Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.

২১ নভেম্বর, ২০২৫ ২৩:১৩
শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়ের মিষ্টি বিতরণে দাওয়াত না পাওয়াকে কেন্দ্র করে বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষে খুন হন ছাত্রদল নেতা রবিউল ইসলাম। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় আসামি করা হয়েছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের। আসামী থেকে বাদ যায়নি ঢাকায় অবস্থানরত চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, এমনকি পত্রিকা কর্মচারীও। মামলার বাদী চেনেন না অনেক আসামিকে।
এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাওয়া গেছে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি রবিউল ইসলাম হত্যার মামলায়। বিএনপির এক গ্রুপের প্ররোচনায় দায়ের হওয়া ওই মামলাকে হয়রানিমূলক দাবি করে তা প্রত্যাহারের জন্য সংবাদ সম্মেলন করেছে বিএনপির আরেক গ্রুপ। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার রহমতপুর বাজারে জনাকীর্ণ ওই সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মো. আওলাদ হোসেন। তিনি বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমান গ্রুপের প্রভাবশালী একজন নেতা হিসেবে পরিচিত।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, 'ছাত্রদল নেতা রবিউল হত্যার ঘটনাটি কোনো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ছিল না। এটা ছাত্রদলের কিছু ছেলেদের মিষ্টি বিতরণ নিয়ে তাৎক্ষণিক ভুল বোঝাবুঝি, কথা কাটাকাটি ও মারামারির মধ্যে ঘটে যাওয়া একটি দুর্ঘটনা মাত্র। অথচ সেখানে প্রকৃত আসামি বাদ দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল এবং মামলাবাণিজ্য করার জন্য অধিকাংশ নিরপরাধ মানুষকে আসামি করা হয়েছে। বরিশাল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম ভিপি লিপন, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শফিউল আযম শাহীন, কৃষকদলের উপজেলা সহ-সভাপতি বাবুল হাওলাদার, ঢাকা মহানগর ছাত্রদল নেতা মিলন সরদার, দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার সার্কুলেশন ম্যানেজার মিজানুর রহমানসহ ১৪ জন নিরপরাধ মানুষকে এই হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে। অথচ তারা কেউই এলাকায় থাকেন না। কেউ ঢাকায় চাকরিজীবী, কেউ ব্যবসা করেন, কেউ পত্রিকা অফিসের কাজে বরিশালে থাকেন। এমনকি মামলার বাদী নিজেও ছিলেন বিদেশে। অনেক আসামিকেই তিনি চেনেন না। স্থানীয় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেতা এবং তাদের দোসররা এই মামলা নিয়ে কোটি টাকার আয়বাণিজ্য করা এবং রাজনৈতিক শত্রুতা উদ্ধারের জন্যই তাকে ভুল বুঝিয়ে এই মামলা দায়ের করেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন তিনি।'
মাধবপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম সরদার জানান, 'স্বেচ্ছাসেবক দলের বরিশাল জেলার সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম ভিপি লিপন একজন ত্যাগী এবং নিবেদিতপ্রাণ নেতা। তিনি বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রায় ৩০টি মামলার আসামি হয়ে অসংখ্যবার কারাবরণ করেন। জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের তার একচেটিয়া জনপ্রিয়তা রয়েছে। এছাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শফিউল আযম শাহীন ফরাজীও বিএনপির দুর্দিনের নেতা। এলাকায় তার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা এবং জনপ্রিয়তা রয়েছে। এসব নেতাদের মানুষ ভালোবাসে, বিশ্বাস করে। তারা এলাকায় থাকলে কেউ আগামী নির্বাচনে ভোট ডাকাতি করতে পারবে না। তাই কৌশলে তাদের শায়েস্তা করে বেগম সেলিমা রহমানকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করতেই এই মামলায় তাদের আসামী দেওয়া হয়েছে।
উপজেলার রহমতপুর বাজারে অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনে এসময় বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, মাধবপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহবুব তালুকদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম সরদার, দেহেরগতি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিলন খান, উপজেলা বিএনপি নেতা আবুল কালাম মুন্সি, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি আরিফুর রহমান রতন তালুকদার, তাঁতী দলের সভাপতি জামাল হোসেন, ছাত্রদলের যুগ্ন-আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন, জিয়া মঞ্চের সভাপতি বাহাদুর হোসেনসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বর্তমান এবং সাবেক কমিটির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
মামলা প্রসঙ্গে বাদী নিহত রবিউল ইসলামের বাবা সেনাসদস্য মিজানুর রহমান দুলাল হাওলাদার বলেন, 'আমি বিগত ২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষা মিশনে কুয়েতে অবস্থান করছি। গত ১৭ নভেম্বর রাতে আমার ছেলে নিহত হওয়ার খবর পেয়ে আমি কুয়েত থেকে বাংলাদেশে আসি। আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। তাই কে বা কারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে তা দেখিনি। তবে ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শী, সাক্ষী এবং স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে যাদের নাম পাওয়া গেছে তাদের নামে মামলা দিয়েছি আমি। এখন কে দোষী আর কে নির্দোষী সেটা পুলিশ তদন্ত করে দেখুক।'
বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জহিরুল আলম জানান, 'রবিউল হত্যা মামলার তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে পুলিশ। মামলায় কোনো নিরপরাধ ব্যক্তির নাম থাকলে এবং তদন্তে তা প্রমাণিত হলে তিনি আইন অনুযায়ী অব্যাহতি পাবেন। নির্দোষ কাউকে হয়রানি করতে চায় না পুলিশ। আবার কোনো প্রকৃত অপরাধীকেও ছাড় দেওয়া হবে না।' #
শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়ের মিষ্টি বিতরণে দাওয়াত না পাওয়াকে কেন্দ্র করে বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষে খুন হন ছাত্রদল নেতা রবিউল ইসলাম। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় আসামি করা হয়েছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের। আসামী থেকে বাদ যায়নি ঢাকায় অবস্থানরত চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, এমনকি পত্রিকা কর্মচারীও। মামলার বাদী চেনেন না অনেক আসামিকে।
এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাওয়া গেছে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি রবিউল ইসলাম হত্যার মামলায়। বিএনপির এক গ্রুপের প্ররোচনায় দায়ের হওয়া ওই মামলাকে হয়রানিমূলক দাবি করে তা প্রত্যাহারের জন্য সংবাদ সম্মেলন করেছে বিএনপির আরেক গ্রুপ। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার রহমতপুর বাজারে জনাকীর্ণ ওই সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মো. আওলাদ হোসেন। তিনি বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমান গ্রুপের প্রভাবশালী একজন নেতা হিসেবে পরিচিত।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, 'ছাত্রদল নেতা রবিউল হত্যার ঘটনাটি কোনো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ছিল না। এটা ছাত্রদলের কিছু ছেলেদের মিষ্টি বিতরণ নিয়ে তাৎক্ষণিক ভুল বোঝাবুঝি, কথা কাটাকাটি ও মারামারির মধ্যে ঘটে যাওয়া একটি দুর্ঘটনা মাত্র। অথচ সেখানে প্রকৃত আসামি বাদ দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল এবং মামলাবাণিজ্য করার জন্য অধিকাংশ নিরপরাধ মানুষকে আসামি করা হয়েছে। বরিশাল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম ভিপি লিপন, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শফিউল আযম শাহীন, কৃষকদলের উপজেলা সহ-সভাপতি বাবুল হাওলাদার, ঢাকা মহানগর ছাত্রদল নেতা মিলন সরদার, দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার সার্কুলেশন ম্যানেজার মিজানুর রহমানসহ ১৪ জন নিরপরাধ মানুষকে এই হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে। অথচ তারা কেউই এলাকায় থাকেন না। কেউ ঢাকায় চাকরিজীবী, কেউ ব্যবসা করেন, কেউ পত্রিকা অফিসের কাজে বরিশালে থাকেন। এমনকি মামলার বাদী নিজেও ছিলেন বিদেশে। অনেক আসামিকেই তিনি চেনেন না। স্থানীয় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেতা এবং তাদের দোসররা এই মামলা নিয়ে কোটি টাকার আয়বাণিজ্য করা এবং রাজনৈতিক শত্রুতা উদ্ধারের জন্যই তাকে ভুল বুঝিয়ে এই মামলা দায়ের করেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন তিনি।'
মাধবপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম সরদার জানান, 'স্বেচ্ছাসেবক দলের বরিশাল জেলার সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম ভিপি লিপন একজন ত্যাগী এবং নিবেদিতপ্রাণ নেতা। তিনি বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রায় ৩০টি মামলার আসামি হয়ে অসংখ্যবার কারাবরণ করেন। জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের তার একচেটিয়া জনপ্রিয়তা রয়েছে। এছাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শফিউল আযম শাহীন ফরাজীও বিএনপির দুর্দিনের নেতা। এলাকায় তার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা এবং জনপ্রিয়তা রয়েছে। এসব নেতাদের মানুষ ভালোবাসে, বিশ্বাস করে। তারা এলাকায় থাকলে কেউ আগামী নির্বাচনে ভোট ডাকাতি করতে পারবে না। তাই কৌশলে তাদের শায়েস্তা করে বেগম সেলিমা রহমানকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করতেই এই মামলায় তাদের আসামী দেওয়া হয়েছে।
উপজেলার রহমতপুর বাজারে অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনে এসময় বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, মাধবপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহবুব তালুকদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম সরদার, দেহেরগতি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিলন খান, উপজেলা বিএনপি নেতা আবুল কালাম মুন্সি, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি আরিফুর রহমান রতন তালুকদার, তাঁতী দলের সভাপতি জামাল হোসেন, ছাত্রদলের যুগ্ন-আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন, জিয়া মঞ্চের সভাপতি বাহাদুর হোসেনসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বর্তমান এবং সাবেক কমিটির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
মামলা প্রসঙ্গে বাদী নিহত রবিউল ইসলামের বাবা সেনাসদস্য মিজানুর রহমান দুলাল হাওলাদার বলেন, 'আমি বিগত ২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষা মিশনে কুয়েতে অবস্থান করছি। গত ১৭ নভেম্বর রাতে আমার ছেলে নিহত হওয়ার খবর পেয়ে আমি কুয়েত থেকে বাংলাদেশে আসি। আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। তাই কে বা কারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে তা দেখিনি। তবে ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শী, সাক্ষী এবং স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে যাদের নাম পাওয়া গেছে তাদের নামে মামলা দিয়েছি আমি। এখন কে দোষী আর কে নির্দোষী সেটা পুলিশ তদন্ত করে দেখুক।'
বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জহিরুল আলম জানান, 'রবিউল হত্যা মামলার তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে পুলিশ। মামলায় কোনো নিরপরাধ ব্যক্তির নাম থাকলে এবং তদন্তে তা প্রমাণিত হলে তিনি আইন অনুযায়ী অব্যাহতি পাবেন। নির্দোষ কাউকে হয়রানি করতে চায় না পুলিশ। আবার কোনো প্রকৃত অপরাধীকেও ছাড় দেওয়া হবে না।' #

১৩ মার্চ, ২০২৬ ১৬:৫৫

১২ মার্চ, ২০২৬ ১৯:২৭

১২ মার্চ, ২০২৬ ১৮:১৯
বরিশালের বাকেরগঞ্জে ট্রাক ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অটোরিকশায় থাকা আরও ১ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বরিশাল পটুয়াখালী মহাসড়কের গোলদার বাড়ি নামক স্থানে সকাল ৯ টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশা বাকেরগঞ্জ থেকে দাদুরহাট যাওয়ার পথে বিপরীত দিক পটুয়াখালী থেকে আসা একটি দ্রুতগামী তরমুজবাহী ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে পড়ে। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
এ সময় গুরুতর আহত অবস্থায় অটোরিকশাচালক হিরণ গাজী ও অটোরিক্সার যাত্রী দুইজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অটোচালক হিরণ গাজী নিহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করেন।
বরিশালের বাবুগঞ্জে ঘরের দোতলায় বসে রশির টানিয়ে ইয়াবা বিক্রির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া বিএনপি নেতা মো. এনামুল হাওলাদার (৪৫) কে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ এবং দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা।
বিএনপি নেতা মো. এনামুল হাওলাদার (৪৫) বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানাধীন রহমতপুর ইউনিয়নের ক্ষুদ্রকাঠী গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে। তিনি রহমতপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রহমতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আ. করিম হাং ও সাধারণ সম্পাদক রাজন সিকদারের সিদ্ধান্তে তাকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। রহমতপুর ইউনিয়ন বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মো. নিজাম হাওলাদার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগ এবং দলের নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলার পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার কারণে রহমতপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. এনামুল হাওলাদারকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের তাকে কোনো ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে বুধবার (১১ মার্চ) দুপুর দেড়টার দিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) বরিশাল জেলা কার্যালয়ের একটি দল বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানাধীন রহমতপুর ইউনিয়নের ক্ষুদ্রকাঠী গ্রামে এনামুল হাওলাদারের নিজ বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানে তার কাছ থেকে ৩২৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির ৬ লাখ ৫৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিএনসি সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজ বাড়ির দোতলায় বসে রশির মাধ্যমে ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রি করতেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা তার বাড়িতে এসে ইয়াবা কিনতেন। বাড়ির লোকজন একাধিকবার তাকে বাধা দিলেও তিনি এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
অভিযানের অংশ হিসেবে বুধবার দুপুরে ডিএনসির সদস্যরা ছদ্মবেশে ওই বাড়িতে ইয়াবা কিনতে যান। এ সময় এনামুল দোতলায় বসে রশির মাধ্যমে তাদের কাছে ইয়াবা সরবরাহ করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরপরই ডিএনসির আরেকটি দল সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট ও নগদ অর্থ জব্দ করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বরিশাল জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক হাওলাদার মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এনামুল হাওলাদারের ঘরের দোতলা থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বরিশালের বাবুগঞ্জে ঘরের দোতলায় বসে রশির টানিয়ে ইয়াবা বিক্রির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া বিএনপি নেতা মো. এনামুল হাওলাদার (৪৫) কে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ এবং দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা।
বিএনপি নেতা মো. এনামুল হাওলাদার (৪৫) বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানাধীন রহমতপুর ইউনিয়নের ক্ষুদ্রকাঠী গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে। তিনি রহমতপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রহমতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আ. করিম হাং ও সাধারণ সম্পাদক রাজন সিকদারের সিদ্ধান্তে তাকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। রহমতপুর ইউনিয়ন বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মো. নিজাম হাওলাদার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগ এবং দলের নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলার পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার কারণে রহমতপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. এনামুল হাওলাদারকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের তাকে কোনো ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে বুধবার (১১ মার্চ) দুপুর দেড়টার দিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) বরিশাল জেলা কার্যালয়ের একটি দল বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানাধীন রহমতপুর ইউনিয়নের ক্ষুদ্রকাঠী গ্রামে এনামুল হাওলাদারের নিজ বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানে তার কাছ থেকে ৩২৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির ৬ লাখ ৫৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিএনসি সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজ বাড়ির দোতলায় বসে রশির মাধ্যমে ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রি করতেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা তার বাড়িতে এসে ইয়াবা কিনতেন। বাড়ির লোকজন একাধিকবার তাকে বাধা দিলেও তিনি এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
অভিযানের অংশ হিসেবে বুধবার দুপুরে ডিএনসির সদস্যরা ছদ্মবেশে ওই বাড়িতে ইয়াবা কিনতে যান। এ সময় এনামুল দোতলায় বসে রশির মাধ্যমে তাদের কাছে ইয়াবা সরবরাহ করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরপরই ডিএনসির আরেকটি দল সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট ও নগদ অর্থ জব্দ করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বরিশাল জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক হাওলাদার মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এনামুল হাওলাদারের ঘরের দোতলা থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মাঠ কাঁপানো খ্যাতনামা ফুটবলার, সেনা কর্মকর্তা, ৭১'র রণাঙ্গনের খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর পর এবার স্পিকারের পদ অলঙ্কৃত করলেন বৃহত্তর বরিশালের কৃতি সন্তান (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য এবং ভোলা–৩ আসনের সাতবারের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টায় অধিবেশন শুরু হলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে স্পিকার হিসেবে শপথ করান। এই শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে দুপুর ১২টার পর সম্পন্ন হয়।
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বর্তমানে নতুন সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
ব্যক্তিগত জীবন ও শিক্ষা:
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের জন্ম ১৯৪৪ সালের ২৯ অক্টোবর ভোলার লালমোহনে। তার পিতা মরহুম ডা. আজহার উদ্দিন আহমদ ছিলেন পাকিস্তান জাতীয় সংসদের সাবেক সদস্য, এবং মা মরহুমা করিমুন নেছা বেগম গৃহিণী ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ১৯৬৪ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৬৫ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১ ডিসেম্বর ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হন এবং ১৯৭৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অবসর গ্রহণ করেন।
মুক্তিযুদ্ধ ও সামরিক জীবন
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য তিনি বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বীর বিক্রম পান। ৩১ জুলাই ১৯৭১, তিনি ১ম ইস্ট বেঙ্গলের কামালপুর বিওপি আক্রমণে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে আহত হন।
৩০ মার্চ ১৯৭১, যশোর ক্যান্টনমেন্টে তিনি তরুণ অফিসার হিসেবে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন এবং আট ঘণ্টাব্যাপী সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। পরে যশোর-খুলনা অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধকে সংগঠিত করেন এবং বেনাপোল অঞ্চলে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে একাধিক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিনি ১ম ইস্ট বেঙ্গল ব্যাটালিয়নের একমাত্র কমান্ডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১, মেজর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে সিলেট দখলের সময়ে তাঁর নেতৃত্বে ‘বি’ কোম্পানি পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করে।
রাজনৈতিক জীবন;
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ভোলা-৩ (লালমোহন ও তজমুদ্দিন) আসন থেকে সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন (৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম ও ১৩তম সংসদ)। ১৯৯১ সালে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদে জয়ী হন এবং ১৯৯২ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯৬ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধিন দ্বিতীয় সরকারের তিনি বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী এবং ২০০১-০৬ সালে তৃতীয় সরকারের পানিসম্পদ, বাণিজ্য ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধিন নতুন সরকারের তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালণ করছেন।
ক্রীড়াজীবন;
তিনি ছিলেন খ্যাতনামা ফুটবলার। ১৯৬৭-১৯৭১ সালে পাকিস্তান জাতীয় দলের সদস্য হিসেবে ইরান, তুরস্ক ও বার্মা (বর্তমান মিয়ানমার) সফর করেন। ১৯৭০ সালে তেহরানে অনুষ্ঠিত আরসিডি প্রতিযোগিতায় তিনি জাতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন। ২০০৫ সালে ফিফা তাকে বিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশের সেরা ফুটবলার হিসেবে সেন্টেনারি অর্ডার অব মেরিট সম্মাননা প্রদান করে। তিনি ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং দলের সদস্য হিসেবে ১২ বছর খেলেছেন এবং ১৯৭৬ সালে দলের অধিনায়কের দায়িত্বও পালন করেন। এছাড়া ১৯৬৪-৬৬ সালে প্রাদেশিক প্রতিযোগিতায় ১০০ ও ২০০ মিটার দৌড়ে পূর্ব পাকিস্তানের দ্রুততম মানবের খেতাব লাভ করেন।
পারিবারিক জীবন:
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের স্ত্রী দিলারা হাফিজ ছিলেন শিক্ষকতা পেশায় নিযুক্ত এবং ইডেন মহিলা কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা দপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে অবসর নেন। তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে—শাহরুখ হাফিজ, শামামা শাহরীন হাফিজ এবং তাহারাত হাফিজ।
মাঠ কাঁপানো খ্যাতনামা ফুটবলার, সেনা কর্মকর্তা, ৭১'র রণাঙ্গনের খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর পর এবার স্পিকারের পদ অলঙ্কৃত করলেন বৃহত্তর বরিশালের কৃতি সন্তান (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য এবং ভোলা–৩ আসনের সাতবারের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টায় অধিবেশন শুরু হলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে স্পিকার হিসেবে শপথ করান। এই শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে দুপুর ১২টার পর সম্পন্ন হয়।
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বর্তমানে নতুন সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
ব্যক্তিগত জীবন ও শিক্ষা:
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের জন্ম ১৯৪৪ সালের ২৯ অক্টোবর ভোলার লালমোহনে। তার পিতা মরহুম ডা. আজহার উদ্দিন আহমদ ছিলেন পাকিস্তান জাতীয় সংসদের সাবেক সদস্য, এবং মা মরহুমা করিমুন নেছা বেগম গৃহিণী ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ১৯৬৪ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৬৫ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১ ডিসেম্বর ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হন এবং ১৯৭৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অবসর গ্রহণ করেন।
মুক্তিযুদ্ধ ও সামরিক জীবন
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য তিনি বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বীর বিক্রম পান। ৩১ জুলাই ১৯৭১, তিনি ১ম ইস্ট বেঙ্গলের কামালপুর বিওপি আক্রমণে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে আহত হন।
৩০ মার্চ ১৯৭১, যশোর ক্যান্টনমেন্টে তিনি তরুণ অফিসার হিসেবে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন এবং আট ঘণ্টাব্যাপী সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। পরে যশোর-খুলনা অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধকে সংগঠিত করেন এবং বেনাপোল অঞ্চলে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে একাধিক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিনি ১ম ইস্ট বেঙ্গল ব্যাটালিয়নের একমাত্র কমান্ডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১, মেজর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে সিলেট দখলের সময়ে তাঁর নেতৃত্বে ‘বি’ কোম্পানি পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করে।
রাজনৈতিক জীবন;
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ভোলা-৩ (লালমোহন ও তজমুদ্দিন) আসন থেকে সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন (৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম ও ১৩তম সংসদ)। ১৯৯১ সালে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদে জয়ী হন এবং ১৯৯২ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯৬ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধিন দ্বিতীয় সরকারের তিনি বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী এবং ২০০১-০৬ সালে তৃতীয় সরকারের পানিসম্পদ, বাণিজ্য ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধিন নতুন সরকারের তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালণ করছেন।
ক্রীড়াজীবন;
তিনি ছিলেন খ্যাতনামা ফুটবলার। ১৯৬৭-১৯৭১ সালে পাকিস্তান জাতীয় দলের সদস্য হিসেবে ইরান, তুরস্ক ও বার্মা (বর্তমান মিয়ানমার) সফর করেন। ১৯৭০ সালে তেহরানে অনুষ্ঠিত আরসিডি প্রতিযোগিতায় তিনি জাতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন। ২০০৫ সালে ফিফা তাকে বিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশের সেরা ফুটবলার হিসেবে সেন্টেনারি অর্ডার অব মেরিট সম্মাননা প্রদান করে। তিনি ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং দলের সদস্য হিসেবে ১২ বছর খেলেছেন এবং ১৯৭৬ সালে দলের অধিনায়কের দায়িত্বও পালন করেন। এছাড়া ১৯৬৪-৬৬ সালে প্রাদেশিক প্রতিযোগিতায় ১০০ ও ২০০ মিটার দৌড়ে পূর্ব পাকিস্তানের দ্রুততম মানবের খেতাব লাভ করেন।
পারিবারিক জীবন:
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের স্ত্রী দিলারা হাফিজ ছিলেন শিক্ষকতা পেশায় নিযুক্ত এবং ইডেন মহিলা কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা দপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে অবসর নেন। তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে—শাহরুখ হাফিজ, শামামা শাহরীন হাফিজ এবং তাহারাত হাফিজ।
বরিশালের বাকেরগঞ্জে ট্রাক ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অটোরিকশায় থাকা আরও ১ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বরিশাল পটুয়াখালী মহাসড়কের গোলদার বাড়ি নামক স্থানে সকাল ৯ টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশা বাকেরগঞ্জ থেকে দাদুরহাট যাওয়ার পথে বিপরীত দিক পটুয়াখালী থেকে আসা একটি দ্রুতগামী তরমুজবাহী ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে পড়ে। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
এ সময় গুরুতর আহত অবস্থায় অটোরিকশাচালক হিরণ গাজী ও অটোরিক্সার যাত্রী দুইজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অটোচালক হিরণ গাজী নিহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করেন।