
০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২১:৪৩
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে (ডিপিএইচই) নিয়োগ, পদায়ন এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের এক নজিরবিহীন চিত্র ফুটে উঠেছে। অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদটি পাঁচ কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহ সার্কেলের তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (এসি) আব্দুল আউয়ালের বিরুদ্ধে।
তবে তার প্রধান প্রকৌশলী হওয়াকে ঘিরে অধিদপ্তরে ভেতরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ বিরাজ করছে। জ্যেষ্ঠতার সিরিয়াল ভেঙে প্রধান প্রকৌশলীর এই পদ বাগিয়ে নিতে আউয়ালের ঘুষ দিতে হয়েছে পাঁচ কোটি টাকা। এতে তিনজন সিনিয়র প্রকৌশলীকে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গেল বছর ১৭ নভেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে আব্দুল আউয়ালকে প্রধান প্রকৌশলী করে এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তবে আব্দুল আউয়াল তার চেয়ে জ্যেষ্ঠ তিনজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রকৌশলীকে ডিঙিয়ে এই পদটি দখল করেন।
অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্র বলছে, এই নিয়োগের পেছনে ছিল বিশাল অঙ্কের আর্থিক লেনদেন। জ্যেষ্ঠতার তালিকায় আউয়াল অনেক পেছনে থাকলেও ৫ কোটি টাকার বিনিময়ে তিনি শীর্ষপদে আসীন হন। নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণত অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বা জ্যেষ্ঠতার ক্রমানুসারে যোগ্য কর্মকর্তাদের এই পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু আউয়ালের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ঐতিহ্য ভেঙে দেওয়া হয়েছে, যা সৎ কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম হতাশা সৃষ্টি করেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আউয়ালের এই নিয়োগের নেপথ্য কারিগর ছিলেন ময়মনসিংহের বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী ছামিউল হক। তিনি স্থানীয় সরকার সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদীর নিকটাত্মীয় হওয়ায় মন্ত্রণালয়ের ক্ষমতা কাঠামোতে তার বেশ প্রভাব রয়েছে। এই সচিব নির্বাহী প্রকৌশলী এবং বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী সবার বাড়ি ময়মনসিংহে হওয়ায় অধিদপ্তরে একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক বলয় বা ‘ময়মনসিংহ সিন্ডিকেট’ তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সচিবের আস্থাভাজন হিসেবে ছামিউল হকই পাঁচ কোটি টাকার এই ঘুষের লেনদেন সম্পন্ন করেছেন। এর আগে ছামিউল হক নিজের প্রভাব খাটিয়ে জামাল হোসেন নামের এক কর্মকর্তাকে সরিয়ে শেরপুর থেকে ময়মনসিংহে বদলি হয়ে আসেন। এখন এই সিন্ডিকেটই পুরো অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রণ করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তার অভিযোগ, আব্দুল আউয়াল একজন অযোগ্য ও অনাভিজ্ঞ কর্মকর্তা। তিনি কর্মজীবনে কখনো প্রধান কার্যালয়ে কাজ করেননি এবং কোনো বড় প্রজেক্ট বা প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেননি। তার দাপ্তরিক দক্ষতা এতটাই সীমিত যে, উন্নয়ন সহযোগীদের (ফরেনার) সঙ্গে ইংরেজিতে কথা বলা বা মিটিং করার ন্যূনতম সক্ষমতা তার নেই। একজন বিভাগীয় প্রধানের এমন অদক্ষতার কারণে বিদেশি দাতা সংস্থাগুলোর কাছে দপ্তরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়ছে।
এদিকে প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আব্দুল আউয়ালের আচরণ নিয়ে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, তিনি জুনিয়র হয়েও সিনিয়র কর্মকর্তাদের ওপর খবরদারি করছেন। সামান্য কারণে কর্মকর্তাদের শোকজ করা, সচিবের ভয় দেখিয়ে চাকরি খাওয়ার হুমকি দেওয়া এবং পোশাক-পরিচ্ছদ নিয়ে ব্যক্তিগত কটূক্তি করার অভিযোগ তার নিত্যদিনের কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে। কোনো কর্মকর্তা তাকে দেখে উঠে না দাঁড়ালে নিজের রুমে ডেকে নিয়ে শাসানোর মতো অপেশাদার আচরণ করেন তিনি। এর ফলে অধিদপ্তরের কাজের গতি স্থবির হয়ে পড়েছে এবং কর্মকর্তারা এক প্রকার ‘দমবন্ধ’ পরিবেশে কাজ করছেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর আব্দুল আউয়াল অধিদপ্তরে নিজস্ব বলয় শক্তিশালী করতে ‘বদলি বাণিজ্য’ শুরু করেন। এ ক্ষেত্রে তার প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন স্টাফ অফিসার কাবিল হোসেন। কাবিল একজন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী হওয়া সত্ত্বেও সহকারী প্রকৌশলী বা ক্যাডার কর্মকর্তাদের পরিবর্তে তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে। এ ছাড়া কক্সবাজারে দুর্নীতি ও সরকারি কাজে বাধার অভিযোগে আগে বরখাস্ত হওয়া কর্মচারী নেতা খোরশেদ আলমকে তিন লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে স্বপদে বহাল করার মতো অনৈতিক সিদ্ধান্ত আউয়াল নিয়েছেন বলে অভিযোগ।
অন্যদিকে, ময়মনসিংহের মেকানিক সানাউল্লাহকে নির্বাহী প্রকৌশলী ছামিউলের ব্যক্তিগত অপছন্দের কারণে ঝালকাঠিতে বদলি করা হয়েছে, যা চরম অমানবিকতার বহিঃপ্রকাশ বলে জানিয়েছেন অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
আব্দুল আউয়াল এর আগে সিলেট ও ময়মনসিংহে থাকাকালীন ফাইল আটকে রেখে ঘুষ গ্রহণ ও ঠিকাদারদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তার এসব অনিয়ম এবং ৫ কোটি টাকার বিনিময়ে পদ বাগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। এ কারণে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। ঘুষ দিয়ে প্রধান প্রকৌশলীর চেয়ারে বসা ও অনিয়মের বিষয়ে ডিপিএইচইয়ের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল আউয়ালের কাছে জানতে চাইলে তিনি ফোনে এই বিষয়ে কথা বলতে অনিচ্ছুক, তবে সরাসরি কথা বললে ভালো বুঝতে পারবেন হয়তো বলে জানান।
সার্বিক বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদের জন্য এমন লেনদেনের অভিযোগ ভয়াবহ। যদি অপরাধীদের শাস্তি না হয়, তবে পুরো প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়বে। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে হলে এই সিন্ডিকেটের শেকড় উপড়ে ফেলা জরুরি।’
এই বিষয়ে জানতে চাইলে দুর্নীতি দমন কমিশনের অভিযোগের অনুসন্ধান ও তদন্তকারী কর্মকতা রূপালী বাংলাদেশকে জানান, জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে পাঁচ কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে প্রধান প্রকৌশলীর পদ দখল করা হয়েছে এমন অভিযোগের ‘পরিপ্রেক্ষিতে’ আমাদের অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। পরে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানো যাবে।
বরিশাল টাইমস
ছবি: সংগৃহীত
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে (ডিপিএইচই) নিয়োগ, পদায়ন এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের এক নজিরবিহীন চিত্র ফুটে উঠেছে। অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদটি পাঁচ কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহ সার্কেলের তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (এসি) আব্দুল আউয়ালের বিরুদ্ধে।
তবে তার প্রধান প্রকৌশলী হওয়াকে ঘিরে অধিদপ্তরে ভেতরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ বিরাজ করছে। জ্যেষ্ঠতার সিরিয়াল ভেঙে প্রধান প্রকৌশলীর এই পদ বাগিয়ে নিতে আউয়ালের ঘুষ দিতে হয়েছে পাঁচ কোটি টাকা। এতে তিনজন সিনিয়র প্রকৌশলীকে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গেল বছর ১৭ নভেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে আব্দুল আউয়ালকে প্রধান প্রকৌশলী করে এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তবে আব্দুল আউয়াল তার চেয়ে জ্যেষ্ঠ তিনজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রকৌশলীকে ডিঙিয়ে এই পদটি দখল করেন।
অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্র বলছে, এই নিয়োগের পেছনে ছিল বিশাল অঙ্কের আর্থিক লেনদেন। জ্যেষ্ঠতার তালিকায় আউয়াল অনেক পেছনে থাকলেও ৫ কোটি টাকার বিনিময়ে তিনি শীর্ষপদে আসীন হন। নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণত অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বা জ্যেষ্ঠতার ক্রমানুসারে যোগ্য কর্মকর্তাদের এই পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু আউয়ালের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ঐতিহ্য ভেঙে দেওয়া হয়েছে, যা সৎ কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম হতাশা সৃষ্টি করেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আউয়ালের এই নিয়োগের নেপথ্য কারিগর ছিলেন ময়মনসিংহের বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী ছামিউল হক। তিনি স্থানীয় সরকার সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদীর নিকটাত্মীয় হওয়ায় মন্ত্রণালয়ের ক্ষমতা কাঠামোতে তার বেশ প্রভাব রয়েছে। এই সচিব নির্বাহী প্রকৌশলী এবং বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী সবার বাড়ি ময়মনসিংহে হওয়ায় অধিদপ্তরে একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক বলয় বা ‘ময়মনসিংহ সিন্ডিকেট’ তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সচিবের আস্থাভাজন হিসেবে ছামিউল হকই পাঁচ কোটি টাকার এই ঘুষের লেনদেন সম্পন্ন করেছেন। এর আগে ছামিউল হক নিজের প্রভাব খাটিয়ে জামাল হোসেন নামের এক কর্মকর্তাকে সরিয়ে শেরপুর থেকে ময়মনসিংহে বদলি হয়ে আসেন। এখন এই সিন্ডিকেটই পুরো অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রণ করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তার অভিযোগ, আব্দুল আউয়াল একজন অযোগ্য ও অনাভিজ্ঞ কর্মকর্তা। তিনি কর্মজীবনে কখনো প্রধান কার্যালয়ে কাজ করেননি এবং কোনো বড় প্রজেক্ট বা প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেননি। তার দাপ্তরিক দক্ষতা এতটাই সীমিত যে, উন্নয়ন সহযোগীদের (ফরেনার) সঙ্গে ইংরেজিতে কথা বলা বা মিটিং করার ন্যূনতম সক্ষমতা তার নেই। একজন বিভাগীয় প্রধানের এমন অদক্ষতার কারণে বিদেশি দাতা সংস্থাগুলোর কাছে দপ্তরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়ছে।
এদিকে প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আব্দুল আউয়ালের আচরণ নিয়ে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, তিনি জুনিয়র হয়েও সিনিয়র কর্মকর্তাদের ওপর খবরদারি করছেন। সামান্য কারণে কর্মকর্তাদের শোকজ করা, সচিবের ভয় দেখিয়ে চাকরি খাওয়ার হুমকি দেওয়া এবং পোশাক-পরিচ্ছদ নিয়ে ব্যক্তিগত কটূক্তি করার অভিযোগ তার নিত্যদিনের কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে। কোনো কর্মকর্তা তাকে দেখে উঠে না দাঁড়ালে নিজের রুমে ডেকে নিয়ে শাসানোর মতো অপেশাদার আচরণ করেন তিনি। এর ফলে অধিদপ্তরের কাজের গতি স্থবির হয়ে পড়েছে এবং কর্মকর্তারা এক প্রকার ‘দমবন্ধ’ পরিবেশে কাজ করছেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর আব্দুল আউয়াল অধিদপ্তরে নিজস্ব বলয় শক্তিশালী করতে ‘বদলি বাণিজ্য’ শুরু করেন। এ ক্ষেত্রে তার প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন স্টাফ অফিসার কাবিল হোসেন। কাবিল একজন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী হওয়া সত্ত্বেও সহকারী প্রকৌশলী বা ক্যাডার কর্মকর্তাদের পরিবর্তে তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে। এ ছাড়া কক্সবাজারে দুর্নীতি ও সরকারি কাজে বাধার অভিযোগে আগে বরখাস্ত হওয়া কর্মচারী নেতা খোরশেদ আলমকে তিন লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে স্বপদে বহাল করার মতো অনৈতিক সিদ্ধান্ত আউয়াল নিয়েছেন বলে অভিযোগ।
অন্যদিকে, ময়মনসিংহের মেকানিক সানাউল্লাহকে নির্বাহী প্রকৌশলী ছামিউলের ব্যক্তিগত অপছন্দের কারণে ঝালকাঠিতে বদলি করা হয়েছে, যা চরম অমানবিকতার বহিঃপ্রকাশ বলে জানিয়েছেন অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
আব্দুল আউয়াল এর আগে সিলেট ও ময়মনসিংহে থাকাকালীন ফাইল আটকে রেখে ঘুষ গ্রহণ ও ঠিকাদারদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তার এসব অনিয়ম এবং ৫ কোটি টাকার বিনিময়ে পদ বাগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। এ কারণে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। ঘুষ দিয়ে প্রধান প্রকৌশলীর চেয়ারে বসা ও অনিয়মের বিষয়ে ডিপিএইচইয়ের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল আউয়ালের কাছে জানতে চাইলে তিনি ফোনে এই বিষয়ে কথা বলতে অনিচ্ছুক, তবে সরাসরি কথা বললে ভালো বুঝতে পারবেন হয়তো বলে জানান।
সার্বিক বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদের জন্য এমন লেনদেনের অভিযোগ ভয়াবহ। যদি অপরাধীদের শাস্তি না হয়, তবে পুরো প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়বে। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে হলে এই সিন্ডিকেটের শেকড় উপড়ে ফেলা জরুরি।’
এই বিষয়ে জানতে চাইলে দুর্নীতি দমন কমিশনের অভিযোগের অনুসন্ধান ও তদন্তকারী কর্মকতা রূপালী বাংলাদেশকে জানান, জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে পাঁচ কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে প্রধান প্রকৌশলীর পদ দখল করা হয়েছে এমন অভিযোগের ‘পরিপ্রেক্ষিতে’ আমাদের অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। পরে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানো যাবে।
বরিশাল টাইমস
০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৯:৪৯
০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৯:২২
০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৯:০০
০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৮:৩২

০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৩:২৬
কুড়িগ্রামের উলিপুরে বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে শতাধিক নেতা-কর্মী জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন।শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী নবাগতদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
যোগদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন হাতিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি শফিউর রহমান ও আব্দুল হাকিম, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সভাপতি সুমন মিয়া, ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল হোসেন সরকার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাবেক ইউনিয়ন সভাপতি নুর মোহাম্মদ আলী, ৬ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি নুরুল হোসেন, কর্মী নবাব আলী ও এরশাদুল হকসহ শতাধিক নেতাকর্মী।
যোগদানকারী কয়েকজন জানান, দীর্ঘ চিন্তা-ভাবনার পর তারা জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। ইসলামি আদর্শভিত্তিক নৈতিক রাজনীতির মাধ্যমে দলটি দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করছে বলে তারা মনে করেন।
এ বিষয়ে ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী বলেন, ‘বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে তরুণসহ নানা বয়সী মানুষের জামায়াতে যোগদানের প্রবণতা বাড়ছে, যা সংগঠনের শক্তি আরও সুদৃঢ় করবে।’
কুড়িগ্রামের উলিপুরে বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে শতাধিক নেতা-কর্মী জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন।শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী নবাগতদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
যোগদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন হাতিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি শফিউর রহমান ও আব্দুল হাকিম, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সভাপতি সুমন মিয়া, ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল হোসেন সরকার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাবেক ইউনিয়ন সভাপতি নুর মোহাম্মদ আলী, ৬ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি নুরুল হোসেন, কর্মী নবাব আলী ও এরশাদুল হকসহ শতাধিক নেতাকর্মী।
যোগদানকারী কয়েকজন জানান, দীর্ঘ চিন্তা-ভাবনার পর তারা জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। ইসলামি আদর্শভিত্তিক নৈতিক রাজনীতির মাধ্যমে দলটি দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করছে বলে তারা মনে করেন।
এ বিষয়ে ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী বলেন, ‘বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে তরুণসহ নানা বয়সী মানুষের জামায়াতে যোগদানের প্রবণতা বাড়ছে, যা সংগঠনের শক্তি আরও সুদৃঢ় করবে।’

০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১২:৪৯
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে নিজের কিশোরী কন্যাকে ধর্ষণ মামলায় তাইজুল ইসলাম (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে র্যাব-১৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আড়াইটায় ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী ফলের মার্কেট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার তাইজুল ইসলাম দিনাজপুরের বীরগঞ্জ থানার মহুগাঁও গ্রামের আবু বক্কর আলীর ছেলে।
ভুক্তভোগী কিশোরীর মায়ের করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদি ছয় মাস আগে অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালীন তার স্বামী তার মেয়ের শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালান। এরপর গত বছরের জুলাইয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রথমবার ধর্ষণ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে পুরো পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেন তাইজুল। এরপর থেকে বিভিন্ন খাবারের মধ্যে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে স্ত্রী ও সন্তানদের অচেতন করে নিজ মেয়েকে নিয়মিত ধর্ষণ করে আসছিলেন তিনি।
২৬ জানুয়ারি মিষ্টির মধ্যে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে পরিবারের সবাইকে খেতে দেন তাইজুল। মেয়েটি মিষ্টির ভেতর ওষুধ দেখতে পেয়ে তা ফেলে দিলে তাইজুল তাকে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে ভিকটিম ও তার মা বিষয়টি আশপাশের লোকজনকে জানালে ওই রাতেই অভিযুক্ত আসামি বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।
র্যাব জানায়, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর হওয়ায় আসামিকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে র্যাব ছায়াতদন্ত অব্যাহত রাখে। অবশেষে গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় শনিবার ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। রোববার তাকে বীরগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে নিজের কিশোরী কন্যাকে ধর্ষণ মামলায় তাইজুল ইসলাম (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে র্যাব-১৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আড়াইটায় ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী ফলের মার্কেট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার তাইজুল ইসলাম দিনাজপুরের বীরগঞ্জ থানার মহুগাঁও গ্রামের আবু বক্কর আলীর ছেলে।
ভুক্তভোগী কিশোরীর মায়ের করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদি ছয় মাস আগে অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালীন তার স্বামী তার মেয়ের শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালান। এরপর গত বছরের জুলাইয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রথমবার ধর্ষণ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে পুরো পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেন তাইজুল। এরপর থেকে বিভিন্ন খাবারের মধ্যে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে স্ত্রী ও সন্তানদের অচেতন করে নিজ মেয়েকে নিয়মিত ধর্ষণ করে আসছিলেন তিনি।
২৬ জানুয়ারি মিষ্টির মধ্যে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে পরিবারের সবাইকে খেতে দেন তাইজুল। মেয়েটি মিষ্টির ভেতর ওষুধ দেখতে পেয়ে তা ফেলে দিলে তাইজুল তাকে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে ভিকটিম ও তার মা বিষয়টি আশপাশের লোকজনকে জানালে ওই রাতেই অভিযুক্ত আসামি বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।
র্যাব জানায়, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর হওয়ায় আসামিকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে র্যাব ছায়াতদন্ত অব্যাহত রাখে। অবশেষে গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় শনিবার ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। রোববার তাকে বীরগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।

০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১২:৪১
নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করায় ফেনী-৩ আসনে ১১ দলীয় জোটের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ফখরুদ্দিন মানিককে শোকজ করেছেন এ আসনের অনুসন্ধানকারী ও বিচারিক কর্মকর্তা সাজ্জাতুন নেছা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তাকে শোকজ করা হয়। আজ বেলা ১১টায় তাকে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
শোকজ পত্রে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনি আইন সহায়তা ও নির্বাচন পর্যবেক্ষক লিগ্যাল কমিটি অভিযোগ, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পোস্টার, লিফলেট, ব্যানার ও ফেস্টুনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. ফখরুদ্দিন মানিক নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করছেন।
কিন্তু তার নির্বাচনি হলফনামায় ‘ডাক্তার’ পদবি উল্লেখ করেননি, যা সুস্পষ্টভাবে নির্বাচনি আচারণ বিধির লঙ্ঘন। এছাড়া এমবিবিএস, বিডিএস ডিগ্রিধারী না হয়েও ডাক্তার পদবি ব্যবহার করা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৭৭ (৩) (খ) মোতাবেক শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় তাকে শোকজ করা হয়েছে। আজ তিনি শোকজের জবাব দেবেন। প্রসঙ্গত, ফখরুদ্দিন মানিক পেশায় একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক বলে জানা গেছে।
নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করায় ফেনী-৩ আসনে ১১ দলীয় জোটের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ফখরুদ্দিন মানিককে শোকজ করেছেন এ আসনের অনুসন্ধানকারী ও বিচারিক কর্মকর্তা সাজ্জাতুন নেছা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তাকে শোকজ করা হয়। আজ বেলা ১১টায় তাকে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
শোকজ পত্রে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনি আইন সহায়তা ও নির্বাচন পর্যবেক্ষক লিগ্যাল কমিটি অভিযোগ, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পোস্টার, লিফলেট, ব্যানার ও ফেস্টুনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. ফখরুদ্দিন মানিক নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করছেন।
কিন্তু তার নির্বাচনি হলফনামায় ‘ডাক্তার’ পদবি উল্লেখ করেননি, যা সুস্পষ্টভাবে নির্বাচনি আচারণ বিধির লঙ্ঘন। এছাড়া এমবিবিএস, বিডিএস ডিগ্রিধারী না হয়েও ডাক্তার পদবি ব্যবহার করা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৭৭ (৩) (খ) মোতাবেক শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় তাকে শোকজ করা হয়েছে। আজ তিনি শোকজের জবাব দেবেন। প্রসঙ্গত, ফখরুদ্দিন মানিক পেশায় একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক বলে জানা গেছে।

Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.