পৃথিবীতে মাতাপিতার পরে যার অবস্থান তিনি শিক্ষক। প্রত্যেক মানব শিশুর শিক্ষিত এবং মানুষ হয়ে ওঠার পেছনে মাতাপিতার পরে মূখ্য ভূমিকা পালন করেন শিক্ষকরা। অথচ অনেকে শিক্ষিত হয়েও সেই শিক্ষকদের উপযুক্ত সম্মান কিংবা কদর করতে জানে না। নৈতিক অবক্ষয়ের মহামারির এই যুগে শিক্ষকদের অসম্মান কিংবা লাঞ্ছিত করার ঘটনাও নেহাৎ কম নয়।
এমন নিদারুণ বাস্তবতায় শিক্ষকরা যখন ভীত-সন্ত্রস্ত আর হতাশ ঠিক তখনই বাবুগঞ্জে দেখা গেছে আশাজাগানিয়া এক ঐতিহাসিক চিত্র। একটি বিদ্যালয়ের জন্মলগ্ন থেকে সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত সকল প্রাক্তন শিক্ষককে সম্মান জানাতে দেওয়া হচ্ছে রাজসিক এক বিদায়ী সংবর্ধনা। অনন্য ও নজিরবিহীন এ উদ্যোগটি নিয়েছে বাবুগঞ্জ উপজেলার জামেনা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।
আগামী ১২ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অবসরপ্রাপ্ত সকল প্রাক্তন শিক্ষকদের সংবর্ধনা ঘিরে এক জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি'র কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। এসময় স্কুলের ফলক উন্মোচন এবং লাইব্রেরি ভবনের শুভ উদ্বোধন করবেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন আয়োজক কমিটির আহবায়ক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন কৃতি ছাত্র রাকিবুল হাসান খান রাকিব।
রাজসিক ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের মোট ১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত প্রাক্তন শিক্ষককে দেওয়া হচ্ছে সম্মাননা ক্রেস্ট ও আকর্ষণীয় উপহার। এরমধ্যে ৮ জন শিক্ষকের পরিবার পাচ্ছেন মরণোত্তর সংবর্ধনা। জমকালো ওই অনুষ্ঠান রাঙাতে বর্ণিল সঙ্গীত সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে আনা হচ্ছে তারকা শিল্পীদের। তারুণ্যের ক্রেজখ্যাত জনপ্রিয় শিল্পী ঐশী এবং আশিক মাতাবেন সঙ্গীতানুষ্ঠান। এছাড়াও দেশের নামীদামী শিল্পীরা থাকছেন ওই অনুষ্ঠানে।
অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে বাবুগঞ্জের দেহেরগতি ইউনিয়নের রাকুদিয়া এলাকায়। জামেনা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ গোটা এলাকায় যেন সাজ সাজ রব। নবীন-প্রবীণ শিক্ষার্থীদের এই মিলনমেলাকে ঘিরে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। মহতী এই আয়োজনকে অনন্য এবং অনুকরণীয় বলছেন বিশিষ্টজনরা।
রাজসিক ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজক কমিটির আহবায়ক বিদ্যালয়ের ৯৩ ব্যাচের প্রাক্তন ছাত্র রাকিবুল হাসান খান রাকিব বলেন, 'পিতামাতার পরেই শিক্ষকদের অবস্থান। মানুষের জীবন গড়ার কারিগর শিক্ষকদের ঋণ কখনো শোধ করা যায় না। আমরা জামেনা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন এবং বর্তমান শিক্ষার্থীরা মিলে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত সকল প্রাক্তন শিক্ষকদের একটু সম্মান জানানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। শিক্ষকদের অবদান কেউ যেন কখনো না ভোলে এই অনুষ্ঠান থেকে আমরা সেই বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাই।'

২২ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৩০
বরিশাল নগরীর বিমানবন্দর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০ কেজি গাঁজাসহ মো. মনির হোসেন (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব ৮)। শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা থেকে বরিশালগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালায় র্যাব-৮ বরিশাল সদর কোম্পানির একটি টহল দল। নগরীর বিমানবন্দর থানাধীন জমজম এলপিজি ফিলিং স্টেশনের সামনে বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে বাসটিতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় যাত্রীবেশে থাকা মনির হোসেনের হাতে থাকা নীল রঙের কাপড়ের ব্যাগ তল্লাশি করে ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার মনির হোসেন খুলনার দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা এলাকার বাসিন্দা।
র্যাব-৮ জানায়, উদ্ধার করা গাঁজা ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য তাকে বরিশাল মহানগরীর বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মাদকের বিরুদ্ধে র্যাব-৮ বরিশালের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে এলিট ফোর্স।’
বরিশাল নগরীর বিমানবন্দর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০ কেজি গাঁজাসহ মো. মনির হোসেন (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব ৮)। শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা থেকে বরিশালগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালায় র্যাব-৮ বরিশাল সদর কোম্পানির একটি টহল দল। নগরীর বিমানবন্দর থানাধীন জমজম এলপিজি ফিলিং স্টেশনের সামনে বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে বাসটিতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় যাত্রীবেশে থাকা মনির হোসেনের হাতে থাকা নীল রঙের কাপড়ের ব্যাগ তল্লাশি করে ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার মনির হোসেন খুলনার দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা এলাকার বাসিন্দা।
র্যাব-৮ জানায়, উদ্ধার করা গাঁজা ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য তাকে বরিশাল মহানগরীর বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মাদকের বিরুদ্ধে র্যাব-৮ বরিশালের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে এলিট ফোর্স।’

২২ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:৪০
বণিক বার্তার বরিশাল প্রতিনিধি সিনিয়র সাংবাদিক এম. মিরাজ হোসেন আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নইলাহি রাজিউন)। আজ শনিবার (২২ আগস্ট ২০২৬) বেলা দেড়টার দিকে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৪৮ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে সন্তান, পিতা ও প্রতিবন্ধী ছোট ভাইকে রেখে গেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে তিনি ব্রেইন টিউমারজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন। মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর প্রাথমিক বায়োপসিতে তার নন হজকিং লিম্ফোমা ধরা পড়ে। এরপর থেকে ওই হাসপাতালেই দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
এম. মিরাজ হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বরিশাল প্রেসক্লাব, বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি এবং ‘নিউজ এডিটরস কাউন্সিল, বরিশাল’সহ বিভিন্ন সাংবাদিক ও সামাজিক সংগঠন।
এম. মিরাজ হোসেনের অকাল প্রয়াণে ‘নিউজ এডিটরস কাউন্সিল, বরিশাল’ গভীর শোক প্রকাশ করছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছে।’
বণিক বার্তার বরিশাল প্রতিনিধি সিনিয়র সাংবাদিক এম. মিরাজ হোসেন আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নইলাহি রাজিউন)। আজ শনিবার (২২ আগস্ট ২০২৬) বেলা দেড়টার দিকে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৪৮ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে সন্তান, পিতা ও প্রতিবন্ধী ছোট ভাইকে রেখে গেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে তিনি ব্রেইন টিউমারজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন। মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর প্রাথমিক বায়োপসিতে তার নন হজকিং লিম্ফোমা ধরা পড়ে। এরপর থেকে ওই হাসপাতালেই দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
এম. মিরাজ হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বরিশাল প্রেসক্লাব, বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি এবং ‘নিউজ এডিটরস কাউন্সিল, বরিশাল’সহ বিভিন্ন সাংবাদিক ও সামাজিক সংগঠন।
এম. মিরাজ হোসেনের অকাল প্রয়াণে ‘নিউজ এডিটরস কাউন্সিল, বরিশাল’ গভীর শোক প্রকাশ করছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছে।’

২২ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:৩১
কিছু মানুষ জীবনে আসেন, কিছুদিন পাশে থাকেন, তারপর একদিন দূরে চলে যান। কিন্তু কিছু মানুষ চলে গেলেও তাঁদের শূন্যতা কখনো পূরণ হয় না। এম. মিরাজ হোসাইন ছিলেন তেমনই একজন মানুষ। তিনি শুধু একজন সিনিয়র সাংবাদিক ছিলেন না, ছিলেন সহকর্মী, অভিভাবকতুল্য বড় ভাই এবং অসাধারণ এক মানবিক মানুষ। তাঁর এভাবে চলে যাওয়া আজও মেনে নিতে পারছি না।
২০১৩-২০১৪ সালের কথা। তখন আমরা একসঙ্গে কাজ করতাম দৈনিক বরিশালের আজকাল পত্রিকায়। মিরাজ ভাই ছিলেন বার্তা সম্পাদক, আর আমি ছিলাম চিফ রিপোর্টার। সাংবাদিকতার ব্যস্ত সেই দিনগুলোতে প্রতিদিনই কোনো না কোনোভাবে তাঁর সঙ্গে কাজের সম্পর্ক হতো। খবর নিয়ে আলোচনা, রিপোর্টের বিষয়বস্তু, সংবাদ পরিবেশনের ধরন—সবকিছুতেই তাঁর পরামর্শ ও নির্দেশনা ছিল অত্যন্ত মূল্যবান।
মিরাজ ভাইয়ের সবচেয়ে বড় পরিচয় ছিল, তিনি একজন ভালো মানুষ ছিলেন। পেশাগতভাবে তিনি ছিলেন মেধাবী, দায়িত্বশীল ও অভিজ্ঞ; কিন্তু মানুষ হিসেবে তাঁর সরলতা, আন্তরিকতা ও আপন করে নেওয়ার ক্ষমতা ছিল আরও বেশি অসাধারণ। তাঁর সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে কখনো মনে হয়নি, তিনি শুধু একজন ঊর্ধ্বতন সহকর্মী। বরং মনে হয়েছে, পাশে থাকা একজন আপন বড় ভাই। ভুল হলে বুঝিয়ে দিতেন, ভালো কাজ হলে উৎসাহ দিতেন। তাঁর কথায় ছিল অভিজ্ঞতার ছাপ, আর আচরণে ছিল মমতা।
সময়ের স্রোতে আমরা যে যার কর্মক্ষেত্রে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। পথ আলাদা হয়েছে, দায়িত্ব বেড়েছে, যোগাযোগও আগের মতো নিয়মিত থাকেনি। কিন্তু মনের ভেতর কিছু সম্পর্ক কখনো পুরোনো হয় না। মিরাজ ভাইয়ের সঙ্গে আমার সম্পর্কটিও তেমনই ছিল। দূরত্ব তৈরি হলেও শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার জায়গাটি কখনো কমেনি।
আজ তিনি নেই—এই সত্যটাই সবচেয়ে কঠিন। মনে হয়, এখনও হয়তো কোথাও দেখা হবে; কোনো সংবাদ নিয়ে কথা হবে, পুরোনো দিনের গল্প উঠবে, তিনি আগের মতোই কোনো পরামর্শ দেবেন। কিন্তু বাস্তবতা বড় নির্মম। তিনি চলে গেছেন আমাদের ছেড়ে, আমাদের একা করে দিয়ে।
একজন সাংবাদিক চলে গেলে শুধু একটি কলম থেমে যায় না; তাঁর সঙ্গে হারিয়ে যায় কিছু অভিজ্ঞতা, কিছু স্মৃতি, কিছু গল্প এবং অসংখ্য মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক। মিরাজ ভাইয়ের চলে যাওয়ায় আমাদের সাংবাদিক অঙ্গনে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
মিরাজ ভাই, আপনি এভাবে চলে যাবেন—সত্যিই ভাবিনি। ভাবিনি, আপনার সঙ্গে আর কখনো কথা হবে না। ভাবিনি, আপনার স্মৃতিগুলোই একদিন আমাদের সবচেয়ে বড় সঙ্গী হয়ে থাকবে।
আপনি আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু আপনার সঙ্গে কাটানো সেই দিনগুলো, আপনার স্নেহ, আপনার পরামর্শ আর আপনার মানবিক মুখটি আমাদের মনে বেঁচে থাকবে। মানুষ চলে যায়, কিন্তু ভালো মানুষদের ভালোবাসা কখনো চলে যায় না।
মিরাজ ভাই, যেখানে থাকুন শান্তিতে থাকুন। আপনার মতো একজন অসাধারণ মানুষকে হারানোর বেদনা আমরা হয়তো কোনোদিন ভুলতে পারব না। আপনার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। বিদায় প্রিয় মিরাজ ভাই। আপনার শূন্যতা আমাদের হৃদয়ে সবসময় অনুভূত হবে।’
হাসিবুল ইসলাম, সাংবাদিক ও কলাম লেখক।
barishaltimes@gmail.com
কিছু মানুষ জীবনে আসেন, কিছুদিন পাশে থাকেন, তারপর একদিন দূরে চলে যান। কিন্তু কিছু মানুষ চলে গেলেও তাঁদের শূন্যতা কখনো পূরণ হয় না। এম. মিরাজ হোসাইন ছিলেন তেমনই একজন মানুষ। তিনি শুধু একজন সিনিয়র সাংবাদিক ছিলেন না, ছিলেন সহকর্মী, অভিভাবকতুল্য বড় ভাই এবং অসাধারণ এক মানবিক মানুষ। তাঁর এভাবে চলে যাওয়া আজও মেনে নিতে পারছি না।
২০১৩-২০১৪ সালের কথা। তখন আমরা একসঙ্গে কাজ করতাম দৈনিক বরিশালের আজকাল পত্রিকায়। মিরাজ ভাই ছিলেন বার্তা সম্পাদক, আর আমি ছিলাম চিফ রিপোর্টার। সাংবাদিকতার ব্যস্ত সেই দিনগুলোতে প্রতিদিনই কোনো না কোনোভাবে তাঁর সঙ্গে কাজের সম্পর্ক হতো। খবর নিয়ে আলোচনা, রিপোর্টের বিষয়বস্তু, সংবাদ পরিবেশনের ধরন—সবকিছুতেই তাঁর পরামর্শ ও নির্দেশনা ছিল অত্যন্ত মূল্যবান।
মিরাজ ভাইয়ের সবচেয়ে বড় পরিচয় ছিল, তিনি একজন ভালো মানুষ ছিলেন। পেশাগতভাবে তিনি ছিলেন মেধাবী, দায়িত্বশীল ও অভিজ্ঞ; কিন্তু মানুষ হিসেবে তাঁর সরলতা, আন্তরিকতা ও আপন করে নেওয়ার ক্ষমতা ছিল আরও বেশি অসাধারণ। তাঁর সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে কখনো মনে হয়নি, তিনি শুধু একজন ঊর্ধ্বতন সহকর্মী। বরং মনে হয়েছে, পাশে থাকা একজন আপন বড় ভাই। ভুল হলে বুঝিয়ে দিতেন, ভালো কাজ হলে উৎসাহ দিতেন। তাঁর কথায় ছিল অভিজ্ঞতার ছাপ, আর আচরণে ছিল মমতা।
সময়ের স্রোতে আমরা যে যার কর্মক্ষেত্রে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। পথ আলাদা হয়েছে, দায়িত্ব বেড়েছে, যোগাযোগও আগের মতো নিয়মিত থাকেনি। কিন্তু মনের ভেতর কিছু সম্পর্ক কখনো পুরোনো হয় না। মিরাজ ভাইয়ের সঙ্গে আমার সম্পর্কটিও তেমনই ছিল। দূরত্ব তৈরি হলেও শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার জায়গাটি কখনো কমেনি।
আজ তিনি নেই—এই সত্যটাই সবচেয়ে কঠিন। মনে হয়, এখনও হয়তো কোথাও দেখা হবে; কোনো সংবাদ নিয়ে কথা হবে, পুরোনো দিনের গল্প উঠবে, তিনি আগের মতোই কোনো পরামর্শ দেবেন। কিন্তু বাস্তবতা বড় নির্মম। তিনি চলে গেছেন আমাদের ছেড়ে, আমাদের একা করে দিয়ে।
একজন সাংবাদিক চলে গেলে শুধু একটি কলম থেমে যায় না; তাঁর সঙ্গে হারিয়ে যায় কিছু অভিজ্ঞতা, কিছু স্মৃতি, কিছু গল্প এবং অসংখ্য মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক। মিরাজ ভাইয়ের চলে যাওয়ায় আমাদের সাংবাদিক অঙ্গনে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
মিরাজ ভাই, আপনি এভাবে চলে যাবেন—সত্যিই ভাবিনি। ভাবিনি, আপনার সঙ্গে আর কখনো কথা হবে না। ভাবিনি, আপনার স্মৃতিগুলোই একদিন আমাদের সবচেয়ে বড় সঙ্গী হয়ে থাকবে।
আপনি আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু আপনার সঙ্গে কাটানো সেই দিনগুলো, আপনার স্নেহ, আপনার পরামর্শ আর আপনার মানবিক মুখটি আমাদের মনে বেঁচে থাকবে। মানুষ চলে যায়, কিন্তু ভালো মানুষদের ভালোবাসা কখনো চলে যায় না।
মিরাজ ভাই, যেখানে থাকুন শান্তিতে থাকুন। আপনার মতো একজন অসাধারণ মানুষকে হারানোর বেদনা আমরা হয়তো কোনোদিন ভুলতে পারব না। আপনার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। বিদায় প্রিয় মিরাজ ভাই। আপনার শূন্যতা আমাদের হৃদয়ে সবসময় অনুভূত হবে।’
হাসিবুল ইসলাম, সাংবাদিক ও কলাম লেখক।
barishaltimes@gmail.com

১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০০:৫৭
পৃথিবীতে মাতাপিতার পরে যার অবস্থান তিনি শিক্ষক। প্রত্যেক মানব শিশুর শিক্ষিত এবং মানুষ হয়ে ওঠার পেছনে মাতাপিতার পরে মূখ্য ভূমিকা পালন করেন শিক্ষকরা। অথচ অনেকে শিক্ষিত হয়েও সেই শিক্ষকদের উপযুক্ত সম্মান কিংবা কদর করতে জানে না। নৈতিক অবক্ষয়ের মহামারির এই যুগে শিক্ষকদের অসম্মান কিংবা লাঞ্ছিত করার ঘটনাও নেহাৎ কম নয়।
এমন নিদারুণ বাস্তবতায় শিক্ষকরা যখন ভীত-সন্ত্রস্ত আর হতাশ ঠিক তখনই বাবুগঞ্জে দেখা গেছে আশাজাগানিয়া এক ঐতিহাসিক চিত্র। একটি বিদ্যালয়ের জন্মলগ্ন থেকে সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত সকল প্রাক্তন শিক্ষককে সম্মান জানাতে দেওয়া হচ্ছে রাজসিক এক বিদায়ী সংবর্ধনা। অনন্য ও নজিরবিহীন এ উদ্যোগটি নিয়েছে বাবুগঞ্জ উপজেলার জামেনা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।
আগামী ১২ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অবসরপ্রাপ্ত সকল প্রাক্তন শিক্ষকদের সংবর্ধনা ঘিরে এক জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি'র কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। এসময় স্কুলের ফলক উন্মোচন এবং লাইব্রেরি ভবনের শুভ উদ্বোধন করবেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন আয়োজক কমিটির আহবায়ক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন কৃতি ছাত্র রাকিবুল হাসান খান রাকিব।
রাজসিক ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের মোট ১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত প্রাক্তন শিক্ষককে দেওয়া হচ্ছে সম্মাননা ক্রেস্ট ও আকর্ষণীয় উপহার। এরমধ্যে ৮ জন শিক্ষকের পরিবার পাচ্ছেন মরণোত্তর সংবর্ধনা। জমকালো ওই অনুষ্ঠান রাঙাতে বর্ণিল সঙ্গীত সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে আনা হচ্ছে তারকা শিল্পীদের। তারুণ্যের ক্রেজখ্যাত জনপ্রিয় শিল্পী ঐশী এবং আশিক মাতাবেন সঙ্গীতানুষ্ঠান। এছাড়াও দেশের নামীদামী শিল্পীরা থাকছেন ওই অনুষ্ঠানে।
অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে বাবুগঞ্জের দেহেরগতি ইউনিয়নের রাকুদিয়া এলাকায়। জামেনা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ গোটা এলাকায় যেন সাজ সাজ রব। নবীন-প্রবীণ শিক্ষার্থীদের এই মিলনমেলাকে ঘিরে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। মহতী এই আয়োজনকে অনন্য এবং অনুকরণীয় বলছেন বিশিষ্টজনরা।
রাজসিক ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজক কমিটির আহবায়ক বিদ্যালয়ের ৯৩ ব্যাচের প্রাক্তন ছাত্র রাকিবুল হাসান খান রাকিব বলেন, 'পিতামাতার পরেই শিক্ষকদের অবস্থান। মানুষের জীবন গড়ার কারিগর শিক্ষকদের ঋণ কখনো শোধ করা যায় না। আমরা জামেনা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন এবং বর্তমান শিক্ষার্থীরা মিলে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত সকল প্রাক্তন শিক্ষকদের একটু সম্মান জানানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। শিক্ষকদের অবদান কেউ যেন কখনো না ভোলে এই অনুষ্ঠান থেকে আমরা সেই বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাই।'
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ২১:০৯
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ২১:০০
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:২৩
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:০৭