
০১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১০:৩৯
বরিশাল চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দশতলা ভবনে লিফট সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী ও আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। আদালত চলাকালীন সময় সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দুইটি লিফটের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় শত শত মানুষকে। ভবনটিতে প্রতিদিন প্রায় ১,০০০ থেকে ১,২০০ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সিনিয়র ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের মোট ১১টি কোর্টে মামলার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এসব আদালতে আইনজীবী, পুলিশ, বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ জনগণকে একই ভবনের দুইটি লিফটেই উঠানামা করতে হয়। প্রতিটি লিফটের ধারণক্ষমতা ১৩ জন হলেও একসঙ্গে ১৭১৮ জন পর্যন্ত উঠতে দেখা যায়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তো রয়েছেই, একই সঙ্গে সৃষ্টি হয় তীব্র ভিড় ও বিশৃঙ্খলার।
বিচারপ্রার্থী এক নারী বলেন, “আমরা পুরুষদের সঙ্গে গাদাগাদি করে লিফটে উঠতে পারি না। আলাদা লিফট না থাকায় প্রতিদিন হয়রানির শিকার হচ্ছি।” বিচারপ্রার্থী সালমা বলেন, আমি মামলার বাদি। দীর্ঘ সময় লিফটের জন্য দাঁড়িয়ে আছি, ভিড় ঠেলে উঠতে পারছি না। আমি ৯ তালায় উঠবো। পুরুষদের সঙ্গে ভিড় ঠেলে গাদাগাদি করে উঠতে তো সমস্যাই হয়। মহিলাদের জন্য আলাদা লিফট প্রয়োজন।” একজন সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধ বিচারপ্রার্থী জসিম উদ্দিন জানান, হাঁটুর ব্যথায় সিঁড়ি বেয়ে ওঠা সম্ভব না। কিন্তু লিফটে এমন ভিড় যে, উঠতেই পারি না। অনেক সময় আদালতের সময়ই পেরিয়ে যায়।” ভবনের দুটি লিফটই প্রায়ই বিকল হয়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন আদালত ভবন সংশ্লিষ্টরা। বিদ্যুৎ চলে গেলে লিফটে আটকে পড়ার ঘটনাও ঘটে প্রায়ই। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় টেকনিশিয়ানদের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, চীফ জুডিশিয়াল, সিনিয়র জুডিশিয়ালসহ মোট ১১টি কোর্ট পরিচালিত হচ্ছে এই ভবনে। মহানগর আদালত, অতিরিক্ত মহানগর আদালত, সন্ত্রাস দমন একই লিফটে আসামি, পুলিশ, সাধারণ বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীরা একসঙ্গে ট্রাইব্যুনাল, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে ওঠানামা করায় চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। লিগ্যাল এইডের কার্যক্রমও সাধারণ বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের ভিড় চলছে।” এখানে ঠেলে আসামি আদালতে নেওয়া অনেক কষ্টকর।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এসএম সাদিকুর রহমান লিংকন বলেন, “বিচার বিভাগের জুডিশিয়াল আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। পুলিশ সদস্যরা জানান, কারাগার থেকে আদালতে সকল আসামী হাজির করার জন্য আনা হয়। এ সময় লিফট সংকটে হিমশিম খেতে হয়। সীমিত জায়গার কারণে একসঙ্গে আসামি ও পুলিশ সদস্য ওঠানোও কঠিন হয়ে পড়ে। উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইউসুফ বলেন, “এই পরিস্থিতিতে আসামি পুলিশ সদস্যদের নিরাপদভাবে ওঠানামা নিশ্চিত করা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়।” আইনজীবী ইসরাত জাহান সুমা বলেন, “আদালতের নির্ধারিত সময়ে শুনানিতে উপস্থিত হতে অনেক সময় বিলম্ব হয় লিফটের দীর্ঘ সিরিয়ালের কারণে। এতে মামলার কার্যক্রম ব্যাহত হয় বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি বাড়ে।”
ডিপার্টমেন্ট মাত্র দুইটি লিফট স্থাপন করার কারণে বিচারপ্রার্থীদের জন্য এটি এখন বড় কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। লিফট সংকটের কারণে আদালতের বিচার কার্যক্রম বিভিন্নভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ইতি পূর্বে আমাদের মাঝে প্রধান বিচারপতি মহোদয় এসেছিলেন, আমি তার কাছে বিষয়টি ব্যক্ত করার পর তিনি আরও দুটি লিফট স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন এবং সেই লক্ষ্যে কাজ চলছে।”
বরিশাল চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দশতলা ভবনে লিফট সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী ও আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। আদালত চলাকালীন সময় সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দুইটি লিফটের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় শত শত মানুষকে। ভবনটিতে প্রতিদিন প্রায় ১,০০০ থেকে ১,২০০ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সিনিয়র ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের মোট ১১টি কোর্টে মামলার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এসব আদালতে আইনজীবী, পুলিশ, বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ জনগণকে একই ভবনের দুইটি লিফটেই উঠানামা করতে হয়। প্রতিটি লিফটের ধারণক্ষমতা ১৩ জন হলেও একসঙ্গে ১৭১৮ জন পর্যন্ত উঠতে দেখা যায়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তো রয়েছেই, একই সঙ্গে সৃষ্টি হয় তীব্র ভিড় ও বিশৃঙ্খলার।
বিচারপ্রার্থী এক নারী বলেন, “আমরা পুরুষদের সঙ্গে গাদাগাদি করে লিফটে উঠতে পারি না। আলাদা লিফট না থাকায় প্রতিদিন হয়রানির শিকার হচ্ছি।” বিচারপ্রার্থী সালমা বলেন, আমি মামলার বাদি। দীর্ঘ সময় লিফটের জন্য দাঁড়িয়ে আছি, ভিড় ঠেলে উঠতে পারছি না। আমি ৯ তালায় উঠবো। পুরুষদের সঙ্গে ভিড় ঠেলে গাদাগাদি করে উঠতে তো সমস্যাই হয়। মহিলাদের জন্য আলাদা লিফট প্রয়োজন।” একজন সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধ বিচারপ্রার্থী জসিম উদ্দিন জানান, হাঁটুর ব্যথায় সিঁড়ি বেয়ে ওঠা সম্ভব না। কিন্তু লিফটে এমন ভিড় যে, উঠতেই পারি না। অনেক সময় আদালতের সময়ই পেরিয়ে যায়।” ভবনের দুটি লিফটই প্রায়ই বিকল হয়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন আদালত ভবন সংশ্লিষ্টরা। বিদ্যুৎ চলে গেলে লিফটে আটকে পড়ার ঘটনাও ঘটে প্রায়ই। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় টেকনিশিয়ানদের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, চীফ জুডিশিয়াল, সিনিয়র জুডিশিয়ালসহ মোট ১১টি কোর্ট পরিচালিত হচ্ছে এই ভবনে। মহানগর আদালত, অতিরিক্ত মহানগর আদালত, সন্ত্রাস দমন একই লিফটে আসামি, পুলিশ, সাধারণ বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীরা একসঙ্গে ট্রাইব্যুনাল, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে ওঠানামা করায় চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। লিগ্যাল এইডের কার্যক্রমও সাধারণ বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের ভিড় চলছে।” এখানে ঠেলে আসামি আদালতে নেওয়া অনেক কষ্টকর।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এসএম সাদিকুর রহমান লিংকন বলেন, “বিচার বিভাগের জুডিশিয়াল আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। পুলিশ সদস্যরা জানান, কারাগার থেকে আদালতে সকল আসামী হাজির করার জন্য আনা হয়। এ সময় লিফট সংকটে হিমশিম খেতে হয়। সীমিত জায়গার কারণে একসঙ্গে আসামি ও পুলিশ সদস্য ওঠানোও কঠিন হয়ে পড়ে। উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইউসুফ বলেন, “এই পরিস্থিতিতে আসামি পুলিশ সদস্যদের নিরাপদভাবে ওঠানামা নিশ্চিত করা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়।” আইনজীবী ইসরাত জাহান সুমা বলেন, “আদালতের নির্ধারিত সময়ে শুনানিতে উপস্থিত হতে অনেক সময় বিলম্ব হয় লিফটের দীর্ঘ সিরিয়ালের কারণে। এতে মামলার কার্যক্রম ব্যাহত হয় বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি বাড়ে।”
ডিপার্টমেন্ট মাত্র দুইটি লিফট স্থাপন করার কারণে বিচারপ্রার্থীদের জন্য এটি এখন বড় কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। লিফট সংকটের কারণে আদালতের বিচার কার্যক্রম বিভিন্নভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ইতি পূর্বে আমাদের মাঝে প্রধান বিচারপতি মহোদয় এসেছিলেন, আমি তার কাছে বিষয়টি ব্যক্ত করার পর তিনি আরও দুটি লিফট স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন এবং সেই লক্ষ্যে কাজ চলছে।”

১২ মার্চ, ২০২৬ ১৯:২৭
মাঠ কাঁপানো খ্যাতনামা ফুটবলার, সেনা কর্মকর্তা, ৭১'র রণাঙ্গনের খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর পর এবার স্পিকারের পদ অলঙ্কৃত করলেন বৃহত্তর বরিশালের কৃতি সন্তান (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য এবং ভোলা–৩ আসনের সাতবারের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টায় অধিবেশন শুরু হলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে স্পিকার হিসেবে শপথ করান। এই শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে দুপুর ১২টার পর সম্পন্ন হয়।
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বর্তমানে নতুন সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
ব্যক্তিগত জীবন ও শিক্ষা:
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের জন্ম ১৯৪৪ সালের ২৯ অক্টোবর ভোলার লালমোহনে। তার পিতা মরহুম ডা. আজহার উদ্দিন আহমদ ছিলেন পাকিস্তান জাতীয় সংসদের সাবেক সদস্য, এবং মা মরহুমা করিমুন নেছা বেগম গৃহিণী ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ১৯৬৪ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৬৫ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১ ডিসেম্বর ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হন এবং ১৯৭৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অবসর গ্রহণ করেন।
মুক্তিযুদ্ধ ও সামরিক জীবন
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য তিনি বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বীর বিক্রম পান। ৩১ জুলাই ১৯৭১, তিনি ১ম ইস্ট বেঙ্গলের কামালপুর বিওপি আক্রমণে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে আহত হন।
৩০ মার্চ ১৯৭১, যশোর ক্যান্টনমেন্টে তিনি তরুণ অফিসার হিসেবে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন এবং আট ঘণ্টাব্যাপী সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। পরে যশোর-খুলনা অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধকে সংগঠিত করেন এবং বেনাপোল অঞ্চলে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে একাধিক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিনি ১ম ইস্ট বেঙ্গল ব্যাটালিয়নের একমাত্র কমান্ডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১, মেজর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে সিলেট দখলের সময়ে তাঁর নেতৃত্বে ‘বি’ কোম্পানি পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করে।
রাজনৈতিক জীবন;
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ভোলা-৩ (লালমোহন ও তজমুদ্দিন) আসন থেকে সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন (৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম ও ১৩তম সংসদ)। ১৯৯১ সালে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদে জয়ী হন এবং ১৯৯২ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯৬ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধিন দ্বিতীয় সরকারের তিনি বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী এবং ২০০১-০৬ সালে তৃতীয় সরকারের পানিসম্পদ, বাণিজ্য ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধিন নতুন সরকারের তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালণ করছেন।
ক্রীড়াজীবন;
তিনি ছিলেন খ্যাতনামা ফুটবলার। ১৯৬৭-১৯৭১ সালে পাকিস্তান জাতীয় দলের সদস্য হিসেবে ইরান, তুরস্ক ও বার্মা (বর্তমান মিয়ানমার) সফর করেন। ১৯৭০ সালে তেহরানে অনুষ্ঠিত আরসিডি প্রতিযোগিতায় তিনি জাতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন। ২০০৫ সালে ফিফা তাকে বিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশের সেরা ফুটবলার হিসেবে সেন্টেনারি অর্ডার অব মেরিট সম্মাননা প্রদান করে। তিনি ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং দলের সদস্য হিসেবে ১২ বছর খেলেছেন এবং ১৯৭৬ সালে দলের অধিনায়কের দায়িত্বও পালন করেন। এছাড়া ১৯৬৪-৬৬ সালে প্রাদেশিক প্রতিযোগিতায় ১০০ ও ২০০ মিটার দৌড়ে পূর্ব পাকিস্তানের দ্রুততম মানবের খেতাব লাভ করেন।
পারিবারিক জীবন:
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের স্ত্রী দিলারা হাফিজ ছিলেন শিক্ষকতা পেশায় নিযুক্ত এবং ইডেন মহিলা কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা দপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে অবসর নেন। তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে—শাহরুখ হাফিজ, শামামা শাহরীন হাফিজ এবং তাহারাত হাফিজ।
মাঠ কাঁপানো খ্যাতনামা ফুটবলার, সেনা কর্মকর্তা, ৭১'র রণাঙ্গনের খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর পর এবার স্পিকারের পদ অলঙ্কৃত করলেন বৃহত্তর বরিশালের কৃতি সন্তান (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য এবং ভোলা–৩ আসনের সাতবারের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টায় অধিবেশন শুরু হলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে স্পিকার হিসেবে শপথ করান। এই শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে দুপুর ১২টার পর সম্পন্ন হয়।
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বর্তমানে নতুন সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
ব্যক্তিগত জীবন ও শিক্ষা:
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের জন্ম ১৯৪৪ সালের ২৯ অক্টোবর ভোলার লালমোহনে। তার পিতা মরহুম ডা. আজহার উদ্দিন আহমদ ছিলেন পাকিস্তান জাতীয় সংসদের সাবেক সদস্য, এবং মা মরহুমা করিমুন নেছা বেগম গৃহিণী ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ১৯৬৪ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৬৫ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১ ডিসেম্বর ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হন এবং ১৯৭৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অবসর গ্রহণ করেন।
মুক্তিযুদ্ধ ও সামরিক জীবন
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য তিনি বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বীর বিক্রম পান। ৩১ জুলাই ১৯৭১, তিনি ১ম ইস্ট বেঙ্গলের কামালপুর বিওপি আক্রমণে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে আহত হন।
৩০ মার্চ ১৯৭১, যশোর ক্যান্টনমেন্টে তিনি তরুণ অফিসার হিসেবে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন এবং আট ঘণ্টাব্যাপী সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। পরে যশোর-খুলনা অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধকে সংগঠিত করেন এবং বেনাপোল অঞ্চলে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে একাধিক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিনি ১ম ইস্ট বেঙ্গল ব্যাটালিয়নের একমাত্র কমান্ডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১, মেজর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে সিলেট দখলের সময়ে তাঁর নেতৃত্বে ‘বি’ কোম্পানি পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করে।
রাজনৈতিক জীবন;
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ভোলা-৩ (লালমোহন ও তজমুদ্দিন) আসন থেকে সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন (৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম ও ১৩তম সংসদ)। ১৯৯১ সালে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদে জয়ী হন এবং ১৯৯২ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯৬ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধিন দ্বিতীয় সরকারের তিনি বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী এবং ২০০১-০৬ সালে তৃতীয় সরকারের পানিসম্পদ, বাণিজ্য ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধিন নতুন সরকারের তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালণ করছেন।
ক্রীড়াজীবন;
তিনি ছিলেন খ্যাতনামা ফুটবলার। ১৯৬৭-১৯৭১ সালে পাকিস্তান জাতীয় দলের সদস্য হিসেবে ইরান, তুরস্ক ও বার্মা (বর্তমান মিয়ানমার) সফর করেন। ১৯৭০ সালে তেহরানে অনুষ্ঠিত আরসিডি প্রতিযোগিতায় তিনি জাতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন। ২০০৫ সালে ফিফা তাকে বিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশের সেরা ফুটবলার হিসেবে সেন্টেনারি অর্ডার অব মেরিট সম্মাননা প্রদান করে। তিনি ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং দলের সদস্য হিসেবে ১২ বছর খেলেছেন এবং ১৯৭৬ সালে দলের অধিনায়কের দায়িত্বও পালন করেন। এছাড়া ১৯৬৪-৬৬ সালে প্রাদেশিক প্রতিযোগিতায় ১০০ ও ২০০ মিটার দৌড়ে পূর্ব পাকিস্তানের দ্রুততম মানবের খেতাব লাভ করেন।
পারিবারিক জীবন:
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের স্ত্রী দিলারা হাফিজ ছিলেন শিক্ষকতা পেশায় নিযুক্ত এবং ইডেন মহিলা কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা দপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে অবসর নেন। তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে—শাহরুখ হাফিজ, শামামা শাহরীন হাফিজ এবং তাহারাত হাফিজ।

১২ মার্চ, ২০২৬ ১৮:১৯
বরিশালের বাকেরগঞ্জে ট্রাক ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অটোরিকশায় থাকা আরও ১ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বরিশাল পটুয়াখালী মহাসড়কের গোলদার বাড়ি নামক স্থানে সকাল ৯ টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশা বাকেরগঞ্জ থেকে দাদুরহাট যাওয়ার পথে বিপরীত দিক পটুয়াখালী থেকে আসা একটি দ্রুতগামী তরমুজবাহী ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে পড়ে। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
এ সময় গুরুতর আহত অবস্থায় অটোরিকশাচালক হিরণ গাজী ও অটোরিক্সার যাত্রী দুইজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অটোচালক হিরণ গাজী নিহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করেন।
বরিশালের বাকেরগঞ্জে ট্রাক ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অটোরিকশায় থাকা আরও ১ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বরিশাল পটুয়াখালী মহাসড়কের গোলদার বাড়ি নামক স্থানে সকাল ৯ টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশা বাকেরগঞ্জ থেকে দাদুরহাট যাওয়ার পথে বিপরীত দিক পটুয়াখালী থেকে আসা একটি দ্রুতগামী তরমুজবাহী ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে পড়ে। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
এ সময় গুরুতর আহত অবস্থায় অটোরিকশাচালক হিরণ গাজী ও অটোরিক্সার যাত্রী দুইজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অটোচালক হিরণ গাজী নিহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করেন।

১২ মার্চ, ২০২৬ ১৬:৩৬
ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি তেল সরবরাহ চাইছেন মালিকরা। এ জন্য ডিপোগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে নৌপরিবহন মন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছে তারা। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল সংস্থার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট মো. বদিউজ্জামান বাদল সম্প্রতি নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে এ চিঠি পাঠান।
চিঠিতে বলা হয়, ঢাকা নদী বন্দর থেকে ৩৮টি নৌপথে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১৪০টির মতো লঞ্চ পরিচালিত হবে। বর্তমানে ৬০-৭০টি লঞ্চ চলাচল করছে। যার মধ্যে ঢাকা-বরিশাল নৌপথে পাঁচটি, প্রতিটি লঞ্চে গড়ে ৭ হাজার লিটার; পটুয়াখালীতে পাঁচটি, প্রতিটি লঞ্চে গড়ে ৬ হাজার লিটার; বেতুয়া রুটে তিনটি, প্রতিটি লঞ্চে গড়ে ৬ হাজার লিটার তেল লাগে। এমনিভাবে ৩৮টি নৌপথের জন্য গড়ে প্রতিদিন ২ লাখ ৫০ হাজার লিটার জ্বালানিতেলের প্রয়োজন হয়।
এতে বলা হয়, সম্প্রতি ঢাকা নদী বন্দরে লঞ্চে তেল সরবরাহকারী মিনি ওয়েল ট্যাংকার মালিকদের পক্ষ থেকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অবস্থিত পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ডিপো থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল সরবরাহ করছে না বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের গোদলাইন, ভৈরব, নরসিংদী, আরিচা, বরিশাল ও চাঁদপুরে অবস্থিত ডিপোগুলোও পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল সরবরাহ করছে না বলে লঞ্চ মালিকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ অবস্থায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যাত্রী সাধারণের যাতায়াতের সুবিধার্থে এবং যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোতে পর্যাপ্ত জ্বালানিতেল সরবরাহের জন্য ডিপোগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে নৌমন্ত্রীকে অনুরোধ জানানো হয় চিঠিতে।’
ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি তেল সরবরাহ চাইছেন মালিকরা। এ জন্য ডিপোগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে নৌপরিবহন মন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছে তারা। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল সংস্থার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট মো. বদিউজ্জামান বাদল সম্প্রতি নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে এ চিঠি পাঠান।
চিঠিতে বলা হয়, ঢাকা নদী বন্দর থেকে ৩৮টি নৌপথে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১৪০টির মতো লঞ্চ পরিচালিত হবে। বর্তমানে ৬০-৭০টি লঞ্চ চলাচল করছে। যার মধ্যে ঢাকা-বরিশাল নৌপথে পাঁচটি, প্রতিটি লঞ্চে গড়ে ৭ হাজার লিটার; পটুয়াখালীতে পাঁচটি, প্রতিটি লঞ্চে গড়ে ৬ হাজার লিটার; বেতুয়া রুটে তিনটি, প্রতিটি লঞ্চে গড়ে ৬ হাজার লিটার তেল লাগে। এমনিভাবে ৩৮টি নৌপথের জন্য গড়ে প্রতিদিন ২ লাখ ৫০ হাজার লিটার জ্বালানিতেলের প্রয়োজন হয়।
এতে বলা হয়, সম্প্রতি ঢাকা নদী বন্দরে লঞ্চে তেল সরবরাহকারী মিনি ওয়েল ট্যাংকার মালিকদের পক্ষ থেকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অবস্থিত পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ডিপো থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল সরবরাহ করছে না বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের গোদলাইন, ভৈরব, নরসিংদী, আরিচা, বরিশাল ও চাঁদপুরে অবস্থিত ডিপোগুলোও পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল সরবরাহ করছে না বলে লঞ্চ মালিকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ অবস্থায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যাত্রী সাধারণের যাতায়াতের সুবিধার্থে এবং যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোতে পর্যাপ্ত জ্বালানিতেল সরবরাহের জন্য ডিপোগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে নৌমন্ত্রীকে অনুরোধ জানানো হয় চিঠিতে।’
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
১২ মার্চ, ২০২৬ ২০:৫৩
১২ মার্চ, ২০২৬ ২০:২৫
১২ মার্চ, ২০২৬ ২০:০৩
১২ মার্চ, ২০২৬ ২০:০১