নগর প্রশাসকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে শনিবার রাতভর বরিশাল মহানগরীর শ্রান্তি–বিনোদনের প্রাণকেন্দ্র বেল’স পার্ক থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। ফলে নগরীর সর্ববৃহৎ এ উদ্যানটির চারপাশসহ অভ্যন্তরভাগে এখন সর্বস্তরের মানুষ বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারছেন। নগর প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ মানুষও।
তবে নগরীর নবগ্রাম রোড–চৌমহনী লেকের দক্ষিণ ও পশ্চিম পাড়, বিবির পুকুরের দক্ষিণ পাড়, আমতলা মোড়ের স্বাধীনতা পার্ক এবং ত্রিশ গোডাউন সংলগ্ন ‘শতায়ু অঙ্গন’-এর মতো নগরীর অনেক শ্রান্তি–বিনোদন কেন্দ্র এখনো অবৈধ দখলদারদের কব্জায় রয়েছে। নগরীকে এসব স্থাপনা অবৈধ দখলমুক্ত রাখতে অবিলম্বে আরও নিবিড় কর্মসূচি গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ।
এমনকি বরিশাল মহানগরীর ‘প্রাকৃতিক হৃদস্পন্দন’ খ্যাত বেল’স পার্কের সর্বনাশ ঠেকাতে অনেক আগে থেকেই পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নগরীর সাধারণ মানুষ ও প্রকৃতিপ্রেমীরা। কিন্তু নানা বাধার কারণে তা এতদিন হয়ে ওঠেনি।
শেষ পর্যন্ত বেল’স পার্ক থেকে সব অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করাকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন নগরবাসী। শনিবার রাতভর উচ্ছেদ অভিযানে নগর ভবনের বিপুল সংখ্যক পরিচ্ছন্নতা কর্মী ছাড়াও দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারীরা অংশ নেন।
রোববার সকালে নগর প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার মো. রায়হান কাসেম সরেজমিনে বেল’স পার্ক ঘুরে দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। সাধারণ মানুষ বেল’স পার্কের অনুরূপ অভিযানের মাধ্যমে নগরীর স্বাধীনতা পার্ক, মুক্তিযোদ্ধা পার্ক, নবগ্রাম রোড–চৌমহনী লেকের চারপাশসহ শতায়ু অঙ্গনকে অবৈধ স্থাপনা ও জঞ্জালমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
রোববার বিকেলে বেল’স পার্কের ওয়াকওয়েতে হাঁটতে আসা একাধিক ভ্রমণকারীও নগর প্রশাসকের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে অবিলম্বে অন্যান্য শ্রান্তি–বিনোদনের কেন্দ্রগুলো অবৈধ দখলমুক্ত করার দাবি করেন।
১৯৬৬ সালে বরিশাল স্টেডিয়াম নির্মাণের আগে পর্যন্ত এই বেল’স পার্কেই তৎকালীন বৃহত্তর বাকেরগঞ্জ জেলার ফুটবল লিগসহ সব ধরনের খেলাধুলা এবং বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতো।
পাশাপাশি বিভিন্ন জাতীয় দিবসের কুচকাওয়াজও এ ময়দানেই অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এখনো প্রতিবছর মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসসহ বিজয় দিবসে সম্মিলিত কুচকাওয়াজ বেল’স পার্কেই অনুষ্ঠিত হয়।
ব্রিটিশ আমলের শেষদিকে তৎকালীন বরিশাল তথা বৃহত্তর বাকেরগঞ্জ জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ‘মি. বেল’ বগুড়া–আলেকান্দা মৌজার চাঁদমারী এলাকায় প্রায় ৯ একর জমির ওপর একটি মুক্ত উদ্যান ও তার দু’পাশ ঘিরে লেক খনন করেন। তখন তার নাম অনুসারেই উদ্যানটির নামকরণ হয় ‘বেল’স পার্ক’।
গণপূর্ত অধিদপ্তর এ পার্কটির মালিকানা ও তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকলেও বছর কয়েক আগে উদ্যানটির দু’পাশে জেলা প্রশাসন থেকে নকশা–খচিত বিশাল প্রস্তরখণ্ডে ভূমির মালিক ‘বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ ময়দানের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে জেলা প্রশাসনের কোনো ভূমিকা নেই।
২০০৪ সালে প্রথম নির্বাচিত সিটি মেয়র মুজিবুর রহমান সারোয়ারের উদ্যোগে সরকারি প্রায় ১ কোটি টাকায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে উদ্যানটির চারপাশে ওয়াকওয়ে, বসার বেঞ্চ, ছাতা, শৌচাগার ও বিশ্রামাগার নির্মাণ ছাড়াও দৃষ্টিনন্দন লাইট বসানো হয়। পাশাপাশি শোভা বৃদ্ধির জন্য পুরো মাঠের ওয়াকওয়ের মাঝখানে ও চারপাশে গাছ লাগানো হয়েছিল।
সে সময় থেকে উদ্যানটির পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেয় সিটি করপোরেশন। প্রতিদিনই নগরীর বিপুল সংখ্যক মানুষ এ উদ্যানে সকাল–বিকেলে হাঁটতে ও বিনোদনে আসা শুরু করেন। তবে ১/১১ সরকার ক্ষমতায় আসার পর অজ্ঞাত কারণে এখান থেকে সব ‘গার্ডেন লাইট’ খুলে নেওয়ায় ভুতুরে পরিবেশ ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে সান্ধ্য ভ্রমণকারীরা এ উদ্যান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেন।
২০১১ সালে তৎকালীন সিটি মেয়র শওকত হোসেন হিরন তহবিল সংগ্রহ করে গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে উদ্যানটিতে দ্বিতীয় ওয়াকওয়ে নির্মাণসহ পূর্বপাশে মুরাল স্থাপন করেন।
পাশাপাশি উদ্যানটির পূর্ব পাশের নালাটি সংস্কার করে সেখানে শাপলার আবাদ ছাড়াও সংলগ্ন বাঁধরোডে পাকা ফুটপাথ নির্মাণ ও পাশে সোনালু গাছ লাগানো হয়, যা এখনো নগরবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
দ্বিতীয় দফায় সংস্কারের পর উদ্যানটিতে প্রাতঃ ও বৈকালিক ভ্রমণকারীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেলেও গত কয়েক বছর ধরে ভ্রমণকারীর তুলনায় আড্ডাবাজদের ভিড় বাড়তে থাকে। সাথে দিনরাত উদ্যানটির পুরো এলাকাই থাকত কিশোর গ্যাংয়ের দখলে।
স্থানীয় এক কাউন্সিলরের তত্ত্বাবধানেই উদ্যানটির উত্তর পাশে অবৈধ দোকানপাট গজিয়ে উঠতে শুরু করে। পুরো পার্ক জুড়ে নানা ধরনের পথ–খাবারের দোকান আড্ডাবাজদের জন্য বাড়তি সুবিধা সৃষ্টি করছিল।
এমনকি এ উদ্যানে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় বছরখানেক আগে এক পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী পর্যন্ত শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন। তবে নগরবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবির প্রেক্ষিতে শেষ পর্যন্ত অবৈধ দখলমুক্ত হওয়ায় বেল’স পার্ক তার অতীত ঐতিহ্য ফিরে পাবে বলেই আশা করছেন নগরবাসী।

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০৩
পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনার অবকাঠামোগত সক্ষমতা আরো বাড়াতে, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) বন্দর থানা ভবন (মেট্রো টাইপ-১) নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বন্দর থানা ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মঞ্জুর, এমপি।
এ সময় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্সহ বরিশাল পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এবং বিএমপি কমিশনার বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা থানার সার্বিক কার্যক্রম ও বিদ্যমান অবকাঠামোগত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
নতুন থানা ভবন নির্মাণের মাধ্যমে বন্দর থানার প্রশাসনিক কার্যক্রম বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনার অবকাঠামোগত সক্ষমতা আরো বাড়াতে, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) বন্দর থানা ভবন (মেট্রো টাইপ-১) নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বন্দর থানা ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মঞ্জুর, এমপি।
এ সময় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্সহ বরিশাল পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এবং বিএমপি কমিশনার বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা থানার সার্বিক কার্যক্রম ও বিদ্যমান অবকাঠামোগত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
নতুন থানা ভবন নির্মাণের মাধ্যমে বন্দর থানার প্রশাসনিক কার্যক্রম বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:০৯
বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর। তিনি বলেন, ‘অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে।’
আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল নগরের বন্দর থানা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্সে আছি। বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো কাজে যাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধেও সরকারের অবস্থান কঠোর।’
মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইতোমধ্যে পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলায় সভা হয়েছে জানিয়ে আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সভা করা হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
পরে প্রতিমন্ত্রী বরিশাল বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।’
বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর। তিনি বলেন, ‘অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে।’
আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল নগরের বন্দর থানা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্সে আছি। বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো কাজে যাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধেও সরকারের অবস্থান কঠোর।’
মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইতোমধ্যে পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলায় সভা হয়েছে জানিয়ে আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সভা করা হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
পরে প্রতিমন্ত্রী বরিশাল বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।’

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:২৫
বরিশালের উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তার সরকারি উন্নয়ন কাজের তদারকিতে গাফেলতিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত ও বিচারের দাবিতে উজিরপুর উপজেলার ধামুরা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রব হাওলাদারের ছেলে মো. মাছুম হাওলাদার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এ লিখিত আভিযোগ দিয়েছেন।
এতে তিনি আভিযোগ করেন উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় উজিরপুরে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থেকে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি সংক্রান্ত অপকর্মের সাথে জড়িত হয়ে পড়েছেন। তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারসহ বিভিন্ন কাজে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজসে সরকারের অর্থের অপচয়সহ নানা দুর্নীতি মূলক কর্মকান্ডের সাথে লিপ্ত রয়েছেন। যা তদন্ত করলেই প্রমান মিলবে। ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার সেগুন বাগিচাস্থ দুদকের প্রধান কর্য্যলয়ে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগটি করা হয়।
অভিযোগকারী মাছুম হাওলাদার বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দাপটের সাথে চাকুরি করা সুব্রত রায় তার তদারকিতে থাকা বিভিন্ন সড়ক, ব্রিজ ও কালর্ভাট নির্মাণে ঠিকাদারদের ব্যাপক অনিয়মকে অর্থের বিনিময়ে সহয়াতা করেন ।
বর্তমান সরকারের আমলেও তিনি উজিরপুরে একই ভাবে চাকুরি করছেন। তার কারনে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হচ্ছে। যা দুর্নীতির শামিল। উপজেলার ধামুরা এলাকার বেশ কয়েকটি ব্রিজের পুরাতন মালপত্র নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তার তদারকিতে থাকা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এসব অভিযোগ সত্য নয়, ভিত্তিহীন দাবি করে উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেন, উপজেলার ধামুরা এলাকায়।নির্মিত একটি ব্রিজের সম্প্রতি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে গেলে কিছু সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে মাছুম হাওলাদার কাজে বাধা দেন। কাগজপত্রে দেখা যায় ওটা খাস সম্পত্তি।
তারপরেও বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই অংশের কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়। ব্রিজের সংযোগ সড়কের এ সম্পত্তি নিয়ে ক্ষিপ্ত মাছুম হাওলাদার তাকে হয়রাণি ও তার পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুদকে এ অভিযোগ দিয়েছেন।’
বরিশালের উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তার সরকারি উন্নয়ন কাজের তদারকিতে গাফেলতিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত ও বিচারের দাবিতে উজিরপুর উপজেলার ধামুরা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রব হাওলাদারের ছেলে মো. মাছুম হাওলাদার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এ লিখিত আভিযোগ দিয়েছেন।
এতে তিনি আভিযোগ করেন উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় উজিরপুরে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থেকে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি সংক্রান্ত অপকর্মের সাথে জড়িত হয়ে পড়েছেন। তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারসহ বিভিন্ন কাজে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজসে সরকারের অর্থের অপচয়সহ নানা দুর্নীতি মূলক কর্মকান্ডের সাথে লিপ্ত রয়েছেন। যা তদন্ত করলেই প্রমান মিলবে। ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার সেগুন বাগিচাস্থ দুদকের প্রধান কর্য্যলয়ে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগটি করা হয়।
অভিযোগকারী মাছুম হাওলাদার বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দাপটের সাথে চাকুরি করা সুব্রত রায় তার তদারকিতে থাকা বিভিন্ন সড়ক, ব্রিজ ও কালর্ভাট নির্মাণে ঠিকাদারদের ব্যাপক অনিয়মকে অর্থের বিনিময়ে সহয়াতা করেন ।
বর্তমান সরকারের আমলেও তিনি উজিরপুরে একই ভাবে চাকুরি করছেন। তার কারনে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হচ্ছে। যা দুর্নীতির শামিল। উপজেলার ধামুরা এলাকার বেশ কয়েকটি ব্রিজের পুরাতন মালপত্র নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তার তদারকিতে থাকা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এসব অভিযোগ সত্য নয়, ভিত্তিহীন দাবি করে উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেন, উপজেলার ধামুরা এলাকায়।নির্মিত একটি ব্রিজের সম্প্রতি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে গেলে কিছু সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে মাছুম হাওলাদার কাজে বাধা দেন। কাগজপত্রে দেখা যায় ওটা খাস সম্পত্তি।
তারপরেও বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই অংশের কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়। ব্রিজের সংযোগ সড়কের এ সম্পত্তি নিয়ে ক্ষিপ্ত মাছুম হাওলাদার তাকে হয়রাণি ও তার পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুদকে এ অভিযোগ দিয়েছেন।’

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৯:০৪
নগর প্রশাসকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে শনিবার রাতভর বরিশাল মহানগরীর শ্রান্তি–বিনোদনের প্রাণকেন্দ্র বেল’স পার্ক থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। ফলে নগরীর সর্ববৃহৎ এ উদ্যানটির চারপাশসহ অভ্যন্তরভাগে এখন সর্বস্তরের মানুষ বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারছেন। নগর প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ মানুষও।
তবে নগরীর নবগ্রাম রোড–চৌমহনী লেকের দক্ষিণ ও পশ্চিম পাড়, বিবির পুকুরের দক্ষিণ পাড়, আমতলা মোড়ের স্বাধীনতা পার্ক এবং ত্রিশ গোডাউন সংলগ্ন ‘শতায়ু অঙ্গন’-এর মতো নগরীর অনেক শ্রান্তি–বিনোদন কেন্দ্র এখনো অবৈধ দখলদারদের কব্জায় রয়েছে। নগরীকে এসব স্থাপনা অবৈধ দখলমুক্ত রাখতে অবিলম্বে আরও নিবিড় কর্মসূচি গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ।
এমনকি বরিশাল মহানগরীর ‘প্রাকৃতিক হৃদস্পন্দন’ খ্যাত বেল’স পার্কের সর্বনাশ ঠেকাতে অনেক আগে থেকেই পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নগরীর সাধারণ মানুষ ও প্রকৃতিপ্রেমীরা। কিন্তু নানা বাধার কারণে তা এতদিন হয়ে ওঠেনি।
শেষ পর্যন্ত বেল’স পার্ক থেকে সব অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করাকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন নগরবাসী। শনিবার রাতভর উচ্ছেদ অভিযানে নগর ভবনের বিপুল সংখ্যক পরিচ্ছন্নতা কর্মী ছাড়াও দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারীরা অংশ নেন।
রোববার সকালে নগর প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার মো. রায়হান কাসেম সরেজমিনে বেল’স পার্ক ঘুরে দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। সাধারণ মানুষ বেল’স পার্কের অনুরূপ অভিযানের মাধ্যমে নগরীর স্বাধীনতা পার্ক, মুক্তিযোদ্ধা পার্ক, নবগ্রাম রোড–চৌমহনী লেকের চারপাশসহ শতায়ু অঙ্গনকে অবৈধ স্থাপনা ও জঞ্জালমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
রোববার বিকেলে বেল’স পার্কের ওয়াকওয়েতে হাঁটতে আসা একাধিক ভ্রমণকারীও নগর প্রশাসকের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে অবিলম্বে অন্যান্য শ্রান্তি–বিনোদনের কেন্দ্রগুলো অবৈধ দখলমুক্ত করার দাবি করেন।
১৯৬৬ সালে বরিশাল স্টেডিয়াম নির্মাণের আগে পর্যন্ত এই বেল’স পার্কেই তৎকালীন বৃহত্তর বাকেরগঞ্জ জেলার ফুটবল লিগসহ সব ধরনের খেলাধুলা এবং বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতো।
পাশাপাশি বিভিন্ন জাতীয় দিবসের কুচকাওয়াজও এ ময়দানেই অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এখনো প্রতিবছর মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসসহ বিজয় দিবসে সম্মিলিত কুচকাওয়াজ বেল’স পার্কেই অনুষ্ঠিত হয়।
ব্রিটিশ আমলের শেষদিকে তৎকালীন বরিশাল তথা বৃহত্তর বাকেরগঞ্জ জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ‘মি. বেল’ বগুড়া–আলেকান্দা মৌজার চাঁদমারী এলাকায় প্রায় ৯ একর জমির ওপর একটি মুক্ত উদ্যান ও তার দু’পাশ ঘিরে লেক খনন করেন। তখন তার নাম অনুসারেই উদ্যানটির নামকরণ হয় ‘বেল’স পার্ক’।
গণপূর্ত অধিদপ্তর এ পার্কটির মালিকানা ও তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকলেও বছর কয়েক আগে উদ্যানটির দু’পাশে জেলা প্রশাসন থেকে নকশা–খচিত বিশাল প্রস্তরখণ্ডে ভূমির মালিক ‘বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ ময়দানের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে জেলা প্রশাসনের কোনো ভূমিকা নেই।
২০০৪ সালে প্রথম নির্বাচিত সিটি মেয়র মুজিবুর রহমান সারোয়ারের উদ্যোগে সরকারি প্রায় ১ কোটি টাকায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে উদ্যানটির চারপাশে ওয়াকওয়ে, বসার বেঞ্চ, ছাতা, শৌচাগার ও বিশ্রামাগার নির্মাণ ছাড়াও দৃষ্টিনন্দন লাইট বসানো হয়। পাশাপাশি শোভা বৃদ্ধির জন্য পুরো মাঠের ওয়াকওয়ের মাঝখানে ও চারপাশে গাছ লাগানো হয়েছিল।
সে সময় থেকে উদ্যানটির পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেয় সিটি করপোরেশন। প্রতিদিনই নগরীর বিপুল সংখ্যক মানুষ এ উদ্যানে সকাল–বিকেলে হাঁটতে ও বিনোদনে আসা শুরু করেন। তবে ১/১১ সরকার ক্ষমতায় আসার পর অজ্ঞাত কারণে এখান থেকে সব ‘গার্ডেন লাইট’ খুলে নেওয়ায় ভুতুরে পরিবেশ ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে সান্ধ্য ভ্রমণকারীরা এ উদ্যান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেন।
২০১১ সালে তৎকালীন সিটি মেয়র শওকত হোসেন হিরন তহবিল সংগ্রহ করে গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে উদ্যানটিতে দ্বিতীয় ওয়াকওয়ে নির্মাণসহ পূর্বপাশে মুরাল স্থাপন করেন।
পাশাপাশি উদ্যানটির পূর্ব পাশের নালাটি সংস্কার করে সেখানে শাপলার আবাদ ছাড়াও সংলগ্ন বাঁধরোডে পাকা ফুটপাথ নির্মাণ ও পাশে সোনালু গাছ লাগানো হয়, যা এখনো নগরবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
দ্বিতীয় দফায় সংস্কারের পর উদ্যানটিতে প্রাতঃ ও বৈকালিক ভ্রমণকারীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেলেও গত কয়েক বছর ধরে ভ্রমণকারীর তুলনায় আড্ডাবাজদের ভিড় বাড়তে থাকে। সাথে দিনরাত উদ্যানটির পুরো এলাকাই থাকত কিশোর গ্যাংয়ের দখলে।
স্থানীয় এক কাউন্সিলরের তত্ত্বাবধানেই উদ্যানটির উত্তর পাশে অবৈধ দোকানপাট গজিয়ে উঠতে শুরু করে। পুরো পার্ক জুড়ে নানা ধরনের পথ–খাবারের দোকান আড্ডাবাজদের জন্য বাড়তি সুবিধা সৃষ্টি করছিল।
এমনকি এ উদ্যানে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় বছরখানেক আগে এক পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী পর্যন্ত শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন। তবে নগরবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবির প্রেক্ষিতে শেষ পর্যন্ত অবৈধ দখলমুক্ত হওয়ায় বেল’স পার্ক তার অতীত ঐতিহ্য ফিরে পাবে বলেই আশা করছেন নগরবাসী।
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:০৬
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০৩
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:০৯
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৫৪