র্যাব সদস্য পরিচয়ে তিনজন পান ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নগদ অর্থ ছিনতাইয়ের ঘটনায় শ্রমিকদলের নেতাসহ তিনজন ভূয়া র্যাব সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের অপর সহযোগিরা পালিয়ে গেছেন।
এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের পর বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের আমবাড়ি গ্রামে।
অপরদিকে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত ভূয়া র্যাব সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের বাগধা ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল মোল্লাকে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে আগৈলঝাড়া উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি আল সজল আলাল ও সাধারণ সম্পাদক সিকদার মো. লিটন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বহিস্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
আগৈলঝাড়া থানার ওসি মো. অলিউল ইসলাম জানিয়েছেন, আমবাড়ি এলাকা থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে র্যাব পরিচয়ে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা দাবি ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় থানা পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় গ্রেপ্তারকৃতদের গায়ে র্যাবের পোশাক পরা ছিল।
ওসি আরও জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের নাঘিরপাড় গ্রামের মৃত আব্দুল মাজেদ মোল্লার ছেলে ও বাগধা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল মোল্লা (৪০), একই উপজেলার উত্তর চাঁদত্রিশিরা গ্রামের দুলাল মোল্লার ছেলে রমজান মোল্লা (২৮) এবং বাকাল ইউনিয়নের পূর্ব পয়সা গ্রামের নগেন হালদারের ছেলে নরত্তোম হালদার (৩৪)।
অভিযানের সময় গ্রেপ্তারকৃতদের অপর সহযোগী সুমনসহ অন্যান্যরা হ্যান্ডকাফ, অস্ত্র ও মোটরসাইকেল নিয়ে কৌশলে পালিয়ে যায়। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
ওসি বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বিপুল ঢালী বাদী হয়ে গ্রেপ্তারকৃত তিনজন ভূয়া র্যাব সদস্যসহ অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই সৌমেন বিশ্বাস এজাহারের বরাত দিয়ে জানান, মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে আমবাড়ি গ্রামের খগেন ঢালীর ছেলে বিপুল ঢালী, অপর পান ব্যবসায়ী পলাশ মন্ডল ও চঞ্চল কর্মকার পান বিক্রি করে বাড়িতে ফিরছিলেন।
পথিমধ্যে রাত সোয়া নয়টার দিকে স্থানীয় নিরঞ্জন ঢালীর মুদি দোকানের পূর্ব পাশে পৌঁছালে র্যাবের পোশাক গায়ে, পিস্তল ও হ্যান্ডকাপ হাতে ৫/৬ জন ব্যক্তি র্যাব পরিচয়ে তাদের পথরোধ করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ব্যবসায়ীদের কাছে মোটা অংকের টাকা চাঁদা দাবি করে। একপর্যায়ে র্যাব পরিচয় প্রদানকারীরা তল্লাশীর নামে ব্যবসায়ীদের কাছে থাকা নগদ অর্থ জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়।
সূত্রে আরও জানা গেছে, নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেয়ার পর র্যাব পরিচয় দেয়া ব্যক্তিদের ওপর ব্যবসায়ীদের সন্দেহ হয়। তাৎক্ষণিক তারা বিষয়টি মোবাইল ফোনে থানা পুলিশকে অবহিত করেন।
পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে বাটরাগামী ব্রিজের ওপর থেকে র্যাবের পোশাক পরিহিত উল্লেখিত তিনজনকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে তারা ভূয়া র্যাব সদস্য বলে স্বীকার করেন। পরবর্তীতে তাদের গ্রেপ্তার করে থানায় আনা হয়। অভিযানের সময় গ্রেপ্তারকৃতদের সহযোগী সুমনসহ অন্যান্যরা পিস্তল, হ্যান্ডকাফ ও মোটরসাইকেলসহ কৌশলে পালিয়ে যায়।

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০৩
পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনার অবকাঠামোগত সক্ষমতা আরো বাড়াতে, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) বন্দর থানা ভবন (মেট্রো টাইপ-১) নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বন্দর থানা ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মঞ্জুর, এমপি।
এ সময় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্সহ বরিশাল পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এবং বিএমপি কমিশনার বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা থানার সার্বিক কার্যক্রম ও বিদ্যমান অবকাঠামোগত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
নতুন থানা ভবন নির্মাণের মাধ্যমে বন্দর থানার প্রশাসনিক কার্যক্রম বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনার অবকাঠামোগত সক্ষমতা আরো বাড়াতে, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) বন্দর থানা ভবন (মেট্রো টাইপ-১) নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বন্দর থানা ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মঞ্জুর, এমপি।
এ সময় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্সহ বরিশাল পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এবং বিএমপি কমিশনার বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা থানার সার্বিক কার্যক্রম ও বিদ্যমান অবকাঠামোগত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
নতুন থানা ভবন নির্মাণের মাধ্যমে বন্দর থানার প্রশাসনিক কার্যক্রম বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:০৯
বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর। তিনি বলেন, ‘অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে।’
আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল নগরের বন্দর থানা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্সে আছি। বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো কাজে যাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধেও সরকারের অবস্থান কঠোর।’
মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইতোমধ্যে পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলায় সভা হয়েছে জানিয়ে আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সভা করা হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
পরে প্রতিমন্ত্রী বরিশাল বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।’
বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর। তিনি বলেন, ‘অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে।’
আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল নগরের বন্দর থানা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্সে আছি। বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো কাজে যাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধেও সরকারের অবস্থান কঠোর।’
মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইতোমধ্যে পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলায় সভা হয়েছে জানিয়ে আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সভা করা হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
পরে প্রতিমন্ত্রী বরিশাল বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।’

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:২৫
বরিশালের উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তার সরকারি উন্নয়ন কাজের তদারকিতে গাফেলতিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত ও বিচারের দাবিতে উজিরপুর উপজেলার ধামুরা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রব হাওলাদারের ছেলে মো. মাছুম হাওলাদার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এ লিখিত আভিযোগ দিয়েছেন।
এতে তিনি আভিযোগ করেন উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় উজিরপুরে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থেকে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি সংক্রান্ত অপকর্মের সাথে জড়িত হয়ে পড়েছেন। তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারসহ বিভিন্ন কাজে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজসে সরকারের অর্থের অপচয়সহ নানা দুর্নীতি মূলক কর্মকান্ডের সাথে লিপ্ত রয়েছেন। যা তদন্ত করলেই প্রমান মিলবে। ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার সেগুন বাগিচাস্থ দুদকের প্রধান কর্য্যলয়ে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগটি করা হয়।
অভিযোগকারী মাছুম হাওলাদার বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দাপটের সাথে চাকুরি করা সুব্রত রায় তার তদারকিতে থাকা বিভিন্ন সড়ক, ব্রিজ ও কালর্ভাট নির্মাণে ঠিকাদারদের ব্যাপক অনিয়মকে অর্থের বিনিময়ে সহয়াতা করেন ।
বর্তমান সরকারের আমলেও তিনি উজিরপুরে একই ভাবে চাকুরি করছেন। তার কারনে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হচ্ছে। যা দুর্নীতির শামিল। উপজেলার ধামুরা এলাকার বেশ কয়েকটি ব্রিজের পুরাতন মালপত্র নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তার তদারকিতে থাকা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এসব অভিযোগ সত্য নয়, ভিত্তিহীন দাবি করে উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেন, উপজেলার ধামুরা এলাকায়।নির্মিত একটি ব্রিজের সম্প্রতি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে গেলে কিছু সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে মাছুম হাওলাদার কাজে বাধা দেন। কাগজপত্রে দেখা যায় ওটা খাস সম্পত্তি।
তারপরেও বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই অংশের কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়। ব্রিজের সংযোগ সড়কের এ সম্পত্তি নিয়ে ক্ষিপ্ত মাছুম হাওলাদার তাকে হয়রাণি ও তার পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুদকে এ অভিযোগ দিয়েছেন।’
বরিশালের উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তার সরকারি উন্নয়ন কাজের তদারকিতে গাফেলতিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত ও বিচারের দাবিতে উজিরপুর উপজেলার ধামুরা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রব হাওলাদারের ছেলে মো. মাছুম হাওলাদার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এ লিখিত আভিযোগ দিয়েছেন।
এতে তিনি আভিযোগ করেন উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় উজিরপুরে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থেকে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি সংক্রান্ত অপকর্মের সাথে জড়িত হয়ে পড়েছেন। তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারসহ বিভিন্ন কাজে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজসে সরকারের অর্থের অপচয়সহ নানা দুর্নীতি মূলক কর্মকান্ডের সাথে লিপ্ত রয়েছেন। যা তদন্ত করলেই প্রমান মিলবে। ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার সেগুন বাগিচাস্থ দুদকের প্রধান কর্য্যলয়ে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগটি করা হয়।
অভিযোগকারী মাছুম হাওলাদার বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দাপটের সাথে চাকুরি করা সুব্রত রায় তার তদারকিতে থাকা বিভিন্ন সড়ক, ব্রিজ ও কালর্ভাট নির্মাণে ঠিকাদারদের ব্যাপক অনিয়মকে অর্থের বিনিময়ে সহয়াতা করেন ।
বর্তমান সরকারের আমলেও তিনি উজিরপুরে একই ভাবে চাকুরি করছেন। তার কারনে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হচ্ছে। যা দুর্নীতির শামিল। উপজেলার ধামুরা এলাকার বেশ কয়েকটি ব্রিজের পুরাতন মালপত্র নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তার তদারকিতে থাকা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এসব অভিযোগ সত্য নয়, ভিত্তিহীন দাবি করে উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেন, উপজেলার ধামুরা এলাকায়।নির্মিত একটি ব্রিজের সম্প্রতি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে গেলে কিছু সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে মাছুম হাওলাদার কাজে বাধা দেন। কাগজপত্রে দেখা যায় ওটা খাস সম্পত্তি।
তারপরেও বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই অংশের কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়। ব্রিজের সংযোগ সড়কের এ সম্পত্তি নিয়ে ক্ষিপ্ত মাছুম হাওলাদার তাকে হয়রাণি ও তার পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুদকে এ অভিযোগ দিয়েছেন।’

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৬:৩৮
র্যাব সদস্য পরিচয়ে তিনজন পান ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নগদ অর্থ ছিনতাইয়ের ঘটনায় শ্রমিকদলের নেতাসহ তিনজন ভূয়া র্যাব সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের অপর সহযোগিরা পালিয়ে গেছেন।
এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের পর বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের আমবাড়ি গ্রামে।
অপরদিকে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত ভূয়া র্যাব সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের বাগধা ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল মোল্লাকে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে আগৈলঝাড়া উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি আল সজল আলাল ও সাধারণ সম্পাদক সিকদার মো. লিটন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বহিস্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
আগৈলঝাড়া থানার ওসি মো. অলিউল ইসলাম জানিয়েছেন, আমবাড়ি এলাকা থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে র্যাব পরিচয়ে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা দাবি ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় থানা পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় গ্রেপ্তারকৃতদের গায়ে র্যাবের পোশাক পরা ছিল।
ওসি আরও জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের নাঘিরপাড় গ্রামের মৃত আব্দুল মাজেদ মোল্লার ছেলে ও বাগধা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল মোল্লা (৪০), একই উপজেলার উত্তর চাঁদত্রিশিরা গ্রামের দুলাল মোল্লার ছেলে রমজান মোল্লা (২৮) এবং বাকাল ইউনিয়নের পূর্ব পয়সা গ্রামের নগেন হালদারের ছেলে নরত্তোম হালদার (৩৪)।
অভিযানের সময় গ্রেপ্তারকৃতদের অপর সহযোগী সুমনসহ অন্যান্যরা হ্যান্ডকাফ, অস্ত্র ও মোটরসাইকেল নিয়ে কৌশলে পালিয়ে যায়। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
ওসি বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বিপুল ঢালী বাদী হয়ে গ্রেপ্তারকৃত তিনজন ভূয়া র্যাব সদস্যসহ অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই সৌমেন বিশ্বাস এজাহারের বরাত দিয়ে জানান, মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে আমবাড়ি গ্রামের খগেন ঢালীর ছেলে বিপুল ঢালী, অপর পান ব্যবসায়ী পলাশ মন্ডল ও চঞ্চল কর্মকার পান বিক্রি করে বাড়িতে ফিরছিলেন।
পথিমধ্যে রাত সোয়া নয়টার দিকে স্থানীয় নিরঞ্জন ঢালীর মুদি দোকানের পূর্ব পাশে পৌঁছালে র্যাবের পোশাক গায়ে, পিস্তল ও হ্যান্ডকাপ হাতে ৫/৬ জন ব্যক্তি র্যাব পরিচয়ে তাদের পথরোধ করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ব্যবসায়ীদের কাছে মোটা অংকের টাকা চাঁদা দাবি করে। একপর্যায়ে র্যাব পরিচয় প্রদানকারীরা তল্লাশীর নামে ব্যবসায়ীদের কাছে থাকা নগদ অর্থ জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়।
সূত্রে আরও জানা গেছে, নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেয়ার পর র্যাব পরিচয় দেয়া ব্যক্তিদের ওপর ব্যবসায়ীদের সন্দেহ হয়। তাৎক্ষণিক তারা বিষয়টি মোবাইল ফোনে থানা পুলিশকে অবহিত করেন।
পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে বাটরাগামী ব্রিজের ওপর থেকে র্যাবের পোশাক পরিহিত উল্লেখিত তিনজনকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে তারা ভূয়া র্যাব সদস্য বলে স্বীকার করেন। পরবর্তীতে তাদের গ্রেপ্তার করে থানায় আনা হয়। অভিযানের সময় গ্রেপ্তারকৃতদের সহযোগী সুমনসহ অন্যান্যরা পিস্তল, হ্যান্ডকাফ ও মোটরসাইকেলসহ কৌশলে পালিয়ে যায়।
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:০৬
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০৩
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:০৯
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৫৪