সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটায় সন্ধান পাওয়া আড়াই’শ বছরের পুরানো পালতোলা নৌকাটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি গত ১২ বছরে। নৌকাটি বৃষ্টিতে ভিজে ও রোদে শুকিয়ে নষ্ট হচ্ছেছ।
ফলে হতাশ হচ্ছে নৌকাটি দেখতে আসা পর্যটকরা। তবে বৈজ্ঞানিক উপায়ে এই প্রাচীন নৌকা সংরক্ষণের পাশাপাশি একটি জাদুঘর তৈরির দাবি এলাবাসীর। নৌকাটি সংরক্ষণ না করলে পূর্ব পুরুষের শেষ স্মৃতিটুকু হারিয়ে যাবে বলে মনে করেন রাখাইনরা।
নৌকাটি সংরক্ষণের জন্য কাজ করার কথা জানালেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, ২০১৩ সালে সমুদ্র সৈকতের অব্যাহত ভাঙনে বালুর নিচ থেকে জেগে ওঠে ৭২ ফুট দৈর্ঘ্যে ১৪ ফুট প্র¯ে’র ৯০ টন ওজনের কাঠের তৈরি এ নৌকাটি। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উদ্যোগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী টেকনিক্যাল সহায়তায় বাংলাদেশ রেলওয়েকে সম্পৃক্ত করে ২০১৩ সালের ২৭ ফেরুয়ারি রেললাইনে তুলে তিন কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কুয়াকাটার শ্রী মঙ্গল বৌদ্ধ বিহারের পূর্ব পাশে প্রতি¯’াপন করা হয়।
ধারণা করা হ”েছ আড়াই’শ বছরের আগে রাখাইনরা এই নৌকায় কুয়াকাটায় এসে বসতি ¯’াপন করেছিলেন। কালের বিবর্তনে রাখাইনদের নানা স্মৃতি হারিয়ে গেলেও বর্তমানে এ নৌকাটি এ অঞ্চলের ইতিহাস ঐতিহ্যের সাক্ষী বহন করছে। তবে দীর্ঘদিনে সংস্কার না করায় বৃষ্টিতে ভিজে ও রোদে শুকিয়ে নৌকাটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
নৌকা থেকে উদ্ধার করে বরিশাল বিভাগীয় যাদুঘরে রাখা হয়েছে তামার তৈরি পেরেক, নারিকেলের মালাই, নারিকেলের ছোবলা দিয়ে বানানো রশি, ভাঙা মৃৎপাত্রের টুকরো, প্রচুর ধানের বহিরাবরণ/চিটা, পাটকাঠি, মাদুরের অবশেষ, পাটের তৈরি ছালার নিদর্শন, লোহার ভারি ও বিশালাকৃতির শিকল। নৌকাটি কাঠের বাতা, স্টিলের পাত ও রং দ্বারা আবৃত করা হয়েছে। এটি পিতল প্রলেভ থাকার কারণে অনেকে সোনার নৌকাও বলছেন। ¯’ানীয় রাখাইন সম্প্রদায়ের তথ্য মতে, প্রায় ২’শ ২৫ বছর পূর্বে বার্মার আরাকান রাজ্য থেকে রাখাইন সম্প্রদায় জাতিগত কোন্দলের কারণে ১৫০টি পরিবার রাতের আধারে ৫০টি কাঠের নৌকায় উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় এসে বন জঙ্গল পরিস্কার করে বসতি ¯’াপন করেছিলেন। কুয়াকাটায় সংরক্ষণ করা প্রাচীন নৌকাটি দেখতে এখন নিয়মিত পর্যটকরা ভিড় করছেন। পিরোজপুর থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক হাসান মামুন বলেন, নৌকাটি এ অঞ্চলের রাখাইনদের ইতিহাস ঐতিহ্যের সাক্ষী বহন করছে। নৌকাটি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা উচিত। আরেক পর্যটন নাদিরা পারভীন বলেন, কুয়াকাটায় ঘুরতে এসে নৌকাটির কথা শুনে দেখতে আসলাম। অনেক পুরানো নৌকা দেখলাম।
তবে একটি এভাবে অযত্ন অবহেলায় না রেখে একটি যাদুঘরে রাখলে ভালো হবে। কুয়াকাটা শ্রী মঙ্গল বৌদ্ধ বিহারের উপাধ্যক্ষ ইন্দ্রোং বংশ ভিক্ষু বলেন, নৌকাটি আমাদের পূর্ব পুরুষের স্মৃতি। এটিকে রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। নৌকাটি যদি সংরক্ষণ না করা হয় তাহলে আমাদের পূর্ব পুরুষের স্মৃতিটুকু হারিয়ে যাবে।
কুয়াকাটা ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট এসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আমির বলেন, একটি যাদুঘর নির্মাণ করে রাখাইনদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য জড়িত প্রাচীন পালতোলা নৌকাটি সংরক্ষণ করা উচিত। অন্যথায় বৃষ্টিতে ভিজে ও রোদে শুকিয়ে নৌকাটি নষ্ট হয়ে গেলে আদিবাসী রাখাইনদের একটি প্রাচীন ঐতিহ্য হারিয়ে যাবে। উপকূলীয় অঞ্চলের বিভিন্ন ধরনের নৌকা মিউজিয়ামে সংরক্ষণ করতে পারলে দূর দূরান্তের পর্যটকরা দেখতে পারবে।
বরিশাল বিভাগীয় যাদুঘরের সহকারী কাস্টোডিয়া মোঃ আতিকুর রহমান বলেন, প্রাচীন এ নৌকাটি সংরক্ষণের জন্য কাজ চলছে। কাঠের তৈরী প্রাচীন নিদর্শন দীর্ঘ মেয়াদি সংরক্ষণের পাশাপাশি কুয়াকাটায় একটি অত্যাধুনিক যাদুঘর নির্মাণের পরিকল্পনা আছে। কুয়াকাটার উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাচীন নিদর্শনগুলো সংরক্ষণ করলে পর্যটকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথ খুলবে এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টজনরা।

০১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:০৫
পছন্দসই প্রার্থীকে পিয়ন পদে চাকরি দিতে তদবির করেছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। সেই তদবির উপেক্ষা করে প্রক্সি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীকে বদলি করা হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে।
গত মঙ্গলবার বিসিএস ২৫ ব্যাচের এই কর্মকর্তাকে পটুয়াখালী থেকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়। তবে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ এটিকে নিয়মিত প্রশাসনিক রদবদল বলে দাবি করেছেন।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একাধিক কর্মচারীর দাবি, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের পছন্দের প্রার্থী জহিরুল ইসলামকে অফিস সহায়ক (পিয়ন) পদে নিয়োগ দিতে তদবির করা হয়েছিল। কিন্তু লিখিত পরীক্ষায় প্রক্সি দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় জহিরুলের বিরুদ্ধে মামলা করে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন ডিসি।
জানা গেছে, পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখায় ১০টি অফিস সহায়ক পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা হয় ২৫ সেপ্টেম্বর। পরীক্ষায় জহিরুল ইসলাম সর্বোচ্চ নম্বর পান। পরদিন মৌখিক পরীক্ষায় বোর্ডের প্রশ্নের জবাব দিতে না পারায় সন্দেহ হয়। তার লিখিত পরীক্ষার খাতা ও হাতের লেখা যাচাই করে ভিন্নতা পাওয়া যায়।
জিজ্ঞাসাবাদে জহিরুল স্বীকার করেন, তার পরিবর্তে সাখাওয়াত নামে অন্য একজন লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানালে জহিরুলকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে মামলা হয়।
জেলা প্রশাসনের কয়েকজন কর্মচারীর দাবি, জহিরুলকে চাকরি দিতে প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তদবির করা হয়েছিল। কিন্তু ডিসি ব্যবস্থা নেওয়ায় ক্ষুব্ধ হন নুরুল হক নুর। পরে তিনি ডিসির বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রতিমন্ত্রী নুর। তিনি বলেন, ডিসির আচরণগত সমস্যার বিষয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন। পিয়ন নিয়োগে তদবিরের অভিযোগ সঠিক নয়।
নুর বলেন, তিনি পটুয়াখালী গেলে ডিসি তার অনুষ্ঠানে যোগ দিতেন না। এমনকি সরকারি সফরের সময় একটি সেমিনারে যোগ দেওয়ার কথা বলে ডিসি কুয়াকাটায় চলে যান বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, ডিসির পদোন্নতি হয়েছে এবং তার বদলি প্রশাসনের নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। এর সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা তার জানা নেই।
ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীও অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রক্সি পরীক্ষার মতো প্রতারণায় অভিযুক্ত কোনো প্রার্থীর পক্ষে জনপ্রতিনিধির চাকরির সুপারিশ করা অনৈতিক। আর ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে কোনো কর্মকর্তাকে যদি শাস্তিমূলকভাবে বদলি করা হয়ে থাকে, তাহলে তা ক্ষমতার অপব্যবহারের দৃষ্টান্ত হবে।
সংবাদসূত্র দৈনিক আমার দেশ
পছন্দসই প্রার্থীকে পিয়ন পদে চাকরি দিতে তদবির করেছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। সেই তদবির উপেক্ষা করে প্রক্সি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীকে বদলি করা হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে।
গত মঙ্গলবার বিসিএস ২৫ ব্যাচের এই কর্মকর্তাকে পটুয়াখালী থেকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়। তবে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ এটিকে নিয়মিত প্রশাসনিক রদবদল বলে দাবি করেছেন।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একাধিক কর্মচারীর দাবি, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের পছন্দের প্রার্থী জহিরুল ইসলামকে অফিস সহায়ক (পিয়ন) পদে নিয়োগ দিতে তদবির করা হয়েছিল। কিন্তু লিখিত পরীক্ষায় প্রক্সি দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় জহিরুলের বিরুদ্ধে মামলা করে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন ডিসি।
জানা গেছে, পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখায় ১০টি অফিস সহায়ক পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা হয় ২৫ সেপ্টেম্বর। পরীক্ষায় জহিরুল ইসলাম সর্বোচ্চ নম্বর পান। পরদিন মৌখিক পরীক্ষায় বোর্ডের প্রশ্নের জবাব দিতে না পারায় সন্দেহ হয়। তার লিখিত পরীক্ষার খাতা ও হাতের লেখা যাচাই করে ভিন্নতা পাওয়া যায়।
জিজ্ঞাসাবাদে জহিরুল স্বীকার করেন, তার পরিবর্তে সাখাওয়াত নামে অন্য একজন লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানালে জহিরুলকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে মামলা হয়।
জেলা প্রশাসনের কয়েকজন কর্মচারীর দাবি, জহিরুলকে চাকরি দিতে প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তদবির করা হয়েছিল। কিন্তু ডিসি ব্যবস্থা নেওয়ায় ক্ষুব্ধ হন নুরুল হক নুর। পরে তিনি ডিসির বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রতিমন্ত্রী নুর। তিনি বলেন, ডিসির আচরণগত সমস্যার বিষয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন। পিয়ন নিয়োগে তদবিরের অভিযোগ সঠিক নয়।
নুর বলেন, তিনি পটুয়াখালী গেলে ডিসি তার অনুষ্ঠানে যোগ দিতেন না। এমনকি সরকারি সফরের সময় একটি সেমিনারে যোগ দেওয়ার কথা বলে ডিসি কুয়াকাটায় চলে যান বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, ডিসির পদোন্নতি হয়েছে এবং তার বদলি প্রশাসনের নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। এর সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা তার জানা নেই।
ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীও অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রক্সি পরীক্ষার মতো প্রতারণায় অভিযুক্ত কোনো প্রার্থীর পক্ষে জনপ্রতিনিধির চাকরির সুপারিশ করা অনৈতিক। আর ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে কোনো কর্মকর্তাকে যদি শাস্তিমূলকভাবে বদলি করা হয়ে থাকে, তাহলে তা ক্ষমতার অপব্যবহারের দৃষ্টান্ত হবে।
সংবাদসূত্র দৈনিক আমার দেশ

০১ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:৪৮
পটুয়াখালীর বাউফলে মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে সিফাত (২৯) ও নাজমুল (১৮) নামে দুই যুবক আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের মমিনপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও আহতদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাদক বিক্রি নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে কয়েকজন কিশোর সিফাত ও নাজমুলের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
আহত সিফাত ও নাজমুল অভিযোগ করে বলেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক বিক্রি করে আসছে। মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করায় বুধবার ৩১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। তাদের দাবি, হামলাকারীদের কাছে ছুরি, বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার যন্ত্র ও বৈদ্যুতিক তার ছিল। হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল বলেও তারা অভিযোগ করেন।
এ ঘটনায় ওমর গাজী, নাজমুল আকন, সামী মোল্লা, রেদোয়ান ও রিফাত নামে কয়েকজনের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ওমর গাজী বলেন, তাদের মধ্যে সিনিয়রদের সম্মান দেওয়ার বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়েছে৷ আমাদেরকে তারা লাঠি দিয়ে আঘাত করেছে আমরাও একটু করেছি। তবে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে বলে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সঠিক নয়।
বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রেদোয়ান রিফাত বলেন, দুই যুবককে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মাথা ও মুখে আঘাত রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আঘাতের ধরন ও শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, খোজ খবর নিয়ে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
পটুয়াখালীর বাউফলে মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে সিফাত (২৯) ও নাজমুল (১৮) নামে দুই যুবক আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের মমিনপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও আহতদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাদক বিক্রি নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে কয়েকজন কিশোর সিফাত ও নাজমুলের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
আহত সিফাত ও নাজমুল অভিযোগ করে বলেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক বিক্রি করে আসছে। মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করায় বুধবার ৩১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। তাদের দাবি, হামলাকারীদের কাছে ছুরি, বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার যন্ত্র ও বৈদ্যুতিক তার ছিল। হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল বলেও তারা অভিযোগ করেন।
এ ঘটনায় ওমর গাজী, নাজমুল আকন, সামী মোল্লা, রেদোয়ান ও রিফাত নামে কয়েকজনের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ওমর গাজী বলেন, তাদের মধ্যে সিনিয়রদের সম্মান দেওয়ার বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়েছে৷ আমাদেরকে তারা লাঠি দিয়ে আঘাত করেছে আমরাও একটু করেছি। তবে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে বলে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সঠিক নয়।
বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রেদোয়ান রিফাত বলেন, দুই যুবককে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মাথা ও মুখে আঘাত রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আঘাতের ধরন ও শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, খোজ খবর নিয়ে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:৫০
পটুয়াখালীর মহিপুরে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে এক ছাত্রদল নেতাকে তুলে নিয়ে রাতভর মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের সময় অভিযুক্তদের পা ধরে ‘আব্বা’ বলে ডাকলেও তাকে রেহাই দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন মেহেদী হাসান ফারুক নামে ওই ছাত্রদল নেতা।
ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন তিনি। ফারুক মহিপুর থানা সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক।
সংবাদ সম্মেলনে ফারুক দাবি করেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে মহিপুর থেকে সাদা পোশাকে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাকে তুলে নেন। তাদের হাতে ওয়াকিটকি ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। পরে মোটরসাইকেলে করে তাকে কলাপাড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়।
তার অভিযোগ, সেখানে কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ফাহিমের নেতৃত্বে কয়েকজন তাকে দফায় দফায় মারধর করেন। রাত ১টা পর্যন্ত চলে নির্যাতন।
ফারুক বলেন, “আমি তাদের পা ধরে ‘আব্বা’ বলে ডেকেছি। বলেছি, আমার বাবা নেই, আপনারাই আমার বাবা। আমার মা অসুস্থ—এ ঘটনা জানলে তিনি মারা যেতে পারেন। তারপরও তারা আমাকে ছাড়েনি।”
পরে খবর পেয়ে তার দুই বন্ধু মহিপুর ইউনিয়ন শাখা ছাত্রদল নেতা কামরুল ইসলাম শাওন ও রবিউল ইসলাম গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন বলে জানান ফারুক। প্রথমে তাকে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে ১৫ দিন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরেন তিনি। তবে গত ২৬ সেপ্টেম্বর আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বরিশালে নেওয়া হয়।
ফারুকের দাবি, তাকে তুলে নেওয়ার দৃশ্য সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে। ওই ফুটেজ পর্যালোচনা করলে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। এতে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন এই ছাত্রদল নেতা।
সংবাদ সম্মেলনে ফারুক বলেন, কোনো বিয়ের অনুষ্ঠানে সাক্ষী হওয়া অপরাধ নয়। অথচ ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তাকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং তার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
অভিযোগের তীর রয়েছে কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা, সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ফাহিম, রাশেদসহ ১০ থেকে ১৫ জনের দিকে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আমিরুল ইসলাম ফাহিম ও মাসুদ রানা। তাদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার সত্যতা অনুসন্ধানে পুলিশ কাজ করছে।'
পটুয়াখালীর মহিপুরে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে এক ছাত্রদল নেতাকে তুলে নিয়ে রাতভর মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের সময় অভিযুক্তদের পা ধরে ‘আব্বা’ বলে ডাকলেও তাকে রেহাই দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন মেহেদী হাসান ফারুক নামে ওই ছাত্রদল নেতা।
ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন তিনি। ফারুক মহিপুর থানা সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক।
সংবাদ সম্মেলনে ফারুক দাবি করেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে মহিপুর থেকে সাদা পোশাকে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাকে তুলে নেন। তাদের হাতে ওয়াকিটকি ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। পরে মোটরসাইকেলে করে তাকে কলাপাড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়।
তার অভিযোগ, সেখানে কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ফাহিমের নেতৃত্বে কয়েকজন তাকে দফায় দফায় মারধর করেন। রাত ১টা পর্যন্ত চলে নির্যাতন।
ফারুক বলেন, “আমি তাদের পা ধরে ‘আব্বা’ বলে ডেকেছি। বলেছি, আমার বাবা নেই, আপনারাই আমার বাবা। আমার মা অসুস্থ—এ ঘটনা জানলে তিনি মারা যেতে পারেন। তারপরও তারা আমাকে ছাড়েনি।”
পরে খবর পেয়ে তার দুই বন্ধু মহিপুর ইউনিয়ন শাখা ছাত্রদল নেতা কামরুল ইসলাম শাওন ও রবিউল ইসলাম গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন বলে জানান ফারুক। প্রথমে তাকে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে ১৫ দিন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরেন তিনি। তবে গত ২৬ সেপ্টেম্বর আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বরিশালে নেওয়া হয়।
ফারুকের দাবি, তাকে তুলে নেওয়ার দৃশ্য সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে। ওই ফুটেজ পর্যালোচনা করলে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। এতে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন এই ছাত্রদল নেতা।
সংবাদ সম্মেলনে ফারুক বলেন, কোনো বিয়ের অনুষ্ঠানে সাক্ষী হওয়া অপরাধ নয়। অথচ ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তাকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং তার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
অভিযোগের তীর রয়েছে কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা, সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ফাহিম, রাশেদসহ ১০ থেকে ১৫ জনের দিকে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আমিরুল ইসলাম ফাহিম ও মাসুদ রানা। তাদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার সত্যতা অনুসন্ধানে পুলিশ কাজ করছে।'

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৩:০০
সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটায় সন্ধান পাওয়া আড়াই’শ বছরের পুরানো পালতোলা নৌকাটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি গত ১২ বছরে। নৌকাটি বৃষ্টিতে ভিজে ও রোদে শুকিয়ে নষ্ট হচ্ছেছ।
ফলে হতাশ হচ্ছে নৌকাটি দেখতে আসা পর্যটকরা। তবে বৈজ্ঞানিক উপায়ে এই প্রাচীন নৌকা সংরক্ষণের পাশাপাশি একটি জাদুঘর তৈরির দাবি এলাবাসীর। নৌকাটি সংরক্ষণ না করলে পূর্ব পুরুষের শেষ স্মৃতিটুকু হারিয়ে যাবে বলে মনে করেন রাখাইনরা।
নৌকাটি সংরক্ষণের জন্য কাজ করার কথা জানালেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, ২০১৩ সালে সমুদ্র সৈকতের অব্যাহত ভাঙনে বালুর নিচ থেকে জেগে ওঠে ৭২ ফুট দৈর্ঘ্যে ১৪ ফুট প্র¯ে’র ৯০ টন ওজনের কাঠের তৈরি এ নৌকাটি। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উদ্যোগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী টেকনিক্যাল সহায়তায় বাংলাদেশ রেলওয়েকে সম্পৃক্ত করে ২০১৩ সালের ২৭ ফেরুয়ারি রেললাইনে তুলে তিন কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কুয়াকাটার শ্রী মঙ্গল বৌদ্ধ বিহারের পূর্ব পাশে প্রতি¯’াপন করা হয়।
ধারণা করা হ”েছ আড়াই’শ বছরের আগে রাখাইনরা এই নৌকায় কুয়াকাটায় এসে বসতি ¯’াপন করেছিলেন। কালের বিবর্তনে রাখাইনদের নানা স্মৃতি হারিয়ে গেলেও বর্তমানে এ নৌকাটি এ অঞ্চলের ইতিহাস ঐতিহ্যের সাক্ষী বহন করছে। তবে দীর্ঘদিনে সংস্কার না করায় বৃষ্টিতে ভিজে ও রোদে শুকিয়ে নৌকাটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
নৌকা থেকে উদ্ধার করে বরিশাল বিভাগীয় যাদুঘরে রাখা হয়েছে তামার তৈরি পেরেক, নারিকেলের মালাই, নারিকেলের ছোবলা দিয়ে বানানো রশি, ভাঙা মৃৎপাত্রের টুকরো, প্রচুর ধানের বহিরাবরণ/চিটা, পাটকাঠি, মাদুরের অবশেষ, পাটের তৈরি ছালার নিদর্শন, লোহার ভারি ও বিশালাকৃতির শিকল। নৌকাটি কাঠের বাতা, স্টিলের পাত ও রং দ্বারা আবৃত করা হয়েছে। এটি পিতল প্রলেভ থাকার কারণে অনেকে সোনার নৌকাও বলছেন। ¯’ানীয় রাখাইন সম্প্রদায়ের তথ্য মতে, প্রায় ২’শ ২৫ বছর পূর্বে বার্মার আরাকান রাজ্য থেকে রাখাইন সম্প্রদায় জাতিগত কোন্দলের কারণে ১৫০টি পরিবার রাতের আধারে ৫০টি কাঠের নৌকায় উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় এসে বন জঙ্গল পরিস্কার করে বসতি ¯’াপন করেছিলেন। কুয়াকাটায় সংরক্ষণ করা প্রাচীন নৌকাটি দেখতে এখন নিয়মিত পর্যটকরা ভিড় করছেন। পিরোজপুর থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক হাসান মামুন বলেন, নৌকাটি এ অঞ্চলের রাখাইনদের ইতিহাস ঐতিহ্যের সাক্ষী বহন করছে। নৌকাটি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা উচিত। আরেক পর্যটন নাদিরা পারভীন বলেন, কুয়াকাটায় ঘুরতে এসে নৌকাটির কথা শুনে দেখতে আসলাম। অনেক পুরানো নৌকা দেখলাম।
তবে একটি এভাবে অযত্ন অবহেলায় না রেখে একটি যাদুঘরে রাখলে ভালো হবে। কুয়াকাটা শ্রী মঙ্গল বৌদ্ধ বিহারের উপাধ্যক্ষ ইন্দ্রোং বংশ ভিক্ষু বলেন, নৌকাটি আমাদের পূর্ব পুরুষের স্মৃতি। এটিকে রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। নৌকাটি যদি সংরক্ষণ না করা হয় তাহলে আমাদের পূর্ব পুরুষের স্মৃতিটুকু হারিয়ে যাবে।
কুয়াকাটা ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট এসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আমির বলেন, একটি যাদুঘর নির্মাণ করে রাখাইনদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য জড়িত প্রাচীন পালতোলা নৌকাটি সংরক্ষণ করা উচিত। অন্যথায় বৃষ্টিতে ভিজে ও রোদে শুকিয়ে নৌকাটি নষ্ট হয়ে গেলে আদিবাসী রাখাইনদের একটি প্রাচীন ঐতিহ্য হারিয়ে যাবে। উপকূলীয় অঞ্চলের বিভিন্ন ধরনের নৌকা মিউজিয়ামে সংরক্ষণ করতে পারলে দূর দূরান্তের পর্যটকরা দেখতে পারবে।
বরিশাল বিভাগীয় যাদুঘরের সহকারী কাস্টোডিয়া মোঃ আতিকুর রহমান বলেন, প্রাচীন এ নৌকাটি সংরক্ষণের জন্য কাজ চলছে। কাঠের তৈরী প্রাচীন নিদর্শন দীর্ঘ মেয়াদি সংরক্ষণের পাশাপাশি কুয়াকাটায় একটি অত্যাধুনিক যাদুঘর নির্মাণের পরিকল্পনা আছে। কুয়াকাটার উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাচীন নিদর্শনগুলো সংরক্ষণ করলে পর্যটকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথ খুলবে এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টজনরা।