
১৩ জুন, ২০২৫ ১৫:৫৫
বরগুনায় মহামারী আকার ধারণ করতে শুরু করেছে ডেঙ্গু। প্রতিদিনই হাসপাতালে বাড়ছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। সারাদেশে ডেঙ্গু রোগীর প্রায় এক চতুর্থাংশই বরগুনায়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ জনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে এ জেলায়। এ অবস্থায় ভর্তি হওয়া আক্রান্ত রোগীদের বিদ্যমান চিকিৎসা সেবা হাসপাতালের সক্ষমতার বাইরে চলে গেছে বলে জানিয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রেজওয়ানুর আলাম।
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরগুনার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৬৭ জন। বর্তমানে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছে ১৯৩ জন। এবছর এখন পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ১ হাজার ৬৩১ জন আক্রান্ত রোগী। এর মধ্যে বরগুনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে আক্রান্ত ৫ জনের।
বর্তমানে চিকিৎসা সেবা হাসপাতালের সক্ষমতার বাইরে
গতবছর জেলায় মোট ২ হাজার ৪৩৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ওই বছর বারগুনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ৪ জন। তবে এ বছর মাঝামাঝি সময়েই ব্যাপক হারে বেড়েছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী।
যা সারাদেশে আক্রান্ত রোগীর শতকরা হিসেবে ২৬ দশমিক ৫১ ভাগই বরগুনায়। অপরদিকে একই সময়ে বরিশাল বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ২৭৫ জন। সে হিসেবে শুধু বরগুনায় আক্রান্তের সংখ্যা শতকরা প্রায় ৬২ ভাগ।
জেলার প্রায় ১২ লাখ মানুষের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে দীর্ঘ বছর ধরেই রয়েছে চিকিৎসক সঙ্কট। এছাড়া নার্স, বিভিন্ন জনবলসহ রয়েছে শয্যা সঙ্কটও। হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ৫৫ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন ১৯ জন চিকিৎসক।
অপরদিকে দেড় শতাধিক নার্স থাকার কথা থাকলেও কর্মরত নার্সের সংখ্যা মাত্র ৬৬ জন। ফলে হঠাৎ করে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত ৫৫টি বেডের বিপরীতে প্রতিদিন প্রায় ১৫০-২০০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে।
এছাড়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটিতে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত মিলিয়ে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৫ শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন। এরপর আউটডোরেও প্রায় প্রতিদিন ৫ শতাধিক রোগীকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। ফলে চিকিৎসক ও নার্স সঙ্কটে হাসপাতালে আসা ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে দায়িত্বর চিকিৎসক ও নার্সদের।
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স ইশরাত জাহান বলেন, বর্তমানে আমাদের জনবল অনেক কম। প্রতিদিন যে হারে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছে তা সামাল দেয়া আমাদের পক্ষে খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা এবার কোরবানির ঈদেও ছুটি পাইনি।
পরিবার রেখে আমরা রোগীদের সেবায় নিয়োজিত রয়েছি। একজন রোগীর কাছে গিয়ে আরেক জনের রোগীর কাছে যেতে দেরি হলে অনেক সময় শুনতে হয় নার্সদের ব্যবহার ভালো না। বরগুনায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল হলেও ১০০ শয্যার নার্স দিয়ে চলছে হাসপাতালে কার্যক্রম। এতে প্রায় প্রতিদিন পাঁচ শতাধিকেরও বেশি ভর্তি রোগীদের সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় আমাদের।
চিকিৎসা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা
সরেজমিনে বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে আসা বিভিন্ন এলাকার রোগীদের পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হলেই ভর্তি করা হচ্ছে হাসপাতালে। তবে এসব ভর্তি রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তির পর প্রতিদিন দেখা মিলছে না চিকিৎসকের।
এছাড়াও ভর্তি রোগী বেড়ে যাওয়ায় বেড সঙ্কট তৈরি হয়েছে। এতে রোগীদের যায়গা হয়েছে হাসপাতালের বারান্দার ফ্লোর এবং লিফটের দরজার সামনে। ভর্তি রোগীদের আরও অভিযোগ বাইরের ক্লিনিকে করতে হয় প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এমনকি ওষুধও কিনতে হয় বাইরে থেকে।
হাসপাতালে ভর্তি শিল্পী নামে এক ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী বলেন, আমি এক সপ্তাহ ধরে ভর্তি আছি। হাসপাতালে কোনো পরীক্ষা হয় না। বাইরে থেকে পরীক্ষা করাতে হয়। প্রয়োজনীয় ওষুধও কিনতে হচ্ছে বাইরের দোকান থেকে।
মো. সাইদুল নামে ভর্তি রোগীর এক স্বজন বলেন, আমার খালা ডেঙ্গু পজিটিভ হওয়ায় তাকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। তবে এই মুহূর্তে হাসপাতালে অনেক বেশি রোগী ভর্তি থাকায় কোনো বেড পাইনি। বাধ্য হয়ে ফ্লোরেই বিছানা করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, হাসপাতালে আসার পর প্রায় চার ঘন্টা অতিবাহিত হয়ে গেছে কোনো চিকিৎসক আমাদের কাছে আসেনি। বরগুনায় যে হারে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে চিকিৎসক বাড়ানোর পাশাপাশি প্রশাসনিকভাবে এখন নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. তাসকিয়া সিদ্দিকাহ বলেন, গত বছর জুন মাসের তুলনায় এবছর রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। তবে রোগী ভর্তি হলে তাদেরকে আমাদের চিকিৎসা দিতে হবে। নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকলেও ম্যানেজ করতে হবে।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সকলে সচেতন থাকলে এবং যার যার বাসা বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখলে এত বেশি মানুষ আক্রান্ত হতো বলে মনে হয় না। সামাজিকভাবে সবার দায়িত্ব রয়েছে ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগ
বরগুনায় হঠাৎ করে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক, পৌরসভা কতৃপক্ষসহ, বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে একাধিক সভা করেছেন জেলা প্রশাসন।
এছাড়া চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল। পরিস্থিতি বিবেচনায় হাসপাতালে ইতিমধ্যে দুজন চিকিৎসক এবং দশজন সিনিয়র নার্স পদায়ন করা হয়েছে। জেলার চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত সময়ের মধ্যে আরও কয়েকজন চিকিৎসককে পদায়নের বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন বিভাগীয় পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল।
এ বিষয়ে বরগুনায় একটি মতবিনিময় সভা শেষে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, শুধু ডেঙ্গু নয় যেকোনো স্বাস্থ্যের যদি বিপর্যয় হয় স্বাস্থ্য বিভাগ মানুষের জন্য সবসময় পাশে থাকবে। তবে বরগুনার বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা।
কারণ বিভাগের ৫ টি জেলায় ডেঙ্গুতে যা আক্রান্ত হয় তার থেকে বেশি আক্রান্ত হয় বরগুনায়। যেহেতু ডেঙ্গু রোগ মশার কারণে ছড়ায় সেক্ষেত্রে মশা নিধনের বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ উপদেশ-পরামর্শ দিতে পারে।
সরকারিভাবে মশা নিধনের কাজে যে সমস্ত দপ্তর নিয়োজিত রয়েছেন, আশা করি তারা স্থানীয় প্রশাসন,স্বাস্থ্য বিভাগসহ সকলের সঙ্গে সমন্বয় করে বরগুনায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা নিধনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
বরগুনায় ডেঙ্গু হটস্পট
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের সবশেষ ১ হাজার ৬৩১ জন আক্রান্ত রোগীর এলাকা ভিত্তিক একটি পরিসংখ্যানের তথ্য অনুযায়ী ৪১৪ জন রোগী সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের বাসিন্দা। এর মধ্যে ওই ইউনিয়নের দক্ষিণ মনসাতলী নামক একটি এলাকায় আক্রান্ত হয়েছেন ১২০ জন।
ওই এলাকার বাসিন্দা গাজী গোলাম মোস্তফা বলেন, আমাদের এ এলাকাটি বরগুনা পৌরসভার একদম কাছাকাছি হওয়ায় ঘনবসতির সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাটি ইউনিয়নের আওতায় থাকায় পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কোনো কর্মী নেই। এছাড়াও প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি হলেই এলাকার বিভিন্ন জায়গার ডোবা নালা ও নিচু জমিতে পানি জমে থাকে।
বর্তমানে ডেঙ্গু পরিস্থিতির বিষয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রেজওয়ানুর আলম বলেন, বরগুনাতে ডেঙ্গুর পিক সিজন চলছে। ৫৫ বেডের অনুকূলে ভর্তির রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। সেক্ষেত্রে আমাদের চিকিৎসকসহ নার্স সংখ্যাও কম।
হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমার মনে হচ্ছে প্রতি ঘরেই ডেঙ্গু রোগী আছে। দিনকে দিন এটি মহামারী আকার ধারণ করতে শুরু করেছে। আমরা বর্তমানে মহা বিপর্যয়ের সম্মুখীন, চিকিৎসা সেবা আমাদের সক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগী বেড়ে যাওয়ার বিষয় জানতে চাইলে বরগুনার সিভিল সার্জন মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ্ বলেন, বরগুনায় হঠাৎ করে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কারণ বলা কঠিন। মূলত সরকারের রোগতত্ত, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনষ্টিটিউট (আইইডিসিআর) ডেঙ্গু বা এ ধরনের রোগের গবেষণামূলক কাজ করেন। এ বিষয়ে তারাই হয়তো সুনির্দিষ্ট কারণ বলতে পারবেন।
বরগুনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, গত দুই মাস ধরেই বরগুনায় ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা কয়েকটি সভা করেছি। মশক নিধনে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পৌরসভা কর্তৃপক্ষ অব্যাহত রেখেছেন।
হাসপাতালের সঙ্গে আমাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। বিশেষ করে হাসপাতালে চিকিৎসক এবং নার্স সঙ্কটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
বরগুনায় মহামারী আকার ধারণ করতে শুরু করেছে ডেঙ্গু। প্রতিদিনই হাসপাতালে বাড়ছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। সারাদেশে ডেঙ্গু রোগীর প্রায় এক চতুর্থাংশই বরগুনায়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ জনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে এ জেলায়। এ অবস্থায় ভর্তি হওয়া আক্রান্ত রোগীদের বিদ্যমান চিকিৎসা সেবা হাসপাতালের সক্ষমতার বাইরে চলে গেছে বলে জানিয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রেজওয়ানুর আলাম।
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরগুনার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৬৭ জন। বর্তমানে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছে ১৯৩ জন। এবছর এখন পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ১ হাজার ৬৩১ জন আক্রান্ত রোগী। এর মধ্যে বরগুনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে আক্রান্ত ৫ জনের।
বর্তমানে চিকিৎসা সেবা হাসপাতালের সক্ষমতার বাইরে
গতবছর জেলায় মোট ২ হাজার ৪৩৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ওই বছর বারগুনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ৪ জন। তবে এ বছর মাঝামাঝি সময়েই ব্যাপক হারে বেড়েছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী।
যা সারাদেশে আক্রান্ত রোগীর শতকরা হিসেবে ২৬ দশমিক ৫১ ভাগই বরগুনায়। অপরদিকে একই সময়ে বরিশাল বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ২৭৫ জন। সে হিসেবে শুধু বরগুনায় আক্রান্তের সংখ্যা শতকরা প্রায় ৬২ ভাগ।
জেলার প্রায় ১২ লাখ মানুষের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে দীর্ঘ বছর ধরেই রয়েছে চিকিৎসক সঙ্কট। এছাড়া নার্স, বিভিন্ন জনবলসহ রয়েছে শয্যা সঙ্কটও। হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ৫৫ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন ১৯ জন চিকিৎসক।
অপরদিকে দেড় শতাধিক নার্স থাকার কথা থাকলেও কর্মরত নার্সের সংখ্যা মাত্র ৬৬ জন। ফলে হঠাৎ করে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত ৫৫টি বেডের বিপরীতে প্রতিদিন প্রায় ১৫০-২০০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে।
এছাড়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটিতে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত মিলিয়ে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৫ শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন। এরপর আউটডোরেও প্রায় প্রতিদিন ৫ শতাধিক রোগীকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। ফলে চিকিৎসক ও নার্স সঙ্কটে হাসপাতালে আসা ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে দায়িত্বর চিকিৎসক ও নার্সদের।
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স ইশরাত জাহান বলেন, বর্তমানে আমাদের জনবল অনেক কম। প্রতিদিন যে হারে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছে তা সামাল দেয়া আমাদের পক্ষে খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা এবার কোরবানির ঈদেও ছুটি পাইনি।
পরিবার রেখে আমরা রোগীদের সেবায় নিয়োজিত রয়েছি। একজন রোগীর কাছে গিয়ে আরেক জনের রোগীর কাছে যেতে দেরি হলে অনেক সময় শুনতে হয় নার্সদের ব্যবহার ভালো না। বরগুনায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল হলেও ১০০ শয্যার নার্স দিয়ে চলছে হাসপাতালে কার্যক্রম। এতে প্রায় প্রতিদিন পাঁচ শতাধিকেরও বেশি ভর্তি রোগীদের সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় আমাদের।
চিকিৎসা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা
সরেজমিনে বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে আসা বিভিন্ন এলাকার রোগীদের পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হলেই ভর্তি করা হচ্ছে হাসপাতালে। তবে এসব ভর্তি রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তির পর প্রতিদিন দেখা মিলছে না চিকিৎসকের।
এছাড়াও ভর্তি রোগী বেড়ে যাওয়ায় বেড সঙ্কট তৈরি হয়েছে। এতে রোগীদের যায়গা হয়েছে হাসপাতালের বারান্দার ফ্লোর এবং লিফটের দরজার সামনে। ভর্তি রোগীদের আরও অভিযোগ বাইরের ক্লিনিকে করতে হয় প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এমনকি ওষুধও কিনতে হয় বাইরে থেকে।
হাসপাতালে ভর্তি শিল্পী নামে এক ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী বলেন, আমি এক সপ্তাহ ধরে ভর্তি আছি। হাসপাতালে কোনো পরীক্ষা হয় না। বাইরে থেকে পরীক্ষা করাতে হয়। প্রয়োজনীয় ওষুধও কিনতে হচ্ছে বাইরের দোকান থেকে।
মো. সাইদুল নামে ভর্তি রোগীর এক স্বজন বলেন, আমার খালা ডেঙ্গু পজিটিভ হওয়ায় তাকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। তবে এই মুহূর্তে হাসপাতালে অনেক বেশি রোগী ভর্তি থাকায় কোনো বেড পাইনি। বাধ্য হয়ে ফ্লোরেই বিছানা করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, হাসপাতালে আসার পর প্রায় চার ঘন্টা অতিবাহিত হয়ে গেছে কোনো চিকিৎসক আমাদের কাছে আসেনি। বরগুনায় যে হারে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে চিকিৎসক বাড়ানোর পাশাপাশি প্রশাসনিকভাবে এখন নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. তাসকিয়া সিদ্দিকাহ বলেন, গত বছর জুন মাসের তুলনায় এবছর রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। তবে রোগী ভর্তি হলে তাদেরকে আমাদের চিকিৎসা দিতে হবে। নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকলেও ম্যানেজ করতে হবে।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সকলে সচেতন থাকলে এবং যার যার বাসা বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখলে এত বেশি মানুষ আক্রান্ত হতো বলে মনে হয় না। সামাজিকভাবে সবার দায়িত্ব রয়েছে ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগ
বরগুনায় হঠাৎ করে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক, পৌরসভা কতৃপক্ষসহ, বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে একাধিক সভা করেছেন জেলা প্রশাসন।
এছাড়া চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল। পরিস্থিতি বিবেচনায় হাসপাতালে ইতিমধ্যে দুজন চিকিৎসক এবং দশজন সিনিয়র নার্স পদায়ন করা হয়েছে। জেলার চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত সময়ের মধ্যে আরও কয়েকজন চিকিৎসককে পদায়নের বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন বিভাগীয় পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল।
এ বিষয়ে বরগুনায় একটি মতবিনিময় সভা শেষে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, শুধু ডেঙ্গু নয় যেকোনো স্বাস্থ্যের যদি বিপর্যয় হয় স্বাস্থ্য বিভাগ মানুষের জন্য সবসময় পাশে থাকবে। তবে বরগুনার বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা।
কারণ বিভাগের ৫ টি জেলায় ডেঙ্গুতে যা আক্রান্ত হয় তার থেকে বেশি আক্রান্ত হয় বরগুনায়। যেহেতু ডেঙ্গু রোগ মশার কারণে ছড়ায় সেক্ষেত্রে মশা নিধনের বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ উপদেশ-পরামর্শ দিতে পারে।
সরকারিভাবে মশা নিধনের কাজে যে সমস্ত দপ্তর নিয়োজিত রয়েছেন, আশা করি তারা স্থানীয় প্রশাসন,স্বাস্থ্য বিভাগসহ সকলের সঙ্গে সমন্বয় করে বরগুনায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা নিধনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
বরগুনায় ডেঙ্গু হটস্পট
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের সবশেষ ১ হাজার ৬৩১ জন আক্রান্ত রোগীর এলাকা ভিত্তিক একটি পরিসংখ্যানের তথ্য অনুযায়ী ৪১৪ জন রোগী সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের বাসিন্দা। এর মধ্যে ওই ইউনিয়নের দক্ষিণ মনসাতলী নামক একটি এলাকায় আক্রান্ত হয়েছেন ১২০ জন।
ওই এলাকার বাসিন্দা গাজী গোলাম মোস্তফা বলেন, আমাদের এ এলাকাটি বরগুনা পৌরসভার একদম কাছাকাছি হওয়ায় ঘনবসতির সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাটি ইউনিয়নের আওতায় থাকায় পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কোনো কর্মী নেই। এছাড়াও প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি হলেই এলাকার বিভিন্ন জায়গার ডোবা নালা ও নিচু জমিতে পানি জমে থাকে।
বর্তমানে ডেঙ্গু পরিস্থিতির বিষয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রেজওয়ানুর আলম বলেন, বরগুনাতে ডেঙ্গুর পিক সিজন চলছে। ৫৫ বেডের অনুকূলে ভর্তির রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। সেক্ষেত্রে আমাদের চিকিৎসকসহ নার্স সংখ্যাও কম।
হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমার মনে হচ্ছে প্রতি ঘরেই ডেঙ্গু রোগী আছে। দিনকে দিন এটি মহামারী আকার ধারণ করতে শুরু করেছে। আমরা বর্তমানে মহা বিপর্যয়ের সম্মুখীন, চিকিৎসা সেবা আমাদের সক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগী বেড়ে যাওয়ার বিষয় জানতে চাইলে বরগুনার সিভিল সার্জন মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ্ বলেন, বরগুনায় হঠাৎ করে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কারণ বলা কঠিন। মূলত সরকারের রোগতত্ত, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনষ্টিটিউট (আইইডিসিআর) ডেঙ্গু বা এ ধরনের রোগের গবেষণামূলক কাজ করেন। এ বিষয়ে তারাই হয়তো সুনির্দিষ্ট কারণ বলতে পারবেন।
বরগুনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, গত দুই মাস ধরেই বরগুনায় ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা কয়েকটি সভা করেছি। মশক নিধনে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পৌরসভা কর্তৃপক্ষ অব্যাহত রেখেছেন।
হাসপাতালের সঙ্গে আমাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। বিশেষ করে হাসপাতালে চিকিৎসক এবং নার্স সঙ্কটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

১২ মে, ২০২৬ ২০:২০
বরগুনার আমতলীতে নিজের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে এক বাবাকে আটক করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় ওই কিশোরীর মা শাহিনুর বেগম বাদী হয়ে তার স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। পরিবারের আত্মীয়-স্বজনদের কাছে বিচার চেয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি পুলিশের সাহায্য নিয়েছেন।
মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন শাহিনুর বেগম। তার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ওসমান মোল্লাকে (৩৮) আটক করে। ওসমান মোল্লা উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের ঘটখালী (উড়ষীতলা) গ্রামের বাসিন্দা। অভিযোগ অনুযায়ী, গত দুই বছর ধরে তিনি তার ১৩ বছর বয়সী মেয়েকে ধর্ষণ করে আসছিলেন।
ভুক্তভোগী কিশোরীর মা শাহিনুর বেগম জানান, তার শারীরিক সমস্যার সুযোগ নিয়ে ওসমান গত দুই বছর ধরে মেয়ের ওপর এমন পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছেন। শুরুতে তিনি বিষয়টি বিশ্বাস করতে পারেননি, কিন্তু পরে কয়েকবার নিজের চোখে ঘটনাটি দেখেছেন। ওসমান তার কাছে বারবার ক্ষমা চেয়ে শুধরানোর সুযোগ নিলেও নিজের আচরণের ধরণ বদলাননি। স্বজনদের কাছে বিচার চেয়ে কোনো ফল না পাওয়ায় তিনি শেষ পর্যন্ত আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।
পুলিশের কাছে ওসমান মোল্লা ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হাচনাইন পারভেজ জানান, কিশোরী এবং তার মায়ের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া ভুক্তভোগী কিশোরীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বরগুনা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বরগুনার আমতলীতে নিজের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে এক বাবাকে আটক করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় ওই কিশোরীর মা শাহিনুর বেগম বাদী হয়ে তার স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। পরিবারের আত্মীয়-স্বজনদের কাছে বিচার চেয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি পুলিশের সাহায্য নিয়েছেন।
মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন শাহিনুর বেগম। তার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ওসমান মোল্লাকে (৩৮) আটক করে। ওসমান মোল্লা উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের ঘটখালী (উড়ষীতলা) গ্রামের বাসিন্দা। অভিযোগ অনুযায়ী, গত দুই বছর ধরে তিনি তার ১৩ বছর বয়সী মেয়েকে ধর্ষণ করে আসছিলেন।
ভুক্তভোগী কিশোরীর মা শাহিনুর বেগম জানান, তার শারীরিক সমস্যার সুযোগ নিয়ে ওসমান গত দুই বছর ধরে মেয়ের ওপর এমন পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছেন। শুরুতে তিনি বিষয়টি বিশ্বাস করতে পারেননি, কিন্তু পরে কয়েকবার নিজের চোখে ঘটনাটি দেখেছেন। ওসমান তার কাছে বারবার ক্ষমা চেয়ে শুধরানোর সুযোগ নিলেও নিজের আচরণের ধরণ বদলাননি। স্বজনদের কাছে বিচার চেয়ে কোনো ফল না পাওয়ায় তিনি শেষ পর্যন্ত আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।
পুলিশের কাছে ওসমান মোল্লা ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হাচনাইন পারভেজ জানান, কিশোরী এবং তার মায়ের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া ভুক্তভোগী কিশোরীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বরগুনা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

১০ মে, ২০২৬ ১৭:৪০
বরগুনার আমতলী ও তালতলী উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের ৩৬ কোটি টাকার চারটি প্রকল্পে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বানের পর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলীসহ তিন কর্মকর্তা তাঁদের আত্মীয় ও আওয়ামী লীগ নেতার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেন। এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে এমন অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
তালতলীর বাসিন্দা ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন সম্প্রতি এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে এই অভিযোগ করেছেন। তিনি বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস)। এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেন বরিশাল বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ মোহা. নুরুল ইসলামকে অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, এলজিইডির বরগুনা কার্যালয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খান, জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল কুমার গাইন ও গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্পের সহকারী প্রকৌশলী রাজিব শাহ তাঁদের নিকটাত্মীয়দের পাঁচটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে স্বজনপ্রীতি করে কাজ পাইয়ে দিয়েছেন। এসব ঠিকাদার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন অভিযোগ করেন, গত মার্চ মাসে আমতলী-তালতলী উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৩৬ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করে বরগুনা এলজিইডি কার্যালয়। এতে ৭৭টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। গত ২০ এপ্রিল চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অনিয়ম ও অনৈতিকতার আশ্রয় নিয়ে ওই কাজ পাইয়ে দেন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খানসহ তিন প্রকৌশলী।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে ওই তিন কর্মকর্তা তাঁদের আত্মীয়দের দরপত্রের মাধ্যমে কাজ পাইয়ে দেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চারটি হলো নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান খানের নিকটাত্মীয় বরিশাল এমএস লুৎফুল কবির ট্রেডার্স, শেখ সেলিমের ভাগনে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী
লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ আতিকুর রহমান নুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএস নুর কনস্ট্রাকশন, সহকারী প্রকৌশলী রাজিব শাহর নিকটাত্মীয় নড়াইল জেলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লেলিন-দিপ (জয়েন্ট ভেঞ্চার) এসএম লেলিন ট্রেডার্স, জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল গাইনের নিকটাত্মীয় ঝিনাইদহের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিশিত বসু ট্রেডার্স।
ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন বলেন, বরগুনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খান, জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল কুমার গাইন ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের সহকারী প্রকৌশলী রাজিব শাহ ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আমতলী-তালতলীর ৩৬ কোটি টাকার কাজ তাঁদের নিকটাত্মীয় ও আওয়ামী লীগ নেতার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়েছেন। এসব দরপত্রে তাঁরা মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে কাজ পাইয়ে দেন। তদন্ত করলেই তাঁদের দুর্নীতির বাস্তব চিত্র বেরিয়ে আসবে
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খান বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে কেন অভিযোগ দিয়েছেন, তা যিনি দিয়েছেন, তিনিই বলতে পারবেন। আমি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম করিনি।’
অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া এলজিইডির বরিশাল বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মোহা. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ তদন্ত করতে প্রধান কার্যালয় থেকে আমাকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ১৪ মে তদন্তকাজ শুরু করা হবে।’
বরগুনার আমতলী ও তালতলী উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের ৩৬ কোটি টাকার চারটি প্রকল্পে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বানের পর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলীসহ তিন কর্মকর্তা তাঁদের আত্মীয় ও আওয়ামী লীগ নেতার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেন। এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে এমন অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
তালতলীর বাসিন্দা ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন সম্প্রতি এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে এই অভিযোগ করেছেন। তিনি বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস)। এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেন বরিশাল বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ মোহা. নুরুল ইসলামকে অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, এলজিইডির বরগুনা কার্যালয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খান, জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল কুমার গাইন ও গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্পের সহকারী প্রকৌশলী রাজিব শাহ তাঁদের নিকটাত্মীয়দের পাঁচটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে স্বজনপ্রীতি করে কাজ পাইয়ে দিয়েছেন। এসব ঠিকাদার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন অভিযোগ করেন, গত মার্চ মাসে আমতলী-তালতলী উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৩৬ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করে বরগুনা এলজিইডি কার্যালয়। এতে ৭৭টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। গত ২০ এপ্রিল চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অনিয়ম ও অনৈতিকতার আশ্রয় নিয়ে ওই কাজ পাইয়ে দেন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খানসহ তিন প্রকৌশলী।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে ওই তিন কর্মকর্তা তাঁদের আত্মীয়দের দরপত্রের মাধ্যমে কাজ পাইয়ে দেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চারটি হলো নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান খানের নিকটাত্মীয় বরিশাল এমএস লুৎফুল কবির ট্রেডার্স, শেখ সেলিমের ভাগনে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী
লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ আতিকুর রহমান নুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএস নুর কনস্ট্রাকশন, সহকারী প্রকৌশলী রাজিব শাহর নিকটাত্মীয় নড়াইল জেলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লেলিন-দিপ (জয়েন্ট ভেঞ্চার) এসএম লেলিন ট্রেডার্স, জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল গাইনের নিকটাত্মীয় ঝিনাইদহের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিশিত বসু ট্রেডার্স।
ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন বলেন, বরগুনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খান, জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল কুমার গাইন ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের সহকারী প্রকৌশলী রাজিব শাহ ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আমতলী-তালতলীর ৩৬ কোটি টাকার কাজ তাঁদের নিকটাত্মীয় ও আওয়ামী লীগ নেতার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়েছেন। এসব দরপত্রে তাঁরা মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে কাজ পাইয়ে দেন। তদন্ত করলেই তাঁদের দুর্নীতির বাস্তব চিত্র বেরিয়ে আসবে
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খান বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে কেন অভিযোগ দিয়েছেন, তা যিনি দিয়েছেন, তিনিই বলতে পারবেন। আমি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম করিনি।’
অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া এলজিইডির বরিশাল বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মোহা. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ তদন্ত করতে প্রধান কার্যালয় থেকে আমাকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ১৪ মে তদন্তকাজ শুরু করা হবে।’

০৯ মে, ২০২৬ ১৩:১৪
বরগুনার আকাশে হঠাৎ দেখা মিলেছে অদ্ভুত আলোর ঝলকানি, যা অল্পসময় স্থায়ী হয়। শুক্রবার (০৮ মে) সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ করে পাথরঘাটার আকাশে দেখা মেলে এ অদ্ভুত আলোর। কয়েকবার এই অদ্ভুত আলোর দেখা যায়।
এদিকে এমন আলো দেখা যাওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। মুহূর্তেই সেই আলোর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়।
জহির নামের এক অটোচালক বলেন, আমি গাড়ি চালাচ্ছিলাম হঠাৎ করেই আকাশে এমন অদ্ভুত আলো দেখতে পাই। আসলে এটা কী হতে পারে তা আমি নিজেও জানি না৷
এই অদ্ভুত আলো নিয়ে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লেখেন, এটা কী হতে পারে? ইব্রাহিম নামে একজন লেখেন, পশ্চিম-দক্ষিণ কোণের আকাশে আজ সন্ধ্যায় এটা কী দেখা গেছে?
এই অদ্ভুত আলো নিয়ে পাথরঘাটায় চলছে আলোচনা। অনেকেই এর কারণ খোঁজারও চেষ্টা করছেন। অনেকেই দিচ্ছেন আবার ভিন্ন মতামত।
বরগুনার আকাশে হঠাৎ দেখা মিলেছে অদ্ভুত আলোর ঝলকানি, যা অল্পসময় স্থায়ী হয়। শুক্রবার (০৮ মে) সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ করে পাথরঘাটার আকাশে দেখা মেলে এ অদ্ভুত আলোর। কয়েকবার এই অদ্ভুত আলোর দেখা যায়।
এদিকে এমন আলো দেখা যাওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। মুহূর্তেই সেই আলোর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়।
জহির নামের এক অটোচালক বলেন, আমি গাড়ি চালাচ্ছিলাম হঠাৎ করেই আকাশে এমন অদ্ভুত আলো দেখতে পাই। আসলে এটা কী হতে পারে তা আমি নিজেও জানি না৷
এই অদ্ভুত আলো নিয়ে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লেখেন, এটা কী হতে পারে? ইব্রাহিম নামে একজন লেখেন, পশ্চিম-দক্ষিণ কোণের আকাশে আজ সন্ধ্যায় এটা কী দেখা গেছে?
এই অদ্ভুত আলো নিয়ে পাথরঘাটায় চলছে আলোচনা। অনেকেই এর কারণ খোঁজারও চেষ্টা করছেন। অনেকেই দিচ্ছেন আবার ভিন্ন মতামত।
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.