রাজনৈতিক কর্মসূচিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণ করতে বারণ, চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘন করলে নেওয়া হবে ব্যবস্থা
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাজনীতি বিমুখ রাখতে নড়েচড়ে বসেছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি) প্রশাসন। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ, ব্যানার, ফেস্টুন টাঙানো এমনকি বিশেষ কোনো নেতার সাথে ক্যামেরাবন্দি ছবি সমাজপাতায় প্রকাশ-প্রচারে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বারণ করা হয়েছে। এবং এনিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সতর্ক করে বিসিসি প্রশাসন অফিস আদেশও জারি করেছে। বিসিসি প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে রাজনীতিবিদেরা স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখলেও অভিজ্ঞ মহলের পাশাপাশি সমাজকর্মীরা বিষয়টিকে ইতিবাচক এবং সমপোযোগী বলছেন।
পর্যবেক্ষক মহল বলছেন, স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের গত ১৬ বছরের শাসনামলে সরকারি দপ্তরসমূহে বিশৃঙ্খলা পরিবেশ লক্ষ্যণীয় ছিল। চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘন করে অধিকাংশ দপ্তরের ‘টপ টু বটম’ কর্মকর্তা-কর্মচারী দলবাজ হয়ে পড়েছিলেন। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকার পতনের পরে প্রত্যাশা ছিল অন্তত সরকারি দপ্তরসমূহ দলবাজমুক্ত হবে। কিন্তু মোটেও তা হয়নি, বরং আগের ন্যায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করছেন। এমনকি দলীয় পদ-পদবি বহন করাসহ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে কর্মে ফাঁকি দিয়ে সেবাগ্রহিতাদের বিড়াম্বনায় ফেলছেন। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এই প্রবনতা বেশিমাত্রায় দেখা যাচ্ছে, যা নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভ লক্ষ্য করা যায়।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশন সূত্র জানিয়েছে, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাজনৈতিক নেতাদের লেজুড়বৃত্তি করে শহরের বিভিন্ন স্থানে পোস্টার, ব্যানার সাটানোসহ দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে শহরবাসীর মধ্যে সমালোচনা হয়। এবং কেউ কেউ রাজনৈতিক নেতাদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করে ছবি তুলে তা ব্যক্তিগত ফেসবুকেও পোস্ট করেন, যা চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘনের সামিল। এই বিষয়টি নজরে আসার পরে প্রশাসক রায়হান কাওসার ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন।
সূত্র নিশ্চিত করেছে, গত ৯ নভেম্বর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে কর্মকর্তা-কর্মচারীকে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে অংশগ্রহণে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, ‘সিটি করপোরেশনের কিছু কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘন করে বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক সভা, সমাবেশে অংশগ্রহণ করছেন, যা চাকরি শৃঙ্খলা পরিপন্থী অপরাধ। এ অবস্থায় সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে রাজনৈতিক সভা, সমাবেশ, মিছিলে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হলো।
জনস্বার্থে বিসিসি প্রশাসনের এই নড়েচড়ে বসায় বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব বিষয়টির বিরোধীতা করছে। প্রাসঙ্গিক এই বিষয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, অফিস শেষে বিসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কোনো কর্মসূচিতে অংশ নিলে বিসিসি বাধা দিতে পারে না। এটা যে কারও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, এভাবে রাজনীতিতে বাধা দেওয়া ঠিক না।
বাসদের জেলা সমন্বয়ক ডা. মনীষা চক্রবর্তীও বিষয়টি নিয়ে বিএনপি নেতার মত অনুরূপ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বরিশাল সিটি করপোরেশন একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। এবং রাজনীতি করার অধিকার সবারই আছে। অফিস সময়ের বাইরে রাজনীতি করার স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত করা ঠিক হবে না।
তবে বরিশাল সিটি কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি নুর খান বলছেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলে সকলে আইনে মানতে বাধ্য। কিন্তু অনেকে কর্মস্থল ফাঁকি দিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়াসহ দলীয় নেতাদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করে সেই ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করে প্রভাব বিস্তার করছেন। বিষয়টি নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে নেতিবাচক আলোচনা হয় এবং তা বিসিসি প্রশাসনের কানেও এসেছে। এছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাজনৈতিক নেতাদের ছবিসংবলিত ব্যানার পোস্টার সাটানোর বিষয়টি খোদ প্রশাসক রায়হান কাওসারের নজরে আসলে তিনি বিব্রতবোধ করেন।
বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, চাকরি আইনে অনেক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে বিসিসি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাজনীতিতে জড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু আইন লঙ্ঘন করে অনেকে রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তির ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন, বিষয়টি নজরে আসার পরে গত ৯ নভেম্বর আদেশ জারি করে এগুলো করতে বারণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কেউ এমন চাকরিপরিপন্থী কর্মকান্ডে জড়িত থাকলে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
প্রশাসনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বরিশাল সিটির প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার রায়হান কাওসার ইতিমধ্যে সরকারি প্রতিটি দপ্তরের প্রধান কর্মকর্তাকে তাদের অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে রাজনীতিতে জড়াতে বারণ করেছেন। এরপরেও যদি কেউ এই ধরনের কর্মকান্ডে জড়িয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানকে সমালোচিত করে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ করবেন তিনি। সেক্ষেত্রে দলবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি হারানোর ঝুঁকিও থাকছে।
বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সুশীলমহল। এনিয়ে শহরের কাউনিয়া এলাকার বাসিন্দা সমাজকর্মী কাজী এনায়েত হোসেন শিবলুর অভিব্যক্তি হচ্ছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি গ্রুপ আওয়ামী লীগের শাসনামলে রাজনীতিতে জড়িয়ে খেসারত হিসেবে অনেকে চাকরি হারিয়েছেন, আবার অনেকের মাথায় শাস্তির খড়গ ঝুলছে। কিন্তু এরপরেও তারা দলবাজি ছাড়তে চাইছেন না, যা জনসাধারণের জন্য অস্বস্তিকর। তবে এবার বরিশাল সিটির প্রশাসক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাজনীতি থেকে বিরত রাখতে যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা আসলেই প্রশংসার দাবি রাখে। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত কতটুকু বাস্তবায়ন হয়, সেটা এখন দেখতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।’

২১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০৬
চরমোনাই পির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘোষণা দিলেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ভোট দিয়েছেন দলটির একমাত্র সংসদ সদস্য (এমপি) মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ। অবশ্য দলের নেতাদের দাবি, দলীয় আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের সিদ্ধান্তে অলিউল্লাহ ভোট দিতে যান। দলটির প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করিম মারুফ সাংবাদিকদের বলেন, ইসলামী আন্দোলনের এমপি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি পাঠায় ইসলামী আন্দোলন। বিবৃতিতে দলটির মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিষয়ে জুলাই সনদে ঐকমত্য হওয়া সিদ্ধান্ত থেকে সরে যাওয়ায় তারা এ নির্বাচনে ভোট দেবেন না। বিবৃতি এবং ভোট দেওয়ার বিষয়ে জানতে গাজী আতাউর রহমান ও অলিউল্লাহর মোবাইলে কয়েকবার ফোন করা হলেও তারা ধরেননি।
ইসলামী আন্দোলনের বিবৃতিতে আতাউর রহমান বলেন, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে যে সংকট, তার অন্যতম কারণ দলীয় রাষ্ট্রপতি। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে রাষ্ট্রপতির নির্বাচন বিষয়ে বেশ কিছু নীতিতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে বিএনপিরও ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) ছিল না। তারা প্রত্যাশা করেছিল, জুলাই সনদের সেই ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়া নীতিকে মান্য করে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। কিন্তু তা যেহেতু হয়নি, তাই এ নির্বাচনে ভোট দেওয়াকে তারা সমীচীন মনে করছে না।
বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই সনদে একমত হওয়া বিষয়গুলোর মধ্যে রাষ্ট্রপতি শিরোনামে ধারা-১০-এ বর্ণিত হয়েছে যে রাষ্ট্রপতি আইনসভার উভয় কক্ষের (উচ্চ ও নিম্নকক্ষ) সদস্যদের গোপন ভোটে নির্বাচিত হবেন। এ ধারায় বিএনপিও একমত হয়েছিল। ধারা-২৮-এ বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদে দলের বিরুদ্ধে ভোট দান প্রসঙ্গে অর্থ বিল ও আস্থা ভোট বাদে অন্য সব ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন। এ বিষয়ে বিএনপিসহ সবাই একমত হয়েছে। এই দুটি বিষয়ের কোনোটিই মান্য করা হচ্ছে না। এটা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে গাদ্দারি ছাড়া ভিন্ন কিছু নয়।’
চরমোনাই পির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘোষণা দিলেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ভোট দিয়েছেন দলটির একমাত্র সংসদ সদস্য (এমপি) মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ। অবশ্য দলের নেতাদের দাবি, দলীয় আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের সিদ্ধান্তে অলিউল্লাহ ভোট দিতে যান। দলটির প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করিম মারুফ সাংবাদিকদের বলেন, ইসলামী আন্দোলনের এমপি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি পাঠায় ইসলামী আন্দোলন। বিবৃতিতে দলটির মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিষয়ে জুলাই সনদে ঐকমত্য হওয়া সিদ্ধান্ত থেকে সরে যাওয়ায় তারা এ নির্বাচনে ভোট দেবেন না। বিবৃতি এবং ভোট দেওয়ার বিষয়ে জানতে গাজী আতাউর রহমান ও অলিউল্লাহর মোবাইলে কয়েকবার ফোন করা হলেও তারা ধরেননি।
ইসলামী আন্দোলনের বিবৃতিতে আতাউর রহমান বলেন, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে যে সংকট, তার অন্যতম কারণ দলীয় রাষ্ট্রপতি। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে রাষ্ট্রপতির নির্বাচন বিষয়ে বেশ কিছু নীতিতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে বিএনপিরও ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) ছিল না। তারা প্রত্যাশা করেছিল, জুলাই সনদের সেই ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়া নীতিকে মান্য করে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। কিন্তু তা যেহেতু হয়নি, তাই এ নির্বাচনে ভোট দেওয়াকে তারা সমীচীন মনে করছে না।
বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই সনদে একমত হওয়া বিষয়গুলোর মধ্যে রাষ্ট্রপতি শিরোনামে ধারা-১০-এ বর্ণিত হয়েছে যে রাষ্ট্রপতি আইনসভার উভয় কক্ষের (উচ্চ ও নিম্নকক্ষ) সদস্যদের গোপন ভোটে নির্বাচিত হবেন। এ ধারায় বিএনপিও একমত হয়েছিল। ধারা-২৮-এ বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদে দলের বিরুদ্ধে ভোট দান প্রসঙ্গে অর্থ বিল ও আস্থা ভোট বাদে অন্য সব ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন। এ বিষয়ে বিএনপিসহ সবাই একমত হয়েছে। এই দুটি বিষয়ের কোনোটিই মান্য করা হচ্ছে না। এটা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে গাদ্দারি ছাড়া ভিন্ন কিছু নয়।’

২০ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:১৫
বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য ২০ হাজার চারা গাছ বিতরণ করেছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি)। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এসব গাছের চারা বিতরণ করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশাল অডিটোরিয়ামে চারা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন।
এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম এবং বিসিসির সচিব রুম্পা শিকদার।
এছাড়া বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বনায়ন শাখার কর্মকর্তা এবং বরিশাল নগরীর বিভিন্ন কলেজ, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সর্বমোট ১৪৫ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২০ হাজার গাছের চারা প্রদান করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিসিসি প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সবুজ নগরী গড়ে তুলতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নগরবাসীকে এই সামাজিক বনায়ন কর্মসূচিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠান শেষে নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।'
বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য ২০ হাজার চারা গাছ বিতরণ করেছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি)। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এসব গাছের চারা বিতরণ করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশাল অডিটোরিয়ামে চারা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন।
এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম এবং বিসিসির সচিব রুম্পা শিকদার।
এছাড়া বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বনায়ন শাখার কর্মকর্তা এবং বরিশাল নগরীর বিভিন্ন কলেজ, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সর্বমোট ১৪৫ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২০ হাজার গাছের চারা প্রদান করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিসিসি প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সবুজ নগরী গড়ে তুলতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নগরবাসীকে এই সামাজিক বনায়ন কর্মসূচিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠান শেষে নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।'

২০ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৩০
বহু অঘটন পটিয়াসি বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) বিতর্কিত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারীকে সরিয়ে দিয়েছে সরকার। তাকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পরিচালক হিসেবে পদায়ন করা হয়। বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ নুর-এ-আলম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত দেড় বছর বরিশাল সিটি করপোরেশনে থাকাকালে কুয়াকাটায় রিসোর্ট প্রকল্প, ভবনের প্ল্যান অনুমোদনের নামে রেজাউল বারীর নানা দুর্নীতি তদন্তের দাবি করেছেন নগরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বিসিসি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৩ মার্চ বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে যোগদান করেন মো. রেজাউল বারী। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় না থাকার সুযোগে সিইও রেজাউল বারী ছিলেন বিসিসির একচ্ছত্র ক্ষমতাবান কর্মকর্তা। সিটি করপোরেশনে পদোন্নতি, নিয়োগ, কুয়াকাটায় রিসোর্ট করা এবং ভবনের প্লান অনুমোদনের নামে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিটি করপোরেশনের একজন কর্মকর্তা বলেন, রিসোর্ট, প্লান, পদায়ন, নিয়োগ এই সবকিছুতে সিইওকে সহযোগিতা করে আসছেন করপোরেশনের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই নগরভবনে সব দুর্নীতি ও অনিয়ম সংঘটিত হয়।
বিতর্কিত এই কর্মকর্তার বদলির খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারী আ. রশিদ নিলু। এই রাজনৈতিক জানান, সিটি করপোরেশনের রিসোর্ট করার জন্য জমি কেনা নিয়ে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন। উচ্চ আদালত জমি ক্রয়ের কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দিলেও তৎকালীন প্রশাসক রায়হান কাওসার বিসিসির সিইও রেজাউল বারীকে নিয়ে রিসোর্ট, ভবনের প্লান অনুমোদনে লুটপাট করেছেন। তিনি বলেন, বিসিসি জনগণের টাকায় বিলাসী রিসোর্ট করবে, এটা মানা যায় না। এসবের তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।
বদলি আদশের বিষয়টি স্বীকার করলেও বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলছেন, প্রশাসক যখন তাকে ছাড়বেন, তিনি তখনই বিদায় নেবেন। করপোরেশনের পক্ষ থেকে কুয়াকাটায় রিসোর্ট করা, প্ল্যান অনুমোদনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
বরিশাল সিটি করপোরেশনে প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বৃহস্পতিবার বিকেলে বরিশালটটাইমসকে বলেন, সিইও স্যার বদলি হয়েছেন, এমন একটি খবর শুনেছি।’
বহু অঘটন পটিয়াসি বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) বিতর্কিত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারীকে সরিয়ে দিয়েছে সরকার। তাকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পরিচালক হিসেবে পদায়ন করা হয়। বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ নুর-এ-আলম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত দেড় বছর বরিশাল সিটি করপোরেশনে থাকাকালে কুয়াকাটায় রিসোর্ট প্রকল্প, ভবনের প্ল্যান অনুমোদনের নামে রেজাউল বারীর নানা দুর্নীতি তদন্তের দাবি করেছেন নগরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বিসিসি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৩ মার্চ বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে যোগদান করেন মো. রেজাউল বারী। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় না থাকার সুযোগে সিইও রেজাউল বারী ছিলেন বিসিসির একচ্ছত্র ক্ষমতাবান কর্মকর্তা। সিটি করপোরেশনে পদোন্নতি, নিয়োগ, কুয়াকাটায় রিসোর্ট করা এবং ভবনের প্লান অনুমোদনের নামে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিটি করপোরেশনের একজন কর্মকর্তা বলেন, রিসোর্ট, প্লান, পদায়ন, নিয়োগ এই সবকিছুতে সিইওকে সহযোগিতা করে আসছেন করপোরেশনের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই নগরভবনে সব দুর্নীতি ও অনিয়ম সংঘটিত হয়।
বিতর্কিত এই কর্মকর্তার বদলির খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারী আ. রশিদ নিলু। এই রাজনৈতিক জানান, সিটি করপোরেশনের রিসোর্ট করার জন্য জমি কেনা নিয়ে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন। উচ্চ আদালত জমি ক্রয়ের কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দিলেও তৎকালীন প্রশাসক রায়হান কাওসার বিসিসির সিইও রেজাউল বারীকে নিয়ে রিসোর্ট, ভবনের প্লান অনুমোদনে লুটপাট করেছেন। তিনি বলেন, বিসিসি জনগণের টাকায় বিলাসী রিসোর্ট করবে, এটা মানা যায় না। এসবের তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।
বদলি আদশের বিষয়টি স্বীকার করলেও বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলছেন, প্রশাসক যখন তাকে ছাড়বেন, তিনি তখনই বিদায় নেবেন। করপোরেশনের পক্ষ থেকে কুয়াকাটায় রিসোর্ট করা, প্ল্যান অনুমোদনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
বরিশাল সিটি করপোরেশনে প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বৃহস্পতিবার বিকেলে বরিশালটটাইমসকে বলেন, সিইও স্যার বদলি হয়েছেন, এমন একটি খবর শুনেছি।’

১১ নভেম্বর, ২০২৫ ১৮:০৯
রাজনৈতিক কর্মসূচিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণ করতে বারণ, চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘন করলে নেওয়া হবে ব্যবস্থা
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাজনীতি বিমুখ রাখতে নড়েচড়ে বসেছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি) প্রশাসন। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ, ব্যানার, ফেস্টুন টাঙানো এমনকি বিশেষ কোনো নেতার সাথে ক্যামেরাবন্দি ছবি সমাজপাতায় প্রকাশ-প্রচারে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বারণ করা হয়েছে। এবং এনিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সতর্ক করে বিসিসি প্রশাসন অফিস আদেশও জারি করেছে। বিসিসি প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে রাজনীতিবিদেরা স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখলেও অভিজ্ঞ মহলের পাশাপাশি সমাজকর্মীরা বিষয়টিকে ইতিবাচক এবং সমপোযোগী বলছেন।
পর্যবেক্ষক মহল বলছেন, স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের গত ১৬ বছরের শাসনামলে সরকারি দপ্তরসমূহে বিশৃঙ্খলা পরিবেশ লক্ষ্যণীয় ছিল। চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘন করে অধিকাংশ দপ্তরের ‘টপ টু বটম’ কর্মকর্তা-কর্মচারী দলবাজ হয়ে পড়েছিলেন। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকার পতনের পরে প্রত্যাশা ছিল অন্তত সরকারি দপ্তরসমূহ দলবাজমুক্ত হবে। কিন্তু মোটেও তা হয়নি, বরং আগের ন্যায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করছেন। এমনকি দলীয় পদ-পদবি বহন করাসহ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে কর্মে ফাঁকি দিয়ে সেবাগ্রহিতাদের বিড়াম্বনায় ফেলছেন। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এই প্রবনতা বেশিমাত্রায় দেখা যাচ্ছে, যা নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভ লক্ষ্য করা যায়।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশন সূত্র জানিয়েছে, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাজনৈতিক নেতাদের লেজুড়বৃত্তি করে শহরের বিভিন্ন স্থানে পোস্টার, ব্যানার সাটানোসহ দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে শহরবাসীর মধ্যে সমালোচনা হয়। এবং কেউ কেউ রাজনৈতিক নেতাদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করে ছবি তুলে তা ব্যক্তিগত ফেসবুকেও পোস্ট করেন, যা চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘনের সামিল। এই বিষয়টি নজরে আসার পরে প্রশাসক রায়হান কাওসার ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন।
সূত্র নিশ্চিত করেছে, গত ৯ নভেম্বর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে কর্মকর্তা-কর্মচারীকে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে অংশগ্রহণে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, ‘সিটি করপোরেশনের কিছু কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘন করে বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক সভা, সমাবেশে অংশগ্রহণ করছেন, যা চাকরি শৃঙ্খলা পরিপন্থী অপরাধ। এ অবস্থায় সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে রাজনৈতিক সভা, সমাবেশ, মিছিলে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হলো।
জনস্বার্থে বিসিসি প্রশাসনের এই নড়েচড়ে বসায় বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব বিষয়টির বিরোধীতা করছে। প্রাসঙ্গিক এই বিষয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, অফিস শেষে বিসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কোনো কর্মসূচিতে অংশ নিলে বিসিসি বাধা দিতে পারে না। এটা যে কারও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, এভাবে রাজনীতিতে বাধা দেওয়া ঠিক না।
বাসদের জেলা সমন্বয়ক ডা. মনীষা চক্রবর্তীও বিষয়টি নিয়ে বিএনপি নেতার মত অনুরূপ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বরিশাল সিটি করপোরেশন একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। এবং রাজনীতি করার অধিকার সবারই আছে। অফিস সময়ের বাইরে রাজনীতি করার স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত করা ঠিক হবে না।
তবে বরিশাল সিটি কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি নুর খান বলছেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলে সকলে আইনে মানতে বাধ্য। কিন্তু অনেকে কর্মস্থল ফাঁকি দিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়াসহ দলীয় নেতাদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করে সেই ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করে প্রভাব বিস্তার করছেন। বিষয়টি নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে নেতিবাচক আলোচনা হয় এবং তা বিসিসি প্রশাসনের কানেও এসেছে। এছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাজনৈতিক নেতাদের ছবিসংবলিত ব্যানার পোস্টার সাটানোর বিষয়টি খোদ প্রশাসক রায়হান কাওসারের নজরে আসলে তিনি বিব্রতবোধ করেন।
বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, চাকরি আইনে অনেক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে বিসিসি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাজনীতিতে জড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু আইন লঙ্ঘন করে অনেকে রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তির ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন, বিষয়টি নজরে আসার পরে গত ৯ নভেম্বর আদেশ জারি করে এগুলো করতে বারণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কেউ এমন চাকরিপরিপন্থী কর্মকান্ডে জড়িত থাকলে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
প্রশাসনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বরিশাল সিটির প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার রায়হান কাওসার ইতিমধ্যে সরকারি প্রতিটি দপ্তরের প্রধান কর্মকর্তাকে তাদের অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে রাজনীতিতে জড়াতে বারণ করেছেন। এরপরেও যদি কেউ এই ধরনের কর্মকান্ডে জড়িয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানকে সমালোচিত করে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ করবেন তিনি। সেক্ষেত্রে দলবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি হারানোর ঝুঁকিও থাকছে।
বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সুশীলমহল। এনিয়ে শহরের কাউনিয়া এলাকার বাসিন্দা সমাজকর্মী কাজী এনায়েত হোসেন শিবলুর অভিব্যক্তি হচ্ছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি গ্রুপ আওয়ামী লীগের শাসনামলে রাজনীতিতে জড়িয়ে খেসারত হিসেবে অনেকে চাকরি হারিয়েছেন, আবার অনেকের মাথায় শাস্তির খড়গ ঝুলছে। কিন্তু এরপরেও তারা দলবাজি ছাড়তে চাইছেন না, যা জনসাধারণের জন্য অস্বস্তিকর। তবে এবার বরিশাল সিটির প্রশাসক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাজনীতি থেকে বিরত রাখতে যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা আসলেই প্রশংসার দাবি রাখে। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত কতটুকু বাস্তবায়ন হয়, সেটা এখন দেখতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।’
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ২১:০৯
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ২১:০০
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:২৩
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:০৭