ছবি: সংগৃহীত
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে (ডিপিএইচই) নিয়োগ, পদায়ন এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের এক নজিরবিহীন চিত্র ফুটে উঠেছে। অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদটি পাঁচ কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহ সার্কেলের তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (এসি) আব্দুল আউয়ালের বিরুদ্ধে।
তবে তার প্রধান প্রকৌশলী হওয়াকে ঘিরে অধিদপ্তরে ভেতরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ বিরাজ করছে। জ্যেষ্ঠতার সিরিয়াল ভেঙে প্রধান প্রকৌশলীর এই পদ বাগিয়ে নিতে আউয়ালের ঘুষ দিতে হয়েছে পাঁচ কোটি টাকা। এতে তিনজন সিনিয়র প্রকৌশলীকে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গেল বছর ১৭ নভেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে আব্দুল আউয়ালকে প্রধান প্রকৌশলী করে এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তবে আব্দুল আউয়াল তার চেয়ে জ্যেষ্ঠ তিনজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রকৌশলীকে ডিঙিয়ে এই পদটি দখল করেন।
অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্র বলছে, এই নিয়োগের পেছনে ছিল বিশাল অঙ্কের আর্থিক লেনদেন। জ্যেষ্ঠতার তালিকায় আউয়াল অনেক পেছনে থাকলেও ৫ কোটি টাকার বিনিময়ে তিনি শীর্ষপদে আসীন হন। নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণত অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বা জ্যেষ্ঠতার ক্রমানুসারে যোগ্য কর্মকর্তাদের এই পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু আউয়ালের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ঐতিহ্য ভেঙে দেওয়া হয়েছে, যা সৎ কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম হতাশা সৃষ্টি করেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আউয়ালের এই নিয়োগের নেপথ্য কারিগর ছিলেন ময়মনসিংহের বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী ছামিউল হক। তিনি স্থানীয় সরকার সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদীর নিকটাত্মীয় হওয়ায় মন্ত্রণালয়ের ক্ষমতা কাঠামোতে তার বেশ প্রভাব রয়েছে। এই সচিব নির্বাহী প্রকৌশলী এবং বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী সবার বাড়ি ময়মনসিংহে হওয়ায় অধিদপ্তরে একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক বলয় বা ‘ময়মনসিংহ সিন্ডিকেট’ তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সচিবের আস্থাভাজন হিসেবে ছামিউল হকই পাঁচ কোটি টাকার এই ঘুষের লেনদেন সম্পন্ন করেছেন। এর আগে ছামিউল হক নিজের প্রভাব খাটিয়ে জামাল হোসেন নামের এক কর্মকর্তাকে সরিয়ে শেরপুর থেকে ময়মনসিংহে বদলি হয়ে আসেন। এখন এই সিন্ডিকেটই পুরো অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রণ করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তার অভিযোগ, আব্দুল আউয়াল একজন অযোগ্য ও অনাভিজ্ঞ কর্মকর্তা। তিনি কর্মজীবনে কখনো প্রধান কার্যালয়ে কাজ করেননি এবং কোনো বড় প্রজেক্ট বা প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেননি। তার দাপ্তরিক দক্ষতা এতটাই সীমিত যে, উন্নয়ন সহযোগীদের (ফরেনার) সঙ্গে ইংরেজিতে কথা বলা বা মিটিং করার ন্যূনতম সক্ষমতা তার নেই। একজন বিভাগীয় প্রধানের এমন অদক্ষতার কারণে বিদেশি দাতা সংস্থাগুলোর কাছে দপ্তরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়ছে।
এদিকে প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আব্দুল আউয়ালের আচরণ নিয়ে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, তিনি জুনিয়র হয়েও সিনিয়র কর্মকর্তাদের ওপর খবরদারি করছেন। সামান্য কারণে কর্মকর্তাদের শোকজ করা, সচিবের ভয় দেখিয়ে চাকরি খাওয়ার হুমকি দেওয়া এবং পোশাক-পরিচ্ছদ নিয়ে ব্যক্তিগত কটূক্তি করার অভিযোগ তার নিত্যদিনের কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে। কোনো কর্মকর্তা তাকে দেখে উঠে না দাঁড়ালে নিজের রুমে ডেকে নিয়ে শাসানোর মতো অপেশাদার আচরণ করেন তিনি। এর ফলে অধিদপ্তরের কাজের গতি স্থবির হয়ে পড়েছে এবং কর্মকর্তারা এক প্রকার ‘দমবন্ধ’ পরিবেশে কাজ করছেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর আব্দুল আউয়াল অধিদপ্তরে নিজস্ব বলয় শক্তিশালী করতে ‘বদলি বাণিজ্য’ শুরু করেন। এ ক্ষেত্রে তার প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন স্টাফ অফিসার কাবিল হোসেন। কাবিল একজন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী হওয়া সত্ত্বেও সহকারী প্রকৌশলী বা ক্যাডার কর্মকর্তাদের পরিবর্তে তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে। এ ছাড়া কক্সবাজারে দুর্নীতি ও সরকারি কাজে বাধার অভিযোগে আগে বরখাস্ত হওয়া কর্মচারী নেতা খোরশেদ আলমকে তিন লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে স্বপদে বহাল করার মতো অনৈতিক সিদ্ধান্ত আউয়াল নিয়েছেন বলে অভিযোগ।
অন্যদিকে, ময়মনসিংহের মেকানিক সানাউল্লাহকে নির্বাহী প্রকৌশলী ছামিউলের ব্যক্তিগত অপছন্দের কারণে ঝালকাঠিতে বদলি করা হয়েছে, যা চরম অমানবিকতার বহিঃপ্রকাশ বলে জানিয়েছেন অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
আব্দুল আউয়াল এর আগে সিলেট ও ময়মনসিংহে থাকাকালীন ফাইল আটকে রেখে ঘুষ গ্রহণ ও ঠিকাদারদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তার এসব অনিয়ম এবং ৫ কোটি টাকার বিনিময়ে পদ বাগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। এ কারণে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। ঘুষ দিয়ে প্রধান প্রকৌশলীর চেয়ারে বসা ও অনিয়মের বিষয়ে ডিপিএইচইয়ের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল আউয়ালের কাছে জানতে চাইলে তিনি ফোনে এই বিষয়ে কথা বলতে অনিচ্ছুক, তবে সরাসরি কথা বললে ভালো বুঝতে পারবেন হয়তো বলে জানান।
সার্বিক বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদের জন্য এমন লেনদেনের অভিযোগ ভয়াবহ। যদি অপরাধীদের শাস্তি না হয়, তবে পুরো প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়বে। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে হলে এই সিন্ডিকেটের শেকড় উপড়ে ফেলা জরুরি।’
এই বিষয়ে জানতে চাইলে দুর্নীতি দমন কমিশনের অভিযোগের অনুসন্ধান ও তদন্তকারী কর্মকতা রূপালী বাংলাদেশকে জানান, জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে পাঁচ কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে প্রধান প্রকৌশলীর পদ দখল করা হয়েছে এমন অভিযোগের ‘পরিপ্রেক্ষিতে’ আমাদের অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। পরে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানো যাবে।
বরিশাল টাইমস

০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৪৮
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদক সেবনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলা আহ্বায়ক মো. নাজমুল ঠাকুরকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলটির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব পর্যায়ের পদ ও দায়িত্ব থেকেও তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক রাতুল নাহিদ ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নাজমুল ঠাকুরের বিরুদ্ধে গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের নীতি ও আদর্শবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দলের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দারের পরামর্শে এবং কিশোরগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবিরের নির্দেশক্রমে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবির বলেন, নাজমুল ঠাকুরের মাদক সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি দলের নজরে আসে। পরে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে নাজমুল ঠাকুরের ভিন্ন বক্তব্যও পাওয়া গেছে। একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি ভিডিওটিকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ দাবি করে বলেছেন, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি তিনি নন। বিষয়টি যাচাই করতে ভিডিওটি বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদক সেবনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলা আহ্বায়ক মো. নাজমুল ঠাকুরকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলটির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব পর্যায়ের পদ ও দায়িত্ব থেকেও তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক রাতুল নাহিদ ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নাজমুল ঠাকুরের বিরুদ্ধে গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের নীতি ও আদর্শবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দলের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দারের পরামর্শে এবং কিশোরগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবিরের নির্দেশক্রমে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবির বলেন, নাজমুল ঠাকুরের মাদক সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি দলের নজরে আসে। পরে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে নাজমুল ঠাকুরের ভিন্ন বক্তব্যও পাওয়া গেছে। একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি ভিডিওটিকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ দাবি করে বলেছেন, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি তিনি নন। বিষয়টি যাচাই করতে ভিডিওটি বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:০২
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক ও আট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহিষ্কৃতদের তালিকা প্রকাশ করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ৮টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ১২৩তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান উপাচার্য।
স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত তিন শিক্ষক হলেন—গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ওরফে আসাদ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম।
এ ছাড়া স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছেন সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, হাফিজুর রহমান, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহবুবার রহমান ওরফে বাবু, সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ, এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, নিরাপত্তা প্রহরী নুর আলম মিয়া, এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেন এবং প্রক্টর দপ্তরের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ আপেল।
আবু সাঈদ হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম ও বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ৯ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী জানান, ট্রাইব্যুনালের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার পর সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে স্থায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ।
তার মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরবর্তী সময়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন বৃহত্তর গণআন্দোলনে রূপ নেয় এবং সরকার পতনের আন্দোলনে পরিণত হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক ও আট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহিষ্কৃতদের তালিকা প্রকাশ করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ৮টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ১২৩তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান উপাচার্য।
স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত তিন শিক্ষক হলেন—গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ওরফে আসাদ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম।
এ ছাড়া স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছেন সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, হাফিজুর রহমান, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহবুবার রহমান ওরফে বাবু, সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ, এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, নিরাপত্তা প্রহরী নুর আলম মিয়া, এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেন এবং প্রক্টর দপ্তরের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ আপেল।
আবু সাঈদ হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম ও বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ৯ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী জানান, ট্রাইব্যুনালের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার পর সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে স্থায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ।
তার মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরবর্তী সময়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন বৃহত্তর গণআন্দোলনে রূপ নেয় এবং সরকার পতনের আন্দোলনে পরিণত হয়।

০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:৩৭
কক্সবাজারের টেকনাফে শাহপরী দ্বীপসংলগ্ন নাফ নদীতে অভিযান চালিয়ে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। জব্দ করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তবে অভিযানের সময় নৌকায় থাকা মাদক পাচারকারীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানান কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন।
কোস্ট গার্ড জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাহপরী দ্বীপের জালিয়াপাড়া সংলগ্ন নাফ নদীতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট শাহপরী।
অভিযানের সময় নদীতে একটি সন্দেহজনক ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকা দেখতে পেয়ে সেটিকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। তবে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে নৌকায় থাকা ব্যক্তিরা দ্রুতগতিতে পালিয়ে যায়।
পরে সন্দেহজনক নৌকাটির গতিপথ ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালান কোস্ট গার্ড সদস্যরা। একপর্যায়ে নদীতে ভাসমান একটি ব্যাগের সন্ধান পাওয়া যায়।
ব্যাগটি উদ্ধার করে তল্লাশি চালালে এর ভেতর থেকে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। পরে ইয়াবাগুলো জব্দ করা হয়।
কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জব্দ করা মাদকের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, মাদকের বিস্তার রোধে নাফ নদী ও সীমান্তবর্তী এলাকায় কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
কক্সবাজারের টেকনাফে শাহপরী দ্বীপসংলগ্ন নাফ নদীতে অভিযান চালিয়ে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। জব্দ করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তবে অভিযানের সময় নৌকায় থাকা মাদক পাচারকারীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানান কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন।
কোস্ট গার্ড জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাহপরী দ্বীপের জালিয়াপাড়া সংলগ্ন নাফ নদীতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট শাহপরী।
অভিযানের সময় নদীতে একটি সন্দেহজনক ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকা দেখতে পেয়ে সেটিকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। তবে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে নৌকায় থাকা ব্যক্তিরা দ্রুতগতিতে পালিয়ে যায়।
পরে সন্দেহজনক নৌকাটির গতিপথ ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালান কোস্ট গার্ড সদস্যরা। একপর্যায়ে নদীতে ভাসমান একটি ব্যাগের সন্ধান পাওয়া যায়।
ব্যাগটি উদ্ধার করে তল্লাশি চালালে এর ভেতর থেকে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। পরে ইয়াবাগুলো জব্দ করা হয়।
কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জব্দ করা মাদকের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, মাদকের বিস্তার রোধে নাফ নদী ও সীমান্তবর্তী এলাকায় কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২১:৪৩
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে (ডিপিএইচই) নিয়োগ, পদায়ন এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের এক নজিরবিহীন চিত্র ফুটে উঠেছে। অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদটি পাঁচ কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহ সার্কেলের তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (এসি) আব্দুল আউয়ালের বিরুদ্ধে।
তবে তার প্রধান প্রকৌশলী হওয়াকে ঘিরে অধিদপ্তরে ভেতরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ বিরাজ করছে। জ্যেষ্ঠতার সিরিয়াল ভেঙে প্রধান প্রকৌশলীর এই পদ বাগিয়ে নিতে আউয়ালের ঘুষ দিতে হয়েছে পাঁচ কোটি টাকা। এতে তিনজন সিনিয়র প্রকৌশলীকে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গেল বছর ১৭ নভেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে আব্দুল আউয়ালকে প্রধান প্রকৌশলী করে এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তবে আব্দুল আউয়াল তার চেয়ে জ্যেষ্ঠ তিনজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রকৌশলীকে ডিঙিয়ে এই পদটি দখল করেন।
অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্র বলছে, এই নিয়োগের পেছনে ছিল বিশাল অঙ্কের আর্থিক লেনদেন। জ্যেষ্ঠতার তালিকায় আউয়াল অনেক পেছনে থাকলেও ৫ কোটি টাকার বিনিময়ে তিনি শীর্ষপদে আসীন হন। নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণত অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বা জ্যেষ্ঠতার ক্রমানুসারে যোগ্য কর্মকর্তাদের এই পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু আউয়ালের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ঐতিহ্য ভেঙে দেওয়া হয়েছে, যা সৎ কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম হতাশা সৃষ্টি করেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আউয়ালের এই নিয়োগের নেপথ্য কারিগর ছিলেন ময়মনসিংহের বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী ছামিউল হক। তিনি স্থানীয় সরকার সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদীর নিকটাত্মীয় হওয়ায় মন্ত্রণালয়ের ক্ষমতা কাঠামোতে তার বেশ প্রভাব রয়েছে। এই সচিব নির্বাহী প্রকৌশলী এবং বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী সবার বাড়ি ময়মনসিংহে হওয়ায় অধিদপ্তরে একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক বলয় বা ‘ময়মনসিংহ সিন্ডিকেট’ তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সচিবের আস্থাভাজন হিসেবে ছামিউল হকই পাঁচ কোটি টাকার এই ঘুষের লেনদেন সম্পন্ন করেছেন। এর আগে ছামিউল হক নিজের প্রভাব খাটিয়ে জামাল হোসেন নামের এক কর্মকর্তাকে সরিয়ে শেরপুর থেকে ময়মনসিংহে বদলি হয়ে আসেন। এখন এই সিন্ডিকেটই পুরো অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রণ করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তার অভিযোগ, আব্দুল আউয়াল একজন অযোগ্য ও অনাভিজ্ঞ কর্মকর্তা। তিনি কর্মজীবনে কখনো প্রধান কার্যালয়ে কাজ করেননি এবং কোনো বড় প্রজেক্ট বা প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেননি। তার দাপ্তরিক দক্ষতা এতটাই সীমিত যে, উন্নয়ন সহযোগীদের (ফরেনার) সঙ্গে ইংরেজিতে কথা বলা বা মিটিং করার ন্যূনতম সক্ষমতা তার নেই। একজন বিভাগীয় প্রধানের এমন অদক্ষতার কারণে বিদেশি দাতা সংস্থাগুলোর কাছে দপ্তরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়ছে।
এদিকে প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আব্দুল আউয়ালের আচরণ নিয়ে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, তিনি জুনিয়র হয়েও সিনিয়র কর্মকর্তাদের ওপর খবরদারি করছেন। সামান্য কারণে কর্মকর্তাদের শোকজ করা, সচিবের ভয় দেখিয়ে চাকরি খাওয়ার হুমকি দেওয়া এবং পোশাক-পরিচ্ছদ নিয়ে ব্যক্তিগত কটূক্তি করার অভিযোগ তার নিত্যদিনের কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে। কোনো কর্মকর্তা তাকে দেখে উঠে না দাঁড়ালে নিজের রুমে ডেকে নিয়ে শাসানোর মতো অপেশাদার আচরণ করেন তিনি। এর ফলে অধিদপ্তরের কাজের গতি স্থবির হয়ে পড়েছে এবং কর্মকর্তারা এক প্রকার ‘দমবন্ধ’ পরিবেশে কাজ করছেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর আব্দুল আউয়াল অধিদপ্তরে নিজস্ব বলয় শক্তিশালী করতে ‘বদলি বাণিজ্য’ শুরু করেন। এ ক্ষেত্রে তার প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন স্টাফ অফিসার কাবিল হোসেন। কাবিল একজন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী হওয়া সত্ত্বেও সহকারী প্রকৌশলী বা ক্যাডার কর্মকর্তাদের পরিবর্তে তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে। এ ছাড়া কক্সবাজারে দুর্নীতি ও সরকারি কাজে বাধার অভিযোগে আগে বরখাস্ত হওয়া কর্মচারী নেতা খোরশেদ আলমকে তিন লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে স্বপদে বহাল করার মতো অনৈতিক সিদ্ধান্ত আউয়াল নিয়েছেন বলে অভিযোগ।
অন্যদিকে, ময়মনসিংহের মেকানিক সানাউল্লাহকে নির্বাহী প্রকৌশলী ছামিউলের ব্যক্তিগত অপছন্দের কারণে ঝালকাঠিতে বদলি করা হয়েছে, যা চরম অমানবিকতার বহিঃপ্রকাশ বলে জানিয়েছেন অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
আব্দুল আউয়াল এর আগে সিলেট ও ময়মনসিংহে থাকাকালীন ফাইল আটকে রেখে ঘুষ গ্রহণ ও ঠিকাদারদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তার এসব অনিয়ম এবং ৫ কোটি টাকার বিনিময়ে পদ বাগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। এ কারণে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। ঘুষ দিয়ে প্রধান প্রকৌশলীর চেয়ারে বসা ও অনিয়মের বিষয়ে ডিপিএইচইয়ের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল আউয়ালের কাছে জানতে চাইলে তিনি ফোনে এই বিষয়ে কথা বলতে অনিচ্ছুক, তবে সরাসরি কথা বললে ভালো বুঝতে পারবেন হয়তো বলে জানান।
সার্বিক বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদের জন্য এমন লেনদেনের অভিযোগ ভয়াবহ। যদি অপরাধীদের শাস্তি না হয়, তবে পুরো প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়বে। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে হলে এই সিন্ডিকেটের শেকড় উপড়ে ফেলা জরুরি।’
এই বিষয়ে জানতে চাইলে দুর্নীতি দমন কমিশনের অভিযোগের অনুসন্ধান ও তদন্তকারী কর্মকতা রূপালী বাংলাদেশকে জানান, জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে পাঁচ কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে প্রধান প্রকৌশলীর পদ দখল করা হয়েছে এমন অভিযোগের ‘পরিপ্রেক্ষিতে’ আমাদের অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। পরে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানো যাবে।
বরিশাল টাইমস
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:১৬
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:০১
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ০২:৩১
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:৫২