শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়ের মিষ্টি বিতরণে দাওয়াত না পাওয়াকে কেন্দ্র করে বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষে খুন হন ছাত্রদল নেতা রবিউল ইসলাম। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় আসামি করা হয়েছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের। আসামী থেকে বাদ যায়নি ঢাকায় অবস্থানরত চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, এমনকি পত্রিকা কর্মচারীও। মামলার বাদী চেনেন না অনেক আসামিকে।
এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাওয়া গেছে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি রবিউল ইসলাম হত্যার মামলায়। বিএনপির এক গ্রুপের প্ররোচনায় দায়ের হওয়া ওই মামলাকে হয়রানিমূলক দাবি করে তা প্রত্যাহারের জন্য সংবাদ সম্মেলন করেছে বিএনপির আরেক গ্রুপ। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার রহমতপুর বাজারে জনাকীর্ণ ওই সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মো. আওলাদ হোসেন। তিনি বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমান গ্রুপের প্রভাবশালী একজন নেতা হিসেবে পরিচিত।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, 'ছাত্রদল নেতা রবিউল হত্যার ঘটনাটি কোনো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ছিল না। এটা ছাত্রদলের কিছু ছেলেদের মিষ্টি বিতরণ নিয়ে তাৎক্ষণিক ভুল বোঝাবুঝি, কথা কাটাকাটি ও মারামারির মধ্যে ঘটে যাওয়া একটি দুর্ঘটনা মাত্র। অথচ সেখানে প্রকৃত আসামি বাদ দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল এবং মামলাবাণিজ্য করার জন্য অধিকাংশ নিরপরাধ মানুষকে আসামি করা হয়েছে। বরিশাল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম ভিপি লিপন, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শফিউল আযম শাহীন, কৃষকদলের উপজেলা সহ-সভাপতি বাবুল হাওলাদার, ঢাকা মহানগর ছাত্রদল নেতা মিলন সরদার, দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার সার্কুলেশন ম্যানেজার মিজানুর রহমানসহ ১৪ জন নিরপরাধ মানুষকে এই হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে। অথচ তারা কেউই এলাকায় থাকেন না। কেউ ঢাকায় চাকরিজীবী, কেউ ব্যবসা করেন, কেউ পত্রিকা অফিসের কাজে বরিশালে থাকেন। এমনকি মামলার বাদী নিজেও ছিলেন বিদেশে। অনেক আসামিকেই তিনি চেনেন না। স্থানীয় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেতা এবং তাদের দোসররা এই মামলা নিয়ে কোটি টাকার আয়বাণিজ্য করা এবং রাজনৈতিক শত্রুতা উদ্ধারের জন্যই তাকে ভুল বুঝিয়ে এই মামলা দায়ের করেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন তিনি।'
মাধবপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম সরদার জানান, 'স্বেচ্ছাসেবক দলের বরিশাল জেলার সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম ভিপি লিপন একজন ত্যাগী এবং নিবেদিতপ্রাণ নেতা। তিনি বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রায় ৩০টি মামলার আসামি হয়ে অসংখ্যবার কারাবরণ করেন। জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের তার একচেটিয়া জনপ্রিয়তা রয়েছে। এছাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শফিউল আযম শাহীন ফরাজীও বিএনপির দুর্দিনের নেতা। এলাকায় তার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা এবং জনপ্রিয়তা রয়েছে। এসব নেতাদের মানুষ ভালোবাসে, বিশ্বাস করে। তারা এলাকায় থাকলে কেউ আগামী নির্বাচনে ভোট ডাকাতি করতে পারবে না। তাই কৌশলে তাদের শায়েস্তা করে বেগম সেলিমা রহমানকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করতেই এই মামলায় তাদের আসামী দেওয়া হয়েছে।
উপজেলার রহমতপুর বাজারে অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনে এসময় বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, মাধবপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহবুব তালুকদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম সরদার, দেহেরগতি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিলন খান, উপজেলা বিএনপি নেতা আবুল কালাম মুন্সি, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি আরিফুর রহমান রতন তালুকদার, তাঁতী দলের সভাপতি জামাল হোসেন, ছাত্রদলের যুগ্ন-আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন, জিয়া মঞ্চের সভাপতি বাহাদুর হোসেনসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বর্তমান এবং সাবেক কমিটির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
মামলা প্রসঙ্গে বাদী নিহত রবিউল ইসলামের বাবা সেনাসদস্য মিজানুর রহমান দুলাল হাওলাদার বলেন, 'আমি বিগত ২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষা মিশনে কুয়েতে অবস্থান করছি। গত ১৭ নভেম্বর রাতে আমার ছেলে নিহত হওয়ার খবর পেয়ে আমি কুয়েত থেকে বাংলাদেশে আসি। আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। তাই কে বা কারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে তা দেখিনি। তবে ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শী, সাক্ষী এবং স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে যাদের নাম পাওয়া গেছে তাদের নামে মামলা দিয়েছি আমি। এখন কে দোষী আর কে নির্দোষী সেটা পুলিশ তদন্ত করে দেখুক।'
বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জহিরুল আলম জানান, 'রবিউল হত্যা মামলার তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে পুলিশ। মামলায় কোনো নিরপরাধ ব্যক্তির নাম থাকলে এবং তদন্তে তা প্রমাণিত হলে তিনি আইন অনুযায়ী অব্যাহতি পাবেন। নির্দোষ কাউকে হয়রানি করতে চায় না পুলিশ। আবার কোনো প্রকৃত অপরাধীকেও ছাড় দেওয়া হবে না।' #

২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৩৩
গাজীপুরের জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার সম্পদ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্তের আওতায় রংপুর সিটি করপোরেশনও
বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে ৩০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগের তথ্য উঠে এসেছে স্থানীয় সরকার বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদনে। একই প্রতিবেদনে গাজীপুরের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার সম্পদ অর্জন ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এবং রংপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়মের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্থানীয় সরকার খাতের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে ৩০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়টি তালিকাভুক্ত হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিস্তারিত খাতভিত্তিক হিসাব প্রতিবেদনের প্রকাশিত অংশে উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে সাত হাজার ৫০০ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর ও সিটি করপোরেশনের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও সম্পদসংক্রান্ত ৬৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকার বিষয়ও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
রংপুর সিটি করপোরেশনের ২০০৯ সাল থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং নৌকা ও নৌকাঘাট ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের বিষয়গুলো পৃথকভাবে অনুসন্ধানের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থানীয় সরকার খাতের ৬৬টি ক্ষেত্রে অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব বিষয়ে তৈরি তদন্ত প্রতিবেদনটি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
এ ছাড়া বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের বাজার ও স্থাপনার ভাড়া আদায়সংক্রান্ত ঘটনায় ১৮৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা আত্মসাতের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রেড লাইসেন্স ফি আদায়, কমিউনিটি সেন্টার ও মার্কেটের দোকানভাড়া এবং অন্যান্য রাজস্ব খাতেও আর্থিক অনিয়মের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।'

২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৩৮
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় সঞ্জয় কুমার বাড়ৈ (৩৫) নামে উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের বারপাইকা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সঞ্জয় কুমার বাড়ৈ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য।
পুলিশ জানায়, সম্প্রতি উপজেলার সেরাল গ্রামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সড়কে মিছিলের প্রস্তুতি নেন। এতে সঞ্জয় কুমার বাড়ৈও অংশ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে থানায় একটি মামলা হয়। ওই মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামি হিসেবে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান জানান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সঞ্জয় কুমার বাড়ৈকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৩২
বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়িয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিচ্ছে ‘অর্ণব’। এর প্রভাবে বরিশাল বিভাগের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দরসহ দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত আবহাওয়াবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, ঝড়টির কেন্দ্রের কাছাকাছি সাগর উত্তাল রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পায়রা, মোংলা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রাখা হয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। উপকূলীয় এলাকায় আবহাওয়ার পরিবর্তন ও সাগরের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার প্রয়োজন রয়েছে।
পূর্বাভাসে ঘূর্ণিঝড়টি আরও শক্তিশালী হয়ে বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের ওপর বাংলাদেশের উপকূলে এর প্রভাব নির্ভর করবে। তাই জেলে, ট্রলারচালক ও উপকূলীয় বাসিন্দাদের আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
সূত্র: বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের বুলেটিনের ভিত্তিতে প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন।

২১ নভেম্বর, ২০২৫ ২৩:১৩
শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়ের মিষ্টি বিতরণে দাওয়াত না পাওয়াকে কেন্দ্র করে বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষে খুন হন ছাত্রদল নেতা রবিউল ইসলাম। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় আসামি করা হয়েছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের। আসামী থেকে বাদ যায়নি ঢাকায় অবস্থানরত চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, এমনকি পত্রিকা কর্মচারীও। মামলার বাদী চেনেন না অনেক আসামিকে।
এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাওয়া গেছে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি রবিউল ইসলাম হত্যার মামলায়। বিএনপির এক গ্রুপের প্ররোচনায় দায়ের হওয়া ওই মামলাকে হয়রানিমূলক দাবি করে তা প্রত্যাহারের জন্য সংবাদ সম্মেলন করেছে বিএনপির আরেক গ্রুপ। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার রহমতপুর বাজারে জনাকীর্ণ ওই সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মো. আওলাদ হোসেন। তিনি বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমান গ্রুপের প্রভাবশালী একজন নেতা হিসেবে পরিচিত।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, 'ছাত্রদল নেতা রবিউল হত্যার ঘটনাটি কোনো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ছিল না। এটা ছাত্রদলের কিছু ছেলেদের মিষ্টি বিতরণ নিয়ে তাৎক্ষণিক ভুল বোঝাবুঝি, কথা কাটাকাটি ও মারামারির মধ্যে ঘটে যাওয়া একটি দুর্ঘটনা মাত্র। অথচ সেখানে প্রকৃত আসামি বাদ দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল এবং মামলাবাণিজ্য করার জন্য অধিকাংশ নিরপরাধ মানুষকে আসামি করা হয়েছে। বরিশাল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম ভিপি লিপন, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শফিউল আযম শাহীন, কৃষকদলের উপজেলা সহ-সভাপতি বাবুল হাওলাদার, ঢাকা মহানগর ছাত্রদল নেতা মিলন সরদার, দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার সার্কুলেশন ম্যানেজার মিজানুর রহমানসহ ১৪ জন নিরপরাধ মানুষকে এই হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে। অথচ তারা কেউই এলাকায় থাকেন না। কেউ ঢাকায় চাকরিজীবী, কেউ ব্যবসা করেন, কেউ পত্রিকা অফিসের কাজে বরিশালে থাকেন। এমনকি মামলার বাদী নিজেও ছিলেন বিদেশে। অনেক আসামিকেই তিনি চেনেন না। স্থানীয় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেতা এবং তাদের দোসররা এই মামলা নিয়ে কোটি টাকার আয়বাণিজ্য করা এবং রাজনৈতিক শত্রুতা উদ্ধারের জন্যই তাকে ভুল বুঝিয়ে এই মামলা দায়ের করেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন তিনি।'
মাধবপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম সরদার জানান, 'স্বেচ্ছাসেবক দলের বরিশাল জেলার সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম ভিপি লিপন একজন ত্যাগী এবং নিবেদিতপ্রাণ নেতা। তিনি বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রায় ৩০টি মামলার আসামি হয়ে অসংখ্যবার কারাবরণ করেন। জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের তার একচেটিয়া জনপ্রিয়তা রয়েছে। এছাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শফিউল আযম শাহীন ফরাজীও বিএনপির দুর্দিনের নেতা। এলাকায় তার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা এবং জনপ্রিয়তা রয়েছে। এসব নেতাদের মানুষ ভালোবাসে, বিশ্বাস করে। তারা এলাকায় থাকলে কেউ আগামী নির্বাচনে ভোট ডাকাতি করতে পারবে না। তাই কৌশলে তাদের শায়েস্তা করে বেগম সেলিমা রহমানকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করতেই এই মামলায় তাদের আসামী দেওয়া হয়েছে।
উপজেলার রহমতপুর বাজারে অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনে এসময় বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, মাধবপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহবুব তালুকদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম সরদার, দেহেরগতি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিলন খান, উপজেলা বিএনপি নেতা আবুল কালাম মুন্সি, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি আরিফুর রহমান রতন তালুকদার, তাঁতী দলের সভাপতি জামাল হোসেন, ছাত্রদলের যুগ্ন-আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন, জিয়া মঞ্চের সভাপতি বাহাদুর হোসেনসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বর্তমান এবং সাবেক কমিটির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
মামলা প্রসঙ্গে বাদী নিহত রবিউল ইসলামের বাবা সেনাসদস্য মিজানুর রহমান দুলাল হাওলাদার বলেন, 'আমি বিগত ২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষা মিশনে কুয়েতে অবস্থান করছি। গত ১৭ নভেম্বর রাতে আমার ছেলে নিহত হওয়ার খবর পেয়ে আমি কুয়েত থেকে বাংলাদেশে আসি। আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। তাই কে বা কারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে তা দেখিনি। তবে ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শী, সাক্ষী এবং স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে যাদের নাম পাওয়া গেছে তাদের নামে মামলা দিয়েছি আমি। এখন কে দোষী আর কে নির্দোষী সেটা পুলিশ তদন্ত করে দেখুক।'
বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জহিরুল আলম জানান, 'রবিউল হত্যা মামলার তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে পুলিশ। মামলায় কোনো নিরপরাধ ব্যক্তির নাম থাকলে এবং তদন্তে তা প্রমাণিত হলে তিনি আইন অনুযায়ী অব্যাহতি পাবেন। নির্দোষ কাউকে হয়রানি করতে চায় না পুলিশ। আবার কোনো প্রকৃত অপরাধীকেও ছাড় দেওয়া হবে না।' #
গাজীপুরের জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার সম্পদ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্তের আওতায় রংপুর সিটি করপোরেশনও
বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে ৩০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগের তথ্য উঠে এসেছে স্থানীয় সরকার বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদনে। একই প্রতিবেদনে গাজীপুরের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার সম্পদ অর্জন ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এবং রংপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়মের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্থানীয় সরকার খাতের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে ৩০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়টি তালিকাভুক্ত হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিস্তারিত খাতভিত্তিক হিসাব প্রতিবেদনের প্রকাশিত অংশে উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে সাত হাজার ৫০০ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর ও সিটি করপোরেশনের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও সম্পদসংক্রান্ত ৬৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকার বিষয়ও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
রংপুর সিটি করপোরেশনের ২০০৯ সাল থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং নৌকা ও নৌকাঘাট ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের বিষয়গুলো পৃথকভাবে অনুসন্ধানের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থানীয় সরকার খাতের ৬৬টি ক্ষেত্রে অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব বিষয়ে তৈরি তদন্ত প্রতিবেদনটি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
এ ছাড়া বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের বাজার ও স্থাপনার ভাড়া আদায়সংক্রান্ত ঘটনায় ১৮৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা আত্মসাতের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রেড লাইসেন্স ফি আদায়, কমিউনিটি সেন্টার ও মার্কেটের দোকানভাড়া এবং অন্যান্য রাজস্ব খাতেও আর্থিক অনিয়মের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।'
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় সঞ্জয় কুমার বাড়ৈ (৩৫) নামে উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের বারপাইকা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সঞ্জয় কুমার বাড়ৈ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য।
পুলিশ জানায়, সম্প্রতি উপজেলার সেরাল গ্রামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সড়কে মিছিলের প্রস্তুতি নেন। এতে সঞ্জয় কুমার বাড়ৈও অংশ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে থানায় একটি মামলা হয়। ওই মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামি হিসেবে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান জানান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সঞ্জয় কুমার বাড়ৈকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়িয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিচ্ছে ‘অর্ণব’। এর প্রভাবে বরিশাল বিভাগের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দরসহ দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত আবহাওয়াবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, ঝড়টির কেন্দ্রের কাছাকাছি সাগর উত্তাল রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পায়রা, মোংলা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রাখা হয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। উপকূলীয় এলাকায় আবহাওয়ার পরিবর্তন ও সাগরের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার প্রয়োজন রয়েছে।
পূর্বাভাসে ঘূর্ণিঝড়টি আরও শক্তিশালী হয়ে বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের ওপর বাংলাদেশের উপকূলে এর প্রভাব নির্ভর করবে। তাই জেলে, ট্রলারচালক ও উপকূলীয় বাসিন্দাদের আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
সূত্র: বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের বুলেটিনের ভিত্তিতে প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন।