
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ২৩:২৯
স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের শাসনামলে সরকারি দপ্তরসমূহে অনিয়ম-দুর্নীতি যে জেঁকে বসেছিল তার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস। গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তেনের পরে অন্য সব দপ্তরের ন্যায় এই অফিসেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যাপক রদবদল হয়। কিন্তু তারপরেও ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এই অফিসটিতে অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। বরং যত দিন গড়াচ্ছে তত এই অফিসটির অভ্যন্তরীণ অনিয়ম-দুর্নীতি প্রকাশ্যে আসছে। এবার এমন একটি তথ্য-উপাত্ত্ব সামনে এসেছে, যা শুনে অনেকেরই চক্ষু চড়কগাছ। বরিশাল শহরের লঞ্চঘাটসংলগ্ন পোর্টরোডের এই অফিসটিতে গত ১৬ বছর নিয়োগ ছাড়াই চাকরি করেন বিকাশ মন্ডল নামের ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি। তার কাছেই থাকতো অফিসের চাবি এবং তিনি দপ্তরের বিভিন্ন রুমে প্রবেশে করে কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ঘাটাঘাটিও করতেন। ছদ্মবেশধারী এই ব্যক্তি সরকারিভাবে কোনো বেতন না পেলেও ঘুসের টাকায় মেটানো হতো তার চাহিদা। বরিশালটাইমসের দীর্ঘদিনের অনুসন্ধানে এই চ্যাঞ্চল্যকর অনিয়ম-দুর্নীতির খবর প্রকাশ্যে আসার পরে বিকাশ মন্ডলকে কৌশলে অফিস থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অনুসন্ধানী সূত্র জানিয়েছে, বিকাশ মন্ডল নামের এই ব্যক্তি শুক্র-শনি সাপ্তাহিক ছুটির দিন বাদে প্রতিদিন গোটা জোনাল সেটেলমেন্টের অফিস চষে বেড়াতেন। এবং কর্মকর্তাদের কাছাকাছি থেকে তাদের কাজে সহযোগিতা করাসহ সেবা গ্রহিতাদের সাথে কর্মকর্তাদের আর্থিক রফাদফা করিয়ে দিতেন। দপ্তরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কক্ষের চাবিও থাকতো তার কাছে। সর্বশেষ তিনি সদর উপজেলার সার্ভেয়ার আ স ম রাসেলের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে কাজ করছিলেন।
গত সপ্তাহে এই ব্যক্তিকে সেটেলমেন্ট অফিসের নিচ তলার রেকর্ড রুমের ভিতরে প্রবেশ করে নথিপত্র ঘাটাঘাটি করতে দেখা যায়। এবং সেখান থেকে তিনি বের হয়ে সার্ভেয়ার রাসেলের রুমে প্রবেশ করে তার কাজে সহযোগিতা করতে দেখা গেছে। এই পুরো ঘটনার একটি ভিডিওচিত্র রূপালী বাংলাদেশ পত্রিকার এ প্রতিবেদকের হাতে সংরক্ষিত আছে। গত সপ্তাহে এই ছলচাতুরি ধরা পড়ার পরে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ না করে বিকাশকে কৌশলে অফিস থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
সূত্র জানিয়েছে, বিকাশ নামের এই ব্যক্তি প্রথমে সেটেলমেন্ট অফিসে দালালি করতেন। সেবা গ্রহিতাদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে তা দিয়ে অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে আইনসিক্ত নয়, এমন কাজগুলো করিয়ে নিতেন। আওয়ামী লীগ শাসনামলের শুরুর দিকে তিনি ছদ্মবেশে অফিসে ঢুকে পড়েন। এরপর থেকে তিনি নিজেকে অফিস সহায়ক পরিচয় দিতেন এবং কর্মকর্তাদের সাথে ওঠাবসা করেন। এবং একপর্যায়ে তিনি কর্মকর্তাদের অবৈধ উপার্জনের একটি মাধ্যম হয়ে ওঠেন। ফলে আওয়ামী লীগের শাসনামলে তার প্রতি কর্মকর্তাদের সুনজরও দেখা যায়।
অভিযোগ আছে, বিকাশ কর্মকর্তাদের আস্থাভাজন হওয়ায় বিগত সময়ে তাকে নিয়ে অফিসের কেউ টুটা শব্দ করেনি। বরং তার সাথে সখ্যতা রেখে একাধিক কর্মকর্তা ব্যাপক অর্থকড়ি কামিয়েছেন, বিকাশও হয়েছেন ক্রোড়পতি। সার্ভেয়ার রাসেলও সবকিছু যেনো শুনে অনুরুপ পদাঙ্ক অবলম্বন করতে চাইছিলেন। কিন্তু বিধিবাম। রূপালী বাংলাদেশের অনুসন্ধান রাসেলের এই পরিকল্পনায় জল ঢেলে দিয়েছে।
সার্ভেয়ার রাসেলের উপস্থিতিতে বিকাশের কাছে তার পরিচয় জানতে চাওয়া হলে তিনি নিজেকে প্রথমে নিজেকে অফিস সহায়ক পরিচয় দিলেও পরবর্তীতে অস্বীকার করেন। এবং তার বেতন কোথা থেকে আসছে জানতে চাইলে সার্ভেয়ার রাসেল বলেন, বিকাশ নিয়োগ ছাড়া কাজ করেন বিষয়টি আগের কর্মকর্তারাও জানতেন। এখন যারা আছেন তারাও জানেন এবং বিকাশের বেতন প্রকল্প করে দেওয়া হচ্ছে বলে জানান। যখন সার্ভেয়ার রাসেলের সাথে এ প্রতিবেদকের আলোচনা চলছিল, ঠিক তখনও বিকাশকে ফাইলপত্র সরবরাহ করতে দেখা যায়।
নিয়োগ ছাড়া বহিরাগত ব্যক্তি সরকারি দপ্তরে ১৬ বছর ধরে কাজ করেন এই বিষয়ে জানতে জোনাল সেটেলমেন্ট মৃধা মো. মোজাহিদুল ইসলাম এবং সহকারি সেটেলমেন্ট অফিসার নুরুল আমিন শিকদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা উভয়ে নতুন যোগদানের কথা জানিয়েছেন। এবং বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তারা দুজন মোটেও ওয়াকিবহাল ছিলেন না। তবে সংবাদকর্মীর মাধ্যমে যে দিন বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন, সেদিনই ব্যবস্থাগ্রহণ করা হয়েছে।
ছদ্মবেশি বিকাশ অফিসের কোনো ফাইলপত্র এদিক-সেদিক করেছেন কী না এবং তাকে অফিস করার কে অনুমতি দিয়েছেন এই প্রশ্নের কোনো উত্তর দুই কর্মকর্তার কেউ দিতে পারেননি। বহিরাগত ব্যক্তির মাধ্যমে অফিসের ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনার কথা স্বীকার করলেও বিকাশ বা তাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া সার্ভেয়ার রাসেলের বিরুদ্ধে গত এক সপ্তাহেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি জোনাল সেটেলমেন্ট কর্তৃপক্ষ, যা নিয়ে দপ্তরটির অপরাপর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কানাঘুষা চলছে।
এই বিষয়টি নিয়ে সংক্ষুব্ধ কর্মচারীদের একটি অংশ বলছেন, কোনো প্রকার নিয়োগ ছাড়া একজন বহিরাগত কিভাবে সরকারি দপ্তরে কাজ করেন এবং তার পক্ষে সার্ভেয়ার রাসেল সাফাই গাইলেন তা রীতিমত সকলকে হতবাক করে দিয়েছেন। কিন্তু আরও অবাক করেছে, এই ছলচাতুরি ধরা পড়ার পরেও অভিযুক্তকে আইনে সোপর্দ না করায়। তাদের ভাষায়, বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিৎ।’
স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের শাসনামলে সরকারি দপ্তরসমূহে অনিয়ম-দুর্নীতি যে জেঁকে বসেছিল তার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস। গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তেনের পরে অন্য সব দপ্তরের ন্যায় এই অফিসেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যাপক রদবদল হয়। কিন্তু তারপরেও ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এই অফিসটিতে অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। বরং যত দিন গড়াচ্ছে তত এই অফিসটির অভ্যন্তরীণ অনিয়ম-দুর্নীতি প্রকাশ্যে আসছে। এবার এমন একটি তথ্য-উপাত্ত্ব সামনে এসেছে, যা শুনে অনেকেরই চক্ষু চড়কগাছ। বরিশাল শহরের লঞ্চঘাটসংলগ্ন পোর্টরোডের এই অফিসটিতে গত ১৬ বছর নিয়োগ ছাড়াই চাকরি করেন বিকাশ মন্ডল নামের ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি। তার কাছেই থাকতো অফিসের চাবি এবং তিনি দপ্তরের বিভিন্ন রুমে প্রবেশে করে কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ঘাটাঘাটিও করতেন। ছদ্মবেশধারী এই ব্যক্তি সরকারিভাবে কোনো বেতন না পেলেও ঘুসের টাকায় মেটানো হতো তার চাহিদা। বরিশালটাইমসের দীর্ঘদিনের অনুসন্ধানে এই চ্যাঞ্চল্যকর অনিয়ম-দুর্নীতির খবর প্রকাশ্যে আসার পরে বিকাশ মন্ডলকে কৌশলে অফিস থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অনুসন্ধানী সূত্র জানিয়েছে, বিকাশ মন্ডল নামের এই ব্যক্তি শুক্র-শনি সাপ্তাহিক ছুটির দিন বাদে প্রতিদিন গোটা জোনাল সেটেলমেন্টের অফিস চষে বেড়াতেন। এবং কর্মকর্তাদের কাছাকাছি থেকে তাদের কাজে সহযোগিতা করাসহ সেবা গ্রহিতাদের সাথে কর্মকর্তাদের আর্থিক রফাদফা করিয়ে দিতেন। দপ্তরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কক্ষের চাবিও থাকতো তার কাছে। সর্বশেষ তিনি সদর উপজেলার সার্ভেয়ার আ স ম রাসেলের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে কাজ করছিলেন।
গত সপ্তাহে এই ব্যক্তিকে সেটেলমেন্ট অফিসের নিচ তলার রেকর্ড রুমের ভিতরে প্রবেশ করে নথিপত্র ঘাটাঘাটি করতে দেখা যায়। এবং সেখান থেকে তিনি বের হয়ে সার্ভেয়ার রাসেলের রুমে প্রবেশ করে তার কাজে সহযোগিতা করতে দেখা গেছে। এই পুরো ঘটনার একটি ভিডিওচিত্র রূপালী বাংলাদেশ পত্রিকার এ প্রতিবেদকের হাতে সংরক্ষিত আছে। গত সপ্তাহে এই ছলচাতুরি ধরা পড়ার পরে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ না করে বিকাশকে কৌশলে অফিস থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
সূত্র জানিয়েছে, বিকাশ নামের এই ব্যক্তি প্রথমে সেটেলমেন্ট অফিসে দালালি করতেন। সেবা গ্রহিতাদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে তা দিয়ে অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে আইনসিক্ত নয়, এমন কাজগুলো করিয়ে নিতেন। আওয়ামী লীগ শাসনামলের শুরুর দিকে তিনি ছদ্মবেশে অফিসে ঢুকে পড়েন। এরপর থেকে তিনি নিজেকে অফিস সহায়ক পরিচয় দিতেন এবং কর্মকর্তাদের সাথে ওঠাবসা করেন। এবং একপর্যায়ে তিনি কর্মকর্তাদের অবৈধ উপার্জনের একটি মাধ্যম হয়ে ওঠেন। ফলে আওয়ামী লীগের শাসনামলে তার প্রতি কর্মকর্তাদের সুনজরও দেখা যায়।
অভিযোগ আছে, বিকাশ কর্মকর্তাদের আস্থাভাজন হওয়ায় বিগত সময়ে তাকে নিয়ে অফিসের কেউ টুটা শব্দ করেনি। বরং তার সাথে সখ্যতা রেখে একাধিক কর্মকর্তা ব্যাপক অর্থকড়ি কামিয়েছেন, বিকাশও হয়েছেন ক্রোড়পতি। সার্ভেয়ার রাসেলও সবকিছু যেনো শুনে অনুরুপ পদাঙ্ক অবলম্বন করতে চাইছিলেন। কিন্তু বিধিবাম। রূপালী বাংলাদেশের অনুসন্ধান রাসেলের এই পরিকল্পনায় জল ঢেলে দিয়েছে।
সার্ভেয়ার রাসেলের উপস্থিতিতে বিকাশের কাছে তার পরিচয় জানতে চাওয়া হলে তিনি নিজেকে প্রথমে নিজেকে অফিস সহায়ক পরিচয় দিলেও পরবর্তীতে অস্বীকার করেন। এবং তার বেতন কোথা থেকে আসছে জানতে চাইলে সার্ভেয়ার রাসেল বলেন, বিকাশ নিয়োগ ছাড়া কাজ করেন বিষয়টি আগের কর্মকর্তারাও জানতেন। এখন যারা আছেন তারাও জানেন এবং বিকাশের বেতন প্রকল্প করে দেওয়া হচ্ছে বলে জানান। যখন সার্ভেয়ার রাসেলের সাথে এ প্রতিবেদকের আলোচনা চলছিল, ঠিক তখনও বিকাশকে ফাইলপত্র সরবরাহ করতে দেখা যায়।
নিয়োগ ছাড়া বহিরাগত ব্যক্তি সরকারি দপ্তরে ১৬ বছর ধরে কাজ করেন এই বিষয়ে জানতে জোনাল সেটেলমেন্ট মৃধা মো. মোজাহিদুল ইসলাম এবং সহকারি সেটেলমেন্ট অফিসার নুরুল আমিন শিকদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা উভয়ে নতুন যোগদানের কথা জানিয়েছেন। এবং বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তারা দুজন মোটেও ওয়াকিবহাল ছিলেন না। তবে সংবাদকর্মীর মাধ্যমে যে দিন বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন, সেদিনই ব্যবস্থাগ্রহণ করা হয়েছে।
ছদ্মবেশি বিকাশ অফিসের কোনো ফাইলপত্র এদিক-সেদিক করেছেন কী না এবং তাকে অফিস করার কে অনুমতি দিয়েছেন এই প্রশ্নের কোনো উত্তর দুই কর্মকর্তার কেউ দিতে পারেননি। বহিরাগত ব্যক্তির মাধ্যমে অফিসের ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনার কথা স্বীকার করলেও বিকাশ বা তাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া সার্ভেয়ার রাসেলের বিরুদ্ধে গত এক সপ্তাহেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি জোনাল সেটেলমেন্ট কর্তৃপক্ষ, যা নিয়ে দপ্তরটির অপরাপর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কানাঘুষা চলছে।
এই বিষয়টি নিয়ে সংক্ষুব্ধ কর্মচারীদের একটি অংশ বলছেন, কোনো প্রকার নিয়োগ ছাড়া একজন বহিরাগত কিভাবে সরকারি দপ্তরে কাজ করেন এবং তার পক্ষে সার্ভেয়ার রাসেল সাফাই গাইলেন তা রীতিমত সকলকে হতবাক করে দিয়েছেন। কিন্তু আরও অবাক করেছে, এই ছলচাতুরি ধরা পড়ার পরেও অভিযুক্তকে আইনে সোপর্দ না করায়। তাদের ভাষায়, বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিৎ।’

১৩ জুন, ২০২৬ ২০:০৭
মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধসহ তিন দফা দাবিতে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের পাঁচ জেলায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন। আগামীকাল রোববার থেকে এ ধর্মঘট শুরু হবে বলে জানিয়েছেন নেতারা।
বাগেরহাট আন্তঃজেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফকির শহীদুল ইসলাম জানান, ধর্মঘটের আওতায় থাকবে বাগেরহাট, খুলনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বরিশাল জেলা।
ফকির শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘খুলনা ও বরিশাল বিভাগের সড়কগুলোতে অনুমোদনহীন অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজ নেওয়া বাস চলাচল করছে। মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার অবাধে চলাচল করায় পরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনকে বারবার অবহিত করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
তিনি আরও জানান, ধর্মঘট শুরু হলে পাঁচ জেলায় সব ধরনের যাত্রীবাহী পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকবে।
যে তিন দাবিতে ধর্মঘটের ডাক
১. সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজকৃত গাড়ি চলাচল বন্ধ করা এবং নীতিমালা অনুযায়ী জেলা টার্মিনালে একটি মাত্র কাউন্টার চালু রেখে পথে পথে থাকা সব অবৈধ কাউন্টার অপসারণ।
২. আঞ্চলিক মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার (মাহেন্দ্র, নছিমন, করিমন, অটোরিকশা) চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করা।
৩. দূরপাল্লার পরিবহনে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে লোকাল বা মাঝপথের যাত্রী পরিবহন বন্ধ করা।
এ ঘটনা প্রসঙ্গে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, পরিবহন মালিকদের তিন দফা দাবির বিষয়ে প্রশাসন অবগত রয়েছে। অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট এড়াতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
বরিশাল টাইমস

১৩ জুন, ২০২৬ ১৮:২৪
বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে তিন কেজি গাঁজাসহ এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি চাপাতি ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে অভিযানের মূল লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত মাদক কারবারি নজরুল বেপারী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) ভোররাত চারটার দিকে উপজেলার ওটরা ইউনিয়নের কেশবকাটি গ্রামে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল।
দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে নজরুল বেপারীর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিকালে বাড়ির ভেতর থেকে তিন কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে একটি চাপাতি ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযান চলাকালে মূল অভিযুক্ত নজরুল বেপারী কৌশলে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী মাহামুদা বেগমকে (৩৮) ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানান, উদ্ধার মাদক ও অস্ত্রের ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক নজরুল বেপারীকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

১৩ জুন, ২০২৬ ১৫:০৪
বরিশালের গৌরনদীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে এক যুবককে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়েছে। মৃত ভেবে ফেলে যাওয়া ওই যুবকের নাম আরিফ আকন। তিনি বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে গৌরনদী উপজেলার গেরাকুল গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত আরিফ আকন ওই গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলাম আকনের একমাত্র ছেলে। কয়েক মাস আগে এক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আরিফের বাম হাত ভেঙে প্রায় অকেজো হয়ে যায়।
ভুক্তভোগী বড় বোন তিরা মনি বেগম জানান, তাদের পুরোনো বাড়ির সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে বাথরুম নির্মাণ করছিলেন প্রতিবেশী আনোয়ার আকনের ছেলে নসিমনচালক রুবেল আকন। বিষয়টি জানতে পেরে শুক্রবার সকালে আরিফ ঘটনাস্থলে যান। সেখানে রুবেলকে না পেয়ে তার পরিবারের সদস্যদের নির্মাণাধীন বাথরুমটি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন।
দুপুরে রুবেল বাড়িতে ফিরে বিষয়টি জানতে পেরে আরিফকে হত্যার হুমকি দেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিকেলে রুবেল ও তার কয়েকজন সহযোগী বাড়ির পাশে আরিফকে একা পেয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। তারা লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আরিফের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে মারাত্মক জখম করেন। একপর্যায়ে আরিফ সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে মৃত ভেবে হামলাকারীরা তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
পরে খবর পেয়ে আরিফের মা ও প্রতিবেশীরা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাতেই তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিরা মনি বেগম আরও জানান, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার ভাইয়ের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রুবেল আকনসহ তার সহযোগীরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিক হাসান রাসেল জানান, এই ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বরিশাল টাইমস
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধসহ তিন দফা দাবিতে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের পাঁচ জেলায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন। আগামীকাল রোববার থেকে এ ধর্মঘট শুরু হবে বলে জানিয়েছেন নেতারা।
বাগেরহাট আন্তঃজেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফকির শহীদুল ইসলাম জানান, ধর্মঘটের আওতায় থাকবে বাগেরহাট, খুলনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বরিশাল জেলা।
ফকির শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘খুলনা ও বরিশাল বিভাগের সড়কগুলোতে অনুমোদনহীন অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজ নেওয়া বাস চলাচল করছে। মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার অবাধে চলাচল করায় পরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনকে বারবার অবহিত করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
তিনি আরও জানান, ধর্মঘট শুরু হলে পাঁচ জেলায় সব ধরনের যাত্রীবাহী পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকবে।
যে তিন দাবিতে ধর্মঘটের ডাক
১. সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজকৃত গাড়ি চলাচল বন্ধ করা এবং নীতিমালা অনুযায়ী জেলা টার্মিনালে একটি মাত্র কাউন্টার চালু রেখে পথে পথে থাকা সব অবৈধ কাউন্টার অপসারণ।
২. আঞ্চলিক মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার (মাহেন্দ্র, নছিমন, করিমন, অটোরিকশা) চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করা।
৩. দূরপাল্লার পরিবহনে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে লোকাল বা মাঝপথের যাত্রী পরিবহন বন্ধ করা।
এ ঘটনা প্রসঙ্গে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, পরিবহন মালিকদের তিন দফা দাবির বিষয়ে প্রশাসন অবগত রয়েছে। অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট এড়াতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
বরিশাল টাইমস
বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে তিন কেজি গাঁজাসহ এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি চাপাতি ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে অভিযানের মূল লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত মাদক কারবারি নজরুল বেপারী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) ভোররাত চারটার দিকে উপজেলার ওটরা ইউনিয়নের কেশবকাটি গ্রামে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল।
দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে নজরুল বেপারীর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিকালে বাড়ির ভেতর থেকে তিন কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে একটি চাপাতি ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযান চলাকালে মূল অভিযুক্ত নজরুল বেপারী কৌশলে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী মাহামুদা বেগমকে (৩৮) ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানান, উদ্ধার মাদক ও অস্ত্রের ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক নজরুল বেপারীকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বরিশালের গৌরনদীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে এক যুবককে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়েছে। মৃত ভেবে ফেলে যাওয়া ওই যুবকের নাম আরিফ আকন। তিনি বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে গৌরনদী উপজেলার গেরাকুল গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত আরিফ আকন ওই গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলাম আকনের একমাত্র ছেলে। কয়েক মাস আগে এক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আরিফের বাম হাত ভেঙে প্রায় অকেজো হয়ে যায়।
ভুক্তভোগী বড় বোন তিরা মনি বেগম জানান, তাদের পুরোনো বাড়ির সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে বাথরুম নির্মাণ করছিলেন প্রতিবেশী আনোয়ার আকনের ছেলে নসিমনচালক রুবেল আকন। বিষয়টি জানতে পেরে শুক্রবার সকালে আরিফ ঘটনাস্থলে যান। সেখানে রুবেলকে না পেয়ে তার পরিবারের সদস্যদের নির্মাণাধীন বাথরুমটি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন।
দুপুরে রুবেল বাড়িতে ফিরে বিষয়টি জানতে পেরে আরিফকে হত্যার হুমকি দেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিকেলে রুবেল ও তার কয়েকজন সহযোগী বাড়ির পাশে আরিফকে একা পেয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। তারা লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আরিফের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে মারাত্মক জখম করেন। একপর্যায়ে আরিফ সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে মৃত ভেবে হামলাকারীরা তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
পরে খবর পেয়ে আরিফের মা ও প্রতিবেশীরা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাতেই তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিরা মনি বেগম আরও জানান, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার ভাইয়ের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রুবেল আকনসহ তার সহযোগীরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিক হাসান রাসেল জানান, এই ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বরিশাল টাইমস