নানামুখি সংকট আর সীমাবদ্ধতার পাশপাশি জনসচেতনতার অভাব সহ উদাসীনতায় বরিশালে সংক্রামক রোগের বিস্তার জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্রমশ মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করলেও বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বশীল পর্যায়ে তেমন কোন উদ্যোগ নেই। ফলে ডায়রিয়া, ডেঙ্গু ও নিউমোনিয়া সহ ঠান্ডাজনিত নানা ধরনের রোগব্যাধীর বিস্তার অনেকটাই খারাপ পরিস্থিতি তৈরী করলেও তা থেকে উত্তরণের তেমন কোন উদ্যোগ নেই। সদ্য সমাপ্ত বছরে বরিশাল বিভাগের শুধু সরকারি হাসপাতালগুলোতেই প্রায় ৮৮ হাজার ডায়রিয়া রোগী ছাড়াও ভর্তিকৃত প্রায় ২২ হাজার ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে ৫১ জনের মৃত্যু হয় বলে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে। এসময়ে নিউমোনিয়া সহ ঠান্ডাজনিত নানা রোগব্যাধীতে আক্রান্ত প্রায় ৪০ হাজার নারী-পুরুষ ও শিশুর মধ্যে শুধু সরকারি হাসপাতালেই ভর্তি হয়েছেন ২০ হাজার। মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১০ জনের। এরমধ্যে গত নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসেই সরকারি হাসপাতালে সাড়ে ৮ হাজার নিউমোনিয়া সহ ঠান্ডাজনিত রোগী ভর্তি হয় বলে জানাগেছে। সরকারি হাসপাতালে এখনো এধরনের রোগীর উপস্থিতি অব্যাহত রয়েছে।
কিন্তু চিকিৎসকের অভাবে বরিশাল অঞ্চলের প্রায় সব সরকারি হাসপাতালেই মানসম্মত চিকিৎসা প্রদান কষ্টকর হয়ে পড়ছে। বর্তমানে বরিশাল বিভাগের জেলা সদর সহ ৪২টি উপজেলায় ১২ শতাধিক চিকিৎসক পদের বিপরিতে কর্মরত আছেন মাত্র ৩৭০ জনের মত। যা অনুমোদিত জনবলের এক-তৃতীয়াংশেরও কম।
বরিশাল অঞ্চলের প্রায় সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ৩১শয্যা থেকে ৫০শয্যায় উন্নীত করা হলেও চিকিৎসক ও নার্স সহ স্বাস্থ্যকর্মীর মঞ্জুরী এখনো আগের অবস্থানেই আছে। উপরন্তু কয়েকটি জেলা সদরের হাসপাতালগুলোকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও চিকিৎসক সহ অন্যসব জনবল পূর্বের অবস্থানেই রয়ে গেছে। কিন্তু পূর্বের জনবলেরও দুই-তৃতীয়াংশ চিকিৎসক নেই। খোদ বরিশাল বিভাগীয় সদরের জেনারেল হাসপাতালটি কাগজেপত্রে ১শ শয্যায় উন্নীত করা হলেও সেখানে চিকিৎসক ও নার্স সহ জনবল মঞ্জুরী এখনো ৫০ শয্যার। এক-তৃতীয়াংশ পদে চিকিৎসক নেই।
পুরনো জনবল দিয়ে হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে বাড়তি রোগী ভর্তি করা হলেও চিকিৎসকদের পদতো বাড়েইনি, উল্টো আগের জনবলের দুই-তৃতীয়াংশ পদ শূন্য থাকায় পুরো বরিশাল অঞ্চলের চিকিৎসা ব্যবস্থা এখন ভয়াবহ বিপর্যয়ের কবলে।
এরসাথে প্রতিবছরই ডেঙ্গু, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া সহ ঠান্ডাজনিত রোগীর চাপে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। একদিকে চিকিৎসক সংকট, অপরদিকে জনসচেতনতার অভাব সহ স্বাস্থ্য বিধি প্রয়োগে প্রশাসনিক উদাসীনতায় এসব রোগব্যাধী চরম সংকট তৈরী করছে। গত বছরজুড়েই বরিশাল অঞ্চলে ডেঙ্গু রোগীর ভীড়ে হাসপাতালগুলোতে জরুরী পরিস্থিতির তৈরী করে। এর সাথে সেখানে হাজার হাজার ডায়রিয়া রোগী পরিস্থিতি আরো নাজুক করে তোলে। শীত মৌসুম শুরুর সাথেই নিউমোনিয়া সহ ঠান্ডাজনিত রোগীর ভীড় শুরু হয়েছে সরকারি হাসপাতালগুলাতে। ফলে এ অঞ্চলের কোন হাসপাতালের মেঝেতেও এখন রোগীর ঠাঁই হচ্ছে না।
বছরজুড়ে এডিস মশা পুরো বরিশালে দাপিয়ে বেড়ালেও এ অঞ্চলে মশক নিধনে কোন নিবিড় কর্মসূচী গ্রহণ করেনি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো । এমনকি গত বছরজুড়ে বরিশালের গ্রাম-গঞ্জে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যাও ছিলো অনেক। শুধু সরকারি হাসপাতালেই ২২ হাজার ভর্তিকৃত রোগীর ৫১ জনের মৃত্যু হয়। তবে প্রকৃত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আরো কয়েকগুন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
গতবছর বরিশালে সাম্প্রতিককালের সর্বোচ্চ প্রায় ৮৮ হাজার ডায়রিয়া রোগী সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হলেও এ অঞ্চলে এখনো ডায়রিয়া প্রতিরোধে তেমন কোন কর্মকান্ড দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না। মূলত পথ খাবারের দোকান আর বিশুদ্ধ পানির সংকট পুরো বরিশাল অঞ্চলে ডায়রিয়া সহ পেটের পীড়ার বিস্তৃতিকে আরো তড়ান্বিত করলেও তা থেকে উত্তরণের কোন উদ্যোগ নেই। পথ খাবারের দোকান বরিশাল মহানগরী সহ এ অঞ্চলের সংস্কৃতিতে একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে উঠলেও সেখানে কোন স্বাস্থ্যবিধি মানছে না কেউ। এমনকি স্বাস্থ্যবিধি প্রয়োগে সিটি করপোরেশন সহ পৌরসভাগুলো এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরেরও তেমন কোন উদ্যোগ নেই।
অপরদিকে, গতবছরের শুরু থেকে মার্চের শেষভাগ পর্যন্ত পুরো বরিশাল অঞ্চলজুড়ে নিউমোনিয়া সহ ঠান্ডাজনিত রোগের সাথে ডায়রিয়ার বিস্তৃতি ছিল ব্যাপক। আবার শীত মৌসুম শুরুর সাথে নভেম্বর থেকেই এসব রোগ পুনরায় জেকে বসে। শুধু নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসেই প্রায় ১০ হাজার নিউমোনিয়া সহ ঠান্ডাজনিত রোগী ভর্তি হয়েছেন সরকারি হাসপাতালে। এসব বিষয়ে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যমল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন-চিকিৎসকদের পদ শূন্য থাকার মধ্যেও আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি হাসপাতাল থেকে যেন কেউ বিনা চিকিৎসায় ফিরে না যায়। ডায়রিয়া, ডেঙ্গু ও নিউমোনিয়া সহ ঠান্ডাজনিত রোগের বিষয়ে জনসচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন-জনসচেতনতা এসব সংক্রমক ও অসংক্রমক রোগ থেকে ব্যক্তি পর্যায়ের পাশাপাশি সমাজকেও রক্ষা করতে সক্ষম।

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০৩
পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনার অবকাঠামোগত সক্ষমতা আরো বাড়াতে, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) বন্দর থানা ভবন (মেট্রো টাইপ-১) নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বন্দর থানা ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মঞ্জুর, এমপি।
এ সময় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্সহ বরিশাল পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এবং বিএমপি কমিশনার বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা থানার সার্বিক কার্যক্রম ও বিদ্যমান অবকাঠামোগত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
নতুন থানা ভবন নির্মাণের মাধ্যমে বন্দর থানার প্রশাসনিক কার্যক্রম বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনার অবকাঠামোগত সক্ষমতা আরো বাড়াতে, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) বন্দর থানা ভবন (মেট্রো টাইপ-১) নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বন্দর থানা ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মঞ্জুর, এমপি।
এ সময় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্সহ বরিশাল পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এবং বিএমপি কমিশনার বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা থানার সার্বিক কার্যক্রম ও বিদ্যমান অবকাঠামোগত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
নতুন থানা ভবন নির্মাণের মাধ্যমে বন্দর থানার প্রশাসনিক কার্যক্রম বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:০৯
বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর। তিনি বলেন, ‘অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে।’
আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল নগরের বন্দর থানা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্সে আছি। বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো কাজে যাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধেও সরকারের অবস্থান কঠোর।’
মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইতোমধ্যে পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলায় সভা হয়েছে জানিয়ে আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সভা করা হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
পরে প্রতিমন্ত্রী বরিশাল বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।’
বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর। তিনি বলেন, ‘অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে।’
আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল নগরের বন্দর থানা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্সে আছি। বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো কাজে যাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধেও সরকারের অবস্থান কঠোর।’
মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইতোমধ্যে পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলায় সভা হয়েছে জানিয়ে আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সভা করা হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
পরে প্রতিমন্ত্রী বরিশাল বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।’

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:২৫
বরিশালের উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তার সরকারি উন্নয়ন কাজের তদারকিতে গাফেলতিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত ও বিচারের দাবিতে উজিরপুর উপজেলার ধামুরা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রব হাওলাদারের ছেলে মো. মাছুম হাওলাদার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এ লিখিত আভিযোগ দিয়েছেন।
এতে তিনি আভিযোগ করেন উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় উজিরপুরে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থেকে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি সংক্রান্ত অপকর্মের সাথে জড়িত হয়ে পড়েছেন। তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারসহ বিভিন্ন কাজে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজসে সরকারের অর্থের অপচয়সহ নানা দুর্নীতি মূলক কর্মকান্ডের সাথে লিপ্ত রয়েছেন। যা তদন্ত করলেই প্রমান মিলবে। ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার সেগুন বাগিচাস্থ দুদকের প্রধান কর্য্যলয়ে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগটি করা হয়।
অভিযোগকারী মাছুম হাওলাদার বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দাপটের সাথে চাকুরি করা সুব্রত রায় তার তদারকিতে থাকা বিভিন্ন সড়ক, ব্রিজ ও কালর্ভাট নির্মাণে ঠিকাদারদের ব্যাপক অনিয়মকে অর্থের বিনিময়ে সহয়াতা করেন ।
বর্তমান সরকারের আমলেও তিনি উজিরপুরে একই ভাবে চাকুরি করছেন। তার কারনে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হচ্ছে। যা দুর্নীতির শামিল। উপজেলার ধামুরা এলাকার বেশ কয়েকটি ব্রিজের পুরাতন মালপত্র নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তার তদারকিতে থাকা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এসব অভিযোগ সত্য নয়, ভিত্তিহীন দাবি করে উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেন, উপজেলার ধামুরা এলাকায়।নির্মিত একটি ব্রিজের সম্প্রতি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে গেলে কিছু সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে মাছুম হাওলাদার কাজে বাধা দেন। কাগজপত্রে দেখা যায় ওটা খাস সম্পত্তি।
তারপরেও বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই অংশের কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়। ব্রিজের সংযোগ সড়কের এ সম্পত্তি নিয়ে ক্ষিপ্ত মাছুম হাওলাদার তাকে হয়রাণি ও তার পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুদকে এ অভিযোগ দিয়েছেন।’
বরিশালের উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তার সরকারি উন্নয়ন কাজের তদারকিতে গাফেলতিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত ও বিচারের দাবিতে উজিরপুর উপজেলার ধামুরা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রব হাওলাদারের ছেলে মো. মাছুম হাওলাদার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এ লিখিত আভিযোগ দিয়েছেন।
এতে তিনি আভিযোগ করেন উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় উজিরপুরে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থেকে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি সংক্রান্ত অপকর্মের সাথে জড়িত হয়ে পড়েছেন। তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারসহ বিভিন্ন কাজে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজসে সরকারের অর্থের অপচয়সহ নানা দুর্নীতি মূলক কর্মকান্ডের সাথে লিপ্ত রয়েছেন। যা তদন্ত করলেই প্রমান মিলবে। ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার সেগুন বাগিচাস্থ দুদকের প্রধান কর্য্যলয়ে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগটি করা হয়।
অভিযোগকারী মাছুম হাওলাদার বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দাপটের সাথে চাকুরি করা সুব্রত রায় তার তদারকিতে থাকা বিভিন্ন সড়ক, ব্রিজ ও কালর্ভাট নির্মাণে ঠিকাদারদের ব্যাপক অনিয়মকে অর্থের বিনিময়ে সহয়াতা করেন ।
বর্তমান সরকারের আমলেও তিনি উজিরপুরে একই ভাবে চাকুরি করছেন। তার কারনে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হচ্ছে। যা দুর্নীতির শামিল। উপজেলার ধামুরা এলাকার বেশ কয়েকটি ব্রিজের পুরাতন মালপত্র নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তার তদারকিতে থাকা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এসব অভিযোগ সত্য নয়, ভিত্তিহীন দাবি করে উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেন, উপজেলার ধামুরা এলাকায়।নির্মিত একটি ব্রিজের সম্প্রতি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে গেলে কিছু সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে মাছুম হাওলাদার কাজে বাধা দেন। কাগজপত্রে দেখা যায় ওটা খাস সম্পত্তি।
তারপরেও বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই অংশের কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়। ব্রিজের সংযোগ সড়কের এ সম্পত্তি নিয়ে ক্ষিপ্ত মাছুম হাওলাদার তাকে হয়রাণি ও তার পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুদকে এ অভিযোগ দিয়েছেন।’

১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৩:৪৫
নানামুখি সংকট আর সীমাবদ্ধতার পাশপাশি জনসচেতনতার অভাব সহ উদাসীনতায় বরিশালে সংক্রামক রোগের বিস্তার জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্রমশ মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করলেও বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বশীল পর্যায়ে তেমন কোন উদ্যোগ নেই। ফলে ডায়রিয়া, ডেঙ্গু ও নিউমোনিয়া সহ ঠান্ডাজনিত নানা ধরনের রোগব্যাধীর বিস্তার অনেকটাই খারাপ পরিস্থিতি তৈরী করলেও তা থেকে উত্তরণের তেমন কোন উদ্যোগ নেই। সদ্য সমাপ্ত বছরে বরিশাল বিভাগের শুধু সরকারি হাসপাতালগুলোতেই প্রায় ৮৮ হাজার ডায়রিয়া রোগী ছাড়াও ভর্তিকৃত প্রায় ২২ হাজার ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে ৫১ জনের মৃত্যু হয় বলে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে। এসময়ে নিউমোনিয়া সহ ঠান্ডাজনিত নানা রোগব্যাধীতে আক্রান্ত প্রায় ৪০ হাজার নারী-পুরুষ ও শিশুর মধ্যে শুধু সরকারি হাসপাতালেই ভর্তি হয়েছেন ২০ হাজার। মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১০ জনের। এরমধ্যে গত নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসেই সরকারি হাসপাতালে সাড়ে ৮ হাজার নিউমোনিয়া সহ ঠান্ডাজনিত রোগী ভর্তি হয় বলে জানাগেছে। সরকারি হাসপাতালে এখনো এধরনের রোগীর উপস্থিতি অব্যাহত রয়েছে।
কিন্তু চিকিৎসকের অভাবে বরিশাল অঞ্চলের প্রায় সব সরকারি হাসপাতালেই মানসম্মত চিকিৎসা প্রদান কষ্টকর হয়ে পড়ছে। বর্তমানে বরিশাল বিভাগের জেলা সদর সহ ৪২টি উপজেলায় ১২ শতাধিক চিকিৎসক পদের বিপরিতে কর্মরত আছেন মাত্র ৩৭০ জনের মত। যা অনুমোদিত জনবলের এক-তৃতীয়াংশেরও কম।
বরিশাল অঞ্চলের প্রায় সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ৩১শয্যা থেকে ৫০শয্যায় উন্নীত করা হলেও চিকিৎসক ও নার্স সহ স্বাস্থ্যকর্মীর মঞ্জুরী এখনো আগের অবস্থানেই আছে। উপরন্তু কয়েকটি জেলা সদরের হাসপাতালগুলোকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও চিকিৎসক সহ অন্যসব জনবল পূর্বের অবস্থানেই রয়ে গেছে। কিন্তু পূর্বের জনবলেরও দুই-তৃতীয়াংশ চিকিৎসক নেই। খোদ বরিশাল বিভাগীয় সদরের জেনারেল হাসপাতালটি কাগজেপত্রে ১শ শয্যায় উন্নীত করা হলেও সেখানে চিকিৎসক ও নার্স সহ জনবল মঞ্জুরী এখনো ৫০ শয্যার। এক-তৃতীয়াংশ পদে চিকিৎসক নেই।
পুরনো জনবল দিয়ে হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে বাড়তি রোগী ভর্তি করা হলেও চিকিৎসকদের পদতো বাড়েইনি, উল্টো আগের জনবলের দুই-তৃতীয়াংশ পদ শূন্য থাকায় পুরো বরিশাল অঞ্চলের চিকিৎসা ব্যবস্থা এখন ভয়াবহ বিপর্যয়ের কবলে।
এরসাথে প্রতিবছরই ডেঙ্গু, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া সহ ঠান্ডাজনিত রোগীর চাপে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। একদিকে চিকিৎসক সংকট, অপরদিকে জনসচেতনতার অভাব সহ স্বাস্থ্য বিধি প্রয়োগে প্রশাসনিক উদাসীনতায় এসব রোগব্যাধী চরম সংকট তৈরী করছে। গত বছরজুড়েই বরিশাল অঞ্চলে ডেঙ্গু রোগীর ভীড়ে হাসপাতালগুলোতে জরুরী পরিস্থিতির তৈরী করে। এর সাথে সেখানে হাজার হাজার ডায়রিয়া রোগী পরিস্থিতি আরো নাজুক করে তোলে। শীত মৌসুম শুরুর সাথেই নিউমোনিয়া সহ ঠান্ডাজনিত রোগীর ভীড় শুরু হয়েছে সরকারি হাসপাতালগুলাতে। ফলে এ অঞ্চলের কোন হাসপাতালের মেঝেতেও এখন রোগীর ঠাঁই হচ্ছে না।
বছরজুড়ে এডিস মশা পুরো বরিশালে দাপিয়ে বেড়ালেও এ অঞ্চলে মশক নিধনে কোন নিবিড় কর্মসূচী গ্রহণ করেনি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো । এমনকি গত বছরজুড়ে বরিশালের গ্রাম-গঞ্জে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যাও ছিলো অনেক। শুধু সরকারি হাসপাতালেই ২২ হাজার ভর্তিকৃত রোগীর ৫১ জনের মৃত্যু হয়। তবে প্রকৃত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আরো কয়েকগুন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
গতবছর বরিশালে সাম্প্রতিককালের সর্বোচ্চ প্রায় ৮৮ হাজার ডায়রিয়া রোগী সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হলেও এ অঞ্চলে এখনো ডায়রিয়া প্রতিরোধে তেমন কোন কর্মকান্ড দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না। মূলত পথ খাবারের দোকান আর বিশুদ্ধ পানির সংকট পুরো বরিশাল অঞ্চলে ডায়রিয়া সহ পেটের পীড়ার বিস্তৃতিকে আরো তড়ান্বিত করলেও তা থেকে উত্তরণের কোন উদ্যোগ নেই। পথ খাবারের দোকান বরিশাল মহানগরী সহ এ অঞ্চলের সংস্কৃতিতে একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে উঠলেও সেখানে কোন স্বাস্থ্যবিধি মানছে না কেউ। এমনকি স্বাস্থ্যবিধি প্রয়োগে সিটি করপোরেশন সহ পৌরসভাগুলো এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরেরও তেমন কোন উদ্যোগ নেই।
অপরদিকে, গতবছরের শুরু থেকে মার্চের শেষভাগ পর্যন্ত পুরো বরিশাল অঞ্চলজুড়ে নিউমোনিয়া সহ ঠান্ডাজনিত রোগের সাথে ডায়রিয়ার বিস্তৃতি ছিল ব্যাপক। আবার শীত মৌসুম শুরুর সাথে নভেম্বর থেকেই এসব রোগ পুনরায় জেকে বসে। শুধু নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসেই প্রায় ১০ হাজার নিউমোনিয়া সহ ঠান্ডাজনিত রোগী ভর্তি হয়েছেন সরকারি হাসপাতালে। এসব বিষয়ে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যমল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন-চিকিৎসকদের পদ শূন্য থাকার মধ্যেও আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি হাসপাতাল থেকে যেন কেউ বিনা চিকিৎসায় ফিরে না যায়। ডায়রিয়া, ডেঙ্গু ও নিউমোনিয়া সহ ঠান্ডাজনিত রোগের বিষয়ে জনসচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন-জনসচেতনতা এসব সংক্রমক ও অসংক্রমক রোগ থেকে ব্যক্তি পর্যায়ের পাশাপাশি সমাজকেও রক্ষা করতে সক্ষম।
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৫৮
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৩৬
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:৫২
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:২১