বরিশাল শহরের কাউনিয়ায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিপা রানী ও তার স্বজনদের পিটিয়ে এবং কুপিয়ে জখমের মামলায় অভিযুক্তদের এক সপ্তাহেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। গত ১৪ জুন মেট্রোপলিটন কাউনিয়া থানাধীন ২ নং ওয়ার্ডের নাপিতবাড়ি কলোনিসংলগ্ন নিপা রানীসহ তার স্বজনদের কুপিয়ে জখম করে একই এলাকার সাব্বির (৩৫) এবং দোলনসহ কজন যুবক, যারা বিগতদিনে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত ছিল। সেই ঘটনার দুদিনের মাথায় অর্থাৎ ১৬ জুন কাউনিয়া থানা পুলিশ ৩২৬সহ বিভিন্ন ধারায় একটি মামলা গ্রহণ করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের ভূমিকা রাখার আশ্বাস দেয়। কিন্তু এরপরে সাতদিন কেটে গেলেও পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে সফলতা পায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত দোলন কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা অসীম দেওয়ানের অনুসারী এবং সাব্বির বিএম কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মঈন তুষারের ক্যাডার হিসেবে সমাধিক পরিচিত। ৫ আগস্টের আগে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলা করার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। সর্বশেষ তারা দুজন এলাকায় নিপা রানীর পরিবারের ওপর হামলায় করায় এলাকাবাসীও তাদের ওপর ক্ষুব্ধ।
এই মামলার বাদী নিপা রানীর অভিযোগ, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র স্থানীয় সাব্বির, দোলন এবং সুজিতসহ ৪/৫ জনে মিলে তাদের ওপর হামলা করে। তখন হামলাকারীদের প্রতিরোধে প্রসেনজিৎ সোম, মালা রানী সিংহ এবং সমন্বয় এগিয়ে গেলে তাদের লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করে। এবং একপর্যায়ে তাদের সাথে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে প্রসেনজিৎ এবং মালাকে জখম করে। তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে কাউনিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও এই ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এমনকি মামলা করার পরে সপ্তাহখানেক সময় অতিবাহিত হলেও তাদের আইনে আওতায় আনতে পারেনি পুলিশ।
বাদীর অভিযোগ, হামলাকারী সাব্বির, দোলন এবং সুজিত দাস (৩৫) এলাকায় ঘুরছেন। এবং প্রতিনিয়ত মামলা তুলে নিতে তাদের হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। বিষয়টি কাউনিয়া থানা পুলিশকে একাধিকবার অবহিত করেও সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয় একাধিক সূত্রও হামলাকারীদের এলাকায় অবস্থান এবং ঘোরাঘুরির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
আহত মালা রানীর অভিযোগ, তার স্বামী সঞ্জিবকে একাধিকবার ফোন করে হুমকি দিয়েছে অভিযুক্ত দোলন। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কোতয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
পুলিশের নির্লুপ্তায় ক্ষুব্ধ বাদী অভিযোগ করেন, আসামিরা কখন কোথায় অবস্থান করছেন, তা নিশ্চিতভাবে জানানোর পরেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। যার দরুণ অভিযুক্তরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এবং হুমকি-ধামকি দেওয়ার সাহস দেখাচ্ছে।
তবে মামলাটি তদন্তকারী কাউনিয়া থানা পুলিশের এসআই শহিদুল ইসলাম দাবি করেছেন, ঘটনার পর থেকেই হামলাকারীরা আত্মগোপনে আছেন। তাদের ধরতে তদন্তকারী কর্মকর্তা একাধিক স্থানে একাধিকবার অভিযান চালিয়েছেন। কিন্তু বাগে আনা যাচ্ছে না।’

০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:৫৫
বরিশালের গৌরনদীতে ঋণের চাপে পুলিন তালুকদার (৪৫) নামে এক চা দোকানির মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে উপজেলার ইছাকুড়ি-বাকাই এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিন তালুকদার ইছাকুড়ি-বাকাই এলাকার মৃত উপেন্দ্রনাথ তালুকদারের ছেলে। মৃত্যুর আগে তিনি তিন কন্যাসন্তান রেখে গেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জীবিকার সন্ধানে প্রায় আট বছর মরিশাসে ছিলেন পুলিন। বছরখানেক আগে দেশে ফিরে বাড়ির অদূরে একটি চায়ের দোকান চালু করেন। ওই দোকানের আয় দিয়েই চলছিল তার সংসার।
স্বজনদের ভাষ্য, মরিশাসে থাকাকালে বিভিন্ন এনজিও ও স্থানীয় ব্যক্তির কাছ থেকে ঋণ নেন পুলিন। দেশে ফেরার পর সেই ঋণের বোঝা আরও চাপে পরিণত হয়। সম্প্রতি স্থানীয় পাওনাদার ও এনজিওর কিস্তির টাকা পরিশোধের জন্য তার ওপর চাপ বাড়ছিল।
বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির পাশের একটি বাগানে পুলিনকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। পরে চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।
বরিশালের গৌরনদীতে ঋণের চাপে পুলিন তালুকদার (৪৫) নামে এক চা দোকানির মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে উপজেলার ইছাকুড়ি-বাকাই এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিন তালুকদার ইছাকুড়ি-বাকাই এলাকার মৃত উপেন্দ্রনাথ তালুকদারের ছেলে। মৃত্যুর আগে তিনি তিন কন্যাসন্তান রেখে গেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জীবিকার সন্ধানে প্রায় আট বছর মরিশাসে ছিলেন পুলিন। বছরখানেক আগে দেশে ফিরে বাড়ির অদূরে একটি চায়ের দোকান চালু করেন। ওই দোকানের আয় দিয়েই চলছিল তার সংসার।
স্বজনদের ভাষ্য, মরিশাসে থাকাকালে বিভিন্ন এনজিও ও স্থানীয় ব্যক্তির কাছ থেকে ঋণ নেন পুলিন। দেশে ফেরার পর সেই ঋণের বোঝা আরও চাপে পরিণত হয়। সম্প্রতি স্থানীয় পাওনাদার ও এনজিওর কিস্তির টাকা পরিশোধের জন্য তার ওপর চাপ বাড়ছিল।
বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির পাশের একটি বাগানে পুলিনকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। পরে চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।

০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:২৩
দক্ষিণাঞ্চলের বৃহৎ চিকিৎসাকেন্দ্র বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতাল। প্রতিদিন এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। ভর্তি রোগী থেকে শুরু করে বহির্বিভাগের রোগী—সব মিলিয়ে দৈনিক প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের চিকিৎসাসেবা দিতে হয় হাসপাতালটিকে। অথচ এসব রোগীকে এক স্থান থেকে অন্যত্র নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ট্রলির সংখ্যাই প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
হাসপাতালে ট্রলি আছে ১৩টি। তবে সবগুলো একসঙ্গে ব্যবহার করা যায় না। প্রতিদিন গড়ে ৯ থেকে ১০টি ট্রলি সচল থাকে। কোনো ট্রলি নষ্ট হলে সেটি মেরামতের জন্য সরিয়ে রাখতে হয়। এতে একসঙ্গে রোগী পরিবহনের সক্ষমতা আরও কমে যায়।
এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে জরুরি ও সংকটাপন্ন রোগীদের ক্ষেত্রে। বিশেষ করে জরুরি বিভাগে একসঙ্গে একাধিক রোগী এলে ট্রলির জন্য অপেক্ষার পরিস্থিতি তৈরি হয়। কোথাও কোথাও স্বজনদের নিজেরাই ট্রলি ঠেলতে হচ্ছে। আবার ট্রলি না মিললে গুরুতর অসুস্থ রোগীকে কোলে করে ওয়ার্ডে নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
হাসপাতাল সূত্র বলছে, ১৯৬৮ সালে ২৫০ শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান শয্যাসংখ্যা এক হাজার। সময়ের সঙ্গে শয্যা ও চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়লেও রোগীর চাপ সেই তুলনায় আরও দ্রুত বেড়েছে। প্রতিদিন আন্তঃবিভাগে প্রায় আড়াই হাজার রোগী ভর্তি থাকেন। একই সময়ে বহির্বিভাগেও প্রায় আড়াই হাজার রোগী চিকিৎসা নেন।
এ ছাড়া প্রতিদিন নতুন করে দেড় থেকে দুইশ রোগী ভর্তি হচ্ছেন এবং প্রায় একই সংখ্যক রোগী চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরছেন। ভর্তি রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নেওয়া, ওয়ার্ড পরিবর্তন কিংবা জরুরি বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট বিভাগে স্থানান্তরের সময় ট্রলির প্রয়োজন হয়। ফলে সীমিতসংখ্যক ট্রলি দিয়ে প্রতিদিনের এই বিপুল চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
রোগীর স্বজনদের অভিজ্ঞতাতেও উঠে এসেছে এই সংকটের চিত্র। বরগুনার পাথরঘাটা থেকে স্বামীকে চিকিৎসার জন্য শেবাচিমে নিয়ে আসা ফাতেমা বেগম জানান, ইমার্জেন্সি গেটে প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর তারা ট্রলি পেয়েছেন।
ট্রলির পাশাপাশি রয়েছে ট্রলিম্যান সংকটও। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তিন শিফটে ট্রলিম্যানের অনুমোদিত পদ ২১টি। তবে দুজনকে আন্তঃবিভাগে দায়িত্ব পালন করতে হয়। ফলে জরুরি বিভাগে কার্যত দায়িত্ব পালন করেন ১৯ জন। প্রতি শিফটে ছয়জন করে কাজ করায় রোগীর চাপের তুলনায় জনবলও পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়েছে হাসপাতাল সূত্র।
ট্রলিম্যানের ঘাটতি পূরণে প্রয়োজন অনুযায়ী জরুরি বিভাগের অফিস সহায়ক এবং আউটসোর্সিং কর্মীদেরও রোগী পরিবহনের কাজে যুক্ত করতে হয়। এতে তাদের নির্ধারিত দায়িত্বের পাশাপাশি অতিরিক্ত কাজের চাপ তৈরি হচ্ছে।
শেবাচিম হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ মেহেদি হাসান বলেন, রোগীদের সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। ট্রলি ও ট্রলিম্যান সংকটের বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মাহামুদ হাসান বলেন, নষ্ট ট্রলিগুলো মেরামতের পাশাপাশি নতুন ট্রলি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ট্রলিম্যানের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলের বৃহৎ চিকিৎসাকেন্দ্র বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতাল। প্রতিদিন এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। ভর্তি রোগী থেকে শুরু করে বহির্বিভাগের রোগী—সব মিলিয়ে দৈনিক প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের চিকিৎসাসেবা দিতে হয় হাসপাতালটিকে। অথচ এসব রোগীকে এক স্থান থেকে অন্যত্র নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ট্রলির সংখ্যাই প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
হাসপাতালে ট্রলি আছে ১৩টি। তবে সবগুলো একসঙ্গে ব্যবহার করা যায় না। প্রতিদিন গড়ে ৯ থেকে ১০টি ট্রলি সচল থাকে। কোনো ট্রলি নষ্ট হলে সেটি মেরামতের জন্য সরিয়ে রাখতে হয়। এতে একসঙ্গে রোগী পরিবহনের সক্ষমতা আরও কমে যায়।
এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে জরুরি ও সংকটাপন্ন রোগীদের ক্ষেত্রে। বিশেষ করে জরুরি বিভাগে একসঙ্গে একাধিক রোগী এলে ট্রলির জন্য অপেক্ষার পরিস্থিতি তৈরি হয়। কোথাও কোথাও স্বজনদের নিজেরাই ট্রলি ঠেলতে হচ্ছে। আবার ট্রলি না মিললে গুরুতর অসুস্থ রোগীকে কোলে করে ওয়ার্ডে নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
হাসপাতাল সূত্র বলছে, ১৯৬৮ সালে ২৫০ শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান শয্যাসংখ্যা এক হাজার। সময়ের সঙ্গে শয্যা ও চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়লেও রোগীর চাপ সেই তুলনায় আরও দ্রুত বেড়েছে। প্রতিদিন আন্তঃবিভাগে প্রায় আড়াই হাজার রোগী ভর্তি থাকেন। একই সময়ে বহির্বিভাগেও প্রায় আড়াই হাজার রোগী চিকিৎসা নেন।
এ ছাড়া প্রতিদিন নতুন করে দেড় থেকে দুইশ রোগী ভর্তি হচ্ছেন এবং প্রায় একই সংখ্যক রোগী চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরছেন। ভর্তি রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নেওয়া, ওয়ার্ড পরিবর্তন কিংবা জরুরি বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট বিভাগে স্থানান্তরের সময় ট্রলির প্রয়োজন হয়। ফলে সীমিতসংখ্যক ট্রলি দিয়ে প্রতিদিনের এই বিপুল চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
রোগীর স্বজনদের অভিজ্ঞতাতেও উঠে এসেছে এই সংকটের চিত্র। বরগুনার পাথরঘাটা থেকে স্বামীকে চিকিৎসার জন্য শেবাচিমে নিয়ে আসা ফাতেমা বেগম জানান, ইমার্জেন্সি গেটে প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর তারা ট্রলি পেয়েছেন।
ট্রলির পাশাপাশি রয়েছে ট্রলিম্যান সংকটও। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তিন শিফটে ট্রলিম্যানের অনুমোদিত পদ ২১টি। তবে দুজনকে আন্তঃবিভাগে দায়িত্ব পালন করতে হয়। ফলে জরুরি বিভাগে কার্যত দায়িত্ব পালন করেন ১৯ জন। প্রতি শিফটে ছয়জন করে কাজ করায় রোগীর চাপের তুলনায় জনবলও পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়েছে হাসপাতাল সূত্র।
ট্রলিম্যানের ঘাটতি পূরণে প্রয়োজন অনুযায়ী জরুরি বিভাগের অফিস সহায়ক এবং আউটসোর্সিং কর্মীদেরও রোগী পরিবহনের কাজে যুক্ত করতে হয়। এতে তাদের নির্ধারিত দায়িত্বের পাশাপাশি অতিরিক্ত কাজের চাপ তৈরি হচ্ছে।
শেবাচিম হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ মেহেদি হাসান বলেন, রোগীদের সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। ট্রলি ও ট্রলিম্যান সংকটের বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মাহামুদ হাসান বলেন, নষ্ট ট্রলিগুলো মেরামতের পাশাপাশি নতুন ট্রলি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ট্রলিম্যানের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে।

০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৪৯
বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের কথিত স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা মিরাজুল ইসলামের বাসায় মাদকের আসরে হানা দেয় ডিএনসির কর্মীরা। বৃহস্পতিবার শেষ রাতে স্থানীয় পাঁচগাও গ্রামে মিরাজের টিনশেড বাসাটিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মীরা চতুর দিক থেকে ঘিরে রাখে। এবং বাসাটিতে অবস্থানরত সকলকে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণের সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু ডিএনসি কর্মীদের আহ্বানে কেউ সাড়া না দিয়ে সকলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। সকাল নাগাদ সেখান থেকে বরিশাল বিমানবন্দর থানা পুলিশের উপ-সহকারি পরিদর্শক (এএসআই) দেলোয়ার হোসেন (৩৮) এবং জনৈক নারীসহ অন্তত ৪ জনকে আটক করা হয়।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মিরাজুল ইসলামের দলীয় কোনো পদপদবি না থাকলেও তিনি বিএনপির সহযোগী সংগঠন শ্রমিকদলের নাম ভাঙিয়ে এলাকায় নানান ধরনের অপকর্মে জড়িত ছিলেন এবং মাদক সরবরাহ করতেন। কথিত এই নেতার সাথে বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানা পুলিশের এএসআই দেলোয়ার হোসেনের গভীর যোগাযোগ ছিল এবং তিনি প্রায় দিনই মিরাজের বাসায় রাত কাটাতেন। তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় নিরীহ লোকজনকে হয়রানি করার বহু অভিযোগ আছে।
ডিএনসি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাচগাঁও গ্রামের ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে মিরাজুল ইসলাম, পুলিশ সদস্য দেলোয়ার হোসেন, নাহিদ হাসান (২৬) এবং ফাতেমা আক্তার নুরতাজ (৩০) নামের নারীসহ মোট ৪ জনকে আটক করা হয়। তাদের কাছে মাদকের বড় কোনো চালান না পাওয়া গেলেও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, ডিএনসির পরিদর্শক জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি টিম বৃহস্পতিবার ভোর রাতে পাচগাঁও গ্রামে স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা মিরাজের বাসাটিকে ঘিরে রাখেন এবং ভেতরের সকলকে আত্মসমর্পণে আহ্বান রাখেন। তখন তারা ডিএনসির কর্মীদের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে যে যার মতো পালানোর চেষ্টা করেন। সূর্যের আলো ফুটতেই পুলিশ কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বাসার টিন ভেঙে লাফিয়ে কাঁদামাটিতে পড়েন। তখন তাকে মাদকদ্রব্যের কর্মীরা ধরতে গেলে উভয়ের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তাকেসহ ৪জনকে আটকে সফলতা পায় এবং পরক্ষণে তাদের নিয়ে আসে ডিএনসি।
সূত্রে জানা গেছে, আটক ৪ জনের মধ্যে এসআই দেলোয়ার হোসেনকে সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এবং কথিত স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা মিরাজুল ইসলামসহ বাকি তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণের প্রস্তুতি নেয়।
ডিএনসির এমন দ্বিমুখী আচারণ কেনো জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির উপ-পরিচালক (গোয়েন্দা) তানভির হোসেন খান বলেন, বিমানবন্দর থানা পুলিশের পরিদর্শক নিজে এসে ছিলেন এবং তিনি পুলিশ সদস্যর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাগ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।’
বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের কথিত স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা মিরাজুল ইসলামের বাসায় মাদকের আসরে হানা দেয় ডিএনসির কর্মীরা। বৃহস্পতিবার শেষ রাতে স্থানীয় পাঁচগাও গ্রামে মিরাজের টিনশেড বাসাটিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মীরা চতুর দিক থেকে ঘিরে রাখে। এবং বাসাটিতে অবস্থানরত সকলকে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণের সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু ডিএনসি কর্মীদের আহ্বানে কেউ সাড়া না দিয়ে সকলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। সকাল নাগাদ সেখান থেকে বরিশাল বিমানবন্দর থানা পুলিশের উপ-সহকারি পরিদর্শক (এএসআই) দেলোয়ার হোসেন (৩৮) এবং জনৈক নারীসহ অন্তত ৪ জনকে আটক করা হয়।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মিরাজুল ইসলামের দলীয় কোনো পদপদবি না থাকলেও তিনি বিএনপির সহযোগী সংগঠন শ্রমিকদলের নাম ভাঙিয়ে এলাকায় নানান ধরনের অপকর্মে জড়িত ছিলেন এবং মাদক সরবরাহ করতেন। কথিত এই নেতার সাথে বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানা পুলিশের এএসআই দেলোয়ার হোসেনের গভীর যোগাযোগ ছিল এবং তিনি প্রায় দিনই মিরাজের বাসায় রাত কাটাতেন। তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় নিরীহ লোকজনকে হয়রানি করার বহু অভিযোগ আছে।
ডিএনসি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাচগাঁও গ্রামের ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে মিরাজুল ইসলাম, পুলিশ সদস্য দেলোয়ার হোসেন, নাহিদ হাসান (২৬) এবং ফাতেমা আক্তার নুরতাজ (৩০) নামের নারীসহ মোট ৪ জনকে আটক করা হয়। তাদের কাছে মাদকের বড় কোনো চালান না পাওয়া গেলেও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, ডিএনসির পরিদর্শক জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি টিম বৃহস্পতিবার ভোর রাতে পাচগাঁও গ্রামে স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা মিরাজের বাসাটিকে ঘিরে রাখেন এবং ভেতরের সকলকে আত্মসমর্পণে আহ্বান রাখেন। তখন তারা ডিএনসির কর্মীদের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে যে যার মতো পালানোর চেষ্টা করেন। সূর্যের আলো ফুটতেই পুলিশ কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বাসার টিন ভেঙে লাফিয়ে কাঁদামাটিতে পড়েন। তখন তাকে মাদকদ্রব্যের কর্মীরা ধরতে গেলে উভয়ের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তাকেসহ ৪জনকে আটকে সফলতা পায় এবং পরক্ষণে তাদের নিয়ে আসে ডিএনসি।
সূত্রে জানা গেছে, আটক ৪ জনের মধ্যে এসআই দেলোয়ার হোসেনকে সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এবং কথিত স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা মিরাজুল ইসলামসহ বাকি তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণের প্রস্তুতি নেয়।
ডিএনসির এমন দ্বিমুখী আচারণ কেনো জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির উপ-পরিচালক (গোয়েন্দা) তানভির হোসেন খান বলেন, বিমানবন্দর থানা পুলিশের পরিদর্শক নিজে এসে ছিলেন এবং তিনি পুলিশ সদস্যর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাগ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।’

২৩ জুন, ২০২৫ ১৬:৪৫
বরিশাল শহরের কাউনিয়ায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিপা রানী ও তার স্বজনদের পিটিয়ে এবং কুপিয়ে জখমের মামলায় অভিযুক্তদের এক সপ্তাহেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। গত ১৪ জুন মেট্রোপলিটন কাউনিয়া থানাধীন ২ নং ওয়ার্ডের নাপিতবাড়ি কলোনিসংলগ্ন নিপা রানীসহ তার স্বজনদের কুপিয়ে জখম করে একই এলাকার সাব্বির (৩৫) এবং দোলনসহ কজন যুবক, যারা বিগতদিনে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত ছিল। সেই ঘটনার দুদিনের মাথায় অর্থাৎ ১৬ জুন কাউনিয়া থানা পুলিশ ৩২৬সহ বিভিন্ন ধারায় একটি মামলা গ্রহণ করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের ভূমিকা রাখার আশ্বাস দেয়। কিন্তু এরপরে সাতদিন কেটে গেলেও পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে সফলতা পায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত দোলন কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা অসীম দেওয়ানের অনুসারী এবং সাব্বির বিএম কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মঈন তুষারের ক্যাডার হিসেবে সমাধিক পরিচিত। ৫ আগস্টের আগে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলা করার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। সর্বশেষ তারা দুজন এলাকায় নিপা রানীর পরিবারের ওপর হামলায় করায় এলাকাবাসীও তাদের ওপর ক্ষুব্ধ।
এই মামলার বাদী নিপা রানীর অভিযোগ, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র স্থানীয় সাব্বির, দোলন এবং সুজিতসহ ৪/৫ জনে মিলে তাদের ওপর হামলা করে। তখন হামলাকারীদের প্রতিরোধে প্রসেনজিৎ সোম, মালা রানী সিংহ এবং সমন্বয় এগিয়ে গেলে তাদের লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করে। এবং একপর্যায়ে তাদের সাথে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে প্রসেনজিৎ এবং মালাকে জখম করে। তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে কাউনিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও এই ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এমনকি মামলা করার পরে সপ্তাহখানেক সময় অতিবাহিত হলেও তাদের আইনে আওতায় আনতে পারেনি পুলিশ।
বাদীর অভিযোগ, হামলাকারী সাব্বির, দোলন এবং সুজিত দাস (৩৫) এলাকায় ঘুরছেন। এবং প্রতিনিয়ত মামলা তুলে নিতে তাদের হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। বিষয়টি কাউনিয়া থানা পুলিশকে একাধিকবার অবহিত করেও সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয় একাধিক সূত্রও হামলাকারীদের এলাকায় অবস্থান এবং ঘোরাঘুরির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
আহত মালা রানীর অভিযোগ, তার স্বামী সঞ্জিবকে একাধিকবার ফোন করে হুমকি দিয়েছে অভিযুক্ত দোলন। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কোতয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
পুলিশের নির্লুপ্তায় ক্ষুব্ধ বাদী অভিযোগ করেন, আসামিরা কখন কোথায় অবস্থান করছেন, তা নিশ্চিতভাবে জানানোর পরেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। যার দরুণ অভিযুক্তরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এবং হুমকি-ধামকি দেওয়ার সাহস দেখাচ্ছে।
তবে মামলাটি তদন্তকারী কাউনিয়া থানা পুলিশের এসআই শহিদুল ইসলাম দাবি করেছেন, ঘটনার পর থেকেই হামলাকারীরা আত্মগোপনে আছেন। তাদের ধরতে তদন্তকারী কর্মকর্তা একাধিক স্থানে একাধিকবার অভিযান চালিয়েছেন। কিন্তু বাগে আনা যাচ্ছে না।’
০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:১০
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:২৫
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৫২
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:৪৬