
১৭ আগস্ট, ২০২৫ ১১:৪৮
বহুল আলোচিত ও প্রত্যাশিত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতি ও আইনি ভিত্তির কৌশল খুঁজছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এ বিষয়ে সংলাপে অংশগ্রহণকারী অধিকাংশ দলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিচ্ছে কমিশন। এরই মধ্যে একটি বিশেষজ্ঞ দলসহ অনানুষ্ঠানিকভাবে অভিজ্ঞজনের মতামত নেওয়া হয়েছে। এ সপ্তাহে আরও কয়েকজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে বসে বিস্তারিত আলোচনা করে তাদের মতামত নেবে কমিশন।
এদিকে গতকাল শনিবার রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জুলাই সনদের একটি সমন্বিত চূড়ান্ত খসড়া পাঠিয়েছে ঐকমত্য কমিশন। সনদে মোট ৮৪টি বিষয়ে ঐকমত্যের কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ৮ দফা অঙ্গীকারনামায় প্রথমেই বলা হয়েছে, ‘দীর্ঘ ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রণীত ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত ‘নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত’-এর দলিল হিসেবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করব। সনদ সংক্রান্ত যে কোনো প্রশ্নের চূড়ান্ত মীমাংসার এখতিয়ার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ওপর ন্যস্ত থাকবে।’
অঙ্গীকারনামার শেষ দফায় বলা হয়েছে, ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর যেসব প্রস্তাব/সুপারিশ অবিলম্বে বাস্তবায়নযোগ্য বলে বিবেচিত হবে সেগুলো কোনো প্রকার কালক্ষেপণ না করেই পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সরকার ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করবে।’
এ বিষয়ে আগামী বুধবারের মধ্যে দলগুলোকে মতামত পাঠাতে বলা হয়েছে। সেইসঙ্গে চলতি সপ্তাহের শেষে বা আগামী সপ্তাহে ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে তৃতীয় দফায় বৈঠকে বসতে পারে। তার পরই জুলাই সনদ চূড়ান্ত রূপ পাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জানা যায়, সনদের ভাষ্যের কোনো শব্দ, বাক্য গঠন বা এতদসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনো মন্তব্য থাকলে তা আগামী বুধবার (২০ আগস্ট) বিকেল ৪টার মধ্যে কমিশনের কার্যালয়ে পাঠাতে অনুরোধ করা হয়েছে। অবশ্য জুলাই সনদের এই সমন্বিত পূর্ণাঙ্গ খসড়া তৈরির আগে কমিশনের অগ্রগতির বিষয়ে অবহিত করে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসেরও মতামত নেওয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার মতামতের ভিত্তিতে কিছু শব্দ ও ভাষাগত সংযোজন-বিয়োজন করে সনদের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। এরপর তা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো হয়।
সনদের পটভূমিতে বলা হয়েছে, স্বৈরাচারী শাসক পালিয়ে যাওয়ার পর ‘জনগণের মননে রাষ্ট্র-কাঠামো পুনর্গঠনের এক প্রবল অভিপ্রায় সৃষ্টি হয়েছে। রাষ্ট্র সংস্কার, বিশেষ করে সংবিধানের মৌলিক সংস্কার, ধসে পড়া নির্বাচনি ব্যবস্থার পুনর্গঠন, গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আইন ও বিধি-বিধানের সংস্কার, স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা এবং সুশাসিত জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তার সদ্ব্যবহার করা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব।
অবশ্য জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং নোট অব ডিসেন্টের মতো বিষয়গুলো নিয়ে যে সমন্বিত খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে, তাতে দলগুলোর পক্ষ থেকে কী ধরনের মতামত আসে, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা। বিশেষ করে বিএনপি এসব বিষয়ে কী অবস্থান নেবে, সেদিকেই নজর বেশি। যদিও বৃহত্তর স্বার্থে বিএনপিকে জুলাই সনদের আরও ছাড় দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে মিত্র দলগুলো।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার গতকাল বলেন, ‘আমরা আশা করি রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদের সমন্বিত পূর্ণাঙ্গ খসড়ায় সম্মত হবে। কয়েকটি দল ৯-১০টি বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিলেও বেশিরভাগ দলই একমত পোষণ করেছে। এখন নোট অব ডিসেন্ট দেওয়া দলগুলো গণতন্ত্র এবং জাতির বৃহত্তর স্বার্থে জুলাই সনদের সমন্বিত পূর্ণাঙ্গ খসড়া মেনে নেবে বলে বিশ্বাস করি।’
সনদ কবে নাগাদ ঘোষণা হবে- এমন প্রশ্নের উত্তরে ড. মজুমদার বলেন, ‘আমরা তো এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছি। দলগুলো যত দ্রুত সাড়া দেবে তত দ্রুত আমরা এগোতে পারব।’ তিনি বলেন, ‘আমরা জুলাই সনদের সমন্বিত পূর্ণাঙ্গ খসড়া বাস্তবায়ন ও আইনি ভিত্তির কৌশল খুঁজছি। এ লক্ষ্যে বিশিষ্ট ও বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। তা ছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও মতামতের ভিত্তিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ ঘোষণা করা হবে।’
জানা গেছে, সংস্কার প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপে নেওয়া সিদ্ধান্ত যাতে পরবর্তী সরকারের সময়ও বাস্তবায়ন করা হয়, তা নিশ্চিত করতে আইনি সুরক্ষার ব্যবস্থা রেখে জুলাই জাতীয় সনদের ‘সমন্বিত চূড়ান্ত খসড়া’ প্রস্তুত করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, এই সনদ নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলা যাবে না। সনদের কোনো শব্দ, বাক্য ও নীতিমালা সংবিধান বা অন্য কোনো আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলে এই সনদের প্রাধান্য থাকবে। এই সনদের যেসব সুপারিশ অবিলম্বে বাস্তবায়নযোগ্য, দেরি না করে সেগুলো পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেবে সরকার।
জুলাই সনদের সমন্বিত পূর্ণাঙ্গ খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ছয়টি কমিশনের প্রতিবেদনের ছাপানো অনুলিপি সব রাজনৈতিক দলের কাছে প্রেরণ করা হয়। এরপর ৫ মার্চ পুলিশ সংস্কার কমিশন ছাড়া অন্য পাঁচটি কমিশনের প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ ১৬৬টি সুপারিশ স্প্রেডশিট আকারে ৩৮টি রাজনৈতিক দল ও জোটের কাছে মতামতের জন্য পাঠানো হয়। এর মধ্যে সংবিধান সংস্কারবিষয়ক ৭০টি, নির্বাচন সংস্কারবিষয়ক ২৭টি, বিচার বিভাগ সংক্রান্ত ২৩টি, জনপ্রশাসন সংক্রান্ত ২৬টি ও দুর্নীতি দমনবিষয়ক ২৭টি সুপারিশ ছিল। পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো সরাসরি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে বাস্তবায়নযোগ্য হওয়ায় সেগুলো স্প্রেডশিটে রাখা হয়নি। অন্যদিকে, সংবিধান সংস্কার কমিশন ছাড়া অন্য পাঁচটি কমিশনের দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশগুলোর তালিকা সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, মোট ৩৫টি রাজনৈতিক দল ও জোট তাদের মতামত কমিশনের কাছে প্রেরণ করে। অনেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা বিশ্লেষণও প্রদান করে। মতামত গ্রহণের পাশাপাশি প্রথম পর্যায়ে ২০ মার্চ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত ৩২টি দল ও জোটের সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মোট ৪৭টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা ফলপ্রসূ করতে কিছু দলের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রথম পর্যায়ের আলোচনা শেষ করে কমিশন অগ্রাধিকার ও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় মোট ২০টি বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় মিলিত হয়। ৩ জুন থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত ৩০টি দল ও জোটের সঙ্গে মোট ২৩টি সেশনে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঐকমত্য হওয়া সংস্কার প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ ঘোষণা করার কথা জানিয়েছে সরকার। গত ২৯ জুলাই দলগুলোকে জুলাই সনদের একটি খসড়া দিয়েছিল জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। খসড়া নিয়ে দলগুলো মতামতও দিয়েছিল। তার ভিত্তিতে সমন্বিত খসড়া তৈরি করা হয়েছে। প্রয়োজনে সমন্বিত খসড়া নিয়ে দলগুলোর মতামতও আমলে নেবে কমিশন।
অন্যদিকে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে ঐকমত্য কমিশন। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হবে। এরপর সনদ চূড়ান্ত রূপ পাবে।
জানা যায়, ঐকমত্য কমিশন দ্বিতীয় দফায় ১৯টি বিষয়ে একমত হওয়ার কথা জানালেও বেশকিছু ইস্যুতে কয়েকটি রাজনৈতিক দল নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। ফলে এ নিয়ে ‘না সূচক’ মনোভাবের কথাই জানিয়েছে দলগুলো। বিশেষ করে সংসদের উচ্চকক্ষে একশ আসন পিআর পদ্ধতি বা সংখ্যানুপাতিক হারে নির্বাচন করার বিষয়ে ঘোর আপত্তি জানিয়েছে বিএনপি। নোট অব ডিসেন্ট সত্ত্বেও ১৯টি বিষয়ে একমত হওয়ার কথা জানায় ঐকমত্য কমিশন।
রাজনৈতিক দল ও ঐকমত্য কমিশন সূত্র বলছে, সংস্কারের বিষয়গুলো ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এ সংযুক্ত করা হবে। এরপরই সব দলগুলো চূড়ান্তভাবে স্বাক্ষর করে সেটির স্বীকৃতি দেবে। তবে তার আগেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আইনি ভিত্তির দাবি তোলে বেশকিছু দল। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে সরকার ও কমিশনের পক্ষে উদ্যোগ নেওয়া হয়।
জুলাই জাতীয় সনদের সমন্বিত চূড়ান্ত খসড়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু গতকাল বলেন, ‘আমরা সনদের খসড়া পেয়েছি। যেহেতু বেশ বড় সেটি পড়ে দলীয় ফোরামে আলোচনা করেই আমরা দ্রুত মতামত দেবে।’
বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান ও ১২ দলীয় জোটের মুখপাত্র শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ‘আমরা তো অতীতের জুলাই সনদের খসড়ায় মতামত দিয়েছি। এখন চূড়ান্ত সমন্বিত খসড়া পেয়েছি। জোটের ফোরামে আলোচনা করে এ বিষয়ে মতামত দেওয়া হবে।’
এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ গতকাল রাতে বলেন, ‘জুলাই সনদের সমন্বিত চূড়ান্ত খসড়ার একটি কপি সন্ধ্যায় হাতে পেয়েছি। এখন সেটি পড়ে দেখব লেখা ঠিকভাবে আছে কি না? এরপর দলীয় ফোরামে আলোচনা করে মতামত জানানো হবে।’
বহুল আলোচিত ও প্রত্যাশিত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতি ও আইনি ভিত্তির কৌশল খুঁজছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এ বিষয়ে সংলাপে অংশগ্রহণকারী অধিকাংশ দলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিচ্ছে কমিশন। এরই মধ্যে একটি বিশেষজ্ঞ দলসহ অনানুষ্ঠানিকভাবে অভিজ্ঞজনের মতামত নেওয়া হয়েছে। এ সপ্তাহে আরও কয়েকজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে বসে বিস্তারিত আলোচনা করে তাদের মতামত নেবে কমিশন।
এদিকে গতকাল শনিবার রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জুলাই সনদের একটি সমন্বিত চূড়ান্ত খসড়া পাঠিয়েছে ঐকমত্য কমিশন। সনদে মোট ৮৪টি বিষয়ে ঐকমত্যের কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ৮ দফা অঙ্গীকারনামায় প্রথমেই বলা হয়েছে, ‘দীর্ঘ ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রণীত ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত ‘নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত’-এর দলিল হিসেবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করব। সনদ সংক্রান্ত যে কোনো প্রশ্নের চূড়ান্ত মীমাংসার এখতিয়ার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ওপর ন্যস্ত থাকবে।’
অঙ্গীকারনামার শেষ দফায় বলা হয়েছে, ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর যেসব প্রস্তাব/সুপারিশ অবিলম্বে বাস্তবায়নযোগ্য বলে বিবেচিত হবে সেগুলো কোনো প্রকার কালক্ষেপণ না করেই পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সরকার ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করবে।’
এ বিষয়ে আগামী বুধবারের মধ্যে দলগুলোকে মতামত পাঠাতে বলা হয়েছে। সেইসঙ্গে চলতি সপ্তাহের শেষে বা আগামী সপ্তাহে ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে তৃতীয় দফায় বৈঠকে বসতে পারে। তার পরই জুলাই সনদ চূড়ান্ত রূপ পাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জানা যায়, সনদের ভাষ্যের কোনো শব্দ, বাক্য গঠন বা এতদসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনো মন্তব্য থাকলে তা আগামী বুধবার (২০ আগস্ট) বিকেল ৪টার মধ্যে কমিশনের কার্যালয়ে পাঠাতে অনুরোধ করা হয়েছে। অবশ্য জুলাই সনদের এই সমন্বিত পূর্ণাঙ্গ খসড়া তৈরির আগে কমিশনের অগ্রগতির বিষয়ে অবহিত করে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসেরও মতামত নেওয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার মতামতের ভিত্তিতে কিছু শব্দ ও ভাষাগত সংযোজন-বিয়োজন করে সনদের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। এরপর তা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো হয়।
সনদের পটভূমিতে বলা হয়েছে, স্বৈরাচারী শাসক পালিয়ে যাওয়ার পর ‘জনগণের মননে রাষ্ট্র-কাঠামো পুনর্গঠনের এক প্রবল অভিপ্রায় সৃষ্টি হয়েছে। রাষ্ট্র সংস্কার, বিশেষ করে সংবিধানের মৌলিক সংস্কার, ধসে পড়া নির্বাচনি ব্যবস্থার পুনর্গঠন, গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আইন ও বিধি-বিধানের সংস্কার, স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা এবং সুশাসিত জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তার সদ্ব্যবহার করা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব।
অবশ্য জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং নোট অব ডিসেন্টের মতো বিষয়গুলো নিয়ে যে সমন্বিত খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে, তাতে দলগুলোর পক্ষ থেকে কী ধরনের মতামত আসে, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা। বিশেষ করে বিএনপি এসব বিষয়ে কী অবস্থান নেবে, সেদিকেই নজর বেশি। যদিও বৃহত্তর স্বার্থে বিএনপিকে জুলাই সনদের আরও ছাড় দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে মিত্র দলগুলো।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার গতকাল বলেন, ‘আমরা আশা করি রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদের সমন্বিত পূর্ণাঙ্গ খসড়ায় সম্মত হবে। কয়েকটি দল ৯-১০টি বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিলেও বেশিরভাগ দলই একমত পোষণ করেছে। এখন নোট অব ডিসেন্ট দেওয়া দলগুলো গণতন্ত্র এবং জাতির বৃহত্তর স্বার্থে জুলাই সনদের সমন্বিত পূর্ণাঙ্গ খসড়া মেনে নেবে বলে বিশ্বাস করি।’
সনদ কবে নাগাদ ঘোষণা হবে- এমন প্রশ্নের উত্তরে ড. মজুমদার বলেন, ‘আমরা তো এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছি। দলগুলো যত দ্রুত সাড়া দেবে তত দ্রুত আমরা এগোতে পারব।’ তিনি বলেন, ‘আমরা জুলাই সনদের সমন্বিত পূর্ণাঙ্গ খসড়া বাস্তবায়ন ও আইনি ভিত্তির কৌশল খুঁজছি। এ লক্ষ্যে বিশিষ্ট ও বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। তা ছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও মতামতের ভিত্তিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ ঘোষণা করা হবে।’
জানা গেছে, সংস্কার প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপে নেওয়া সিদ্ধান্ত যাতে পরবর্তী সরকারের সময়ও বাস্তবায়ন করা হয়, তা নিশ্চিত করতে আইনি সুরক্ষার ব্যবস্থা রেখে জুলাই জাতীয় সনদের ‘সমন্বিত চূড়ান্ত খসড়া’ প্রস্তুত করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, এই সনদ নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলা যাবে না। সনদের কোনো শব্দ, বাক্য ও নীতিমালা সংবিধান বা অন্য কোনো আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলে এই সনদের প্রাধান্য থাকবে। এই সনদের যেসব সুপারিশ অবিলম্বে বাস্তবায়নযোগ্য, দেরি না করে সেগুলো পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেবে সরকার।
জুলাই সনদের সমন্বিত পূর্ণাঙ্গ খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ছয়টি কমিশনের প্রতিবেদনের ছাপানো অনুলিপি সব রাজনৈতিক দলের কাছে প্রেরণ করা হয়। এরপর ৫ মার্চ পুলিশ সংস্কার কমিশন ছাড়া অন্য পাঁচটি কমিশনের প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ ১৬৬টি সুপারিশ স্প্রেডশিট আকারে ৩৮টি রাজনৈতিক দল ও জোটের কাছে মতামতের জন্য পাঠানো হয়। এর মধ্যে সংবিধান সংস্কারবিষয়ক ৭০টি, নির্বাচন সংস্কারবিষয়ক ২৭টি, বিচার বিভাগ সংক্রান্ত ২৩টি, জনপ্রশাসন সংক্রান্ত ২৬টি ও দুর্নীতি দমনবিষয়ক ২৭টি সুপারিশ ছিল। পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো সরাসরি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে বাস্তবায়নযোগ্য হওয়ায় সেগুলো স্প্রেডশিটে রাখা হয়নি। অন্যদিকে, সংবিধান সংস্কার কমিশন ছাড়া অন্য পাঁচটি কমিশনের দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশগুলোর তালিকা সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, মোট ৩৫টি রাজনৈতিক দল ও জোট তাদের মতামত কমিশনের কাছে প্রেরণ করে। অনেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা বিশ্লেষণও প্রদান করে। মতামত গ্রহণের পাশাপাশি প্রথম পর্যায়ে ২০ মার্চ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত ৩২টি দল ও জোটের সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মোট ৪৭টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা ফলপ্রসূ করতে কিছু দলের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রথম পর্যায়ের আলোচনা শেষ করে কমিশন অগ্রাধিকার ও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় মোট ২০টি বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় মিলিত হয়। ৩ জুন থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত ৩০টি দল ও জোটের সঙ্গে মোট ২৩টি সেশনে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঐকমত্য হওয়া সংস্কার প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ ঘোষণা করার কথা জানিয়েছে সরকার। গত ২৯ জুলাই দলগুলোকে জুলাই সনদের একটি খসড়া দিয়েছিল জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। খসড়া নিয়ে দলগুলো মতামতও দিয়েছিল। তার ভিত্তিতে সমন্বিত খসড়া তৈরি করা হয়েছে। প্রয়োজনে সমন্বিত খসড়া নিয়ে দলগুলোর মতামতও আমলে নেবে কমিশন।
অন্যদিকে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে ঐকমত্য কমিশন। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হবে। এরপর সনদ চূড়ান্ত রূপ পাবে।
জানা যায়, ঐকমত্য কমিশন দ্বিতীয় দফায় ১৯টি বিষয়ে একমত হওয়ার কথা জানালেও বেশকিছু ইস্যুতে কয়েকটি রাজনৈতিক দল নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। ফলে এ নিয়ে ‘না সূচক’ মনোভাবের কথাই জানিয়েছে দলগুলো। বিশেষ করে সংসদের উচ্চকক্ষে একশ আসন পিআর পদ্ধতি বা সংখ্যানুপাতিক হারে নির্বাচন করার বিষয়ে ঘোর আপত্তি জানিয়েছে বিএনপি। নোট অব ডিসেন্ট সত্ত্বেও ১৯টি বিষয়ে একমত হওয়ার কথা জানায় ঐকমত্য কমিশন।
রাজনৈতিক দল ও ঐকমত্য কমিশন সূত্র বলছে, সংস্কারের বিষয়গুলো ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এ সংযুক্ত করা হবে। এরপরই সব দলগুলো চূড়ান্তভাবে স্বাক্ষর করে সেটির স্বীকৃতি দেবে। তবে তার আগেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আইনি ভিত্তির দাবি তোলে বেশকিছু দল। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে সরকার ও কমিশনের পক্ষে উদ্যোগ নেওয়া হয়।
জুলাই জাতীয় সনদের সমন্বিত চূড়ান্ত খসড়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু গতকাল বলেন, ‘আমরা সনদের খসড়া পেয়েছি। যেহেতু বেশ বড় সেটি পড়ে দলীয় ফোরামে আলোচনা করেই আমরা দ্রুত মতামত দেবে।’
বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান ও ১২ দলীয় জোটের মুখপাত্র শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ‘আমরা তো অতীতের জুলাই সনদের খসড়ায় মতামত দিয়েছি। এখন চূড়ান্ত সমন্বিত খসড়া পেয়েছি। জোটের ফোরামে আলোচনা করে এ বিষয়ে মতামত দেওয়া হবে।’
এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ গতকাল রাতে বলেন, ‘জুলাই সনদের সমন্বিত চূড়ান্ত খসড়ার একটি কপি সন্ধ্যায় হাতে পেয়েছি। এখন সেটি পড়ে দেখব লেখা ঠিকভাবে আছে কি না? এরপর দলীয় ফোরামে আলোচনা করে মতামত জানানো হবে।’
১২ মার্চ, ২০২৬ ২০:৫৩
১২ মার্চ, ২০২৬ ২০:২৫
১২ মার্চ, ২০২৬ ২০:০৩
১২ মার্চ, ২০২৬ ২০:০১

১২ মার্চ, ২০২৬ ২০:২৫
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন চলাকালে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন বক্তব্য দেওয়ার সময় ওয়াক আউট করেছেন জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান তারা। এর আগে ১১-দলীয় নির্বাচনী জোটের সংসদ সদস্যরা সংসদে দাঁড়িয়ে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে বিক্ষোভ দেখান। সে সময় স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেন।
জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের দলগুলো আগে থেকেই সংসদে বর্তমান রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল।সংসদে কোনো ইস্যুতে প্রতিবাদ জানাতে বিরোধী দল বা কোনো সদস্য ইচ্ছাকৃতভাবে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করলে তাকে ‘ওয়াক আউট’ বলা হয়।
এদিন সকালে শপথ নিয়েছেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে তাদের শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। প্রথমে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং এরপরে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন চলাকালে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন বক্তব্য দেওয়ার সময় ওয়াক আউট করেছেন জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান তারা। এর আগে ১১-দলীয় নির্বাচনী জোটের সংসদ সদস্যরা সংসদে দাঁড়িয়ে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে বিক্ষোভ দেখান। সে সময় স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেন।
জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের দলগুলো আগে থেকেই সংসদে বর্তমান রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল।সংসদে কোনো ইস্যুতে প্রতিবাদ জানাতে বিরোধী দল বা কোনো সদস্য ইচ্ছাকৃতভাবে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করলে তাকে ‘ওয়াক আউট’ বলা হয়।
এদিন সকালে শপথ নিয়েছেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে তাদের শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। প্রথমে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং এরপরে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি।

১২ মার্চ, ২০২৬ ১৪:১৪
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নেত্রকোনা-১ (সদর–দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে তাকে ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
অধিবেশনে সভাপতি জানান, ডেপুটি স্পিকার পদে একমাত্র মনোনয়ন পেয়েছেন কায়সার কামাল। তিনি বর্তমানে ভূমি প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাগত বক্তব্যে সভাপতিত্বের জন্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন। প্রস্তাবটির প্রতি সমর্থন জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ তাহের।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের গেজেট ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়। এরই মধ্যে সংসদ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করে। এর মধ্যে বিএনপি একাই পেয়েছে ২০৯টি আসন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৬টি আসন, যার মধ্যে জামায়াতে ইসলামী একাই পেয়েছে ৬৮টি আসন। উল্লেখ্য, বর্তমান সরকার গঠনের পর ভূমি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নেত্রকোনা-১ (সদর–দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে তাকে ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
অধিবেশনে সভাপতি জানান, ডেপুটি স্পিকার পদে একমাত্র মনোনয়ন পেয়েছেন কায়সার কামাল। তিনি বর্তমানে ভূমি প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাগত বক্তব্যে সভাপতিত্বের জন্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন। প্রস্তাবটির প্রতি সমর্থন জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ তাহের।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের গেজেট ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়। এরই মধ্যে সংসদ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করে। এর মধ্যে বিএনপি একাই পেয়েছে ২০৯টি আসন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৬টি আসন, যার মধ্যে জামায়াতে ইসলামী একাই পেয়েছে ৬৮টি আসন। উল্লেখ্য, বর্তমান সরকার গঠনের পর ভূমি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

১২ মার্চ, ২০২৬ ১৩:১২
পবিত্র রমজান মাসে টানা ১২ দিন আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ৮টি আরব ও মুসলিম দেশ। দেশগুলো হলো কাতার, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিশর এবং আরব আমিরাত।
বুধবার (১১ মার্চ) প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেন, পূর্ব জেরুজালেমের পুরোনো শহর ও উপাসনালয়ে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশে ইসরায়েলের বিধিনিষেধ আন্তর্জাতিক আইন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
বিবৃতিতে বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত অবৈধ ও অযৌক্তিক। একই সঙ্গে আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরায়েলের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড এবং মুসল্লিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপেরও তীব্র নিন্দা জানানো হয়।
দেশগুলো আরও বলেছে, দখলকৃত জেরুজালেম বা সেখানে অবস্থিত ইসলামি ও খ্রিস্টান পবিত্র স্থানগুলোর ওপর ইসরায়েলের কোনো সার্বভৌম অধিকার নেই। আল-আকসা মসজিদের পুরো এলাকা কেবল মুসলমানদের জন্য নির্ধারিত বলেও তারা উল্লেখ করে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আল-আকসা মসজিদের দেখভাল ও প্রশাসনের আইনগত দায়িত্ব জর্ডানের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন জেরুজালেম ওয়াকফ বিভাগের।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইসরায়েলকে অবিলম্বে আল-আকসা মসজিদের ফটক খুলে দিতে, জেরুজালেমের পুরোনো শহরে প্রবেশে আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নিতে এবং মুসল্লিদের বাধাহীন প্রবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি চলমান লঙ্ঘন বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়।
অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তাজনিত ব্যবস্থা হিসেবে এসব সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপকে ফিলিস্তিনিদের অধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। একইভাবে হামাসও আল-আকসা বন্ধ রাখাকে ধর্মীয় স্বাধীনতার গুরুতর লঙ্ঘন এবং বিপজ্জনক নজির বলে আখ্যা দিয়েছে।
পবিত্র রমজান মাসে টানা ১২ দিন আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ৮টি আরব ও মুসলিম দেশ। দেশগুলো হলো কাতার, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিশর এবং আরব আমিরাত।
বুধবার (১১ মার্চ) প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেন, পূর্ব জেরুজালেমের পুরোনো শহর ও উপাসনালয়ে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশে ইসরায়েলের বিধিনিষেধ আন্তর্জাতিক আইন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
বিবৃতিতে বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত অবৈধ ও অযৌক্তিক। একই সঙ্গে আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরায়েলের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড এবং মুসল্লিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপেরও তীব্র নিন্দা জানানো হয়।
দেশগুলো আরও বলেছে, দখলকৃত জেরুজালেম বা সেখানে অবস্থিত ইসলামি ও খ্রিস্টান পবিত্র স্থানগুলোর ওপর ইসরায়েলের কোনো সার্বভৌম অধিকার নেই। আল-আকসা মসজিদের পুরো এলাকা কেবল মুসলমানদের জন্য নির্ধারিত বলেও তারা উল্লেখ করে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আল-আকসা মসজিদের দেখভাল ও প্রশাসনের আইনগত দায়িত্ব জর্ডানের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন জেরুজালেম ওয়াকফ বিভাগের।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইসরায়েলকে অবিলম্বে আল-আকসা মসজিদের ফটক খুলে দিতে, জেরুজালেমের পুরোনো শহরে প্রবেশে আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নিতে এবং মুসল্লিদের বাধাহীন প্রবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি চলমান লঙ্ঘন বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়।
অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তাজনিত ব্যবস্থা হিসেবে এসব সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপকে ফিলিস্তিনিদের অধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। একইভাবে হামাসও আল-আকসা বন্ধ রাখাকে ধর্মীয় স্বাধীনতার গুরুতর লঙ্ঘন এবং বিপজ্জনক নজির বলে আখ্যা দিয়েছে।
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.