সালে পর্যায়ক্রমে ২০৮জন কৃষককে প্রায় ৪০৮ একর জমি বন্দোবস্ত দেয়। এ জমির অধিকাংশই তেঁতুলিয়া নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। তবে ৪০৮ একর জমির অধিকাংশই তেঁতুলিয়া নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ২১৩ একর জমি চাষাবাদ যোগ্য। বন্দোবস্ত গৃহিতারা নিয়মিত খাজনা দিয়ে চাষাবাদ করে আসছে। চলতি মৌসুমে ওই জমিতে তরমুজ আবাদ করেছেন চাষীরা। তিন মাস আগে সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত সহকারি কমিশনার (ভূমি) আমিনুল ইসলাম বন্দোবস্ত দেওয়া জমির ১২০ একর জমি নামেবেনামে একটি প্রভাবশালী মহলকে এক বছর মেয়াদে চাষাবাদের (লিজ) অনুমতি দেয়। এনিয়ে দেখা দেয় বিরোধ। বন্দোবস্ত গৃহিতারা জমিতে তরমুজ আবাদ করেছেন। এক বছরের অনুমতি নেওয়া পক্ষের লোকজন ওই জমিতে চাষাবাদ বাধা দিচ্ছেন। বিষয়টি সুষ্ঠু সমাধানের জন্য জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ইউএনও ও থানার ওসির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বন্দোবস্ত গৃহিতারা। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি। এতে বিপাকে পড়েছেন চাষীরা।
শুক্রবার সরেজমিনে কচুয়া চরে গিয়ে দেখা যায়, তেতঁতুলিয়া নদীর মাঝে চর কচুয়ার চারপাশে অস্থায়ী বেড়িবাধ দিয়ে তরমুজের প্রজেক্ট করা হয়েছে। খেতে খেতে তরমুজের চারা রোপন করা। তবে নিয়মিত সার, কীটনাশক ও পরিচর্যা করতে পারছেন কৃষকরা। খেতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকার প্রজেক্ট।
ভোলার চরফ্যাশনের তরমুজ চাষী মো. ফোরকান (৪৫) বলেন, প্রতিবছর আমরা বাউফলের বিভিন্ন চরে জমি লিজ নিয়ে তরমুজ আবাদ করি। এবছর চর কচুয়ায় বন্দোবস্ত জমির মালিকদের কাছ থেকে ২শ একর জমি লিজ নিয়ে তরমুজ চাষ করেছি। তরমুজ চারাও বড় হয়ে গেছে। এখন কয়েকদিন ধরে একটি পক্ষ এসে জমির মালিক দাবি করে আমাদের কাছে টাকা দাবি করছেন। টাকা না দেওয়ায় তারা চাষাবাদ বন্ধ করে দিয়েছেন। জমিতে কাজ করলে আমাদের ওপর তারা দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে হামলা করে ভয়ভীতি দেখান। এতে আমরা অনেক বিপদের মধ্যে পড়েছি। ঠিকমত জমিতে সার ওষুধ না দিতে পারলে আমাদের ৪ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হবে।
বাউফলের চন্দদ্বীপ ইউনিয়নের জামাল মাঝি বলেন (৪৮) বলেন, যারা বিগত দিনে জমি ভোগদখল করে আসছে। তাদের কাছ থেকে একসোনা জমি লিজ নিয়েছি। লিজ নিয়ে তরমুজ চাষ করি। তখন কেউ বাধা দেয়নি। এখন যখন তরমুজ গাছ বড় হয়েছে তখন নাজিরপুর ইউনিয়নের নরুল ইসলাম, অলি, আনসার মেম্বার সহ একটি পক্ষ এসে জমির মালিক দাবি করেন। ইউএনও নাকি তাদের ডিসিআর দিয়েছেন। তারা মোটা অংকের টাকা দাবি করছেন। টাকা না দেওয়ায় চাষাবাদ বন্ধ করে দিয়েছে।
এ চাষী আরও বলেন, এক পক্ষের কাছ থেকে জমি লিজ নিয়েছি। তাদের টাকাও দিয়েছে।আরেক পক্ষকে তো টাকা দেওয়া সম্ভব না। দুই পক্ষ বসে সমাধান করুক। কিন্তু আমাদের চাষাবাদ বন্ধ করার কোনো মানে নেই। এভাবে চলতে থাকলে আমরা শেষ হয়ে যাব। মরা ছাড়া উপায় থাকবে না।
নাজিরপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মজিবর রহমান মোল্লা জানান, সরকার আমাদের ২০৮জন কৃষকদের জমি বন্দোবস্ত দলিল দেয়। এই জমির অধিকাংশই নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ২০০ একর জমি চাষাবাদের যোগ্য। সেই জমিতে আমরা বছরের পর বছর ধরে চাষাবাদ করে আসছি। সাবেক ইউএনও আমিনুল ইসলাম অবৈধ সুবিধা নিয়ে একটি প্রভাবশালী মহলকে সম্পূর্ণ বেআইনী ভাবে এক বছর মেয়াদে লিজ দেন। ওই প্রভাবশালী মহল নামে বেনামে অবৈধভাবে লিজ নিয়ে আমাদের হয়রানি করছে আসছে। জমিতে চাষাবাদে বাধা দিচ্ছে। মারধর ও প্রাণনাশেরও হুমকি দিয়ে আসছে। চাষাবাদ চলমান রাখতে ও অবৈধ লিজ বাতিলের দাবি করে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। তবে তারা এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
এক বছর মেয়াদে চাষাবাদের অনুমতি নেওয়া ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে নুরুল ইসলাম বলেন, আমরা কাউকে ভয়ভীতি দেখায়নি। এসিল্যান্ড আমাদের ২৪ জনকে ১২০ একর জমি চাষাবাদের অনুমতি দিয়েছেন, সেই মর্মে আমরা ভোগদখল করতে চাই। কিন্তু তারা আমাদের দখল বুঝিয়ে দিচ্ছেন না।
তবে এবিষয়ে সাবেক ইউএনও ও ভারপ্রাপ্ত এসিল্যান্ড আমিনুল ইসলামের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে তাকে বাউফল থেকে বদলি করা হয়েছিল।
এবিষয়ে জানতে চাইলে সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. সোহাগ মিলু বলেন, আগের সহকারি কমিশনার জমির লিজ দিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিষয়ে আমরা প্রতিবেদন চেয়েছেন। আমি প্রতিবেদন জমা দিয়েছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি করা হবে।’

২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৫:১৫
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রের সৈকত হোটেলের সামনে তাঁকে পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের–ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহত ব্যক্তির নাম কে এম বাচ্চু। তিনি একটি জাতীয় দৈনিকের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ও কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট বোট মালিক সমিতির সভাপতি।
পৌর যুবদলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক বায়জিদ, ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি শহিদ সিকদার, স্থানীয় হারুন মুসল্লিসহ আরও কয়েকজন এ হামলায় অংশ নেন বলে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন কেএম বাচ্চুর ছোট ভাই সোহাগ খলিফা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বায়জিদসহ অভিযুক্ত কয়েকজনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে বন্ধ পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে সৈকত হোটেলের সামনে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছিলেন কে এম বাচ্চু। এ সময় বায়জিদ সেখানে এসে তাঁর প্রকাশিত একটি সংবাদ নিয়ে তর্কে জড়ান। একপর্যায়ে বায়জিদের সঙ্গে থাকা কয়েকজন লাঠি ও হাতুড়ি দিয়ে বাচ্চুর ওপর হামলা চালান। এতে তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। হামলাকারীরা বাচ্চুকে আহত অবস্থায় ফেলে চলে গেলে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা আবদুল বাতেন বলেন, কে এম বাচ্চুর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন আছে।
ঘটনার সঙ্গে ছাত্রদলের কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক জোবায়ের আহমেদ। একই কথা বলেছেন কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফারুকও।
মহিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার বরিশালটাইমসকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রের সৈকত হোটেলের সামনে তাঁকে পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের–ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহত ব্যক্তির নাম কে এম বাচ্চু। তিনি একটি জাতীয় দৈনিকের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ও কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট বোট মালিক সমিতির সভাপতি।
পৌর যুবদলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক বায়জিদ, ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি শহিদ সিকদার, স্থানীয় হারুন মুসল্লিসহ আরও কয়েকজন এ হামলায় অংশ নেন বলে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন কেএম বাচ্চুর ছোট ভাই সোহাগ খলিফা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বায়জিদসহ অভিযুক্ত কয়েকজনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে বন্ধ পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে সৈকত হোটেলের সামনে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছিলেন কে এম বাচ্চু। এ সময় বায়জিদ সেখানে এসে তাঁর প্রকাশিত একটি সংবাদ নিয়ে তর্কে জড়ান। একপর্যায়ে বায়জিদের সঙ্গে থাকা কয়েকজন লাঠি ও হাতুড়ি দিয়ে বাচ্চুর ওপর হামলা চালান। এতে তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। হামলাকারীরা বাচ্চুকে আহত অবস্থায় ফেলে চলে গেলে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা আবদুল বাতেন বলেন, কে এম বাচ্চুর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন আছে।
ঘটনার সঙ্গে ছাত্রদলের কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক জোবায়ের আহমেদ। একই কথা বলেছেন কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফারুকও।
মহিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার বরিশালটাইমসকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
২৪ জুলাই, ২০২৬ ১৪:২১
পটুয়াখালীর মহিপুরে ছোয়ামনি (১১) নামের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে নূর মোহাম্মদ হাওলাদার (৬৫) নামে এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২২ জুলাই) ভুক্তভোগী শিশুর মা খাদিজা বেগম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে মহিপুর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুলাই দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে মহিপুর থানার ধুলাসার ইউনিয়নের পূর্ব নতুনপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে ছোট ভাইকে নিয়ে অবস্থান করছিল ওই শিশু। এ সময় তার মা জরুরি কাজে এবং বাবা জীবিকার প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে ছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, এই সুযোগে একই এলাকার বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ হাওলাদার শিশুটির বসতঘরে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় লোকজন চলে আসতে দেখে অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর সামাজিক লজ্জা ও স্থানীয়ভাবে সমাধানের আশায় তারা তাৎক্ষণিকভাবে থানায় অভিযোগ করেননি। দীর্ঘদিন স্থানীয়ভাবে সুবিচার পাওয়ার চেষ্টা করেও কোনো ফল না পাওয়ায় বুধবার (২২ জুলাই) শিশুটির মা মহিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই মহিপুর থানা পুলিশ মামলা রুজু করে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পটুয়াখালীর মহিপুরে ছোয়ামনি (১১) নামের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে নূর মোহাম্মদ হাওলাদার (৬৫) নামে এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২২ জুলাই) ভুক্তভোগী শিশুর মা খাদিজা বেগম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে মহিপুর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুলাই দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে মহিপুর থানার ধুলাসার ইউনিয়নের পূর্ব নতুনপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে ছোট ভাইকে নিয়ে অবস্থান করছিল ওই শিশু। এ সময় তার মা জরুরি কাজে এবং বাবা জীবিকার প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে ছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, এই সুযোগে একই এলাকার বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ হাওলাদার শিশুটির বসতঘরে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় লোকজন চলে আসতে দেখে অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর সামাজিক লজ্জা ও স্থানীয়ভাবে সমাধানের আশায় তারা তাৎক্ষণিকভাবে থানায় অভিযোগ করেননি। দীর্ঘদিন স্থানীয়ভাবে সুবিচার পাওয়ার চেষ্টা করেও কোনো ফল না পাওয়ায় বুধবার (২২ জুলাই) শিশুটির মা মহিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই মহিপুর থানা পুলিশ মামলা রুজু করে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

২৪ জুলাই, ২০২৬ ১৪:১৬
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৪০০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ। চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়া এ সড়কে স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে নিজ উদ্যোগে অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণ করেছেন। সেই সাঁকোই এখন এলাকাবাসীর একমাত্র ভরসা।
মুরাদিয়া মহিলা ফাজিল মাদ্রাসা থেকে সালামপুর আমনিয়া কামিল মাদ্রাসা পর্যন্ত সংযোগকারী সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অসংখ্য শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। বর্ষা মৌসুমে কাদাপানি ও জলাবদ্ধতার কারণে নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সড়কটি দিয়ে মুরাদিয়া মহিলা ফাজিল মাদ্রাসা, সালামপুর আমনিয়া কামিল মাদ্রাসা, একটি নূরানি মাদ্রাসা ও একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা নিয়মিত চলাচল করে। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে তাদের।
মুরাদিয়া মহিলা ফাজিল মাদ্রাসার প্রধান কেরানি মাওলানা মহিবুল্লাহ সবুজ বলেন, “এটি আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় মানুষের প্রধান চলাচলের পথ। দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকায় শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।”
লেবুখালী মাদ্রাসার সুপার মাওলানা ফরিদ উদ্দিন উজ্জ্বল বলেন, “প্রতিদিন অসংখ্য শিক্ষার্থী এই রাস্তা ব্যবহার করে। বর্ষাকালে তাদের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া উচিত।”
সমাজসেবক রেজাউল করিম বাবুল মৃধা বলেন, “এটি কোনো ব্যক্তিগত রাস্তা নয়; জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।”
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী জাকির হোসেন খান বলেন, “দৈনন্দিন চলাচলে এ রাস্তার দুরবস্থা এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত সংস্কার না হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।”
বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত ইমদাদুল মৃধা বলেন, “জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের এমন অবস্থা কোনোভাবেই কাম্য নয়। মানুষের নিরাপদ চলাচলের স্বার্থে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।”
এ বিষয়ে মুরাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “রাস্তাটির বিষয়ে আমি অবগত আছি। এটি গ্রামীণ অবকাঠামো খাতের আওতাভুক্ত। সেখানে প্রায় ৮০০ ফুট রাস্তা বেহাল অবস্থায় রয়েছে। আগামী জুন মাসে বাজেট এলে কোনো একটি প্রকল্পের মাধ্যমে সড়কটি সংস্কারের চেষ্টা করা হবে।”
এদিকে দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৪০০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ। চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়া এ সড়কে স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে নিজ উদ্যোগে অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণ করেছেন। সেই সাঁকোই এখন এলাকাবাসীর একমাত্র ভরসা।
মুরাদিয়া মহিলা ফাজিল মাদ্রাসা থেকে সালামপুর আমনিয়া কামিল মাদ্রাসা পর্যন্ত সংযোগকারী সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অসংখ্য শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। বর্ষা মৌসুমে কাদাপানি ও জলাবদ্ধতার কারণে নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সড়কটি দিয়ে মুরাদিয়া মহিলা ফাজিল মাদ্রাসা, সালামপুর আমনিয়া কামিল মাদ্রাসা, একটি নূরানি মাদ্রাসা ও একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা নিয়মিত চলাচল করে। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে তাদের।
মুরাদিয়া মহিলা ফাজিল মাদ্রাসার প্রধান কেরানি মাওলানা মহিবুল্লাহ সবুজ বলেন, “এটি আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় মানুষের প্রধান চলাচলের পথ। দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকায় শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।”
লেবুখালী মাদ্রাসার সুপার মাওলানা ফরিদ উদ্দিন উজ্জ্বল বলেন, “প্রতিদিন অসংখ্য শিক্ষার্থী এই রাস্তা ব্যবহার করে। বর্ষাকালে তাদের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া উচিত।”
সমাজসেবক রেজাউল করিম বাবুল মৃধা বলেন, “এটি কোনো ব্যক্তিগত রাস্তা নয়; জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।”
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী জাকির হোসেন খান বলেন, “দৈনন্দিন চলাচলে এ রাস্তার দুরবস্থা এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত সংস্কার না হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।”
বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত ইমদাদুল মৃধা বলেন, “জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের এমন অবস্থা কোনোভাবেই কাম্য নয়। মানুষের নিরাপদ চলাচলের স্বার্থে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।”
এ বিষয়ে মুরাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “রাস্তাটির বিষয়ে আমি অবগত আছি। এটি গ্রামীণ অবকাঠামো খাতের আওতাভুক্ত। সেখানে প্রায় ৮০০ ফুট রাস্তা বেহাল অবস্থায় রয়েছে। আগামী জুন মাসে বাজেট এলে কোনো একটি প্রকল্পের মাধ্যমে সড়কটি সংস্কারের চেষ্টা করা হবে।”
এদিকে দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

০৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৮:১৫
পটুয়াখালীর বাউফলে চর কচুয়ার চরের জমি নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে বিরোধে প্রায় ২শ একর জমির তরমুজ চাষাবাদ বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছেন চাষীরা। বাঁধামুখে খেতে সার কীটনাশক ও পরিচর্যা করতে না পারায় প্রায় ৪ কোটি টাকার ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। এমন ঘটনা ঘটেছে উপজেলার চর কুচয়ার চরে।
বিরোধ নিষ্পত্তি ও চাষাবাদ চলমান রাখার দাবি নিয়ে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো সুফল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী চাষিরা।
বন্দোবস্ত জমির মালিকদের ভাষ্যমতে, উপজেলার চরকচুয়া মৌজায় সরকার ১৯৭৩ ও ১৯৯৪ সালে পর্যায়ক্রমে ২০৮জন কৃষককে প্রায় ৪০৮ একর জমি বন্দোবস্ত দেয়। এ জমির অধিকাংশই তেঁতুলিয়া নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। তবে ৪০৮ একর জমির অধিকাংশই তেঁতুলিয়া নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ২১৩ একর জমি চাষাবাদ যোগ্য। বন্দোবস্ত গৃহিতারা নিয়মিত খাজনা দিয়ে চাষাবাদ করে আসছে। চলতি মৌসুমে ওই জমিতে তরমুজ আবাদ করেছেন চাষীরা। তিন মাস আগে সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত সহকারি কমিশনার (ভূমি) আমিনুল ইসলাম বন্দোবস্ত দেওয়া জমির ১২০ একর জমি নামেবেনামে একটি প্রভাবশালী মহলকে এক বছর মেয়াদে চাষাবাদের (লিজ) অনুমতি দেয়। এনিয়ে দেখা দেয় বিরোধ। বন্দোবস্ত গৃহিতারা জমিতে তরমুজ আবাদ করেছেন। এক বছরের অনুমতি নেওয়া পক্ষের লোকজন ওই জমিতে চাষাবাদ বাধা দিচ্ছেন। বিষয়টি সুষ্ঠু সমাধানের জন্য জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ইউএনও ও থানার ওসির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বন্দোবস্ত গৃহিতারা। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি। এতে বিপাকে পড়েছেন চাষীরা।
শুক্রবার সরেজমিনে কচুয়া চরে গিয়ে দেখা যায়, তেতঁতুলিয়া নদীর মাঝে চর কচুয়ার চারপাশে অস্থায়ী বেড়িবাধ দিয়ে তরমুজের প্রজেক্ট করা হয়েছে। খেতে খেতে তরমুজের চারা রোপন করা। তবে নিয়মিত সার, কীটনাশক ও পরিচর্যা করতে পারছেন কৃষকরা। খেতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকার প্রজেক্ট।
ভোলার চরফ্যাশনের তরমুজ চাষী মো. ফোরকান (৪৫) বলেন, প্রতিবছর আমরা বাউফলের বিভিন্ন চরে জমি লিজ নিয়ে তরমুজ আবাদ করি। এবছর চর কচুয়ায় বন্দোবস্ত জমির মালিকদের কাছ থেকে ২শ একর জমি লিজ নিয়ে তরমুজ চাষ করেছি। তরমুজ চারাও বড় হয়ে গেছে। এখন কয়েকদিন ধরে একটি পক্ষ এসে জমির মালিক দাবি করে আমাদের কাছে টাকা দাবি করছেন। টাকা না দেওয়ায় তারা চাষাবাদ বন্ধ করে দিয়েছেন। জমিতে কাজ করলে আমাদের ওপর তারা দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে হামলা করে ভয়ভীতি দেখান। এতে আমরা অনেক বিপদের মধ্যে পড়েছি। ঠিকমত জমিতে সার ওষুধ না দিতে পারলে আমাদের ৪ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হবে।
বাউফলের চন্দদ্বীপ ইউনিয়নের জামাল মাঝি বলেন (৪৮) বলেন, যারা বিগত দিনে জমি ভোগদখল করে আসছে। তাদের কাছ থেকে একসোনা জমি লিজ নিয়েছি। লিজ নিয়ে তরমুজ চাষ করি। তখন কেউ বাধা দেয়নি। এখন যখন তরমুজ গাছ বড় হয়েছে তখন নাজিরপুর ইউনিয়নের নরুল ইসলাম, অলি, আনসার মেম্বার সহ একটি পক্ষ এসে জমির মালিক দাবি করেন। ইউএনও নাকি তাদের ডিসিআর দিয়েছেন। তারা মোটা অংকের টাকা দাবি করছেন। টাকা না দেওয়ায় চাষাবাদ বন্ধ করে দিয়েছে।
এ চাষী আরও বলেন, এক পক্ষের কাছ থেকে জমি লিজ নিয়েছি। তাদের টাকাও দিয়েছে।আরেক পক্ষকে তো টাকা দেওয়া সম্ভব না। দুই পক্ষ বসে সমাধান করুক। কিন্তু আমাদের চাষাবাদ বন্ধ করার কোনো মানে নেই। এভাবে চলতে থাকলে আমরা শেষ হয়ে যাব। মরা ছাড়া উপায় থাকবে না।
নাজিরপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মজিবর রহমান মোল্লা জানান, সরকার আমাদের ২০৮জন কৃষকদের জমি বন্দোবস্ত দলিল দেয়। এই জমির অধিকাংশই নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ২০০ একর জমি চাষাবাদের যোগ্য। সেই জমিতে আমরা বছরের পর বছর ধরে চাষাবাদ করে আসছি। সাবেক ইউএনও আমিনুল ইসলাম অবৈধ সুবিধা নিয়ে একটি প্রভাবশালী মহলকে সম্পূর্ণ বেআইনী ভাবে এক বছর মেয়াদে লিজ দেন। ওই প্রভাবশালী মহল নামে বেনামে অবৈধভাবে লিজ নিয়ে আমাদের হয়রানি করছে আসছে। জমিতে চাষাবাদে বাধা দিচ্ছে। মারধর ও প্রাণনাশেরও হুমকি দিয়ে আসছে। চাষাবাদ চলমান রাখতে ও অবৈধ লিজ বাতিলের দাবি করে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। তবে তারা এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
এক বছর মেয়াদে চাষাবাদের অনুমতি নেওয়া ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে নুরুল ইসলাম বলেন, আমরা কাউকে ভয়ভীতি দেখায়নি। এসিল্যান্ড আমাদের ২৪ জনকে ১২০ একর জমি চাষাবাদের অনুমতি দিয়েছেন, সেই মর্মে আমরা ভোগদখল করতে চাই। কিন্তু তারা আমাদের দখল বুঝিয়ে দিচ্ছেন না।
তবে এবিষয়ে সাবেক ইউএনও ও ভারপ্রাপ্ত এসিল্যান্ড আমিনুল ইসলামের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে তাকে বাউফল থেকে বদলি করা হয়েছিল।
এবিষয়ে জানতে চাইলে সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. সোহাগ মিলু বলেন, আগের সহকারি কমিশনার জমির লিজ দিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিষয়ে আমরা প্রতিবেদন চেয়েছেন। আমি প্রতিবেদন জমা দিয়েছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি করা হবে।’